ফুটপাত
আজ উচ্ছেদ অভিযান, কালই কেন দখল হচ্ছে রাজধানীর ফুটপাত
রাজধানী ঢাকার ফুটপাতগুলো হকারদের কবল থেকে মুক্ত করতে মাঝেমধ্যেই অভিযান চালাতে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানের দিন কয়েকের মধ্যেই ফুটপাতগুলোতে ফিরে আসে পুরনো সেই চিত্র—পণ্যের ডালি সাজিয়ে হকারদের হাঁকডাক, ফুটপাতের অর্ধেকের বেশি অংশ দখলে নেওয়ায় অতি সংকীর্ণ পথ ধরে গাদাগাদি করে পথচারীদের চলাচল এবং চলতি পথে নানাজনের প্রশাসনকে গালাগাল।
রাজধানীর নিউ মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি জায়গার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলো এক সপ্তাহও হয়নি, এরই মধ্যে নিউ মার্কেটে ফিরে এসেছে পুরনো জীর্ণ চেহারা। ডিএমপির অভিযানের পর এক সপ্তাহ তো দূর, ওই দিনই ফুটপাতে ফিরে আসতে শুরু করেন হকাররা; দিন দুয়েকের মধ্যে ফের দেখা যায় দোকানের সারি।
বারংবার অভিযানের পরও হকারদের কেন দমন করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চলতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত ডিএমপির আটটি ট্রাফিক বিভাগের নেতৃত্বে এ সমন্বিত অভিযানে সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দোকান, ভ্রাম্যমাণ হকার এবং অননুমোদিত পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা এবং বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে মোট ৪০৫টি মামলা করা হয়েছে, জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এছাড়া ৫৭ জনকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ৯৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এত কিছুর পরও দমানো যায়নি হকারদের।
গুলিস্তান, ধোলাইখাল, উত্তরা, শনির আখড়া ও ধানমণ্ডির কলাবাগানসহ বেশকিছু এলাকায় অল্প সময়ের জন্য নাগরিকরা স্বস্তি পেলেও অভিযান শেষ হওয়ার দুই দিনের মধ্যেই অধিকাংশ জায়গায় আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুলিস্তানে হকাররা আগের মতোই ফুটপাত দখল করেছেন। অবশ্য কেউ কেউ এখন কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে ব্যবসা করছেন। গোলাপ শাহ মাজারের সামনে আগে স্থায়ী দোকান বসানো অনেকেই এখন চট বিছিয়ে পণ্য বিক্রি করছেন, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সরে যেতে পারেন। পল্টন, মতিঝিল ও নিউমার্কেট এলাকাতেও দেখা গেছে একই দৃশ্য।
সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে শত শত হকার বসে আছেন। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়কের ভেতর দিয়ে হাঁটছেন। এতে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি যানজটও তীব্র হচ্ছে।
উচ্ছেদ আর ফেরার চক্রে আটকে রাজধানী
উচ্ছেদ অভিযানের পর অল্প সময়ের জন্য ফুটপাত খালি থাকলেও দ্রুতই আবার হকারদের দখলে চলে যাচ্ছে। এই চক্র এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউমার্কেট ছাড়াও মোহাম্মদপুর, শ্যামলী রিং রোড, মগবাজার, বাংলামোটর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও গুলিস্তানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও হকারদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ইউএনবিকে বলেন, ঘোষিত উচ্ছেদ অভিযান শেষ হয়েছে, তবে যেসব জায়গায় উচ্ছেদের পর পুনরায় ফুটপাতে হকাররা বসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ফলোআপ অভিযান চলমান রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ৬ এপ্রিলই ডিএমপি সায়েদাবাদ টার্মিনাল এলাকায় আবার অভিযান চালিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
যেসব জায়গায় ১ থেকে ৫ এপ্রিল অভিযান চালিয়েছে, সেসব জায়গায় আবারও ফুটপাত দখল হয়ে গেলে সেগুলোতে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
ফুটপাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন, দাবি হকারদের
বারবার ফুটপাত থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও কেন তারা আবারও সেখানে এসে বসছেন, এ বিষয়ে কথা হয় নিউ মার্কেট-নীলক্ষেত এলাকার কয়েকজন হকারের সঙ্গে। উত্তরে তারা যে কারণ ব্যাখ্যা করলেন, তাতে তাদের কর্মকাণ্ড আইনত বেঠিক হলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো নয়।
