পুলিশ
ফ্যাসিবাদের দোসরদের আইনের আওতায় আনলে পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ বাহিনীকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এ কাজে ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারবে, তাদের আমরা পুরস্কৃত করব।’
এ সময় তিনি জানান, সম্প্রতি এ ধরনের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ‘ফ্যাসিবাদের দুই শক্ত দোষর’ এবং শুক্রবার আরও একজনকে আটক করা হয়।
পুলিশকে নিজস্ব গোয়েন্দা সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তারা (আটক) এতদিন এখানেই লুকিয়ে ছিল। আমাদের গোয়েন্দা সহায়তা কোথায় ছিল?’
দেশে যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের সময় এক মাসে দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি গত ১৭ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত পরিসংখ্যানের কথাও উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের মানুষ কখনও আবার রাজনীতিতে দেখতে চাইবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর যারা কোনো অনুশোচনা, ক্ষমাপ্রার্থণা করেননি বা দুঃখ প্রকাশ করেননি, তারা এখন বাংলাদেশের বাইরে থেকে কথা বলছেন।
শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত পাঠাতে প্রতিবেশী দেশটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হলে আইনি প্রক্রিয়া নিজস্ব গতিতেই চলবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক প্রদান করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
ডিআইজিসহ ১৫ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি
বাংলাদেশ পুলিশের সর্বশেষ রদবদলে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ ১৫ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হককে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে খাগড়াছড়িতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডিআইজি পরিতোষ ঘোষকে এপিবিএনের চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খানকে ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলের (টিডিএস) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত ডিআইজি আনিসুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত ডিআইজি গিয়াস উদ্দিন আহমদকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ে ওএসডি হিসেবে থাকা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (পুলিশ) ক্যাডারের পুলিশ সুপার ও এআইজি পদমর্যাদার আরও ৯ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জেলা ও কার্যালয়ে পুলিশ সুপার ও বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপন দুটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৬ দিন আগে
পুলিশের কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোবলের ঘাটতি রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
পুলিশের কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোবলের ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কার্যক্রমে কোনো ঢিলেঢালা ভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব আছে কি না জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের কার্যক্রমে ঢিলেঢালা ভাব নেই। অতীতে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটাকে যদি আমরা সঠিক ‘পুলিশিং’ মনে করি, তবে তা ভুল হবে।
তিনি পুলিশের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে আরও বলেন, আমরা অতীতে পুলিশের এক ধরনের ‘মিলিটারাইজেশন’ (সামরিকীকরণ) দেখেছি। পুলিশের হাতে যুদ্ধের অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। কথায় কথায় গালি দেওয়া, পিটানো কিংবা গুলি করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। পুলিশিং কখনোই ওরকম হওয়া উচিত নয়।
জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, পুলিশ সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করে। একজন নাগরিক অপরাধ করলেও সে এই দেশেরই লোক, কোনো শত্রু রাষ্ট্রের সৈন্য নয়। শত্রু দেশের দিকে বন্দুক তাক করে আর্মি, কিন্তু পুলিশের অস্ত্র ব্যবহৃত হয় নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষায়। ফলে আমরা অতীতে পুলিশের যে রূপ দেখেছি, পুলিশ আর কখনোই যেন সেই চেহারায় ফিরে না যায়।
মনোবলের বিষয়ে একমত পোষণ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশের মনোবলের অভাব রয়েছে, এটি সত্যি। অতীতের ঘটনাগুলো কাটিয়ে উঠে তাদের স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসতে হবে। দেশের জনগণ যেন পুলিশের পাশে দাঁড়ায়, যাতে তারা দ্রুত স্বরূপে ফিরতে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সময় তিনি সরকারে না থেকে পূর্বের মতো অ্যাক্টিভিস্ট থাকলে কী ভূমিকা নিতেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এই সরকারে না থেকে অ্যাক্টিভিস্ট হলে নিশ্চিতভাবেই এর প্রতিবাদ করতাম। তবে বিগত সরকারের আমলে শুধু প্রতিবাদ নয়, পদত্যাগও চাইতাম। বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা বা অন্য কোনো সংকট তৈরি হলে আমরা পদত্যাগ চাইতাম, কারণ সেই সরকারকে আমরা ‘ওন’ করতাম না—ওটা কোনো বৈধ সরকার ছিল না। তাই তাদের কোনো যুক্তি শুনতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।
বর্তমান সরকারের বিষয় উপদেষ্টা বলেন, ‘এই সরকার একটা নির্বাচিত সরকার, এই সরকার আমি প্রায় আগেই বলেছি এটা আমাদের সরকার। আমাদের অনেকেই হয়তো এই সরকার, মানে এই মার্কায় ভোট দেই নাই, কিন্তু আমরা এই প্রক্রিয়ায়, ইলেকশনে পার্ট ছিলাম, আমরা পার্টিসিপেট করেছি, পরাজিত হয়েছি। একইভাবে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে আমরা পরাজিত যদি হই, সেই সরকারকেও আমরা ওন করব।’
তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হতে পারে—দাম আরেকটু কম রাখা যেত কি না বা আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা যেত কি না, তবে একে অস্থিতিশীল করা উচিত হবে না।
৬ দিন আগে
আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ সুপার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান। তাদের মধ্যে ফাহাদ অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যান।
পরবর্তীতে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ নামের একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে।
অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইল ফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছেন তিনি।
৮ দিন আগে
পুলিশের উচ্চপর্যায়ে রদবদল, পদোন্নতি পেলেন ৩ কর্মকর্তা
বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ছয় অতিরিক্ত আইজিপি ও পাঁচ ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব আদেশ জারি করা হয়।
একটি প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার ছয় কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়। এর মধ্যে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) সায়েদুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মাইনুল হাসানকে রাজশাহীর সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদায়ন করা হয়েছে।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ইকবাল হোসেন এবং পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি কামরুল আহসানকে পদোন্নতি দিয়ে যথাক্রমে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি ও বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়েছে।
এছাড়া বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নূরুল আমীনকে পুলিশ অধিদপ্তরে এবং সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল জি এম আজিজুর রহমানকে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্য প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়েছে।
এর মধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি রেজাউল করিমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিমকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক, বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি এবং মাস র্যাপিড ট্রানজিটের (মেট্রোরেল) ডিআইজি সিদ্দীকী তানজিলুর রহমানকে এসবির ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
