ফেনী
ফেনীতে এবারও হচ্ছে না বই উৎসব
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও ফেনীতে এবারও বছরের প্রথম দিনে শতভাগ বই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। জেলাজুড়ে প্রাথমিক স্তরে শতভাগ পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক ও দাখিল স্তরে চাহিদার প্রায় অর্ধেকের বেশি বই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।
জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও মাদরাসা স্তরে পাঠ্যবইয়ের চাহিদার সরবরাহ এখনও বাকি থাকায় বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ফেনীতে মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৫ জন এবং মাদরাসায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫ জন। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দাখিলে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে বইয়ের মোট চাহিদা ৭ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০টি। যেখানে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৮০টি। মোট বই প্রাপ্তির হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
এছাড়া মাধ্যমিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে বইয়ের মোট চাহিদা ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৫টি। তবে, এখন পর্যন্ত বই এসেছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬০টি। মোট বই প্রাপ্তির হার ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকে জেলায় মোট বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ৫ লাখ ৬২ হাজার ৯২৮টি। চাহিদার শতভাগ বই ইতোমধ্যে জেলার ৫৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে। ফেনীর ছয় উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় বরাদ্দকৃত বই ২ লাখ ৯ হাজার ৬২২টি, দাগনভূঞায় ৯১ হাজার ৬৭০টি, সোনাগাজীতে ১ লাখ ৯ হাজার ৪০০টি, ছাগলনাইয়ায় ৫৯ হাজার ৬৪৪টি, পরশুরামে ৪২ হাজার ৫৮২টি ও ফুলগাজীতে ৫০ হাজার ১০টি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, প্রাথমিকে ইতোমধ্যে চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ বই এসেছে। সবগুলো বিদ্যালয়ে বই পৌঁছে গেছে। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা শতভাগ নতুন বই হাতে পাবে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফী উল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বই এসেছে। প্রতিদিন বই আসছে। বছরের শুরুর দিনে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাবে না। চাহিদার শতভাগ বই কবে পাওয়া যাবে সেই বিষয়েও এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে বই উৎসব না হলেও বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা সুবিধাজনকভাবে তাদের বই সংগ্রহ করবেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে শুরু হয়েছিল নতুন কারিকুলামে পাঠদান। এক বছরের মাথায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আবারও গত বছর পূর্বের কারিকুলামে ফিরে যায় শিক্ষাব্যবস্থা।
৫ দিন আগে
খালেদা জিয়া চলে গেলেন, রয়ে গেল তার রোপিত নিমগাছটি
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর ইহলোকে নেই। আজ বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবন ও রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তিনি না থাকলেও তার রোপণ করা নিমগাছটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফেনীর ফুলগাজীর পৈত্রিক বাড়ির দরজায়।
২০০৮ সালে খালেদা জিয়া তার পৈত্রিক বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে এলে বাড়ির দরজার সামনে দক্ষিণ শ্রীপুর দিঘির পাড়ে নিজ হাতে একটি নিমগাছ রোপণ করেন। পরিচর্যায় গাছটি বড় হলে গোড়া পাকা করে খালেদা জিয়ার নামটি খোদাই করে লিখে দেওয়া হয়। সেই গাছটি এখন কেবলই স্মৃতি।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে শোকাহত ফেনীবাসী।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেককে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যায়। খালেদা জিয়ার পৈত্রিক ভিটায়ও চলছে শোকের মাতম। এ সময় সবাই খালেদা জিয়ার হাতে লাগানো নিমগাছটির সঙ্গে ছবি তোলেন। তারা মনে করেন, খালেদা জিয়া না থাকলেও তার হাতে লাগানো নিমগাছটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকবে মজুমদার বাড়িতে।
এই বাড়িতে খালেদা জিয়ার অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। ঘরের ভেতরে বসার চেয়ার, বিশ্রাম নেওয়ার ছোট্ট খাট, খাবারের টেবিল—সবকিছুতেই লেগে আছে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর হাতের ছোঁয়া।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্র জানায়, ২০০৮ সালেও ফেনীর ফুলগাজীতে বাবার বাড়িতে এসে দাদা সালামত আলী মজুমদারের কবর জিয়ারত করে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর খবরে আজ সেই বাড়িতেই নেমে এসেছে রাজ্যের নীরবতা। শোকে মুহ্যমান বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা।
বেগম জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম হোসেন মজুমদার বলেন, ‘বাড়িতে এলে তিনি বড়দের যেমন শ্রদ্ধা করতেন, তেমনি ছোটদের অনেক আদর করতেন। তাকে হারিয়ে দেশ-জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সে ক্ষতি কখনো পোষাবে না।’
৬ দিন আগে
