বিমান বিধ্বস্ত
সৌদি আরবে আরামকোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ১৪ আরোহী নিহত
সৌদি আরবে বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৮) সকাল ৬টার দিকে রাস তানুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের সবাই সৌদি নাগরিক বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হেলিকপ্টারটি সৌদি আরব সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর ছিল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আরামকোকে নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সৃষ্ট বিঘ্ন এড়াতে তারা কিছু তেল রপ্তানি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
১৭ দিন আগে
ফ্রান্সে স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১১
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরোহী ১১ জনের সবাই নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২৮ জুন) ন্যান্সি শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ন্যান্সি-এসি বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয় এবং ‘প্রায় উল্লম্বভাবে’ নিচে আছড়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন মিউর্ত-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রিফেক্ট ইভ সেগুই।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিএফএম-টিভিকে তিনি বলেন, বিমানটি বিমানঘাঁটির কাছাকাছি একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার সীমানায় বিধ্বস্ত হয়।
ইভ সেগুই বলেন, ‘দুর্ঘটনাটি যদি আর কয়েক মিটার দূরে ঘটত, তাহলে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি একটি স্কাইডাইভিং ক্লাবের মালিকানাধীন ছিল এবং প্যারাশুট জাম্প কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৭ দিন আগে
আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ৫
ভারতের আসামে দেশটির বিমানবাহিনীর (আইএএফ) একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে আসামের জোরহাটে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই আগুন ধরে যায়।
দেশটির বিমানবাহিনীর বরাত দিয়ে দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি। তারা হলেন—স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম।
দুর্ঘটনার বিষয়ে এক বিবৃতিতে আইএএফ জানায়, ‘আজ সকাল ১০টার দিকে আসামের জোরহাটে একটি নিয়মিত উড্ডয়নের সময় আইএএফের একটি এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থল ব্যবস্থাপনা ও প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই প্রাণহানিতে বিমানবাহিনী গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে রয়েছে।’
প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবতরণের সময় বিমানটি জোরহাট বিমানঘাঁটির ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই সেটিতে আগুন ধরে যায়। আগুন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে দ্রুত জরুরি সেবাদানকারী দল মোতায়েন করা হয়।
৩২ দিন আগে
রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২৯
রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২৯ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিমানটির ছয়জন ক্রু ও ২৩ জন যাত্রী রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম।
খবরে বলা হয়েছে, সোভিয়েত আমলে নির্মিত অ্যান-২৬ সামরিক পরিবহন বিমানটি নির্ধারিত ফ্লাইটে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সামরিক বাহিনীর। ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে অঞ্চলটি অবৈধভাবে দখল করে রাশিয়া।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস ও আরআইএ নভোস্তির বরাতে জানা যায়, টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনচালিত বিমানটি একটি খাড়াই পাহাড়ে আঘাত করে বিধ্বস্ত হয়।
রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানায়, বিমানটিতে মোট সাতজন ক্রু সদস্য ও ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তবে বাকি একজন ক্রু সদস্য বেঁচে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, উড্ডয়ন বিধিমালা-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বাখচিসারাই জেলার পার্বত্য বনাঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চলছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের খবরে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এ দুর্ঘটনায় কোনো ধরনের ‘বাহ্যিক হস্তক্ষেপ’ ছিল না বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়ায় সামরিক বিমান দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
গত ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার ইভানোভো অঞ্চলে একটি অ্যান-২২ সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন ক্রু নিহত হন। তার আগে অক্টোবরে লিপেৎস্ক অঞ্চলে একটি মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে সাইবেরিয়ার ইরকুত্স্ক অঞ্চলে একটি টু-২২এম৩ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়।
এছাড়া, ২০২২ সালের অক্টোবরে আজভ সাগর উপকূলবর্তী ইয়েইস্ক শহরের একটি আবাসিক এলাকায় একটি সু-৩৪ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন।
১০৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ৮ আরোহীসহ ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে ৮ আরোহী নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ নামের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বিমানের যাত্রীদের অবস্থা সম্পর্কে তারা প্রাথমিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। এফএএ ও জাতীয় পরিবহন সুরক্ষা বোর্ড দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করছে।
রবিবার দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে ব্যাঙ্গরেও টানা তুষারপাত হয়। এই মধ্যে নিউ ইংল্যান্ডসহ দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে রাতে ঝড় হয়। ঝড়ের মধ্যে পড়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এক বিবৃতিতে ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি উড্ডয়নের সময় জরুরি কর্মীরা বিমানবন্দরে ছিলেন। তবে বিমানটি ছেড়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই বিমানবন্দরটি ওরল্যান্ডো, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন, ডিসি এবং শার্লট, উত্তর ক্যারোলিনার মতো শহরগুলোতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। বোস্টন থেকে এটি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
