ফেনী
ফেনীতে অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীর গরু ছিনতাই
ফেনীতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য আনা এক ব্যবসায়ীর গরুর পালে হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুরে অবস্থিত র্যাব ক্যাম্প-সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মানুষের থেকে ঋণ নিয়ে ঈদুল আজহায় বিক্রির জন্য ১০টি গরু ক্রয় করি। ফেনীর র্যাব ক্যাম্পের পাশেই গরুগুলো বেঁধে রেখে পাহারা দিচ্ছিলাম। শনিবার ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ ৪/৫ জন ব্যক্তি এসে আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১টি গরু গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন আমার চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে গাড়িটির পেছনে ধাওয়া করলেও আটকাতে পারেনি। আমি গরুটি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
স্থানীয়রা জানায়, অনেকেই লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু এনে ফেনীর হাট বাজারে বিক্রি করছেন। এভাবে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ফেনী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, রামপুরে ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
৭ দিন আগে
ফেনীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে শিরিন আক্তার (৩৮) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে)সন্ধ্যায় ইউনিয়নের চোছনা গ্রামের পশ্চিম জের কাছাড় এলাকার একটি নির্জন নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিরিন আক্তার জের কাছাড় গ্রামের মো. মানিক মিয়ার স্ত্রী। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার স্বামী বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শিরিন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর কেনা জমির পাশের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পাশেই তাদের নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ চলছিল। মঙ্গলবার বিকেল থেকে তাকে বাসায় না পেয়ে সন্তানরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহের ভিত্তিতে নির্মাণাধীন ঘরের ভেতরে বালু সরাতে শুরু করলে একটি কক্ষের ভেতর বালুর নিচ থেকে শিরিন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় স্থানীয় রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলাম অথবা নিহত নারীর বড় ছেলে জড়িত থাকতে পারেন। তাদের দুজনই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত সাইফুল একই এলাকার জমিদার বাড়ির আবুল খায়েরের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
নিহতের ছেলে রাজু জানান, মঙ্গলবার বিকেলে তার মাকে বাসায় না পেয়ে নতুন নির্মাণাধীন বাড়িতে খুঁজতে যান তিনি। সেখানে গিয়ে সাইফুল নামে এক শ্রমিককে কাজ করতে দেখেন। মায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে বালুর নিচে তার মায়ের মরদেহ দেখতে পান।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
১৭ দিন আগে
ফেনীতে বাসচাপায় ঝরল মোটরসাইকেল-আরোহী বাবা-ছেলের প্রাণ
ফেনীতে বোনের বাড়ি থেকে ফেরার পথে বাসচাপায় মোটরসাইকেল-আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাফেজিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের নুর আলম ও তার ছেলে নিরব। নুর আলম ফেনী ডায়াবেটিস হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ দুর্ঘটনায় নুর আলমের ভাগ্নি আফজাল মিঠু আহত হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতদের স্বজনরা জানান, ছেলে ও ভাগ্নেকে নিয়ে বোনের বাড়ি ভাঙার তাকিয়া থেকে মোটরসাইকেলে ফেনীতে ফিরছিলেন নুর আলম। পথে দ্রুতগতির একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই নুর আলম নিহত হন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে নিরবের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি থামিয়ে চালক পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একইসঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম জানান, বাসচাপার ঘটনায় জড়িত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পলাতক বাসচালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৮ দিন আগে
ফেনীতে মুক্তিপণ দাবির পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ
ফেনীতে নিখোঁজ হওয়ার পর ডোবা থেকে হাসান (১৮ মাস) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১১ মে) সকালে দাগনভূঞা পৌরসভার আমানউল্ল্যাহপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত শিশু হাসান লক্ষ্মীপুর জেলার কমল নগরের বাসিন্দা তারেক ও তারজিনা আক্তার দম্পতির ছেলে।শিশুর বাবা মোহাম্মদ তারেক জানান, গত ৯ মে সকালে বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হয় হাসান। সন্ধ্যার দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল আসে। প্রথমে তাদের কাছে ১২ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে অপহরণকারীরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন, অন্যথায় হত্যার হুমকিও দেন তারা। এ বিষয়ে গতকাল (রবিবার) শিশুটির পরিবার দাগনভূঞা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে।
দাগনভূঞা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম জানান, আজ (সোমবার) সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি কোনো চক্রের কাজ। তদন্তে জানা গেছে, ফোন করে হুমকি দেওয়া নম্বরটি নওগাঁর।
তবে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, নিখোঁজ ও মুক্তিপণ দাবিরর বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করার পরেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশের গাফিলতির অভিযোগটি সঠিক নয়। তারপরও বিষয়টি আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৯ দিন আগে
ফেনীতে টাকা না দেওয়ায় মাদকাসক্ত সন্তানের ছুরিকাঘাতে মা নিহত
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে এক যুবক ছুরিকাঘাতে মাকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের স্বামী ও মেয়ে।
রবিবার (১০মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম লাকি বেগম (৪৫)। আহতরা হলেন তার স্বামী মো. মোস্তফা (৫৫) ও মেয়ে মিথিলা মোস্তফা (১৮)। তারা দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদ হুদুর বাড়ির বাসিন্দা।
মোস্তফা সৌদি আরব প্রবাসী। মিথিলা রাজাপুর আলিম মাদরাসার এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় ফেনীকে (২১) আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (রবিবার) রাতে রাফি বাড়িতে এসে মাদক সেবনের জন্য তার মায়ের কাছে টাকা চান। এ সময় লাকি বেগম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে রাফি ধারালো ছুরি দিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হন লাকি বেগম।
মাকে ছুরিকাঘাতের পর বোন মিথিলাকেও ছুরিকাঘাত করেন রাফি। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে যান মোস্তফা। সে সময় তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
পরে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। রাফি তখন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
আহত তিনজনকে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাকি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই লাকি বেগমের মৃত্যু হয়েছে। আহত মোস্তফা ও মিথিলার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে রাফিকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, অনলাইনে অর্ডার দিয়ে দুটি ছুরি কিনেছিলেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি জব্দ করেছে পুলিশ।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, লাকি বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
১৯ দিন আগে
১৬ মে চাঁদপুর ও ২৫ মে ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী জেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৬ মে) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, খাল-খনন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে চাঁদপুর ও ফেনীতে খাল-খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে যাচ্ছেন। সেখানে অনেকগুলো কর্মসূচি রয়েছে। তিনি সেখানে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সারা বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব জেলায় তিনি যাচ্ছেন, খাল খনন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আপনারা জানেন যে আমরা আগামী পাঁচ বছরব্যাপী সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় গিয়ে খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। আমাদের মন্ত্রী-এমপিরা সবাই যার যার এলাকায় এই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি বলেন, যেহেতু বর্ষাকাল প্রায় চলে এসেছে, আমরা হয়তো এই মে মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি কন্টিনিউ (চলমান) রাখতে পারব। বর্ষা শেষে আবার আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে আমরা এই কর্মসূচি চালু কর।
মন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগে মে মাসে প্রধানমন্ত্রী দুইটি জেলায় যাচ্ছেন সেটা হলো চাঁদপুর এবং ফেনী। ফেনীতে যাবেন ২৫ মে এবং চাঁদপুর যাচ্ছেন ১৬ মে।
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রায় এক ঘণ্টার এ বৈঠকটি সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভ্যবতা জরিপ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান পানি সম্পদ মন্ত্রী।
২৪ দিন আগে
ইঞ্জিনে ত্রুটি, ৬ ঘণ্টা পর ফেনী ছাড়ল চট্টলা এক্সপ্রেস
ইঞ্জিনে ক্রুটির কারণে ফেনীর প্ল্যাটফর্মে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে আটকে থাকার পর চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে ট্রেনটি রাজধানীর দিকে রওয়ানা হয়। এর আগে, সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের ফেনী স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছালে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনের সাত শতাধিক যাত্রী।
রেলওয়ে কর্মকর্তা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফেনী রেলস্টেশনে ট্রেনটি আটকা পড়েছে। ট্রেনটির ইঞ্জিনের ট্যাবলেট কভার থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পরে ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধানের চেষ্টা করতে গেলে সহকারী লোকোমাস্টার মোহাম্মদ কাওসার ধোঁয়ায় আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রেনটি স্টেশনে আটকে থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় অনেক যাত্রীকে স্টেশনে নেমে বিকল্প পরিবহনের খোঁজ করতে দেখা গেছে। তবে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ হারুন বলেন, ফেনী থেকে যেসব যাত্রীর এই ট্রেনে ওঠার কথা ছিল, তাদের অনেকে টিকিট ফেরত দিয়ে বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে আটকে থাকলেও পাশের দুটি লাইন সচল থাকায় অন্য ট্রেন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
৩২ দিন আগে
ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে তিন চিকিৎসকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ফেনীতে ভুল চিকিৎসায় নাঈমা আক্তার লিজা নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে তিন চিকিৎসকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলায় আসামিরা হলেন— ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকের মালিক ডা. নাজমুল হক ভূঁইয়া, তার স্ত্রী ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা, ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ডা. আবদুল কাইয়ুম, মোটবী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা গীতা রানী এবং ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকের ম্যানেজার আতিকুর রহমান।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ফেনী সদর উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা লিজার প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল ১২ এপ্রিল। তবে ১০ এপ্রিল প্রসব ব্যথা শুরু হলে তাকে প্রথমে স্থানীয় মোটবী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে এক স্বাস্থ্য সহকারীর পরামর্শে তাকে ফেনী শহরের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকে নেওয়ার পর কোনো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে লিজার সিজার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ সময় তাকে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি হলে আবারও কোনো পরীক্ষা ছাড়াই তাকে ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে দ্বিতীয়বার অপারেশন করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিকেলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে লিজার মৃত্যু হয়েছে।
এরপর গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে নিহতের বাবা মোহাম্মদ নুর করিম বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় এ মামলা করেন।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করছি, খুব শিগগিরই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যাবে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৪২ দিন আগে
ফেনীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিক সিলগালা
ফেনীতে শহরের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে নাঈমা আক্তার লিজা (২১) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিক থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ক্লিনিকটি সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
নিহত লিজা ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মুজিবুল হকের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লিজার প্রসব বেদনা শুরু হলে প্রথমে তাকে লস্করহাটের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানকার এক নার্সের মাধ্যমে তাকে শহরের শহিদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ অপারেশনের জন্য ২২ হাজার টাকায় চুক্তিও করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ওই ক্লিনিকে লিজার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা। অপারেশনের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর থেকেই লিজার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়, কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। একাধিকবার জানানো হলেও বিষয়টি তারা স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যান। পরদিন তাকে কয়েক দফা রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। এরপর স্বজনরা তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
নিহতের স্বজন এমরান হোসেন বলেন, অপারেশনের পর থেকেই তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, কিন্তু চিকিৎসকরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ও নার্সরা ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান। আমাদের ধারণা, অপারেশনের সময় তার জরায়ু বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের খালা আক্তার বানু নামে বলেন, তাদের এমন অবহেলায় দুনিয়াতে আসার মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ছোট এই ছেলেটি এতিম হয়ে গেছে। বর্তমানে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানি না এই সন্তানের ভাগ্যে এখন কী আছে!
ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হাই হুমায়ুন বলেন, এমন ঘটনা দুঃখজনক। এর ফলে প্রকৃতপক্ষে যারা হাসপাতাল ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরও বদনাম হয়। ঘটনাটি জানার পর হাসপাতালের মালিককে কয়েকবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-১৯৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি বেশকিছু ধারা লঙ্ঘন করেছে। অনৈতিক ও বেআইনিভাবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব অপরাধে সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আইন অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটি চালু করার চেষ্টা করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, এর আগেও ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছিল। তবে শর্তসাপেক্ষে পুনরায় চালুর অনুমতি পেয়েছিল। এখন প্রাথমিকভাবে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাঈমা আক্তার লিজা (২১) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিক থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ক্লিনিকটি সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
নিহত লিজা ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মুজিবুল হকের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লিজার প্রসব বেদনা শুরু হলে প্রথমে তাকে লস্করহাটের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানকার এক নার্সের মাধ্যমে তাকে শহরের শহিদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ অপারেশনের জন্য ২২ হাজার টাকায় চুক্তিও করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ওই ক্লিনিকে লিজার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা। অপারেশনের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর থেকেই লিজার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়, কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। একাধিকবার জানানো হলেও বিষয়টি তারা স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যান। পরদিন তাকে কয়েক দফা রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। এরপর স্বজনরা তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
নিহতের স্বজন এমরান হোসেন বলেন, অপারেশনের পর থেকেই তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, কিন্তু চিকিৎসকরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ও নার্সরা ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান। আমাদের ধারণা, অপারেশনের সময় তার জরায়ু বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের খালা আক্তার বানু নামে বলেন, তাদের এমন অবহেলায় দুনিয়াতে আসার মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ছোট এই ছেলেটি এতিম হয়ে গেছে। বর্তমানে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানি না এই সন্তানের ভাগ্যে এখন কী আছে!
ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হাই হুমায়ুন বলেন, এমন ঘটনা দুঃখজনক। এর ফলে প্রকৃতপক্ষে যারা হাসপাতাল ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরও বদনাম হয়। ঘটনাটি জানার পর হাসপাতালের মালিককে কয়েকবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-১৯৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি বেশকিছু ধারা লঙ্ঘন করেছে। অনৈতিক ও বেআইনিভাবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব অপরাধে সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আইন অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটি চালু করার চেষ্টা করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, এর আগেও ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছিল। তবে শর্তসাপেক্ষে পুনরায় চালুর অনুমতি পেয়েছিল। এখন প্রাথমিকভাবে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪৮ দিন আগে
ফেনীতে মোটরসাইকেলের তেল আনতে গিয়ে তরুণের মৃত্যু
দাগনভূঞা-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. অন্তর (২০) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলের জন্য তেল আনতে বের হলে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত অন্তর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজার-সংলগ্ন মিদ্দাবাড়ির একরামুল হকের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, চলমান পরিস্থিতির কারণে কোম্পানীগঞ্জের তেলের দোকানগুলোতে অকটেন ও পেট্রোল সংকট চলছে। এ কারণে অন্তর মোটরসাইকেলের জন্য তেল আনতে বিকেলে বাড়ি থেকে ফেনীর উদ্দেশে বের হন। তেল সংগ্রহ করে ফেরার পথে এনায়েতভূঞা এলাকায় অজ্ঞাত একটি যানবাহনের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি নিহত হন। এ সময় আরও এক মোটরসাইকেলআরোহী গুরুতর আহত হন।
নোয়াখালীর চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) হুমায়ন কবির বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। নিহতের স্বজনেরা দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও জড়িত যানবাহন শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফেনী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাখায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।
৫৬ দিন আগে