গাইবান্ধা
জুলাই গণঅভ্যুথান দিবসে গাইবান্ধায় হট্টগোল
এনসিপি ও জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে হাতাহাতি এবং হট্টগোলের মধ্যদিয়ে আজ গাইবান্ধায় জুলাই গণঅভ্যুথান দিবস পালিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গাইবান্ধা ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুদ্ধাহত জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
এর আগে, সকালে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন, গাইবান্ধা জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ময়নুল হাসান সাদিক, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সংগঠন পৌর পার্কের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দিবসটি উপলক্ষে দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন গাইবান্ধার ৬ শহিদ জুলাই যোদ্ধা, আহত জুলাই যোদ্ধাসহ জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা সভা শুরু হলে উপস্থিত এনসিপির নেতাদের সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের তর্ক-বিতর্ক, হাতাহাটি ও হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ, বিএনপি নেতাকর্মীরা বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়্ ।
পরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা গাইবান্ধায় ৬ শহিদ জুলাই যোদ্ধা পরিবারসহ ২৫২ জন জুলাই যোদ্ধাদের ক্রেস্ট দিয়ে সম্মান জানান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. ময়নুল হাসান সাদিক, সংসদ সদস্য মওলানা নজরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনসহ অন্যরা ।
জুলাইয়ের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা, পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্লাপুরের বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্যদিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
১০ দিন আগে
গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের ৩১ স্থানে ফাটল, আতঙ্কে শহরবাসী
কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের অন্তত ৩১টি স্থানে বড় ধরনের গর্ত ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘাঘট নদীর পানির চাপে বাঁধ ভেঙে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য বন্যার আতঙ্কে রয়েছেন বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, বাঁধ ভেঙে গেলে শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো প্রতিকার হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
গাইবান্ধা পৌর বিএনপির নেতা শহিদুজ্জামান শহীদ জানান, শহর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় ঘাঘট নদীর লুপ কাটিং করে শহরের শেষ প্রান্ত দিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। এরপর গাইবান্ধা শহরকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে ঘাঘট নদীতে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
তিনি বলেন, নদীর তীর রক্ষায় প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় কংক্রিটের (সিসি) ব্লক স্থাপন করা হয়। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোটি কোটি টাকা জরুরি মেরামতের নামে ব্যয় করলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও ২০১৯ সালে বন্যার পানির তোড়ে গাইবান্ধা পৌর এলাকার কুঠিপাড়া এলাকায় ঘাঘট নদীর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। তখন পানির স্রোতে বেশকিছু বাড়িঘর ও অবকাঠামো ভেসে যায়। প্রবল স্রোতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বুকসমান ও কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়।
সেদিন ঘাঘট নদীর পানি উপচে ডেভিট কোম্পানি পাড়া, স্টেশন রোড, ডিবি রোড, কাচারি বাজার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, হাসপাতাল, ভি-এইড রোড, মুন্সিপাড়া, পূর্বপাড়াসহ শহরের অধিকাংশ এলাকার বাড়িঘর, স্কুল-কলেজ ও সরকারি-বেসরকারি অফিস পানিতে তলিয়ে যায়। এতে গাইবান্ধা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ে।
২৮ দিন আগে
তিস্তার তীররক্ষা বাঁধের শতাধিক স্থানে ধস, আতঙ্কে গাইবান্ধার লক্ষাধিক মানুষ
ভারী বর্ষণে গাইবান্ধার কামারজানি থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তানদীর তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকায় শতাধিক স্থানে বড় ধরনের ধস শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে ভাঙনও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালে ৯৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহার করায় বর্তমানে বাঁধের বিভিন্ন অংশে নতুন করে ধস শুরু হয়েছে। এতে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় তিস্তা তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল ইসলাম বাঁধ রক্ষায় কংক্রিট ব্লক বসানোর কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেন। নিয়ম অনুযায়ী দূর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পাউবো কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম বাঁধের পাশ থেকেই ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের সুযোগ করে দেন।
তিনি বলেন, সে কারণে ঠিকাদার যেনতেনভাবে বাঁধ নির্মাণ করে জুলাই আন্দোলনের আগে হাজার কোটি টাকার বিল তুলে চলে যান। নির্মাণের বছরই তিস্তা নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের কংক্রিট ব্লক নদীতে ধসে যেতে শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর চাপে পাউবো তড়িঘড়ি করে বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ৪০ লাখ টাকার আলাদা বিল করেন। পরে সেই বিল অন্য ঠিকাদারের নামে তুলে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজুল ইসলাম রংপুরে বদলি হয়ে চলে যান।