হকারদের দাবি, ফুটপাতের ওই দোকানটি তার ও তার পরিবারের জীবিকার একমাত্র উৎস। অনেকের আবার শহরে এবং গ্রামে একাধিক পরিবারের খরচ বহন করতে হয়। ফলে হঠাৎ করে তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে একটা বড় জনগোষ্ঠীর ওপর।
আবার ফুটপাত থেকে তাদের সরিয়ে দিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নতুন কোনো জায়গায় ব্যবসা করার ব্যবস্থা তাদের করে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন তাদের কেউ কেউ। ফলে বাধ্য হয়ে আবার ফুটপাতেই ফিরতে হয় বলে জানান তারা।
নিউমার্কেট এলাকার হকার সবুজ আলী বলেন, আমাদের সরিয়ে দিলে আমরা কোথায় যাব? আমরা কারও ক্ষতি করছি না। যদি উচ্ছেদ করতেই হয়, তাহলে আমাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।
পথচারীদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন
মৌচাক এলাকায় ফুটপাত ছেড়ে রাস্তার ভেতর দিয়ে হাঁটছিলেন শহীদ আলী নামের এক পথচারী। তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ‘ফুটপাতে হাঁটার জায়গা আছে? পুরোটাই তো দখল হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ বলেছে ফুটপাত পরিষ্কার করেছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন তো চোখে পড়ছে না!’
সমাধান কিসে
এর আগে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ফুটপাতে আর হকার বসতে দেওয়া হবে না এবং তাদের ‘হলিডে’ ও ‘নাইট’ মার্কেটের মাধ্যমে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের অভাবে এসব উদ্যোগের প্রভাব খুবই সীমিত পড়েছে।
নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হকার বা অটোরিকশা হঠাৎ উচ্ছেদ করা সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘হকারদের হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়, তাদের জন্য টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, শহরে আটটি নাইট মার্কেট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চালু থাকবে, যাতে দিনের বেলা ফুটপাত দখল না হয়।
এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. ইশরাত ইসলাম বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শহরে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ফুটপাত দখল হয়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই বারবার উচ্ছেদ অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই অধ্যাপকের ভাষ্যে, ‘উচ্ছেদের আগে যাদের সরানো হবে, তাদের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে, না হলে এটি টেকসই হবে না।’
তিনি আরও বলেন, সমস্যাটির মূল কারণ বোঝার জন্য গভীর গবেষণা প্রয়োজন। শুধু হকার সরিয়ে দিলে হবে না, এর পেছনের বাস্তবতা না বুঝলে স্থায়ী সমাধান আসবে না।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশেই হকাররা বৈধভাবে ব্যবসা করে থাকেন। সেজন্য ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই সরকারের আলাদা পলিসি থাকলেও আমাদের দেশে তা নেই। বাংলাদেশে এখনো এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করার জন্য অবশ্যই ফুটপাত দখলমুক্ত করা উচিত। কিন্তু তার আগেই বর্তমান হকাররা কীভাবে কাজ করছেন, সেগুলো বোঝা উচিত। পাশাপাশি তার পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতিমালা প্রস্তুত করে তার মাধ্যমে আমাদের কাজ করা উচিত। বিষয়টাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন এ পরিকল্পনাবিদ।
১৬ দিন আগে
ফুটপাত-সড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা সরাতে ডিএমপির আল্টিমেটাম
ঢাকা মহানগরীর ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে পরিচালিত দোকান, শোরুম, রেস্তোরাঁ ও ওয়ার্কশপের বর্ধিতাংশ অনতিবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আগামী ১ এপ্রিল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
সোমবার (২৩ মার্চ) ডিএমপি সদরদপ্তর থেকে জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে রেস্তোরাঁ, যানবাহন মেরামতের ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং শপ, পোশাক ও আসবাবপত্রের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অবৈধভাবে ফুটপাত ও রাস্তায় সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রেস্তোরাঁর রান্নার বার্নার, হাঁড়ি-পাতিল, গ্রিল বা কাবাব তৈরির মেশিন, ওয়ার্কশপের টায়ার ও যন্ত্রপাতি এবং শোরুমের আসবাবপত্র ফুটপাতে রেখে জনচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি রাস্তার ওপর গাড়ি রেখে মেরামতের ফলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং পথচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
