দাবানল
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার দাবানল
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার, শত শত দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির পূর্ব জাভার জনপ্রিয় ব্রোমো টেংগার সেমেরু জাতীয় উদ্যান থেকে শুরু করে সুমাত্রার বিস্তীর্ণ ভূমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৯ আগস্ট) ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়া ও এল নিনিয়োর (প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা) কারণে হওয়ায় দেশটির সর্বোচ্চ শুষ্ক মৌসুমে বন ও ভূমিতে আগুন লাগার ঝুঁকি বেড়েছে।
পূর্ব জাভার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ব জাভা প্রদেশের ব্রোমো টেংগার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় আগুন লেগেছে। প্রদেশটির প্রায় ৭৪৩ হেক্টর (১ হাজার ৮৩৬ একর) এলাকা পুড়ে গেছে।
দেশটির বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুনে শুকনো তৃণভূমি, গাছপালা ও সংরক্ষিত এডেলভেইস ফুলের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় স্থান মাউন্ট ব্রোমোর দর্শনীয় স্থান পেনানজাকান এলাকাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত বা কাউকে সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পূর্ব জাভা অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী, সেনাসদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, পার্কের রেঞ্জার ও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ জাতীয় উদ্যানটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার পর্যন্ত দুর্গম এলাকায় আগুন নেভাতে অন্তত ৩টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব হেলিকপ্টার দিয়ে আগুনের উৎসগুলোতে পানি ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলভাগে কর্মীরা আগুন নেভানো, ঠান্ডা করা, টহল ও আগুনের বিস্তার ঠেকাতে ফায়ারব্রেক তৈরির কাজ করছেন।
রবিবার জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনের সময় দেশটির বনমন্ত্রী রাজা জুলাই আন্তোনি বলেন, ‘বন ও ভূমিতে আগুনের পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং এর ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ সময় যেসব মানবসৃষ্ট কারণে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যেমন: সিগারেটের অবশিষ্টাংশ না নিভিয়েই ফেলে দেওয়া ও জমি পরিষ্কারের জন্য আগুন লাগানো। এমন বিধ্বংসী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণকে সতর্ক করেছেন মন্ত্রী।
অস্বাভাবিক শুষ্ক এই মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ার আরও কয়েকটি এলাকায় দাবানলের খবর পাওয়া গেছে।
দাবানলে সুমাত্রা দ্বীপের জাম্বি প্রদেশে ৫০ হেক্টরের (১২৪ একর) বেশি পিটভূমি (শুষ্ক স্যাওলাসমৃদ্ধ জলাভূমি) পুড়ে গেছে। এতে কিছু এলাকায় তীব্র ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে এবং বায়ুর মান আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মুয়ারো জাম্বি জেলার সুংগাই গেলাম গ্রামে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মালিকানাধীন কয়েক হেক্টর পাম বাগান পুড়ে গেছে। গত সপ্তাহের বুধবার থেকে সেখানে আগুন জ্বলছে।
দেশটিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৩০০ দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পিটভূমির গভীরতা, পানির সীমিত সরবরাহ, দুর্গম এলাকা ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে। এসব কারণে তিনটি হেলিকপ্টার আকাশপথে আগুন নেভানোর কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেরে বাইরে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-ভৌত সংস্থা জানিয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দাবানল সংঘটনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাস হতে পারে। এ সময়ে শুকনো গাছপালা ও প্রবল বাতাস আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে প্রায়ই বনভূমিতে দাবানলের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও জমি পরিষ্কার করতে বাগান মালিক ও স্থানীয় কৃষকেরা অনেক সময় অবৈধভাবে আগুন লাগিয়ে দেন। এসব কর্মকাণ্ডে আগুনের ধোঁয়া মাঝেমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপজ্জনক ধোঁয়াশা তৈরি করে।
৬ দিন আগে
