ফেনী
ট্রাকের ধাক্কায় চেকপোস্টে দায়িত্বরত এসআরবি সদস্য নিহত
ফেনীতে চেকপোস্টে দায়িত্বরত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) এক সদস্য ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। এ সময় ট্রাকচালকও গুরুতর আহত হন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার ফতেহপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর (৪৬) প্রেষণে এসআরবি-৭-এর ফেনী ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার শান্তিবাগ এলাকায়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি সদস্যরা মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যানকে থামানো হয়। পরে একই লেনে আসা একটি ট্রাক সংকেত অমান্য করে দ্রুতগতিতে চলে যাওয়ার সময় কাভার্ডভ্যানটির পেছনে ধাক্কা দেয়।
এরপর ট্রাকটি মহাসড়কের বাম পাশ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে থাকা আলমগীরকে ধাক্কা দেয় এবং রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে আলমগীর ও ট্রাকচালক মো. সজিব গুরুতর আহত হন।
পরে দায়িত্বরত এসআরবি সদস্যরা দুজনকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আলমগীরকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ট্রাকচালক সজিব হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার সালাম গাজীর ছেলে।
খবর পেয়ে মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মহিপাল হাইওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
১৪ দিন আগে
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতার চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী
কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি ও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই সঙ্গে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মুহুরী সেতুর কাছে খেয়াঘাট এলাকায় এক হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) কাজের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ ও বন্ধ মিল-কলকারখানা পুনরায় চালুর মতো সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কাজ বাধাগ্রস্ত হলে এ দেশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। ১৯৭১ সালে এসব রাজনৈতিক দল কী ভূমিকা পালন করেছিল, আমরা তা দেখেছি। তখন তারা কী করেছিল, কীভাবে বিভিন্ন অন্যায় করেছিল এবং কীভাবে নারীদের হয়রানি ও নির্যাতন করেছিল, আমরা তা দেখেছি।’
তারেক রহমান বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে জনগণকে বিভ্রান্ত করে এসব রাজনৈতিক শক্তি কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছে, কিন্তু এখন তারা সেই অর্জনকে এমনভাবে দেখছে, যেন তারা সবকিছু পেয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি, ১৯৭১ সালে তারা যেভাবে মা-বোনদের নির্যাতন করেছিল, আবারও তাদের সেই নারী নির্যাতন শুরু হয়েছে। আমরা দেখছি, তাদের গুপ্তবাহিনীর কিছু সদস্য কীভাবে নারীদের নির্যাতন করছে। আর তারা শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি। তদন্ত চলছে এবং তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু মানুষ বলছে, শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি, একজন মানুষের জীবন শেষ করে দিয়েছে।’
দেশে ভালো ও মন্দ—দুই ধরনের মানুষই রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু দুষ্ট মানুষ কিছু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে।’
তারেক রহমান বলেন, আজ আমাদের সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে—আমরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করব। আজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে, আমরা কাদের কথা বিশ্বাস করব এবং কারদে কথা বিশ্বাস করব না। আজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে, জনগণ কাদের সমর্থন দেবে এবং কাদের সমর্থন দেবে না।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী যাদের ‘গুপ্তদল’ হিসেবে উল্লেখ করেন, সেই দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের দলে সমস্যা থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা অন্যদের পরামর্শ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছি, সেই গুপ্তদলের নেতারা আমাদের অনেক নসিহত করছেন—কী করব, কী করব না। আজ এখানে হাজার লক্ষ মানুষের সামনে আমি তাদের বলতে চাই, দয়া করে আগে নিজের ঘরের দিকে তাকান। নিজের ঘরের মানুষ কীভাবে নারীদের নির্যাতন ও এসব কাজ করছে, আগে তা সামাল দিন, তারপর অন্যদের কিছু বলতে আসবেন।
যেকোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ‘আজ যেকোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখার সময় এসেছে। নির্বাচনের সময় আমরা দেখেছি, একটি গুপ্তবাহিনী বিভিন্ন টিকিট বিক্রির কথা বলে দেশের মানুষকে কীভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ এই বিভ্রান্তকারীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার সময় এসেছে। দেশের স্বাধীনতার পর থেকে এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা কীভাবে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, আমরা তা দেখেছি। ১৯৮৬ সালে তারা কীভাবে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, আমরা তা দেখেছি। প্রতিটি সময়ে আমরা দেখেছি, এই গুপ্তবাহিনীর লোকজন, এই গুপ্তদল সবসময় দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।’
১৭ দিন আগে
বন্যা নিয়ন্ত্রণে ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
