হবিগঞ্জ
খোয়াই বাঁধের ভাঙনে হবিগঞ্জের ৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি, তলিয়ে গেছে ধান-শাকসবজি
হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দ্বিতীয় দফা ভাঙনে প্রায় চার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির ঢলে উঠতি আউশ ধানসহ রোপা আমনের বীজতলা ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের প্রায় চার হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এ ছাড়াও, বন্যাকবলিতদের জন্য ১০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান জানান, ১২৫ হেক্টর উঠতি আউশ, ৯৫ হেক্টর রোপা আমন, ২২ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা ও ২৫ হেক্টর শাকসবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। গতকাল (রবিবার) দুপুরে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সদর উপজেলার কালীগঞ্জনামক স্থানে আবার ভেঙে গিয়ে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
গত ৯ জুলাই একই স্থানের ভাঙনে সদর ও বাহুবল উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধটি মেরামতের কাজ করছিল। এ পর্যন্ত ৩০ লাখ ব্যয়ও হয়ে গেছে।
জাতীয় সংসদে হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি জি কে গউছ গতকাল সকালে ওই বাঁধ এলাকায় মেরামত কাজ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি কাজের মান দেখে অসন্তোষ ও এর স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ফিরে যাওয়ার ১-২ ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় বাঁধটি ভেঙে যায়।
সোমবার বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খোয়াই নদীর পানি বিপদ সীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
১৫ দিন আগে
হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর বাঁধে ফের ভাঙন, বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত
জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ পরিদর্শন করার পর পরই আবারও ভেঙে গেল খোয়াই নদীর বাঁধ।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাঁধ মেরামত কাজ পরিদর্শনে যান জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ ৩ আসনের এমপি জি কে গউছ। এ সময় তিনি কাজের মান দেখে বাঁধ টিকবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এর আগে, গত ৯ জুলাই রাতে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ নামকস্থানে প্রবল স্রোতে নদীর ২০০ ফুট বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আমন ধানের জমি, শাকসবজির খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রায় ৩০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিববন্দি হয়ে পড়েন। জরুরি বাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় এক কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হুইপ পরিদর্শনের আধ ঘণ্টা পরই পানির তোড়ে বাধ ভেঙে যায়। এতে পুনরায় পূর্বের জমি অন্যান্য স্থানগুলোতে পানি প্রবেশ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, বাঁধের কাজ খুবই নিম্নমানের হচ্ছে।
তবে ঠিকাদার টিপু আহমেদ কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে জানিয়ে বলেন, হঠাৎ ভারতের অংশে স্লইসগেট খুলে দেওযায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ৮৮ লাখ টাকার কাজের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশের কাজ শেষ হয়েছিল। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, প্রায় ২০০ ফুট লম্বা, ৩০ ফুট প্রস্থ ও ৩০ ফুট উচ্চতার এ কাজটিতে মাটি ভরাট, জিও ব্যাগ, জিও কার্পেট বসানো হবে। কিন্তু হঠাৎ পানি বেড়ে যাওযায় বাঁধের সমস্ত মাটি ও বালু ভেসে গেছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
১৬ দিন আগে
হবিগঞ্জে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ফের অস্ত্র উদ্ধার
হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অভিযান চালিয়ে ৬টি পিস্তল, ৭টি ম্যাগাজিন ও ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (বিজিবি-৫৫)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (বিজিবি-৫৫)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাতছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে সীমান্ত পিলার ১৯৭৮ থেকে আনুমানিক ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতছড়ি রিজার্ভ ফরেস্টের দুর্গম পাহাড়ি ও ঘন জঙ্গল এলাকায় মাটির নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৬টি পিস্তল, ৭টি ম্যাগাজিন ও বিভিন্ন ধরনের ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতি বা অন্যান্য সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিল।
উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানান বিজিবি অধিনায়ক।
তিনি আরও জানান, গত তিন মাসে ৫৫ বিজিবির অভিযানে সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৪১ লাখ টাকা মূল্যের ২৩৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ২ হাজার ৫৮৫ পিস ইয়াবা, ৫৯ বোতল মদ ও ২১টি গরু আটক করা হয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
২০১৪ সালের ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফা অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৩৩৪টি কামান বিধ্বংসী রকেট, ২৯৬টি রকেট চার্জার, একটি রকেট লঞ্চার, ১৬টি মেশিনগান, একটি বেটা গান, ছয়টি এসএলআর, একটি অটো রাইফেল, পাঁচটি মেশিনগানের অতিরিক্ত খালি ব্যারেল, প্রায় ১৬ হাজার রাউন্ড বুলেটসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
একই বছরের ১৬ অক্টোবর চতুর্থ দফায় উদ্যানের ভেতরে মাটি খুঁড়ে তিনটি মেশিনগান, চারটি ব্যারেল, আটটি ম্যাগাজিন, ২৫০ গুলি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আটটি বেল্ট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি রেডিও উদ্ধার করা হয়। পরে ১৭ অক্টোবর দুপুরে এসএমজি ও এলএমজির ৮ হাজার ৩৬০ রাউন্ড, ত্রি-নট-ত্রি রাইফেলের ১৫২ রাউন্ড, পিস্তলের ৫১৭ রাউন্ড ও মেশিনগানের ৪২৫ রাউন্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৫৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এরপর ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাতছড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ৪০ এমএম অ্যান্টি-ট্যাংক রকেট উদ্ধার করা হয়।