দাবানলের কারণে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে ও অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি সামলাতে ওকানাগান লেকের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি জরুরি অবস্থা জারি করেন।
শনিবার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি জায়গায় দাবানল জ্বলছিল। এ সময় দাবানলের প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। প্রচণ্ড গরম, ঝোড়ো বাতাস ও দীর্ঘদিনের খরার কারণে এলাকাগুলোতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ দুর্যোগে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাসের শহর সামারল্যান্ড এলাকা থেকে এক রাতেই সকল বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাছের শহর পিচল্যান্ড ও এর আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি বলেন, ‘আগুনের কারণে কয়েকজন বাসিন্দা আটকা পড়েছিলেন। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। দাবানল ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোতে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আজ অনেক পরিবার কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আপনাদের মধ্যে অনেকেই এখনও নিঁখোজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় আছেন।’
এদিকে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ক্লিফ চ্যাপম্যান বলেন, ‘আগুনের কারণে যারা সড়কপথে বের হতে পারছিলেন না, তাদের দমকলকর্মীরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুন মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম ব্যাল্ড রেঞ্জ এলাকায় আগুনের খবর পাওয়া যায়। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছোট্ট ফাউল্ডার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরের সামারল্যান্ড পর্যন্তও খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ক্লিফ চ্যাপম্যান ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল পরিস্থিতিকে ‘বিস্ফোরণাত্মক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামারল্যান্ডের মতো দাবানল পরিস্থিতির মুখে অন্য এলাকাগুলোও পড়তে পারে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী কেলি গ্রিন বলেন, জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে সেখানের প্রাদেশিক সরকারকে অতিরিক্ত কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওই এলাকায় ভ্রমণ সীমিত করা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসনের ব্যবস্থা করা।
ওকানাগান-সিমিলকামিন আঞ্চলিক জেলার জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এরিক থমসন বলেন, এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল এর আগে ওই অঞ্চলে দেখা যায়নি।
থমসন বলেন, একপর্যায়ে তিনি তার কর্মস্থান জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র ছেড়ে নিজের পরিবারকে সরিয়ে নিতে বের হন। শনিবার ভোরে গাড়িতে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র ছেড়ে পরিবারকে সরিয়ে নিতে যাচ্ছি। আমরা দক্ষিণ দিকে যাচ্ছি।’ সে সময় সড়কে যানজট তৈরি হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কয়েকটি বাড়িতে আগুন জ্বলছে। দুই পাশের আগুনের মধ্য দিয়েই বাসিন্দারা সড়ক ধরে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন।
অপরদিকে, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির মালিক কেরি গোল্ড ও তার স্বামী মাইক এলসিংগা এলাকা ছেড়ে চলে যান। তারা কাছের একটি পাহাড়ের ওপর আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়েন।
কেরি গোল্ড বলেন, ‘এটি ভয়ংকর পরিস্থিতি। আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ‘
সম্প্রতি এই দম্পতি ভ্যানকুভার শহর থেকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এসেছেন। এখানে দাবানল পরিস্থিতিতে আগে থেকেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলেন। তারা তাদের বিড়ালকে নেওয়ার জন্য একটি ক্যারিয়ার প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। পাশাপাশি তারা তাদের এক শারিরীক প্রতিবন্ধী বন্ধুকে দাবানল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে আগেহ থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন।
এলসিংগা বলেন, ‘আমরা নিজেদের বাড়ি রক্ষা করতে চাই। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা কেউই আগুনের মধ্যেও আটকা পড়তেও চাই না।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এসব দাবানলের কারণে সরকারকে বহু মানুষকে একসঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
