পুলিশ
পতাকা বৈঠক শেষে ১৫ ঘণ্টা পর দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিল বিএসএফ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক ব্রাহ্মণপাড়া থানার দুই পুলিশ সদস্যকে প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া-নারায়ণপুর সীমান্তের ২০৫৭ নম্বর প্রধান পিলার-সংলগ্ন এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তর করা দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।
হস্তান্তরের সময় সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) শশীদল বিওপির কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, দেবিদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শাহিন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন এবং শশীদল বিওপির কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি এলাকার ২০৫৯ নম্বর সীমান্ত পিলার-সংলগ্ন স্থানে মাদক উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। এ সময় এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন।
পরে স্থানীয় ভারতীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেন। সহকর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে এএসআই ইমরান হোসেনকেও আটক করা হয়। এরপর থেকে দুই পুলিশ সদস্য বিএসএফের হেফাজতে ছিলেন।
তাদের ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলে। অবশেষে আজ শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় আটকের পর শুক্রবার দুপুর দেড়টায় হস্তান্তর পর্যন্ত প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিএসএফের হেফাজতে ছিলেন ওই দুই পুলিশ সদস্য।
২ দিন আগে
উত্তরায় পুলিশের হস্তক্ষেপে ছত্রভঙ্গ পোশাকশ্রমিকরা, স্বাভাবিক যান চলাচল
বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা পোশাকশ্রমিকদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকদের সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করা হয়।
দুপুর ১২টার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুল ইসলাম রনি বলেন, মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরাতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে এবং কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে চলে যান।
তবে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ বা সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকরা নিজেরাই মহাসড়ক ছেড়ে চলে গেছেন।
ন্যূনতম মজুরিবৃদ্ধি, সময়মতো বেতন ও ভাতা পরিশোধ এবং ইচ্ছামতো ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তরা এলাকার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী অংশে মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন।
৩ দিন আগে
তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন অটোরিকশাচালক: পুলিশ
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া এ তথ্য জানান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাতে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। তার গন্তব্য ছিল নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসা। কিন্তু চালক সুমন তাকে শহরের দিকে না নিয়ে অন্য পথে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেতে নিয়ে যান।
এদিকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে সেদিন দিবাগত রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমন্ত বাবা সেই বার্তা দেখতে পাননি।
ঘটনাস্থল থেকে তাজমিন পালানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সুমন তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ঘটনাস্থলের পাশে অটোরিকশাটি ফেলে রেখে তিনি পালিয়ে যান।
ঘটনার পর সকালে লালমাইয়ের সেই ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তদন্তে চালক সুমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর গতকাল (শুক্রবার) চট্টগ্রামে ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছেন কি না, অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি ন, সে ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
৮ দিন আগে
‘ছিনতাইকারী’কে ধাওয়া করতে গিয়ে বাসচাপায় পুলিশ সদস্যর মৃত্যু
চট্টগ্রামে ছিনতাইকারী সন্দেহে এক যুবককে ধাওয়া করতে গিয়ে বাসচাপায় গুরুতর আহত হওয়া পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার (২৫) মারা গেছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট শাখায় কর্মরত আল আমিন সরদার কোতোয়ালি থানায় সংযুক্ত ছিলেন।
আল আমিন ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন। তার বাড়ি মাদারীপুরে। তিনি এক সন্তান রেখে গেছেন।
গতকাল (রবিবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর ওয়াসা মোড়ের ইস্পাহানি চেকপোস্টে সন্দেহজনক তিন যুবককে থামানো হয়। এ সময় তাদের একজন দৌড়ে পালাতে গেলে আল আমিন মোটরসাইকেলে করে তাকে ধাওয়া করেন। তখন একটি বাস পেছন থেকে আল আমিনের মোটোরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
আল আমিনকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে ভর্তি করেন। পরে চেকপোস্টে থাকা পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি জব্দ ও চালককে আটক করেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির বলেন, আজ (সোমবার) সকালে আইসিইউতে আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় বাসচালক মোশাররফ (৩৮) ও স্টাফ জয় দাসকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে আল আমিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেছেন, দায়িত্ব পালনকালে তার মৃত্যু কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
১৩ দিন আগে
ফ্যাসিবাদের দোসরদের আইনের আওতায় আনলে পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ বাহিনীকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এ কাজে ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারবে, তাদের আমরা পুরস্কৃত করব।’
এ সময় তিনি জানান, সম্প্রতি এ ধরনের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ‘ফ্যাসিবাদের দুই শক্ত দোষর’ এবং শুক্রবার আরও একজনকে আটক করা হয়।
পুলিশকে নিজস্ব গোয়েন্দা সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তারা (আটক) এতদিন এখানেই লুকিয়ে ছিল। আমাদের গোয়েন্দা সহায়তা কোথায় ছিল?’
