চিফ হুইপ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা নাহিদ ইসলামের
নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের দলীয়করণের অভিযোগ তুলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হবে, আমাদের এমনটা মনে হচ্ছে না। সরকারদলীয় অন্তর্কোন্দলে কয়েক শ মানুষ মারা গেছেন, আহত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন দলীয়করণ হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও দলীয়করণ হয়েছে। এখন যে অবস্থা আছে, সে অবস্থা থেকে স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘১১ দলীয় জোট থেকে আমরা নির্বাচন কমিশনকে সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা দেব। সেই প্রস্তাবনার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে।’
আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বন্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ, ছাত্র-তরুণরা জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছে। আওয়ামী লীগের যে তৎপরতা, এটি পাশের দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা। তারা বাংলাদেশকে চাপে রাখার জন্য এ ধরনের কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই আদর্শিক। আওয়ামী লীগ তো পরাজিত হয়েছে, কিন্তু এখনও ফ্যাসিবাদের দোসর বিভিন্ন জায়গায় আছে। তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই চলমান। আমরা মনে করি, এই ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার আর নতুন চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ শক্তি মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে।’
পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বক্তব্যের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকের কাজ সাংবাদিক করেছে, সঠিক তথ্য প্রকাশ করেছে। সেটি যদি ভুল হয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার উপায় আছে। পুলিশপ্রধান বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না।’
মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে পুলিশ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা জড়িত বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এই সিন্ডিকেটকে যদি আমরা ভাঙতে না পারি, জবাবদিহিতার আওতায় আনতে না পারি, তাহলে মাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব না।’
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারজিস আলম।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক কাজ করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কারণে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসন চাইলেও সরকারদলীয় বাধার কারণে কিছু করতে পারছে না।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, ঢাকা বিভাগ-দক্ষিণের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান অপু এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইয়েদ জামিল।
৭ দিন আগে
জ্বালানির মূল্য সহনীয় রাখতে পরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির
জনগণের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উপস্থাপনের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও মূল্য সমন্বয়ের কারণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটকালীন ও পরবর্তীতে একই থাকার পরও শুধু জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে কীভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বৈঠকে বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে জনগণের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।
এ সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বিপিসির কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৬ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে সেই বন্ধুত্ব কোনোভাবেই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হতে দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে বন্দরে আসলে আগে বন্ধুদেশের জাহাজ খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত করেছে কেউ একজন। ব্রিক্সের সভাপতি হিসেবে দাওয়াত করেছে। তারেক রহমান তো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একটা স্বাধীন দেশকে, এতটুকু মর্যাদা তো আপনারা দেবেন। এতটুকু মর্যাদা আপনার কাছে আশা করতে পারিনি? আবার যদি বলেন আপনি আমার বন্ধু, তা কেমনে হলো? সবাই আমাদের বন্ধু আমরা সবাইকে বলি আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষা করে যে কাজটা আমরা আগে করব সেটাই আমরা আগে করতে চাই।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিলের মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পদ দান করার পরও তাদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের নেতারা ওয়াকআউট করায় সরকারি দলের সদস্যরা মর্মাহত হয়েছেন।
বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, নতুন একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিভিন্ন কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগের দায়মুক্তির ব্যবস্থা বাতিল করেছে।
৫৪ দিন আগে
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এমপিরা ভোট দিতে পারবেন না: চিফ হুইপ
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না হওয়ায় আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয় নাই, সুতরাং এটা কার্যকর হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে।’
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ছাড়াও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ জি কে গউছ, হুপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর সর্বক্ষেত্র ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, যাবতীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদান এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ-সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে যাবতীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিএনপির দলীয় প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দিয়েছে দল। তিনি প্রার্থী ঘোষণা করবেন।
বিরোধী দল থেকে ইতোমধ্যে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিমূলক সভাটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোট সংসদের ভেতরেই হবে এবং সেখানে একটি ব্যালট বাক্স থাকবে। সংসদ সদস্যরা তাদের বিভাগ, আসন নম্বর ও জাতীয় নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন।
তিনি বলেন, ভোট শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে ৩৪৯টি ভোট দেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফলাফল তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আর যদি দেখা যায় একটি ভোট বাকি আছে, তাহলে সেটির জন্য বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। এরপর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত), সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্পিকারের (ভারপ্রাপ্ত) ভোট দেওয়ার সময় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর ভোট শেষ হওয়ার পর ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রক্রিয়াও সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের পরামর্শে সিইসি এক দিনের বৈঠক ডাকবেন বলেও জানান চিফ হুইপ।