গত সপ্তাহজুড়ে প্রবল ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশে শিলাবৃষ্টি এবং তুষারপাত হয়েছে। এর ফলে বহু বিমান ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অসংখ্য বাড়িঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে দেশটির বেশিরভাগ অংশে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিমানের ফ্লাইট শনাক্তকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটওয়্যার ডটকমের তথ্য অনুসারে, রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং আরও অন্তত ২০ হাজার ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয়েছে। ঝড়ের কারণে ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন, বাল্টিমোর, উত্তর ক্যারোলিনা, নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দরগুলোতেও দৈনন্দিন কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে।
বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ হলো একটি চওড়া আকৃতির ব্যবসায়িক জেট বিমান যা ৯ থেকে ১১ জন যাত্রীর জন্য তৈরি। এটি ১৯৮০ সালে ওয়াক-অ্যাবাউট কেবিনসহ প্রথম ব্যক্তিগত জেট হিসেবে চালু হয় এবং এয়ারচার্ট সার্ভিস ডটকমের তথ্য অনুসারে, এটি বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ব্যক্তিগত বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
১৭০ দিন আগে
মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত: আরও দুজনের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩৫
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৫ জনে।
শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে জারিফ ফারহান নামের ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী মারা যায় বলে জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। পরে সোয়া দশটার দিকে মাসুমা নামের আরেক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
নিহত জারিফ মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে সে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল।
বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন শুক্রবার বিকালে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসাধীন পাঁচ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’। এরপর আজ সকালেই এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কথা জানানো হয়।
অন্যদিকে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাসুমা নামের ওই নারীর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
দুজনের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করা হলেও লাশদুটি এখনও তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত: শিক্ষার্থী মাকিনের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩৩
এ নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ জনে, আর সবমিলিয়ে এ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো ৩৫ জনের।
সোমবার দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের মুখে বিধ্বস্ত হয়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত যে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই শিশু।
অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বার্ন ইনস্টিটিউটের অনেকেই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। সুস্থ ১৫ জনকে আজ শনিবার থেকেই ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
৩৫৫ দিন আগে
রাশিয়ায় ৫০ বছর পুরোনো বিমান বিধ্বস্তে সব আরোহী নিহত
রাশিয়ায় ক্রু ও যাত্রীসহ ৪৮ আরোহীকে নিয়ে এএন-২৪ নামের ৫০ বছর পুরোনো বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সব আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দেশটির আমুর অঞ্চলের গভর্নর ভাসিলি অরলভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিমানে থাকা ৪৮ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে আমুর অঞ্চলে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন।
দেশটির স্থানীয় জরুরি পরিষেবা মন্ত্রণালয় তথ্যনুযায়ী, গতকাল (বৃহস্পতিবার) দেশটির দূর প্রাচ্যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানে ৬ শিশুসহ ৪২ যাত্রী ও ৬ জন বিমান ক্র ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর গভর্নরের দপ্তর থেকে ৪৯ জন আরোহীর থাকার কথা বলা হলেও পরে সেটি সংশোধন করে ৪৮ করা হয়। তবে সংখ্যাগত ভিন্নতার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয় জানায়, দূর প্রাচ্যের তিন্দা শহরের উদ্দেশে রওনা হওয়া বিমানটি রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এর ধ্বংসাবশেষ একটি পাহাড়ি জায়গায় খুঁজে পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে রাশিয়ার ইন্টারফ্যাক্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বিধ্বস্তের সময় ওই এলাকায় খারাপ আবহাওয়া বিরাজ করছিল।
প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো সোভিয়েত আমলের বিমানটি খাবারোভস্ক থেকে যাত্রা শুরু করে ব্লাগোভেশচেনস্কে পৌঁছে পরে তিন্দার দিকে যাচ্ছিল। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, বিমানের ধ্বংসাবশেষ ঘন জঙ্গলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আছে এবং সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছিল।
দূরপ্রাচ্যের পরিবহন প্রসিকিউটরের অফিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলটি তিন্দা থেকে ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত। একটি অনলাইন বিবৃতিতে অফিসটি জানিয়েছে, বিমানটি অবতরণের জন্য দুইবার চেষ্টা করে। দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টার পর এটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।
পড়ুন: ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স: মাখোঁ
স্থানীয় জরুরি সেবা বিষয়কমন্ত্রী বলেন, সাইবেরিয়াভিত্তিক আনগারা নামের একটি এয়ারলাইন্স বিমানটি পরিচালনা করতো। বিমানটির নাম এএন-২৪।
‘উড়ন্ত ট্রাক্টর’ নামে পরিচিত এএন-২৪ বিমানগুলোকে রাশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব পুরোনো বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
নতুন লাদোগা বিমানের ব্যাপক উৎপাদন ২০২৭ সালের আগে শুরু হবে না বলে জানা গেছে। এই অবস্থায় রাশিয়ার গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে পরিবহনের জন্য এখনও পুরোনো ‘উড়ন্ত ট্রাক্টর’-এর ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিমানের বয়স ৫০!
