কক্সবাজার
কক্সবাজারে একরামুল হত্যা মামলায় হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কাউন্সিলর ও টেকনাফ যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আলোচিত এ মামলার প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান (বদি), পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আনোয়ার লতিফ খান, র্যাবের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, র্যাবের সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) রুহুল আমিন (রাজন), র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশেকুর রহমান ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে একই বছরের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের নোয়াখালীপাড়া এলাকায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনবারের কাউন্সিলর একরামুল হক। ওই ঘটনার পর ‘ঠান্ডা মাথায়’ একরামুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম।
ওই বছরের ৩১ মে কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে একরামুলের স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। সেই সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের সময় মুঠোফোনে রেকর্ড করা কথোপকথনের কিছু রক্ত হিম করা অডিও ক্লিপ গণমাধ্যমকর্মীদের দিয়েছিলেন তিনি। যার মধ্যে একটি রেকর্ডে বন্দুকের ট্রিগার টানার শব্দ শোনা যায়। তার পরপরই গুলির শব্দ ও তারপর একজন মানুষের আর্তনাদের আওয়াজ পাওয়া যায়।
৩ দিন আগে
বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত সাম্প্রতিক বাজেটটি দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। তবে বাজেট প্রণয়নই শেষ কথা নয়; এর প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত সাম্প্রতিক বাজেটটি দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। বাজেট তৈরি ভালো হলেও এর প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর।’ তিনি অর্থ বিভাগের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আমলাতন্ত্র নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তন করতে হবে। গত চার মাসে তিনি উপলব্ধি করেছেন, সবাই মিলে কাজ করলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
প্রচলিত পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে আমির খসরু বলেন, সভাগুলোকে কেবল একমুখী না রেখে কর্মকর্তাদের মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত মতপ্রকাশের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি মুক্ত আলোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে (আউট অব দ্য বক্স) কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কাজের পরিবেশকে একটি পরিবারের মতো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু অভিযোগ না করে কাজের সুযোগ, নতুন ধারণা এবং সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরে সমাধানের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অনুবিভাগগুলো থেকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ফিডব্যাক পাওয়া গেলে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। তিনি অর্থ বিভাগকে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে দেশের স্বার্থে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে, সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যেখানে পর্যটনের উন্নয়ন হবে, সেখানে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠতে হবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রাম থেকে উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে কক্সবাজার অন্যতম ‘গ্রোথ হাব’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে কক্সবাজারের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
৬ দিন আগে
ভাসমান টার্মিনালে ত্রুটি: সরবরাহ কমায় তীব্র গ্যাস সংকট, সরকারের দুঃখ প্রকাশ
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাময়িক ভোগান্তির জন্য গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সরকার।
বুধবার (২২ জুলাই) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কারিগরি সমস্যার কারণে সংশ্লিষ্ট এফএসআরইউ থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ হ্রাস পেয়েছে। ফলে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সিএনজি স্টেশনগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছে না, যার ফলে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা দ্রুত সমাধান করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি সেবা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।
সরকার জানায়, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি হলেও দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা এ পরিস্থিতির প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ায় আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো অংশে সমস্যা দেখা দিলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ে।
এই নির্ভরতা কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার একনেক সভায় বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি কূপ খননের একটি প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে উৎপাদন বণ্টন চুক্তির (পিএসসি) আওতায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের কার্যক্রম চলছে। তবে অনুসন্ধান, কূপ খনন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় দীর্ঘদিনের এ সংকটের স্থায়ী সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়।
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে সরকার কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনে দরপত্র আহ্বান, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই, ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনতে পাইপলাইনসহ বিভিন্ন পরিবহনব্যবস্থা পর্যালোচনা, নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহ অবকাঠামোর বহুমুখীকরণ।
সরকার জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এফএসআরইউর কারিগরি সমস্যা সমাধান হলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও সর্বসাধারণের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
৭ দিন আগে
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ৮
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসে একটি মাদরাসার শিক্ষকসহ আটজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাব-ব্লক এ-৩ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩-এর বাসিন্দা আব্দুস শুক্কুরের দুই মেয়ে উম্মে নেছাত (১৩) ও উম্মে সালমা (১১), রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা হাশিম উল্লাহর মেয়ে কাওসনা (১১) এবং মাদরাসার শিক্ষক শামসুল আলম।
উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, টানা বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে মাদ্রাসার ছাদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
রোহিঙ্গা মাঝি ইলিয়াস মিয়া জানান, আজ সকাল থেকেই টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর একটি সাব-ব্লকে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় একটি মাদরাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়েছিল। স্থানীয় রোহিঙ্গারা তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পাহাড় ধসে আটকা পড়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উদ্ধারকাজ চলছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এ ঘটনার তিন দিন আগে, গত ৬ জুলাই ভোরে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিজনিত পৃথক পাহাড়ধসে দুই পরিবারের সাত সদস্যসহ মোট নয়জন নিহত হন।
সর্বশেষ এ ঘটনা মিলিয়ে তিন দিনে কক্সবাজার জেলায় পৃথক পাহাড়ধসে মোট ১৭ জনের মৃত্যু হলো।
২১ দিন আগে
