ফেনী
ফেনীতে সংস্কার হয়নি ২৮৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান
ফেনী জেলার প্রায় দুই শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এখনও পাঠদান ও সহশিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এতে চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এসব বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলায় মোট ৫৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৮৪টি বিদ্যালয়ের ভবন এখনও সংস্কার হয়নি। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ১৫১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টি, দাগনভূঞা উপজেলায় ১০২টির মধ্যে ১৬টি, সোনাগাজী উপজেলায় ১১০টির মধ্যে ৭৭টি, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ৭৮টির মধ্যে ৬৫টি, পরশুরাম উপজেলায় ৭টি এবং ফুলগাজী উপজেলায় ৯টি বিদ্যালয়ের ভবন ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৫ দিন আগে
‘মৃত’ আনোয়ারা বেগম সশরীরে নির্বাচন কমিশনে, ফিরল যুবদল নেতার মনোনয়ন
মৃত সমর্থকের সই নেওয়ার অভিযোগে প্রার্থিতা হারানো ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঁইয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ মাসুদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে তা ফিরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাকে সমর্থনকারী হিসেবে সই করা ভোটার আনোয়ারাকে মৃত দাবি করে গত ৪ জানুয়ারি মাসুদের মনোয়ন বাতিল করেছিলেন ফেনী জেলা প্রাশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক।
মাসুদের আপিল শুনানিতে গতকাল (রবিবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে হাজির হয়েছিলেন আনোয়ারা বেগম। তাকে সশরীরে, জীবিত অবস্থায় পেয়ে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেয় কমিশন। শুনানিতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে খালেদ মাহমুদ বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৫ শতাংশ ভোটারের সেই নেওয়ার নিয়ম। সেই অনুযায়ী আমি আনোয়ারা বেগম নামের একজন ভোটারের সই জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আমার বিরুদ্ধে আনোয়ারা বেগম মৃত এবং মৃত মানুষের সই জাল করার অভিযোগ তুলে আমার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন। অথচ যে আনোয়ারাকে মৃত দাবি করা হচ্ছে, তিনি সই-ই করতে পারতেন না। তিনি আঙুলের ছাপ ব্যবহার করতেন। তাই আমি মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করি। আপিল শুনানিতে মৃত দাবি করা আনোয়ারা কমিশনে হাজির হয়ে প্রমাণ দিয়েছেন, তিনি মরেননি। পরে নির্বাচন কমিশন সই যাচাই করে আমার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে।
প্রসঙ্গত, ফেনী-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু। এই আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন বাতিলে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন জামায়াত প্রার্থী। তবে আপিল শুনানি শেষে কমিশন জামায়াত প্রার্থীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।
৭ দিন আগে
ছাত্রদলে যোগ দিলেন এনসিপির শতাধিক নেতা-কর্মী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেনী জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন।
এর আগে, আব্দুর রহমান বাবু ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুল মাঠে তার অনুসারীদের জড়ো করেন। এরপর সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন, যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাপ রসুল মজুমদার, যুগ্ম আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম স্বপনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।
সদ্য ছাত্রদলে যোগ দেওয়া আব্দুর রহিম বাবু বলেন, আমি জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে ছিলাম। গত ১৬ মাস ধরে ফুলগাজী উপজেলায় ছাত্র সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে এনসিপি আমাকে ফেনী জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল।
তিনি বলেন, তারা আমাদের কমিটমেন্ট দিয়েছিল যে, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা কাজ করবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তারা সেই কমিটমেন্ট রাখতে পারেনি। কিন্তু যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে এনসিপি।
তিনি আরও বলেন, আমি আগে থেকেই খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করি। বিএনপির রাজনীতি আমার কাছে ভালো লাগে। তাই আমি ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।
ফেনী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু জানান, বাবু ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। আমি তাকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানাই। বাবু মনে করেছেন, তিনি যাদের সঙ্গে আগে কাজ করেছেন তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তাই তিনি প্রথমে পদত্যাগ করেছেন, এরপর শহিদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।
১২ দিন আগে
