ফেনী
ফেনী ও মহেশপুর সীমান্তে ১৩ ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি
ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত দিয়ে ৭ জন ও ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জন ভারতীয় নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর) চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফেনী ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের শ্রীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ২১৪৫-এর নিকটবর্তী দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, ভারতের ৪৩ রাজনগর বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল ৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়।
পরবর্তীতে বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের নিয়ে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যান। এ সময় কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
বিজিবি জানায়, প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তারা সবাই ভারতীয় নাগরিক। তাদের মধ্যে ৬ জন নারী ও একজন ছেলে শিশু রয়েছে।
ফেনী ৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ, পুশইন কিংবা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, পুশইন প্রতিরোধ এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের অর্থনীতি রক্ষায় যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে ৪ বিজিবির আভিযানিক কর্মকাণ্ড ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দায়িত্ব পালন করছে।
অপরদিকে, আজ (শনিবার) ভোর ৫টার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সামন্তা বিওপির (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পুশইনের এ ঘটনা ঘটে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
৫৮ বিজিবি সূত্র জানায়, আজ ভোরে সীমান্ত পিলার ৫৫/এমপি-সংলগ্ন ফটকটি ব্যবহার করে ভারতের ৫৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সিঙ্গামোড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ৪ জন পুরুষ ও ২ জন নারীসহ মোট ৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে জোরপূর্বক অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালান।
তবে সীমান্তে দায়িত্বরত সামন্তা বিওপির বিজিবি টহল দল বিএসএফের এই অনৈতিক তৎপরতা সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করে। ভারতীয় বাহিনীর উপস্থিতি ও তাদের মনোভাব বুঝতে পেরে বিজিবি সদস্যরা কালবিলম্ব না করে সীমান্তের শূন্যরেখায় শক্ত অবস্থান নেন এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে সরাসরি বাধা প্রদান করেন। বিজিবির এমন অনড় ও কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ তাদের পুশইনের চেষ্টা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
বিজিবি জানায়, বিজিবির শক্ত প্রতিরোধের কারণে অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ওই ৬ জন ব্যক্তি বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ৩০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, ‘সামন্তা বিওপির টহল দলের সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা গেছে। বিএসএফের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপের বিষয়টি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং কড়া প্রতিবাদ করা হয়েছে।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অবৈধ পুশইন ও সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
ফেনীতে শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ফেনীর পরশুরামে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে ফারজানা আক্তার প্রিয়া (১৪) নামের এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেইট-সংলগ্ন কাদের টাওয়ারের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শর্যা জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত প্রিয়া নোয়াখালী জেলার সেবারহাটের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তবে পুলিশ দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও প্রিয়ার মা-বাবা কিংবা কেনো স্বজনের খোঁজ পাননি।
প্রিয়া গত তিন বছর ধরে উপজেলার মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা জাহেদা আক্তার তিমুর বাসায় গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করছেন।
শিক্ষিকা জাহেদা উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন তালুকদারের স্ত্রী। তিনি তার ৮ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে একা থাকেন। তার স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। পুলিশ জাহেদাকে প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই বাসার একটি কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে প্রিয়া আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে ‘কে+পি’ লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে প্রিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রিয়ার বাবা-মা দুজনের মধ্যে বিচ্ছেদের পর দুইজন বিয়ে করে নিরুদ্দেশ হন। প্রিয়ার নানি এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই শিক্ষিকার বাসায় কাজে দেন। এর আগেও একবার প্রিয়া শিক্ষিকার বাসা ছেড়ে পালিয়ে গেলে পরশুরাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন জাহেদা। খোঁজ পেয়ে তাকে আবার জোরপুর্বক বাসায় কাজে নিয়ে আসেন তিনি। প্রিয়া মুঠোফোন ব্যবহার করতেন না বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, স্কুল শিক্ষিকা গৃহকর্মীকে বিভিন্ন অজুহাতে বকাবকি করতেন। বুধবার রাতেও বকাবকি করায় বাসা থেকে বের হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত কাদের টাওয়ারের ছাদে ছিলেন।
জাহেদা আক্তার বলেন, প্রিয়াকে একা বাসায় রেখে আমি সকালে স্কুলে চলে যাই। বিকেলে বাসায় এসে অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় টাওয়ারের নিজস্ব কর্মচারীর সহযোগিতায় দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে তার মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেই। পুলিশ এসে রাত ৯টার দিকে তার মরদেহ উদ্বার করে।
পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো আশ্রাফুল ইসলাম বরেন, ধারণা করা হচ্ছে এটা একটা আত্মহত্যা। তদন্ত করে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
৫ দিন আগে
ফেনীতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরায় নিষেধাজ্ঞা
কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফেনীর জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত মাগরিবের নামাজের পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়া ও অকারণে ঘোরাঘুরি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কিশোর অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা রোধ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার থেকেই এ বিষয়ে জেলাজুড়ে সচেতনতা ও পরামর্শমূলক মাইকিং শুরু হয়েছে।
নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের বিশেষ তদারকি দলের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীও মাঠে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বারবার কিশোর অপরাধ ও গ্যাং কালচারের বিষয়টি উঠে এসেছে। লক্ষ করা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা বাদ দিয়ে মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করছে। এদের একটি বড় অংশ পরবর্তীতে মাদকের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এটি কোনো দমনমূলক সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষার্থীরা বাইরে বের হলেই তাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—বিষয়টি এমনও নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমানো, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং শিক্ষার্থীদের মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরাকে নিরুৎসাহিত করা।’
এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ফেনী জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।
একটি নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব ফেনী গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে আইন মেনে চলার এবং অপ্রয়োজনীয় আড্ডা পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য আড্ডা নয়, বরং শিক্ষাকেই প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগ সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সর্বস্তরের নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
১১ দিন আগে
ফেনীতে বাসচাপায় প্রাণ গেল পথচারী নারীর
ফেনীর পুরাতন মুহুরীগঞ্জ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হওয়ার সময় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় নাজমা আক্তার (৩৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত নাজমার বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার সমিতি বাজার এলাকায়।
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু নোমান জানান, দুপুরে নাজমা আক্তার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হয়ে পুরাতন মুহুরীগঞ্জ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ফেনী থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসআই আবু নোমান আরও জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১২ দিন আগে
পাহাড়ি ঢলে কাঁপছে ফেনীর তিন নদী, নির্ঘুম রাতে লাখো মানুষের চোখ বেড়িবাঁধে
আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর ভারতের ত্রিপুরা থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর তিন নদী—মুহুরী, কহুয়া আর সিলোনীয়ায় এখন প্রলয়নাচন। প্রতিবছর এই তিন নদী তীরবর্তী মানুষের বুকে যে আতঙ্কের ক্ষত তৈরি হয়, তা যেন আরও একবার তাজা হয়ে উঠেছে। ক্রমাগত বাড়তে থাকা পানির তোড়ে রাত পোহালেই তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় এখন নির্ঘুম রাত কাটছে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নদীপাড়ের লাখো মানুষের। তাদের চোখ এখন ত্রাসের কারণ হয়ে ওঠা বেড়িবাঁধের দুর্বল পয়েন্টগুলোতে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।
২০ দিন আগে
আড়াই ঘণ্টা বিঘ্ন থাকার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। এর ফলে অন্তত ৮০০ যাত্রী আটকা পড়েন।
শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টা ২২ মিনিটের দিকে ট্রেনটি ফেনী জংশনে প্রবেশের সময় ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
রেলওয়ে সূত্রের বরাতে ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. হারুন জানান, চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৮টা ২২ মিনিটে ফেনী জংশনে প্রবেশ করে। এ সময় ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ট্রেনটি ফেনী স্টেশনে পৌঁছানোর পর ইঞ্জিনের মোটরে একটি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। একপর্যায়ে মোটরে আগুন লাগার মতো লক্ষণ দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ ট্রেনটিকে স্টেশনের ডাউন লাইনে থামিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় নারী, শিশু এবং বয়স্ক যাত্রীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। অনেক যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে বিকল্প পরিবহনের খোঁজ করেন।
লাকসাম থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রী এনামুল হক জানান, তিনি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ট্রেনে উঠেছিলেন এবং ফেনী স্টেশনে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। তবে অনেক যাত্রীই ট্রেন ছেড়ে সড়কপথে বিকল্প মাধ্যমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
স্টেশন মাস্টার হারুন জানান, ইঞ্জিনের ত্রুটি মেরামত এবং ইঞ্জিন প্রতিস্থাপনের পর ট্রেনটি পুনরায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
৩৯ দিন আগে
ফেনী মাসুম হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৭৮ জন আসামিকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ
জুলাই অভ্যুত্থানকালে ফেনীতে নিহত ছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় আত্মগোপনে থাকা শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৭৮ জন আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ছালামাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আদেশ জারির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।
ঐ মামলায় আত্মগোপনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী–৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও ফেনী–২ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ ১৭৮ জনকে আদালতে হাজির হতে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে ফেনীর মহিপালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে মাহবুবুল হাসান হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ মামলায় ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মহিপালে নিহত মাহবুবুল হাসানের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় এ মামলা করেন।
