টাকা
রংপুরে নারীকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আটক ৪
রংপুর নগরীর ধাপ কটকিপাড়া এলাকায় কর্মজীবী এক নারীকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে জমি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৪ যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— মিনহাজ আহমেদ (২৮), মহিম হাসান (২৫), শাহরিয়ার সরকার (২৮) ও আব্দুল মজিদ (২০)। তাদের সবার বাড়ি নগরীর ধাপ কটকিপাড়া এলাকায়।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই নারী নগরীর একটি কারুপণ্য প্রতিষ্ঠানের আলমনগর কারখানায় কর্মরত। সম্প্রতি তিনি তিন লাখ ৬০ হাজার টাকায় একটি জমি বিক্রি করেছেন। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে সেই টাকা ব্যাংকে জমা রেখে তিনি তার ধাপ কটকিপাড়ার ভাড়া বাসায় ফেরেন।
রাত ৮টার পর স্থানীয় কয়েকজন যুবক জোরপূর্বক তার বাসায় প্রবেশ করে ঘরে মাদক আছে এমন দাবি করে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে তারা বিছানার তোষকের নিচে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন। এরপর তারা বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হলে ওই নারীকে মারধর করেন তারা। পাশাপাশি তার ব্যাংকের চেক বইয়ের পাতাও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জমি বিক্রির টাকার সন্ধানে তারা ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তছনছ করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাড়ির মালিক গোপনে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ও ধাপ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তদন্তে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা-সদৃশ বস্তুগুলো ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়। এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, মাদক দিয়ে ফাঁসানোর নাটক সাজিয়ে কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে আরএমপি সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নগরবাসীকে যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১০ দিন আগে
ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’
নিজের আপন ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে এক অভিনব ও লোমহর্ষক ‘ছিনতাই নাটক’ সাজিয়েছিলেন ভাতিজা লিটন শেখ। তবে সিসিটিভি ফুটেজ আর প্রযুক্তির দক্ষতায় পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন সেই ভাতিজাসহ ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া পুরো ৬ লাখ টাকা। এই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গতকাল (সোমবার) দুপুরে মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের সেলিনা বেগম চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের জনতা ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে আপন ভাতিজা লিটন শেখের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দত্তনগর ফার্ম-সংলগ্ন মথুরা বীজ উৎপাদন খামারের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ছিনতাইকারীরা চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে টাকার ব্যাগটি হ্যাঁচকা টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে সেলিনা বেগম আহত হন।
ওসির ভাষ্যমতে, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নারী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মহেশপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করে। এর সূত্র ধরেই একে একে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
পুলিশ সোমবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। আটকরা হলেন— ভুক্তভোগী সেলিনা বেগমের আপন ভাতিজা এবং ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী লিটন শেখ (৪০), জলিলপুর গ্রামের আমিনুর রহমান খান (২৪) ও একই গ্রামের মোস্তফা জামান ওরফে বরকত বিশ্বাস (৪৭)। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শাওন বদ্দি (২৩) নামে আরও এক যুবক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ওসি মেহেদি হাসান আরও জানান, সেলিনা বেগমের ভাতিজা লিটন শেখই ছিলেন এই সাজানো ছিনতাইয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’। তিনি শাওন বদ্দির সঙ্গে মিলে এই পরিকল্পনাটি করেছিলেন। পুলিশের তৎপরতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১৮ দিন আগে
রাজশাহীতে এনজিওকর্মীকে কুপিয়ে লাখ টাকা ছিনতাই
রাজশাহীর দুর্গাপুরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে একজন এনজিওকর্মীকে গুরুতর আহত করে প্রায় এক লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে দুর্গাপুর পৌরসভার সিংগা পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শাহিনুর রহমান (২৯) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে। তিনি বেসরকারি এনজিও ‘বীজ’-এর ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। ঘটনার সময় তার সহকর্মী মনিরা খাতুন তার সঙ্গে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিস্তির টাকা আদায় শেষে মোটরসাইকেলে চড়ে অফিসে ফিরছিলেন শাহিনুর রহমান ও মনিরা খাতুন। পথে মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে গেলে তারা সিংগা পশ্চিমপাড়ার একটি মিলঘরের দক্ষিণে পাকা সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তারা অফিসে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানান। তাদের অফিস থেকে অন্য একটি মোটরসাইকেলে করে তাদের কাছে তেল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়।