ডিএমপি জানায়, ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে রাখা এসব মালামাল ও সরঞ্জামাদি জনস্বার্থে অনতিবিলম্বে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় আগামী ১ এপ্রিল থেকে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে সামারি ট্রায়াল বা মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হবে।
সেই সঙ্গে আইন অমান্যকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড ও সংশ্লিষ্ট মালামাল বাজেয়াপ্তসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জনভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
৩৫ দিন আগে
ঢাকার সড়কে নিহতদের বেশিরভাগ পথচারী: গবেষণা
রবিবার, ভরদুপুর। রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার্স থেকে রমজান পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে এসে থামে মৌচাক মার্কেটের বিপরীত পাশে। পেছনে এসে থামে একই কোম্পানির আরও একটি বাস। কে বেশি যাত্রী তুলতে পারে, সেই প্রতিযোগিতায় সারা পথ পারাপারি করে এসেছে বাহনদুটি।
এ সময়ে মূল সড়কের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা সিনথিয়া ইসলাম (৪৫) নামের এক নারী ভয়ে ছিটকে পড়েন পাশের ফুটপাতের ওপর। প্রচণ্ড ভয় পেয়েছেন তিনি, অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন চাপাপড়া থেকে। আতঙ্কে কথা বলতে পারছিলেন না ওই নারী।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তিনি বলছিলেন, ‘ঢাকার বেশিরভাগ ফুটপাতই বেহাল, পথচারীদের চলাচলের জন্য সুগম নয়। এরপর রাস্তায় গাড়ি চলে বেপরোয়া গতিতে। এতে সব ঝক্কি যায় পথচারীদের ওপর দিয়ে।’
এই ঘটনার সময় শাহবাগ যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায়ই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। সিনথিয়া বলেন, ‘বাসচালকেরা পারাপারি করে গাড়ি চালান। এতে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। কেউ প্রাণ হারাচ্ছেন, কেউ-বা চিরকালের জন্য পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে পরিবারগুলো।’
কোনো নিয়মনীতি না থাকার কারণে তারা এই প্রাণঘাতী প্রতিযোগিতায় লিপ্ত বলে মন্তব্য করেন এই গৃহিণী। তার ভাষ্য, ‘রাস্তায় নেমে বেশি করে ট্রিপ ও যাত্রী তুলতে গিয়ে অসম প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন চালকেরা। যে কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে।’
সিনথিয়া ইসলামের কথারই প্রতিফলন ঘটেছে সম্প্রতি হওয়া একটি গবেষণায়। এতে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১২৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৮৭ শতাংশই ছিল গাড়িচাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা। নিহতদের মধ্যে ৬১ শতাংশ ছিলেন পথচারী।
এরপরই রয়েছেন মোটরসাইকেলের আরোহীরা, নিহতদের ২৪ শতাংশ মোটরসাইলের যাত্রী ছিলেন। নিহতদের ৮৩ শতাংশই পুরুষ। নিহত নারীদের মধ্যে সবাই ছিলেন পথচারী।
গবেষণাটি করেছে মার্কিন দাতব্য সংস্থা দ্য ব্লুমবার্গ ফিল্যানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস)। ঢাকায় সড়কে প্রাণহানি কমাতে ডিএনসিসির সঙ্গে যৌথভাবে তারা এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর থেকে সড়ক দুর্ঘটনার উপাত্ত সংগ্রহ করে ডিএনসিসি। এরপর ২০২৩ সালে ডিএনসিসির ২৫টি থানার সড়কে হতাহতের মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) ও লিখিত অভিযোগ (এজাহার) নিয়ে তা বিশ্লেষণ করেছে বিআইজিআরএস।
গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন সংস্থাটির ঢাকা উত্তরের নজরদারি সমন্বয়ক (সার্ভিলেন্স কো-অর্ডিনেটর) ডা. তানভীর ইবনে আলী। তিনি বলেন, ‘প্রাণঘাতি সড়ক দুর্ঘটনায় মামলার আইনি প্রক্রিয়ার জন্য অনুসন্ধানের সময় পুলিশ দুর্ঘটনা সম্পর্কিত তথ্যাদি নথিভুক্ত করে থাকে। ঢাকা উত্তরে সড়ক দুর্ঘটনার সামগ্রিক অবস্থা নিরূপণের জন্য ডিএনসিসি এই তথ্য চেয়ে ডিএমপির কাছে ডেটা রিকোয়েস্ট পাঠায়। প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন শেষে সেই ডেটাগুলো আমরা নিয়েছি।’
