ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সোমবার পাকিস্তানে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে সোমবার মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলেও এই সফরের খবরে চলতি সপ্তাহে শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সম্ভাব্য এই আলোচনার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি তেহরান। এদিকে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। একদিকে ইরানের হামলার হুমকি, অন্যদিকে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।
এর আগে, রবিবার ইরানি কর্মকর্তারা জানান, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে, মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
শনিবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘আমরা নিজেরা (প্রণালি দিয়ে) চলাচল করতে না পারলে অন্যদের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন দফা আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তবে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। ট্রাম্প লেখেন, ‘তারা যদি চুক্তি না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সেতু গুঁড়িয়ে দেবে।’
তবে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার এই সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন কর্মকর্তা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস বা ভ্যান্সের কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠী এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ—এই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর কারণে প্রথম দফার আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। এসব বিষয়ে দুই পক্ষ তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন এনেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের আগেই ইরানের প্রধান আলোচক গালিবাফ বলেন, অবরোধ এবং ওয়াশিংটনের প্রতি গভীর অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও শান্তি চায় তেহরান। তবে কূটনীতির ক্ষেত্রে কোনো পশ্চাদপসরণ হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শুক্রবার প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। কিন্তু ট্রাম্প যখন ঘোষণা দেন, কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ ‘পুরোদমে বহাল থাকবে’, তখন ইরানও জানায় যে তারা প্রণালিতে নিজেদের বিধিনিষেধ বহাল রাখবে।
শনিবার সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা হলেও দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে গুলি চালানোর পর অন্য জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে নিজেদের অবস্থানে ফিরে যায়। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে আবারও অচলাবস্থা তৈরি হয়। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করার পাশাপাশি পক্ষগুলোকে নতুন করে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই শনিবার ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন কিছু প্রস্তাব পেয়েছে এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে কাজ করছেন।
দ্বিতীয় দফার আলোচনা ঘিরে আবারও ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি অগ্রবর্তী নিরাপত্তা দল ইতোমধ্যেই সেখানে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। তার পর থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণকে ইরান তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তেহরানের জন্য এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অন্যতম হাতিয়ার। অন্যদিকে, ইরানকে চাপে ফেলতে অবরোধ দিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে থাকলেও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই অচলাবস্থা আবারও পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৩ হাজার জন এবং লেবাননে ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে আরও বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৫ জন ইসরায়েলি এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
নতুন চুক্তির পথে অগ্রগতির চেষ্টায় পাকিস্তান
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সৃষ্ট অচলাবস্থার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য ‘দূর করার’ চেষ্টা করছে।
রবিবার ট্রাম্পের সর্বশেষ পোস্টের আগে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ইরান সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ‘নতুন প্রস্তাব’ তারা পর্যালোচনা করছে।
তবে সাইদ খাতিবজাদেহ স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান তাদের ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে না এবং এ ধারণাকে তিনি ‘শুরু করার মতো কোনো বিষয়ই নয়’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় ইউরেনিয়াম-সংক্রান্ত অন্যান্য প্রস্তাব নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও বলেন, ‘যেকোনো উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত।’
১০ ঘণ্টা আগে
ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন করার হুমকি’ থেকে যেভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেন ট্রাম্প
মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নাটকীয়ভাবে সুর পাল্টেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জানালেন, দেশটির নেতৃত্ব একটি ‘কার্যকর’ পরিকল্পনা পেশ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প, যা প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানের পথ প্রশস্ত করবে বলে তিনি আশা করছেন।
