কক্সবাজার
প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) ডুলহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে জনসাধারণের প্রতি তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশের সকলের কাছে অনুরোধ করব, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে, এই বিষয়টি মাথায় রেখে আজকে থেকে প্রত্যেকে দয়া করে যার যেখানে সম্ভব সেখানে একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে এতটুকু আমরা ধারণা করতে পারি যে, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে।
‘আসুন, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিশ্চয়তা দিই, একটি পরিষ্কার একটি দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়তে পারি যেখানে আমাদের প্রজন্ম পরিষ্কার পরিবেশে বাস করবে।’
নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যেগুলো দিয়েছিলাম, তার মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা যদি আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে আমরা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত ৫ কোটি গাছ লাগানো। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চার রোপণ করব আমরা।
জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি, তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশের বাতাসকে আমরা অনেক মুক্ত, পরিষ্কার, বিশুদ্ধ একটি বাতাসে আমরা রূপান্তর করতে পারব।’
৬ দিন আগে
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কক্সবাজারের পিএমখালীর ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল-ক্ষমতায় এলে সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।
কক্সবাজারের মালুমঘাটে এই কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকার তাদের আরেকটি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করল।
পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরে এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
প্রথম ধাপে দেশের ৪৯টি জেলার ১৪৯টি উপজেলায় দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার প্রমুখ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর ঢাকার কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ এবং সিলেটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি’ উদ্বোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাইলটিং প্রকল্প শুরু করে সরকার। একই সঙ্গে সরকার ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য সম্মানী ও স্পোর্টস কার্ড প্রদান কর্মসূচিরও সূচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম কক্সবাজার সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের খনন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে এক পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।
বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বিচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।
৬ দিন আগে
অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাজেটের বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: প্রধানমন্ত্রী
দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়; তাদের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীতা-অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পাতলীখাল আনুষ্ঠানিক পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, আলহামদুলিল্লাহ, এইবার বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুন সব প্রয়োজনীয় যে জিনিসপত্রগুলো আছে তার ওপর যে সকল ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার এই দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের উপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে, যাতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য লক্ষ্য একটাই. দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল বলছে যে এই বাজেট তারা মানে না, এই গণবিরোধ বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?’
৬ দিন আগে
কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে আসামিকে লক্ষ্য করে গুলি, গুলিবিদ্ধ ২
কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে আসামিকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর দুপক্ষের সংঘর্ষে ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (২৪ মে) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এতে মহিউদ্দিন ও রণি নামে দুজন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা গুলিবিদ্ধসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার তার সহযোগীদের নিয়ে মামলায় হাজিরা দিতে আসেন। সেটি শেষ করে বের হওয়ার পথে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন জনকে আটক করা হয়েছে। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
২৬ দিন আগে
দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’ গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে হামলা: কক্সবাজারে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের
কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মারধর থেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ছৈয়দা খাতুন (৫০)।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ছৈয়দা খাতুন ওই এলাকার সৈয়দ হোসেনের স্ত্রী ছিলেন।
নিহতের ছেলে আব্দুর রহমানকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ দাবি করে মারধর করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
নিহতের স্বজনরা জানান, সম্প্রতি দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলার আসামি দাবি করে আব্দুর রহমানকে আটক করা হয়। এরপর তাকে মারধর শুরু করেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও ছাত্রদল নেতা জিসানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। ছেলেকে রক্ষা করতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মা ছৈয়দা খাতুন, কিন্তু হামলাকারীদের মারধরে তিনিও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে যাওয়া উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উমেছিং মারমা বলেন, খবর পেয়েছিলাম একজন আসামিকে এলাকাবাসী আটক করে রেখেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মারধরের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, আব্দুর রহমানকে সন্দেহভাজন হিসেবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে কোন মামলায় তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেননি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে আব্দুর রহমান কোন মামলার আসামি ছিলেন, সে বিষয়ে তিনিও স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।
