গাইবান্ধা
গাইবান্ধায় ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন
গাইবান্ধা সদরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে জেরে ছুরিকাঘাতে প্রতিপক্ষের ছোট ভাই রুমন (১৮) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। আহত বড় ভাই রুহিতের অবস্থাও (২০) আশঙ্কাজনক।
রবিবার (৭ জুন) রাত ৯টার দিকে সদরের বোয়ালী ইউনিয়নের পূর্ব পিয়ারাপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রুমন ওই এলাকার মৃত ফারুকের ছোট ছেলে। তিনি গাইবান্ধা সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের ছানা হাজীর ছেলে রাকিবের সঙ্গে মৃত ফারুকের বড় ছেলে রুহিতের দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে গতকাল (রবিবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উভয়ের মধ্য বাগবিতণ্ডা শুরু হলে রাকিব ধারালো ছুরি দিয়ে রুহিতকে আঘাত করে। এ সময় রুহিতের ছোট ভাই রুমন এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে রাকিব। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় রুহিত ও রুমনকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রুহিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ (সোমবার) সকালে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খুনের ঘটনার পর পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাকিবের মা বেবি বেগম ও তার স্ত্রী ইতি বেগমকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৭ দিন আগে
গাইবান্ধার মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার অব্যাহত হুমকি: ঐক্য পরিষদের উদ্বেগ
গাইবান্ধার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুর হাঁসবাড়ী গ্রামে অবস্থিত রাধাগোবিন্দ মন্দিরে হামলা চালিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেওয়ার মহলবিশেষের সাম্প্রদায়িক হুমকির অব্যাহত ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
রবিবার (৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিষদ।
বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, হামলার হুমকিসম্বলিত এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার ফলে স্থানীয় জনগণসহ সারা দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী গভীরভাবে শঙ্কিত ও সন্ত্রস্ত। তারা যেকোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটানোর মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের আশঙ্কা করছে।
এই অবস্থায় ঐক্য পরিষদ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার তাগিদে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে জোর আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মন্দিরে দেবদেবীর বিগ্রহ ছাড়াও বৃদ্ধাশ্রম, চিকিৎসাকেন্দ্রসহ নানা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানা রয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কিছু কাল ধরে মন্দিরের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
৮ দিন আগে
গাইবান্ধায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা, মাদ্রাসা শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
গাইবান্ধায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক মাদ্রাসার শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ার জামিয়া কওমি দারুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আজ সরকারি ছুটির দিনে মাদ্রাসায় কেউ না থাকার সুযোগে ওই ছাত্রকে ফোনে তার বাড়ি থেকে ডেকে আনে। পরে তাকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। এ সময় ওই ছাত্রের সঙ্গে তার অনেকক্ষণ ধরে ধস্তাধস্তি চলে।
পরে ছাত্রের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত রবিউকে হাতেনাতে আটক করে মাদ্রাসা কক্ষ থেকে বের করে গণধোলাই দেয়। এরপর তাকে বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, রবিউল ইসলাম প্রায় এক মাস আগে মাদ্রাসাটিতে চাকরিতে যোগ দেন। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মাদ্রাসাটি সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের রেলওয়ে বানমারি মাঠ-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।
এ ব্যাপারে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, আটক শিক্ষক রবিউলের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
১০ দিন আগে
গাইবান্ধায় অগ্নিকাণ্ডে ৮ দোকান ভস্মীভূত
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে দোকানগুলোর মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