ফেনীতে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা, রয়েছে বিকল্প প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের নেতারা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের কাছে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে এই আসনটিতে বিকল্প প্রার্থীও রেখেছে দলটি। এ কারণে আসনটিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক ও ওই আসনের নির্বাচনি সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনুও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ফেনী-১ আসন থেকে এর আগে পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
আজ (সোমবার) খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির আহবায়ক রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, আলাল উদ্দিন আলালসহ জেলা-উপজেলার নেতা-কর্মীরা।
এই আসনে বিকল্প প্রার্থী ঠিক করে রাখার ব্যাপারে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, নেত্রী অসুস্থ থাকায় বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। যদি শেষ মুহূর্তে তিনি ভোটে দাঁড়াতে না পারেন, তখন বিকল্প চিন্তা করা হবে। তবে খালেদা জিয়া মাঠে না থাকলেও তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেবের নেতৃত্বে গত ২১ ডিসেম্বর বিকেলে ফেনী-১ আসন থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলটির নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া এই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ (দুইবার), ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আসনটি বরাবরই খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত। এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতোমধ্যে এই আসনে তার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারপত্র বিলি করছেন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
একই সময়ে ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন; ফেনী-২ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া; ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ফেনী-১ আসনে ১৩, ফেনী-২ আসনে ১৬ এবং ফেনী-৩ আসনে ১৬ জনসহ মোট ৪৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল আজ (সোমবার) বিকেল ৫টা।
১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর তফসিল-সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। সেখানে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় দুদিন কমিয়ে আপিল নিষ্পত্তির সময় দুদিন বাড়ানো হয়।
সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
৮ দিন আগে
ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটির কোষাধ্যক্ষ হলেন ইউএনবির রিপন
ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির ২০২৬ সালের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সভাপতি ও দিদারুল আলম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
শাহাদাত হোসেন দৈনিক নয়া দিগন্তের ফেনী অফিস প্রধান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসের ফেনী প্রতিনিধি ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। অপরদিকে দিদারুল আলম এটিএন নিউজের ফেনী প্রতিনিধি।
নতুন কমিটিতে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন বার্তা সংস্থা ইউএনবি ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের ফেনী প্রতিনিধি মো. শফি উল্লাহ রিপন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়। তবে সব পদে একক প্রার্থী থাকায় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খাঁন ১৯ সদস্যবিশিষ্ট প্যানেলের প্রত্যেককে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশনের অপর দুই সদস্য হলেন মোহা. আলমগীর চৌধুরী ও তৌহিদুল ইসলাম তুহিন।
কমিটির নির্বাচিত অন্য সদস্যরা হলেন: সহ-সভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন (দৈনিক স্টারলাইন), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তোফাফেল আহমদ নিলয় (দেশ টিভি) ও জসিম উদ্দিন ফরায়েজী (গাজী টিভি), দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (সাপ্তাহিক নীহারিকা), প্রচার সম্পাদক আজিজ আল ফয়সাল (দৈনিক স্টার লাইন ও দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ), ক্রীড়া সম্পাদক তানজিদ উদ্দিন শুভ (ফেনীর প্রত্যয়), সাহিত্য সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান (দৈনিক আমার সংবাদ), প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক হাবীব উল্যাহ মিয়াজী (দৈনিক ইত্তেফাক), সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলাউদ্দিন (দৈনিক আমার কাগজ)।
এ ছাড়াও কমিটির নির্বাহী সদস্য হয়েছেন শুকদেব নাথ তপন (সাপ্তাহিক ফেনীর আলো), আরিফুল আমিন রিজভী (দৈনিক ফেনী), এনামুল হক পাটোয়ারী (দৈনিক নয়াপয়গাম), যতীন মজুমদার (দৈনিক যুগান্তর), আলী হায়দার মানিক (দৈনিক ফেনীর সময় ও নয়া শতাব্দী), মো. ওমর ফারুক (দৈনিক ইনকিলাব) ও নুর উল্যাহ কায়সার (দৈনিক বণিক বার্তা ও দৈনিক স্টার লাইন)।
ফেনী জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরে পদার্পণ করেছে। ২০১০ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে আসছে সংগঠনটি। বর্তমানে জেলায় পেশাদার সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন এটি।
২২ দিন আগে
ফেনীতে থানার পাশের দীঘিতে মিলল মরদেহ
ফেনী মডেল থানার পেছনের দীঘি থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে থানা-সংলগ্ন রাজাঝির দিঘির পশ্চিম পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, নিহত ব্যক্তির নাম মো. শুক্কুর (৪০)। গাজীপুর সদর উপজেলার হাতিমারা এলাকার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। কাজের সন্ধানে গেল সোমবার সকালে তিনি ফেনীতে আসেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ৯টার দিকে দিঘির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি তার মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল যায়। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় এক ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দিঘির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আবু কাউছার নিপু বলেন, রাতে দিঘির পশ্চিম পাশে হাঁটার সময় লাইটের আলোতে পানিতে মানুষের মাথার মতো কিছু দেখতে পাই। পরে স্থানীয়দের জানালে তারা এসে পুলিশকে খবর দেয়।
