মরদেহ
কুড়িগ্রামে দুই দিনে দুই বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় পরপর দুই দিনে পৃথক ঘটনায় দুই বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ও মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উপজেলার পান্ডুল ও গুনাইগাছ ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গুনাইগাছ ইউনিয়নের পূর্ব কালুডাঙ্গা গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে মো. আব্দুল জব্বার (৬৫) এবং উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের ঢেঁকিয়ারাম গ্রামের মৃত বানছার আলীর ছেলে আব্দুল আখের ওরফে ফাকের (৬০)।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) সকালে বসতঘর থেকে আব্দুল জব্বারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জব্বারের পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান জব্বার। আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার বোনের স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম বকস খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে তাকে ঘরের ধরনার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয়রা জানান, জব্বারের পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগমের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথম পক্ষের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত তার। গত ১২ এপ্রিল এ নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।
অন্যদিকে, গতকাল (সোমবার) উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের ঢেঁকিয়ারাম গ্রাম থেকে আব্দুল আখের ওরফে ফাকেরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ভোরে বাড়ির আঙিনায় একটি কূলগাছ ও বাঁশের সঙ্গে বাঁধা দোলনার প্লাস্টিকের রশিতে তিনি গলায় ফাঁস দেন। সকালে তার পুত্রবধূ মাজেদা বেগম তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় সেখানে দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেন তিনি।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, দুটি ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
২ দিন আগে
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে নিহতের চার দিন পরও ফেরেনি যুবকের মরদেহ
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে খাসিয়া সম্প্রদায়ের গুলিতে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার চার দিন পার হলেও তার মরদেহ এখনও দেশে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
বুধবার (১ এপ্রিল) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তের নিকটবর্তী ভারতের রাজনটিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার উত্তর রণীখাই ইউনিয়নের লামা উত্তমা গ্রামের বাসিন্দা এবং মুক্তিযোদ্ধা কুটু মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবার জানায়, গত ১ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে সাদ্দামসহ চারজন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই সাদ্দাম নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের ১২৪৭ নম্বর পিলারের প্রায় ৬০০ গজ ভেতরে ভারতের রাজনটিলা এলাকায় সুপারি আনতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় গুলিতে সাদ্দাম নিহত হওয়ার পাশাপাশি ফরহাদ মিয়া নামে আরেকজন আহত হন। পরে অন্য সঙ্গীরা ফরহাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। আহত ফরহাদ একই গ্রামের লিলু মিয়ার ছেলে। তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন আবু বক্কর (৩০) ও জফির মিয়া (২৮)।
নিহতের বড় ভাই নাজীম উদ্দীন বলেন, ‘আমার ভাইসহ চারজন ভারতে যায়। সেখানে খাসিয়ারা তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। চার দিন পার হয়ে গেলেও এখনও তার মরদেহ দেশে আনতে পারিনি।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগৎ জ্যোতি দাস বলেন, ঘটনার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উত্তমা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আবুল কালাম বলেন, বিএসএফের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
১১ দিন আগে
শেরপুরে সড়কে পড়ে থাকা ট্রাংকে মিলল নারীর অর্ধগলিত মরদেহ
শেরপুরে সড়কের পাশে পড়ে থাকা একটি পরিত্যক্ত ট্রাংক থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীবরদী পৌর শহরের তাতীহাটি এলাকার ডালিবাড়ী মোড়ে রাস্তার পাশ থেকে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে শ্রীবরদী থানা পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আজ (বুধবার) সকালে শ্রীবরদী শহরের দিক থেকে আসা একটি ভ্যান রাস্তার পাশে একটি ট্রাংক নামিয়ে রেখে যায়। কিন্তু দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও ট্রাংকটি কেউ নিতে না আসায় এবং আশপাশে মাছি উড়তে থাকায় তাদের মনে সন্দেহ হয়। পরে ঘটনাটি শ্রীবরদী থানা পুলিশকে জানানো হলে তারা ট্রাংকটি খুলে তোশক ও চাদরে মোড়ানো অবস্থায় একটি মাঝবয়সী নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রাস্তার পাশে একটি পরিত্যক্ত ট্রাংক দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাংকটি খুললে ভেতরে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খুব দ্রুতই ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হবে।
১৫ দিন আগে
মাগুরায় মধুমতী নদী থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
মাগুরার সদর উপজেলায় মধুমতী নদী থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার কছুন্দি ইউনিয়নের খোর্দ কছুন্দি গ্রামে সজল মীরের ইটভাটার পাশের মধুমতী নদী থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, মধুমতী নদীতে এক নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
