জলবায়ু
কার্বন ক্রেডিট অর্জনে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে দেশের কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কার্বন শোষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তিনি কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন।
এছাড়া কার্বন ক্রেডিট অর্জনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় উপস্থিত মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, কার্বন নিঃসরণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ আরও বাড়বে।
কার্বন ক্রেডিট হলো পরিবেশ সুরক্ষার একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা। বায়ুমণ্ডলে এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো বা অপসারণের বিপরীতে একটি কার্বন ক্রেডিট দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, কার্বন ট্রেডিং হলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে একটি বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা। এতে সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থা কোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির জন্য নির্ধারিত পরিমাণ কার্বন নিঃসরণের সীমা নির্ধারণ করে। কেউ সেই সীমার বেশি কার্বন নিঃসরণ করলে তাকে বাজার থেকে কার্বন ক্রেডিট কিনতে হয়। আর যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান বনায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি কিংবা পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমায় বা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণ করে, তারা কার্বন ক্রেডিট অর্জন করতে পারে। পরে এসব ক্রেডিট অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকারী দেশ বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
বাংলাদেশে সবুজ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে জলবায়ু অর্থায়ন প্ল্যাটফর্ম চালু
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য শক্তি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পানি শোধন প্রকল্পের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষায়িত ক্লাইমেট ফাইন্যান্স (জলবায়ু অর্থায়ন) প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফান্ড।
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং জাতীয় কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ যখন কাজ করছে, তখন ব্যাংকযোগ্য (ব্যাংক ফাইন্যান্সের উপযোগী) সবুজ অবকাঠামো প্রকল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লক্ষ্যভিত্তিক সরকারি ও বেসরকারি মূলধনের সমন্বয় এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রকল্প মূল্যায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জলবায়ু অগ্রাধিকারগুলোকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তর করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
প্রাথমিকভাবে তিনটি খাতে বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এগুলো হলো—নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পানি শোধন।
· নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থানীয় পর্যায়ের সৌর ও বায়ুশক্তি এবং বিকেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অর্থায়ন করা হবে, যাতে আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।
· জ্বালানি দক্ষতা খাতে বস্ত্রশিল্পসহ উচ্চ জ্বালানি-নির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে জ্বালানির অপচয় কমানো এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
· পানি শোধন খাতে জলবায়ু সহনশীল পানি বিশুদ্ধকরণ ও শোধন অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফান্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এডগার কেয়ার্কভাইক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান ও কার্যকর পরিবর্তন আনা। প্রাতিষ্ঠানিক ও বেসরকারি মূলধনকে টেকসই ও ব্যাংকযোগ্য প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে, যা জাতীয় জলবায়ু ও অবকাঠামোগত অগ্রাধিকারের বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’
তিনি জানান, প্ল্যাটফর্মটিতে একটি বিশেষ পোর্টাল রয়েছে, যেখানে প্রকল্প উদ্যোক্তারা প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিতে, বিনিয়োগ নির্দেশিকা পর্যালোচনা করতে, প্রকল্প মূল্যায়নের মানদণ্ড জানতে এবং তহবিলের পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন কাঠামো সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।
সহ-প্রতিষ্ঠাতা থেও ওয়েস্টগেস্ট বলেন, টেকসই অবকাঠামো বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং কার্যকর মূলধন বরাদ্দের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ খান বলেন, ‘এই কাঠামোর মাধ্যমে আমরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য বাংলাদেশের নিম্ন-কার্বন ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগের একটি বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করছি। উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দিতে বাংলাদেশের এমন অর্থায়ন কাঠামো প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্ম নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পানি শোধন খাতে ব্যাংকযোগ্য স্থানীয় প্রকল্পের সঙ্গে বেসরকারি অর্থায়নের সংযোগ তৈরি করে সবুজ অর্থায়নের ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে এবং আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর জন্য আরও সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত আমদানি করা জ্বালানির ওপর বাড়তি নির্ভরতা, দেশীয় গ্যাসের মজুত কমে যাওয়া এবং শিল্পের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় অনেক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পানি শোধন প্রকল্প উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয়, জমির স্বল্পতা এবং বিশেষায়িত ঋণ সুবিধার অভাবে বাস্তবায়নের পথে বাধার মুখে পড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফান্ড প্রাথমিক পর্যায়ের প্রকল্প সহায়তা, ঝুঁকি প্রশমন এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নের মাধ্যমে টেকসই অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর প্রকল্প বাজারে আনার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।
আগ্রহী প্রকল্প উদ্যোক্তা, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তহবিলের অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে বিনিয়োগ নির্দেশিকা পর্যালোচনা বা অর্থায়ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৭ দিন আগে
জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলবায়ু সহনশীল সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই বায়োইকোনমি (জৈব-অর্থনীতি) বিকাশে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও সুদৃঢ় আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বুধবার (১ জুলাই) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএনইএসক্যাপ) ‘কমিটি অন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর নবম অধিবেশনের মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
বায়োইকোনমি বা জৈব-অর্থনীত' বলতে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝায়, যা নবায়নযোগ্য জৈবিক সম্পদ (যেমন: উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব এবং বর্জ্য বা বায়োমাস) ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে খাদ্য, শক্তি, পণ্য ও বিভিন্ন সেবা উৎপাদন করে। এটি জীবাশ্ম জ্বালানি (যেমন: কয়লা, পেট্রোলিয়াম) এবং ক্ষতিকারক রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও জৈবিক উপাদানভিত্তিক একটি টেকসই অর্থনৈতিক মডেল।
অধিবেশন চলাকালে ইউএনইএসক্যাপের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি লিন ইয়াংয়ের এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং এ বিষয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বায়োইকোনমির বাজার বর্তমানে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে অবশ্যই পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, যাতে কৃষক, জেলে, নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ দেশ হওয়ায় প্রতিনিয়ত বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও তীব্র তাপদাহের মতো জলবায়ুজনিত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০২৪ সালে তীব্র তাপদাহের কারণে বাংলাদেশের প্রায় ১৭৮ কোটি ডলার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে টেকসই বায়োইকোনমি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
একই দিনে ব্যাংককের জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সরকার, ইউএনইএসক্যাপ, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), এশিয়ান ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস সেন্টার (এডিপিসি) এবং জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি আলোচনা সভায় আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশের সবুজ অর্থনীতিতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাট ঐতিহ্যবাহী চটের বস্তার গণ্ডি পেরিয়ে এখন উচ্চমূল্যের বহুমুখী সবুজ পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ‘সোনালি ব্যাগ’ উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ জ্বালানি সংকট নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বায়োগ্যাস এবং উন্নত চুল্লি কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় ৪১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের কাছে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে ব্লু-বায়োইকোনমি ও ম্যানগ্রোভ বনায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও নীতিগত অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ৩ আর (রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল) পদ্ধতি ও সার্কুলার ফিউচার মডেলের মাধ্যমে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
৮ দিন আগে
জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তায় ডব্লিউইএফকে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশসহ বদ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) চীনের দালিয়ানে ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালোয়া জুইঙ্গির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ডব্লিউইএফের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে জুইঙ্গি বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ডব্লিউইএফের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে সরকার কর রেয়াত সুবিধা দিচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৬ দিন আগে
পরিবেশ খাতে লুটপাট আগে যা হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, পরিবেশ খাতে লুটপাট আগে যাই হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না। লুটপাট যাই হয়েছে এতে কাউকে না কাউকে দায়ী করা হবে।
