শোক
শোকের আবহে নতুনের বারতা নিয়ে এসেছে ২০২৬
কালের পরিক্রমায় গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি থেকে আরও একটি বছরের পাতা ছিঁড়ে গেল। শুরু হয়েছে নতুন একটি বছর, ২০২৬। কিন্তু বাংলাদেশে নতুন বছরটি এমন এক সময়ে শুরু হলো, যখন শোকে বিহ্বল গোটা জাতি।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ‘আপোসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পুরো দেশ। গতকালই লাখো মানুষের অশ্রু আর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানানো হলো। দেশে চলছে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, আর এর মধ্যেই নতুনের বার্তা নিয়ে উঁকি দিল নতুন বছরের নতুন সূর্য।
প্রতি বছর খ্রিস্টীয় সালকে বরণ করে নিতে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও আয়োজনের কমতি থাকে না। রাত ১২টায় নতুন বছর পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আতশবাজির ঝলকানিতে বর্ণিল হয়ে ওঠে আঁধারে ঢাকা আকাশ। ফানুসের মলিন-মিষ্টি আলো দ্যুতি ছড়িয়ে যায় শত-সহস্র হৃদয়ে। বাজি আর পটকার কান ফাটানো শব্দে সদ্যজাত শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের নাভিশ্বাস উঠে যায়, নিদ্রাকাতর পাখপাখালি দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছোটাছুটি করতে গিয়ে দেয় প্রাণ। ফানুসের আগুনে শীতের রাতে জ্বলে ওঠে কোনো কোনো বাসাবাড়ি; সর্বস্ব হারায় মানুষও।
তবে রাষ্ট্রীয় শোকের মাঝে ২০২৬ সালকে বরণ করে নিতে যথেষ্ট সংযমের পরিচয় দিয়েছে রাজধানী ঢাকাবাসী। আতশবাজির শব্দ থাকলেও তা অন্যান্য বছরগুলোর তুলনায় ছিল উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কম। পটকার শব্দও এবার তেমন শোনা যায়নি। তাছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনও এবার আড়ম্বরের সঙ্গে হয়নি।
রাষ্ট্র সংস্কারের নানা চেষ্টা, মব সন্ত্রাস, প্রাণঘাতী ভূমিকম্প, তারেক রহমানের দেশে ফেরার মতো ঘটনার ভেতর দিয়ে বছর পেরিয়ে দেশ যখন বিজয়ের আনন্দে ডিসেম্বরে পদার্পণ করেছে, ঠিক সেই সময়ে, বিজয় দিবসের পর থেকেই একে একে আসতে থাকে শোক সংবাদ। আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে কয়েকদিন দেশ-বিদেশের চিকিৎসা নেওয়ার পরও মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয় শরিফ ওসমান বিন হাদির। পরপারে পাড়ি জমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পাওয়া ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অন্যতম পাঞ্জেরির।
তরুণ এই নেতার আদর্শকে ধারণ করে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে চোখের জলে তাকে বিদায় জানাল বাংলাদেশ। এরপর এক বুক শোক নিয়েই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রস্তুতি চলছিল। ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়ে মনোনয়নপত্র জমাদান শেষ হয়েছে। কিন্তু এরপর এলো সবচেয়ে বড় শোকের আঘাত। দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ৩০ ডিসেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন খালেদা জিয়া।
তার চলে যাওয়ায় দলতম নির্বিশেষে শোকে মুহ্যমান গোটা জাতি। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদি শাসনের পর নতুন করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই টালমাটাল সময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ‘আপোসহীন’ এই নেত্রীর উপস্থিতি ছিল মাথায় ওপর ছায়া, নতুন হাঁটতে শেখা অদম্য শিশুর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা অভিভাবকের মতো। সেই তার চিরবিদায় দেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় বিশাল এক শূন্যতার সৃষ্টি করল, সেই শূন্যতা নেতৃত্বের শূন্যতার, ঝঞ্ঝাময় সময়ে একজন দক্ষ কাণ্ডারির অভাব।
তবে শোকের মাঝেও ২০২৬-এর পহেলা জানুয়ারি সকালে উঁকি দিয়েছে নতুন সূর্য। তাই নতুন বছরে আমাদের সব শোক কাটিয়ে উঠে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে ব্রতী হতে হবে। সকল জরা-জীর্ণতা, অবসাদ-বিষণ্নতা, আলস্য আর প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের লক্ষ্যের দিকে ছুটতে হবে। এই লক্ষ্য ব্যক্তির লক্ষ্য, এটি পারিবারিক, সামাজিক লক্ষ্য, এ লক্ষ্য রাষ্ট্রের, জাতি হিসেবে একটি সামগ্রিক লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে বছরের প্রথম দিন থেকেই মনোবল ফিরিয়ে কাজে নেমে পড়তে হবে; সমষ্টির লক্ষ্য অর্জনে সংকীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে, পুরনো দ্বন্দ্ব ভুলে হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজে নেমে পড়তে হবে।
২০২৬ বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি বছরই নয়, এই বছরের শুরুর ভাগেই রয়েছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, অংশগ্রহণমূলক আর উৎসবমুখর নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের সূচনা হবে বছরের প্রারম্ভেই।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে নানা প্রতিকূলতা, সমস্যা পেরিয়ে আজ নতুন এক ক্রান্তিলগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে বাঙালি জাতি। আগামীর বাংলাদেশ গতানুগতিক রীতিতেই চলবে নাকি নতুনভাবে গড়ে উঠবে, এই সময়টাই তা নির্ধারণ করে দেবে। তাই অদম্য প্রাণশক্তিতে জাতি আজ থেকেই তার নবগৌরবের ইতিহাস রচনার হালখাতা খুলুক—এই শুভকামনায় সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা!
৫ দিন আগে