নিহত মাহবুবুল হাসান সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া এলাকার নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়ার আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফলপ্রার্থী ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন ২২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ফেনীর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান এই অভিযোগপত্র আমলে নেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এ মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন— ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল।
মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র রফিকুল ইসলাম, ছাগলনাইয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মোস্তফা, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, জেলা যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা জিয়া উদ্দিন। ছাত্র–জনতার আন্দোলনে গুলি করতে প্ররোচনা, উসকানি ও নির্দেশনার অভিযোগে তাদের আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় ৫১ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিবর্ষণে মাহবুবুল হাসানের মাথা, বুকে ও পিঠে গুলি লাগে। পরে তাকে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ আগস্ট তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। সেদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওই দিন মোট ৭ জন নিহত হন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এ ছাড়া অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতারাও দেশে ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নেন।
৪৫ দিন আগে
ফেনীতে ট্রাকের পেছনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা, নিহত ২
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীতে সড়কের পাশে থেমে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের পেছনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ৮ জন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে ফেনীর খাইয়ারা ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্টের সামনে ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর (৪০) নামে একজনের পরিচয় জানা গেলেও অপরজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। সকাল ৬টা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের চাকা নষ্ট হলে সেটি মহাসড়কের পাশে থামিয়ে চালক ও সহকারী চাকা পরিবর্তনের কাজ করছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় কয়েকজন উৎসুক মানুষ জড়ো হন। হঠাৎ ঢাকামুখী একটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক ও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে চাপা দেয়।
খবর পেয়ে মহিপাল হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।
ফেনী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোশাররফ হোসেন তালুকদার বলেন, রাত ২টার পরপরই অন্তত ১০ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের অনেকের হাত-পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। জরুরি চিকিৎসা শেষে পাঁচজনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং একজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ডা. মোশাররফ হোসেন তালুকদার।
ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদ খাঁন চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৪৮ দিন আগে
ফেনীতে ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী ছাগলনাইয়ায় ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে গুলিয়াখালী বিচে ঘুরতে গিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ছাগলনাইয়া থানার ঘোপাল ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জের চৌধুরী পাড়া রাস্তার মুখে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইকবাল হোসেন জিসান (২৩) ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের সমপুর গ্রামের ডাক্তার বাড়ীর বাসিন্দা আবু তৈয়বের ছেলে ছিলেন। জিহানুল ইসলাম শাওন (২০) ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পাটোয়ারী বাড়ীর কামরুল ইসলাম রসুলের একমাত্র ছেলে। তিনি ফেনী হোমপ্লাস সুপার সপের হিসাব বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
শাওনের আত্মীয় সাংবাদিক এম এমরান পাটোয়ারী জানান, শাওনসহ তাদের কয়েকজন বন্ধু গতকাল (বুধবার) রাতে গুলিয়াখালী সৈকতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে রাত্রিযাপন শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে তার বন্ধুরা মিলে ফেনীর উদ্দেশে রওনা দেন।
তিনি বলেন, ‘শাওন ও জিসান একই মোটরসাইকেল ছিলেন। মোটরসাইকেলটিকে একটি ড্রাম্প ট্রাক চাপা দিলে জিসান ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আর আমার মামাতো ভাই শাওন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।’
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, একটি মোটরসাইকেলে করে দুই বন্ধু চট্টগ্রাম থেকে ফেনীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি দ্রুতগতির ডাম্প ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জিসান নিহত হন। গুরুতর আহত আবস্থায় শাওনকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেল ও ডাম্প ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৫৫ দিন আগে
ফেনীতে অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীর গরু ছিনতাই
ফেনীতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য আনা এক ব্যবসায়ীর গরুর পালে হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুরে অবস্থিত র্যাব ক্যাম্প-সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মানুষের থেকে ঋণ নিয়ে ঈদুল আজহায় বিক্রির জন্য ১০টি গরু ক্রয় করি। ফেনীর র্যাব ক্যাম্পের পাশেই গরুগুলো বেঁধে রেখে পাহারা দিচ্ছিলাম। শনিবার ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ ৪/৫ জন ব্যক্তি এসে আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১টি গরু গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন আমার চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে গাড়িটির পেছনে ধাওয়া করলেও আটকাতে পারেনি। আমি গরুটি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
স্থানীয়রা জানায়, অনেকেই লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু এনে ফেনীর হাট বাজারে বিক্রি করছেন। এভাবে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ফেনী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, রামপুরে ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
৬৭ দিন আগে