নুরুল হক নুর
উচ্চশিক্ষায় বিদেশগামীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ এবং তার নির্দেশনায় আমরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে যারা কোরিয়া, জাপান, চায়না, জার্মানি—এরকম দেশগুলোতে যাবেন, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।
‘সেটা আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটা ব্যাংক আছে—প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, ওই ব্যাংকই ডেডিকেটেড করতে বলেছেন যেন এই মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়।’
প্রতিমন্ত্রী নুর বলেন, আমাদের শ্রমবাজারের বড় একটা অংশই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য। এই যুদ্ধের ফলে আমাদের কী ধরনের সংকট এবং সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ধরেনমধ্যপাচ্যে যে ধরনের অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে, এগুলো আবার পুনর্নিমাণ করতে হবে। ওখানে আশা করি আমাদের দেশের শ্রমবাজার খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং আমাদের দেশের চাহিদা আরও তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী বরাবরই থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ বা ভাষা শেখার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আমাদের দেশের মানুষ শুধু ভাষা না জানার কারণে তারা অল্প পয়সার চাকরি করে। ভাষা জানলে তারা একটু ভালো বেতন পেতে পারে। জাপানে এক লাখ লোক পাঠানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে একটা এমওইউ হয়েছে, সেটাকে কীভাবে ত্বরান্বিত করা যায়, জাপানসহ ইউরোপে কীভাবে আমরা লোক পাঠাতে পারি—এসব বিষয় নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, ইউরোপের বেশ কিছু দেশের ভিসা করার জন্য ভারত যেতে হয়। তো এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশে তাদের একটা অফিস বা কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা। এই বিষয়ে আজকে আলোচনা হয়েছে। কিছু দেশ এরইমধ্যে এখানে কনস্যুলার সেবা দিচ্ছে। বাকি দেশগুলো যেন এখানে নিশ্চিত করে—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম প্রমুখ।
১০ দিন আগে
মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির আশা প্রতিমন্ত্রীর
মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে চলমান আলোচনায় শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতি আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি জানিয়েছেন, এই নতুন দুটি শ্রমবাজার পুরোদমে চালু হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠানোর বড় সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিকল্প ও শক্তিশালী শ্রমবাজার হিসেবে নতুন গন্তব্য তৈরি হবে।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে উল্লেখ করে মো. নুরুল হক বলেন, আমরা অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করে দেব যাতে অতিরিক্ত খরচ ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমে আসে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আপাতত কিছু দেশে কর্মী পাঠানো ধীরগতির হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রমে সেখানে বিপুল জনবলের চাহিদা তৈরি হবে, যা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা বয়ে আনবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বের নির্দেশনার আলোকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে ফলোআপ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
বিদেশগামী কর্মীদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানিসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এই ঋণ প্রদান করবে। তবে এই অর্থ সরাসরি নগদ হিসেবে দেওয়া হবে না; বরং নির্দিষ্ট খাতে প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে এটি সরাসরি ব্যবহার করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিঙ্গাপুরসহ কিছু দেশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির একচেটিয়া প্রভাব বা সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব ক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে এবং সিন্ডিকেট ভাঙার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
১০ দিন আগে
হামলায় নূরের শর্ট টাইম মেমোরি লস হয়েছে: রাশেদ খান
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তি হ্রাস (শর্ট টাইম মেমরি লস) হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে নুরের শারীরিক অবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
রাশেদ খান বলেন, ছোটখাটো অনেক বিষয় ভুলে যাচ্ছেন নুর। তার নাক দিয়ে এখনও রক্ত ঝরছে। সরকার থেকে বিদেশে নিয়ে সুচিকিৎসার আশ্বাস দেওয়া হলেও সরকারের একটি মহল চায় না নুরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হোক।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের অবহেলা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নুরের শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হতে পারে।
অন্য দিকে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় আমাদের নেতাকর্মীদের নাম জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
২০৯ দিন আগে
হত্যার উদ্দেশ্যেই নুরকে আঘাত করা হয়: মির্জা ফখরুল
আঘাত যারাই করুক, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই আঘাত করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নুরকে দেখতে গিয়ে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে খারাপ লেগেছে তা হলো, যারাই আঘাত করুক, নুরুল হক নুরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই যে আঘাত করা হয়েছিল, তা পরিষ্কার।’
নুরের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো, কিন্তু এখনো আশঙ্কা কাটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার (নুর) যে জায়গাগুলোতে ইনজুরি হয়েছে, সেই জায়গাগুলো খুব ফ্যাটাল (মারাত্মক)। তার ব্রেনেও (মস্তিষ্কে) ইনজুরি হয়েছে, ব্লিডিং (রক্তপাত) হয়েছে।’
‘চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ করে জানতে পেরেছি, এখানে চিকিৎসার কোনো ত্রুটি হয়নি; সব ঠিকঠাক আছে। এখানে কিছুদিন রেস্ট (বিশ্রাম) নেওয়ার পরে বাইরে ইভ্যালুয়েশনের (মূল্যায়নের) দরকার। সে এখনো খেতে পারছে না, পাইপ দিয়ে লিকুইড খেতে হচ্ছে। তার রিকভারি হতে সময় লাগছে।’