পাকিস্তানের নেতৃত্বে মধ্যস্থতাকারীদের ব্যাপক তৎপরতার ফলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও পর্দার আড়ালে থেকে এই যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজতে ভূমিকা রেখেছে ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন।
তেহরানের জন্য ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার দেড় ঘণ্টা আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর আগে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির কারণ হলো আমরা ইতিমধ্যে আমাদের সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছি; এমনকি তা ছাড়িয়ে গেছি। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।’
বুধবার হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক করার কথা রয়েছে। সেখানে এই যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনার মূল কেন্দ্রে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হুমকের সময়সীমা শেষ হয়ে আসার আগে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের ‘একটি পুরো সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করার’ হুমকিকে ‘নৈতিক পরাজয়’ বলে সমালোচনা করেন। অন্যদিকে, পোপ চতুর্দশ লিও সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পিছু হটার পেছনে একটি সহজ সত্য কাজ করে থাকতে পারে। সংঘাত বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়তে পারত যা আগের প্রেসিডেন্টদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়েছিল। অথচ নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি এমন সব যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখবেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ছিল দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া
গত ছয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সাফল্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও ট্রাম্প মনে করেছিলেন, বোমা হামলার মাধ্যমে ইরানকে নত করা সম্ভব। যুদ্ধের শুরুতেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরও ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে—এই সম্ভাবনাকে তিনি অবমূল্যায়ন করেছিলেন বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
তবে গত ৪৭ বছরে ইসলামিক রিপাবলিক ইরান বারবার দেখিয়েছে যে তারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অনড় থাকতে পারে। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ৪৪৪ দিন মার্কিন নাগরিকদের জিম্মি করে রাখা কিংবা বছরের পর বছর ধ্বংসাত্মক ইরান-ইরাক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এর প্রমাণ। এমনকি গাজা ও লেবাননে মিত্রশক্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পরও তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় ছিল।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দ্রুত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল।
অলাভজনক সংস্থা ‘ব্যাটল রিসার্চ গ্রুপ’-এর নির্বাহী পরিচালক বেন কনেবল বলেন, ইরান যাতে জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে না পারে, সেজন্য প্রায় ৬০০ কিলোমিটার ইরানি ভূখণ্ড দখলে রাখতে হতো। এর জন্য কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪৫ হাজার মার্কিন সৈন্যের প্রয়োজন পড়ত যা মোটামুটি ২০ বছর মেয়াদি একটি অভিযানে পরিণত হতে পারত।
মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবসরপ্রাপ্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটি একটি অনির্দিষ্টকালের অভিযানে পরিণত হতে পারতো। সহজ কথায় বলতে গেলে, ২০ বছরের জন্য প্রস্তুত থাকা। আমরা কখনোই ভাবিনি যে আমাদের আফগানিস্তানে ২০ বছর থাকতে হবে। এমনকি ভিয়েতনাম বা ইরাকে আমাদের যতটা সময় থাকতে হয়েছে, সেটাও ছিল ধারণার বাইরে।’
আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার আওতায় ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করতে পারবে। ইরান এই অর্থ দেশ পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় করবে। তবে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে পরিচিত এই পথে এর আগে কখনও মাশুল দিতে হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্প কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে তুলে দিচ্ছেন যা ইরানের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক বিজয়’।
চরম অবস্থান থেকে ট্রাম্পের পিছু হটার পুরনো প্রবণতা
ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়াতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অনুরোধ জানানোর পর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। একইসঙ্গে তিনি ইরানকেও দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বড় কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘দুই সপ্তাহ’ সময় নেওয়া ট্রাম্পের একটি সুপরিচিত কৌশলে পরিণত হয়েছে। গত গ্রীষ্মে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল যে ইরানের ওপর প্রাথমিক বোমা হামলা চালানোর বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই সময় শেষ হওয়ার আগেই তিনি বিমান হামলার নির্দেশ দেন এবং দাবি করেন, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘বিধ্বস্ত’ হয়েছে।
এর আগে, ইউক্রেন যুদ্ধ বা নিজ দেশের ভেতরে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত সংকটের সময়ও তিনি একই ধরনের সময়সীমা ব্যবহার করেছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত তা থেকে প্রাপ্তি ছিল সামান্যই।
হোয়াইট হাউসে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৫ মাসে ট্রাম্প বারবার বিভিন্ন বিষয়ে একরোখা দাবি তুলেছেন এবং পরবর্তীতে আবার তা থেকে পিছুও হটেছেন।
