গাজীপুর
গাজীপুরে ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা: মরদেহের ওপর মিলল চাঞ্চল্যকর ‘অভিযোগপত্র’
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর মরদেহের ওপর টাইপ করা অভিযোগপত্র রেখে পালিয়েছেন অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রীর পরকীয়া ও অর্থ আত্মসাতের ক্ষোভ থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তাদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং ফোরকানের শ্যালক রসুল (২২)। শারমিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকান্দি গ্রামের শাহাদাত মোল্যার মেয়ে ছিলেন। তার স্বামী ফোরকান মিয়া প্রাইভেট কারের চালক।
আজ সকালে ফোরকানের ফোন কল থেকেই তাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা এসে ঘরের ভেতরে মরদেহগুলো দেখতে পান। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা মো. ফোরকান তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের ওই বাড়িতে গত পাঁচ মাস ধরে ভাড়ায় বসবাস করছিলেন।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানানো হয়নি।
মরদেহের ওপর ৫টি অভিন্ন অভিযোগপত্র
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে মদের বোতল, চাপাতি ও কম্পিউটারে টাইপ করা একটি অভিযোগপত্রের পাঁচটি অভিন্ন কপি উদ্ধার করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা ওই অভিযোগপত্রে ফোরকান তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, স্ত্রী শারমিন তার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর ফোরকান এসব নিয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর জেরে গত ৫ মে শারমিন ও তার লোকজন মিলে ফোরকানকে বেঁধে রেখে মারধর করেন।
এছাড়া শারমিন ও তার বাবাসহ কয়েকজন মিলে ফোরকানের উপার্জিত ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে তাদের নামে জমি কিনেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রটি উল্লিখিত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের আলামত
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ফোরকান তার পরিবার নিয়ে আগে টঙ্গীতে থাকতেন। মাস পাঁচেক আগে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তিনি কাপাসিয়ার ওই নিরিবিলি এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। সেখানে এতদিন ধরে বসবাস করলেও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে তাদের তেমন সখ্যতা ছিল না।
ঘটনাস্থল থেকে মদের খালি বোতল ও চাপাতিসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে সবাইকে চেতনাশক কিছু খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ফোরকান নিজেই স্বজনদের ফোনে বিষয়টি জানান এবং এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। নিজের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি নিয়ে তিনি পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন টিম আলাদাভাবে তদন্ত করছে। শিগগিরই ফোরকানকে গ্রেপ্তার এবং খুনের রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
১৩ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক ব্যক্তির স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ফোরকান পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ফোরকানের স্ত্রী, তাদের তিন কন্যাসন্তান এবং স্ত্রীর ভাই। তারা গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এবং কাপাসিয়ার রাহাতখানা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ফেকরান গাড়িচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী ফোরকান স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করে পালিয়ে গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।’
২০ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরে বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার
গাজীপুরে রেললাইনের পাশ থেকে বাবা সোহেল হোসেনের এবং ঘর থেকে ছেলে সাকিবুল হাসান সোহেবের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল হোসেনের বড় ছেলে সোহানকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে নগরের টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহেল হোসেন টঙ্গীর বনমালার বাসায় তার বড় ছেলে সোহান ও ছোট ছেলে সাকিবুল হাসান সোহেবকে নিয়ে থাকতেন।
স্থানীয়রা জানান, টঙ্গীর বনমালা এলাকায় ঘরের ভেতর ছোট ছেলে সাকিবুল হাসান সোহেব ও রেলের পাশে বাবা সোহেল হোসেনের মরদেহ দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, নিজ ঘর থেকে সাকিব হোসেনের এবং রেললাইন থেকে তার বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করছে পুলিশ। সোহেল হোসেনের বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
১৩ দিন আগে
গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ
গাজীপুরের শ্রীপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে একজন গাড়িচালককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিচারের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ চালক ও চালকের সহযোগীরা। এ সময় ঘটনাস্থলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলার শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য মহাসড়কের ওপর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন চালকরা। গাড়ির এই দীর্ঘ সারির কারণে মহাসড়কের ওই অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালকদের গাড়িগুলো মহাসড়ক থেকে সরিয়ে পাশে রাখার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চালকদের কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিতণ্ডার একপর্যায়ে এক চালককে মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে চালকরা অবরোধ তুলে নেন এবং যান চলাচল শুরু হয়।