অপারেশন থিয়েটারে রান্না: ফেনী সদর হাসপাতালের ২ নার্স বরখাস্ত
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী সদর হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারে রান্নার ঘটনায় দুই সিনিয়র স্টাফ নার্সকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) এক আদেশের মাধ্যমে তাদের বরখাস্তের পর গতকাল (সোমবার) থেকে হাসপাতালে তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি।
তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটির সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিদর্শন করে নার্স ও চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তদন্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ২৫০ শয্যা নোয়াখালী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— নোয়াখালী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজিব আহমেদ চৌধুরী এবং ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অপারেশন থিয়েটারে রান্নাঘর স্থাপনসহ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে শাস্তির সুপারিশ করতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, অপারেশন থিয়েটারে রান্নার ঘটনায় দুই সিনিয়র স্টাফ নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ সাক্ষরিত এক আদেশে তাদের বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া নার্সরা হলেন, নার্সিং সুপার ভাইজার কল্পনা রানী মণ্ডল ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রানী বালা হালদার।
আদেশে বলা হয়, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে গ্যাসের চুলায় রান্না করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ এবং গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চরম দায়িত্বহীনতা, শৃঙ্খলাবিরোধী ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ড। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় রোগীর নিরাপত্তা এবং নার্সিং পেশার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এটি হাসপাতালের সংবেদনশীল অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ, রোগীর নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, তারা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে অপারেশন থিয়েটারের সার্বিক শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাগত মান রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও এই অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবে কাম্য নয়। এই ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ। এজন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩ (খ) বিধির আলোকে উক্ত বিধিমালার বিধি ১২(১) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার স্বার্থে এবং এই মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আদেশ জারির তারিখ থেকে কল্পনা রানী মন্ডল ও রানী বালা হালদারকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
তবে বরখাস্ত হলেও বিধি মোতাবেক তারা খোরপোষ ভাতা পাবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফেনী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দুজনের সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কপি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থার গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে গ্যাসের চুলায় রান্নাবান্না, অবাধ যাতায়াত এবং শৃঙ্খলাহীনতার কারণে প্রসূতি মা ও নবজাতকদের সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি নিয়ে ইউএনবিসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এছাড়া ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে নেটিজেনদের মধ্যে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
১৩ দিন আগে
ফেনী সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার এখন ‘রান্নাঘর’
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী সদর হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটারে দুই বছর ধরে রান্নাবান্না চলছে। প্রতিদিন এখানে গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হলেও কয়েকজন সিনিয়র স্টাফ নার্স অপারেশন থিয়েটারের কক্ষ রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
সম্প্রতি রান্নাবান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের নার্সদের দুজন অপারেশন থিয়েটারের কক্ষে শীতের পিঠা তৈরি করছেন। অন্যরাও অবাধে আসা-যাওয়া করছেন। তার ঠিক পাশের কক্ষে চলছে সিজারিয়ান অপারেশন। সেখানেও রোগীর স্বজনদের অবাধ চলাফেরা করতে দেখা যায়।
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে কমিটি। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ডা. জামাল হোসেন, ডা. আদনান আহমেদ ও ডা. শোয়েব ইমতিয়াজ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অপারেশন থিয়েটারের কক্ষ গত দুই বছর ধরে নিয়মিত রান্নাঘর ও শয়নকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন নার্সিং সুপারভাইজার নূর জাহান এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স কল্পনা রানী, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগম। স্বাস্থ্যঝুঁকির এই চরম অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসকরা অবগত থাকলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বিভিন্ন সময়ে সেখানে চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত ভোজের আয়োজনও করে থাকেন।