২০২৫ সালের এপ্রিলে ঘোষিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত শেয়ার বাজারে অস্থিরতা তৈরি করলে তা থেকে সরে আসেন ট্রাম্প। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখা যায় গত জানুয়ারিতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে। সেখানে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা ও স্বত্বসহ’ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি তোলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ইউরোপের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করে তিনি সেই অবস্থান থেকেও সরে আসেন।
সে সময় পিছু হটার ব্যাখ্যায় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে তিনি ন্যাটোর প্রধানের সঙ্গে একটি ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা’য় সম্মত হয়েছেন। যদিও গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই সেখানে ব্যাপক সামরিক সুবিধা ছিল।
এদিকে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও ট্রাম্পের কৌশলগত পদক্ষেপই এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের সামরিক সাফল্য সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দলকে কঠিন আলোচনায় অংশ নিতে সক্ষম করেছে এবং কূটনৈতিক সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ উন্মুক্ত করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকার স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সক্ষমতাকে কখনোই খাটো করে দেখা উচিত নয়।’
১১ দিন আগে
যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে ট্রাম্প প্রশাসনের ১৫ দফা প্রস্তাব
যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ডোনিাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে মোতায়েন প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে আরও অন্তত ১ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এ প্রস্তাবের রূপরেখা সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তি এ তথ্য জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান।
ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাবটি পৌঁছানোর খবর প্রথম প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে আরও দুটি নৌ ইউনিট মোতায়েনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে পেন্টাগন। এর ফলে প্রায় ৫ হাজার মেরিন ও হাজারো নৌসেনা ওই অঞ্চলে যুক্ত হবে। এসব পদক্ষেপকে ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নমনীয়তা নিশ্চিতের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওই ব্যক্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে উৎসাহিত করা ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে, মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সময়ে ইরান কড়া ভাষায় নিজেদের অবস্থান জানায়।
একদিকে ওয়াশিংটন হামলা অব্যাহত রাখায় তেহরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য ইসরায়েল ও অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থাপনা। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে তেহরান। আবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য দেওয়া নিজের নির্ধারিত সময়সীমাও পিছিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যাহত করেছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
আলোচনার পথে বড় চ্যালেঞ্জ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও জটিল।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কার হাতে আলোচনা করার ক্ষমতা রয়েছে বা কে আলোচনা করতে আগ্রহী হবেন—তাও স্পষ্ট নয়; বিশেষ করে ইসরায়েল যখন দেশটির নেতাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের গভীর সন্দেহ রয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র দুইবার হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাটি চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা মোতায়েন
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত তিনজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের অন্তত ১ হাজার সেনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে।
এই ডিভিশনকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফোর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যারা খুব অল্প সময়ের নোটিশে মোতায়েন হতে পারে। গত সপ্তাহে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজে থাকা হাজারো নৌসেনাও ওই অঞ্চলে যাচ্ছে।
নৌ ইউনিটগুলো সাধারণত মার্কিন দূতাবাস রক্ষা, বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগকালীন সহায়তার জন্য প্রশিক্ষিত হলেও, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনারা শত্রুভাবাপন্ন বা বিরোধপূর্ণ এলাকায় প্যারাস্যুটের মাধ্যমে নেমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বিমানঘাঁটি দখল করতে পারদর্শী।
এ অঞ্চলে নৌসেনা মোতায়েন নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরানের তেল নেটওয়ার্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখলের চেষ্টা করতে পারে। এর আগে, পারস্য উপসাগরের এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালালেও তেল স্থাপনা অক্ষত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী নামানোর চেষ্টা করলে উপসাগরে মাইন বিছিয়ে দেবে তারা।
