বজ্রপাতে মৃত্যু
কুষ্টিয়ায় বজ্রাঘাতে নিহত ২, হাসপাতালে আরও ২
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও সদর উপজেলায় বজ্রাঘাতে দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে বাড়ির পাশে বিলের ধারে বসে থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে আরোজ আলী (৩০) নামের একজন মারা যান। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, দুপুর ১২টার পর থেকে দৌলতপুরের আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। একপর্যায়ে মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে মেঘের প্রচণ্ড গর্জন শুরু হয়। ওই সময় আরোজ আলী বাড়ির পাশে বিলের ধারে বসে ছিলেন। আকস্মিক বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
বজ্রপাতের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, এদিন দুপুর ২টার দিকে আরোজ আলী নামের ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে উল্লেখ করে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি বজ্রাঘাতেই মারা গেছেন।
অন্যদিকে বেলা আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের দহকোলা মাঠে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রাঘাতে একজন নিহত ও দুজন গুরুতর আহত হন।
তাদের দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন মো. রওশন আলী নুশু (৪৫) মারা যান।
নিহত রওশন দহকোলা কারিগরপাড়ার মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।
আহত কারিগরপাড়ার মৃত হারেজ আলীর ছেলে সমেজ আলী ও জোতপাড়ার মৃত ছলিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল বর্তমানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন বজ্রাঘাতে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৮ দিন আগে
দীঘিনালায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বজ্রপাতে শরীফুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কবাখালি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফুল ওই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হন শরীফুল। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন: সিলেটের গোয়াইনঘাটে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রঞ্জন বড়ুয়া রাজন বলেন, বজ্রপাতে শরীফুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা গিয়েছিলেন।
৪১৫ দিন আগে
মেহেরপুরে বজ্রপাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু
মেহেরপুর সদরে বজ্রপাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু ও একজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত আব্দুর রাজ্জাক ও আহত মন্টু একই এলাকার বাসিন্দা। সম্পর্কে তারা একে অপরের ভাই হন।
আরও পড়ুন: ঈদের সকালে বজ্রপাতে টাঙ্গাইলে ৩ কিশোরের মৃত্যু
মৃতের পরিবার জানায়, মঙ্গলবার সকালে ঈদের জামাতের উদ্যেশে বাড়ি থেকে বের হন রাজ্জাক ও মন্টু। যাওয়ার পথের বজ্রপাত হলে দুজনই আহত হন। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাককে মৃত ঘোষণা করেন।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৬১৬ দিন আগে
ঈদের সকালে বজ্রপাতে টাঙ্গাইলে ৩ কিশোরের মৃত্যু
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ঈদের দিন সকালে নদীতে গোসল করার সময় বজ্রপাতে তিন কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এই সময় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা আরও দু’জন আহত হন।
সকাল ৯টার দিকে উপজেলার হাতিয়া এলাকার নিউ ধলেশ্বরী নদীপাড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে স্কুলছাত্র নিহত
মৃতরা হলেন, উপজেলার হাতিয়া গ্রামের মো. রবিউলের ছেলে মো. আরিফ মিয়া (১৫), আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ের জামাই মো. মোস্তফা কামাল ( ২১) ও একই ইউনিয়নের দশকিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের মো. জুলহাস উদ্দিনের ছেলে মো. ফয়সাল উদ্দিন ( ১৬)।
আহতরা হলেন- মো. রাকিব মিয়া ও মো. জাহিদ হোসেন।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে বজ্রপাতে শিশুসহ নিহত ৩
দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মালেক ভূঁইয়া জানান, তিন কিশোর ঈদের নামাজ পড়ার আগে নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল। এই সময় বজ্রপাত হলেন ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। এঘটনায় আহত চার জনকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও দুইজন মারা যান।
তিনি জানান, আহত অপর দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
১৬১৬ দিন আগে
কক্সবাজারে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় শুক্রবার বজ্রপাতে দুজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন-উপজেলার তাবলরচর গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে সিহাব উদ্দিন (৬০) এবং পটুয়াখালীর গলাচিপা গ্রামের সাত্তার হাওলাদারের ছেলে সাহাব উদ্দিন (৫০)।
সূত্র জানায়,শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে তাবলরচর এলাকায় একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় লবণ লোড করার সময় সিহাবের ওপর বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে এবং কুতুবদিয়া চ্যানেলে বজ্রপাতে সাহাব উদ্দিন অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু
হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, তাদের কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
আহত ব্যক্তি হলেন- কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের জেলেপাড়ার পারবেশ দাসের ছেলে সুশীল দাস (৩৬)। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে বজ্রপাতে শিশুসহ নিহত ৩
কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর হায়দার জানান, নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
১৬৩৩ দিন আগে
বান্দরবানে বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের বজ্রপাতে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ইউনিয়নের বাঙালিপাড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন, কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার লইক্ষ্যাচর ইউনিয়নের জিদ্দাবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. ইছাকের ছেলে মো. এনাম (৪৫) ও নবী হোসেনের ছেলে মো. শহীদ (১৮)। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা হন।
আরও পড়ুন: ১০ বছরে বজ্রপাতে দুই হাজার ৮০০ মৃত্যু: মো. এনামুর
ফাইতং ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, মো. এনাম ও তার ভতিজা মো. শহীদ ফাইতং ইউনিয়নের বাঙালিপাড়ায় ধানের চাষ করে। ধান পাহারা দেয়ার জন্য গাছের উপরে তৈরি করা মাচাং ঘরে রাতে অবস্থান করে ফসল পাহারা দিতে যায় তারা। সোমবার রাত ১১টার দিকে আচমকা প্রবল বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত হলে এনাম ও শহীদ ঘটনাস্থালে মারা যান।
আরও পড়ুন: জামালপুরে বজ্রপাতে নিহত ৩
এদিকে, একই সময় বজ্রপাতে উপজেলার লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা বাসুকুমার দের তিনটি ও মেরাখোলা মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা আব্দুর রহমানের একটি গরু মারা যায় বলে জানান চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাওরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে জেলে নিহত
১৮১৯ দিন আগে
১০ বছরে বজ্রপাতে দুই হাজার ৮০০ মৃত্যু: মো. এনামুর
১০ বছরে বজ্রপাতে দুই হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, বজ্রপাতে খোলা মাঠ ও হাওরে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বজ্রপাতে দুই হাজার ৮০০ জন মারা গেছেন।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২১ উপলক্ষে মঙ্গলবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: আড়াই হাজার কোটি টাকার উদ্ধার সামগ্রী ক্রয় করা হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্রপাতের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এক ডেসিমাল জায়গায় একটি পাকা ঘর থাকবে। প্রত্যেকটা ঘরে একটি করে লাইটিনিং অ্যারেস্টার দেয়া হবে, যাতে সতর্কবাতা শোনার ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে মানুষ সেই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেন। এছাড়া বজ্রপাত না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবেন
১৮১৯ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গোমস্তাপুরে বজ্রপাতের দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নে বজ্রপাতের এই ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন, ওই ইউনিয়নের বড়দাদপুর স্কুলপাড়া এলাকার এমরানের ছেলে ইয়াসিন (১৪) ও শেরপুর কোঠাডাঙ্গা এলাকার মৃত ঝাড়িয়া ওরাওয়ের ছেলে বিদয় ওরাও (৫২)।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বজ্রপাতে কিশোরসহ নিহত ৪
পার্বতীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী জানান, বৃহস্পতিবার ইয়াসিন তার বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সুবইল মাঠে ধান খেতে কাজ করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে বৃষ্টির সময় বজ্রপাত হলে ইয়াসিন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অন্যদিকে প্রায় একই সময়ে নিজ বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটা দূরে সোনাবার এলাকায় খেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে বিদয় ওরাও মারা যান।
আরও পড়ুন:জয়পুরহাটে বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু, আহত ৪
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৮৮০ দিন আগে
বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য সতর্ক হোন
বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য পরিবেশ বাঁচাতে হবে। নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে বৈশ্বিক উষ্ণতাকে। অন্যথায় বজ্রপাতের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় দেড়শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায় বজ্রপাতে। এ বছরেও বেড়ে চলেছে হতাহত ও মৃত্যুর সংখ্যা। চলতি জুন মাসে সিরাজগঞ্জ, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, মানিকগঞ্জ, ফেনী, মাদারীপুর, নোয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুরে সব মিলিয়ে বেশ কিছু মানুষ বজ্রপাতে মারা গেছেন। শুধু তাই নয়, পরিবেশের উপরেও পড়ছে বজ্রপাতের ক্ষতিকর প্রভাব।
