মরদেহ
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর সাতজনের মরদেহ দেশে আসছে কাল
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে আসছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সৌদি আরবের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। ইতোমধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশ পাঠানোর যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ নম্বর ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪ টা ৫ মিনিটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর ৭ জন হলেন: আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার মার্কাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে আসতে পারে। এখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত জনের মরদেহ দেশে আসছে।
১০ দিন আগে
৫০ দিন অপেক্ষা করেও ঝিনাইদহে দাফন হওয়া আফগান নাগরিকের মরদেহ নিতে ব্যর্থ ভাই
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া সুদূর আফগানিস্তানের নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ দাফনের পৌনে পাঁচ মাস পর মরদেহ নিতে বাংলাদেশে এসেছেন তার আরেক ভাই ইমাল মোহাম্মদী। তিনি বাংলাদেশে ৫০ দিন ধরে অবস্থান করলেও দাপ্তরিক জটিলতায় কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়াটি আটকে আছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত নিয়ে নিহতের ভাই প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ সুদূর আফগানিস্তান থেকে ঝিনাইদহে এসে পৌঁছালেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে পরিবারটি।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পিবিআই আঙুলের ছাপ নিয়ে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে কোনো মিল না পাওয়ায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ১৪ এপ্রিল ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে নিহতের স্বজনরা নিশ্চিত হন যে নিহত ব্যক্তি আফগানিস্তানের কাবুলের পাঞ্জাশির এলাকার কুন্ডুস গ্রামের ইয়াসিন মোহাম্মদী ও সকিনা মোহাম্মদী দম্পতির ছেলে হাসমত মোহাম্মদী। হাসমতের মৃত্যুর পর তার লন্ডন প্রবাসী আরেক ভাই মীর ওয়াইস মোহাম্মদী লন্ডন থেকে ঝিনাইদহে আসলেও আইনি জটিলতার কারণে মরদেহ না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এরপর নিহতের দাফন হওয়ার ৪ মাস ২৪ দিন পর তার আরেক ভাই ইমাল মোহাম্মদী ভাইয়ের মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে গত ৬ জুলাই ডিএনএ টেস্টের নথিপত্র, মন্ত্রণালয়ের চিঠি, পরিচয়পত্র ও প্রমাণাদিসহ ঝিনাইদহে আসেন।
মৃত হাসমত মোহাম্মদীর বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন শাখা-১-এর উপসচিব কাজী আরিফুর রহমান গত ১১ আগস্ট পররাষ্ট্র সচিব, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর এক পত্রে নিহতের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে আফগানিস্তানে পাঠাতে অনাপত্তি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি না থাকায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া থেমে আছে।
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টিতে যেহেতু একটি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিক জড়িয়ে আছেন, তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তর সম্ভব হচ্ছে না।
ঝিনাইদহের একটি হোটেলে অবস্থানরত ইমাল মোহাম্মদী অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে তার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারা শুধু চান ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহটি নিজ দেশে নিয়ে দাফন করতে। এভাবে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘোরাঘুরি করাটা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফিরতি চিঠির অপেক্ষা করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, মানবিক দিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে করে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে নিতে পারে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন আজ (সোমবার) বিকেলে জানান, আমরা সব ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেলে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
১২ দিন আগে
সিলেটে ময়লার স্তূপ থেকে মানুষের খণ্ডিত পায়ের পাতা উদ্ধার
সিলেটে ময়লার স্তূপ থেকে সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মানুষের একটি খণ্ডিত পায়ের পাতা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে নগরের আম্বরখানা এলাকায় আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট সড়ক থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আম্বরখানা পয়েন্ট এলাকায় সড়কের পাশে ময়লার স্তূপে সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মানুষের একটি খণ্ডিত পায়ের অংশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পায়ের অংশটি উদ্ধার করে।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান বলেন, ময়লার স্তূপে মানুষের একটি খণ্ডিত পায়ের অংশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে এটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পায়ের অংশটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোনো রোগীর অস্ত্রোপচারের সময় কেটে ফেলা পায়ের অংশ কেউ ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে গেছেন। পায়ের অংশটিতে কিছুটা পচন ধরা ছিল।
২২ দিন আগে
ঢামেকে অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ ফেলে পালাল ২ ব্যক্তি