নিউইয়র্কভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সুফান সেন্টার এক বিশ্লেষণে লিখেছে, আলোচনা চলাকালীন ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি স্থগিত রেখেছেন। তবে এটি নৌসেনাদের পৌঁছানোর জন্য সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল হতে পারে। সংস্থাটি অবশ্য এও উল্লেখ করেছে যে, ট্রাম্প হয়তো সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একটি পথ খুঁজছেন।
২৫ দিন আগে
ইরান চুক্তিতে আগ্রহী বলে দাবি ট্রাম্পের, কূটনৈতিক আলোচনার সময়সীমা বৃদ্ধি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে একটি চুক্তির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ইরান। এছাড়া, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানকে দেওয়া সময়সীমা আরও পাঁচ দিন বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তির ব্যাপারে ইরানের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালি না খুললে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করা যুদ্ধ নিরসনের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন। তেলের দাম কমাতে এবং শেয়ার বাজারে চাঞ্চল্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে এটি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকির পর ট্রাম্পের এ বার্তা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
ওই হুমকির ফলে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পানীয় জল সরবরাহকারী লোনা পানি শোধনাগারগুলো অকেজো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। তিনি দাবি করেন, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার রবিবার ইরানের একজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি সেই নেতার নাম প্রকাশ না করলেও জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
তবে ইরান আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ভুয়া খবর ব্যবহার করা হচ্ছে।
চুক্তি হলে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছাড়বে ইরান!
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কোনো চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে, যা দেশটির বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেহরান অতীতে এ ধরনের দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের অধিকার বলে দাবি করে আসছে।
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও ফিউশন এনার্জি গবেষক অধ্যাপক রবার্ট গোল্ডস্টন জানান, ইরান ইতোমধ্যে ৯টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক মানের ইউরেনিয়াম উৎপাদনের ৯৯ শতাংশ সেন্ট্রিফিউজের কাজ সম্পন্ন করেছে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল।
এদিকে, তুরস্ক ও মিসর জানিয়েছে যে তারা যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলেছে। এটি এই অঞ্চলের শক্তিশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকে সমন্বিত মধ্যস্থতার প্রথম পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে, তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ না সরায়, তবে তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেলের পাঁচভাগের একভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ওয়াশিংটন সময় সোমবার রাতে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা।
ট্রাম্প বলেন, পাঁচ দিনের এই সময়সীমা বৃদ্ধি চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল।
পরবর্তীতে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, তার প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করছে।
ট্রাম্প বলেন, তারা শান্তি চায়। তারা একমত হয়েছে যে, ‘তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি... তবে দেখা যাক কী হয়।’ তিনি আরও জানান, এই সপ্তাহেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর কৃতিত্ব তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ওপর দিয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে অবগত আছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিস্তারিত না জানিয়ে সোমবার তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য জানত যে এমন কিছু ঘটছে।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার সম্ভাবনা
এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তিনি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অতীতেও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে।
সোমবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অবশ্য রবিবার তুর্কি কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফিদান কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিসর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জানিয়েছেন, তার দেশ উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ইরানকে সুস্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সব পক্ষের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মিসরীয় কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এড়ানোর লক্ষ্যে মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বার্তা আদান-প্রদান করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কূটনীতিকও নিশ্চিত করেছেন যে, মিসর ও তুরস্ক উত্তেজনা প্রশমনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, আপাতত মনে হচ্ছে, তারা জ্বালানি বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রাম্প পিছু হটেছেন বলে দাবি ইরানের
ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের পর ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স ও তাসনিম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে পিছু হটেছেন বলে উল্লেখ করেছে।