বুধবার (২০ মে) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফুলছড়ি হাটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে হাটের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দাউ দাউ করে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে সাঘাটার দুইটি ও গাইবান্ধার একটি ইউনিট মিলে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আগুনে ওষুধ, মুদি পণ্য, কাপড়, কসমেটিকস ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে গেছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসেবে, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৩৮ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আরও প্রায় ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জেহাদ আলী বলেন, ‘ভোরে হঠাৎ খবর পাই, হাটে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে দেখি, আমার দোকানসহ কয়েকটি দোকান আগুনে ছাই হয়ে গেছে। দোকানের সব মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে ব্যবসাটা দাঁড় করিয়েছিলাম, এখন কীভাবে আবার শুরু করব বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিহাদুর রহমান মওলা বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে ব্যবসায়ীদের অনেক বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পাঁচটি ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
২৭ দিন আগে
গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় রিকশাচালকসহ নিহত ২
গাইবান্ধা-দাড়িয়াপুর সড়কে পিকআপের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছে আরও ৪ যাত্রী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সড়কের ঠাকুরের দীঘি নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সুন্দরগঞ্জ থেকে একটি মুরগিবাহী পিকআপ ঠাকুরের দীঘি নামক স্থানে পৌঁছালে একটি চাকা নষ্ট হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় পিকআপটি। এতে রিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রিকশাচালক ফরিদ হোসেন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে রুস্তম আলী নামের ওই রিকশার যাত্রী মারা যান। অপর আহত ৪ যাত্রীকে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ।
নিহত রিকশাচালক গাইবান্ধা সদর উপজেলার আনালেরতাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আর রোস্তম আলীর বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ছাতনাবাড়ি গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
২৭ দিন আগে
সাদুল্লাপুরে খাস জমি ও লাখ টাকার গাছ রক্ষায় অনীহা, এসিল্যান্ডের দিকে অভিযোগের তীর
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা সদরে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের মেহগনি গাছসহ সরকারি খাস জমি রক্ষায় স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতি, রহস্যজনক ভূমিকা ও স্ববিরোধী অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি পক্ষ সরকারি সম্পত্তি দখলে রাখলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরকারি গেজেট, রেকর্ড ও নকশায় জমির অবস্থান স্পষ্টভাবে চিহ্নিত থাকলেও সরেজমিনে পরিমাপের সময় সাদুল্লাপুরের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন দাবি করেছেন, জমিটি ‘রাস্তায় মিশে গেছে’ অথবা ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’। এসিল্যান্ডের এমন বক্তব্য সরকারি রেকর্ড, গেজেট ও খোদ ভূমি অফিসেরই তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো. জিল্লুর রহমান মন্ডল পলাশ।
গত বুধবার (১৩ মে) দাখিল করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সাদুল্লাপুর মৌজার জেএল নম্বর-৪১ এর বিআরএস ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৫৮৯ নম্বর দাগের ০.০০৫৬ একর সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিবিশেষের অবৈধ দখলে রয়েছে। ওই জমিতে থাকা প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৭টি বৃহদাকৃতির মেহগনি গাছও বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি গেজেট ও নকশায় জমির অস্তিত্ব সুস্পষ্ট থাকলেও গত ২৩ এপ্রিল সরেজমিন পরিদর্শনের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দাবি করেন, জমিটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ এর আগে ওই অফিসেরই তদন্ত প্রতিবেদন ও নোটিশে জমিটিকে ‘সরকারি খাস জমি’ এবং গাছগুলোকে ‘সরকারি সম্পদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থানে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
নথি সূত্রে জানা গেছে, খাস জমি ও গাছ সংক্রান্ত পৃথক দুটি আবেদনের পর বনগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়াররা সরেজমিন তদন্ত করে জমি ও গাছের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে গত ৩০ মার্চ ও ২ এপ্রিল (২০২৬) তারিখের তদন্ত প্রতিবেদনে (স্মারক নম্বর-৩৩ ও ৩৮) প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৭টি মেহগনি গাছসহ খাস জমির উপস্থিতি উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, খাস জমিটি আবেদনকারীদের দখলে থাকায় বন্দোবস্ত দেওয়া যেতে পারে এবং গাছগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পাবে।
তবে তদন্তে সরকারি সম্পদের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্ধার অভিযান বা সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো বিগত ২০২৫ সালের ১৯ মে এক আবেদনে সরেজমিন তদন্তের পর জমিটিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন দাবি করে ‘সরকারের কোনো স্বার্থ নেই’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একই অফিস থেকে স্মারক নম্বর ৩০০ ও ৩১১ এর নোটিশে আবার সেটিকে সরকারি সম্পত্তি বলা হয়। একই বিষয়ে প্রশাসনের এমন দ্বৈত অবস্থান সচেতন মহলকে বিস্মিত করেছে। পাশাপাশি এসিল্যান্ড গত ১২ এপ্রিল অফিস স্মারকের এক নোটিশে উক্ত জমিতে ‘সরকারি স্বার্থ’ ও ‘গাছ’ থাকার বিষয়টি লিখিতভাবে স্বীকার করলেও পরে সরেজমিনে এসে জমির অস্তিত্ব অস্বীকার করেন।