৭ দিন আগে
ফ্রান্স-স্পেনে দাবানল, জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মাক্রোঁ
ফ্রান্সে কয়েক দিন ধরে চলা ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ আজ সোমবার একটি জরুরি সংকট বৈঠক ডেকেছেন। দেশটিতে আগুনে বিশাল এলাকা পুড়ে যাওয়ায় আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
একই সময়ে স্পেনেও একাধিক দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ফ্রান্সে সবচেয়ে বড় দাবানলটির বিস্তার এখন কিছুটা ধীর হওয়ায় কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ অঞ্চলে দাবানলে ইতোমধ্যে প্যারিস শহরের আয়তনের চার গুণেরও বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে ভয়াবহ এই আগুন ধীরে ধীরে বিশ্বের বিখ্যাত ওয়াইন উৎপাদন অঞ্চল বোর্দোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
তবে এরই মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গতরাতে দাবানল পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্থিতিশীল ছিল। আগুনের বিস্তার কিছুটা কমে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
দেশুটিতে নতুন করে কোনো এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে আগস্ট মাসে ফ্রান্সে পর্যটনের সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুম শুরু হয়। সেটি মাথায় রেখে জিরন্দ কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের ওই এলাকা থেকে দূরে রাখতে আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিচালিত সকল ছুটির ক্যাম্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, ফ্রান্সে আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থল ও আকাশ—দুই দিক থেকেই ব্যাপক অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চলছে। এমনকি, পানি ও অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিক বহনকারী বিমান আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে, এমন পূর্বাভাস রয়েছে। তাই আগে থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন।
২০ দিন আগে
ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, ১৭ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি দাবানল শহরতলির দিকে অগ্রসর হওয়ায় সেখানকার বাড়িঘরসহ জনজীবন হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। এ দুর্যোগের কারণে ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) বায়ুচালিত স্যান্ডি ফায়ার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে সিমি ভ্যালির উপরের পাহাড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়।
ভেন্টুরা কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ মে) সকালের মধ্যে এটি দুই বর্গমাইলেরও (৫ বর্গকিলোমিটার) বেশি শুকনো ঝোপঝাড় পুড়িয়ে ফেলেছে এবং কমপক্ষে একটি বাড়ি ধ্বংস করেছে।
বিভাগের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু ডাউড জানান, আগুন প্রথমে ঘণ্টায় ৩০ মাইল (৪৮ কিলোমিটার) ছাড়িয়ে যাওয়া দমকা হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু রাতভর বাতাস শান্ত হওয়ায় দমকলকর্মীরা সহায়তা পেয়েছেন।
উড বলেন, ‘আবহাওয়ার উন্নত পরিস্থিতিতে আমরা এই আগুনের বিরুদ্ধে অনেক অগ্রগতি করেছি। বাতাস আবার বাড়ার আগেই আরও অগ্রগতি করার আশা করছে দলগুলো।’
আগুন ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কী কারণে আগুন লাগল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি জনসংখ্যার শহর সিমি ভ্যালির বেশ কয়েকটি পাড়া থেকে মানুষজন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ও সতর্কতা এখনও বহাল রয়েছে। বিমান থেকে পানি ফেলার মধ্যে শহরটি ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে।
অন্যদিকে, দমকলকর্মীরা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের সান্তা রোজা দ্বীপে ২৩ বর্গমাইল বিস্তৃত একটি দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছেন। সেখানকার আগুনে একটি কেবিন ও একটি সরঞ্জাম শেড ধ্বংস হয়েছে এবং ১১ জন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস কর্মীকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্তও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৮৮ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে ৪০টি বাড়ি ভস্মীভূত, এক ফায়ার ফাইটার নিহত
