ফেনী
পরিবেশ খাতে লুটপাট আগে যা হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, পরিবেশ খাতে লুটপাট আগে যাই হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না। লুটপাট যাই হয়েছে এতে কাউকে না কাউকে দায়ী করা হবে।
রবিবার (৮ মার্চ) ফেনী সার্কিট হাউজে ‘গার্ড অব অনার’ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী হওয়ার পর নিজ জেলা ফেনী ও সংসদীয় আসনে এটিই তার প্রথম সরকারি সফর।
এ সময় পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের দূষণ লেভেল পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ। যেভাবেই হোক আমাদের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। আগের কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। দূষণ কমানো আমাদের জাতিগত দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মাটি পোড়ানো ইটের জায়গায় পরিবেশবান্ধব ইটে রূপান্তর করা এক-দুই বছরে সম্ভব নয়, এটি সময়সাপেক্ষ। তবে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটে যেতেই হবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের জনগণ যে পরিণতির শিকার, তাদের সেই পরিণতি থেকে কিছুটা লাঘব করাই হবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাজ।
জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটা বিরাট ব্যাপার। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে পরিণতির শিকার হতে হয়, তা থেকে আমরা আরেকটু উন্নত করার জন্য বনায়ন করা দরকার; সেটাই আমরা দ্রুত করব। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে সমস্ত কিছু জড়িত, যেমন: নদী ভাঙন ও পরিবেশ দূষণের ব্যাপার আছে, এগুলো কিন্তু জলবায়ুর সঙ্গে জড়িত। আমাদের অগ্রাধিকার হবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের দেশের জনগণ যে পরিণতির শিকার হচ্ছে, তাদের সেই পরিণতি থেকে কিছুটা লাঘব করা।
তিনি আরও বলেন, বনায়নের মাধ্যমে দূষণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তবে সমস্যা হলো আমাদের দেশের কাঠামোর একটু অভাব আছে। যেমন: ডার্বেজ, ময়লা আবর্জনা—এগুলো সরানো পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের কাজ নয়, কিন্তু এটার ফলে যে দূষণ হয় সেটার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় দায়ী। তাই এখন দূষণের বিষয়টি একটি কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। আমরা শুধু ঢাকা শহরকে এই কাঠামোর আওতায় রাখব, তা কিন্তু না; দেশের ছোট ছোট শহরগুলোতেও যেন এ সমস্যার সমাধান হয় সেদিকেও নজর রাখা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মুনিরা হক, পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. নবী নেওয়াজ, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবাশ্বের হোসেন মো. রাজিব, ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিকসহ অন্যান্যরা।
১ দিন আগে
ইরাকে যুবকের মৃত্যু, ভেঙে গেল পরিবারের দশ লাখ টাকার স্বপ্ন
ফেনী সদর উপজেলার মেহেদি হাসান নাহিদ (২১) নামের এক যুবকের ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের আরবিল শহরে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দু্জন মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় নাহিদ ৫ মাস আগে পাড়ি জমান ইরাক। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তার পরিবার। ১০ লাখ টাকা ঋণ করে তার বাবার মাধ্যমে নাহিদকে প্রবাসে পাঠানো হয়েছিল।
বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত নাহিদ উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের দেবীপুর বিসিক শিল্পনগরী-সংলগ্ন মৃধা বাড়ির মোহাম্মদ মাহবুবুল হকের ছেলে। বাবা-মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে নাহিদ ছোট ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাহবুবুল হক ৮ বছর ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কর্মরত। গত বছরের অক্টোবর মাসে বাবার হাত ধরে কাজের সন্ধানে সেখানে যান নাহিদ। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইফতারের পরে নাহিদ ও তার সঙ্গে থাকা আরও দুই বাংলাদেশি একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেদিন রাতে নাহিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোহাম্মদ তারেক (৪৫) ও তার ছেলে মো. সাব্বিরসহ (২২) তিনজন হাসপাতাল থেকে বাসায় গিয়ে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে বাসায় গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাহিদের চাচা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে ১০ লাখ টাকা ঋণ করে তার বাবার মাধ্যমে নাহিদকে প্রবাসে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে সকলে শোকে স্তব্ধ। ছেলে হিসেবেও নাহিদ অনেক নম্র-ভদ্র ছিল। তার পরিবার আর্থিকভাবে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি তাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে অনেক বেশি উপকৃত হবে বলে জানান তিনি।
নাহিদের মা হোসনে আরা বলেন, শেষবারের মতো আমার সন্তানের মুখ দেখতে চাই। তাকে দেশে আনার বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। অর্থনৈতিকভাবে আমার পরিবার একদম শেষ হয়ে গেছে। আমি সকলের সহযোগিতা চাই।
এ ব্যাপারে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি এখনও অবগত নই। পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের জানানো হয়নি। অবগত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।
২ দিন আগে
ট্রাকচাপায় ছেলে মর্গে, মৃত্যুশয্যায় বাবা
ফেনীতে সেহরি খেয়ে মসজিদে যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাবা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দাগনভূঞায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে সেহরি খাওয়ার পর মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেটে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মোল্লাবাড়ি গ্রামের নুর আলম (৫৫) ও তার ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৪)। এ সময় তারা চৌধুরী বাড়ির সামনে পৌঁছালে একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নুর মোহাম্মদ নিহত হন।
অপরদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় নুর আলমকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৬ দিন আগে
পরকীয়া নিয়ে বিরোধের জেরে ফেনীতে তাঁতিদল নেতা খুন
ফেনীর সোনাগাজীতে পরকীয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে আইয়ুব নবী তারেক (২৬) নামে এক তাঁতিদল নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুণক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আইয়ুব নবী তারেক বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতিদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গুণক গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের পিতা কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, একই বাড়ির ওহিদুর রহমানের স্ত্রী নারু (নাহার) আগের একটি বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে তারেককে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওহিদুর রহমানের ছেলে নাহিদ, সাঈদ, নিলয় ও স্ত্রী নারু দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে তারেকের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই আমার ছেলে মারা যাওয়ার পরও ওহিদুর রহমান তাকে ডাকাত বলে আখ্যা দিয়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। আমি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত তারেক ও ওহিদুর রহমানের ছেলে নাহিদের স্ত্রীর মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এলাকাবাসীর ধারণা, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
একই বাড়ির আবদুল গফুর জানান, কিছুদিন আগে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল হক চৌধুরীর কাছে নাহিদ অভিযোগ করেছিলেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে তারেকের পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বলেছিলেন নাহিদ।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, নিহত তারেকের বিরুদ্ধে একটি পরোয়ানা ছিল। তবে এটি কোন রাজনৈতিক হত্যা নয়। পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
১১ দিন আগে
প্রাণ ফিরে পেল দাগনভূঞার দাদনার খাল
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে পানি প্রবাহহীন হয়ে পড়া দাগনভূঞার দাদনার খাল অবশেষে দখল ও দূষণমুক্ত হয়ে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সম্প্রতি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে খালটিতে আবারও স্বচ্ছ পানির প্রবাহ দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ময়লার স্তুপ জমে থাকায় খালটির পানি চলাচল বন্ধ ছিল। সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল খালের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখল করে নেয়। চলতি বছরে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন খালটি দখলমুক্ত করলেও ময়লার স্তূপের কারণে সেটি কার্যত ‘মৃত’ অবস্থায় পড়ে ছিল।
নির্বাচনের আগে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাজওয়ার এম আউয়াল খালটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন এবং ‘ফুটস্টেপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করেন কাজটি করার জন্য। প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করলেও নির্বাচনি আচরণবিধির কারণে উপজেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে কাজ স্থগিত করে। সে সময় তাজওয়ার আউয়াল নির্বাচনের পর খালটি পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ফুটস্টেপ টিম টানা পাঁচ দিনের পরিশ্রমে ময়লা অপসারণ করে খালটিকে পরিষ্কার করে। ফলে দখল ও দূষণে ভরাট হয়ে থাকা দাদনার খালে আবারও স্বচ্ছ পানির প্রবাহ শুরু হয়েছে।
দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী ও পৌর এলাকার বাসিন্দা আজমুল হক সুমন এ খাল পরিষ্কার করায় তাজওয়ার আউয়ালকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ খাল ভরাট থাকার কারণে বর্ষাকালে দাগনভূঞা পৌর এলাকায় পানি জমাট বেঁধে থাকত। বাজারের পানি নিষ্কাশনেও দীর্ঘ সময় লাগত। যার কারণে পৌর এলাকার বাসিন্দা ও বিশেষ করে ফাজিলেরঘাট রোডের ব্যবসায়ীরা পানিবন্দি থাকতে হতো দীর্ঘ সময় ধরে। এ খাল পরিষ্কারের ফলে আমরা এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাব। আশা করি, এ খাল যেভাবে তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে, তা আর কখনও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হবেনা এবং দখল হবেনা—সেদিকে মন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টি থাকবে।
দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন লিটন বলেন, বাজার ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবী ছিল দাদনার খাল দখল ও দূষণমুক্ত করা। উপজেলা প্রশাসন দখলমুক্ত করলেও খালটি মৃত অবস্থায় ছিল। আর এ মৃত খালকে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ায় তাজওয়ার এম আউয়ালকে দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী ও পৌরবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। একইসঙ্গে আমাদের দাবী থাকবে, ভবিষ্যতে কোনো প্রভাবশালী মহল যেন এ খাল দখল করতে না পারে, খাল পরিষ্কারের কাজ যেন চলমান থাকে। এছাড়া আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আরও একটা দাবী জানাচ্ছি যে, এ খালকে যেন পুরোপুরি সংস্কার করে একটি সুন্দর লেক ও খালেরপাড়ে ওয়াকওয়ে করে দেন।
খাল পরিষ্কার প্রসঙ্গে তাজওয়ার এম আউয়াল বলেন, আমি যখন দাগনভূঞা বাজার যাই তখন ময়লাভর্তি খালটি আমার নজরে আসে। তখন সঙ্গে সঙ্গে আমি রাজধানীর ফুটস্টেপ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে ফোনে অনুরোধ করি খালটি পরিষ্কারের জন্য। তারা আমার অনুরোধে খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে হওয়ায় সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আচরণবিধি সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে কাজ স্থগিত রাখতে বলেন। কাজ বন্ধ হওয়ায় সবাই হতাশ হয়ে পড়ে। তখন আমি বলেছিলাম, নির্বাচনের পরেই আমরা খালটি পরিষ্কার করে দেব। সে অনুযায়ী খাল পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন করি। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কাজ অব্যাহত থাকবে।
১৩ দিন আগে