ওই সময় হেলমেট পরা দুই অজ্ঞাত যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাদের কাছে দাঁড়ান। তখন মোবাইল ফোনে ওই দুই সহকর্মীর ভিডিও ধারণ শুরু করেন তারা। এতে আপত্তি জানালে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে ওই দুই যুবক তাদের নিকট থাকা ব্যাগ থেকে চাপাতি বের করে শাহিনুর রহমানের ওপর হামলা চালান। এতে তার ডান হাতের বাহু ও বাম হাতের আঙুলে গুরুতর জখম হয়। ঘটনাস্থলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এরপর হামলাকারীরা অপর সহকর্মী মনিরা খাতুনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেন।
ব্যাগে কিস্তি আদায়ের প্রায় এক লাখ টাকা ছিল বলে জানান মনিরা খাতুন। পরে টাকা নিয়ে দ্রুত দুর্গাপুর বাজারের দিকে পালিয়ে যান তারা।
স্থানীয়রা আহত শাহিনুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রথমে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৬ দিন আগে
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের ধাপে ধাপে টাকা ফেরত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একটি নির্দিষ্ট স্কিম প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মতিঝিলে সেনা কল্যাণ ভবনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে একীভূত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা বিক্ষোভ করেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত পেতে আরও কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একটি নির্দিষ্ট স্কিম প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই স্কিম অনুযায়ী ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এ স্কিম অনুযায়ী আমানতকারীরা প্রথম দিন থেকেই ন্যূনতম দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারছেন। পরবর্তী ধাপে প্রতি তিন মাস পরপর এক লাখ টাকা করে তোলা যাবে। এভাবে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ২১ মাসের মধ্যে পুরো অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, শুধু সাধারণ সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব নয়, এফডিআর (মেয়াদী আমানত) ও ডিপিএসসহ বিভিন্ন ধরনের আমানতের ক্ষেত্রেও অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব এফডিআর বা ডিপিএস মেয়াদপূর্তির সময়ে পৌঁছাবে, সেগুলো থেকে প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। বাকি অর্থ নতুন করে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নবায়ন করা হবে। প্রতিবার নবায়নের সময় আমানতকারী তাদের মুনাফা তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন, যদিও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, তিন মাস মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে তিনবার নবায়নের সুযোগ থাকবে। ছয় মাস মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে দুইবার এবং এক বছর বা দুই বছর মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পুনর্নবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সহকারী মুখপাত্র জানান, সাধারণ উত্তোলন সীমার বাইরে গুরুতর অসুস্থ বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। কিডনি রোগী বা অন্যান্য জটিল রোগে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমাহীন অর্থ তুলতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা সংক্রান্ত যথাযথ নথিপত্র জমা হবে।
এছাড়া অন্য যেকোনো অসুস্থতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুমোদন দিয়ে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিতে পারবেন। যদি এর চেয়েও বেশি অর্থ প্রয়োজন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি বিবেচনা করে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করবে।
তিনি বলেন, যদি কোনো আমানতকারী নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ তুলতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিষয়টি জানাতে পারবেন।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন এবং সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে বলে এ সময় জানান তিনি। বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে নতুন করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের অনুমোদন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই তা অনুমোদন দেবে। একইভাবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে এবং সেটিও দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হওয়ায় এখন মানবসম্পদ, শাখা এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সমন্বয় (ইন্টিগ্রেশন) করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় একই স্থানে একাধিক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। সেগুলোকে ধাপে ধাপে একীভূত করে