৩৩ দিন আগে
কক্সবাজারে লাবণী পয়েন্ট থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট এলাকা থেকে এক অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সমুদ্র সৈকত-সংলগ্ন ড্রিংকস কর্নারের সামনে একটি দোকানের মেঝে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পর্যটন করপোরেশনের ড্রিংকস কর্নার-সংলগ্ন একটি লাইব্রেরি ও ফার্স্টফুড দোকানের মেঝেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তার বয়স নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৪৪ দিন আগে
কক্সবাজারে বন্য হাতির আক্রমণে মা-মেয়ে নিহত
কক্সবাজারের রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে রোহিঙ্গা অধিবাসী আসমা বিবি (২৭) ও তার তিন বছর বয়সী মেয়ে ছেমন আরার মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী মো. একরাম মিয়ার স্ত্রী ও মেয়ে ছিল।
স্থানীয়রা জানান, ভোরের দিকে বন্য হাতির একটি পাল হঠাৎ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এ সময় হাতিরা কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলে। এতে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মাদরাসা শিক্ষক জুবাইরুল ইসলাম বলেন, লোকজনের হৈচৈ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী আসমা। তাদের সঙ্গে ছিল দুই শিশু সন্তান। এ সময় হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে একরাম মিয়া ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত সরে যান। তবে আসমা ও তার ছোট মেয়ে ছেমন আরা হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন জানান, ওই হাতির পালে তিনটি হাতি ছিল খুবই আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ে যাওয়ায় মা-মেয়ের পালানোর সুযোগ ছিল না। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও গাছের আম-কাঁঠাল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায় হাতিগুলো।
তিনি আরও জানান, নিহতরা রোহিঙ্গা নাগরিক হওয়ায় বনবিভাগের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানান, ঘটনার পর হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে প্রবেশ করানো হয়েছে। পাশাপাশি বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।
৫০ দিন আগে
টেকনাফের পাহাড় থেকে ৩ যুবকের মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ের গহীন বনাঞ্চল থেকে ৩ যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শীলখালী এলাকার পাহাড় থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— শীলখালী এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম রবি (১৯), মৃত নুরুল কবিরের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮) এবং মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে নুর বশর (২০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ওই এলাকার কয়েকজন শ্রমিক পাহাড়ের পূর্ব পাশে কাজ করতে গেলে মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাদের চিৎকারে গ্রামবাসী জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দেন।
নিহত রবির বাবা রুহুল আমিন জানান, সকালে স্থানীয় শ্রমিকরা পাহাড়ে কাজ করতে গিয়ে তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের ছেলেকে শনাক্ত করেন।
টেকনাফ শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুর্জয় সরকার জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, নিহত তিন যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম।
৫৯ দিন আগে
নাফ নদ থেকে ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদ থেকে তিনটি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছেন মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলারচর-সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় মাছ শিকারের সময় তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক জেলেরা হলেন— মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের (৪০), মো. আবদুল খালেক ও মো. জাবের মিয়া (২৪)। তাদের সবার বাড়ি শাহপরীর দ্বীপ মাঝর পাড়া ও ডাঙ্গর পাড়া গ্রামে বলে জানা গেছে।
ফিরে আসা জেলেদের বরাত দিয়ে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, ভোর ৪টার দিকে তাদের ঘাটের ইঞ্জিনচালিত কিছু নৌকা নাফ নদর মোহনায় মাছ শিকারে যায়। সকাল ৭টার দিকে বেশ কয়েকটি নৌকাকে স্পিড বোট নিয়ে ধাওয়া করে আরাকান আর্মি। পরে অস্ত্রের মুখে ৩টি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় তারা। বিষয়টি বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় মাছ ধরার নৌকার মালিক ও জেলেরা আতঙ্কের মধ্য রয়েছেস।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আরাকান আর্মির কারণে নাফ নদে মাছ শিকারে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলে-নৌকার মালিকদের মাঝে দুর্দিন নেমে আসবে। তাই এ ঘটনা বন্ধে সরকারের সহায়তা কামনা করছি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, নৌকার মালিক ও জেলে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের ফেরত আনতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
৮৩ দিন আগে
কক্সবাজারে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
কক্সবাজারের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার বরইতলি ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী লাল-সবুজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বেপরোয়া গতিতে চলার সময় একই লেনে থাকা একটি মোটরসাইকেল ও একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল-আরোহীর মৃত্যু হয় এবং একজন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
নিহতরা হলেন— ঢাকা মহানগরের উত্তরখান আটিপাড়া এলাকার শহীদ ভূঁইয়ার ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩০) এবং অলিউল ইসলামের ছেলে রাইসুল ইসলাম শিশির (৩০)।
দুর্ঘটনার বিষয়ে চিরিংগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে দুইজন নিহত এবং একজনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৮৫ দিন আগে