এ বছর বর্ষার শুরুতে ভারী বর্ষণে তিস্তা ও যমুনার তীররক্ষা বাঁধের কামারজানি থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর মওলানা ভাসানী ব্রিজ পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার বাঁধের শতাধিক স্থানে ছোটবড় গর্ত ও খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এসব খাদ ও গর্ত দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। তাতে বাঁধ আরও ভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বাঁধের এই ১৮ কিলোমিটার এলাকায় পশ্চিম পাশে খুব কাছে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। ইতোমধ্যে বাঁধের খুব কাছে গর্ত করে বালু উত্তোলন করে সেই বালু বাঁধে ব্যবহার করায় তিস্তা নদী তীর রক্ষার বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, শ্রীপুর, হরিপুর, চণ্ডীপুর, বেলকা, কছিমবাহার, বাবুর বাজার, লাল চামার, পুটিমারী, দত্তের খামার, গাছুর বাজার, জয়বাংলা ও বটতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় তিস্তা নদীর ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙন যত প্রবল হচ্ছে, বাঁধের পাশের বাসিন্দারা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙনের পাশাপাশি নদী তীররক্ষা প্রকল্পের বাঁধ ধসের কারলে আতঙ্কিত স্থানীয়রা দিনরাত বাঁধ এলাকায় পাহারা বসিয়েছেন।
পোড়ার চরের বাসিন্দা রেজাউল মেম্বার জানান, অনেক পরিবার নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধের ওপর এসে বসে থাকছেন।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনজু মিয়ার অভিযোগ, তিস্তায় নদীরক্ষা বাঁধ যখন নির্মাণ করা হয় তখন আমরা বাধা দিয়েছি, কারণ কাজ হয়েছে নিম্নমানের। যেখানে মাটি দেওয়ার কথা, সেখানে বালু দেওয়া হয়েছে। মোটকথা, বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে ওপর দিয়ে শুধু মাটি ছিটিয়ে দিয়ে হাজার কোটি টাকা বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এলাকার লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা কোনো কথা বলতে গেলেই পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল ও ঠিকাদারের মাস্তান বাহিনী সাধারণ মানুষকে কোনো পাত্তা দেয়নি।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, তখন যদি বালু না দিয়ে মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হতো, তাহলে আর ধসের মুখে পড়তে হতো না। নদীর তীররক্ষা বাঁধের কংক্রিট ব্লকের বিভিন্ন অংশে ভাঙন শুরু হতো না। কিন্তু কাজটি করা হয়েছে শুধু লুটপাটের জন্য; পেট ভরেছে ঠিাকাদার আর কর্মকর্তাদের। এখন ভুগতে হচ্ছে আশে পাশের লাখ লাখ মানুষের। সারা রাত মানুষ বাঁধে বসে থাকে, কখন বালুর বাঁধ নদীর প্রবল স্রোতে ধসে যায়, সেই আতঙ্কে।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের ৬০টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া ১৮ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা বাঁধে রেইন কাট হয়েছে। তবে ভাঙন প্রতিরোধ ও ধসে যাওয়া অংশে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।’
৩২ দিন আগে
তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৬ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে উত্তরের চার জেলা—রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় চরাঞ্চলের ৬ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন।
৫৩ দিন আগে
গাইবান্ধায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল চালানো ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই শাকিব শাহরিয়ার (২২) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পৌর এলাকার মাগুরা কেশবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিব শাহরিয়ার ওই এলাকার এরশাদুল হক লিটনের বড় ছেলে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আহসান হাবীব সরকার জানান, গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ৩টার দিকে মোটরসাইকেল চালানোসহ পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাই রাকিব বড় ভাই শাকিবকে ছুরিকাঘাত করে। এতে শাকিব গুরুতর আহত হন।
তাকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। সেখানে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
৫৮ দিন আগে
গাইবান্ধায় ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন
গাইবান্ধা সদরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে জেরে ছুরিকাঘাতে প্রতিপক্ষের ছোট ভাই রুমন (১৮) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। আহত বড় ভাই রুহিতের অবস্থাও (২০) আশঙ্কাজনক।
রবিবার (৭ জুন) রাত ৯টার দিকে সদরের বোয়ালী ইউনিয়নের পূর্ব পিয়ারাপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রুমন ওই এলাকার মৃত ফারুকের ছোট ছেলে। তিনি গাইবান্ধা সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামের ছানা হাজীর ছেলে রাকিবের সঙ্গে মৃত ফারুকের বড় ছেলে রুহিতের দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে গতকাল (রবিবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উভয়ের মধ্য বাগবিতণ্ডা শুরু হলে রাকিব ধারালো ছুরি দিয়ে রুহিতকে আঘাত করে। এ সময় রুহিতের ছোট ভাই রুমন এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে রাকিব। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় রুহিত ও রুমনকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রুহিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ (সোমবার) সকালে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খুনের ঘটনার পর পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাকিবের মা বেবি বেগম ও তার স্ত্রী ইতি বেগমকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৬৮ দিন আগে