একটি কার্যকর শাখায় রূপান্তর করা হবে, যাতে পরিচালন ব্যয় কমে এবং দক্ষতা বাড়ে। এছাড়া পাঁচ ব্যাংকের আলাদা আলাদা হেড অফিসের প্রয়োজন নেই। যেসব প্রধান কার্যালয় ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া পাঁচটি ব্যাংকে বর্তমানে পাঁচ ধরনের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব সফটওয়্যারকে একীভূত করে একটি সমন্বিত প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে আনার জন্য বিশেষজ্ঞরা কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক চাইছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একটি দক্ষ, লাভজনক এবং টেকসই ব্যাংকে পরিণত করতে। এজন্য সব ধরনের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কারের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
৫৩ দিন আগে
হারাম টাকা দিয়ে ইবাদত হয় না: ধর্ম উপদেষ্টা
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হাসান বলেছেন, হালাল টাকা খরচ করে হজ করতে হবে। হারাম টাকা দিয়ে ইবাদত হয় না।
বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে হজযাত্রী প্রশিক্ষণ-২০২৫ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, মানুষের মাঝে সুদ-ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ কামানোর প্রবণতা আছে। তবে অসৎ পথে উপার্জিত অর্থে হজ কবুল হবে না।
হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, সুদখোর, ঘুষখোররা যখন হারাম শরীফে গিয়ে বলে আল্লাহ আমি হাজির, তখন ফেরেশতারা সমস্বরে বলতে থাকে, তোমার হাজিরা কবুল হয়নি। তিনি সকলকে সৎপথে অর্থ উপার্জনের অনুরোধ জানান।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, হজব্রত পালনে শারীরিক কষ্ট ও অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন জড়িত রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিবহন সেবা নাও পাওয়া যেতে পারে। পায়ে হেঁটে মিনা-আরাফা-মুজদালিফায় যেতে হতে পারে। হাজীদেরকে কষ্ট বা ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা থাকতে হবে, সবকিছু সহজে মেনে নিতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করতে হবে।
প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, প্রশিক্ষণ মানুষকে কৌশলি করে তোলে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই কর্মে সিদ্ধিলাভ করা যায়। যতবেশি মনযোগ সহকারে হজ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা যাবে, হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন ততবেশি সহজ হবে। তিনি হজযাত্রীদেরকে মনোনিবেশ সহকারে প্রশিক্ষণ গ্রহণের অনুরোধ জানান।
আরও পড়ুন: আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে: ধর্ম উপদেষ্টা
হজযাত্রীদেরকে ভাগ্যবান অভিহিত করে ড. খালিদ বলেন, হজ ভাগ্যের ব্যাপার। টাকা কিংবা বিত্তবৈভব থাকলেই হজ করা যাবে, একথা ঠিক নয়। অনেকের টাকা থাকা সত্ত্বেও আজ যাবে, কাল যাবে করে যেতে পারে না। মানুষ যখন মায়ের পেটে থাকে তখনই কে কতদিন দুনিয়ায় থাকবে, কী পরিমাণ রিজিক পাবে, সৎকর্ম করবে কিনা, হজ করতে পারবে কিনা-এ বিষয়গুলো নির্ধারিত হয়ে যায়।
কবুল হজের ফজিলত বর্ণনা করে ড. খালিদ বলেন, কবুল হজের প্রতিদান হলো জান্নাত। হাজীদেরকে আল্লাহ সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর মতো নিষ্পাপ করে দেন।
হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মতিউল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক, হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার, হজ অনুবিভাগের যুগ্মসচিব ড. মঞ্জুরুল হক ও হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার।
এ সময় উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ ও হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা জেলার বেসরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীদের মধ্য হতে আজ দুটি ব্যাচে সাত শতাধিক হজযাত্রীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে।
৪১৬ দিন আগে
সিসি ক্যামেরা স্থাপনের টাকা নিয়ে হাওয়া, ছিনতাই-ডাকাতি আতঙ্কে ফেনী পৌরবাসী
ফেনী পৌরসভার ১৫০টি স্থানে স্থাপিত ২৪০টি সিসি ক্যামেরার বেশিরভাগই নষ্ট। এতে করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধীরা, আর ছিনতাইকারী ও ডাকাতের আতঙ্কে তটস্থ থাকতে হয় শহরের ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষকে। অনেক জায়গায় মানুষ সন্ধ্যার পর চলাচল করতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সিসি ক্যামেরা না থাকায় পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে না অপরাধমূলক বিভিন্ন ঘটনার ভিডিওচিত্র। ফলে অনেক অপরাধীকে শনাক্ত করাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, পৌরসভার ভেতরে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য শহরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলা ৩ কোটি টাকা চাঁদা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হাজারী। ফলে বিড়ম্বনা আরও বেড়েছে।