ফেনী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আবদুল মজিদ বলেন, মরদেহটি পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
ফেনী মডেল থানা পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। মরদেহ এখন হাসপাতালের মর্গে আছে। তার পরনে ছিল শার্ট, লুঙ্গি ও মাফলার।
তিনি আরও জানান, কয়েক দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছি। পরিচয় শনাক্ত, মরদেহটি এখানে কীভাবে এসেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ কাজ করছে।
২৭ দিন আগে
৬ ডিসেম্বর ফেনীতে উড়েছিল মুক্ত বাংলার পতাকা
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর। মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখ সমরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ফেনীর মাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনীর নৃশংস বর্বরতায় ক্ষত-বিক্ষত ফেনী শহরে স্বাধীনতাকামী বাঙালিরা বিজয়ের নিশান উড়িয়ে উল্লাস করেছিলেন আজকের দিনেই।
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় ফেনী। সেই থেকে এ দিনটি ফেনী মুক্ত দিবস হিসেবে পরিচিত। বছর ঘুরে এলেই নানা আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হয় দিবসটি।
দিনটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন আয়োজন করেছে নানা আয়োজন। ফেনী মুক্ত দিবস উপলক্ষে কলেজ রোডের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে র্যালি বের হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি উদযাপনের নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভোর থেকে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারা ফেনীর পূর্বাঞ্চল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন জাফর ইমামের নেতৃত্বে ফেনী শহরে প্রবেশ করতে থাকেন। পরে শহরের রাজাঝির দীঘির পাড়ে ডাকবাংলোর সামনে স্বাধীন বাংলাদেশের ফেনীতে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেখানে জড়ো হওয়া মুক্তি সংগ্রামীরা মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে স্লোগানে শহর প্রকম্পিত করে।
মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই ফেনী প্রেসক্লাবের সামনে মিছিল দেখে উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন। বিকেল নাগাদ সেখানে বিএলএফ কমান্ডার জয়নাল আবেদিনের নেতৃত্বে যুক্ত হন মুক্তিযোদ্ধারা। সেখানে ‘ফেনীর রাজা’ খ্যাত খাজা আহম্মদ সব মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ গড়ার কাজে নেমে পড়তে আহ্বান জানিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
একপর্যায়ে সাধারণ মানুষ মিছিলে অংশ নিতে শুরু করে। স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের লক্ষণ দেখে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাক বাহিনী আর তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আল-শামস বাহিনী ফেনীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফেনী শহর হয়ে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। এভাবেই দীর্ঘ ৯ মাসের বজ্রকঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তিকামীরা ফেনীর জমিনে লাল-সবুজের এক টুকরো পতাকা ওড়ান।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য ফেনীর ৩১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত করা হয়। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চারজন বীর উত্তম, সাতজন বীর বিক্রম এবং ২০ জন বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।
সেদিনের বিবরণ দিতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা সকালেই ফুলগাজীর বন্দুয়া থেকে এসে ফেনী সার্কিট হাউজে (বর্তমান ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেস্ট হাউজ) প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। বিকেলের মধ্যেই মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক জয়নাল আবেদীন ভিপির নেতৃত্বে মুজিব বাহিনী রাজাপুর, কোরাইশ মুন্সী ও সোনাগাজীর নবাবপুর থেকে ট্রাংক রোডে চলে আসেন। সন্ধ্যায় সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা সমাবেশ করেন।
ফেনী মুক্ত দিবস সম্পর্কে বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, ডিসেম্বরের শুরুতেই গেরিলা যুদ্ধের নীতি ‘হিট অ্যান্ড রান’ প্রয়োগ করে যুদ্ধ করতে করতে আমরা পাঁচগাছিয়া এলাকার কাছাকাছি চলে আসি। রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এদিকে এসে হিট (হামলা) করে আবার চলে যাই। ৫ ডিসেম্বর আমরা ঠিক ফেনীর কাছাকাছি যখন আসি, তখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রণে ভঙ্গ দিয়ে শেষ রাতের দিকে শুভপুর ও বারইয়ারহাট হয়ে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায়।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এদিন বীর মুক্তিযোদ্ধারা ফেনীকে হানাদারমুক্ত করেছিল। দিনটিকে আমরা নানা উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করে থাকি। সেদিন ফেনীর বীর মুক্তিযোদ্ধারা যে অসামান্য বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন, সেটিকে আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করব।’
৩১ দিন আগে
ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে পড়ল দোকানে, নিহত ৩