গাইবান্ধার মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার অব্যাহত হুমকি: ঐক্য পরিষদের উদ্বেগ
গাইবান্ধার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুর হাঁসবাড়ী গ্রামে অবস্থিত রাধাগোবিন্দ মন্দিরে হামলা চালিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেওয়ার মহলবিশেষের সাম্প্রদায়িক হুমকির অব্যাহত ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
রবিবার (৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিষদ।
বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, হামলার হুমকিসম্বলিত এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার ফলে স্থানীয় জনগণসহ সারা দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী গভীরভাবে শঙ্কিত ও সন্ত্রস্ত। তারা যেকোনো মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটানোর মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের আশঙ্কা করছে।
এই অবস্থায় ঐক্য পরিষদ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার তাগিদে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে জোর আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মন্দিরে দেবদেবীর বিগ্রহ ছাড়াও বৃদ্ধাশ্রম, চিকিৎসাকেন্দ্রসহ নানা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানা রয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কিছু কাল ধরে মন্দিরের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
৬৯ দিন আগে
গাইবান্ধায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা, মাদ্রাসা শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
গাইবান্ধায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক মাদ্রাসার শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ার জামিয়া কওমি দারুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আজ সরকারি ছুটির দিনে মাদ্রাসায় কেউ না থাকার সুযোগে ওই ছাত্রকে ফোনে তার বাড়ি থেকে ডেকে আনে। পরে তাকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। এ সময় ওই ছাত্রের সঙ্গে তার অনেকক্ষণ ধরে ধস্তাধস্তি চলে।
পরে ছাত্রের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত রবিউকে হাতেনাতে আটক করে মাদ্রাসা কক্ষ থেকে বের করে গণধোলাই দেয়। এরপর তাকে বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, রবিউল ইসলাম প্রায় এক মাস আগে মাদ্রাসাটিতে চাকরিতে যোগ দেন। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মাদ্রাসাটি সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের রেলওয়ে বানমারি মাঠ-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।
এ ব্যাপারে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, আটক শিক্ষক রবিউলের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
৭১ দিন আগে
গাইবান্ধায় অগ্নিকাণ্ডে ৮ দোকান ভস্মীভূত
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে দোকানগুলোর মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
বুধবার (২০ মে) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফুলছড়ি হাটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে হাটের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দাউ দাউ করে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে সাঘাটার দুইটি ও গাইবান্ধার একটি ইউনিট মিলে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আগুনে ওষুধ, মুদি পণ্য, কাপড়, কসমেটিকস ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে গেছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসেবে, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৩৮ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আরও প্রায় ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জেহাদ আলী বলেন, ‘ভোরে হঠাৎ খবর পাই, হাটে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে দেখি, আমার দোকানসহ কয়েকটি দোকান আগুনে ছাই হয়ে গেছে। দোকানের সব মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে ব্যবসাটা দাঁড় করিয়েছিলাম, এখন কীভাবে আবার শুরু করব বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিহাদুর রহমান মওলা বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে ব্যবসায়ীদের অনেক বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পাঁচটি ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
৮৭ দিন আগে
গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় রিকশাচালকসহ নিহত ২
গাইবান্ধা-দাড়িয়াপুর সড়কে পিকআপের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছে আরও ৪ যাত্রী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সড়কের ঠাকুরের দীঘি নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সুন্দরগঞ্জ থেকে একটি মুরগিবাহী পিকআপ ঠাকুরের দীঘি নামক স্থানে পৌঁছালে একটি চাকা নষ্ট হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় পিকআপটি। এতে রিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রিকশাচালক ফরিদ হোসেন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে রুস্তম আলী নামের ওই রিকশার যাত্রী মারা যান। অপর আহত ৪ যাত্রীকে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ।
নিহত রিকশাচালক গাইবান্ধা সদর উপজেলার আনালেরতাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আর রোস্তম আলীর বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ছাতনাবাড়ি গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৮৮ দিন আগে