সাবলেট
রাজধানীর আজিমপুরে বকেয়া ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডা, কিলঘুষিতে বৃদ্ধ নিহত
রাজধানীর আজিমপুরে বাসা ভাড়ার বকেয়া টাকাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডা ও এরপর মারামারিতে মো. স্বপন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে লালবাগ থানার আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত স্বপনের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার তাহের ফকির কান্দি গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল মান্নান। বর্তমানে তিনি আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। তিনি একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী ছিলেন।
হাসপাতালে নিহতের ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘আমার ভাই স্বপন অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির ছিলেন। কারও সঙ্গে কখনও কোনো বিরোধে জড়াতেন না। আমরা দুই ভাই মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারে সাবলেটে ভাড়া থাকতাম। অপর ভাড়াটিয়া রিজভী মাস শেষ হওয়ার আগেই ভাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। চলতি মাসের ভাড়ার মধ্যে মাত্র এক হাজার টাকা বকেয়া ছিল। রাতে রিজভী ওই টাকা চাইতে আসলে আমরা বলি, দু-একদিনের মধ্যে পরিশোধ করে দেব। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।’
তিনি আরও বলেন, রাতের ঘটনার পর আজ ভোর ৪টার দিকে রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহান বাসার রুমের সামনে এসে এক হাজার টাকা ভাড়া নিতে এলে আমাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেন। এরপর তারা আমার বৃদ্ধ ভাই স্বপনকে কিলঘুষি মেরে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারের সামনের একটি মাঠে নিয়ে যান। এতে আমার ভাই গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
রাজধানীতে ভিডিও কলে এসে শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’
রাজধানীর শাহজাহানপুরের গুলবাগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বান্ধবীকে ভিডিও কল দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা যায়। নিহত শিক্ষার্থীর নাম রুবিনা ইয়াসমিন নদী (২১)।
বুধবার বিকালে এই ঘটনা।
রুবিনা বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার পুলিশের উপ পরিদর্শক (এস আই) রফিকুল ইসলাম এর মেয়ে।
আরও পড়ুনঃ ঋণের চাপ সইতে না পেরে সুপারি বিক্রেতার আত্মহত্যা
তার রুমমেট মারিয়াম সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে শাহজাহানপুর মালিবাগের ৩৯১ গুলবাগে এক বান্ধবীর সাথে ওই ভবনের পঞ্চম তলায় সাবলেট থাকত রুবিনা। এছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি আমজারা নামে একটি বোরকা'র কোম্পানিতে মারিয়াম সহ দু'জনে চাকরি করতেন।
তিনি আরও বলেন, রুবিনা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়াশোনা করতো। একই বিভাগের সায়েম নামে এক শিক্ষার্থীর সাথে সম্পর্ক করে ২০১৯ সালে বিয়ে করে রুবিনা। বিয়ের তিন মাসের মাথায় তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।
রুবিনার খালাতো বোন শরিফা সুলতানা বলেন, ঐ ছেলের সাথে ডিভোর্স হওয়ার পরও বিভিন্ন সময় রুবিনার বান্ধবী মারিয়ামের ফোনে তাদের বিশেষ মুহুর্তের ছবি, ভিডিও পাঠাতো সায়েম, পরে তা ডিলিট করে দিয়েছিল। এসব নিয়ে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত থাকতো রুবিনা। তার দাবি ঐ ছেলের কারণেই রুবিনা আত্মহত্যা করেছে।
আরও পড়ুনঃ স্মার্ট ফোন কিনে না দেয়ায় যুবকের আত্মহত্যা
মারিয়ম বলেন, ‘রুবিনা আজ কাজে যায়নি। আমি কাজে চলে যাই। বিকাল তিনটার সময়ে ফোন করে সে জানায়, আমার ভালো লাগছে না, তুই দ্রুত চলে আয়, আমি মরে যাবো। পরে ভিডিও কলে সে দেখায় ফ্যানের সাথে ওড়না বাঁধছিল। পরে দ্রুত গিয়ে দেখি ভিতর দিয়ে দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় ছিটকানি ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই তাকে।
পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতাল, সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুনঃ স্মার্ট ফোন না পেয়ে কুড়িগ্রাম স্কুলছাত্রের ‘আত্মহত্যা’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ বাচ্চু মিয়া বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালে সবুজবাগ ডিভিশনের এসি মনতোষ বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনা শুনে এসেছি, প্রাথমিকভাবে শুনেছি সে আত্মহত্যা করেছে, প্রকৃতপক্ষে আত্মহত্যা, না অন্য কিছু, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’
১৮৪৮ দিন আগে