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ট্রলির ওপর অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়েছে দুই ব্যক্তি।
বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৫ বছর।
হাসপাতালের ট্রলিম্যান আব্দুর রউফ জানান, ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী দুই পুরুষ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ওই কিশোরীকে ঢামেকের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন। তাদের দেখে তিনি ট্রলি নিয়ে এগিয়ে গেলে ওই দুই ব্যক্তি মেয়েটিকে ট্রলিতে তোলেন এবং জরুরি বিভাগের টিকিট কাটার কথা বলে কৌশলে সেখান থেকে সরে পড়েন। পরে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত কিশোরীর গলায় ফাঁস লাগার স্পষ্ট দাগ এবং দুই হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাত ও গলায় ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, বা অন্য কী কারণে মারা যেতে পারে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পরিদর্শক মো. ফারুক আরও বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় ওই কিশোরীর নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অটোরিকশাসহ পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
২৪ দিন আগে
বাগেরহাটে একই পরিবারের তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় মা, মেয়ে ও নাতিসহ একই পরিবারের তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার রাঢ়ীপাড়া ইউনিয়নের চাঁদেরখোলা গ্রামে নিহতদের বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।
নিহতরা হলেন—চাঁদেরখোলা গ্রামের রশিদ শেখের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৮৫), তার মেয়ে মনিরা বেগম (৫৫) এবং মনিরার ছেলে আহাত হাওলাদার (২৫)।
কচুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহামুদ হাসান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই নারী ও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। তাদের মরদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তিনি জানান, কাঠের তৈরি ঘরের একটি কক্ষ থেকে মনিরা বেগম ও তার ছেলে আহাত হাওলাদারের মরদেহ এবং অপর কক্ষ থেকে রাশিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এক থেকে দুই দিন আগে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আজ (মঙ্গলবার) সকালে এক প্রতিবেশী বাড়িটিতে গিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে ডাকাডাকি করেন। তবে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই বাড়িতে নিহত তিনজন ছাড়া আর কেউ বসবাস করতেন না। নিহত আহাত হাওলাদার পেশায় একজন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি ছিলেন।
এসআই মাহামুদ হাসান জানান, কী কারণে এবং কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
৩২ দিন আগে
পাঁচ বছর ধরে রমেকের হিমঘরে ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ
আইনি জটিলতা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া ও পরিবারের অনাগ্রহের কারণে প্রায় পাঁচ বছর ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে ভারতীয় নাগরিক প্রবীর মণ্ডলের মরদেহ। পরিচয় ও পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর বা সৎকার করা সম্ভব হয়নি।
প্রবীর মণ্ডল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নিমচা মৈত্রী স্ট্রিটের এম আলম বাজার এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মহাদেব মণ্ডল। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৪১ বছর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর থেকে রমেক হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে মরদেহটি রয়েছে। পরিবার, ভারতীয় হাইকমিশন ও বাংলাদেশ সরকারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া মরদেহ হস্তান্তর বা সৎকার করা সম্ভব নয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের নভেম্বরে ফেসবুকে পরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রামে যান প্রবীর মণ্ডল। সেখানে আজিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থানকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রবীর মণ্ডলের পোশাক থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় পাসপোর্টে দেখা যায়, তিনি ২০১৭ সালের ৩ মার্চ তিন মাসের ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং ২০১৮ সালের ১৬ মার্চ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরে যান। তবে এরপর কীভাবে তিনি আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর একটি মেডিকেল লিগ্যাল বোর্ড গঠন করা হলেও এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। সেই থেকে মরদেহটি হাসপাতালের হিমঘরেই সংরক্ষিত রয়েছে।
২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানায়, মরদেহে তখনই পচন শুরু হয়েছিল। বিজিবির মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে মরদেহ ভারতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, ‘প্রবীর মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তার ছোট ভাই সুবীর মণ্ডলের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তারা মরদেহ গ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রমেক হাসপাতালের হিমঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল বসুনিয়া বলেন, ‘মরদেহটি এখনও হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী হস্তান্তর বা সৎকারের ব্যবস্থা করা হবে।’
