কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার এক আরোহী নিহত, আহত ৪
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় গ্যাসবাহী একটি ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন।
শনিবার (৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজারহাট-তিস্তা মহাসড়কের শিমুলতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম এরশাদ আলী (৪০)। তিনি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বালিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন—মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম, শফিউর রহমান ও সিএনজিচালক দুলু।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ (শনিবার) সকালে ওমেরা গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাক রংপুরের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কুড়িগ্রামের দিকে আসছিল। পথে রাজারহাট-তিস্তা মহাসড়কের শিমুলতলা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই এরশাদ আলীসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে এরশাদ আলীর মৃত্যু হয়।
আহত বাকি চারজনকে প্রথমে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
২ দিন আগে
পাঁচ নদীর তাণ্ডবে ভয়াবহ বিপর্যয়ে কুড়িগ্রাম, ৩৬ পয়েন্টে ভাঙন, ঘরছাড়া ৫ শতাধিক পরিবার
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই একদিকে আকস্মিক বন্যা, অন্যদিকে তীব্র নদীভাঙনের দ্বিমুখী আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। জেলার প্রধান পাঁচটি নদ-নদী—ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও কালজানী নদীতে একযোগে শুরু হওয়া আগ্রাসী ভাঙনে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে ইতোমধ্যে জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩৬টি পয়েন্টে মোট ১১ দশমিক ২৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বর্তমানে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের বাসিন্দারা রাত জেগে ঘরবাড়ি পাহারা দিচ্ছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙনের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ:
দুধকুমার নদী: এই নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার খাড়ুয়ারপাড় ও বানিয়াপাড়া; নাগেশ্বরীর বেপারীর চর, সাপখাওয়া, মাঝিপাড়া, কুটিরচর, মণ্ডলপাড়া, বলরামপুর ও দামালগ্রাম এলাকায় প্রতিনিয়ত ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।
ধরলা নদী: সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সাটকালুয়া ও জগমনের চর, ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমণ্ডপ এবং বড়ভিটার পশ্চিম ধনিরাম এলাকায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র নদ: সদর উপজেলার গোয়াইলপরী ও পার্বতীপুর; নাগেশ্বরীর ঝাউকুটি, পাগলার বাজার ও বালারহাট; উলিপুরের দইখাওয়ার চর, রসুলপুর ও জলঙ্গারকুটি; চিলমারীর কাচকোল; রৌমারীর সোনাপুর, গেন্দার আলগা, খেদাইমারী ও সুখেরবাতি এবং রাজিবপুর উপজেলার সাজাই, পাইকানটারী ও বল্লবপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন চলছে।
তিস্তা নদী: রাজারহাট উপজেলার হাঁসারপাড়, রামহরি, চর বিদ্যানন্দ এবং উলিপুর উপজেলার হোকডাঙ্গা ও গোড়াইপিয়ার এলাকায় নদীর আগ্রাসন দিন দিন বাড়ছে।
কালজানী নদী: ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা ও বউবাজার এলাকায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এছাড়া সদরের সারোডোব ও ভূরুঙ্গামারীর পাইকডাঙ্গাসহ বেশ কিছু নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভাঙনের মুখে পড়া মানুষের মাঝে চরম হাহাকার দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার সাটকালুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘প্রতিদিন নদী কয়েক হাত করে এগিয়ে আসছে। ঘরের টিন খুলে রেখেছি। কখন বাড়িটা নদীতে চলে যায়, সেই ভয়ে পরিবার নিয়ে রাত জেগে থাকি।’
একইভাবে নিজের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন উলিপুরের গোড়াইপিয়ার এলাকার কৃষক নুর ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জমি নদীতে গেছে, এখন বাড়িও যাবে। আমাদের মতো মানুষের বাঁচার আর কোনো উপায় নেই।’
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চালানো হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও জরুরি বরাদ্দের প্রয়োজন।
কুড়িগ্রামের চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘একদিকে বন্যা, অন্যদিকে নদীভাঙন—এই দুই দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। উন্নত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষ সর্বস্ব হারানোর পরও অনেক সময় কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির রহমান জানিয়েছেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ইতোমধ্যে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক জরুরি সহায়তা হিসেবে জেলায় নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৭৫ টন চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার (যার মধ্যে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল ও বিভিন্ন ধরণের মশলা রয়েছে) বরাদ্দ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, ‘শুধু সাময়িক জিওব্যাগ ফেলে এই স্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামকে বাঁচাতে স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক।’
৭ দিন আগে
তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৬ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে উত্তরের চার জেলা—রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় চরাঞ্চলের ৬ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন।
১৩ দিন আগে
কুড়িগ্রামে রেললাইনে উল্টে পড়ল বালুভর্তি ট্রাক, ট্রেন চলাচল বন্ধ
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বালুভর্তি ট্রাক রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ায় কুড়িগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ও রমনা কমিউটার ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে উপজেলার রাজারহাট-তিস্তা আঞ্চলিক সড়কের পেট্রোল পাম্প-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালুভর্তি ট্রাকটি রাজারহাট-তিস্তা আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় ট্রাকটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে। এতে রেলপথ সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কুড়িগ্রাম-তিস্তা রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
রেললাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ঢাকাগামী যাত্রীদের অনেককে বিকল্প উপায়ে তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনে যেতে দেখা যায়। যাত্রীদের কেউ অটোরিকশায়, কেউ বাসে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
ঢাকাগামী যাত্রী রুবেল মিয়া বলেন, ‘সকালে যথাসময়ে কুড়িগ্রাম স্টেশনে এসে জানতে পারি কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আসবে না। পরে বাধ্য হয়ে অটোরিকশায় তিস্তা স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দিই। আমার মতো শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।’
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের। কিন্তু রেললাইন অবরুদ্ধ থাকায় ট্রেনটি কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। একই কারণে রমনা কমিউটার ট্রেনের চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকটি অপসারণ এবং রেলপথ সচল করার কাজ শুরু করে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রাকটি সরিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ কনিকা আক্তার বলেন, ‘বালুভর্তি একটি ট্রাক রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে লাইন ব্লক হয়ে গেছে। ট্রাকটি সরানোর কাজ চলছে। তবে ঠিক কখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।’