এমতাবস্থায় বজ্রপাতের মত আকস্মিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য চলুন জেনে নেই বজ্রপাতের ব্যাপারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সম্প্রতি বাংলাদেশে বজ্রপাত বৃদ্ধির কারণ
সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম বজ্রপাতের অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পেছনে মূলত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও লম্বা গাছের সংখ্যা কমে যাওয়াকেই দায়ী করেছে।প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বজ্রপাত বাড়ে ১০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি। সম্প্রতি ঘন কালো মেঘের ওপরের ও নিচের অংশ দুটি পুল হিসেবে ভেসে বেড়াচ্ছে। ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহের মাত্রা বেড়ে সৃষ্টি হচ্ছে বজ্রপাত। সম্প্রতি কালো মেঘের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় ফলে বৃষ্টিপাতের সাথে পাল্লা দিয়ে বজ্রপাতের পরিমাণ বেড়েছে।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষক নিহত
ঝড়বৃষ্টির সময় বজ্রপাতের প্রভাব
মানুষের উপর প্রভাব
বজ্রপাত থেকে উৎপন্ন হয় প্রায় ১০ হাজার অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ যা থেকে মিলি সেকেন্ডের মধ্যে ৫০ হাজার কেলভিন তাপশক্তি ছড়িয়ে পড়ে। সেজন্যই যদি সরাসরি কোন মানুষের উপর বাজ পড়লে এর আকস্মিকতা বুঝে ওঠার আগেই তার শরীর অঙ্গার হয়ে যায়। অন্য ক্ষেত্রে বাজ পড়ার পরে হার্ট অ্যাটাক হওয়াটা স্বাভাবিক।
রুটগার্স নিউ জার্সি মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক লুইস নেলসনের মতে, বাজের ফলে সাধারণত তাৎক্ষণিকভাবে হৃদযন্ত্রের এক স্পন্দন বন্ধ হয়ে পরে দ্বিতীয়বারে বা দুই স্পন্দন পরে শুরু হয়।
আমেরিকার গণস্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসির তথ্যানুসারে, বজ্রপাতে আক্রান্ত লোক শরীর জ্বালা-পোড়া, শক এবং ট্রমায় ভোগে। কারো কারো মধ্যে দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, ত্বক নষ্ট এমনকি স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।
আপনি হয়ত ইতোমধ্যে জেনে থাকবেন যে, বজ্রপাতপৃষ্ঠ হয়েও অনেকে বেঁচে যায়। কিন্তু এরা কেউই স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে না। বজ্রপাতের বিদ্যুৎ মস্তিষ্কে প্রবেশ করলে এর তাপ ও স্পার্ক মস্তিষ্কের কোষগুলিকে পুড়িয়ে অকেজো করে দেয়। বেঁচে যাওয়া মানুষদের ক্ষেত্রে তাই ট্রমা, মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন প্রভৃতি পরিলক্ষিত হয়।
পরিবেশ বিনষ্টসহ অন্যান্য ক্ষতি
দাবানল
বাজ সরাসরি গাছের উপর পড়ে গাছে আগুন ধরিয়ে দেয়। এভাবে তাপ ছড়ানোর ফলে দাবানলের সৃষ্টি হয়। বিমান ও অন্যান্য পরিবহনের ক্ষতিবিমানবন্দর, বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যোগাযোগের টাওয়ার এবং নেভিগেশন বীকনগুলি বজ্রপাতের সময় অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে থাকে। বজ্রপাতের ফলে বিমানের ক্রমবর্ধমান বিলম্ব, বাতিলকরণ ও রুটের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
বজ্রপাত সময়কালীন বাঁচার উপায়
১) ঝড়বৃষ্টির ও বজ্রপাতের সময় এপ্রিল-জুন মাস। সাধারণত ৩০-৪৫ মিনিট পর্যন্ত বজ্রপাত স্থায়ী হয়। এ সময়টুকু ঘরে থাকাটাই সমীচীন।২) এ সময় ঘন কালো মেঘ দেখলেই ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। জরুরি প্রয়োজনে রবারের জুতা পড়ে বেরতে পারেন। ৩) মুক্ত আকাশের নিচে ধানখেত বা খোলা মাঠে থাকলে দ্রুত পায়ের আঙ্গুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙ্গুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকুন। ৪) যত দ্রুত সম্ভব দালান-কোঠা বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে গিয়ে আশ্রয় নিন। টিনের চালা ঘর অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন।৫) গাড়ির ভেতর অবস্থান করলে গাড়ির ধাতব অংশ থেকে যথাসম্ভব শরীরকে বাঁচিয়ে রাখুন। গাড়িটি নিয়ে দ্রুত কোন কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন। ৬) মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টিভি, ফ্রিজসহ সকল ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। বজ্রপাতের আভাস পেলে আগে থেকেই এগুলোর প্লাগ খুলে রাখুন।৭) ধাতব হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এ ক্ষেত্রে প্লাস্টিক বা কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করতে পারেন।
৮) এ সময় সমুদ্র বা নদীতে থাকলে মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে অবস্থান করুন।৯) বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির ধাতব রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না।১০) বিস্তৃত জায়গায় একসাথে কয়েকজন থাকলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে দূরে সরে যান।১১) বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সবাই এক কক্ষে ভিড় না করে আলাদা আলাদা রুমে চলে যান।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে আম কুড়াতে গিয়ে ...