দখলদারের আবেদনেই সরকারি জমির স্বীকৃতি
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালী জাকিউল হক মানিক ও জাহিদুল ইসলামসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি ও গাছ নিজেদের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে নিয়ে গোপনে দখলে রেখেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গত মার্চ মাসে জাকিউল হক মানিক নিজেই ওই জমি বন্দোবস্ত চেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেন।
উক্ত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তার মা জোবেদা বেওয়ার নামে বিআরএস ২৩৮ নম্বর খতিয়ানে ০.০৩৬৯ একর জমির সঙ্গে অতিরিক্ত ০.০০৫৬ একর সরকারি খাস জমি মিলিয়ে মোট ০.০৪২৫ একর জমি তাদের ভোগদখলে রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, এই আবেদনের মাধ্যমেই সরকারি জমি দখলের বিষয়টি পরোক্ষভাবে প্রমাণিত হয়।
মামলার আড়ালে সম্পদ গোপনের চেষ্টা
সিএস ৩০৩ নম্বর খতিয়ানের সাবেক ৫২৬ নম্বর দাগের মোট ২৪ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা চললেও বিআরএস ৫৮৯ নম্বর দাগের সরকারি খাস জমি ওই মামলার অন্তর্ভুক্ত নয়।
আদালত কখনো সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ বা গোপনের অনুমতি দেয়নি। অথচ আদালতের মামলার অজুহাতে সরকারি খাস জমি ও গাছ প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে রাখার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ গাছে জননিরাপত্তা হুমকি
খাস জমিতে অবস্থিত বৃহদাকৃতির মেহগনি গাছগুলো বর্তমানে স্থানীয় বসতবাড়ি, দোকানপাট, সড়ক ও বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হলে দুই দফা তদন্ত হয়।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২২ জুলাই চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গাছগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও এখন পর্যন্ত তা অপসারণ বা নিলামের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে কালবৈশাখীর এই মৌসুমে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগকারী মো. জিল্লুর রহমান মন্ডল পলাশ বলেন, আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই; সরকারি সম্পদ রক্ষা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য। সরকারি রেকর্ডভুক্ত সম্পদ কীভাবে গায়েব দেখানো হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতে চলমান জমি বিরোধের চূড়ান্ত রায় আমি মেনে নেব।’
অভিযোগ ও সরেজমিনে জমি পরিমাপের বিষয়ে জানতে চাইলে সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, খাস জমি বন্দোবস্ত চেয়ে দুজন আবেদন করায় সরেজমিনে পরিমাপ করা হয়। সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানের রেকর্ড অনুযায়ী হাল ৫৮৯ নম্বর দাগে ০.০০৫৬ একর খাস জমি থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও মাঠপর্যায়ে পরিমাপে পুরো প্লটে ২৪ শতাংশ জমি পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, খাস জমিটি রাস্তায় মিশে গেছে। এ কারণে আলাদাভাবে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া জমিটি নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ব্যক্তিমালিকানা নিয়ে মামলা থাকলেও খাস খতিয়ানভুক্ত জমি ও গাছ সরকারের সম্পদ। তাই দ্রুত এই সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
২৯ দিন আগে
গাইবান্ধায় পাগলা কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহে ৫ জনের মৃত্যু
গাইবান্ধা, ১৪ মে (ইউএনবি)— গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে সংক্রমিত হয়ে গত এক সপ্তাহে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্যাকসিন না থাকায় এলাকায় জলাতঙ্ক রোগের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বশেষ ইয়াসমিন সুলতানা (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ইয়াসমিন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বজরা কঞ্চিবাড়ির বাসিন্দা।
কঞ্চিবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার জানান, ২২ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ও ছাপরহাটী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে একটি পাগলা কুকুর কয়েকজনকে কামড়ে দেয়। এতে অন্তত ২ শিশু ও ২ নারীসহ ১৩ জন আক্রান্ত হয়। আক্রান্তদের প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিনের জন্য নিয়ে আসা হয়, কিন্তু সেখানে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দোকান থেকেও অনেকের ভ্যাকসিন কেনা সম্ভব হয়নি। এরপর তারা রমেক হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন আক্রান্তদের মধ্যে জলাতঙ্কের উপসর্গ দেখা দেয়। জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে ৬ মে কঞ্চিবাড়ী গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী ও নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া মারা যান। ৮ মে মারা যান রাজমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমার। এছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আফরোজা বেগম (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। সর্বশেষ গতকাল (বুধবার) মারা গেছেন ইয়াসমিন নামের এক নারী। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় রমেক হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে এসে ৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন থেকে সোমবার প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত ৫ জনের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আরও যারা অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন, তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
৩২ দিন আগে
গাইবান্ধায় উপবৃত্তির প্রলোভনে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, মাদরাসা অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় উপবৃত্তির প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগে এক মাদরাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. রঞ্জু মিয়া (৫৫) উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় পণ্ডিতপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের জরিপপুর গ্রামের বাসিন্দা। চার মাস আগে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ভর্তির পর থেকেই অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া ওই ছাত্রীর পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার অজুহাতে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং তাকে সরকারি উপবৃত্তি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর সকালে অধ্যক্ষ ওই ছাত্রীকে ফোন করে জানান, উপবৃত্তি ফরমে স্বাক্ষর করার জন্য জরুরিভিত্তিতে তার পান্থাপাড়ার বাসায় যেতে হবে। অধ্যক্ষের কথায় মেয়েটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার বাসায় যান। সেখানে কেউ না থাকার সুযোগে রঞ্জু মিয়া তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় অত্যন্ত কৌশলে মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় ।
গতকাল আবারও গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে মেয়েটিকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবার কাছে বিষয়টি খুলে বলেন। পরিবারের পরামর্শে অবশেষে মেয়েটি নিজে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। গতকাল (শুক্রবার) রাতে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। আমরা রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিকে আজ (শনিবার) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।
১০৭ দিন আগে
গাইবান্ধায় ছিনতাইকারী সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দ কোমরপুর ইউনিয়নের জাওলার বাজারে ছিনতাইকারী সন্দেহে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের নাম লেবু মণ্ডল; অপরজন ময়নুল ইসলাম। উভয়ের বাড়িই পলাশবাড়ি উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নে।
স্থানীয়রা জানান, আজ (শুক্রবার) ফজরের নামাজের পর ঢাকা থেকে নাসিমা ও তার স্বামী নিজের বাড়ি সাদুল্লাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তারা খোর্দ্দ কোমারপুর মাদারহাট সেতুতে পৌঁছালে দুই যুবক তাদের পথরোধ করে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের চিৎকারে গ্রামের লোকজন এসে ওই দুই যুবককে ধাওয়া করে। তারা জাওলার বাজার এলাকায় আশ্রয় নিলে লোকজন তাদের দুইজনকে পিটুনী দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর থানায় নিয়ে যায়।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাদের পিটুনী দেওয়া হলে তারা নিহত হন। নিহত লেবু মন্ডলের নামে হত্যা, ডাকাতি সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।
১১৫ দিন আগে
গাইবান্ধা কারাগারে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির মৃত্যু
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীকুল ইসলাম লিপন জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে তিনি মারা যান।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গাইবান্ধার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান কারা কর্তৃপক্ষ। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন সেখানকার ডাক্তাররা। সেখান থেকে রমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি একটি মামলায় আসামি হয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধা সদর থানার হাজতি ছিলেন। এর আগেও কারাগার থেকে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরি হরিণ মারী গ্রামের মরহুম জোব্বার সরকারের সেজ ছেলে। পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন তিনি।
শামিকুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে পলাশবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০১৮ সাল থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
১২০ দিন আগে