রবিবার (৮ মার্চ) ফেনী সার্কিট হাউজে ‘গার্ড অব অনার’ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী হওয়ার পর নিজ জেলা ফেনী ও সংসদীয় আসনে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর।
এ সময় পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের দূষণ লেভেল পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ। যেভাবেই হোক আমাদের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। আগের কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। দূষণ কমানো আমাদের জাতিগত দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মাটি পোড়ানো ইটের জায়গায় পরিবেশবান্ধব ইটে রূপান্তর করা এক-দুই বছরে সম্ভব নয়, এটি সময়সাপেক্ষ। তবে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটে যেতেই হবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের জনগণ যে পরিণতির শিকার, তাদের সেই পরিণতি থেকে কিছুটা লাঘব করাই হবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাজ।
জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটা বিরাট ব্যাপার। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে পরিণতির শিকার হতে হয়, তা থেকে আমরা আরেকটু উন্নত করার জন্য বনায়ন করা দরকার; সেটাই আমরা দ্রুত করব। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে সমস্ত কিছু জড়িত, যেমন: নদী ভাঙন ও পরিবেশ দূষণের ব্যাপার আছে, এগুলো কিন্তু জলবায়ুর সঙ্গে জড়িত। আমাদের অগ্রাধিকার হবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের জনগণ যে পরিণতির শিকার হচ্ছে, তাদের সেই পরিণতি থেকে কিছুটা লাঘব করা।
তিনি আরও বলেন, বনায়নের মাধ্যমে দূষণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তবে সমস্যা হলো আমাদের দেশের কাঠামোর একটু অভাব আছে। যেমন: ডার্বেজ, ময়লা আবর্জনা—এগুলো সরানো পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের কাজ নয়, কিন্তু এটার ফলে যে দূষণ হয় সেটার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় দায়ী। তাই এখন দূষণের বিষয়টি একটি কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। আমরা শুধু ঢাকা শহরকে এই কাঠামোর আওতায় রাখব, তা কিন্তু না; দেশের ছোট ছোট শহরগুলোতেও যেন এ সমস্যার সমাধান হয় সেদিকেও নজর রাখা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মুনিরা হক, পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. নবী নেওয়াজ, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবাশ্বের হোসেন মো. রাজিব, ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিকসহ অন্যান্যরা।
১২৩ দিন আগে
জলবায়ু সহিষ্ণুতা অর্জনে বিসিসিটির সংস্কার করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দেশে জলবায়ু পরিবর্তন সহিষ্ণুতা অর্জনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের (বিসিসিটি) প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে।
এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে (জিসিএফ) ডাইরেক্ট এক্সেস এনটিটি হিসেবে বিসিসিটির নিবন্ধন প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠেয় ২৯তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজের প্রস্তুতি বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, কপ২৯ এ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে অভিযোজন অর্থায়ন, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফিন্যান্সে বাংলাদেশ যাতে যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করতে পারে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। আগামী কপ-২৯ এ কার্যকরী অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের জন্য সময়োপযোগী কান্ট্রি পজিশন পেপার প্রস্তুত করতে হবে। জাতিসংঘ, জিসিএফ সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জোটের সঙ্গে বাংলাদেশের যৌথসাইড ইভেন্ট আয়োজনসহ একযোগে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) তপন কুমার বিশ্বাস, মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মোহাম্মদ রেজাউল করিম, উপসচিব ধরিত্রী কুমার সরকার, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ডক্টর ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন) মির্জা শওকত আলী এবং পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মো. জিয়াউল হক প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সম্প্রতি জার্মানির বন শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম সাবসিডিয়ারি বডির সভায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত পরিবেশমন্ত্রীকে জানায় এবং মন্ত্রী এবিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন।
আরও পড়ুন: পরিবেশ সংরক্ষণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: পরিবেশমন্ত্রী
সরকার জনগণের সার্বিক কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে: পরিবেশমন্ত্রী
৭৪৮ দিন আগে
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো জলবায়ু অর্থায়নের অভাবে রয়েছে। প্রতিবার উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ করে না।
আরও পড়ুন: হিমালয়সহ পাহাড়-পর্বত রক্ষায় বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী
সোমবার (২৮ মে) রাতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ ফাইন্যান্স ডায়লগের ‘কান্ট্রিড্রাইভেন ক্লাইমেট হেলথ অ্যাকশনস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং নিডস’ শীর্ষক ২ সেশনে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ছাড়া জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করা বাংলাদেশের জন্য কষ্টসাধ্য। এই অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার অভিযোজনের জন্য ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে, যার মধ্যে স্বাস্থ্যও অন্তর্ভুক্ত। আমাদের বার্ষিক প্রয়োজন প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার। বাকি অর্থের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাপী সংহতির গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা একে অপরকে বিশ্বাস করতে পারছি না কারণ প্রতিশ্রুতি এবং অঙ্গীকারগুলো সবসময় অপূর্ণ থাকছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও খারাপ হতে দিতে পারি না। এজন্য বায়ুতে কার্বন নির্গমন কমাতেই হবে। এছাড়া অভিযোজনের সীমা রয়েছে। যদি আমরা আমাদের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ না করি, তবে আমরা আরও গভীর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হব।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, তাপপ্রবাহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। উত্তরে হিন্দুকুশ হিমালয় ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে আমরা গলিত হিমবাহ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চাপে রয়েছি।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন স্বাস্থ্য ছাড়াও পানিসম্পদ, পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং নারীর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলছে। লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ নারীদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করছে, যার মধ্যে রয়েছে কিডনির সমস্যা, শ্বাসকষ্ট ও উচ্চ রক্তচাপ।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করতে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করতে আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে: পরিবেশমন্ত্রী
৭৭১ দিন আগে
জলবায়ু দুর্গত দেশগুলোর অর্থায়ন নিশ্চিতে আয়োজিত হচ্ছে ন্যাপ এক্সপো
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিপদাপন্ন দেশগুলোর জন্য জলবায়ু তহবিল হতে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ন্যাপ এক্সপো একটি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ২২ থেকে ২৫ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন সম্মেলন ন্যাশনাল এডাপটেশন প্ল্যান (ন্যাপ) এক্সপো ২০২৪ অনুষ্ঠিত হবে।
ইউএনএফসিসিসির তত্ত্বাবধানে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ গ্রুপ এবং বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় এ এক্সপো আয়োজিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই সম্মেলনটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক্সপোতে আরও থাকবেন ইউএনএফসিসিসির এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি সাইমন স্টিয়েল।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) ন্যাপ এক্সপো ২০২৪ উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ন্যাপ এক্সপো একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম যেখানে বিভিন্ন দেশ, সংস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা ন্যাপ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করে।
ন্যাপ এক্সপোতে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা, ন্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন দেশের ন্যাপগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতির মূল্যায়ন করতে বিশেষজ্ঞদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী।
এছাড়াও, এই এক্সপো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত গ্যাপ এবং চাহিদা চিহ্নিতকরণের জন্য প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করবে।
সাবের হোসেন চৌধুরী জানান, ন্যাপ এক্সপো ২০২৪-এ অংশগ্রহণ করতে ১০৪টি দেশের ৩৮৩ জন ইউএনএফসিসিতে রেজিস্ট্রেশন করেছে। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধি, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, এনজিও প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীসহ সাড়ে ৫০০ জন অংশগ্রহণ করবেন।
এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের অভিযোজন কার্যক্রম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় থেকে সবাই পারস্পরিকভাবে উপকৃত হতে পারবে বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের অভিযোজনমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ২০টি স্টল থাকবে। এছাড়াও, ৪ দিনে ১৬টি সেশনে বিশেষজ্ঞরা ট্রান্সফরমেশনাল এডাপটেশন, ফিনান্সিয়াল মেকানিজম, এডাপ্টেশন একটিভিটি মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন টুলস, জেন্ডার রেস্পন্সিভ এডাপটেশন প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করবেন।
বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত ১০টি স্টলে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং, পাহাড়ি অঞ্চলে সোলার এনার্জির মাধ্যমে পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা, জলবায়ু সহিষ্ণু বীজ, প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ এবং অন্যান্য কৃষি কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়, অভিযোজন কর্মকাণ্ডের সমর্থনে ডেল্টা প্লানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, জলবায়ু অভিযোজনের জন্য সাইক্লোন সেল্টার, মুজিব কিল্লা, রাস্তাঘাট, কালভার্ট নির্মাণ, জলবায়ু সহিষ্ণু নগর ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু উদ্বাস্তু ইত্যাদি জলবায়ু অভিযোজনের বিষয়গুলো দেখানো হবে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বিদেশি স্টলে প্রদর্শিত অভিযোজন কর্মকাণ্ড থেকেও অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও এক্সপোতে দেশের জলবায়ু অভিযোজন প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দেশি বিদেশি সংস্থা অংশগ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, অতিরিক্ত সচিব (পদূনি) তপন কুমার বিশ্বাস, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুল হামিদ এবং বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী প্রমুখ।
৮১৩ দিন আগে
বিশ্বকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: স্পিকার
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু সহনীয় কৃষি, অর্গানিক ফার্মিং এবং গ্রিন এন্ট্রাপ্রেনারশিপ চালু করতে হবে। বিশ্বকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের নবনির্বাচিত কমিটির ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে স্পিকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্লাইমেট পার্লামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশ্বের ৭৪টি দেশে বর্তমানে তারা কাজ করছে। পরিবেশ রক্ষায় জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আনতে পারাই- ক্লাইমেট পার্লামেন্টের সার্থকতা।
আরও পড়ুন: নেপাল-ভুটানের সঙ্গে সংযোগ সহজ করবে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর: স্পিকার
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণে মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্লান, ডেলটা প্লানসহ প্রয়োজনীয় আইন ও নীতি বাস্তবায়ন করেছেন।
বাংলাদেশের নদী দূষণের কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, বাড়ির পাশের প্রবাহিত নদী দূষণমুক্ত রাখার জন্য সচেতনতা তৈরিতে স্থানীয় জনসাধারণকেই ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ক্লাইমেট পার্লামেন্টের সদস্যরা সকলে সংসদ সদস্য হলেও জাতীয় সংসদের সঙ্গে এর কোনো পার্টনারশিপ নেই। জাতীয় সংসদ ক্লাইমেট পার্লামেন্টের সঙ্গে পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করতে এবং সকল ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের সভাপতি তানভীর শাকিল জয় নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু অভিযোজনের জন্য সরকার প্রতি বছর ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে: পরিবেশমন্ত্রী
ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের কনভেনার নাহিম রাজ্জাক, ক্লাইমেট পার্লামেন্টের চিফ প্যাটর্ন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বক্তব্য প্রদান করেন।
এছাড়া দক্ষিণ এশিয়া সেক্রেটারিয়েটের ক্লাইমেট পার্লামেন্টের পলিসি অ্যাডভাইজর সুমেধা বসু, ক্লাইমেট পার্লামেন্টের ফাউন্ডার ও চীফ স্ট্রাটেজি অফিসার নিক ডানলপ ভার্চুয়ালি বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারি মাসদুপুয়, আরমা দত্ত, আবুল কালাম আজাদ, আশেক উল্লাহ রফিক, এস এম শাহজাদা, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, নিজাম উদ্দিন জলিল জন, হাবিবুর রহমান, মাহবুব উর রহমান রুহেল, কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি, জারা জাবিন মাহবুবসহ ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও নেপালের রাষ্ট্রদূত, ক্লাইমেট পার্লামেন্টের সদস্যরা, সংসদ সদস্যরা, বিভিন্ন দেশের ক্লাইমেট পার্টনার্স, এনজিওর প্রতিনিধিরা, আমন্ত্রিত অতিথিরা এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: ক্লাইমেট মোবিলিটি চ্যাম্পিয়ন লিডার অ্যাওয়ার্ড পেলেন শেখ হাসিনা
৮২৯ দিন আগে
জলবায়ু তহবিলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।
শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যদের সঙ্গে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
পরে সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পরিবেশমন্ত্রী।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সাবের হোসেন চৌধুরী।
আরও পড়ুন: শুক্রবার সকালে ঢাকার বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’
এসময় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে দ্রুততম সময়ে বরাদ্দ আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। প্রাপ্ত বরাদ্দ যাতে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা হবে। জলবায়ু তহবিলের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে এর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সত্যিকারের টেকসই উন্নয়ন পরিবেশের উন্নয়ন ছাড়া সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের নীতি ও আদর্শগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, এ বারের নির্বাচনি ইশতেহারে পরিবেশের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।
উল্লেখ্য, সাবের হোসেন চৌধুরী মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আগে পরিবেশমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এর আগে ১৯৯৯ সালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গা ও কিশোরগঞ্জের নিকলীতে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
৯০৯ দিন আগে