দুর্ঘটনা বেশি বিমানবন্দর থানায়
২০২৩ সালে ডিএনসিসির ২৫টি থানা থেকে ১১৭টি প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন পেয়েছেন গবেষকরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে বিমানবন্দর থানায়, ১৩টি।
আরও পড়ুন: তথ্যনির্ভর পদক্ষেপের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হবে: সেমিনারে বক্তারা
এরপর খিলখেতে ১১টি, উত্তরা পশ্চিম থানায় ১০টি, মোহাম্মদপুর ও মিরপুর থানায় ৯টি করে, তুরাগ ও বনানীতে আটটি করে, হাতিরঝিল ও দারুস সালাম থানায় সাতটি করে, রূপনগর ও ভাটারা থানায় পাঁচটি করে, শাহ আলী, পল্লবী, ক্যান্টনমেন্ট ও বাড্ডা থানায় চারটি করে, উত্তরা পূর্ব, কাফরুল ও আদাবরে তিনটি করে এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকা ও তেজগাঁওয়ে দুটি করে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তবে ভাষানটেক, দক্ষিণখান, গুলশান ও উত্তরখানা থানা থেকে কোনো প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। প্রাণহানির ৫৫ শতাংশ হয়েছে মাত্র সাতটি থানায়। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বিমানবন্দর ফ্লাইওভারের পূর্ব পাশে ও মিরপুর ১ মোড়ে।
চাপা দিয়ে পালিয়ে যায় বাস-ট্রাক
গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের বেশিরভাগ পথচারীই নিহত হচ্ছেন বাস ও ট্রাকচাপায়। দিনের চেয়ে রাতের বেলায় সড়কে নিহতের সংখ্যা বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ২৫টি থানায় যে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে, তার মধ্যে ৮৭ শতাংশই গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা।
ঢাকা শহরে প্রধানত তিন ধরনের সংঘর্ষের ফলে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে: পথচারীদের চাপা দেওয়া (৬৫ শতাংশ), সামনের দিকে ছুটে চলা গাড়িকে পেছন থেকে ধাক্কা (৩৭ শতাংশ) এবং মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা (৬ শতাংশ)। এ ছাড়াও রাস্তার পাশের বস্তুতে ধাক্কা, পারাপারি ও দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায়ও এক শতাংশ করে প্রাণহানি ঘটছে।
যানবাহনের এসব সংঘর্ষে ৫৮ শতাংশ আঘাত করা হয় পথচারীদের। আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যত প্রাণহানি ঘটছে, তার ৬৫ শতাংশই ছিল পেছন থেকে ধাক্কায়।
ঢাকার সড়কে পথচারীদের প্রাণহানি বেশি
ঢাকা উত্তরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ৬১ শতাংশই পথচারী বলে জানানো হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, ২০২৩ সালে ১১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৩টি প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের মধ্যে পথচারী ৭৫ জন, মোটরসাইকেলচালক ২৯ জন, রিকশাচালক ৮ জন, সিএনজিচালিত অটোরিকশাযাত্রী ৬ জন, গাড়ির যাত্রী ৩ জন এবং বাইসাইকেলচালক ছিলেন দুজন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকায় সড়কে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন পথচারীরা। সড়কে নিহত প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজনই পথচারী, আর প্রতি চার প্রাণহানির মধ্যে একজন মোটরসাইকেল-আরোহী।
ডিএনসিসিতে ২০২৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৮৩ শতাংশই পুরুষ। নিহত ১১৮ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে পুরুষ ৯৮ জন, নারী ২০ জন। আর নিহতদের মধ্যে পুরুষ পথচারী ছিলেন ৫০ জন এবং নিহত নারীদের সবাই পথচারী।
ঢাকার সড়কে প্রতি পাঁচ প্রাণহানির মধ্যে চারজন পুরুষ। আর নিহত প্রতি পাঁচজন পথচারীর মধ্যে নারী দুজন।
২০২৩ সালের ঢাকা উত্তরে সড়কে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৬ জন, ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৪ জন, ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী ২১ জন, ৫০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ১৪ জন নিহত হয়েছেন। তবে এ সময়ে সাতটি শিশুরও প্রাণহানি ঘটেছে।