অস্ট্রেলিয়ার দুই অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ৪০টি বাড়ি পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসে আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কমিশনার ট্রেন্ট কার্টিন জানান, নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের বুলাহডেলা শহরের কাছে রবিবার রাতে একটি দাবানল নেভানোর সময় ৫৯ বছর বয়সী ওই ফায়ার ফাইটারের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। তবে তাকে চিকিৎসা দিয়েও বাঁচানো যায়নি।
রবিবারে লাগা ওই আগুনে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর (৮ হাজার ৬৫০ একর) বনভূমি এবং চারটি বাড়ি পুড়ে গেছে।
কার্টিন বলেন, দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আরও কয়েক দিন কাজ চালিয়ে যেতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২৫১ দিন আগে
সিগারেটের আগুন থেকে দাবানল, পুড়েছে সাইপ্রাসের ১০০ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল
সাইপ্রাসে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলের সূত্রপাত হয়েছিল পাহাড়ি সড়কের ধারে অসাবধানতাবশত ফেলে দেওয়া একটি সিগারেটের আগুন থেকে। দাবানলের কারণ নিয়ে করা এক অনুসন্ধানে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস ব্যুরো (এটিএফ) এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুষ্ক ঝোপঝাড়ে অসাবধানতাবশত ফেলে দেওয়া সিগারেটের আগুনই ছিল হঠাৎ করে শুরু হওয়া এই দাবানলের উৎস।
গত জুলাইয়ে উপকূলীয় লিমাসল শহরের কাছে এই দাবানলে দুজনের মৃত্যু হয়, ৭০০টিরও বেশি স্থাপনা ধ্বংস হয় এবং একশ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে যায়।
এটিএফ জানায়, দাবানলের উৎসস্থল মালিয়া ও আর্সোস গ্রামের সংযোগ সড়কের ধারে মাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বহু সিগারেটের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন, সে সময়ের পরিবেশ ছিল ‘অত্যন্ত দাহ্য’। বাতাসের গতি, শুষ্ক আবহাওয়া ও উচ্চ তাপমাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে সিগারেটসহ যেকোনো জ্বালানি উপকরণ থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, ভিডিও, ছবি ও সাইপ্রাসের ফায়ার সার্ভিসের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, প্রবল বাতাস ও কম আর্দ্রতা আগুন ছড়িয়ে পড়ার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রায় ২৫০ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও ১৪টি বিমান দুদিন ধরে পাহাড়ি এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। সে সময় সরকার জানায়, প্রবল বাতাস, তীব্র গরম ও পরপর তিন শীত মৌসুমে স্বল্প বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল।
সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিদেসের অনুরোধে এটিএফের একটি দল দেশটিতে গিয়ে ১০ দিনব্যাপী তদন্ত চালায়।
অগ্নিকুণ্ড থেকে বাঁচতে গাড়িতে করে পালানোর চেষ্টা করার সময় এক বৃদ্ধ দম্পতি আগুনে পুড়ে মারা যান। তাদের গাড়িটি উদ্ধার করা হয় লিমাসলমুখী এক পাহাড়ি সড়কের ধারে।
এটিএফ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এক গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক তাপদাহ ও বৃষ্টিপাতের ঘাটতি এ বছর তুরস্ক, গ্রিস ও সাইপ্রাসে দাবানলকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ পরিচালিত ওই গবেষণায় বলা হয়, ২০২৫ সাল ছিল ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের বছর। এ বছর আগুনের তীব্রতা ছিল প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। দাবানলের আগুনে এসব দেশে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়, এছাড়া ৮০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ১০ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে যায়।
৩৫২ দিন আগে
দক্ষিণ কোরিয়ায় দাবানলের গ্রাসে প্রাচীন মন্দির, প্রাণহানি ২৬
নজিরবিহীন দাবানলে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রাচীন মন্দিরের বড় অংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া জাতীয় সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করা দুটি ভবন আগুনে ধসে পড়েছে। বুধবার (২৭ মার্চ) দেশটির কর্মকর্তারা এমন তথ্য জানিয়েছেন।