তাসনিম নিউজ জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরানে বার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ইরানের স্পষ্ট জবাব হলো, প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাবে। এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়ে হরমুজ প্রণালিকে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফেরানো যাবে না বা জ্বালানি বাজারেও শান্তি আসবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড হুমকি দিয়েছে যে, ট্রাম্প হামলা চালালে তারা মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্র এবং আমেরিকানদের অংশীদারত্ব থাকা অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাবে।
এর আগে, কালিবাফ বলেছিলেন, ইরান এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন অবকাঠামোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে, যার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর পানীয় জলের জন্য জরুরি লোনা পানি শোধনাগারও রয়েছে।
রেভল্যুশনারি গার্ডের ঘনিষ্ঠ ফারস নিউজ এজেন্সি এ ধরনের স্থাপনার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে। ইরান ইসরায়েলের ডিমোনা শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত। তবে স্থাপনাটির কোনো ক্ষতি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধজাহাজ এবং নৌসেনা মোতায়েন করার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল যেকোনো স্থল অভিযানের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছে, এর ফলে সমস্ত প্রবেশপথে মাইন বিছিয়ে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই, তবে তিনি সম্ভাবনাটি পুরোপুরি উড়িয়েও দেননি। অপরদিকে, ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাদের স্থল সেনা এ যুদ্ধে অংশ নিতে পারে।
তেহরান ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা
ইসরায়েল সোমবার তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে, অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলা চালাচ্ছে তারা।
শহরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ঠিক কোথায় আঘাত হানা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গেও লড়াই করছে। হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে শত শত রকেট ছুড়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েল বৈরুতের আবাসিক ভবন এবং দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর ওপরের সেতুগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের সেনাপ্রধান জোসেফ আউন সেতুগুলোতে হামলাকে স্থল আক্রমণের পূর্বাভাস বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির কথা বিবেচনা করলেও ইসরায়েল ইরান ও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সামনে আরও হামলা আসছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে ইরানি হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ১০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
২৬ দিন আগে
শুধু তামাশা করার জন্য হলেও খার্গ দ্বীপে আবার হামলা চালাতে পারি: ট্রাম্প
তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানিকেন্দ্রে শুধু তামাশা করার জন্য হলেও হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া ৩০ মিনিটের এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান সরকার একটি চুক্তি করতে চায় এবং সেই চুক্তির শর্তাবলি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি।
হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ঠিক কতদিন যুদ্ধ চলবে, এই বিষয়ে সংশয় দূর করতে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খার্গ দ্বীপের বেশিরভাগ স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তামাশা করার জন্য হলেও আরও কয়েকবার হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী।
এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমরা খার্গ দ্বীপের অনেক অংশ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি। তবে একটা বিষয়ে নিশ্চয় আপনারা অবগত যে, আমি জ্বালানি পাইপলাইন বা বিদ্যুৎ লাইনের ওপর কোনো ধরনের হামলা করিনি, কারণ সেগুলো মেরামত করতে বহু বছর লেগে যেত।’
কোনো সূত্র উল্লেখ না করে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা সংশয়ের মধ্যে ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, ‘আসলেও তিনি জীবিত আছেন তো?’
তিনি আরও জানান, ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন পুতে রেখেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দুই সপ্তাহ আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালি দিয়ে মূলত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সারা বিশ্বে পরিবাহিত হয়।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে আকাশ ছুঁয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শক্তভাবে ওই প্রণালিতে নজরদারি চালাব এবং আমরা মনে করি, এই তেল পরিবহনের সঙ্গে যেসব দেশের স্বার্থ জড়িত, তারাও এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে।’
তবে কতদিন এই প্রক্রিয়া চলবে বা কোন কোন দেশ এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে, তা এখনও তিনি স্পষ্ট করেননি।