রমেক হাসপাতালের উপপরিচালক আব্দুল মোকাদ্দেম বলেন, ‘চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে প্রবীর মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছিল। পুলিশের অনুরোধেই মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। এত দীর্ঘ সময় একটি মরদেহ হিমঘরে পড়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, ‘একজন মৃত ব্যক্তিরও মানবাধিকার রয়েছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো, মরদেহের মর্যাদাপূর্ণ সৎকার নিশ্চিত করা। এতদিন ধরে মরদেহ সংরক্ষিত থাকায় সেই অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
এ বিষয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রবীর মণ্ডলের মৃত্যুর সময় করোনা মহামারির কারণে সীমান্তে কঠোর বিধিনিষেধ ছিল। সে সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ গ্রহণে আগ্রহী হয়নি। বর্তমানে পরিবারের অনাগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায়, পরিবারের অনাপত্তি সাপেক্ষে মরদেহটির সৎকারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
৩৩ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ এলাকায় সামিরুল শাহ (৬০) নামে এক চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশে ধর্মদহ এলাকার একটি মাঠে থাকা বাঁশের মাচার ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে তেকালা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত সামিরুল তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বিশারদ শাহের ছেলে। তিনি পেশায় চা বিক্রেতা ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাদের পরিবার মূলত পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা থেকে এসে দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় বসবাস করে আসছে।
পুলিশ জানায়, নিহতের শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
৪৩ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে লাশবাহী নৌকায় ডাকাতি
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ হাওরে ১৫ দিন বয়সী এক শিশুর লাশবাহী নৌকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নৌকায় থাকা যাত্রীদের ৩টি মোবাইল ফোন, নৌকার সোলার প্যানেলের ব্যাটারি ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও সুইজগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নৌকায় থাকা শিশুটির দাদা আবদুল হক জানান, মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চমকপুর গ্রামের বাবু মিয়ার ১৫ দিন বয়সী কন্যাশিশু জন্মের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে শিশুটি মারা যায়। পরে মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
তিনি বলেন, করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাট থেকে নৌকা ছাড়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর একটি ছোট নৌকায় করে ৬ সদস্যের ডাকাতদল তাদের গতিরোধ করে। তারা অনেক অনুরোধ করে জানান, নৌকায় একটি শিশুর মরদেহ রয়েছে। কিন্তু ডাকাতরা তা উপেক্ষা করে যার কাছে যা ছিল, তা ছিনিয়ে নেয়। মারধরের ভয়ে তারা তিনটি মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা কিছু নগদ টাকা ডাকাতদের দিয়ে দেন।
নৌকার মাঝি রতন মিয়া জানান, নোয়াগাঁও সুইজগেট এলাকায় পৌঁছালে ডাকাতরা নৌকায় উঠে সোলার প্যানেলের ব্যাটারি ও প্রায় ৪ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নৌ পুলিশের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
চামড়াঘাট নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইস্কান্দার বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫৯ দিন আগে
শাহবাগে ফ্ল্যাট থেকে নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারা ফেরদৌস (৩২) নামে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে মার্কেটের ১৪ তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফারা ফেরদৌসের বাড়ি খুলনা জেলার ফুলতলা থানার পয়গ্রাম এলাকায়। তার বাবার নাম আব্দুর রশিদ। তিনি আজিজ সুপার মার্কেটের ১৪ তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. একরামুল।
তিনি জানান,আমরা নিহতের পরিবারের কাছ থেকে জানতে পেরেছি ফারা ফেরদৌস স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড থোরাসিক সার্জারি (সিভিটিএস) বিভাগে এমএস ফেজ-বি’র তৃতীয় বর্ষের রেসিডেন্ট শিক্ষার্থী ছিলেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ওই ভবনে গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে তাকে চেয়ারে বসা অবস্থায় টেবিলে মাথা রাখা অবস্থায় দেখতে পাই। তবে ঠিক কবে এবং কখন তার মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। বিকেল পৌনে ৬টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মো. একরামুল জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৭১ দিন আগে
রংপুরে চিরকুটসহ যুবকের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় রেললাইনের পাশে চিরকুটসহ এক যুবকের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৩১ মে) দুপুরে পীরগাছা উপজেলার উচাপাড়া ও দুধিয়াবাড়ী রেলগেটের মধ্যবর্তী স্থানে ট্রেনের নিচে মাথা দিয়ে এক যুবক আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বিষয়টি পীরগাছা থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহের পাশে পাওয়া একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটে লেখা ছিল, আমার মৃত্যুর জন্য আমি নিজে দায়ী। আমার জন্য দোয়া করবেন। মরদেহের হাতে মেহেদি দিয়ে লেখা ছিল হোসাইন। তবে প্রাথমিকভাবে ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল ইসলাম মুন বলেন, মরদেহের এখনও পুরোপুরি পরিচয় পাওয়া যায়নি। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
৯৭ দিন আগে