এ ছাড়াও একজন ৭০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী ও একজন অশীতিপর রয়েছেন এই পরিসংখ্যানে। সব বয়সীদের মধ্যেই পথচারী নিহতের সংখ্যাটি বেশি। এ ছাড়া ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীরাই ঢাকা শহরের সড়কে বেশি নিহত হয়েছেন।
৩৬২ দিন আগে
চাঁদ রাত: ভিড় ঠেলে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় নগরবাসী
রাত পেরোলেই ঈদ; আর চাঁদ রাতের এমন সময়ে নগরবাসী মেতে উঠেছেন শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায়। বিপণিবিতান থেকে ফুটপাতে দেখা গেছে ঢাকাবাসীর উপচেপড়া ভিড়।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বিপণিবিতান এবং ফুটপাত ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা সারতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেরই মূল কেনাকাটা শেষ হয়ে গেলেও বাকি রয়ে গেছে টুকিটাকি অনেক কিছু। আর তাইতো আরেক দফা কেনাকাটা করতে বেরিয়েছেন তারা।
ঢাকার শান্তিনগরের বাসিন্দা আইরা মুমতাহা কানের দুল কিনতে এসেছেন মৌচাক মার্কেটে। বলেন, ‘সব কেনাকাটা শেষ করার পর মনে হলো ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে কানের দুল কেনা হয়নি। আর তাইতো দুল কিনতে ইফতারের পর বেরিয়ে পড়লাম। ভেবেছিলম ভিড় হবে না। মার্কেটে এসে দেখি মারাত্মক ভিড়।’
আরও পড়ুন: ভারতীয় পোশাক কম থাকলেও সুনামগঞ্জে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা
রাজধানীর মতিঝিল থেকে আনারকলি শপিং সেন্টারে ওড়না আর মেয়ের জন্য জামা কিনতে এসেছেন পারভীন আক্তার। বলেন, ‘রোজার শুরুতে মেয়ের জন্য জামা কিনেছিলাম। তখন অত গরম ছিল না বলে মোটা জামা কিনেছি। দুই দিনের গরম দেখে মনে হলো যাই মেয়ের জন্য আরেকটা পাতলা জামা কিনে আনি। আসলমই যখন নিজের জন্যই সুতির ওড়না দেখছি।’
৩৯৩ দিন আগে
ধনীদের আস্থা ব্র্যান্ডে, ফেনীতে ফুটপাতেই ভরসা গরিবের
দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। ঈদ উপলক্ষে সব শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যেই চলছে প্রস্তুতি। ঈদ এলেই মানুষের চাঞ্চল্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে পোশাকের বিপণি বিতানগুলোতে। ঈদের মাসখানেক আগে থেকেই দোকানে দোকানে ভিড় পড়ে যায়। ফেনীতে এবারও তার ব্যতিক্রম নেই।
তবে আর্থিক সামর্থ্যের চরম বাস্তবতা ফুটে ওঠে এই সময়ে। জমকালো শপিং মল, সাধারণ মার্কেটের দোকান আর ফুটপাতের পোশাকের দোকান— তিন ধরনের বিপণি বিতানে দৃষ্টি দিলেই স্পষ্ট হয়ে যায় ধনী-গরিবের পার্থক্য; কে কতটা বিত্তশালী।
ঈদের কেনাকাটায় এবারও ধনীদের পছন্দ অভিজাত শপিং মল ও নামি-দামি ব্র্যান্ডগুলো। মধ্যবিত্তদের মধ্যে রুচিশীল কেউ কেউ সেসব জায়গা থেকে কেনাকাটা করে থাকেন বটে, তবে বেশিরভাগেরই গন্তব্য সুপার মার্কেটের পোশাকের দোকান। আর দরিদ্র শ্রেণির ভরসা সেখানে ফুটপাতের দোকানগুলোতেই। সামর্থ্যের মধ্যে নিজেদের পছন্দের কাপড়-চোপড়, গয়না, জুতা, স্যান্ডেল ও অন্য প্রসাধনীসহ অন্যান্য পণ্য কিনতে ভিড় করছেন ফুটপাত ও খোলা জায়গায় বসানো অস্থায়ী দোকানগুলোতে।
ঈদের আগে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে হরেক রকম রঙ-ঢঙের বাতি আর বাহারি রকমের শৈলীতে আকর্ষণীয় করে সাজানো হয়েছে শহরের গ্র্যান্ড হক টাওয়ার, শহিদ হোসেন উদ্দিন বিপণি বিতান, গার্ডেন সিটি, তমিজিয়া মার্কেট, এসি মার্কেট, বড় বাজার ও শহিদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের নামিদামি ব্র্যান্ডের শোরুমগুলো। রমজানের শুরু থেকেই সেসব শোরুমে ক্রেতার ভিড় বাড়লেও ২০ রমজানের পর থেকে বেচাকেনার ধুম পড়ে গেছে। ঈদের আগমুহূর্তে পা ফেলার জায়গা নেই ফুটপাতসহ অন্যান্য পোশাকের দোকানগুলোতেও।
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় ভোগান্তি ছাড়াই ভ্রমণ করছেন যাত্রীরা
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে জামাকাপড়, জুতা, গেঞ্জিসহ বিভিন্ন পণ্যের সমাহার সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ‘এক্সপোর্টের শার্ট লন, মাত্র আড়াইশ টাকা’, ‘পাঞ্জাবি লন, মাত্র তিনশ টাকা’, ‘প্যান্ট লন, গেঞ্জি লন’, ‘দেইখ্যা লন, বাইচ্ছা লন’, ‘এক দাম, এক রেট’—বিক্রেতাদের এমন হাঁকডাকে জমে উঠেছে ফেনীর রাজাঝিদিঘী এলাকার ফুটপাতের ঈদ বাজার।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়ও। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিজাত বিপণি বিতানগুলোতে বিত্তবানদের কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। নিম্নবিত্তরা এসব বিতানের আলোকসজ্জা দেখেই চোখ জুড়ান, সেখান থেকে কেনাকাটার সামর্থ্য তাদের বেশিরভাগেরই নেই।
