ফেনী
ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে তিন চিকিৎসকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ফেনীতে ভুল চিকিৎসায় নাঈমা আক্তার লিজা নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে তিন চিকিৎসকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলায় আসামিরা হলেন— ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকের মালিক ডা. নাজমুল হক ভূঁইয়া, তার স্ত্রী ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা, ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ডা. আবদুল কাইয়ুম, মোটবী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা গীতা রানী এবং ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকের ম্যানেজার আতিকুর রহমান।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ফেনী সদর উপজেলার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা লিজার প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল ১২ এপ্রিল। তবে ১০ এপ্রিল প্রসব ব্যথা শুরু হলে তাকে প্রথমে স্থানীয় মোটবী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে এক স্বাস্থ্য সহকারীর পরামর্শে তাকে ফেনী শহরের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকে নেওয়ার পর কোনো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে লিজার সিজার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ সময় তাকে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি হলে আবারও কোনো পরীক্ষা ছাড়াই তাকে ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে দ্বিতীয়বার অপারেশন করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিকেলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে লিজার মৃত্যু হয়েছে।
এরপর গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে নিহতের বাবা মোহাম্মদ নুর করিম বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় এ মামলা করেন।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করছি, খুব শিগগিরই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যাবে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১ দিন আগে
ফেনীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিক সিলগালা
ফেনীতে শহরের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে নাঈমা আক্তার লিজা (২১) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিক থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ক্লিনিকটি সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
নিহত লিজা ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মুজিবুল হকের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লিজার প্রসব বেদনা শুরু হলে প্রথমে তাকে লস্করহাটের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানকার এক নার্সের মাধ্যমে তাকে শহরের শহিদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ অপারেশনের জন্য ২২ হাজার টাকায় চুক্তিও করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ওই ক্লিনিকে লিজার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা। অপারেশনের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর থেকেই লিজার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়, কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। একাধিকবার জানানো হলেও বিষয়টি তারা স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যান। পরদিন তাকে কয়েক দফা রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। এরপর স্বজনরা তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
নিহতের স্বজন এমরান হোসেন বলেন, অপারেশনের পর থেকেই তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, কিন্তু চিকিৎসকরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ও নার্সরা ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান। আমাদের ধারণা, অপারেশনের সময় তার জরায়ু বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের খালা আক্তার বানু নামে বলেন, তাদের এমন অবহেলায় দুনিয়াতে আসার মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ছোট এই ছেলেটি এতিম হয়ে গেছে। বর্তমানে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানি না এই সন্তানের ভাগ্যে এখন কী আছে!
ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হাই হুমায়ুন বলেন, এমন ঘটনা দুঃখজনক। এর ফলে প্রকৃতপক্ষে যারা হাসপাতাল ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরও বদনাম হয়। ঘটনাটি জানার পর হাসপাতালের মালিককে কয়েকবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-১৯৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি বেশকিছু ধারা লঙ্ঘন করেছে। অনৈতিক ও বেআইনিভাবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব অপরাধে সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আইন অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটি চালু করার চেষ্টা করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, এর আগেও ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছিল। তবে শর্তসাপেক্ষে পুনরায় চালুর অনুমতি পেয়েছিল। এখন প্রাথমিকভাবে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাঈমা আক্তার লিজা (২১) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিক থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ক্লিনিকটি সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
নিহত লিজা ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মুজিবুল হকের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লিজার প্রসব বেদনা শুরু হলে প্রথমে তাকে লস্করহাটের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানকার এক নার্সের মাধ্যমে তাকে শহরের শহিদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ অপারেশনের জন্য ২২ হাজার টাকায় চুক্তিও করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ওই ক্লিনিকে লিজার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. নাসরিন আক্তার মুক্তা। অপারেশনের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর থেকেই লিজার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়, কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। একাধিকবার জানানো হলেও বিষয়টি তারা স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যান। পরদিন তাকে কয়েক দফা রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। এরপর স্বজনরা তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
নিহতের স্বজন এমরান হোসেন বলেন, অপারেশনের পর থেকেই তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, কিন্তু চিকিৎসকরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ও নার্সরা ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান। আমাদের ধারণা, অপারেশনের সময় তার জরায়ু বা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের খালা আক্তার বানু নামে বলেন, তাদের এমন অবহেলায় দুনিয়াতে আসার মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ছোট এই ছেলেটি এতিম হয়ে গেছে। বর্তমানে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানি না এই সন্তানের ভাগ্যে এখন কী আছে!
ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল হাই হুমায়ুন বলেন, এমন ঘটনা দুঃখজনক। এর ফলে প্রকৃতপক্ষে যারা হাসপাতাল ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরও বদনাম হয়। ঘটনাটি জানার পর হাসপাতালের মালিককে কয়েকবার ফোন করেও সাড়া মেলেনি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মজিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-১৯৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি বেশকিছু ধারা লঙ্ঘন করেছে। অনৈতিক ও বেআইনিভাবে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব অপরাধে সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আইন অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটি চালু করার চেষ্টা করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, এর আগেও ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছিল। তবে শর্তসাপেক্ষে পুনরায় চালুর অনুমতি পেয়েছিল। এখন প্রাথমিকভাবে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে। প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৭ দিন আগে
ফেনীতে মোটরসাইকেলের তেল আনতে গিয়ে তরুণের মৃত্যু
দাগনভূঞা-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. অন্তর (২০) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলের জন্য তেল আনতে বের হলে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত অন্তর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজার-সংলগ্ন মিদ্দাবাড়ির একরামুল হকের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, চলমান পরিস্থিতির কারণে কোম্পানীগঞ্জের তেলের দোকানগুলোতে অকটেন ও পেট্রোল সংকট চলছে। এ কারণে অন্তর মোটরসাইকেলের জন্য তেল আনতে বিকেলে বাড়ি থেকে ফেনীর উদ্দেশে বের হন। তেল সংগ্রহ করে ফেরার পথে এনায়েতভূঞা এলাকায় অজ্ঞাত একটি যানবাহনের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি নিহত হন। এ সময় আরও এক মোটরসাইকেলআরোহী গুরুতর আহত হন।
নোয়াখালীর চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) হুমায়ন কবির বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। নিহতের স্বজনেরা দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও জড়িত যানবাহন শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফেনী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাখায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।
১৬ দিন আগে
ভোট দেওয়ায় তালাক: তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় ফেনীর সেই গৃহবধূ
স্বামীর নিষেধ উপেক্ষা করে ভোট দেওয়ার অভিযোগে তালাকপ্রাপ্ত ফেনীর গৃহবধূ বিবি জহুরার সংসার এখনও জোড়া লাগেনি। সামাজিক চাপে পড়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে জহুরা ও তার তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জহুরা ও তার পরিবার আলাদাভাবে বসবাস করছেন। তিন সন্তান নিয়ে তিনি বর্তমানে শাশুড়ির সঙ্গে থাকছেন। অন্যদিকে, এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তার স্বামী ইসমাইল হোসেন কাওসারও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, সংসার পুনর্প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্থানীয় আলেম প্রতিনিধি ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কাজ করছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় জহুরার সঙ্গে দেখা করতে যান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব। এ সময় তিনি জহুরা ও তার শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপি পরিবারের ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে জহুরাকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া তার পরিবারের খরচ বহনে প্রতি মাসে অর্থ সহায়তা এবং তিন সন্তানের পড়ালেখার খরচ নিয়মিত প্রদান করা হবে।’
তিনি আরও জানান, জহুরার পরিবারের বিষয়টি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই ফলোআপে রেখেছেন। আগামী সপ্তাহে বিএনপি পরিবারের নেতারা ফেনী সফরে এসে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করবেন।
এ সময় তিন সন্তান ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংসার পুনর্প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা চান গৃহবধূ জহুরা।
ফেনী সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, ধর্মপুর ইউনিয়ন সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় লোকজন সে সময় উপস্থিত ছিলেন।
২২ দিন আগে
ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি মাসুদ আটক
ফেনী-৩ আসনের (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর সড়কের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় ডিবি পুলিশের একটি দল।