শনিবার অন্যান্য দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে সমন্বয় করবে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সব দিক থেকে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করেছে। কিন্তু বিশ্বের যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল গ্রহণ করে, তাদেরই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরাও সাধ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ওই দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে যাতে সবকিছু দ্রুত, সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। এটি সর্বদা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা হওয়া উচিত ছিল এবং বিশ্বের এই পরিস্থিতিতে তা হবে বলেও আশা করছি। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিশ্বকে সম্প্রীতি, নিরাপত্তা এবং চিরস্থায়ী শান্তির দিকে ধাবিত করবে।’
তবে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে কি না, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আপাতত আপনাদের কিছু জানাতে চাচ্ছি না।’
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমানে সংকট নিরসনে ট্রাম্পের এই একত্রিত হওয়ার আহ্বানকে তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে। কারণ এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে পরিচালিত হামলা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ক্ষমতার প্রদর্শন এবং এর জন্য তারা আন্তর্জাতিক অনুমতির পরোয়া করে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও ইরান লক্ষ্যবস্তু করেছে যা অত্যন্ত বিস্ময়কর ব্যাপার। তিনি বলেন, এসব দেশের ওপর হামলা পুরোপুরি অযৌক্তিক। সেই সঙ্গে ইরানের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সব সিদ্ধান্তের মধ্যে সবচেয়ে বড় অবাক করা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
৩৫ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি ট্রাম্পের আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি বন্দর এলাকা থেকে মানুষকে সরে যেতে বলেছে।
আরব আমিরাতের দুটি বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তেহরান প্রকাশ্যে প্রতিবেশী দেশের যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন নয় এমন সম্পদের বিরুদ্ধে হুমকি দিল।
তেহরান অভিযোগ করেছে, ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর, ডক ও গোপন আস্তানা ব্যবহার করছে। খার্গ দ্বীপে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান টার্মিনাল রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি তেহরান। আরব আমিরাতের যেসব এলাকায় মার্কিন বাহিনী আশ্রয় নিয়েছে, সেসব জায়গা থেকে মানুষকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে, লেবাননে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
আমিরাতের ভূমি ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, খার্গ দ্বীপ এবং আবু মুসা দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি স্থান ব্যবহার করেছে। স্থান দুটির একটি হচ্ছে রাস আল-খাইমাহ এবং আরেকটি দুবাইয়ের খুব কাছাকাছি একটি এলাকা।
এই হামলাকে বিপজ্জনক বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, ইরান কোনো জনবহুল এলাকায় আক্রমণ না করার চেষ্টা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের এই দাবির বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই।
অপরদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনো এসব হামলার প্রতিবাদে যুক্তি ও সংযমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারা এখনও চলমান সংঘাতে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ধৈর্য ধরছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের মধ্যে ইরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তবে তারা বলেছে, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা। যদিও কিছু ক্ষেত্রে বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন: বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রে আঘাত হানার ঘটনা দেখা গেছে।
এদিকে আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি কেবল তেহরান ও তাদের মিত্রদের জন্যই বন্ধ থাকবে যারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান ট্রাম্পের
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় তিনি আশা করছেন যে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ হরমুজ প্রণালিকে খোলা ও নিরাপদ রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। এর জবাবে ব্রিটেন জানিয়েছে, নৌযান চলাচল নিরাপদ রাখতে তারা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিদেশি আগ্রাসনকারীদের তাদের দেশ থেকে বের করে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের ওই আহ্বানকে ‘ভিক্ষা চাওয়া’ বলে অভিহিত করেছেন।
শনিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা হয়, তবে তারা ওইসব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা চালাতে দুবার ভাববে না।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপে হওয়া হামলায় তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে তাদের দাবি, এই হামলাগুলো একটি বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা, একটি নৌঘাঁটি, বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার এবং একটি অফশোর তেল কোম্পানির হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গারকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে সহায়তা করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে বিমানে থাকা ৬ জন সেনা নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহতরা হলেন— মেজর জন এ ক্লিনার (৩৩), ক্যাপ্টেন আরিয়ানা জি সাভিনো (৩১), টেক সার্জেন্ট অ্যাশলি বি প্রুইট (৩৪), ক্যাপ্টেন সেথ আর কোভাল (৩৮), ক্যাপ্টেন কার্টিস জে অ্যাংস্ট (৩০) এবং টেক সার্জেন্ট টাইলার এইচ সিমন্স (২৮)।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম ইরাকে দুই বিমানের এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর এই বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে। অবশ্য ‘মিত্রশক্তির নিয়ন্ত্রিত’ আকাশসীমায় ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্য বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে আরেকটি হামলা
