কক্সবাজার
গোপনে মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মাদক কারবারিদের তালিকা অত্যন্ত পেশাদারভাবে প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণা করা হবে না। কারণ প্রকাশ্যে তালিকা প্রকাশ করলে তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং তাতে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় প্রথম আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ভারতে আটকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী যাতে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।
মব সৃষ্টির মতো কোনো ঘটনা দেশে চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সব সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় আনা হবে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
মাদক কারবারিদের তালিকা অত্যন্ত পেশাদারভাবে প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণা করা হবে না। কারণ প্রকাশ্যে তালিকা প্রকাশ করলে তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং তাতে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
পর্যটন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সমুদ্র সৈকতে বালিয়াড়িতে বসানো স্থায়ী-অস্থায়ী অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে দখলমুক্ত করা হবে। সেই সঙ্গে সৈকতসহ পর্যটন এলাকা পরিষ্কার রাখা হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের সহায়তায় তা জেলা পুলিশ বাস্তবায়ন করবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জনবল দেওয়া হবে। কক্সবাজার শহরে ব্যাটারিচালিত টমটম ও অন্যান্য অযান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা আর বাড়তে দেওয়া হবে না। লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও কঠোরতা আরোপ করা হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না এবং একটি লাইসেন্সের অধীনে একাধিক যানবাহন পরিচালনা করলে সেই লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
এ সময় বন্ধ থাকা টেকনাফ স্থলবন্দর খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম আরা স্বপ্নাসহ বিএনপির অন্যান্য নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
৮ ঘণ্টা আগে
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর ডি ব্লকে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে উখিয়া ক্যাম্প ৪-এর ডি ব্লকে এনজিও কারিতাসের কার্যালয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘ক্যাম্পে আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। তবে বিভিন্ন মালামালসহ কারিতাসের একটি সংরক্ষণাগার পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ২০-৩০ লাখ মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জেনেছি। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
আগুন লাগার খবর পেয়ে ক্যাম্পের এপিবিএন, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন।
১ দিন আগে
কক্সবাজারে গ্যাস ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণ, ১৬ জন দগ্ধ
কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে এন আলম নামের একটি এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন ও বিপুল জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১০টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের মধ্যে ৭ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ নিশ্চিত করেছেন, ওই ফিলিং স্টেশনটির কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না এবং গ্যাস লিকেজ থেকেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, এন আলম নামক ওই ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা ধরে পুরো এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
রাত সোয়া ১০টার দিকে বিকট শব্দে পাম্পের ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন দ্রুত পাম্পের চারপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় ৫ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
১১ দিন আগে
মিয়ানমার থেকে ফের গুলি, টেকনাফ সীমান্তে দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদের সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে সীমান্তের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে সোহেল (১৫) ও ওবায়দুল্লাহ (১৪) নামে দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জীম্বংখালী-সংলগ্ন নাফ নদ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলো— হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ কামালের ছেলে সোহেল এবং একই এলাকার মোহাম্মদ ইউনুছের ছেলে ওবায়দুল্লাহ।
স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হোয়াইক্যং জীম্বংখালী বিওপির পূর্ব পাশে নাফ নদ-সংলগ্ন কেওড়া বাগানে লাকড়ি সংগ্রহ করতে যায় সোহেল ও ওবায়দুল্লাহ। এ সময় হঠাৎ মিয়ানমার সীমান্তের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে তারা দুজন গুলিবিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধ ওবায়দুল্লাহর মামা মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও জানান, সোহেলের বাঁ পা ও হাতে গুলি লেগেছে এবং ওবায়দুল্লাহর মাথায় গুলি লেগেছে। বর্তমানে দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদের প্রায় ৫০০ গজ ওপারে মিয়ানমারের ভেতর থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় এবং অন্যজনের পায়ে গুলি লেগেছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা আফনান নামে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তার পরের দিন একই এলাকায় সীমান্তে স্থল মাইন বিষ্ফোরণে আবু হানিফ নামে এক জেলের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন থেকে সীমান্তে বসবাসকারীরা আতঙ্কের দিন পার করে আসছিল। এখন আবারও সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ হলো।
৪১ দিন আগে
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন, পুড়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিসহ শত শত ঘর
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোরে সংঘটিত এই আগুনে শত শত ঘর (শেল্টার) ছাড়াও বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোর ৪টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকায় অবস্থিত ১৬ নম্বর ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আনিছ রাত পৌনে ৩টার দিকে গ্যাসের চুলায় পানি গরম করতে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এতে চুলা থেকে আগুন ধরে দ্রুত পাশের ঘনবসতিপূর্ণ শেল্টারগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরাও অংশ নেন। দীর্ঘ পৌনে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
১৬ নম্বর ক্যাম্পের ডি-ব্লকের হেড মাঝি মোহাম্মদ রিয়াজ জানান, আগুনে ৪৪৮টি ঘর, ২টি মসজিদ, ১০টি স্কুল ও ১টি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন অন্য ব্লকে ছড়াতে পারেনি।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। পাশাপাশি জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অগ্নিকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর আগে, গত ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে একটি হাসপাতাল এবং ২৫ ডিসেম্বর কুতুপালং ক্যাম্পে আগুনে বেশ কিছু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪৮ দিন আগে
টেকনাফ সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ, যুবকের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ (২২) নামে এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং লম্বাবিল সীমান্তে হাউসরদ্বীপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোহাম্মদ হানিফ উপজেলার হোয়াইক্যং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বা বিলের মো. ফজলুল হকের ছেলে।
ভুক্তলোগীর বাবা মো. ফজলুল হক জানান, আমার ছেলে আজ সকালে হোয়াইক্যং লম্বাবিল সীমান্তের হাউসরদ্বীপ এলাকায় একটি চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরতে গেলে ঘেরের বাঁধের মধ্যে পুঁতে রাখা একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। এতে তার দুই পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। বিস্ফোরণে ডান পায়ের গোড়ালি উড়ে যায় এবং বাঁ পায়েও গুরুতর জখম হয়েছে।
খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুপুর ১২টার দিকে তাকে উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন কান্তি রুদ্র জানান, আজ সকালে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তের হাউসরদ্বীপে পুঁতে রাখা একটি মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
৫৬ দিন আগে
কক্সবাজারে নোঙর করা সেন্টমার্টিনগামী জাহাজে আগুন, নিহত ১
কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনগামী একটি জাহাজে আগুন লেগেছে। অগ্নিকাণ্ডে জাহাজের এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন।
যাত্রী তোলার জন্য কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে নোঙর করা দ্য আটলান্টিক ক্রজ নামের জাহাজে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন লাগে।
নিহত নূর কামাল (২৫) টেকনাফের বাসিন্দা ও জাহাজটির স্টাফ ছিলেন। তিনি জাহাজে ঘুমন্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বাঁকখালী নদীতে ‘দ্য আটলান্টিক ক্রুজ’ নামের জাহাজটিতে আগুন লাগে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোরশেদ বলেন, ‘সকাল ৭টার দিকে আমরা খবর পেয়ে এখানে আসি। তিনটি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম বলেন, নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটিতে আগুন লাগে। সেটি তখন সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে জাহাজে কোনো পর্যটক ছিল না।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ওই জাহাজে করে সেন্টমার্টিন যাওয়ার কথা থাকা ছিল প্রায় ১৮০ জন যাত্রীর। তারা বোর্ডিং শুরুর আগেই আগুনের সূত্রপাত হয়। যাত্রীদের নিরাপদে অন্যান্য জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, আগুনের সূত্রপাত জানতে কাজ চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
৭২ দিন আগে
কক্সবাজারে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় মো. সোলেমান নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ ওসমান গনি এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি মো. সোলেমান টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকুল এলাকার বাসিন্দা।রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে আদালত থেকে হাজতে নেওয়ার পথে সোলেমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আরও পড়ুন: ডা. নিতাই হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
নিহত শিশুটি মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মামলার বাদী ও মেয়েটির বাবা জানান, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পর বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় তার মেয়ে। পরে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়া বাঁধ এলাকা তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ৩ ডিসেম্বর মহেশখালী থানায় মামলা করেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন টিটু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নৃশংস খুনিকে দণ্ডিত করার ফলে অপরাধীরা আর এ ধরনের অপরাধ করার সাহস পাবে না।
১৯৪ দিন আগে
গুরুত্বপূর্ণ পক্ষকে বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়: খলিলুর রহমান
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরে রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষকে বাদ দিয়ে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি সবার সঙ্গে কথা বলেছি। যদি না বলি, তাহলে কোনো সমাধান হবে না। আমি এখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমাদের এই কাজ করতে হবে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।’
সোমবার (২৫ আগস্ট) রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে কক্সবাজারে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন খলিলুর রহমান।
মিয়ানমারের গণমাধ্যম, সরকার, সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সঙ্গে কথা বাংলাদেশ সরকার যোগাযোগ করেছে কিনা— এই প্রশ্নের জবাবে মিয়ানমারের এক সাংবাদিককে তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে এক সাংবাদিক বন্ধুকে দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। আপনারা আসতে থাকুন, আরও নিয়ে আসুন।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষকে বাইরে রেখে সমাধান করা সম্ভব নয়, এটিই বাস্তবতা। আলোচনা মানেই সেটি যেকোনো সমাধানের জন্য, আর সেই সমাধান সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।’
‘যদি কোনো পক্ষকে বাইরে রাখা হয়, তাহলে কোনো চুক্তি বাস্তবায়িত হবে না বা খুব দ্রুত ভেঙে পড়বে। তাই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার দরজা খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এদিকে, ২০১৭ সালে শেখ হাসিনা সরকারের ব্যর্থতার কারণে রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়। বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর গুরুতর অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে, যা সক্রিয় আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অবশ্যই মিয়ানমারকেই সমাধান করতে হবে।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি ১৯৭৮ সালে কুতুপালং ক্যাম্পের প্রথম ক্যাম্প ইনচার্জ ছিলাম এবং আমার রোহিঙ্গা বন্ধুদের সঙ্গে কাজ করেছি। সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং তা তাদের উদ্যোগেই সমাধান করতে হবে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ তৈরিতে প্রধান উপদেষ্টার ৭ দফা প্রস্তাব
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির নেতা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ফুয়াদ, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আখতার হোসেনসহ অনেকে এই সেশনে বক্তব্য রাখেন।
রাশেদ খান বলেন, আমরা চাই চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিক। যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সবাই মিলে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে।
জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার জানান, তার দল রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সহায়তা, ন্যায়বিচার ও টেকসই সমাধানের পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করবে।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার চাই। নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়া পর্যন্ত তাদের খাদ্য, শিক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে, রোববার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজারে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘স্টেকহোল্ডারস ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শুরু হয়। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৫ দিন আগে
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ তৈরিতে প্রধান উপদেষ্টার ৭ দফা প্রস্তাব
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে কক্সবাজারে আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডারস’ ডায়ালগে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছায় ও টেকসইভাবে রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরিতে যৌথ প্রচেষ্টার লক্ষ্যে সাত দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন তিনি।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে এই সংলাপে যোগ দিতে কক্সবাজার পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। এদিন বেলা ১১টার দিকে তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়। এতে মিয়ানমার ও আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা কেবল কথার জালে বন্দি থাকতে পারি না। এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও। সংকটের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ভাবা এবং তা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সবার যৌথ দায়িত্ব।
যতদিন পর্যন্ত রোহিঙ্গারা নিজেদের আবাসভূমিতে ফিরে যেতে না পারেন ততদিন পর্যন্ত তাদের বিষয়টি ও এর টেকসই সমাধানকে বৈশ্বিক এজেন্ডায় রাখার জন্য জোর দেন অধ্যাপক ইউনূস।
গত মার্চ মাসে পবিত্র রমজানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং তিনি নিজে কক্সবাজারে এক লক্ষাধিক রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতারে যোগ দিয়েছিলেন বলে সেই স্মৃতিচারণও করেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে শুনেছি, রোহিঙ্গারা যত দ্রুত সম্ভব নিজ আবাসভূমিতে ফিরে যেতে চান। অনুষ্ঠানে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’ উপলক্ষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংলাপে যোগ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
এ সময় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে তাদের নিজ আবাসভূমিতে প্রত্যাবাসনের জন্য দৃশ্যমান আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা যা করছি, তা অব্যাহত রাখতে হবে।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীর প্রতীক), পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজুও বক্তব্য রাখেন।
প্রফেসর ইউনূসের সাত দফা প্রস্তাব
প্রথমত, রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করতে হবে। কথার জালে আর বন্দি থাকা যাবে না।দ্বিতীয়ত, ২০২৫-২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার অর্থ ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী ও মানবিক অংশীদারদের অব্যাহত সহায়তা জরুরি।
তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এজন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মিকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, জীবিকা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ভেতরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ ঘরে ফিরতে দিতে হবে।
চতুর্থত, মিয়ানমারের ভেতরে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস ও সংঘাত নিরসনে সংলাপ প্ল্যাটফর্ম জরুরি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় বসতে হবে যাতে পুনর্মিলন, অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়।
পঞ্চমত, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা অপরিহার্য। মানবপাচার, মাদকপাচার, ছোট অস্ত্রের চোরাচালানসহ সীমান্তবর্তী অপরাধ মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ষষ্ঠত, জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। মিয়ানমার, আরাকান আর্মি ও অন্যান্য সংঘাতপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংকট নিরসনের স্বার্থে পদক্ষেপ নিতে হবে।
সপ্তমত, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে), আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় চলমান জবাবদিহি প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে হবে। আইসিজের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ কার্যকর করতে হবে এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে, তাই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। দেরি না করে সব পক্ষকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ইস্যুতে কক্সবাজারে সংলাপে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা
গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার তিন দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এ বছর উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তথ্য দেন তিনি। কক্সবাজারের এই সংলাপ নিউইয়র্কে সম্মেলনে একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরিতে অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ টেকসই সমাধানের পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করছে। ২০১৭ সালে মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করার বিষয়টি উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এখনও নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। এই পরিস্থিতিতে ইতিহাসের সঠিক পাশে দাঁড়ানোই নৈতিক দায়িত্ব বলে মত দেন অধ্যাপক ইউনূস।
তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ ও সামর্থ্য সত্ত্বেও মানবিক বিবেচনায় তাদের জীবন রক্ষার জন্য রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছিল বাংলাদেশ।
নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, এটি প্রমাণ করে যে মানবজাতির সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে আমরা তাদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতি দেখিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে আর চুপ করে থাকা সম্ভব নয়। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা অনেক বেশি জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় দাতা, অংশীদার, জাতিসংঘ সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং বিশ্বব্যাপী বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অব্যাহত সহায়তা, সহযোগিতা ও সংহতির প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন যা কক্সবাজারকে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে পরিণত করেছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ৩২ হাজার নবজাতক জন্ম নিচ্ছে।
অন্যদিকে, মিয়ানমারে এখনো পাঁচ লাখেরও কম রোহিঙ্গা রয়েছে। এই চিত্র স্পষ্ট করে যে অব্যাহত নিপীড়নের কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছেড়ে যাচ্ছেন। গত আট বছরে বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিশাল ত্যাগ স্বীকার করে আসছেন বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, সম্পদ, পরিবেশ ও প্রতিবেশ, সমাজ ও শাসনব্যবস্থার ওপর এর বিরাট প্রভাব পড়েছে।
এর আগে, রোববার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজারে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘স্টেকহোল্ডারস ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শুরু হয়। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৬ দিন আগে