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু, আজ সাধারণ ছুটি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে সারা দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শুরু হয়েছে। আজ থেকে শুরু হওয়া এই শোক চলবে আগামী ২ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন এই নেত্রীর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীরভাবে শোকাহত। তার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।
রাষ্ট্রীয় শোকের প্রথম দিনে আজ দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
এ ছাড়াও তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাতের জন্য আগামী শুক্রবার দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনারও আয়োজন করা হবে।
এর আগে গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও আজ বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। আজ আমাদের পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিস্তব্ধ।
জানাজাসহ শোক পালনের সকল ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
৬ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যু: শোককে শক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান ফখরুলের
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৃষ্ট শোককে শক্তিতে পরিণত করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে একটি অপ্রতিরোধ্য দল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যে শোক তৈরি হয়েছে, আসুন, আমরা এই শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে একটি অপ্রতিরোধ্য দল হিসেবে গড়ে তুলি। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠিত করি।’
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের নেত্রী গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন।… আজকে সেই নেত্রীর ইন্তেকালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল। এই ক্ষতি পূরণ সহজে সম্ভব নয়।
‘এমন একটা সময়ে তিনি চলে গেলেন, যখন তাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, যখন জাতি গণতান্ত্রিক উত্তরণের দিকে যাচ্ছে। এই শোক, এই বেদনা আমাদের পক্ষে ধারণ করা খুব কঠিন। তারপরও এই শোককে আমরা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রীর দেখানো পথে আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই।’
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জুড়ে বুধবার দুপুর ২টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে শেরেবাংলা নগরে তার স্বামী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জানাজা পড়াবেন আমাদের জাতীয় মসজিদের খতিব অর্থাৎ বায়তুল মোকাররমের খতিব। আর এই জানাজায় সঞ্চালনা করবেন আমাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব নজরুল ইসলাম খান।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে এই জানাজায় অংশগ্রহণ করব।… আমি বাংলাদেশের সকল স্তরের মানুষের কাছে অনুরোধ জানাব, আপনারা সেই শৃঙ্খলা মেনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে জানাজা পড়বেন।’
এরপর খালেদা জিয়াকে দাফনের কার্যক্রমে যাদের দায়িত্ব থাকবে, কেবল তারাই অংশ নেবেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘অনুরোধ থাকবে আপনাদের কাছে যে আপনারা কেউ এই নিয়ম ভঙ্গ করে শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন না এবং ব্যাহত করবেন না এই পুরো কর্মসূচিকে।
‘আমরা বিশ্বাস করি, দেশনেত্রীর প্রতি আপনাদের যে সম্মান, যে শ্রদ্ধা, সেটাকে অটুট রাখার জন্য আপনারা সেই শৃঙ্খলা রক্ষা করবেন এবং সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবেন এই জানাজা এবং দাফন কার্য সুচারুরূপে সমাধা করতে।’
এ সময় দলের পক্ষ থেকে সাত দিন শোক পালনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সাত দিন আমরা কালো পতাকা ধারণ করব। কালো ব্যাজ ধারণ করব এবং কালো পতাকা উড়বে প্রতিটি কার্যালয়ে, আমাদের দলীয় কার্যালয়ে। এবং প্রত্যেক কার্যালয়ে দোয়া পড়া হবে, কোরআন তেলাওয়াত হবে।
‘এই বিষয়গুলো আপনারা সবাই পালন করবেন। আমরা আবারও সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
৭ দিন আগে
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের পরিচয়ের সঙ্গে চিরকাল যুক্ত থাকবেন: জাবি উপাচার্য
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি একজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনায়ক ও অভিভাবককে হারাল।
কামরুল আহসান বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্বের জন্য তিনি জনসাধারণের কাছে ‘আপসহীন দেশনেত্রী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যু ইতিহাসের এক কিংবদন্তির প্রস্থান, যা কোনো দিন পূরণ হওয়ার নয়। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে সময়ের প্রয়োজনে তিনি কোটি মানুষের নেত্রীতে পরিণত হন। গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী এই নেতা দেশ, মাটি ও মানুষের অধিকার আদায়ে ছিলেন অবিচল।
উপাচার্য বলেন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক মূল্যবোধে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অনন্য প্রেরণার উৎস। স্বভাবে ও আচরণে পরিমিত, পরিশীলিত ও সহনশীল এই নেতা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থরক্ষায় সব সময় সাহসী ও সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। শারীরিকভাবে বিদায় নিলেও বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের পরিচয়ের সঙ্গে চিরকাল যুক্ত থাকবেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি বারবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবেন।