ঈদের বাজারে সব ধরনের দোকানেই বিক্রি হচ্ছে নারীদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি, সালওয়ার-কামিজ; আর পুরুষদের জন্য ঈদে বাঙালির ঐতিহ্য পাঞ্জাবি-পায়জামা ছাড়াও শার্ট, টি-শার্ট ও প্যান্টের পসরা সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য রঙিন জামাকাপড়, খেলনা ও ঈদ স্পেশাল গিফট আইটেমও বিক্রি হচ্ছে।
এ সময় চোখে পড়ে বিশেষ একটি জিনিস, অর্থাভাব থাকলেও ঈদের বাজারে এসে তার সবটাই বিদায় করে দিয়েছেন নিম্নবিত্তরা। সাধ্যের সবটুকু দিয়ে সাধের ঈদ করার চেষ্টায় মুখভরা হাসিতে সন্তানদের জামাকাপড় কিনে দিচ্ছেন তারা।
৩৯৪ দিন আগে
ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করলে ট্রেড লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি
ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করলে দোকানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। এই ধরনের কাজ থেকে সরে না এলে দোকান সিলগালা করে দেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৫ মার্চ) সকালে মিরপুর ৬০ ফিট রাস্তার চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আমরা অনেক জায়গায় দেখেছি ফুটপাত দখল। অনেক গ্যারেজ মালিক ফুটপাত ও রাস্তা ব্যবহার করে মোটারসাইকেল ও গাড়ি ওয়াশ করছে। অনেক দোকানদাররা দোকানের সীমানার বাহিরে গিয়ে ফুটপাত ব্যবহার করে ব্যবসা করছে। তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, আপনারা ফুটপাত দখলমুক্ত করে দিন।’
আরও পড়ুন: বিজয় দিবসে ডিএনসিসির শিশুপার্কে বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ
‘ঈদের পরে আমরা অভিযান পরিচালনা করব। যেসব দোকানদার ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করবে, তাদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করে দেব; দোকান সিলগালা করে দেব।’
তিনি বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে আমরা কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ৬০ ফিট সড়কের ৮টি পয়েন্টে রাস্তার পাশে বাড়ির মালিক আমাদের ফুটপাত করতে দিচ্ছে না; আমাদের কর্মীদের কনস্ট্রাকশন করতে দিচ্ছে না; কোর্টের রায়ের ভয় দেখাচ্ছেন; কোনো ধরনের সহযোগিতা করছে না; অবৈধভাবে দোকান দিয়ে রেখেছে, ময়লা ফেলে রেখেছে।’
বাধা প্রদানকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রশাসক বলেন, ‘আমরা জনগণকে চলাচলের সুবিধা দিতে চাই। কিন্তু কেউ যদি সরকারি কাজে বেআইনিভাবে বাধা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘সরকারি কাজে, সিটি করপোরেশনের কাজে যারা বাধা দিচ্ছে, আমরা তাদের বাড়ির প্রকৃতি যাচাই করছি। তারা অবৈধভাবে আবাসিক ভবন বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহার করছে। গত বিশ বছর ধরে বাণিজ্যিক হারে ট্যাক্স দিয়েছে কিনা সেটা ধরব। তাদের প্লান তলব করব, রিভিউ করে দেখব যে অনুমতি নেওয়া আছে কিনা। প্লানের বাইরে অবৈধ বিল্ডিং আমরা ভেঙে দেব। আমরা কোনো ধরনের ছাড় দেব না।’
মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘আমরা জনগণের জন্য কাজ করছি, দখলদারদের জন্য নয়। সরকারি রাস্তা দখল করে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলা চলবে না। আগামী ২৩ তারিখে আমি সরেজমিনে রাস্তায় থাকব; ৬০ ফিটের ৮টি পয়েন্টে। আমি নিজে থেকে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান করব।’
আরও পড়ুন: ডিএনসিসির খালগুলোর টেকসই উন্নয়নে সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক
তিনি আরও বলেন, ‘ডিএনসিসি এলাকার দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মিরপুর ৬০ ফিট সড়ক এবং মিরপুর ডিওএইচএস থেকে উত্তরা দিয়াবাড়ি সড়ক। অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন এই সড়কগুলোর অবস্থা খারাপ ছিল। বেশিরভাগ বড় বড় সড়কে চললে মনে হতো, আমরা কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত রাস্তায় চলছি।…আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো টিমকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি রাস্তাদুটি এই মাসে রোজার মধ্যেই সংস্কার করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেব।’