বৃহস্পতিবার রাকিব নামের এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার বোনের প্রসববেদনা উঠলে তাকে আজ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে এসে শুনছি, নার্সরা নাকি অপারেশন থিয়েটারে রান্না করেন! এটা কেমন কথা? তাও দুই বছর ধরে এটা চলে আসছে, ভাবা যায়?’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ‘সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে সংবাদ সংগ্রহ করছেন জেনে নূর জাহান নামে একজন নার্স খুব দম্ভ করে বলেছেন, “খাইছি; আরও খামু। কনে কিয়া (কে কী) কইরবো দেখা যাবে।”’
অভিযুক্ত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা এই প্রতিবেদককে এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে ওয়ার্ড ইনচার্জ স্বপ্না এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিব মেডিকেল কর্মকর্তার (আরএমও) সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
আরএমও ডা. রোকন-উদ-দৌলা বলেন, ‘ওটির (অপারেশন থিয়েটার) ভেতর রান্নাবান্না! এটা অসম্ভব ব্যাপার। ওটির ভেতরে কীভাবে রান্নাবান্না করে? সংক্রমণের অনেক বিষয় আছে এখানে। আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’
হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি) ডা. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটু ঝামেলার মধ্যে আছি। এটা আমাদের দুর্বলতা, আমরা স্বীকার করছি। এ বিষয়টি আমরা অবশ্যই গুরুত্বসহকারে দেখব এবং অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। আমাদের পাঁচটা দিন সময় দিন। এমন স্পর্শকাতর জায়গায় রান্না করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ এ সময় তিনি সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।
বিষয়টি নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। পরে তাকে এ সংক্রান্ত ভিডিও দেখানো হলে প্রতিক্রিয়ায় এই চিকিৎসক বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি তাৎক্ষণিক হাসপাতালের কর্মচারী মোশারফকে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখার জন্য পাঠান। তবে মোশাররফ সেখানে যাওয়ার আগেই রান্নার সামগ্রী লুকিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ফিরে এসে জানান।
ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে তাতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
১৪ দিন আগে
ফেনীতে এবারও হচ্ছে না বই উৎসব
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও ফেনীতে এবারও বছরের প্রথম দিনে শতভাগ বই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। জেলাজুড়ে প্রাথমিক স্তরে শতভাগ পাঠ্যবই সরবরাহ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক ও দাখিল স্তরে চাহিদার প্রায় অর্ধেকের বেশি বই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।
জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও মাদরাসা স্তরে পাঠ্যবইয়ের চাহিদার সরবরাহ এখনও বাকি থাকায় বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ফেনীতে মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৫ জন এবং মাদরাসায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫ জন। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দাখিলে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে বইয়ের মোট চাহিদা ৭ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০টি। যেখানে এখন পর্যন্ত বই এসেছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৮০টি। মোট বই প্রাপ্তির হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
এছাড়া মাধ্যমিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে বইয়ের মোট চাহিদা ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৫টি। তবে, এখন পর্যন্ত বই এসেছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬০টি। মোট বই প্রাপ্তির হার ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকে জেলায় মোট বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা ৫ লাখ ৬২ হাজার ৯২৮টি। চাহিদার শতভাগ বই ইতোমধ্যে জেলার ৫৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে। ফেনীর ছয় উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় বরাদ্দকৃত বই ২ লাখ ৯ হাজার ৬২২টি, দাগনভূঞায় ৯১ হাজার ৬৭০টি, সোনাগাজীতে ১ লাখ ৯ হাজার ৪০০টি, ছাগলনাইয়ায় ৫৯ হাজার ৬৪৪টি, পরশুরামে ৪২ হাজার ৫৮২টি ও ফুলগাজীতে ৫০ হাজার ১০টি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, প্রাথমিকে ইতোমধ্যে চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ বই এসেছে। সবগুলো বিদ্যালয়ে বই পৌঁছে গেছে। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা শতভাগ নতুন বই হাতে পাবে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফী উল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বই এসেছে। প্রতিদিন বই আসছে। বছরের শুরুর দিনে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাবে না। চাহিদার শতভাগ বই কবে পাওয়া যাবে সেই বিষয়েও এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে বই উৎসব না হলেও বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা সুবিধাজনকভাবে তাদের বই সংগ্রহ করবেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে শুরু হয়েছিল নতুন কারিকুলামে পাঠদান। এক বছরের মাথায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আবারও গত বছর পূর্বের কারিকুলামে ফিরে যায় শিক্ষাব্যবস্থা।
২৫ দিন আগে
খালেদা জিয়া চলে গেলেন, রয়ে গেল তার রোপিত নিমগাছটি
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর ইহলোকে নেই। আজ বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবন ও রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তিনি না থাকলেও তার রোপণ করা নিমগাছটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফেনীর ফুলগাজীর পৈত্রিক বাড়ির দরজায়।
২০০৮ সালে খালেদা জিয়া তার পৈত্রিক বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে এলে বাড়ির দরজার সামনে দক্ষিণ শ্রীপুর দিঘির পাড়ে নিজ হাতে একটি নিমগাছ রোপণ করেন। পরিচর্যায় গাছটি বড় হলে গোড়া পাকা করে খালেদা জিয়ার নামটি খোদাই করে লিখে দেওয়া হয়। সেই গাছটি এখন কেবলই স্মৃতি।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে শোকাহত ফেনীবাসী।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেককে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যায়। খালেদা জিয়ার পৈত্রিক ভিটায়ও চলছে শোকের মাতম। এ সময় সবাই খালেদা জিয়ার হাতে লাগানো নিমগাছটির সঙ্গে ছবি তোলেন। তারা মনে করেন, খালেদা জিয়া না থাকলেও তার হাতে লাগানো নিমগাছটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকবে মজুমদার বাড়িতে।
এই বাড়িতে খালেদা জিয়ার অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। ঘরের ভেতরে বসার চেয়ার, বিশ্রাম নেওয়ার ছোট্ট খাট, খাবারের টেবিল—সবকিছুতেই লেগে আছে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর হাতের ছোঁয়া।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্র জানায়, ২০০৮ সালেও ফেনীর ফুলগাজীতে বাবার বাড়িতে এসে দাদা সালামত আলী মজুমদারের কবর জিয়ারত করে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর খবরে আজ সেই বাড়িতেই নেমে এসেছে রাজ্যের নীরবতা। শোকে মুহ্যমান বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা।
বেগম জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম হোসেন মজুমদার বলেন, ‘বাড়িতে এলে তিনি বড়দের যেমন শ্রদ্ধা করতেন, তেমনি ছোটদের অনেক আদর করতেন। তাকে হারিয়ে দেশ-জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সে ক্ষতি কখনো পোষাবে না।’
২৬ দিন আগে
ফেনীতে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা, রয়েছে বিকল্প প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের নেতারা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের কাছে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে এই আসনটিতে বিকল্প প্রার্থীও রেখেছে দলটি। এ কারণে আসনটিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক ও ওই আসনের নির্বাচনি সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনুও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ফেনী-১ আসন থেকে এর আগে পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
আজ (সোমবার) খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর বিএনপির আহবায়ক রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, আলাল উদ্দিন আলালসহ জেলা-উপজেলার নেতা-কর্মীরা।
এই আসনে বিকল্প প্রার্থী ঠিক করে রাখার ব্যাপারে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, নেত্রী অসুস্থ থাকায় বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। যদি শেষ মুহূর্তে তিনি ভোটে দাঁড়াতে না পারেন, তখন বিকল্প চিন্তা করা হবে। তবে খালেদা জিয়া মাঠে না থাকলেও তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেবের নেতৃত্বে গত ২১ ডিসেম্বর বিকেলে ফেনী-১ আসন থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলটির নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া এই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ (দুইবার), ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আসনটি বরাবরই খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত। এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতোমধ্যে এই আসনে তার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারপত্র বিলি করছেন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