ফেনী পৌরসভা সূত্র জানিয়েছে, ২০১৫ সালে ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ২৪০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়। ইউ-টাচ নামে ফেনীর একটি প্রতিষ্ঠান এগুলো স্থাপনে কাজ করে। তবে দুই বছর চলার পর ক্যামেরাগুলোর বেশিরভাগই অকেজো হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে ঢাকার গোল্ডেন ট্রেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেড় কোটি টাকার চুক্তিতে ক্যামেরাগুলো প্রতিস্থাপন করার উদ্যোগ নেন তৎকালীন পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন ও পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী। কিন্তু কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হওয়ার পর আর্থিক জটিলতায় প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়।
অবশ্য, পৌরসভার ভেতরে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হাজারীর মাধ্যমে প্রতিটি মার্কেটের মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগঘেঁষা হওয়ায় গত ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় থেকে তিনি গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। ফলে তার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের দেওয়া ওই চাঁদাও হাপিশ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরের হিমাগারে আলু রাখতে বিড়ম্বনা, অপেক্ষায় নষ্ট হওয়ার শঙ্কা
এদিকে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর দেশের টালমাটাল আইনশঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিপুলসংখ্যক সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। পরে বন্যার পানিতে ক্যামেরার যন্ত্রপাতি ও কন্ট্রোলরুমের সরঞ্জামও নষ্ট হয়ে যায়।
পৌর শহরের নজরদারি পরিস্থিতি ভেঙে পড়ায় পোয়াবারো হয়েছে দুর্বৃত্তদের। পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়া আগের চেয়ে সহজ হওয়ায় সম্প্রতি শহরজুড়ে বেড়েছে ছিনতাই, ডাকাতির মতো ঘটনা।
ফেনী জেলা পুলিশের অপরাধ বিভাগ থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেনীতে গত জানুয়ারি মাসে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন, মাদক কারবারসহ মোট ১৪০টি ও ফেব্রয়ারি মাসে ১২২টি অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে। অথচ গত বছরের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ৯৯টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ১০৭টি।
শহরের অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিসিক, রামপুর রাস্তার মোড়, আলোকদিয়া ও ফলেস্বর এলাকাকে গণ্য করা হয় বলে জানিয়েছে ফেনী মডেল থানা সূত্র। তবে প্রশাসনের স্থাপিত ক্যামেরাগুলোর বেশিরভাগ অকেজো হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বিভিন্ন বাড়ির মালিকদের লাগানো ক্যামেরা ও সাধরণ মানুষের করা ভিডিও ও ছবির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
শহরের এই নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য নষ্ট ক্যামেরাগুলো দ্রুত প্রতিস্থাপন কিংবা মেরামত করে হলেও সেগুলো কার্যকর করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পৌরসভার বাসিন্দারা। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরাগুলো থেকে সেবা পেতে নিয়মিত সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন তারা।
এ ছাড়াও, নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিসিটিভি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
আরও পড়ুন: বেনাপোল বন্দরে ১৮৮০০ টন চাল আমদানি, প্রভাব নেই দামে
শহরের ব্যবসায়ী রেজাউল গনি পলাশ বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা না থাকায় জেলায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে। ঘটছে হত্যার মতো ঘটনাও। সড়কে সিসি ক্যামেরা না ধাকায় অপরাধীরা সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই সিসি ক্যামেরাগুলো ঠিক করে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ফেনীর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরা জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করে এবং অনেক সময় অপরাধীদের অপরাধ থেকে বিরত রাখতে প্রভাব ফেলে। এছাড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা কমানোর ক্ষেত্রেও এর কার্যকারিতা অনেক।’
‘তবে সিসিটিভির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ডেটা সুরক্ষা। এটি প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যত দ্রুত সম্ভব সিসি ক্যামেরাগুলো ঠিক করা।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা অপরাধী ধরার জন্য সবচেয়ে বেশি কাজে আসে। ছবি দেখে গ্রেপ্তারের পর অপরাধীর অস্বীকার করার সুযোগ থাকে না; তাতে পুলিশের তদন্ত কাজের অনেক সুবিধা হয়। তাছাড়া অপরাধীর অপরাধও আদালতে সহজে প্রমাণ করা যায়। তবে বর্তমানে এ বিষয়ে পুলিশকে নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যক্তি পর্যায়ে লাগানো ক্যামেরাগুলোর ওপর।’
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরীক্ষা কেন্দ্র, ব্যাহত শ্রেণিকার্যক্রম
নানা জটিলতার মাঝে সম্প্রতি অবশ্য স্বল্প পরিসরে হলেও ফের ক্যামেরা প্রতিস্থাপনের কাজ হাতে নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে তারা ফের দায়িত্ব দিয়েছে সেই ইউ-টাচ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে। ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরাতন ক্যামেরাগুলো মেরামত করে নতুন করে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘পৌরসভার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই আমরা নতুন করে সিসি ক্যামেরা চালু করার ব্যবস্থা করেছি। শিগগিরই তা কার্যকর হবে।’