গেল পাঁচদিন ধরে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মুখে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এতে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তিনশতাধিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। ৩৭ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
খ্রিষ্টপূর্ব ৬৮১ অব্দে শিলা রাজবংশের সময় গৌনসা মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কোরীয় উপদ্বীপটির অর্ধেকেরও বেশি সময় শাসন করেছেন তারা। উইসিং শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ডিউনগুন পাহাড়ের পাদদেশে মন্দিরটির অবস্থান।
প্রাচীন আমলে নির্মিত ভবনগুলো যদিও কোনো আবাসিক ভবন না, তবে পরবর্তীতে এখানে কিছু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার আগুনের গ্রাসের মধ্যে পড়ে যায় মন্দিরটি। এতে ৩০টি ভবনের মধ্যে প্রায় ২০টি আগুনে ধসে পড়ে।-খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি)।
হেলিকপ্টার দিয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তীব্র বাতাসে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে দাবানলের লেলিহান শিখা। নিহতের মধ্যে ৪ ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও একজন পাইলটও রয়েছেন।
উইসিয়ং অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে ওই পাইলট প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সিউল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আহতদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান সরকারি কর্মকর্তারা।
তবে নিহতদের ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। নিহতরা বেশিরভাগ ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়স্ক বলে জানান তারা।
আরও পড়ুন: দাবানলে জ্বলছে দক্ষিণ কোরিয়া, নিহত বেড়ে ১৮
৫০৭ দিন আগে
দাবানলে জ্বলছে দক্ষিণ কোরিয়া, নিহত বেড়ে ১৮
ভয়াবহ দাবানলের কোপে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দাবানলের আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি; এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮ জন, এছাড়া আরও অন্তত ১৯ জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৬ মার্চ) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা। নিহতদের মধ্যে ৪ ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি তথ্যমতে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন বলে জানানো হয়েছে। হতাহতের আশঙ্কা এড়াতে প্রায় ২৭ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিউলের কর্মকর্তারা জানান, আগুন নির্বাপণে কাজ করার সময় দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উইসিয়ং অঞ্চল একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। হেলিকপ্টারটি উদ্বারে কাজ চলছে বলে জানায় দক্ষিণ কোরিয়ার বন বিভাগ। হেলিকপ্টারটিতে পাইলট ছাড়া অন্য কোনো সদস্য ছিলেন না বলে ধারণা করছে তারা।
আরও পড়ুন: দাবানল কী ও কেন হয়? পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ানক কয়েকটি দাবানল
৫০৮ দিন আগে
লস অ্যাঞ্জেলেসে ফের দাবানল, ৯৪০০ একর ভূমি আগুনের গ্রাসে
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নতুন করে আবার দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ জানুয়ারি) ৯ হাজার ৪০০ একরেরও বেশি ভূমি গ্রাস করে ফেলেছে আগুন।
জোরালো বাতাস ও শুষ্ক ঝোপ-ঝাড়ের কারণে খুবই দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল। সেখান থেকে ৩১ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় পৌনে ১১টায় লেক হিউজেস রোড থেকে শুরু হয় দাবানল। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই ৫০০ একর এলাকায় সেটি ছড়িয়ে পড়ে।
দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। এরআগেও মহানগর এলাকার দুটি বড় দাবানল তারা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলেন।
আরও পড়ুন: লস অ্যাঞ্জেলেস দাবানলে মৃত্যু বেড়ে ১৬
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বুধবার অল্প কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইয়াটন ফায়ারের দুই-তৃতীয়াংশের আকারের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ছড়িয়েপড়া সবচেয়ে বিধ্বংসী দাবানলের একটি ইয়াটন ফায়ার।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ক্যাসটেইক লেক এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিয়ে কর্মকর্তারা বলেন, তীব্র শুষ্ক ঝোড়ো বাতাসের কারণে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যাপক অগ্নিঝুঁকি রয়েছে। এতে নাগরিকদের জন্য শঙ্কা তৈরি করছে, তারা যাতে অন্য কোথাও চলে যান।
এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে দাবানল এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও ২১ হাজারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, তাদেরও নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া লাগতে পারে।
গেল ৯ মাসে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় কোনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি। এতে পুরো অঞ্চলটিতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শনিবার থেকে সোমবারের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যদি সেটা ঘটে, তাহলে দমকলকর্মীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
আরও পড়ুন: দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেসে ১২ হাজার স্থাপনা বিধ্বস্ত, নিহত ১১
৫৭০ দিন আগে
দাবানল কী ও কেন হয়? পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ানক কয়েকটি দাবানল
লস অ্যাঞ্জেলেসের চলমান দাবানল দুর্যোগের বিধ্বংসী প্রভাব নিয়ে শঙ্কিত করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বকে। গত ৭ জানুয়ারি থেকে প্যালিসেডে শুরু হওয়া এই অগ্নিকাণ্ড বনাঞ্চল ছাড়িয়ে আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। উষ্ণ সান্তা আনা বাতাসের প্রভাবে দীর্ঘদিনের উত্তপ্ত অবস্থা থেকে উৎপত্তি এই দাবানলের। উত্তর আমেরিকার গ্রেট বেসিন নামক বিস্তৃত মরু অঞ্চল থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে ধেয়ে আসে এই গরম বাতাস। এখন পর্যন্ত দাবানলে ২৫ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। দাবানল কি শুধুই প্রাকৃতিক বিপর্যয়? দাবানল সৃষ্টির নেপথ্যের কারণ খুঁজে দেখার পাশাপাশি চলুন, ইতিহাসের সর্বাধিক প্রাণহানী ঘটানো দাবানলগুলো সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক।
দাবানল কি এবং কেন হয়
শুষ্ক বনাঞ্চলে মাত্রাতিরিক্ত উত্তাপের রেশ ধরে সৃষ্ট আগুন গোটা বন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা দাবানল হিসেবে পরিচিত। বনের ভেতরে ঘন ঝোপঝাড় এবং পরস্পর সংস্পর্শে থাকা গাছপালা স্বতঃস্ফূর্ত দহনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এমতাবস্থায় ছোট একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট পুরো বনভূমিকে অঙ্গারে পরিণত করার জন্য। এই অগ্নিস্ফুলিঙ্গের নেপথ্যে প্রাকৃতিক ও মনুষ্য ঘটিত উভয় কারণই থাকতে পারে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্ফুলিঙ্গের সাধারণ প্রাকৃতিক কারণ থাকে বজ্রপাত। মানবসৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যাম্প ফায়ার, সিগারেটের উচ্ছিষ্ট বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি।
দাবানলের ব্যপ্তি কতটা জায়গা জুড়ে হবে তা স্থানটির ভৌগলিক অবস্থান ও আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে। যেমন আশপাশের কোনো স্থান থেকে শুষ্ক ও উত্তপ্ত বাতাসের চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন, ও দীর্ঘস্থায়ী খরা। এসব কারণে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বনসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোকে অধিক শুষ্ক করে রাখে।
আরো পড়ুন: দাবানলে সৃষ্ট বায়ুদূষণে বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু: গবেষণা
উষ্ণ বাতাসের স্থায়ীত্বের সঙ্গে আগুন জ্বলতে থাকার মাত্রা সমানুপাতিক হারে বাড়ে। তাছাড়া ছোট একটি জায়গায় আগুন লাগলে তার আশপাশের পরিবেশ এমনিতেই উত্তপ্ত হতে থাকে। এমন সময় সেখানে থাকা তাপ পরিবাহী বস্তুগুলো আবহাওয়া উষ্ণ রাখার মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। বাকি থাকে শুধু একটি সহায়ক মাধ্যম যার উপর দিয়ে আগুন নিমেষেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়বে। এই অনর্থ সংঘটনের জন্য বন-জঙ্গল সব থেকে আদর্শ জায়গা। গায়ে গায়ে লেগে থাকা গাছপালা এখানে রীতিমত বৈদ্যুতিক তারের ভূমিকা পালন করে। একবার আগুন লেগে গেলে তা অনেক দূর পর্যন্ত নিমেষেই ছড়িয়ে পড়ে। চরম অবস্থায় এই আগুন আশপাশে থাকা গ্রাম বা শহরে প্রবেশ করে ব্যাপক ধ্বংসের কারণ হয়।
৫৭৫ দিন আগে