ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল
বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৫০ জন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিসর সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত নীতিমালা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্দী আমিন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপ যৌথ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে অতুল কেশাপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সরকারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো শীর্ষে রয়েছে। এসব কোম্পানি বাংলাদেশে উচ্চমানের ব্যবস্থাপনা, নৈতিক মানদণ্ড ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে যে পরিকল্পনা, বিশেষ করে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য, তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী মহলের আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
৩ দিন আগে
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশবের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ অর্থনৈতিক সহযোগিতা এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক রূপান্তর ও নতুন সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাউন্সিলের আগ্রহের কথা জানান।
সাক্ষাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা, জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব আরও গভীর করার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
৪ দিন আগে
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নীতি সহায়তা’ চায় বাংলাদেশ
দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত নীতি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রেকর্ড করা এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের জন্য উভয় দেশ থেকে পর্যাপ্ত নীতি সহায়তা প্রদান করা জরুরি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে শিল্প কাঁচামাল ও ভোক্তাসামগ্রী যেমন তুলা, সয়াবিন ও গম রপ্তানি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো শুল্ক দিতে হয় না।
আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করুন: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে আমেরিকাকে শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশটি (মার্কিন) আমাদের রপ্তানির বৃহত্তম গন্তব্য, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের বৃহত্তম উত্স, দীর্ঘকালীন উন্নয়নের অংশীদার এবং প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্স।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি সহায়তার উপর বাংলাদেশের নির্ভরতা অনেক কমলেও লাখ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান তৈরি করতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন বেড়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দ্রুত সম্প্রসারণশীল দেশীয় বাজার এবং ৪ বিলিয়ন লোকের বিশাল আঞ্চলিক বাজারের সাথে ক্রমবর্ধমান সংযোগই মার্কিন ব্যবসায় ও বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে পরিণত করেছে।
তিনি বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগের সুবিধার্থে আমরা আমাদের ভৌত, আইনি এবং আর্থিক অবকাঠামোগত উন্নতি করছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দ্রুত শিল্পায়নের জন্য সারা দেশ জুড়ে ১০০টি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করছে।
‘আমরা আমেরিকান কোম্পানিগুলোর জন্য উত্পাদন সুবিধার জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে দিচ্ছি,’ বলেন তিনি।
ডিজিটাল বাংলাদেশ সরকারের ‘রূপকল্প ২০২১’ এর অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাড়াতে ‘প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম’ আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৬০টিরও বেশি দেশে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আইসিটি পণ্য রপ্তানি করে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ রপ্তানির গন্তব্য।
তিনি উল্লেখ করেন যে ইউএসএআইডি'র বাংলাদেশের জন্য বিস্তৃত বেসরকারি খাত মূল্যায়ন ২০১৯ প্রতিবেদন অনুসারে, আইসিটি শিল্প ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘বাংলাদেশ এখন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে আইসিটি শিল্পের জন্য ২৮টি হাই-টেক পার্ক তৈরি করছে। আমরা মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আইসিটি খাতে বিনিয়োগের জন্য হাই-টেক পার্কের প্রস্তাব রাখছি।’
আরও পড়ুন: করোনার নতুন ধাক্কা মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ছাইয়ের উপরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
‘আমরা জাতির পিতার দারিদ্র্য, শোষণ ও অর্থনৈতিক বৈষম্যমুক্ত সোনার বাংলার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য তার অসমাপ্ত কাজটি হাতে নিয়েছি। গত এক দশকে, আমরা আর্থ-সামাজিক সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তি এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। কারণ কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্দান্ত স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। বাংলাদেশ এখন ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ-আয়ের উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
১৯৫৭ দিন আগে