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রাকটি অপসারণের পর রেললাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিরাপদ ঘোষণা করা হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
১৮ দিন আগে
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ল ৯৫ দোকান
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের প্রধান বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঈদুল আজহার মাত্র কয়েক দিন পরে এমন বিপর্যয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেমে এসেছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভূরুঙ্গামারী বাজারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ীদের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অধিকাংশই কাপড় ব্যবসায়ী। আগুনে ৮০টি কাপড়ের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া পাশের জাকের পার্টির কার্যালয়সহ আরও ১৫টি ফল, জুতা, কসমেটিকস ও বইয়ের দোকান ভস্মীভূত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যেখানে কয়েক ঘণ্টা আগেও ব্যবসার কোলাহল ছিল, সেখানে এখন শুধু পোড়া টিন, ছাই আর ধ্বংসস্তূপ। অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অবশিষ্ট মালামাল খুঁজে ফেরেন।
ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি টুটুল মিয়া বলেন, ‘এখানকার অধিকাংশ ব্যবসায়ী ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই নতুন করে মালামাল তুলেছিলেন। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।’
নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খলিলুর রহমান বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।’
ঘটনার পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্যমতে ৯৫টি দোকান পুড়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য বিকেল ৩টায় একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ঈদের মাত্র কয়েকদিন পরে এমন অগ্নিকাণ্ডে শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, তাদের ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য পরিবারের জীবিকাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
৩১ দিন আগে
ঢাবির পরিসংখ্যান ৮৮ ব্যাচের উদ্যোগে কুড়িগ্রামের চরে কোরবানির মাংস বিতরণ
ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কালির আলগা চরের দরিদ্র মানুষের মাঝে কোরবানির গরুর মাংস বিতরণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ৮৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগা চরে আয়োজিত এ মানবিক কার্যক্রমে শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।
বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
আয়োজকরা জানান, ঈদুল আজহার আনন্দ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্য থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, নদীবেষ্টিত ও বিচ্ছিন্ন চরের মানুষের জন্য এমন সহায়তা ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রহিমুদ্দিন হায়দার রিপন, ইউপি সদস্য হোসেন আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
৩৮ দিন আগে
কুড়িগ্রামে রমজানে ভেজাল রোধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা জেলা প্রশাসকের
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং খাদ্যে ভেজাল রোধে করণীয় নির্ধারণে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান, আরডিসি শেখ মাহবুবে সোবহানী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কুড়িগ্রাম জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবুসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সভাপতির বক্তব্যে কুদরত-এ-খুদা বলেন, ‘পবিত্র রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এ সময় খাদ্যে ভেজাল, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, বাজার তদারকি জোরদার করা হবে এবং ভেজালবিরোধী অভিযানে আইনানুগভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বক্তারা রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বাজার তদারকি দল সক্রিয় করা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে সুষ্ঠু পরিবেশে রমজান পালনে প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়।
সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয়— রমজান মাসজুড়ে নিয়মিত বাজার তদারকি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং অভিযোগ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে রমজান পালন করতে পারেন।
১৪০ দিন আগে
কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন। তাদের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ভুন্দুর চর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— আনোয়ার হোসেনের ছেলে নুরুল আমিন ( ৪০), গোলাম শহিদের ছেলে বলু মিয়া ( ৫৫) ও ফুলবাবু ( ৫০)।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শাহাজাহান মিয়া ও রাজু মিয়া পক্ষের মধ্যে ৫০ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। জমিটি নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শাহাজাহান মিয়ার লোকজন ওই জমিতে সেচ দিতে গেলে রাজু মিয়ার পক্ষের লোকজন বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। তারা সবাই শাহাজাহান মিয়ার অনুসারী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং নিহত তিনজনের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান ওসি লুৎফর রহমান।
৩৪৭ দিন আগে
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা
দলকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে কুড়িগ্রাম জেলার পাঁচ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে শরিকদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
মোস্তাফিজুর রহমানকে (মোস্তফা) আহ্বায়ক ও সোহেল হোসেন কায়কোবাদকে সদস্য সচিব করে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া শফিকুল ইসলাম বেবুকে প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক, হাসিবুর রহমান হাসিবকে দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাসভীর উল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সতর্ক থাকুন, দেশকে কেউ যেন বিভক্ত করতে না পারে: মির্জা ফখরুল
৫৬০ দিন আগে
কুড়িগ্রামে আ. লীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদের তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের বামনের হাট বাজার থেকে ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি উপজেলা কৃষক লীগ নেতা ছিলেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: রাবিতে সার্টিফিকেট তুলতে এসে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
এর আগে বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে পৌর শহরের পাট হাটি থেকে পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র খোরশেদ আলম লিটন (৪৪) ও গুনাইগাছ ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলামকে (৪০) গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগরাকুড়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই দুপুরে উলিপুর মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মসজিদুল হুদা সংলগ্ন এলাকা থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মারধর করা হয়। এই ঘটনার পর গত ২১ নভেম্বর মোসাব্বির হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বাদী হয়ে ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ জনকে আসামি করা হয়।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলাকারী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
৫৭১ দিন আগে