‘ইতিমধ্যে মিরপুর ডিওএইচএস থেকে উত্তরা দিয়াবাড়ি রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন করে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। ঈদের আগেই ৬০ ফিট সড়কের কাজ শেষ করে সেটিও জনগণের চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হবে।’
এছাড়া, পয়লা বৈশাখের আগে ডিএনসিসি এলাকায় যতগুলো সড়ক কাটা ও কাজ চলছে, সেগুলোর কাজ সম্পন্ন করা হবে জানিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের লোকবল অনেক কম। রাতের আঁধারেও আমাদের কর্মীরা কাজ করছে, কারণ আমরা বসে থাকার জন্য আসিনি বরং পরিবর্তন আনার জন্য এসেছি।’
৪০৮ দিন আগে
লালমনিরহাটে ফুটপাতে জমে উঠেছে শীতের পোশাক বিক্রি
অগ্রহায়ণের শেষ সময়ে শীতের প্রকোপ বেড়েছে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে শপিংমলের পাশাপাশি ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে জমে উঠেছে শীতের পোশাক বিক্রি।
শীতবস্ত্র কিনতে স্বল্প আয়ের মানুষেরা ভিড় করছেন কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভাণ্ডার হকার্স মার্কেটের ফুটপাতে। বিকেল হতেই এ মার্কেটের ফুটপাতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এছাড়াও তুষভাণ্ডার শহরের বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে সুলভ মূল্যে বাহারি শীতের পোশাক পাওয়া যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতের এসব দোকানে বয়স্কদের সোয়েটার, কোট, ব্লেজার, মাফলারসহ ছোটদের বিভিন্ন সাইজের শীতের পোশাকের আধিক্য। হকাররা অনেকে হাঁকডাক করে এসব কাপড় বিক্রি করছেন।
আরও পড়ুন: শীতে রুম হিটার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল, ধরন ও দাম
তুষভাণ্ডার হকার্স মার্কেটে ফুটপাতে মেয়েদের সোয়েটার মানভেদে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, ছেলেদের জ্যাকেট ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, ছোটদের বিভিন্ন পোশাক ৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মাফলার ৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং গরম টুপি ৫০ থেকে ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সাইজের কম্বলও বিক্রি হচ্ছে।
তুষভাণ্ডার অস্থায়ী হকার্স মার্কেটের ফুটপাতের ভাসমান দোকানি আফজাল হোসেন জানান, বেশ কিছুদিন ধরে শীতের পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসলেও তেমন বিক্রি হয়নি। তবে গত দুই দিন থেকে শীত প্রকোপ বাড়ায় ক্রেতার ভিড় বেড়েছে। আরেক দোকানি সবুজ আহমেদ জানান, ফুটপাতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে শিশুদের শীতের পোশাক। এছাড়া জ্যাকেট, সোয়েটার ও বিভিন্ন ধরনের কম্বল কিনছেন ক্রেতারা।
তুষভাণ্ডার বাজার ফুটপাতে শীতের পোশাক কিনতে আসা গৃহিণী মরিয়ম আক্তার বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে ভোরে শীতের প্রকোপ বাড়ছে। তাই বাচ্চাদের জন্য শীতের পোশাক কিনছি। তবে মান অনুযায়ী দাম কিছুটা বেশি।
এদিকে ডিসেম্বরের শেষে শীত আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে বেশি শীত অনুভূত হয় বাংলাদেশে। যত দিন গড়াবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কমবে। এ মাসের ১৫ তারিখের পর থেকে শীত বেশি অনুভূত হতে পারে।
আরও পড়ুন: শীতকাল শুরু, দিন-রাতে বাড়বে আরও ঠান্ডা
৫০৪ দিন আগে
সিলেটে ফুটপাত থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার
সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সরকারি আলিয়া মাদরাসার সামনে ফুটপাত থেকে অজ্ঞাত এক জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানাধীন শাহজালাল তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ।
অজ্ঞাত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৫০ বছর হবে।
লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আলী মাহমুদ।
আরও পড়ুন: শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার, স্বজনদের অভিযোগ হত্যা!