রাশিয়ানপ্লেইনস নামের একটি সংস্থা জানিয়েছে, আনগারা এয়ারলাইন্স মূলত রাশিয়ার পূর্বাঞ্চল ও সাইবেরিয়ার দুর্গম এলাকায় ফ্লাইট পরিচালনা করে। তারা বর্তমানে ১০টি এএন-২৪ বিমান পরিচালনা করে, যেগুলো ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে তৈরি।
সোভিয়েত আমলে মোট ১ হাজার ৩৪০টি এএন-২৪ তৈরি হয়। রাশিয়ানপ্লেইনসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর মধ্যে ৮৮টি দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়েছে, ৬৫টি গুরুতর ঘটনার শিকার হয়েছে যাত্রী হতাহতের ঘটনা ছাড়াই এবং বর্তমানে মাত্র ৭৫টি বিমান চালু রয়েছে। বিমানগুলোর বয়স বহুদিন ধরেই উদ্বেগের বিষয়। ২০১১ সালে সাইবেরিয়ায় এক এএন-২৪ বিমান দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এই বিমানগুলো গ্রাউন্ড (পরিচালনা বন্ধ) করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।বর্তমান পরিস্থিতি এই বিমানের পরিচালনা ও ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
৩৫৫ দিন আগে
বিভিন্ন দাবিতে সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা
বিভিন্ন দাবিতে সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে সচিবালয়ে প্রবেশের সবগুলো গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুর সোয়া ২টার দিকে তারা অবস্থান নিলে গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের এক নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নিয়েছে।
চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।
আরও পড়ুন: মাইলস্টোন কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, তোপের মুখে দুই উপদেষ্টা
শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগান দিচ্ছেন তারা। সচিবালয়ের ভেতরে গেটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে গেটের সামনেও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে সচিবালয়ে প্রবেশে সব গেট বন্ধ করে দেওয়ায় সচিবালয়ের ভেতর থেকে কোনো যানবাহন বের হতে পারছে না। ফলে সচিবালয়ের ভেতরে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। সচিবালয়ের সবগুলো গেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের একটি দল ঢাকা বোর্ড হয়ে সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। গত এসএসসি পরীক্ষায় যারা ফেল করেছে, তারা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানায়।
৩৫৮ দিন আগে
বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সংগঠনটির আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং সদস্যসচিব সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরী এক শোকবার্তায় এ সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, ‘উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাই। মহান আল্লাহর দরবারে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। এই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেই প্রার্থনা করছি।’
তারা আরও বলেন, ‘আহতদের সুচিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই। পাশাপাশি দর্শনার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের হাসপাতাল বা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভিড় না করারও অনুরোধ জানাচ্ছি।’
শীর্ষ এই দুই নেতা বিমান দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বলেন, এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর প্রতিকারে উদ্যোগ নিতে হবে। গত তিন দশকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৩২টি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিমানবাহিনীর বেশির ভাগ দুর্ঘটনা প্রশিক্ষণ চলাকালেই ঘটে, যা পিটি-৬, ইয়াক-১৩০, এল-৩৯ বা এফ-৭ টাইপ বিমানের ক্ষেত্রে বেশি দেখা গেছে। প্রায় প্রতি দশকেই ফ্লাইট ক্যাডেট এবং স্কোয়াড্রন লিডারদের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রাণহানি ঘটছে সাধারণ মানুষের। এবার পুড়ে অঙ্গার হলো অনেক শিশু। আমরা এভাবে আর কোনো মৃত্যু দেখতে চাই না।
এমন দুর্ঘটনা আমাদের সবার জন্য বেদনাদায়ক উল্লেখ করে বিএসপিপি নেতারা বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।’
৩৫৮ দিন আগে
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীসহ বহু হতাহতের ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি করে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে বিমান বিধ্বস্তের কারণে হতাহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি করেছেন আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান, তানিম খান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির ও মো. ঈসা।
এর আগে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীসহ বহু হতাহতের ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি ও ঢাকাসহ দেশের সব জনবহুল এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ বিমান এবং যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়।
অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান রায়হান বিশ্বাস বাদী হয়ে এ রিট দায়ের করেন। রিটে বিমানবাহিনীর অধীনে ত্রুটিপূর্ণ বিমানের সংখ্যা কত এবং এদের রক্ষণাবেক্ষণের কী কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে, তা জানতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া মাইলস্টোন স্কুলের আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো, মাইলস্টোন স্কুলে আগুনে পুড়ে যাওয়া নিহত শিক্ষার্থীদের ৫ কোটি টাকা এবং আহত শিক্ষার্থীদের ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে দুর্ঘটনায় পড়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান। বিমানটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে গিয়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিমান ও স্কুল ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। যে ভবনে এটি বিধ্বস্ত হয় সেখানে বহু স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিল, যাদের বেশিরভাগই হতাহত হয়েছে।
এ বিমান দুর্ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (মঙ্গলবার সকাল ৮টা) নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে এবং নিহতদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে অনেকে।
৩৫৮ দিন আগে