৩১ দিন আগে
দখলে-দূষণে নিখোঁজ লবণদহ নদ
একসময় যার টলটলে জলে দুলত পালতোলা নৌকা, মাঝির গানে ভেসে উঠত আবহমান গ্রামবাংলার চিত্র, আজ যেন এক আহত দেহ নিয়ে দেশের মুমূর্ষু সব নদ-নদীর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে গাজীপুরের লবণদহ নদ। দখল আর দূষণের করাল গ্রাসে এই নদ হারাতে বসেছে তার জৌলুস, আছে শুধু তার স্মৃতি আর নিঃশ্বাসহীন শরীর। লবণদহের এই মৃত্যু নিছক একটি নদীর গল্প নয়, এ এক অবহেলা, লোভ আর উদাসিনতার দীর্ঘ উপাখ্যান।
প্লাস্টিক দূষণ, শিল্প বর্জ্য ও পৌর বর্জ্যে এটি এখন দূষিত নদীর তালিকাতেও রয়েছে ওপরের দিকে লবণদহ। তাছাড়া এটিকে নদী না বলে এখন খাল বা নালা বলাই ভালো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে অপরিকল্পিত উন্নয়নের সব দায় গিয়ে পড়ছে নদ-নদীর জীবনে। দুঃখের বিষয়, প্রায় সব খাত থেকেই বর্জ্য ফেলার আদর্শ জায়গা ভাবা হচ্ছে নদ-নদীকে। আর জীবন্ত সত্তার জন্যই এসবের মৃত্যুর দায়ও গুনতে হবে মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার মাপকাঠিতে।
সম্প্রতি দেশের ৫৬টি প্রধান নদ-নদীর ওপর করা এক গবেষণার তথ্য বলছে, শীর্ষ তিন দূষিত নদীর একটি গাজীপুরের লবণদহ। রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) উদ্যোগে ২০২২-২৩ সালে পরিচালিত গবেষণায় ৫৬টি নদীর পানির গুণাগুণ পরিমাপ করে দেখা গেছে, শুধু শহর বা উপশহরে নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের নদীতেও প্লাস্টিক ও শিল্পবর্জ্যের দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে। নদীতে জীববৈচিত্র্য ও জলজপ্রাণীর জীবন ধারণের জন্য যে চারটি গুণগত মান প্রয়োজন, লবণদহে তার সবই রয়েছে আশঙ্কাজনক অবস্থায়।
পরিবেশ সংরক্ষণ নীতি ১৯৯৭ অনুযায়ী, নদীর পানিতে মিশ্রণের অম্লতার (পিএইচ লেভেল) আদর্শ মান ৬ থেকে ৯ পর্যন্ত, সেখানে লবণদহের পিএইচ লেভেল ৫। মিশ্রণে অক্সিজেনের (সিওডি) পরিমাপের আদর্শ মাত্রা প্রতি লিটারে থাকতে হয় ২০০ মিলিগ্রাম, কিন্তু লবণদহের পানিতে সিওডির মাত্রা প্রতি লিটারে মাত্র ৪৬ মিলিগ্রাম। দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) আদর্শ মাত্রা প্রতি লিটারে সাড়ে ৪ থেকে ৮ মিলিগ্রাম হলেও লবণদহের পানিতে ডিওর মাত্রা লিটারে শূন্য দশমিক ২১ মিলিগ্রাম।
এছাড়া বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (বিওডি) বা পানিতে ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন অণুজীবের অক্সিজেন চাহিদার আদর্শ মান যেখানে প্রতি লিটারে ৫০ মিলিগ্রাম, সেখানে লবণদহে রয়েছে লিটারে মাত্র ৩৪.২ গ্রাম। এ সূচক থেকে প্রতীয়মান হয় যে, লবণদহ নদীর অবস্থা কতটা বিপর্যস্ত!
অথচ জনশ্রুতি আছে, একসময় লবণদহের ব্যাপ্তির কারণে একে বলা হত ‘লবলং’ সাগর। ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ক্ষীরু নদীর সংযোগস্থল থেকে এ নদীর উৎপত্তি হয়েছে। সেখান থেকে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার ওপর দিয়ে এটি মির্জাপুরের কাছে তুরাগ নদে গিয়ে মিশেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রমত্তা এ নদীকে গিলে খেল কে? কেনো আজ এটি একটি ছোট্ট নালায় পরিণত হয়েছে। এটি এখন হয়ে আছে কেবলই একটি ময়লার ড্রেন সদৃশ নালা।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিক দূষণ কমন রোগ; তবে মূলত কারখানার বর্জ্য ও পৌর বর্জ্যই প্রমত্তা এ নদীকে শেষ করে দিয়েছে। লবণদহকে ঘিরে কারখানার পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে হিসাবটা সহজে মিলে যাবে।
আরডিআরসির গবেষণায় পাওয়া তথ্য বলছে, এ নদীর তীরে ২৫০টি কারখানা পাওয়া গেছে। এর প্রতিটির কেমিকেল বর্জ্য এবং একইসঙ্গে শ্রীপুর পৌরসভার সব বর্জ্য গিয়ে পড়ছে এ নদীতে। শ্রীপুর অংশে প্রায় ৩০ কিলোমিটারজুড়ে চলছে এ দূষণ। আর গাজীপুর অংশের আশপাশে গড়ে উঠেছে ৩৯টি শিল্পকারখানা যেগুলোর বর্জ্যের লাইন সরাসরি নদীতে সংযুক্ত। এছাড়া খালটিতে গড়ে উঠেছে ১৫টি পৌর পয়োনিষ্কাশন লাইন ও ১১টি ডাম্পিং স্টেশন।
তবে বেসরকারি সংস্থা ‘নদী পরিব্রাজক’ দলের তথ্য মতে, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সব মিলে প্রায় ২ হাজার কারখানা আছে লবণদহকে ঘিরে। ফলে এককালের প্রমত্তা এ নদী দখল ও ভরাট হতে হতে বর্তমানে খাল বা নালায় রূপ নিয়েছে। এছাড়া এটি হারিয়েছে মাছসহ জলজ জীব বেঁচে থাকার পরিবেশও।
৩৩ দিন আগে
গাজীপুরের দুইটি মহাসড়কে নেই দীর্ঘ যানজট, তবে রয়েছে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ
ঈদযাত্রায় আজ বুধবার ভোর থেকেই গাজীপুরের ঢাকা- টাঙ্গাইল ও ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে উত্তরবঙ্গ ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের যানবাহনের চাপ রয়েছে। যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