২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ১৩টি রকেট লঞ্চারের শেলসহ বেশ কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২ মার্চ বিজিবি বিশেষ অভিযান চালিয়ে উদ্যান থেকে ১৮টি ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট লঞ্চার উদ্ধার করে।
ওই বছরের ১৩ আগস্ট সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের মূল ফটক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে মাটির নিচ থেকে ৯টি একনলা বন্দুক, তিনটি পিস্তল ও ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করে বিজিবি।
একই বছরের ২৭ ডিসেম্বর ১৫টি রকেট প্রপেলড গ্রেনেড (আরপিজি), ২৫টি বুস্টার ও ৫১০টি লংরেঞ্জ অটোমেটিক মেশিনগানের গুলি উদ্ধার করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি)।
১৯ দিন আগে
হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালকসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কারখানা গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে মশহুদ আহাম্মদ (৪০), ইনাতগঞ্জ দক্ষিণ গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম (৫০) এবং ইনাতগঞ্জ বাজারের ফাহিম মিয়া (৩০)। তারা সকলেই সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে ইনাতগঞ্জ বাজারের কয়েকজন সবজি ব্যবসায়ী ও কর্মচারী পিকআপ ভ্যানযোগে বাহুবল উপজেলার দিগাম্বর বাজারে কাঁচামাল আনতে যাচ্ছিলেন। পথে রোকনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লাকি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মশহুদ আহাম্মদ নিহত হন। গুরুতর আহত পিকআপ ভ্যানের চালকসহ চারজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আবুল কাশেম ও ময়না মিয়ার মৃত্যু হয়। বর্তমানে পিকআপ ভ্যানের চালকসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আউশকান্দি এলাকায় আটক করা হয়। বাস ও পিকআপ ভ্যানটি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম উদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। পরে সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
২৯ দিন আগে
হবিগঞ্জে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২
হবিগঞ্জের মাধবপুরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সিএনজি অটোরিকশাচালক আবুল খায়ের (৪৫) ও ট্রাকচালকের সহযোগী রিপন মিয়া (২৭)। আবুল খায়ের পশ্চিম মাধবপুরের বাসিন্দা ও রিপন মিয়া উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেজুড়া এলাকায় ঢাকাগামী একটি বালুবাহী ট্রাক ও সিলেটগামী একটি তেলবাহী বাউজারের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি সিএনজি অটোরিকশার ওপর বালুবাহী ট্রাকটি উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে সিএনজি অটোরিকশাচালক আবুল খায়ের নিহত হন। সে সময় ট্রাক থেকে ছিটকে পড়ে চালকের সহযোগী রিপন মিয়া নিহত হন।
খবর পেয়ে মাধবপুর ফায়ার ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মন্তোষ মল্লিকের নেতৃত্বে একদল কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাকবলিত ৩টি গাড়ি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, মরদেহ দুটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি গাড়ি পুলিশ হেফাজতে নিয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
৩০ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপির মামলায় ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জনের জামিন
হবিগঞ্জে এনসিপির মামলার ১১ জন আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২ আগস্ট) হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আব্দুল মান্নানের আদালতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জন আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করলে শুনানি শেষ প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা বন্ডে মেডিকেল প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে অংশ নিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। মামলায় কোনো ঘটনার তারিখ ও স্থান উল্লেখ নেই।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আব্দুল হাই ও সি এস আই আবু তালেব বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য খণ্ডন করার মতো কোনো উপাদান মামলার এজাহারে নেই।
পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট কুতুবউদ্দিন জুয়েলসহ বিএনপিপন্থি অসংখ্য ব্যক্তি শুনানিতে অংশ নেন।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় ভাঙচুর করা হয় নেতাদের বহনকারী মাইক্রোবাসও। এরপর গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে মামলাটি করা হয়।
মামলায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহমদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়। জেলা যুব শক্তির আহ্ববায়ক তন্ময় তাহের মামলাটি করেন।
৩৭ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা ছাত্রদলের
হবিগঞ্জে এনসিপির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে জেলা ছাত্রদল। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলীয় সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর থানায় এজাহারটি দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন রোকন।
এর আগে, গত বুধবার জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তারেকের দায়ের করা অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।