ফেনীর তিনটি আসনেই ধানের শীষের বিজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর ৩টি আসনেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল সংখ্যক ভোটে জয়লাভ করেছেন। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফেনীর ৩টি আসনের ফলাফল অনুযায়ী, ফেনী-১ আসনে রফিকুল ইসলাম মজনু, ফেনী-২ আসনে অধ্যাপক জয়নাল আবদীন (ভিপি জয়নাল) ও ফেনী-৩ আসনে আবদুল আউয়াল মিন্টু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফেনী-১ (ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনে মোট ১২১টি ভোটকেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী মুন্সি রফিকুল আলম মজনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৭১৫ ভোট। এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৯টি এবং ‘না’ ভোট ৬০ হাজার ৪৫৮টি।
ফেনী-১ আসন থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার মৃত্যুর পর এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মুন্সী রফিকুল আলম মজনুকে।
ফেনী-২ (ফেনী সদর) আসনে ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৩২টি, আর ‘না’ ভোট দিয়েছেন ৭২ হাজার ৫৩৩ জন।
ফেনী-২ আসন থেকে ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জয়নাল আবদিন ভিপি। তিনি প্রথমবার জাসদ থেকে এবং বিএনপি থেকে ২ বার এমপি নির্বাচিত হন।
ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে ১৬১টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট পেয়েছেন। এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৩২১ জন, আর ‘না’ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ১৪টি।
ফেনী-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু। এর আগে এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাহবুবুল আলম তারা মিয়া ২ বার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফেনীর ৩টি আসনে মোট ভোটার ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬৭ জন, নারী ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন। জেলায় ৪২৮টি ভোটকেন্দ্র ও ২ হাজার ৪৩৯টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গড়ে ৫৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে।
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ফেনী-১ আসনে ৭ জন, ফেনী-২ আসনে ১১ জন ও ফেনী-৩ আসনে ৮ জন প্রার্থী ছিলেন।
মনিরা হক বলেন, ‘ফেনীর তিনটি আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচনে যারা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবার সহযোগিতায় এ ধরনের একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন শেষ করা সম্ভব হয়েছে।’
২৪ দিন আগে
ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ বিবি জহুরা (৩২) নামে এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জনতার তোপের মুখে পড়ে পালিয়ে যায় স্বামী ইসমাইল হোসেন কাওসার।
কাওসার ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন কাওসারকে মারধর করে আটক রাখেন। স্ত্রীকে দেওয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নিবে এমন কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি। এ ঘটনার পর বিবি জহুরাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, ৩ সন্তান নিয়ে জহুরা পড়েছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝে।
তারা জানান, গতকাল (বুধবার) বিকেলে জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য বলেন তার স্বামী। কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জহুরা প্রথমবার ভোটার হওয়ায় উৎসাহের সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। তখন কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোট দিয়ে বেলা ১১টার দিকে ঘরে ফিরে স্বামীসহ সবার জন্য নাস্তা বানান তিনি। কাওসার ঘুম থেকে উঠে নাস্তা খেয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করে দুপুরে ভাত খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়েন সেচ্ছাসেবক লীগের এ নেতা।
বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তায় গিয়ে জানতে পারেন জহুরা ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। এ খবর কাওসার শুনে মাগরিবের সময় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন ভোটের বিষয়ে। জহুরা তার জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার কথা জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে জহুরাকে মৌখিক তিন তালাক দেন তিনি। এ সময় স্ত্রীকে তার ঘরে যেতে বারণ করেন। আশপাশের লোকজন এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে কাওসারকে আটক করে মারধর দিয়ে আটক করে রাখেন। একপর্যায়ে জনসমাগম বাড়তে থাকলে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে কাওসার কৌশলে পালিয়ে যান।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কাওসার। তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮), ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় নুরুল আফছার নামে এক ব্যক্তি জানান, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে সবসময় মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিকভাবে বিচারও হয়েছে তার।
আলী আহম্মদ নামে আরেকজন জানান, শ্বশুরকেও কয়েকবার মারধর করেন কাওসার।
মোহাম্মদ আজাদ নামে স্থানীয় এক সালিশদার জানান, কয়েকবার বিচারে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
কাওসার উগ্র মেজাজের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে তিনি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করতেন। পিতার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটা ঘরে আবদ্ধ থাকতেন বলে জানান মোহাম্মদ আজাদ।
২৫ দিন আগে
ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রবেশের দায়ে ফেনীতে বিএনপি-জামায়াতের ১৬ কর্মী আটক
জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের দায়ে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ১৬ জন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার দক্ষিণ সতর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
