গাজীপুর
গাজীপুরে ট্রান্সমিটারের তার ছিঁড়ে নিহত এক, দগ্ধ ৩
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে ট্রান্সমিটারের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন নিহত হয়েছে। এতে আরও ৩ জন দগ্ধ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে ) সকালে কোনাবাড়ীর পারিজাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিউল ইসলাম (১৭) রাজশাহী জেলার মো. সোহেল মিয়ার ছেলে ছিল। সে ওই বিদ্যালয়-সংলগ্ন সেলিম মিয়ার বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করত।
দগ্ধ তিনজন হলেন— কোনাবাড়ী থানাধীন পারিজাত এলাকার মো. সোহান এর ছেলে তালহা (১০) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৫৬)। তিনি বর্তমানে পারিজাত এলাকার গাউছুল আজম জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরজন কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানাধীন সড়কঘাটা গ্রামের জামরুল ইসলামের ছেলে মো, নিরব (১০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের নামাজ শেষে ওই বিদ্যালয়-সংলগ্ন কাকলি নিবাসের সামনে হঠাৎ বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারে ত্রুটি দেখা দেয়। একপর্যায়ে ট্রান্সমিটারের তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। এ সময় তারের সংস্পর্শে এসে রবিউল ইসলাম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ঘটনাস্থলেই তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায় এবং মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আরও তিনজন ঝলসে গেছে। আহতদের প্রথমে গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। অপর একজন বর্তমানে তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জানিয়ে কোনাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, খবর পেয়ে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
২ দিন আগে
ঈদযাত্রা: ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ধীরগতি
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়ছে গাজীপুরের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া দুই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে। ফলে ঈদের যাত্রাপথে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের ধীরগতি ও থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে চন্দ্রা ত্রিমোড়, সফিপুর, বোর্ডবাজার, ভোগড়া ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কয়েক কিলোমিটার জুড়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সফিপুর থেকে চন্দ্রা উড়ালসড়ক এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে থেমে থেমে চলছে যানবাহন।
গাজীপুরের প্রায় ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ শিল্পকারখানায় আজ ছুটি শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের একসঙ্গে বাড়ি ফেরার চাপ পড়েছে মহাসড়কে। এতে বাসস্ট্যান্ডগুলোতেও বেড়েছে যাত্রীদের ভিড়। অনেক স্থানে সড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা ও অনিয়মিত পার্কিংয়ের কারণেও যানজট বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চালক ও যাত্রীরা। তবে প্রায় সব রুটেই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল ইসলাম জানান, সড়ক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও যানবাহন বিকল হলে দ্রুত সরিয়ে নিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেকারও।
৪ দিন আগে
গাজীপুরে ৫ খুন: আসামি ফোরকানের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত নয় পুলিশ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কিনা—সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। তবে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে জিএমপির পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফোরকান মোল্লা।
গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ফোরকান প্রায় ছয় মাস আগে স্ত্রী শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকারচালক ছিলেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, পারিবারিক অশান্তির বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। গত ৮ মে রাতে চাকরির কথা বলে শ্যালক রসূল মোল্লাকেও গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসেন ফোরকান। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতন করার কিছু মিশিয়ে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। এরপর ধারালো চাপাতি দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।
ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, নিহত শারমিনের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই ফোরকান মোল্লা পলাতক ছিলেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থান মেহেরপুর এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। এক ট্রাক সহকারী পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি এলাকা থেকে একটি মোবাইল কুড়িয়ে পান। ওই সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ।
ফুটেজে দেখা যায়, সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি একটি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে কিছুক্ষণ পর নদীতে ঝাঁপ দেন। ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা কি না, কিংবা তিনি মারা গেছেন কি না—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিষয়টি যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন।
১৬ দিন আগে
গাজীপুরে দুই দশক আগে কুপিয়ে হত্যা: প্রধান আসামির যাবজ্জীবন
গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই দশক আগের এক হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রধান আসামি আব্দুস সাত্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক অমিত কুমার দে এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলায় আরও দুই আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত। আসামি আহাদকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি আবুলকে এক বছরের কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।
মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৮ আসামির মধ্যে তিনজন মারা যাওয়ায় বাকি আসামিদের বিচার কার্যক্রম চলে। তিনজনকে দণ্ডিত করা হলেও অন্য সবাইকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা হাইকোর্টের জামিনে ছিলেন।
মামলার বাদী কামরুল হাসান জানান, ২০০৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর শ্রীপুর উপজেলার উজিলাব গ্রামে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মানিক মন্ডলকে। এ ঘটনায় বাদীসহ আরও পাঁচজন আহত হন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) মিজানুর রহমান জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, বাদীপক্ষ চাইলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
১৬ দিন আগে
গাজীপুরে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
