মরদেহ
শেরপুরে খালে ভাসমান ড্রাম থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার
শেরপুরের শ্রীবরদীতে খালে ভাসমান প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কুড়িকাহনিয়া বাজারে সেতুর নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, খালের পানিতে প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে শ্রীবরদী থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে ড্রামটি খুলে ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ দেখতে পায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও ওই নারীকে হত্যার পর দেহ ড্রামে ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ জানান, মরদেহের গলায় কাপড় পেঁচানো এবং কপাল ও মুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনার তদন্ত ও মরদেহের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দলও ঘটনাস্থলে রয়েছে।
১৩ দিন আগে
মাগুরায় যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার
মাগুরায় বাস কাউন্টার থেকে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন।
নিহত সাকের মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। পৌর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) ভোরে রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে সাকেরকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক মাইনুল হাসান জানান, ভোরে কয়েকজন ব্যক্তি সাকেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সাকেরের মাথার পেছনে ছিদ্রের মতো চিহ্ন পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের অস্থায়ী লাশঘরে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে সাকেরকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা। তার বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে ১০টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথার পেছনে একটি ছিদ্রের মতো চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
১৪ দিন আগে
বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ফিরল সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ
কড়া নিরাপত্তায় বেনাপোল চেকপোস্টে নিষিদ্ধ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ভারতের কলকাতা থেকে তার মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্টে পৌঁছায়।
ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রোটনের মরদেহ গ্রহণ করেন তার বড় ভাই নাসিমুল হায়দার চৌধুরী মিল্টন।
এ সময় পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই বেনাপোল চেকপোস্ট ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
রোটনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে। তিনি গতকাল (শনিবার) কলকাতায় একটি হাসপাতালে মারা যান।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন রোটন। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শনিবার তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হরিদাসপুর স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন রোটন। তার পর থেকে চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন।
রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
২৫ দিন আগে
খুলনায় যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
খুলনার পূর্ব রূপসায় বাপ্পি (২৩) ওরফে কলম বাপ্পি নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর নৈহাটি ইউনিয়নের মোমিনবাগ এলাকায় বিপ্লব পালের ঘের থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বাপ্পি আলাইপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, মরদেহে গুলি ও অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ ঘটনার তদন্ত চলছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
৩৭ দিন আগে
কক্সবাজারে ‘অপহরণের’ ৪ ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসানের (২৮) হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর চার ঘণ্টা আগে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জিসান উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজেম উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাকারা সাবের সদর এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা জিসানকে তুলে নিয়ে যান। এরপর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন করে হত্যার পর দেহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যান হত্যাকারীরা।
চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি বলেন, ‘জিসান ছাত্রদলের একজন উদীয়মান ও সক্রিয় নেতা ছিলেন। তাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হলে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’
চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার ইসমাইল হোসেন বলেন, নিহত জিসানের দেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর কাকারা ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
৩৭ দিন আগে
ভোলায় শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, আটক ১
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর মো. ইসমাইল (৭) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই এলাকার মো. রোকন (২২) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া-সংলগ্ন একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইসমাইল ওই এলাকার মো. আকবর হোসেনের ছেলে।
শিশুটির পরিবার জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় শিশু ইসমাইল। পরে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে না পাওয়ায় বাবা আকবর হোসেন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের তিন দিন পর আজ (মঙ্গলবার) সকালে স্থানীয় কয়েকজন বোরহানউদ্দিনের মুসলিমপাড়া-সংলগ্ন খালে একটি বস্তা ভাসতে দেখে সন্দেহ থেকে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করলে স্বজনরা ইসমাইলকে শনাক্ত করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোন কেনাকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে ইসমাইলের বাবা আকবর হোসেনের সঙ্গে রোকনের বিরোধ হয়েছিল এবং ওই সময় রোকন তাকে হুমকি দিয়েছিলেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফউদ্দিন জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় আনা হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ এবং তাকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
৪৩ দিন আগে
নওগাঁয় পুকুর থেকে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁর নিয়ামতপুরে পুকুর থেকে মহিদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ছাতড়া গরুর হাটের পূর্ব পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মহিদুল ইসলাম উপজেলার ছাতড়া নিস্তানী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভাঙারি (পুরাতন লোহা, প্লাস্টিক ও অব্যবহৃত জিনিসপত্র) কেনাবেচার ব্যবসা করতেন।
স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যার পর থেকে মহিদুল ইসলাম নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা রাতে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরে আজ (মঙ্গলবার) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা ছাতড়া গরুর হাটের পূর্ব পাশের একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখেন। তারা সঙ্গে সঙ্গে নিয়ামতপুর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে নিয়ামতপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৪৩ দিন আগে
লালবাগে নিখোঁজের ৩ দিন পর মাটি খুঁড়ে মিলল ব্যবসায়ীর মরদেহ, আটক ১