তাদের মধ্যে ১৩ জনকে ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ ফারহানা পৃথা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৩ জনের প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে মোট ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। বাকি তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যার দিকে বিএনপি ও জামায়াতের ১৬ জন নেতা-কর্মী জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিক তাদের আটক করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা পৃথা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শহীদ উল্লাহ। এ সময় বেআইনিভাবে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অভিযোগে ১৩ জনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আটকদের মধ্যে বিএনপির ৭ জন ও জামায়াতে ইসলামীর ৯ জন রয়েছেন। তবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
সৈয়দ ফারহানা পৃথা বলেন, ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশের দায়ে প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে মোট ১৩ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। অন্য তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
২৫ দিন আগে
ফেনীতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে প্রার্থীর অনশন
ফেনী-২ আসনে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার দাবিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ প্রতীকের প্রার্থী তারেকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি দলীয় কর্মীদের নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অনশনে বসেন। এতে কয়েকজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের গাড়ি ফটকে আটকে গেলে তারা বিকল্প সড়কে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
অনশন চলাকালে তারেকুল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ফেনী-২ আসনে নির্বাচনি আচরণবিধি চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, অথচ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সদর এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন এবং নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন, কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বরং নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে বিলবোর্ড ও রঙিন প্রচারণায় একতরফাভাবে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তারেকুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৮ ঘণ্টার মধ্যে জসিম উদ্দিনকে প্রত্যাহার না করা হলে তিনি আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
৩২ দিন আগে
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা জনগণের কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই। অতীতের বস্তাপঁচা, দুর্নীতিযুক্ত ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করে রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে— এই নীতির পরিবর্তন। যোগ্য ব্যক্তির যথাযথ মূল্যয়ন করে যোগ্যতা ও মেধা বিকাশের মাধ্যমে রিকশা চালকের ছেলেও যেন প্রধানমন্ত্রী হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘অতীতের বস্তাপঁচা রাজনীতি ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে এবং দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।’
এ সময় বিএনপির উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাথা গরম না করে মা-বোন ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করতে হবে। শহিদ হাদি, আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ আমাদের চেতনা। বীরেরা পালায় না, তারা সাহসিকতার সাথে বুক পেতে দেয়। আমরা বেকার ভাতা নয়, বেকারদের কর্মসংস্থানসহ মর্যাদা দিতে চাই। ঘরে ও কর্মস্থলে নারীদের সম্মান দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আলেম-ওলামা ও কওমী মাদ্রাসার সম্মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে মানুষের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আমলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিগত ১৬ বছরে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, জামায়াত-বিএনপি নেতা-কর্মীদের হত্যা, আলেম-ওলামা হত্যাসহ অপশাসন কায়েম করেছিল। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে এই অপশাসনের হাত থেকে দেশবাসী মুক্তি পেয়েছে। ফেনীতে সংঘটিত স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আমি এসেছিলাম দুর্গত মানুষকে সহযোগিতা করে মানবিক কাজে পাশে দাঁড়াতে। আবরার ফাহাদ ফেনী নদী নিয়ে দুটি কথা বলায় তাকে খুন করা হয়েছিল। তাই ফেনীবাসী তাকে আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখতে হবে।’
জামায়াত আমির বলেন, ফেনীসহ ৩১টি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ করা হবে এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু, ফেনী নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ, অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামসহ নানা উন্নয়ন কাজ করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে ফেনীর তিনটি আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের মিলেমিশে একাকার হয়ে বিজয়ী করতে হবে।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রধান।
ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ফেনী-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ, ফেনী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এ কে এম সামছুদ্দিন, শহর জামায়াতের আমির প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের ফেনী শহর সভাপতি ওমর ফারুক ও জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল প্রমুখ।
প্রধান অতিথি জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফেনীর তিনটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন।
এ সময় জামায়াত-শিবির ও ১১ দলীয় জোটের জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও জুলাইযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের লোকজনসহ দলটির হাজার হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
৩৮ দিন আগে