১১ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে সারাদেশে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টিগ্রিটিতে হেডকোয়ার্টার্স ভেন্যুর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, সারাদেশের ১১৪টি প্রশিক্ষণ ভেন্যুতে দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এর আগে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ নেননি, এমন ৩৮ হাজার ৮৪৭ জন পুলিশ সদস্যকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচে অংশ নিচ্ছেন ৪ হাজার ৯৬৫ জন পুলিশ সদস্য।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৭৫ জন পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে তাদের এক দিনের রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
নতুন করে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ শুরু হবে।
১২ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়ার আসর থেকে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার
ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে জুয়ার আসর থেকে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ সময় পুলিশের অভিযানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যপারে সদর থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
গেল সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়া এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন: ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল আলমগীর কবির (৩৩) এবং সদর ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।
ওই আসরে থাকা আরও দুই সদস্য অভিযানের সময় পালিয়ে যান। তারা হলেন: পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে কার্যালয়ের উত্তর পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে পুলিশ সদস্যদের জুয়া খেলার তথ্য পাচ্ছিল পুলিশ। সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারে সদর থানার টহল দল।
পরে রাত দেড়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. আলমগীর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই ঘরে অভিযান চালায়। সে সময় ঘরটিতে তাস খেলার সঙ্গে টাকার লেনদেন চলছিল।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের পেছনে ধাওয়া করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে তাস, জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ টাকা ও কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে চারটি মোটরসাইকেলও পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মঙ্গলবার মামলাটি সদর থানায় নথিভুক্ত করা হয়। এতে ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত করছেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল। তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক দুজনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিত মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। কয়েক দিন ধরে আমাদের পুলিশের কিছু বিপথগামী সদস্য জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাচ্ছিলাম। পরে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। সাধারণ অপরাধীদের বিরুদ্ধে যেভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাদের বিরুদ্ধেও একইভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আটক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় জুয়া আইনে মামলা করা হয়েছে। তারা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। আজ (বুধবার) আসামিদের আদালতে নেওয়ার কথা রয়েছে।
১২ দিন আগে
পুলিশের পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট করার পরিকল্পনা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ইউনিটে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সে দক্ষ পুলিশ সদস্যদের কাজে লাগানো হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) বোর্ডরুমে কলেজটির পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিট ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অ্যাডহক ভিত্তিতে বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ করছে। তবে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।
পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে কিংবা আধুনিক সুবিধা গড়ে তুলে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে সাইবার স্পেসসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত করা হবে।
সভায় পিএসসির ভূমি ব্যবহারের জন্য এমআরটির প্রস্তাব, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সের বৈদেশিক অংশে প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ, পুলিশ স্টাফ কলেজের অধীনে পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, কলেজের বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদন এবং বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণকে পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া ইন্টারপার সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন ও বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানো, পিএসসির অবকাঠামো উন্নয়ন, মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স ও মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কোর্স চালু, পুলিশ স্টাফ কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভার শুরুতে পরিচালনা বোর্ডের ২০তম সভার কার্যবিবরণী পেশ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে তা অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে আগের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।
১৩ দিন আগে
পটুয়াখালীতে মামলার আসামি না হয়েও জেলে, পুলিশের ভুল স্বীকার
পটুয়ালীর মহিপুরে চেক ডিজঅনার মামলার ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে গিয়ে মামলার প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তিনি মামলার নথিতে উল্লেখ করা আসামি নন। পরে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে পুলিশ।
মামলার নথি অনুযায়ী, মো. আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে পটুয়াখালীর আদালতে মামলা করেন। নথিতে বলা হয়, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়।
ওই মামলায় আদালত থেকে জারি করা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ মো. জলিল হাওলাদার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিবারের দাবি, মামলার আসামি ও তাদের স্বজন একই ব্যক্তি নন। পরিবারের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যেও দুই ব্যক্তির পরিচয়ে পার্থক্য রয়েছে বলে জানান তারা।
পরিবারের অভিযোগ, পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে জলিলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হচ্ছে, যার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, ‘আসামির নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম একই হওয়ায় ভুলে আটক হয়েছে।’
মায়ের নামের পার্থক্যের বিষয়টি জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘ওয়ারেন্ট কপিতে তো মায়ের নাম থাকে না। এজন্য পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
ভুল করে আটক হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাতে দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ায় কারাগার থেকে বের হতে পারেন, সে বিষয়ে তার পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওসি।
২১ দিন আগে
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নতুন পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে তথ্যদাতাদের জন্য নতুন করে আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সদরদপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে (এপ্রিল-জুন) প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
পিস্তল, রিভলবার বা শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ার গ্যাস শেল ও অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কৃত করা হবে।
তথ্যদাতাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিলকৃত অস্ত্রের লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি—এমন অস্ত্রকে ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা ওই সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশের কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশের কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
৩০ দিন আগে