দেশে যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের সময় এক মাসে দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি গত ১৭ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত পরিসংখ্যানের কথাও উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের মানুষ কখনও আবার রাজনীতিতে দেখতে চাইবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর যারা কোনো অনুশোচনা, ক্ষমাপ্রার্থণা করেননি বা দুঃখ প্রকাশ করেননি, তারা এখন বাংলাদেশের বাইরে থেকে কথা বলছেন।
শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত পাঠাতে প্রতিবেশী দেশটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হলে আইনি প্রক্রিয়া নিজস্ব গতিতেই চলবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক প্রদান করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২২ দিন আগে
ডিআইজিসহ ১৫ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি
বাংলাদেশ পুলিশের সর্বশেষ রদবদলে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ ১৫ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হককে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে খাগড়াছড়িতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডিআইজি পরিতোষ ঘোষকে এপিবিএনের চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খানকে ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলের (টিডিএস) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত ডিআইজি আনিসুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত ডিআইজি গিয়াস উদ্দিন আহমদকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ে ওএসডি হিসেবে থাকা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (পুলিশ) ক্যাডারের পুলিশ সুপার ও এআইজি পদমর্যাদার আরও ৯ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জেলা ও কার্যালয়ে পুলিশ সুপার ও বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপন দুটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৬ দিন আগে
পুলিশের কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোবলের ঘাটতি রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
পুলিশের কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোবলের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কার্যক্রমে কোনো ঢিলেঢালা ভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব আছে কি না জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের কার্যক্রমে ঢিলেঢালা ভাব নেই। অতীতে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটাকে যদি আমরা সঠিক ‘পুলিশিং’ মনে করি, তবে তা ভুল হবে।
তিনি পুলিশের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে আরও বলেন, আমরা অতীতে পুলিশের এক ধরনের ‘মিলিটারাইজেশন’ (সামরিকীকরণ) দেখেছি। পুলিশের হাতে যুদ্ধের অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। কথায় কথায় গালি দেওয়া, পিটানো কিংবা গুলি করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। পুলিশিং কখনোই ওরকম হওয়া উচিত নয়।
জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, পুলিশ সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করে। একজন নাগরিক অপরাধ করলেও সে এই দেশেরই লোক, কোনো শত্রু রাষ্ট্রের সৈন্য নয়। শত্রু দেশের দিকে বন্দুক তাক করে আর্মি, কিন্তু পুলিশের অস্ত্র ব্যবহৃত হয় নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষায়। ফলে আমরা অতীতে পুলিশের যে রূপ দেখেছি, পুলিশ আর কখনোই যেন সেই চেহারায় ফিরে না যায়।
মনোবলের বিষয়ে একমত পোষণ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশের মনোবলের অভাব রয়েছে, এটি সত্যি। অতীতের ঘটনাগুলো কাটিয়ে উঠে তাদের স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসতে হবে। দেশের জনগণ যেন পুলিশের পাশে দাঁড়ায়, যাতে তারা দ্রুত স্বরূপে ফিরতে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সময় তিনি সরকারে না থেকে পূর্বের মতো অ্যাক্টিভিস্ট থাকলে কী ভূমিকা নিতেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এই সরকারে না থেকে অ্যাক্টিভিস্ট হলে নিশ্চিতভাবেই এর প্রতিবাদ করতাম। তবে বিগত সরকারের আমলে শুধু প্রতিবাদ নয়, পদত্যাগও চাইতাম। বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা বা অন্য কোনো সংকট তৈরি হলে আমরা পদত্যাগ চাইতাম, কারণ সেই সরকারকে আমরা ‘ওন’ করতাম না—ওটা কোনো বৈধ সরকার ছিল না। তাই তাদের কোনো যুক্তি শুনতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।
বর্তমান সরকারের বিষয় উপদেষ্টা বলেন, ‘এই সরকার একটা নির্বাচিত সরকার, এই সরকার আমি প্রায় আগেই বলেছি এটা আমাদের সরকার। আমাদের অনেকেই হয়তো এই সরকার, মানে এই মার্কায় ভোট দেই নাই, কিন্তু আমরা এই প্রক্রিয়ায়, ইলেকশনে পার্ট ছিলাম, আমরা পার্টিসিপেট করেছি, পরাজিত হয়েছি। একইভাবে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে আমরা পরাজিত যদি হই, সেই সরকারকেও আমরা ওন করব।’
তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হতে পারে—দাম আরেকটু কম রাখা যেত কি না বা আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা যেত কি না, তবে একে অস্থিতিশীল করা উচিত হবে না।
২৬ দিন আগে
আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ সুপার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান। তাদের মধ্যে ফাহাদ অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যান।
পরবর্তীতে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ নামের একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে।
অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইল ফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছেন তিনি।
২৮ দিন আগে
পুলিশের উচ্চপর্যায়ে রদবদল, পদোন্নতি পেলেন ৩ কর্মকর্তা
বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ছয় অতিরিক্ত আইজিপি ও পাঁচ ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব আদেশ জারি করা হয়।
একটি প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার ছয় কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়। এর মধ্যে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) সায়েদুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মাইনুল হাসানকে রাজশাহীর সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদায়ন করা হয়েছে।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ইকবাল হোসেন এবং পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি কামরুল আহসানকে পদোন্নতি দিয়ে যথাক্রমে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি ও বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়েছে।
এছাড়া বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নূরুল আমীনকে পুলিশ অধিদপ্তরে এবং সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল জি এম আজিজুর রহমানকে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্য প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়েছে।
এর মধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি রেজাউল করিমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিমকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক, বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি এবং মাস র্যাপিড ট্রানজিটের (মেট্রোরেল) ডিআইজি সিদ্দীকী তানজিলুর রহমানকে এসবির ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
৩১ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে সারাদেশে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টিগ্রিটিতে হেডকোয়ার্টার্স ভেন্যুর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, সারাদেশের ১১৪টি প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এর আগে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ নেননি, এমন ৩৮ হাজার ৮৪৭ জন পুলিশ সদস্যকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচে অংশ নিচ্ছেন ৪ হাজার ৯৬৫ জন পুলিশ সদস্য।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৭৫ জন পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে তাদের এক দিনের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
নতুন করে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ শুরু হবে।
৩২ দিন আগে