আজ (মঙ্গলবার) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ঢাকা ও ফেনীতে দায়ের করা অন্তত পাঁচটি মামলায় তিনি আসামি। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডিবি প্রধান আরও জানান, ফেনীতে দায়ের করা জুলাই আন্দোলনসংক্রান্ত একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদেশে মানবপাচারের অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
২৬ দিন আগে
ফেনীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩
ফেনীতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় রবিবার (২২ মার্চ) ভোর পৌনে ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনে সেতুর সংস্কার কাজ চলছিল। একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীর গতিতে সেতুটির আগের স্পিড ব্রেকার পার হচ্ছিল। এমন সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।
এ ঘটনায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্স-চালকের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরও কিছু বাসের জট লেগে যায়। কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে ধাক্কা দেয়। এতে একজন মোটরসাইকেল-আরোহী, বাসের সুপারভাইজার ও একজন যাত্রী নিহত হন।
এতে একজন মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার ও একজন যাত্রী নিহত হন। আহত হন আরও পাঁচজন।
ওসি আসাদুল ইসলাম জানান, নিহতদের মরদেহ ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কারো নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।
২৮ দিন আগে
পরিবেশ খাতে লুটপাট আগে যা হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, পরিবেশ খাতে লুটপাট আগে যাই হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না। লুটপাট যাই হয়েছে এতে কাউকে না কাউকে দায়ী করা হবে।
রবিবার (৮ মার্চ) ফেনী সার্কিট হাউজে ‘গার্ড অব অনার’ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী হওয়ার পর নিজ জেলা ফেনী ও সংসদীয় আসনে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর।
এ সময় পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের দূষণ লেভেল পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ। যেভাবেই হোক আমাদের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। আগের কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। দূষণ কমানো আমাদের জাতিগত দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মাটি পোড়ানো ইটের জায়গায় পরিবেশবান্ধব ইটে রূপান্তর করা এক-দুই বছরে সম্ভব নয়, এটি সময়সাপেক্ষ। তবে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটে যেতেই হবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের জনগণ যে পরিণতির শিকার, তাদের সেই পরিণতি থেকে কিছুটা লাঘব করাই হবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাজ।
জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটা বিরাট ব্যাপার। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে পরিণতির শিকার হতে হয়, তা থেকে আমরা আরেকটু উন্নত করার জন্য বনায়ন করা দরকার; সেটাই আমরা দ্রুত করব। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে সমস্ত কিছু জড়িত, যেমন: নদী ভাঙন ও পরিবেশ দূষণের ব্যাপার আছে, এগুলো কিন্তু জলবায়ুর সঙ্গে জড়িত। আমাদের অগ্রাধিকার হবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের জনগণ যে পরিণতির শিকার হচ্ছে, তাদের সেই পরিণতি থেকে কিছুটা লাঘব করা।
তিনি আরও বলেন, বনায়নের মাধ্যমে দূষণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তবে সমস্যা হলো আমাদের দেশের কাঠামোর একটু অভাব আছে। যেমন: ডার্বেজ, ময়লা আবর্জনা—এগুলো সরানো পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের কাজ নয়, কিন্তু এটার ফলে যে দূষণ হয় সেটার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় দায়ী। তাই এখন দূষণের বিষয়টি একটি কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। আমরা শুধু ঢাকা শহরকে এই কাঠামোর আওতায় রাখব, তা কিন্তু না; দেশের ছোট ছোট শহরগুলোতেও যেন এ সমস্যার সমাধান হয় সেদিকেও নজর রাখা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মুনিরা হক, পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. নবী নেওয়াজ, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবাশ্বের হোসেন মো. রাজিব, ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিকসহ অন্যান্যরা।
৪২ দিন আগে
ইরাকে যুবকের মৃত্যু, ভেঙে গেল পরিবারের দশ লাখ টাকার স্বপ্ন
ফেনী সদর উপজেলার মেহেদি হাসান নাহিদ (২১) নামের এক যুবকের ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের আরবিল শহরে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দু্জন মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় নাহিদ ৫ মাস আগে পাড়ি জমান ইরাক। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তার পরিবার। ১০ লাখ টাকা ঋণ করে তার বাবার মাধ্যমে নাহিদকে প্রবাসে পাঠানো হয়েছিল।
বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত নাহিদ উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের দেবীপুর বিসিক শিল্পনগরী-সংলগ্ন মৃধা বাড়ির মোহাম্মদ মাহবুবুল হকের ছেলে। বাবা-মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে নাহিদ ছোট ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাহবুবুল হক ৮ বছর ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কর্মরত। গত বছরের অক্টোবর মাসে বাবার হাত ধরে কাজের সন্ধানে সেখানে যান নাহিদ। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইফতারের পরে নাহিদ ও তার সঙ্গে থাকা আরও দুই বাংলাদেশি একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেদিন রাতে নাহিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ তারেক (৪৫) ও তার ছেলে মো. সাব্বিরসহ (২২) তিনজন হাসপাতাল থেকে বাসায় গিয়ে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে বাসায় গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাহিদের চাচা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে ১০ লাখ টাকা ঋণ করে তার বাবার মাধ্যমে নাহিদকে প্রবাসে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে সকলে শোকে স্তব্ধ। ছেলে হিসেবেও নাহিদ অনেক নম্র-ভদ্র ছিল। তার পরিবার আর্থিকভাবে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি তাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে অনেক বেশি উপকৃত হবে বলে জানান তিনি।
নাহিদের মা হোসনে আরা বলেন, শেষবারের মতো আমার সন্তানের মুখ দেখতে চাই। তাকে দেশে আনার বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। অর্থনৈতিকভাবে আমার পরিবার একদম শেষ হয়ে গেছে। আমি সকলের সহযোগিতা চাই।
এ ব্যাপারে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি এখনও অবগত নই। পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের জানানো হয়নি। অবগত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।
৪৩ দিন আগে
ট্রাকচাপায় ছেলে মর্গে, মৃত্যুশয্যায় বাবা
ফেনীতে সেহরি খেয়ে মসজিদে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাবা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দাগনভূঞায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে সেহরি খাওয়ার পর মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেটে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মোল্লাবাড়ি গ্রামের নুর আলম (৫৫) ও তার ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৪)। এ সময় তারা চৌধুরী বাড়ির সামনে পৌঁছালে একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নুর মোহাম্মদ নিহত হন।
অপরদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় নুর আলমকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৪৭ দিন আগে
পরকীয়া নিয়ে বিরোধের জেরে ফেনীতে তাঁতিদল নেতা খুন
ফেনীর সোনাগাজীতে পরকীয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে আইয়ুব নবী তারেক (২৬) নামে এক তাঁতিদল নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুণক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আইয়ুব নবী তারেক বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতিদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গুণক গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের পিতা কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, একই বাড়ির ওহিদুর রহমানের স্ত্রী নারু (নাহার) আগের একটি বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে তারেককে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওহিদুর রহমানের ছেলে নাহিদ, সাঈদ, নিলয় ও স্ত্রী নারু দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে তারেকের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই আমার ছেলে মারা যাওয়ার পরও ওহিদুর রহমান তাকে ডাকাত বলে আখ্যা দিয়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। আমি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত তারেক ও ওহিদুর রহমানের ছেলে নাহিদের স্ত্রীর মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এলাকাবাসীর ধারণা, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
একই বাড়ির আবদুল গফুর জানান, কিছুদিন আগে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল হক চৌধুরীর কাছে নাহিদ অভিযোগ করেছিলেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে তারেকের পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বলেছিলেন নাহিদ।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, নিহত তারেকের বিরুদ্ধে একটি পরোয়ানা ছিল। তবে এটি কোন রাজনৈতিক হত্যা নয়। পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
৫২ দিন আগে