তিনি জানান, অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় পেতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাজ করছে। মরদেহটি মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ হত্যার ঘটনায় মাগুরা থানায় মামলা করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১৫ দিন আগে
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান।
বাসডুবির ঘটনায় ডুবুরি দল ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। তার আগে, দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
এখন পর্যন্ত যে ২৩ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে, তারা হলেন— রাজবাড়ী পৌরসভার লালমিয়া সড়ক ভবানীপুর এলাকার মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১) ও ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মজমপুর গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭) এবং একই মহল্লার কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২) ও তার মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সন্তান ফাইজ শাহানূর (১১) এবং একই উপজেলার মহেন্দপুর ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা মহল্লার কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে বাসচালক আরমান খান (৩১), সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মন্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), একই ইউনিয়নের চর বেনিনগর গ্রামের মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোস্না (৩৫) এবং সদর উপজেলার দাদশি ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের শিশু সন্তান সাবিত হাসান (৮); গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের নোয়াধা গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড়া গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমসপুর ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩) এবং ঝিনাইদহর শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের শিশুসন্তান আরমান (৭ মাস)।
এদের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসচালক আরমান খান এবং দিনাজপুরের নাছিমা (৪০) নামের নারীর মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান।
২১ দিন আগে
খুলনায় নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
খুলনায় নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর সাড়ে ৪ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে হরিণটানা গেট-সংলগ্ন একটি ফাঁকাস্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশুটি নগরীর লবনচরা থানাধীন রায়পাড়া কালভার্ট এলাকার বাসিন্দা শাহাজালালের মেয়ে ছিল।
পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে শিশুটি বাবা-মায়ের সঙ্গে ছোট মামার বিয়ের দাওয়াত খেতে সাচিবুনিয়া মোহাম্মাদপুর এলাকায় যায়। সেখানে পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নেন। এর মধ্যে মেয়ের ফিরে আসতে দেরি দেখে তার মা তাকে ফোন দেন। তখন বিপরীত থেকে তাকে জানানো হয়, মাওয়া আইসক্রিম খাচ্ছে; ওর যেতে দেরি হবে। এরপর থেকে পরিচিত ওই ব্যক্তির ফোন বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, দুপুরের পর থেকে মাওয়াকে ফিরে পেতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করতে থাকেন, কিন্তু না পেয়ে তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর রাত ২টার দিকে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে হরিণটানা গেটসংলগ্ন একটি ফাঁকা স্থান থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
লবনচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান বলেন, মরদেহের পাশে একটি দড়ি ছিল। সেটি দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
২৩ দিন আগে
পিরোজপুরে মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার, আটক ২
পিরোজপুরের নেছারাবাদে গোপাল চন্দ্র দাস নামের এক ব্যাক্তির মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার দুই বন্ধুকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব)-৮। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন আটক আসামিরা।
শনিবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর অভিযান চালিয়ে বরিশাল নগরীর পৃথক স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন গণপাড়া এলাকার আমির হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলাম সরদার সম্রাট এবং পিরোজপুর সদরের দুর্গাপুর এলাকার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে আবেদীন মাঝি রাজু।
রবিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে র্যাব-৮ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের মামুন মোল্লার ইটভাটার দক্ষিণ পাশের সন্ধ্যা নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে একটি মাথাবিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তের মাধ্যমে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন গণপাড়া এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে গোপাল চন্দ্র দাসের।
র্যাব-৮ সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, একটি মোটরসাইকেলে চড়ে তিন ব্যক্তি ইটভাটায় প্রবেশ করেন। পরে ভাটা থেকে তাদের মধ্য থেকে দুজনকে বের হতে দেখা যায়। ওই তিন ব্যক্তির মধ্যে একজন হলেন নিহত গোপাল চন্দ্র দাস এবং অপর দুজন হলেন তরিকুল ইসলাম ও আবেদীন মাঝি রাজু।
এরপর গতকাল (শনিবার) রাতে বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-৮ এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে আটক করে। পরে নগরীর স্টীমার ঘাট এলাকা থেকে অপর অভিযুক্ত আবেদীন মাঝি রাজুকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরও জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গোপাল চন্দ্র দাসকে হত্যা করে মাথা আলাদা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে আটক আসামিরা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩২ দিন আগে
নরসিংদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ মিলল প্রতিবেশীর ছাদে
নরসিংদীর রায়পুরায় নিখোঁজের এক দিন পর প্রতিবেশীর ছাদে মিলেছে ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ।
রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চরমরজাল এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (রবিবার) সকালে চরমরজাল গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার একতলা বাড়ির ছাদে আব্দুর রহমান নামের এক শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন ওই বাড়ির লোকজন। পরে বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আব্দুর রহমান ওই এলাকার প্রবাসী শুকুর আলী ও সুমি আক্তারের ছেলে ছিল।
পরিবারের দাবি, গতকাল (শনিবার) কোনো একসময় বাড়ি থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের পর থেকে পরিবার ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন, কিন্তু শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আজ সকালে ইদ্রিস মিয়ার বাড়ির ছাদে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না। শিশুটির শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্নও নেই। আমরা ক্রাইম সিন টিমকে খবর দিয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
এ ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
৩২ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা নিহত, মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ নিয়ে ঝিনাইদহ শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দলের হাজারো নেতা-কর্মী।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ও নিহতের ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সীসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ তার বক্তব্যে বলেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহন হন। আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। বিএনপি এই ন্যক্কারজনক হত্যার বিচার চায়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাবে।
জামায়াত ও শিবিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক সঙ্গে আমরা হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হটিয়েছি। এখন দেশ গড়ার সময়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আপনারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না।
পুলিশ জানায়, মরদেহ নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ শেষে সেটি তার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে পৌছায়। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে মাধবপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
জানাজায় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের স্থানীয় শত শত নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অপরদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তরু মুন্সীর স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। আজ (শনিবার) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আমির ড. মো. হাবিবুর রহমান এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে বিএনপির লোকজন গিয়ে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। এ কারণে স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তরু মুন্সী শারিরীকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক করেন। এ মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার ইফতার ও তালিম নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তরু মুন্সীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। নিহত তরু ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
৩৩ দিন আগে
খুলনায় নিখোঁজের ৩ দিন পর রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার
খুলনায় নিখোঁজের ৩ দিন পর নদীতে ভাসমান অবস্থায় হানিফ শেখ নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে নগরীর জেলখানা খেয়াঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হানিফ শেখ নগরীর ৪ নম্বর ঘাট এলাকার বাসিন্দা আজিজ শেখের ছেলে। পেশায় তিনি রিকশাচালক ছিলেন।
প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে সারা রাত রিকশা চালিয়ে ভোরে ভৈরব নদে গোসল করে বাড়ি ফিরতেন হানিফ। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোরে নদীতে নেমে তিনি নিখোঁজ হন। পরে তার পরিবারের সদস্যরা নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের খবর দেন। ওই দিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল ও স্থানীয় ডুবরিরা ভৈরব নদের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তাকে না পেয়ে সন্ধ্যায় অভিযান শেষ করেন। তার ৩ দিন পর আজ (শনিবার) সকাল ৬টার দিকে জেলখানা খেয়াঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘাট এলাকার স্থানীয়রা জানান, আজ সেহরির কিছুক্ষণ পর নদীতে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ দেখতে পান তারা। এরপর স্থানীয় থানায় খবর দিলে থানা থেকে নৌপুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নৌপুলিশ খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আক্তার বলেন, ভোর ৫টার দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে হানিফ শেখের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিবারকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ময়নাতদন্তের জন্য সেটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
৩৩ দিন আগে