আরও পড়ুন: ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল
নুরের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনে তাকে দেশের বাইরে পাঠানো দরকার বলেও মনে করেন এই রাজনীতিক।
তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানের পরও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যদি আমাদের নেতাদের ওপর এভাবে আক্রমণ করে, তাহলে সাধারণ মানুষকে কী করছে চিন্তা করুন। এটা আমি কোনোমতেই মেনে নিতে পারি না। প্রধান উপদেষ্টা যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দিয়েছেন, সেটা দ্রুত শেষ করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমি সরকারের কাছে বলি, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানো উচিত।
২১৩ দিন আগে
চীন থেকে ফিরেই নুরের খোঁজ নিতে ঢামেকে নাহিদ-সার্জিস
সম্প্রতি চীন সফর শেষে দেশে ফিরেই গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সার্জিস আলমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরের খোঁজ নিতে যান এনসিপি নেতারা। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছান তারা।
এনসিপি নেতারা নুরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আরও পড়ুন: নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন রাষ্ট্রপতি
এ সময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবসহ আরও কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের পর আল রাজী টাওয়ারের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হন নুরসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। ঘটনাস্থল থেকে নুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
২১৫ দিন আগে
নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ, জাপা কার্যালয়ে হামলা
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ হয়। এতে সড়কে ১ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
এর আগে, রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরীর গণকপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে এ হামলার সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানীর কাকরাইলে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এনসিপির রাজশাহী মহানগরের প্রধান সমন্বয়ক মোবাশ্বের আলীর ডাক দেওয়া এ মিছিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যোগ দেন।
মিছিল চলাকালে কর্মীরা স্লোগান দেন— ‘জাতীয় পার্টি স্বৈরাচার, প্রশাসন পাহারাদার’, ‘আপা গেছে যে পথে, জাপা যাবে সে পথে’, ‘আমার ভাইকে মারল কেন, ক্যান্টনমেন্ট জবাব চাই’ ইত্যাদি।
মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঢাকায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি চলাকালে ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সহযোগীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
এ সময় তারা সেনাবাহিনীর কঠোর সমালোচনা করেন এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন। এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
মিছিল সাহেববাজার এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গণকপাড়া মোড়ে পৌঁছালে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন কর্মী জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা চালান। এ সময় দরজাসহ অফিসকক্ষে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ভেতরের আসবাবপত্র ও ছবি বাইরে এনে রাস্তায় ফেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
আরও পড়ুন: হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে গণতন্ত্রের রূপান্তর দ্রুত শেষ করব: মঈন খান
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পুলিশ পৌঁছানোর আগেই জাতীয় পার্টির মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২১৬ দিন আগে
নুরের ওপর হামলায় ইউটিএলের নিন্দা
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ দলটির নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
শনিবার (৩০ আগস্ট) ইউটিএলের প্রচার দলের সদস্য ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামানের সই করা বিবৃতিতে এ নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, নুরুল হক নুরের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে এ ধরনের হামলা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে নয়, বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মত প্রকাশের অধিকার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ওপর আঘাত। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শক্তির সহযোগীদের রক্ষার জন্য পরিকল্পিত হামলা। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় যে গুম, খুন, নির্যাতন, ভোটাধিকার হরণের সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, সেই ধারাবাহিকতায় এই আক্রমণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত।
আরও পড়ুন: নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তারেক রহমানের নিন্দা, তদন্তের আহ্বান
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারী ও দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২১৬ দিন আগে
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তারেক রহমানের নিন্দা, তদন্তের আহ্বান
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা এবং কাকরাইলে সংঘটিত সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে নুরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে ঘটনা তদন্তে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা এবং কাকরাইলে সংঘটিত সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়।’