বিএনপির প্রার্থী কবে চূড়ান্ত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলে সবাই জানতে পারবেন। মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময়ই সবাই প্রার্থীর বিষয়ে জানতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন এবং তারা দেশবাসীকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানও জানাতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যিনি প্রার্থী তাকে আমরা মনে করছি, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অভিভাবকত্ব হিসেবে তিনি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হবেন।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন।
তিনি বলেন, ‘তারপরেও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, এজন্য এটাকে বিনা কনটেস্টে (প্রতিযোগিতায়) দিতে চাই না। আমরা সে কারণে বিরোধী দলের জায়গা থেকে সেখানে প্রার্থী দিয়েছি।’
জুলাই সনদ অনুযায়ী, ৭০ অনুচ্ছেদে অর্থবিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপি আরও দুটি বিষয় যোগ করার কথা বলেছিল—সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় নিরাপত্তা (যুদ্ধ পরিস্থিতি)।
৮৫ দিন আগে
এ দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই, সবাই সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক: চিফ হুইপ
বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক এবং এ দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত আত্মত্যাগে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই রাষ্ট্রে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন বা বৈষম্যের স্থান নেই।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার কায়েতপাড়ায় শ্রী শ্রী যশোমাধব মন্দিরের মাধব অঙ্গনে আয়োজিত ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী যশোমাধব রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে রথমেলার উদ্বোধন করেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এ দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই; বাংলাদেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের বৈষম্য করে না।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সংখ্যালঘু ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হতো। দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটত, যার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হতো। বর্তমানে এ ধরনের অপতৎপরতার কোনো স্থান নেই। বিএনপিতে উগ্রবাদ বা সাম্প্রদায়িকতার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশের জনগণ জুলাইয়ে একটি নতুন সূর্যের উদয় প্রত্যক্ষ করেছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করেই জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ ধরনের আয়োজন দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন ও সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ।
মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ এবং ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় গীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।
শেষে চিফ হুইপ ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী যশোমাধব রথযাত্রার উদ্বোধন করেন এবং উৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
১১১ দিন আগে
বর্তমান সংসদকে দেশের ইতিহাসের সেরা সংসদ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান চিফ হুইপের
সম্মিলিতভাবে কাজ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কার্যকর সংসদে পরিণত করতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এই সংসদকে আরও কার্যকর এবং গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অ্যানালাইসিস অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের (বিএএমইউ) আয়োজনে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক ২০২৬’-এর সপ্তম ব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
চিফ হুইপ বলেন, ‘বর্তমান সংসদকে আমরা বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা সংসদ হিসেবে দেখতে চাই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের প্রতি আমার প্রত্যাশা থাকবে, আপনারা এই সংসদকে আরও কার্যকর এবং গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলবেন।’
ব্রিফিংয়ে সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ—সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির সংবিধান ও কার্যপ্রণালী-বিধি অনুযায়ী ভূমিকা ও কার্যক্রম বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন চিফ হুইপ।
১২০ দিন আগে
সংবিধান সংশোধনে শিগগিরই বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন: চিফ হুইপ
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজতর করতে শিগগিরই একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি হবে। সেখানে সব দলের প্রতিনিধি রাখতে চাই আনুপাতিক হারে। স্বতন্ত্র থেকেও আমরা রাখতে চাই। সকলের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি অচিরেই করব। আগামী রবিবারের মধ্যে আপনারা দেখবেন হয়তো… খুব শিগগিরই এটা করব।’
কমিটির সদস্য নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা একটা উদ্ভূত পরিস্থিতি। এখানে সরকারি দলের যারা আইন বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের রাখতে চাই। বিরোধী দলের যারা আইন বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদেরও রাখতে চাই। আইন বিশেষজ্ঞ না থাকলে অন্যান্য দলের প্রতিনিধিও রাখতে চাই। সবমিলিয়ে ২০ বা ১৮ বা ১৫ সদস্যের কমিটি করতে চাই। তবে এটা নির্দিষ্ট নয়।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনকে এমন পর্যায়ে নিতে চাই, যাতে বারবার আমাদের কাঁচি চালাতে না হয়।
বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের কেউ না থাকার প্রতিক্রিয়ায় নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তাদের এ অবস্থান সঠিক হবে না। আজ হোক বা কাল, সংবিধান সংশোধন আমাদের করতেই হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তাদের আমরা চাই। এক হাতে যেমন হ্যান্ডশেক হয় না, কাঁচির একটা অংশ দিয়ে যেমন চুল কাটা যাবে না, দুটোই লাগবে; আমরা সেটাই চাই উনারা থাকুক। তারা কমিটিতে থাকবেন বলে আমরা আশা করি।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার এখন সময়ের দাবি। সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।
জাতীয় জুলাই সনদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী এটা করা উচিত। এটা আমরা দেশের জন্যই করব। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা আমার কোনো বিশেষ সুবিধা হবে? উনার বিশেষ কোনো ক্ষতি হবে? যেটা দেশের জনগণের কল্যাণে হবে, তাতে দ্বিমত করার কিছু আছে বলে মনে করি না।
এদিকে, সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংসদ অধিবেশন কক্ষের আধুনিকায়নে বৈঠকের বিভিন্ন সুপারিশের কথা জানানো হয়েছে। কমিটি এক সেকেন্ড বা তার কম সময়ে শব্দ শোষণ করতে সক্ষম এমন ‘ইকো-ফ্রি’ সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের সুপারিশ করেছে। এছাড়া অধিবেশন কক্ষে ধীরগতির ইন্টারনেট সমস্যার সমাধান এবং সংসদ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়েছে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অংশ নেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, অলি উল্লাহ, সাইফুল আলম মিলন এবং আবুল হাসনাত।
২১৭ দিন আগে
মহান মুক্তিযুদ্ধে এইচ টি ইমামের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
২০৭১ দিন আগে