একই সময়ে ফেনী-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন; ফেনী-২ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া; ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ফেনী-১ আসনে ১৩, ফেনী-২ আসনে ১৬ এবং ফেনী-৩ আসনে ১৬ জনসহ মোট ৪৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল আজ (সোমবার) বিকেল ৫টা।
১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর তফসিল-সংক্রান্ত সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। সেখানে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় দুদিন কমিয়ে আপিল নিষ্পত্তির সময় দুদিন বাড়ানো হয়।
সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে, আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
২৮ দিন আগে
ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটির কোষাধ্যক্ষ হলেন ইউএনবির রিপন
ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির ২০২৬ সালের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সভাপতি ও দিদারুল আলম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
শাহাদাত হোসেন দৈনিক নয়া দিগন্তের ফেনী অফিস প্রধান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসের ফেনী প্রতিনিধি ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। অপরদিকে দিদারুল আলম এটিএন নিউজের ফেনী প্রতিনিধি।
নতুন কমিটিতে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন বার্তা সংস্থা ইউএনবি ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের ফেনী প্রতিনিধি মো. শফি উল্লাহ রিপন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়। তবে সব পদে একক প্রার্থী থাকায় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খাঁন ১৯ সদস্যবিশিষ্ট প্যানেলের প্রত্যেককে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশনের অপর দুই সদস্য হলেন মোহা. আলমগীর চৌধুরী ও তৌহিদুল ইসলাম তুহিন।
কমিটির নির্বাচিত অন্য সদস্যরা হলেন: সহ-সভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন (দৈনিক স্টারলাইন), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তোফাফেল আহমদ নিলয় (দেশ টিভি) ও জসিম উদ্দিন ফরায়েজী (গাজী টিভি), দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (সাপ্তাহিক নীহারিকা), প্রচার সম্পাদক আজিজ আল ফয়সাল (দৈনিক স্টার লাইন ও দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ), ক্রীড়া সম্পাদক তানজিদ উদ্দিন শুভ (ফেনীর প্রত্যয়), সাহিত্য সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান (দৈনিক আমার সংবাদ), প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক হাবীব উল্যাহ মিয়াজী (দৈনিক ইত্তেফাক), সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলাউদ্দিন (দৈনিক আমার কাগজ)।
এ ছাড়াও কমিটির নির্বাহী সদস্য হয়েছেন শুকদেব নাথ তপন (সাপ্তাহিক ফেনীর আলো), আরিফুল আমিন রিজভী (দৈনিক ফেনী), এনামুল হক পাটোয়ারী (দৈনিক নয়াপয়গাম), যতীন মজুমদার (দৈনিক যুগান্তর), আলী হায়দার মানিক (দৈনিক ফেনীর সময় ও নয়া শতাব্দী), মো. ওমর ফারুক (দৈনিক ইনকিলাব) ও নুর উল্যাহ কায়সার (দৈনিক বণিক বার্তা ও দৈনিক স্টার লাইন)।
ফেনী জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরে পদার্পণ করেছে। ২০১০ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে আসছে সংগঠনটি। বর্তমানে জেলায় পেশাদার সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন এটি।
৪২ দিন আগে
ফেনীতে থানার পাশের দীঘিতে মিলল মরদেহ
ফেনী মডেল থানার পেছনের দীঘি থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে থানা-সংলগ্ন রাজাঝির দিঘির পশ্চিম পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, নিহত ব্যক্তির নাম মো. শুক্কুর (৪০)। গাজীপুর সদর উপজেলার হাতিমারা এলাকার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। কাজের সন্ধানে গেল সোমবার সকালে তিনি ফেনীতে আসেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ৯টার দিকে দিঘির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি তার মরদেহ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল যায়। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় এক ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দিঘির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আবু কাউছার নিপু বলেন, রাতে দিঘির পশ্চিম পাশে হাঁটার সময় লাইটের আলোতে পানিতে মানুষের মাথার মতো কিছু দেখতে পাই। পরে স্থানীয়দের জানালে তারা এসে পুলিশকে খবর দেয়।
ফেনী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আবদুল মজিদ বলেন, মরদেহটি পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
ফেনী মডেল থানা পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। মরদেহ এখন হাসপাতালের মর্গে আছে। তার পরনে ছিল শার্ট, লুঙ্গি ও মাফলার।
তিনি আরও জানান, কয়েক দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছি। পরিচয় শনাক্ত, মরদেহটি এখানে কীভাবে এসেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ কাজ করছে।
৪৭ দিন আগে