‘আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক অত্যন্ত নাজুক সময়ের মধ্যে আছি, যার প্রথম পদক্ষেপ হলো জাতীয় নির্বাচন। সম্মিলিতভাবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আজকের ঘটনার মতো অস্থিতিশীল ঘটনাগুলো যেন আর না ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ থেকে আমাদের দূরে ঠেলে না দেয়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ও এর জোটসঙ্গীরাসহ গণতন্ত্রপন্থী অংশীজনদের অবশ্যই সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনাকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। দেশকে অবশ্যই দলবাজি, সহিংসতা ও বর্তমান অস্থিতিশীলতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই, তবে আমাদের সহিংস জনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়তে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের এই মব ভায়োলেন্সের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা বজায় রাখা, আইনের শাসন সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়ে তুলতে হবে।’
কেবল গণতান্ত্রিক পথে জনগণকে ক্ষমতায়িত করা এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার, সমতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে সফল হতে পারি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নামে ভুয়া অডিও রেকর্ড, মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ
২১৬ দিন আগে
আজ সারা দেশে গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ, ঢাকায় সমাবেশ
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করবে দলটি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় হবে বিক্ষোভ সমাবেশ।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের নতুন এ কর্মসূচির কথা জানান গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
তিনি জানান, শনিবার দুপুর ১২টায় দেশের ৬৪ জেলায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করবে। পাশাপাশি বিকেল ৩টায় ঢাকায় গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে এই হামলার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে।
গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় প্রথম দফায় সংঘর্ষের পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। সে সময় নুরের কর্মী ও জাপা নেতাকর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তখন জাপা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন নুর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা। এর মাঝখানে পড়ে নুর আহত হন।
এই হামলার বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগের আমলেও আমরা এভাবে হামলার শিকার হইনি। আজকে নুরুল হক নুর আইসিউতে কেন, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, আজকের হামলা থেকে আপনারা কিছুটা প্রমাণ পেয়েছেন। সেনাবাহিনী বুট জুতা দিয়ে আমাদের পাড়িয়েছে। আজকে যদি এর বিচার না হয়, তাহলে সেনাবাহিনী নিজেকে নিজে কলঙ্কিত করল।
এদিকে, এ ঘটনাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ আখ্যা দিয়ে তা ঠেকানোর জন্য বল প্রয়োগে সেনাবাহিনী বাধ্য হয় বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর।
আরও পড়ুন: কাকরাইলের ঘটনায় যা বলল আইএসপিআর
সেনাপ্রধানের উদ্দেশে রাশেদ বলেন, ‘আমরা সেনাপ্রধানকে দোষারোপ করতে চাই না। কিন্তু আপনাকে এর জবাব দিতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেনাপ্রধানকে কৈফিয়ত দিতে হবে, এ হামলা আপনার নির্দেশে হয়েছে নাকি আপনার অগোচরে হয়েছে।’
এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার কাছেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা। অধ্যাপক ইউনূসের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই হামলা কি খোদা বকসের নির্দেশে হয়েছে নাকি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশে হয়েছে; নাকি আপনার নির্দেশনায় হয়েছে— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার জবাব দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে যদি জবাব না দেন, তাহলে পরবর্তীতে যদি কোনো অঘটন ঘটে, আমরা যদি আইন হাতে তুলে নেই, তার জন্য সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে।’
২১৭ দিন আগে
কাকরাইলের ঘটনায় যা বলল আইএসপিআর
রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর গণঅধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় জাপা নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর রাত সোয়া ৯টার দিকে লাঠিচার্জ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ আখ্যা দিয়ে তা ঠেকানোর জন্য বল প্রয়োগে সেনাবাহিনী বাধ্য হয় বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর বলেছে, গতকাল (শুক্রবার) রাত ৮টায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেড়ে গেলে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয় এবং এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
ঘটনার শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করার জন্য ও দেশের বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করার অনুরোধ জানায় বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
আরও পড়ুন: কাকরাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মারধরে আহত নুরুল হক নুর
আইএসপিআরের ভাষ্যে, ‘তবে বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও কতিপয় নেতাকর্মী তা উপেক্ষা করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করে। তারা সংগঠিতভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায় এবং রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরও বৃদ্ধি করে। এ সময় তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ারও চেষ্টা চালায়। এ ছাড়াও বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সাধারণ জনগণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়।’
‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শান্তিপূর্ণ সমাধানের সব চেষ্টা তারা অগ্রাহ্য করে। ফলস্বরূপ, জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়।’
এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ৫ সদস্য আহত হয় জানিয়ে আইএসপিআর আরও বলেছে, সব ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করছে এবং জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা আনতে সব ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত রয়েছে। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সর্বদা বদ্ধপরিকর।
২১৭ দিন আগে