এদিকে, শনিবার বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সের ভেতরে হেলিপ্যাডে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।
ওই দূতাবাস কমপ্লেক্সটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই এই স্থাপনাটি ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ছোড়া রকেট ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে।
এ ঘটনার পরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবারও ইরাকে থাকা মার্কিন নাগরিকদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশটি ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট না থাকায় তাদের স্থলপথে ইরাক ছাড়তে বলা হয়েছে।
তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান এবং ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, স্বার্থ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখবে।
৩৫ দিন আগে
মোজতবা খামেনি সম্ভবত জীবিত, তবে গুরুতর আহত: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত এখনো জীবিত আছেন, তবে সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হামলার সময় খামেনি আহত হয়ে থাকতে পারেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিডকে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি, তিনি জীবিত আছেন। আমার মনে হয় তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, তবে কোনো না কোনোভাবে তিনি সম্ভবত বেঁচে আছেন।
গত বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রচার করার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বার্তা।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সাইপ্রাসে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। ওই হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন।
রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য মার্কিন গণমাধ্যমের আগের সেই প্রতিবেদনগুলোরই প্রতিধ্বনি, যেখানে বলা হয়েছিল, হামলায় মোজতবা খামেনি জখম হয়েছেন।
৩৭ দিন আগে
মার্কিন বাহিনীকে হামলায় ইরানকে তথ্য দিয়েছে রাশিয়া!
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলায় ইরানকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে রাশিয়া। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে অবগত এমন দুইজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলা এবং এর বিপরীতে মার্কিন সামরিক ঘাটি ও মিত্রদের ওপর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাঝে রাশিয়া এ তথ্য দিয়ে ইরানকে নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নিতে বলছে কি না—এমন কোনো প্রমাণ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনও পায়নি।
তবুও, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে মস্কোর জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন গুটিকয়েক দেশের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। অন্যদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচি চালু রাখা, হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথি বিদ্রোহীদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের কারণে ইরান বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে ক্রীড়াবিদদের বেতন-সংক্রান্ত একটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এ প্রসঙ্গ তোলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাংবাদিককে তিরস্কার করেন।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুসিকে তিনি বলেন, আমি আপনাকে অনেক সম্মান করি, আপনি সব সময় আমার প্রতি খুব সদয় ছিলেন। কিন্তু এই সময়ে এই প্রশ্নটি বোকামিপূর্ণ নয় কি? আমরা এখন অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলছি।
হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদনগুলোকে গুরুত্ব না দিলেও রাশিয়া যে এ অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছে, তা অস্বীকার করেননি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানে আমাদের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টতই কোনো পার্থক্য আনছে না, কারণ আমরা তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিচ্ছি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে কি না, সে বিষয়সহ যুক্তরাষ্ট্র সবকিছুর ওপর নজর রাখছে এবং আমাদের যুদ্ধ পরিকল্পনায় তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, আমেরিকার জনগণ আশ্বস্ত থাকতে পারেন যে, তাদের কমান্ডার-ইন-চিফ (প্রেসিডেন্ট) ভালো করেই জানেন, কে কার সঙ্গে কথা বলছে। জনসম্মুখে হোক বা গোপনে, অনুচিত যেকোনো কিছুকেই কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার সহায়তার বিষয়ে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন কি না বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে লেভিট কিছু বলতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, ইরানকে কোনো সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুরোধ আসেনি।