মমলার এজাহারে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা চুরি, গুরুতর ও সাধারণ জখম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা সদরে এক সমাবেশ শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন সারজিস আলম ও মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সে সময় হামলায় এনসিপির ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা সদরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এনসিপি এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
বুধবার ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। পরে তারা জেলার বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে ফিরে যান।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাতে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
৩৯ দিন আগে
হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার
হবিগঞ্জ জেলা সদরের পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ এ আদেশ দেন।
এর আগে গতকাল (বুধবার) এনসিপি ও বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠন একই স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল।
জেলা প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা আর বিদ্যমান না থাকায় এ আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সারা দিন নানা নাটকীয় ঘটনার পর এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহম্মদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে বিক্ষোভের সমাপ্তি টানেন।
পুলিশি বাধার মুখে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলার বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া চা-বাগান এলাকায় অবস্থান নেন। বুধবার বেলা ৩টার দিকে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে দুই জেলার মধ্যবর্তী মুছাই এলাকায় হবিগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরে প্রবেশে পুলিশ ও প্রশাসন তাদের বাধা দেয়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বুধবার ঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে মৌলভীবাজার হয়ে হবিগঞ্জে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১৪৪ ধারা জারি করায় পুলিশ তাদের হবিগঞ্জে প্রবেশ করতে দেয়নি। পুলিশ ট্রাক ও ব্যারিকেড বসালেও তারা ব্যারিকেড অতিক্রম করে জেলার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে পুলিশ তাদের আর সামনে এগোতে দেয়নি। পরে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে তাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহম্মদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের।
মঙ্গলবার রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। হামলার সময় নেতাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে মামলাটি করা হয়।
৪০ দিন আগে
হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা কার্যকরে বিজিবি মোতায়েন
হবিগঞ্জ জেলা সদরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হবিগঞ্জ জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) থেকে তিন প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ১৪৪ ধারা জারিকৃত এলাকায় বিজিবি ড্রোনের মাধ্যমে মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি জেলার সংঘাতপ্রবণ বিভিন্ন এলাকায় অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে ৫৫ বিজিবি।
৪১ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপি-বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ, ১৪৪ ধারা জারি
হবিগঞ্জে একই স্থানে এনসিপি ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় হবিগঞ্জ জেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় স্থানীয় টাউন হল প্রাঙ্গণে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান করে এনসিপি। অপরদিকে, জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় প্রশাসন আজ বুধবার সকাল ১০টায় ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দেয়।
এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, এমপি আখতার হোসেন, এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ ও এমপি ড. আতিক মোজাহিদ হবিগঞ্জের পথে রয়েছেন। এ ঘটনার পর জেলার সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীপূর্বঘোষিত জুলাই গণজাগরণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দেন। বিকেলে শহরের টাউন হলের সামনে পথসভায় বক্তব্য দিয়ে ফেরার পথে কোর্ট মসজিদের সামনে তারা হামলার শিকার হন। এ সময় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার জন্য সারজিস আলম ছাত্রদল ও যুবদলকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে ফেরার পথে অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় আমাদের একজন সহকর্মীর চোখে রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অপর একজনের মুখ গুরুতরভাবে জখম করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টাউন হলের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীহবিগঞ্জে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। হবিগঞ্জ সদর আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউসের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি।
শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্কিট হাউসের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, উশৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ‘এনসিপি নেতারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে অশ্লীল বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তাদের সামান্য ঠেলাধাক্কা হয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত এনসিপি নেতারা সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘এনসিপি হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, বাহুবল উপজেলার সংগঠক নবীর হোসেন হৃদয়সহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা আমার ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
৪১ দিন আগে