ফেনীতে দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এক হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মুহুরী সেতুর কাছে খেয়াঘাট এলাকায় দুপুর ২টা ১৮ মিনিটের দিকে তিনি প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও দুটি বৃক্ষ রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেনীতে এটি তার প্রথম সরকারি সফর। দিনব্যাপী সফরে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে তার সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সফরের শুরুতে পরশুরামে মুহুরী ও কহুয়া নদীকেন্দ্রিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নেওয়া বড় এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, কৃষি ও সেচসুবিধার উন্নতি হবে এবং নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সহায়ক হবে।
১৭ দিন আগে
ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ফেনীতে সফর করছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে তিনি ফেনীতে পৌঁছান। এরপর তিনি পরশুরামের মুহুরী সেতুর কাছে খেয়াঘাট এলাকায় নির্ধারিত প্রথম কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফর নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে তার গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হয়। ফেনীতে দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নানা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। ফেনী-১ আসনটিও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নির্বাচনী এলাকা। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি এই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে আসনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি
দুপুর প্রথমে পরশুরাম উপজেলার মুহুরী সেতুর কাছে খেয়াঘাট এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এরপর তিনি ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্থাপিত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধনও করবেন তিনি।
এছাড়া ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর মাঝে ফুলগাজী ডাকবাংলোয় জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজ করবেন তিনি।
এর আগে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তারেক রহমান ফেনী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন।
১৭ দিন আগে
ফেনীর পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো ফেনীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ফেনী যাচ্ছেন। গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে রাজধানী অতিক্রম করছে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর।’
ফেনীতে দিনব্যাপী নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ফিরবেন বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা এস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। এছাড়া ফেনী-১ আসনে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে বার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এসব কারণে আসনটি এই এলাকার মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি
দুপুর সাড়ে ১২টায় পশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী সেতু এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের উদ্বোধন, দেড়টায় ফুলগাজী বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, দুপুর ২টায় ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবারহ কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মের ব্যক্তিদের সন্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন প্রধানমন্ত্রী।
দুপুরে ফুলগাজী ডাক বাংলোতে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যহ্নভোজ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেনীতে তারেক রহমানের এটি প্রথম সফর। এর আগে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ফেনীর পাইলট স্কুল মাঠে এক নির্বাচনি জনসমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান।
১৭ দিন আগে
ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১ অক্টোবর ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরটি এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল। পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি দেখতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ফেনী পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ সময় তিনি পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট, মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা ও প্রস্তাবিত জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে যাবেন এবং খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণসহ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এছাড়া পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলোতে স্থাপিত মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেলেরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় বিশ্রাম ও নামাজ আদায় করবেন।
বেলা ৩টা থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তিনটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা, কৃষক কার্ড এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
সেই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানস্থলগুলোকে তিনটি জোন—রেড, ইয়োলো ও হোয়াইটে ভাগ করা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের আগে গতকাল (রবিবার) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম।
ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসএসএফের পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তাব্যবস্থায় নিয়োজিত থাকবেন। তবে মোট কতজন সদস্য মোতায়েন করা হবে, তা জানাতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, রেড জোনে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তা কার্ড দেওয়া হবে। ইয়েলো জোনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কার্ডধারীরাই কেবল সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরের এলাকাকে হোয়াইট জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। সেখানে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে পরশুরাম যাবেন। তবে তার ফেরার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল তৈরির প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে। অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলে পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপন এবং অন্যান্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজও চলছে।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কারকাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এছাড়া পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের জনসভাস্থলের আশপাশেও প্রয়োজনীয় মেরামত ও প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হচ্ছে। ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, সরকার বন্যা ও নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান, ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং জেলার যোগাযোগ ও অবকাঠামোর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
২০ দিন আগে
ফেনী সীমান্তে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ
ফেনীর ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবির) ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করছে বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া সীমান্ত এলাকায় চালানো বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়।
জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি। এসব মালামাল পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের বিস্তার ও অনুপ্রবেশ রোধ, সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বদা সজাগ, সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
২৫ দিন আগে
নুসরাত হত্যা মামলা: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন
ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দশ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।
খালাস প্রাপ্তরা হলেন: সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।
আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
আসামিরা হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।
অন্যদিকে, মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নুসরাতের বাড়িতে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
গতকাল (রবিবার) বিকেলে পরিবারের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ নুসরাতের বাড়িতে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে আজও আমি পাগলের বেশে আছি। নিম্ন আদালতে বিচার চেয়ে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এখনও আমার ৩ ছেলেকে নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় আছি। পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। বর্তমান সরকারের কাছেও প্রত্যাশা ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে সহযোগিতা এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আশা করি, উচ্চ আদালতেও আমারা ন্যায় বিচার পাবো।’
নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মো. নোমান বলেন, বাড়িতে আমার মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আছেন। বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করায় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা ন্যায় বিচার কামনা করছি।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. আবুল হাসিম বলেন, ‘২০১৯ সালে নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর থেকেই তাদের বাড়িতে পরিবারের নিরাপত্তায় প্রতিদিন পুলিশের একটি দল নিয়োজিত ছিল। হাইকোর্টের রায়কে ঘিরে আরও বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে, ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার সব নথি হাইকোর্টে পৌঁছে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক (সব নথি) ছাপানোর কাজ শেষ করা হয়। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এছাড়া আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেছেন।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, একই বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন তার মা শিরীন আক্তার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তার অনুগত কয়েকজন ক্যাডার জনমত গঠন করে অধ্যক্ষ সিরাজকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে।
৩ এপ্রিল খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। পরে ৪ এপ্রিল মাদরাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় গেলে পরিকল্পিতভাবে তাকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
এরপর ঘটনাস্থল থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।
এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ওই বছরের ৮ এপ্রিল মামলা করেন। মামলায় ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০ জুন অভিযোগ গঠন করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ফেনী। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত রায়ের জন্য ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। মামলাটিতে মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়।
৫৫ দিন আগে
কুমিল্লা বোর্ডে শীর্ষে ফেনী, পাসের হার ৭২.৬২ শতাংশ
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষ স্থান দখল করেছে ফেনী জেলা। প্রকাশিত ফলাফলে ফেনী জেলা এবার সবেচেয়ে ভালো করেছে। সেখানে পাসের হার ৭২ দশমিক ৬২ শতাংশ, আর কুমিল্লা বোর্ডে পাসের সার্বিক পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২।
ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ফেনী জেলা পর্যায়ে শীর্ষ স্থানে থাকা শতভাগ পাসের এ প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা বোর্ডে সেরার তালিকায় এবারও স্থান করে নিয়েছে।