মামলা, ষড়যন্ত্র ও মব সৃষ্টি করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিয়োগে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে এবং চার দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে গাজীপুরে ডুয়েট গেট এলাকার একটি হলরুমে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সংস্থায় উপসহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া মামলা, মব সৃষ্টি ও অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিভিন্ন সংস্থায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা, মব সৃষ্টি ও অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে বন্ধ থাকা নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত চালু করা এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নতুন অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে আফসার উদ্দিন, ইসহাক পিকু, সাইফুল ইসলাম শুভ ও সাওদা আক্তার বক্তব্য দেন।
১৮ দিন আগে
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অর্ধশত শ্রমিক অসুস্থ
গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় হঠাৎ করে অন্তত অর্ধশত শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর কারখানাটিতে ছুটি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১১ মে) সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া এলাকার প্যানাসিয়া ক্লোদিং লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে তারা কারখানায় গিয়ে মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন। মিলাদ শেষে একে একে শ্রমিকরা অসুস্থ হতে থাকেন। পরে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (৮ মে) শ্বাসকষ্টে কারখানার একজন শ্রমিক মারা যান। এতে অন্য শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গণ মনোদৈহিক রোগে আক্রান্ত এসব রোগীদের নিয়ে তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। চিকিৎসা দেওয়ার পর আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠবেন তারা।
এদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথমে একজন নারী শ্রমিক হঠাৎ চিৎকার করে ওঠেন। এরপর থেকেই অন্যরা অসুস্থ হতে থাকেন। বিষয়টি পরিকল্পিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৯ দিন আগে
গাজীপুরে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
রবিবার (১০ মে) ভোর ৪টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে ১০-১২ জনের সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্রের একটি দল একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে বাগচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে জনতা তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দাসহ তিনজনকে আটক করে পিটুনি দেয়। পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ ও ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ বিষয়ে ময়নাতদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
২০ দিন আগে
গাজীপুরে ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা: মরদেহের ওপর মিলল চাঞ্চল্যকর ‘অভিযোগপত্র’
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর মরদেহের ওপর টাইপ করা অভিযোগপত্র রেখে পালিয়েছেন অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রীর পরকীয়া ও অর্থ আত্মসাতের ক্ষোভ থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তাদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল (২২)। শারমিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের শাহাদাত মোল্যার মেয়ে ছিলেন। তার স্বামী ফোরকান মিয়া প্রাইভেট কারের চালক।
আজ সকালে ফোরকানের ফোন কল থেকেই তাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা এসে ঘরের ভেতরে মরদেহগুলো দেখতে পান। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা মো. ফোরকান তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের ওই বাড়িতে গত পাঁচ মাস ধরে ভাড়ায় বসবাস করছিলেন।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানানো হয়নি।
মরদেহের ওপর ৫টি অভিন্ন অভিযোগপত্র
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে মদের বোতল, চাপাতি ও কম্পিউটারে টাইপ করা একটি অভিযোগপত্রের পাঁচটি অভিন্ন কপি উদ্ধার করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা ওই অভিযোগপত্রে ফোরকান তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, স্ত্রী শারমিন তার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর ফোরকান এসব নিয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর জেরে গত ৫ মে শারমিন ও তার লোকজন মিলে ফোরকানকে বেঁধে রেখে মারধর করেন।
এছাড়া শারমিন ও তার বাবাসহ কয়েকজন মিলে ফোরকানের উপার্জিত ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে তাদের নামে জমি কিনেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রটি উল্লিখিত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের আলামত
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ফোরকান তার পরিবার নিয়ে আগে টঙ্গীতে থাকতেন। মাস পাঁচেক আগে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তিনি কাপাসিয়ার ওই নিরিবিলি এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। সেখানে এতদিন ধরে বসবাস করলেও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে তাদের তেমন সখ্যতা ছিল না।
ঘটনাস্থল থেকে মদের খালি বোতল ও চাপাতিসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে সবাইকে চেতনাশক কিছু খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ফোরকান নিজেই স্বজনদের ফোনে বিষয়টি জানান এবং এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। নিজের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি নিয়ে তিনি পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন টিম আলাদাভাবে তদন্ত করছে। শিগগিরই ফোরকানকে গ্রেপ্তার এবং খুনের রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
২১ দিন আগে
গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক ব্যক্তির স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ফোরকান পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ফোরকানের স্ত্রী, তাদের তিন কন্যাসন্তান এবং স্ত্রীর ভাই। তারা গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এবং কাপাসিয়ার রাহাতখানা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ফেকরান গাড়িচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী ফোরকান স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করে পালিয়ে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’
২১ দিন আগে
গাজীপুরে বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
গাজীপুরে রেললাইনের পাশ থেকে বাবা সোহেল হোসেনের এবং ঘর থেকে ছেলে সাকিবুল হাসান সোহেবের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল হোসেনের বড় ছেলে সোহানকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে নগরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহেল হোসেন টঙ্গীর বনমালার বাসায় তার বড় ছেলে সোহান ও ছোট ছেলে সাকিবুল হাসান সোহেবকে নিয়ে থাকতেন।
স্থানীয়রা জানান, টঙ্গীর বনমালা এলাকায় ঘরের ভেতর ছোট ছেলে সাকিবুল হাসান সোহেব ও রেলের পাশে বাবা সোহেল হোসেনের মরদেহ দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, নিজ ঘর থেকে সাকিব হোসেনের এবং রেললাইন থেকে তার বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করছে পুলিশ। সোহেল হোসেনের বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৩৪ দিন আগে