রাজধানীর লালবাগে নিখোঁজের তিন দিন পর মাটি খুঁড়ে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিন লাখ টাকা সুদে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় মো. মাসুম চৌধুরী নামে একজনকে আটক করেছে লালবাগ থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার পাশের মাটি খুঁড়ে ওয়াসিম রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভবনটিতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আটক মাসুমের দুলাভাই জানান, তার শ্যালক মাসুম ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসা করতেন। যে ভবনের পাশ থেকে ওয়াসিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় মাসুমের পাইকারি কারখানা ছিল।
মাসুমের দুলাভাই আরও জানান, প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিম রনির কাছ থেকে মাসুম তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। পরে তিন লাখ টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে রনির সঙ্গে মাসুমের বিরোধ চলছিল।
তিনি জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে ওয়াসিম পাওনা টাকা চাইতে মাসুমের ব্যবসায়িক কক্ষে যান। সেখানে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে মাসুম ওয়াসিমের মাথায় ঘুষি মারেন। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়ে যান।
মাসুমের দুলাভাই জানান, পরে পুলিশের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়ে যাওয়ার পর তাকে ভবনের পাশের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। ওই স্থানেই মাটি দিয়ে মরদেহটি চাপা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। আজ (শুক্রবার) ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ওয়াসিমের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের শ্যালক মুরাদ হোসেন জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওয়াসিমের যোগাযোগ হয়। ওই দিন ওয়াসিমকে তিন লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি চেক দেওয়ার কথা ছিল বলে তারা জানতে পারেন।
মুরাদ বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকেই ওয়াসিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে শুরু করেন। একইসঙ্গে ওয়াসিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তারা। একপর্যায়ে অভিযুক্ত মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় মাসুমের স্ত্রী ওয়াসিমের বিষয়ে কোনো খোঁজ জানেন না বলে জানান। তিনি শুধু বলেন, ওয়াসিম বাসায় এসেছিলেন, পরে চলে গেছেন।
একপর্যায়ে ওয়াসিমের কোনো সন্ধান না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা লালবাগ থানায় গিয়ে নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্নভাবে ওয়াসিমের সন্ধান চালায় পুলিশ।
মুরাদ জানান, একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, ওয়াসিমকে হত্যা করে একটি ভবনের নিচতলার পাশের মাটির নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। পরে ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মুরাদ আরও জানান, তার দুলাভাইয়ের মরদেহ লুকিয়ে রাখতে আট বস্তা মাটি এনে বাসার পাশে তাকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, তার বোনের স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। এখন তার বোন ও পরিবারের কী হবে এ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। তার ভাষ্য, তিন লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই টাকা পরিশোধ করা হয়নি। পরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর ওয়াসিমক নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিচতলার পাশের মাটির নিচ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ডিসি তালেবুর রহমান আরও জানান, এ ঘটনায় মাসুম চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫৪ দিন আগে
বরিশালে ময়লার স্তূপে পাশাপাশি পড়ে ছিল দুই নবজাতকের মরদেহ
বরিশাল নগরীর একটি ময়লার স্তূপ থেকে দুই নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তাদের একজন ছেলে ও অন্যজন মেয়ে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বগুড়া রোডের গফুর সড়কের বিপরীতে নতুন বাজার ফরেস্ট অফিস-সংলগ্ন ময়লার স্তূপ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী জাকির হোসেন বলেন, প্রতিদিনের মতো ময়লা পরিষ্কার করার সময় তিনি দুটি প্লাস্টিকের বাটি দেখতে পান। কাছে গিয়ে বাটির ভেতরে দুই নবজাতকের মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাশাপাশি পড়ে থাকা দুই নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সেগুলো শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন বাজার ও এর আশপাশে একাধিক বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের ধারণা, কোনো একটি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে নবজাতক দুটির মরদেহ ওই স্থানে এসে থাকতে পারে।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সময় পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় টহলে ছিল। বিষয়টি জানার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে খবর দেওয়া হলে নবজাতক দুটির মরদেহ সেখানে নেওয়া হয়।
নবজাতক দুটির পরিচয় এবং কীভাবে তাদের মরদেহ ময়লার স্তূপে এল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান ওসি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
৫৭ দিন আগে
নিখোঁজের ২৫ দিন পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর এক যুবকের কঙ্কাল, প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের পরিত্যক্ত গারোর ভিটা এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাশেদুল ইসলাম (২০) ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের শাহজাহানের ছেলে। খবর পেয়ে শাহজাহান ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালের সঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পোশাক দেখে মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন জসিম উদ্দিন (২৪), রফিক (২৮) ও মোজাম্মেল হোসেন (২৭)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা রাশেদুলকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও রাশেদুলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন জসিম উদ্দিন। তার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে রাশেদুলের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবার কাছে কল করা হয়। এ সময় এক নারীর কণ্ঠে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে কয়েক দফা ফোন ও খুদেবার্তা পাঠানো হয়। ওই দিনই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাহজাহান।
অন্যদিকে ঘটনার পরই এলাকা ছেড়ে চলে যান জসিম। পরে ২৫ আগস্ট ফুলপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করে নিহতের পরিবার। এতে জসিমকে প্রধান করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার তদন্তের একপর্যায়ে গতকাল (রবিবার) দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই গ্রামের রফিক ও মোজাম্মেলকে তাদের নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জসিমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন হাড়, মাথার খুলি এবং প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করে পুলিশ।
শাহজাহান জানান, মাস খানেক আগে রাশেদুল, রফিক ও মোজাম্মেল একসঙ্গে শসার ক্ষেতে কাজ করেছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক থেকে রফিক ৫০০ টাকা পেলেও রাশেদুলকে ১০০ টাকা দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, বাকি টাকা দিয়ে রফিক ইয়াবা কিনে সেবন করেন। পরে রাশেদুল পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ বিরোধের জেরে তিনজন মিলে রাশেদুলের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফুলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিকরুল ইসলাম বলেন, আসামিরা একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা হাড়ের অংশগুলো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আজ (সোমবার) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে। আর গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
৫৮ দিন আগে