কুমিল্লার শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল বিবরণীতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ফেনীর ১৮৯টি কলেজ থেকে ২১টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ১৪ হাজার ৯০০ জন অংশ নেয়। তার মধ্যে ১০ হাজার ৮২১ জন কৃতকার্য এবং ৪ হাজার ৭৯ জন অকৃতকার্য হয়। জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৩৯ জন। পাসের হার ৭২ দশমিক ৬২ ভাগ।
এদিকে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৬টি জেলায় পাসের হারে প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাসের হার ৭২ দশমিক ৬২ পেয়ে বোর্ড পর্যায়ে শীর্ষে রয়েছে ফেনী। বাকি জেলাগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পাসের হার ৭১ দশমিক ৫০, কুমিল্লা জেলায় পাসের হার ৬৪ দশমিক ৭৮, লক্ষীপুর জেলায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৯১, চাঁদপুর জেলায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৩। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হারে সর্বনিম্ন নোয়াখালীতে ৫৯ দশমিক ৯৮ ভাগ।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এস এম ফয়সল পিএসসি জানান, চমৎকার এই ফলাফলের পেছনে সেনাসদরের সঠিক নির্দেশনা, কলেজ প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগ, অনুষদ সদস্যদের আন্তরিক পাঠদান ও প্রেরণা এবং ক্যাডেটদের অবিরাম অধ্যবসায় প্রধান কারণ।
অধ্যক্ষ আরও জানান, ক্যাডেট কলেজে অনুসরণকৃত শৃঙ্খলা, কঠোর অনুশাসন ও যুগোপযোগী শিক্ষাদান পদ্ধতির ফলেই ক্যাডেটরা প্রতি বছর একাডেমিকে দৃষ্টান্তমূলক ফল করে আসছে। নিয়মানুবর্তিতা ও অধ্যবসায় থাকলে অল্প সময়ের পাঠপরিক্রমাতেও বড় অর্জন সম্ভব, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেটিই প্রমাণ করে আসছে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, কুমিল্লা বোর্ডে ফেনীর শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে। বিষয়টি অবশ্যই ফেনীবাসীর জন্য সুখবর এবং আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা চাই এসব শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত জীবনেও ফেনীবাসীর জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনবে। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধ জীবন কামনা করছি।
৬৯ দিন আগে
ফেনী ও মহেশপুর সীমান্তে ১৩ ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি
ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত দিয়ে ৭ জন ও ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জন ভারতীয় নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর) চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফেনী ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের শ্রীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ২১৪৫-এর নিকটবর্তী দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, ভারতের ৪৩ রাজনগর বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল ৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়।
পরবর্তীতে বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের নিয়ে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যান। এ সময় কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
বিজিবি জানায়, প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তারা সবাই ভারতীয় নাগরিক। তাদের মধ্যে ৬ জন নারী ও একজন ছেলে শিশু রয়েছে।
ফেনী ৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ, পুশইন কিংবা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, পুশইন প্রতিরোধ এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশের অর্থনীতি রক্ষায় যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে ৪ বিজিবির আভিযানিক কর্মকাণ্ড ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দায়িত্ব পালন করছে।
অপরদিকে, আজ (শনিবার) ভোর ৫টার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সামন্তা বিওপির (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পুশইনের এ ঘটনা ঘটে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
৫৮ বিজিবি সূত্র জানায়, আজ ভোরে সীমান্ত পিলার ৫৫/এমপি-সংলগ্ন ফটকটি ব্যবহার করে ভারতের ৫৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সিঙ্গামোড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ৪ জন পুরুষ ও ২ জন নারীসহ মোট ৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে জোরপূর্বক অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালান।
তবে সীমান্তে দায়িত্বরত সামন্তা বিওপির বিজিবি টহল দল বিএসএফের এই অনৈতিক তৎপরতা সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করে। ভারতীয় বাহিনীর উপস্থিতি ও তাদের মনোভাব বুঝতে পেরে বিজিবি সদস্যরা কালবিলম্ব না করে সীমান্তের শূন্যরেখায় শক্ত অবস্থান নেন এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে সরাসরি বাধা প্রদান করেন। বিজিবির এমন অনড় ও কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ তাদের পুশইনের চেষ্টা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
বিজিবি জানায়, বিজিবির শক্ত প্রতিরোধের কারণে অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ওই ৬ জন ব্যক্তি বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ৩০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, ‘সামন্তা বিওপির টহল দলের সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা গেছে। বিএসএফের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপের বিষয়টি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং কড়া প্রতিবাদ করা হয়েছে।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অবৈধ পুশইন ও সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
৮৫ দিন আগে