দুইটি মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে বিপুল সংখ্যক ঘরমুখো মানুষ থাকায় সেখানে কিছুটা ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করলেও এবার দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই সবাই যাচ্ছেন তাদের গন্তব্যে। তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের।
ভোর থেকে উত্তরবঙ্গ ও উত্তরাঞ্চলগামী ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে ওই দুইটি মহাসড়কে। চন্দ্রা ত্রিমোর ঘিরে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে সকালে। তবে নবীনগর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সড়কে অন্যান্য বছরের মতো যানজট দেখা যায়নি। চন্দ্রা ত্রিমোর এলাকায় গণপরিবহনে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করেই মূলত এ দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গাজীপুর মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশ মহাসড়কের অতিরিক্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়ন করেছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় মহানগর পুলিশের প্রায় ১ হাজার এবং জেলা পুলিশের ৮৫৯ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরাও কাজ করছেন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করে হাইওয়ে ও শিল্প পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। শ্রমিকেরা যেন ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্যই ধাপে ধাপে কল-কারখানা বিশেষ করে পোশাক কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে এবং নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৫২ দিন আগে
গাজীপুরে বস্তিতে বিশেষ অভিযান, আটক ৫৪
গাজীপুরের টঙ্গীর মাজার বস্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে মোট ৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ফয়েল পেপার, দেয়াশলাইট, ইয়াবা, একটি চাপাতি, দুইটি চাকু ও নেশা করার সরঞ্জামাদির পাশাপাশি বেশ কিছু ভোটার আইডি কার্ডও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযানে পুলিশকে সহযোগিতা করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (তদন্ত)।
অভিযান সম্পর্কে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার জানান, এলাকায় মাদক ও অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
৫৪ দিন আগে
কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে দুই মামলায় জামিনে মুক্ত হয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেয়।
কাশিমপুর কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় আনিস আলমগীরের দুটি মামলার মুক্তির অনুমোদন কারাগারে পৌঁছায়। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আজ দুপুরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা এক মামলায় হাইকোর্ট থেকে নিয়মিত জামিন পান তিনি। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই মামলাতেই জামিন মেলায় আজ তিনি কারামুক্ত হলেন।
৫৬ দিন আগে
গাজীপুরে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ, আগুনে দগ্ধ ৩
গাজীপুরের শ্রীপুরে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে আগুন ধরে পাশের একটি মার্কেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) রাত পৌনে ১১টার দিকে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় এলাকার আ. সাহিদ সুপার ভিউ নামের একটি মার্কেটের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণ হয়। ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় তিনজন দগ্ধ হন। আগুন ছড়িয়ে পড়লে ওই মার্কেটের কয়েকটি কক্ষের মালামাল পুড়ে যায়।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর নুরুল করিম জানান, খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দগ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় আল হেরা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার কর্মরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
৫৮ দিন আগে
চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, গাজীপুরে হাসপাতাল সিলগালা
গাজীপুরে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগে লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভাঙচুর করেছেন নিহতের স্বজনরা। অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালটি সিলগালা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে প্রসূতি রুমার আক্তারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তার লাইফ কেয়ার হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালান। পরে খবর পেয়ে শ্রীপুরের এসিল্যান্ড সাইদুল ইসলাম অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, গতকাল (রবিবার) দুপুরে ওই হাসপাতালে উপজেলার উজিলাব গ্রামের প্রসূতি রুমার সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। এরপর তাকে অপারেশন থিয়েটারে পর্যবেক্ষণে রেখেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময় পরও তার সঙ্গে স্বজনদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছিল না। একপর্যায়ে স্বজনরা জোর করেই অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে গিয়ে রুমাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের টালবাহনা করতে থাকে।
এরপর আজ (সোমবার) ভোরে নিহতের স্বজনদের তোপের মুখে রুমাকে উত্তরার হাই কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬১ দিন আগে