কক্সবাজার
নাফ নদ থেকে ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদ থেকে তিনটি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছেন মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলারচর-সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় মাছ শিকারের সময় তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক জেলেরা হলেন— মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের (৪০), মো. আবদুল খালেক ও মো. জাবের মিয়া (২৪)। তাদের সবার বাড়ি শাহপরীর দ্বীপ মাঝর পাড়া ও ডাঙ্গর পাড়া গ্রামে বলে জানা গেছে।
ফিরে আসা জেলেদের বরাত দিয়ে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, ভোর ৪টার দিকে তাদের ঘাটের ইঞ্জিনচালিত কিছু নৌকা নাফ নদর মোহনায় মাছ শিকারে যায়। সকাল ৭টার দিকে বেশ কয়েকটি নৌকাকে স্পিড বোট নিয়ে ধাওয়া করে আরাকান আর্মি। পরে অস্ত্রের মুখে ৩টি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় তারা। বিষয়টি বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় মাছ ধরার নৌকার মালিক ও জেলেরা আতঙ্কের মধ্য রয়েছেস।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আরাকান আর্মির কারণে নাফ নদে মাছ শিকারে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলে-নৌকার মালিকদের মাঝে দুর্দিন নেমে আসবে। তাই এ ঘটনা বন্ধে সরকারের সহায়তা কামনা করছি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, নৌকার মালিক ও জেলে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের ফেরত আনতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
২ দিন আগে
কক্সবাজারে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
কক্সবাজারের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার বরইতলি ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী লাল-সবুজ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বেপরোয়া গতিতে চলার সময় একই লেনে থাকা একটি মোটরসাইকেল ও একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল-আরোহীর মৃত্যু হয় এবং একজন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
নিহতরা হলেন— ঢাকা মহানগরের উত্তরখান আটিপাড়া এলাকার শহীদ ভূঁইয়ার ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩০) এবং অলিউল ইসলামের ছেলে রাইসুল ইসলাম শিশির (৩০)।
দুর্ঘটনার বিষয়ে চিরিংগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে দুইজন নিহত এবং একজনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৪ দিন আগে
কক্সবাজারে ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
কক্সবাজারে জুলাইযোদ্ধা, ছাত্র সমন্বয়ক ও ছাত্রদল নেতা খোরশেদ আলমকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সৈকত লাগোয়া কবিতা চত্বর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা নারী সমন্বয়ক তারিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিহত খোরশেদ আলম কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসুলুর ঘোনা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম শাহ আলম। তিনি কক্সবাজার শহরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কবিতা চত্বর এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা খোরশেদ আলমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার বন্ধু শাহ আলম ও সহপাঠীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে তার পেট ও পায়ে ছুরিকাঘাতের বেশ কয়েকটি চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসপাতালের সামনে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভিড় করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টায় খুনিদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কক্সজার জেলা ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও তার ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের সঙ্গে থাকা এক নারী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
৫ দিন আগে
কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে টানা ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পর্যটকদের আগমনে সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো এখন উৎসবমুখর পরিবেশে সরগরম হয়ে উঠেছে।
ছুটির সময় ভ্রমণপিপাসু মানুষের শীর্ষ পছন্দ হিসেবে বরাবরের মতো এবারও কক্সবাজারে ভিড় জমিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা। ঈদের সাত দিনের ছুটিতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে লাখো মানুষ এখানে বেড়াতে এসেছেন।
প্রতিদিন সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ প্রধান পর্যটন স্পটগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। পাশাপাশি ইনানী সৈকত, মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, রামু বৌদ্ধ মন্দির ও মহেশখালী আদিনাথ মন্দির এলাকাতেও পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক আবদুল মাবুদ বলেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবসময়ই আমাকে আকর্ষণ করে। তাই ঈদের ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি। আরও কয়েক দিন থাকার পরিকল্পনা আছে।
পর্যটকদের আগমনে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ও চাঙাভাব ফিরেছে। বিশেষ করে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বার্মিজ মার্কেটের এক শুঁটকি বিক্রেতা জানান, রমজানে ব্যবসা কিছুটা স্থবির থাকলেও গত কয়েক দিনে পর্যটক বাড়ায় বিক্রি বেড়েছে।
৫ দিন আগে
গোপনে মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মাদক কারবারিদের তালিকা অত্যন্ত পেশাদারভাবে প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণা করা হবে না। কারণ প্রকাশ্যে তালিকা প্রকাশ করলে তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং তাতে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় প্রথম আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ভারতে আটকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী যাতে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।
মব সৃষ্টির মতো কোনো ঘটনা দেশে চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সব সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় আনা হবে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
মাদক কারবারিদের তালিকা অত্যন্ত পেশাদারভাবে প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকাশ্যে তালিকা ঘোষণা করা হবে না। কারণ প্রকাশ্যে তালিকা প্রকাশ করলে তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং তাতে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
পর্যটন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সমুদ্র সৈকতে বালিয়াড়িতে বসানো স্থায়ী-অস্থায়ী অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে দখলমুক্ত করা হবে। সেই সঙ্গে সৈকতসহ পর্যটন এলাকা পরিষ্কার রাখা হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের সহায়তায় তা জেলা পুলিশ বাস্তবায়ন করবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জনবল দেওয়া হবে। কক্সবাজার শহরে ব্যাটারিচালিত টমটম ও অন্যান্য অযান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা আর বাড়তে দেওয়া হবে না। লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও কঠোরতা আরোপ করা হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না এবং একটি লাইসেন্সের অধীনে একাধিক যানবাহন পরিচালনা করলে সেই লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
এ সময় বন্ধ থাকা টেকনাফ স্থলবন্দর খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম আরা স্বপ্নাসহ বিএনপির অন্যান্য নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর ডি ব্লকে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে উখিয়া ক্যাম্প ৪-এর ডি ব্লকে এনজিও কারিতাসের কার্যালয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘ক্যাম্পে আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। তবে বিভিন্ন মালামালসহ কারিতাসের একটি সংরক্ষণাগার পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ২০-৩০ লাখ মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জেনেছি। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
আগুন লাগার খবর পেয়ে ক্যাম্পের এপিবিএন, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন।
২১ দিন আগে
কক্সবাজারে গ্যাস ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণ, ১৬ জন দগ্ধ
কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে এন আলম নামের একটি এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন ও বিপুল জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১০টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের মধ্যে ৭ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ নিশ্চিত করেছেন, ওই ফিলিং স্টেশনটির কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না এবং গ্যাস লিকেজ থেকেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, এন আলম নামক ওই ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা ধরে পুরো এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
রাত সোয়া ১০টার দিকে বিকট শব্দে পাম্পের ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন দ্রুত পাম্পের চারপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় ৫ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
৩২ দিন আগে
মিয়ানমার থেকে ফের গুলি, টেকনাফ সীমান্তে দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদের সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে সীমান্তের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে সোহেল (১৫) ও ওবায়দুল্লাহ (১৪) নামে দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জীম্বংখালী-সংলগ্ন নাফ নদ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলো— হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ কামালের ছেলে সোহেল এবং একই এলাকার মোহাম্মদ ইউনুছের ছেলে ওবায়দুল্লাহ।
স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হোয়াইক্যং জীম্বংখালী বিওপির পূর্ব পাশে নাফ নদ-সংলগ্ন কেওড়া বাগানে লাকড়ি সংগ্রহ করতে যায় সোহেল ও ওবায়দুল্লাহ। এ সময় হঠাৎ মিয়ানমার সীমান্তের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে তারা দুজন গুলিবিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধ ওবায়দুল্লাহর মামা মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও জানান, সোহেলের বাঁ পা ও হাতে গুলি লেগেছে এবং ওবায়দুল্লাহর মাথায় গুলি লেগেছে। বর্তমানে দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদের প্রায় ৫০০ গজ ওপারে মিয়ানমারের ভেতর থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় এবং অন্যজনের পায়ে গুলি লেগেছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা আফনান নামে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তার পরের দিন একই এলাকায় সীমান্তে স্থল মাইন বিষ্ফোরণে আবু হানিফ নামে এক জেলের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন থেকে সীমান্তে বসবাসকারীরা আতঙ্কের দিন পার করে আসছিল। এখন আবারও সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ হলো।
৬২ দিন আগে
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন, পুড়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিসহ শত শত ঘর
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোরে সংঘটিত এই আগুনে শত শত ঘর (শেল্টার) ছাড়াও বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোর ৪টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকায় অবস্থিত ১৬ নম্বর ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আনিছ রাত পৌনে ৩টার দিকে গ্যাসের চুলায় পানি গরম করতে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এতে চুলা থেকে আগুন ধরে দ্রুত পাশের ঘনবসতিপূর্ণ শেল্টারগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরাও অংশ নেন। দীর্ঘ পৌনে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
১৬ নম্বর ক্যাম্পের ডি-ব্লকের হেড মাঝি মোহাম্মদ রিয়াজ জানান, আগুনে ৪৪৮টি ঘর, ২টি মসজিদ, ১০টি স্কুল ও ১টি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন অন্য ব্লকে ছড়াতে পারেনি।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। পাশাপাশি জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অগ্নিকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর আগে, গত ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে একটি হাসপাতাল এবং ২৫ ডিসেম্বর কুতুপালং ক্যাম্পে আগুনে বেশ কিছু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৬৯ দিন আগে
টেকনাফ সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ, যুবকের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ (২২) নামে এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং লম্বাবিল সীমান্তে হাউসরদ্বীপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মোহাম্মদ হানিফ উপজেলার হোয়াইক্যং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বা বিলের মো. ফজলুল হকের ছেলে।
ভুক্তলোগীর বাবা মো. ফজলুল হক জানান, আমার ছেলে আজ সকালে হোয়াইক্যং লম্বাবিল সীমান্তের হাউসরদ্বীপ এলাকায় একটি চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরতে গেলে ঘেরের বাঁধের মধ্যে পুঁতে রাখা একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। এতে তার দুই পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। বিস্ফোরণে ডান পায়ের গোড়ালি উড়ে যায় এবং বাঁ পায়েও গুরুতর জখম হয়েছে।
খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুপুর ১২টার দিকে তাকে উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন কান্তি রুদ্র জানান, আজ সকালে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তের হাউসরদ্বীপে পুঁতে রাখা একটি মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
৭৬ দিন আগে