৪৩৫ দিন আগে
সিলেটে যুবককে খুন করে টাকা ও মোটরসাইকেল ‘ছিনতাই’
সিলেটের গোয়াইনঘাটে সাহেল শাহরিয়ার নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে না পারলেও পুলিশের ধারণা, টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনতাই করতেই তাকে খুন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার রাধানগর বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
সাহেল (২০) উপজেলার পশ্চিম আলিরগাঁও ইউনিয়নের পুর্নানগর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে মোটরসাইকেল করে গোয়াইনঘাট থেকে জাফলংয়ে যাওয়ার পথে দুষ্কৃতিকারীদের কবলে পড়ি শাহরিয়ার। এ সময় তাকে আঘাত করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে তার মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা নিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। লাশে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ছিনতাই নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
৪৩৮ দিন আগে
পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানায়, ওই গ্রামের মন্টু মোল্লা একই গ্রামের লিখন হোসেনের কাছে এক হাজার টাকা পেতেন। গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে সেই টাকা চাওয়া নিয়ে দুই জনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। এর জেরে আজ (বুধবার) সকালে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষের নিহত ৩
তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও স্বপন বিশ্বাসের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
৪৪৪ দিন আগে
সুনামগঞ্জে ২ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ২ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) তাহিরপুর উপজেলাধীন ১ নম্বর উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও বিওপি কর্তৃক সীমান্ত পিলার-১২৯৪/৩- এস হতে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জঙ্গলবাড়ি নামক স্থান হতে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।
জব্দ করা পণ্যগুলো হলো— শার্ট ৫ হাজার ১২৭টি, প্যান্টের কাপড় ১৫৬ মিটার, ব্লেজার কাপড় ১ হাজার ২৯৬ মিটার, পাঞ্জাবি কাপড় ২০ হাজার ৪৩০ মিটার ও স্কিন সানরাইজ ক্রীম ৯ হাজার পিস। আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৯২ হাজার ৫০০ টাকা।
আরও পড়ুন: বেনাপোলে কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ
সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চারাগাঁও বিওপির টহল দল জঙ্গলবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ভারতীয় পণ্যগুলো আটক করে।’
তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তের চোরাকারবারিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। জব্দ করা মালামাল শুল্ক কার্যালয়, সুনামগঞ্জে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
৪৪৯ দিন আগে
মাদক কেনার টাকা না দেওয়ায় বাবাকে হত্যার অভিযোগ, ছেলে আটক
চুয়াডাঙ্গায় মাদক কেনার টাকা না দেওয়ায় ছেলে শিশির আহম্মেদের বিরুদ্ধে তার বাবা আব্দুস সোবহানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শিশিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার থানাপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত আব্দুস সোবহান একজন সাবেক নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন।
এদিকে গত বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় মা-ছেলেসহ তিনজনকে হত্যা
স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আব্দুস সোবহান ব্যাংক থেকে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা তোলেন। ওই রাতেই তার ছেলে শিশিরের সঙ্গে গণ্ডগোল বাধে। পরে দিন বুধবার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলের মধ্যে হট্টগোল চলে। ওই দিন মাঝ রাতে সোবহানের চিৎকার শোনেন প্রতিবেশীরা। এরপর থেকে সোবহানকে বাইরে দেখেনি এলাকাবাসী। শনিবার বাড়ির দ্বিতল ভবন থেকে পচা গন্ধ বের হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের ভাইয়ের মেয়ে গুলশান আরার ভাষ্য মতে, তার চাচাতো ভাই শিশির বখাটে ও নেশাগ্রস্ত ছিল। কোনো কাজকর্ম করত না। নেশার টাকা জোগাতে না পেয়ে তার বাবার সঙ্গে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। পরে শনিবার দুপুরে পচা গন্ধ পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গণি মিয়া বলেন, প্রতিবেশীদের খবরে নিহতের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সোবহানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মাথায় ও শরীরের আঘাতে চিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলে শিশিরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ডকে 'নির্মমতা' বললেন ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর এ পর্যন্ত ৩০টি হত্যাকাণ্ডে ১৩১ প্রাণহানি
৬২৯ দিন আগে