শোকবার্তায় উপাচার্য ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বেগম খালেদা জিয়ার এক ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে নির্মাণ করতে হবে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ওই ভাষণের মাধ্যমে তিনি ধ্বংস বা প্রতিশোধ নয়, বরং ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
৭ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাকৃবি উপাচার্যের শোক
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ শোক জানানো হয়।
শোকবার্তায় উপাচার্য মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, আজ আমরা একজন সৎ, দৃঢ়চেতা ও দেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ আপসহীন নেত্রীকে হারালাম। তিনি দেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা তার অশেষ রহমতে মরহুমার সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের অনন্ত শান্তির আশ্রয় দান করুন, আমিন।
৭ দিন আগে
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ রাশিয়ার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে রাশিয়া।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকায় রাশিয়ার দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং তিনবারের সরকার প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয়। তার নেতৃত্বকালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে যে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তা রাশিয়া কৃতজ্ঞতার সঙ্গে মনে রাখবে।
দূতাবাস খালেদা জিয়ার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং দলের সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানায়।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
গত ২৩ নভেম্বর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২৭ নভেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৭ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শোক
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক্সে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় তিনি এ শোক প্রকাশ করেন।
পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা অন্যতম জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি শোকাহত।’
খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের আমার সমবেদনা জানাচ্ছি।’
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শোক জানিয়েছেন।
এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার দুই দেশের অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতেও আমাদের পথ দেখাবে। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।’
মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বেগম খালেদা জিয়া।
তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের স্ত্রী শার্মিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, তার স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য।
এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য চিকিৎসকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি দীর্ঘস্থায়ী কিডনি জটিলতা, যকৃতের জটিল রোগ, অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
৭ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শোক
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক্সে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় শাহবাজ শরিফ খালেদা জিয়াকে ‘পাকিস্তানের নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে তার আজীবন সেবা এক দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছে।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বেগম জিয়া পাকিস্তানের একজন নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু ছিলেন। শোকের এই মুহূর্তে আমার সরকার ও পাকিস্তানের জনগণ বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে।।’
তিনি খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
৭ দিন আগে
খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: রাষ্ট্রপতি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি এ শোক জ্ঞাপন করেন।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার আপসহীন ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির মুহূর্তে আমি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ ও অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশবাসীকে মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দেওয়া বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
৭ দিন আগে
খালেদা জিয়ার দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার আমাদের অংশীদারত্বকে পথ দেখাবে: মোদি
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এই শোক প্রকাশ করেন তিনি।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা এই বিয়োগান্তক ক্ষতি সয়ে নেওয়ার জন্য তার পরিবারকে ধৈর্য দান করুন।’
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে উষ্ণ সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘তার দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার দুই দেশের অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতেও আমাদের পথ দেখাবে। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।’
৭ দিন আগে