ফেনীর দাগনভূঞায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস উল্টে গিয়ে সড়কের পাশের দোকানে পড়েছে। এতে দুই নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সিলোনিয়া বাজারসংলগ্ন লাকি রোডের মুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার খুশিপুর এলাকার শহিদুল্লাহর স্ত্রী শামীম আরা বেগম (৫০) ও একই উপজেলার দক্ষিণ জয়লস্কর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মো. শ্রাবণ (২০)। নিহত অন্য নারীর এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ফেনীর মহিপাল থেকে নোয়াখালীগামী সুগন্ধা পরিবহনের বাসটি সিলোনিয়া বাজারসংলগ্ন লাকি রোডের মুখে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি উল্টে একটি দোকানের ভেতরে পড়ে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র নিহত
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডা. শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মূলত বেপরোয়া গতি ও বৃষ্টির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯৬ দিন আগে
ফেনীতে ট্রাকে বাসের ধাক্কায় নিহত ২
ফেনীতে একটি বালুভর্তি ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন বাসের সুপার সুপারভাইজার রবিউল (৩০)। অপরজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লালপোল হাফেজিয়া এলাকায় ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের লালপোল হাফেজিয়া এলাকায় বালুভর্তি একটি ট্রাক হঠাৎ ব্রেক কষলে বেপরোয়া গতির শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস তার পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে শ্যামলী পরিবহনের হেলপার ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ ছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় বাসের সুপারভাইজার ও চালককে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সুপারভাইজারেরও মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত চালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকচালক পলাতক রয়েছেন।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে বাস দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৫
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ট্রাকচালককে আটকের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক দ্রুত সড়ক থেকে অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
১২১ দিন আগে
ফেনীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
ফেনীর পরশুরামে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মঞ্চের সামনে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দলটির দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পরশুরাম জিরো পয়েন্ট এলাকায় স্টেশন রোডে পরশুরাম উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এই র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিম মানিক ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেবের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দলের নেতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপে প্রায় আধা ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতদের মধ্যে চিথলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইসমাইলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক জানান, গ্রাম ও ইউনিয়ন থেকে আগত নেতাকর্মীরা মঞ্চের সামনে আসতে চাইলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয় হবে বলেও জানান তিনি।
পড়ুন: হত্যার উদ্দেশ্যেই নুরকে আঘাত করা হয়: মির্জা ফখরুল
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব জানান, দলীয় কোনো পক্ষ নেই। মঞ্চের সামনে বসাকে কেন্দ্র করে যারা বিশৃঙ্খলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরশুরাম মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম জানান, বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও ফেনী ১ আসনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনু।
১২৫ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ফেনীর শিক্ষার্থী নিহত
অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. আদিব ফারহান (২০) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। রবিবার (৩১ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে নিউক্যাসল শহরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আদিব ফারহান ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবার ঢাকার নাখালপাড়া এলাকায় বসবাস করছে। ছয় মাস আগে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি।
পড়ুন: যশোরের মনিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী নিহত, আহত বাবা-মা
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আদিব চার বন্ধুসহ ভোরে নাশতা করতে বেরিয়েছিলেন। পথে তাদের প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে আদিব ফারহানসহ সবাই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আদিবসহ দুই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দুজনও চিকিৎসাধীন।
নিহতের চাচা আবুল হাসনাত বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদিব ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। তিনি এ লেভেল, ও লেভেল শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। মাত্র দুই মাস আগে তিনি ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবরে মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আদিবের লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
১২৮ দিন আগে