কক্সবাজারে পাহাড় ধসে প্রাণ গেল নারীর, আহত ২
কক্সবাজারে টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে নাসিমা আক্তার (২৭) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী জসিম উদ্দিন (৪০) ও সন্তান গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার।
ইউএনও বলেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে। এতে নাসিমা আক্তার, তার স্বামী ও সন্তান আটকা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তিনজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই সেই নির্দেশনা মানেননি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতঘর উচ্ছেদ ও নিরাপদ স্থানে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
২২ দিন আগে
কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে নিহত ৯
কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড় ধসে দুই পরিবারের সাত সদস্যসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে কক্সবাজারের পৃথক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ৮ জন উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবং অন্যজন কক্সবাজার পৌরসভায় নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।
তিনি জানান, গতকাল (রবিবার) রাত ১টার দিকে উখিয়ার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি ঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়লে এক পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন—মোহাম্মদ কামাল হোসেন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস।
একই সময়ে কুতুপালংয়ের ৭ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ের ঢাল থেকে মাটি চাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
এরপর গতকাল দিবাগত রাত ৩টার দিকে ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপর এক পাহাড় ধসের ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যের প্রাণহানি ঘটে।
নিহতরা হলেন—উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩) এবং দুই ছোট ভাই রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
পৃথক আরেকটি ঘটনায়, আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনা এলাকায় আলী আকবরের (৫০) ঘরের ওপর পাহাড়ের বিশাল মাটির চাঙ্গর ধসে পড়ে। এতে আলী আকবর ও তার পরিবারের আরও দুই সদস্য ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল (রবিবার) সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণের কারণে এই পাহাড় ধসের ঘটনাগুলো ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই ভারী বর্ষণ হয়েছে।
তিনি জানান, আজ (সোমবার) সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং এই বৃষ্টি আরও দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঝুঁকি এড়াতে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
২৩ দিন আগে
প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) ডুলহাজারার মালুম ঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে জনসাধারণের প্রতি তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশের সকলের কাছে অনুরোধ করব, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে, এই বিষয়টি মাথায় রেখে আজকে থেকে প্রত্যেকে দয়া করে যার যেখানে সম্ভব সেখানে একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারি, তাহলে এতটুকু আমরা ধারণা করতে পারি যে, আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঠিকভাবে বুক ভরে পরিষ্কার শ্বাস নিতে পারবে।
‘আসুন, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিশ্চয়তা দিই, একটি পরিষ্কার একটি দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়তে পারি যেখানে আমাদের প্রজন্ম পরিষ্কার পরিবেশে বাস করবে।’
নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যেগুলো দিয়েছিলাম, তার মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা যদি আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে আমরা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত ৫ কোটি গাছ লাগানো। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চার রোপণ করব আমরা।
জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি, তাহলে আগামী দিনে বাংলাদেশের বাতাসকে আমরা অনেক মুক্ত, পরিষ্কার, বিশুদ্ধ একটি বাতাসে আমরা রূপান্তর করতে পারব।’
৪৬ দিন আগে
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কক্সবাজারের পিএমখালীর ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল-ক্ষমতায় এলে সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।
কক্সবাজারের মালুমঘাটে এই কর্মসূচির উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকার তাদের আরেকটি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করল।
পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরে এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
প্রথম ধাপে দেশের ৪৯টি জেলার ১৪৯টি উপজেলায় দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার প্রমুখ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর ঢাকার কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ এবং সিলেটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি’ উদ্বোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাইলটিং প্রকল্প শুরু করে সরকার। একই সঙ্গে সরকার ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য সম্মানী ও স্পোর্টস কার্ড প্রদান কর্মসূচিরও সূচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম কক্সবাজার সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের খনন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে এক পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।
বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বিচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।
৪৬ দিন আগে
অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাজেটের বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: প্রধানমন্ত্রী
দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়; তাদের উদ্দেশ্য একটাই, দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীতা-অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পাতলীখাল আনুষ্ঠানিক পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, আলহামদুলিল্লাহ, এইবার বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুন সব প্রয়োজনীয় যে জিনিসপত্রগুলো আছে তার ওপর যে সকল ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার এই দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের উপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে, যাতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য লক্ষ্য একটাই. দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল বলছে যে এই বাজেট তারা মানে না, এই গণবিরোধ বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?’
৪৬ দিন আগে
কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে আসামিকে লক্ষ্য করে গুলি, গুলিবিদ্ধ ২
কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে আসামিকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর দুপক্ষের সংঘর্ষে ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (২৪ মে) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এতে মহিউদ্দিন ও রণি নামে দুজন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা গুলিবিদ্ধসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার তার সহযোগীদের নিয়ে মামলায় হাজিরা দিতে আসেন। সেটি শেষ করে বের হওয়ার পথে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন জনকে আটক করা হয়েছে। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
৬৬ দিন আগে