শুক্রবার তিনি বলেন, আমরা ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি এবং অবশ্যই তা চলবে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর মস্কো কোনো সামরিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর আগে, বাইডেন প্রশাসন দাবি করেছিল যে, ইরান রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করছে এবং রাশিয়ায় ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনে সহায়তা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রথম প্রকাশ করেছিল মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে এই তথ্য প্রকাশ ট্রাম্পের বিশ্বাসকে টলিয়ে দিয়েছে কি না যে, পুতিন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো শান্তি চুক্তি করতে সক্ষম, লিভিট বলেন, আমি মনে করি রাষ্ট্রপতি বলবেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে শান্তি এখনও অর্জনযোগ্য একটি লক্ষ্য।
অপরদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা ইরানের শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে চাইছে। তেহরান ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে যে ড্রোন দিচ্ছে, এখন সেগুলোই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতের সঙ্গে কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিশিনা বলেন, ইউক্রেন জানে কীভাবে শাহেদ ড্রোনের হামলা থেকে রক্ষা পেতে হয়। আমাদের অংশীদারদের প্রয়োজনে আমরা সবসময় সাহায্য করতে প্রস্তুত।
এদিকে, ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। জেলেনস্কির সঙ্গে তার সম্পর্কও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রায়ই ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন; এর মধ্যে রয়েছে এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড মস্কোকে ছেড়ে দেওয়া।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের ফলে মার্কিন অস্ত্রের মজুদ কমে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে পেন্টাগন প্রশ্নের মুখে থাকায় ট্রাম্প এই সপ্তাহে অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের উচ্চমানের অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। ফলে তিনি মার্কিন অস্ত্রের মজুদ পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
৪৩ দিন আগে
ইরানে যুদ্ধ সম্প্রসারণে ট্রাম্পকে সিনেটের সমর্থন
মার্কিন সিনেটে ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান বন্ধের উদ্দেশ্যে আনা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব’ রিপাবলিকানরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) আনা প্রস্তাবটি ৪৭-৫৩ ভোটে পরাজিত হয়। এর ফলাফল মূলত দলীয় মেরুকরণ অনুযায়ীই এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
এ আইনটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পরবর্তী মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব বজায় রাখা জরুরি; বিশেষ করে যখন কোনো স্পষ্ট যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা তীব্রতর হচ্ছে।
এই ভোটাভুটির ফলে আইনপ্রণেতারা এমন একটি সংঘাতের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানালেন, যা মার্কিন সেনা সদস্যদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং যার সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক পরিণতি রয়েছে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব বৃহস্পতিবার সকালে ভোটের জন্য ওঠার কথা রয়েছে, তবে সেখানেও এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
সিনেটের এই সিদ্ধান্তটি যুদ্ধ বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজনকেই প্রতিফলিত করে। সমালোচকরা যেখানে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করছেন, সেখানে সমর্থকরা প্রশাসনের পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে রক্ষা করছেন।
৪৫ দিন আগে
প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিতকরণে ভোট দেবেন মার্কিন সিনেটররা
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, প্রস্তাবিত বিষয়ে বিতর্ক স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় শুরু হবে এবং ভোট হবে বিকেল ৪টায়।
যথাযথ আইনি অনুমোদন ছাড়া মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরান হামলার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাবটি পেশ করা হবে। অনেক আইনপ্রণেতা ও মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এ হামলার সমালোচনা করছেন।
ডেমোক্রেট আইনপ্রনেতারা দাবি করেন, কংগ্রেসের সংবিধানিক ভূমিকা পুনঃস্থাপনের জন্য ভোট প্রয়োজন, যা সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদনের অধিকার নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা বাতিল করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এটি পাস করা দুরূহ হয়ে উঠবে। আইনপ্রণেতারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান তুলে ধরার জন্য ভোট গ্রহণের আয়োজন করছেন।
এদিকে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
কুপার বলেছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে এ প্রজন্মে সর্ববৃহৎ মার্কিন সামরিক অভিযান। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজারেরও অধিক সৈন্য, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান, দুইটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং বোমারু বিমান।
হামলায় ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন এবং ১৭টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে। ইরানও পাল্টা হামলায় ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীকে লক্ষ্য করেছে। তবে কুপার দাবি করেছেন, তেহরানের হামলার ক্ষমতা কমতে শুরু করেছে।
মার্কিন সমারিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারও প্রভাবিত হচ্ছে।
৪৬ দিন আগে