তিনি বলেন, লাশটি অজ্ঞাত এক ব্যক্তির। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- এটি স্বাভাবিক মৃত্যু।
স্থানীয়রা বলেছেন, মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় এই এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। লাশটির পরিচয় শনাক্তকরণে কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে বলেও জানান তারা।
আরও পড়ুন: পাবনায় উপজেলা চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাইয়ের লাশ উদ্ধার
৯০৩ দিন আগে
ঢাবির ফুটপাত থেকে ২ নবজাতকের লাশ উদ্ধার
রাজধানীর শাহবাগ থানার আনন্দ বাজারের সামনে রাস্তা থেকে দুই নবজাতক ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হারুন-অর রশিদ সত্যতা নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার
তিনি বলেন, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আমরা ত্রিপল নাইনের সংবাদ পেয়ে রাত শাহবাগ থানাধীন আনন্দ বাজার সংলগ্ন ঢাবি'র আনোয়ার পাশা হলের সামনের ফুটপাতে ময়লা আর্বজনা থেকে পুরাতন লুঙ্গিতে পেঁচানো দুই নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছি।
তিনি বলেন, তাদের বয়স আনুমানিক একদিন হবে। দুইজনই পুত্র সন্তান। ধারণা করা হচ্ছে নবজাতক দুটি জমজ সন্তান।
লাশ দু’টি ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সিলেটে রাস্তার পাশ থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার
করিমগঞ্জে রাস্তার পাশ থেকে ২ নবজাতকের লাশ উদ্ধার
৯৮৯ দিন আগে
দ. কোরিয়ায় ফুটপাতে গাড়ি চাপা ও ছুরিকাঘাতে ১৩ পথচারী আহত
দক্ষিণ কোরিয়ার সেওংনাম শহরে এক ব্যক্তি গাড়ি চাপা দিয়ে এবং ছুরিকাঘাত করে কমপক্ষে ১৩ জনকে আহত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) শহরের একটি পাতাল রেল স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
দক্ষিণ গিয়াংগি প্রাদেশিক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা ইউন সুং-হিউন বলেছেন, গাড়ি চাপায় কমপক্ষে ৯ জন এবং ছুরিকাঘাতে আরও চার জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তির গাড়ি প্রথমে ফুটপাথে ধাক্কা খেলে তিনি গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর নিকটস্থ পাতাল রেলস্টেশনে লোকজনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকেন। এ সময় অন্তত ১৩ জন আহত হন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের জন্য ৩ মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা দেবে দ.কোরিয়া
তবে আহতদের অবস্থা গুরুতর কি না- তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে আটক অজ্ঞাতনামা সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
দেশটির ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক পুলিশ প্রধানদের সঙ্গে একটি অনলাইন সভা করবে। সেখানে ছুরিকাঘাত এবং অন্যান্য আক্রমণ মোকাবিলা করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গত মাসে রাজধানী সিউলের একটি রাস্তায় এক ব্যক্তি অন্তত চার পথচারীকে ছুরিকাঘাত করে। এদের মধ্যে একজন নিহত হয়।
আরও পড়ুন: দ. কোরিয়ার সমুদ্রতীরবর্তী শহরে দাবানল, পালিয়েছে শত শত মানুষ
দুর্নীতির অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট লিকে বিশেষ ক্ষমা ঘোষণা দ. কোরিয়ার
৯৯৮ দিন আগে