যে স্থানগুলো বজ্রপাতের জন্য বিপজ্জনক
১) বজ্রপাতের সময় খোলা যেমন ধানখেত, মাঠ-ঘাট, নদী ও উঁচু জায়গা সব থেকে বিপজ্জনক। বিস্তৃত ফাঁকা জায়গায় যাত্রী ছাউনি বা বড় গাছে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।২) উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বাজ পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে তাই এ সময় গাছ বা খুঁটির কাছাকাছি থাকা নিরাপদ নয়।৩) বাড়িতে থাকলে জানালার কাছে থাকা যাবে না। ৪) রাস্তায় থাকলে অবশ্যই জমে থাকা পানি এবং বিদ্যুতের ছেঁড়া তার এড়িয়ে চলুন।
বজ্রপাতে কেউ আহত হলে কি করণীয়
সাথে সাথেই আহত ব্যক্তিতে খালি হাতে স্পর্শ করতে যাবেন না। অন্যথায় আপনিও শক পেতে পারেন। প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সিপিআর দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন। হাত-পা অনবরত মালিশ করবেন। যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, বজ্রপাত ও বৈদ্যুতিক শকে আহত ব্যক্তির একই চিকিৎসা।
বজ্রপাত থেকে বাঁচার সর্বোত্তম উপায়
বজ্রপাত যেহেতু একটি আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাই আগে থেকেই এর জন্য প্রস্তুত থাকার কোনো বিকল্প নেই।
১) অপেক্ষাকৃত বেশি দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে আগেই সেখানে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করুন। যেহেতু প্রত্যন্ত অঞ্চলে মৃত্যুর হার বেশি, তাই কৃষক, জেলেসহ যারা খোলা স্থানে কাজ করে তাদেরকে বজ্রপাতের ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান দিয়ে সতর্ক করুন। এই খেটে খাওয়া মানুষগুলো নিত্যদিনের খাবারের জন্য যেহেতু প্রতিদিনের কাজের উপর নির্ভরশীল, তাই সরকারিভাবে এদের জন্য বিশেষ প্রণোদোনার ব্যবস্থা করা উচিত।২) সবচেয়ে মোক্ষম উপায় হলো যথেষ্ঠ পরিমাণে গাছ লাগানো যেগুলো দ্রুত লম্বা হয়ে বেড়ে ওঠে। এক্ষেত্রে বেশি বেশি তাল ও নারকেল গাছ লাগাতে পারেন। এভাবে বনায়নের ফলে আবহাওয়ায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।৩) শহরে প্রতিটি বিল্ডিংয়ে বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন নিশ্চিত করুন।৪) সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও সুউচ্চ টাওয়ার নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে বজ্রপাত টাওয়ারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। লোকালয় বেঁচে যাবে।
বজ্রপাত পরবর্তী পদক্ষেপ
যেহেতু দেশের মধ্যাঞ্চল বজ্রপাতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই সে সব অঞ্চলের লোকদের ক্ষতির পরিমাণই বেশি। তাই সরকারি ও বেসরকারি সবমহল থেকেই তাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসা উচিত। আহতরা যেন উপযুক্ত চিকিৎসা এবং নিহতদের পরিবার যেন নিজেদের জীবন চালানোর জন্য অর্থ ও কাজ পায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।শহরে ভাঙা গাছ ও খুঁটি উপরে ফেলে সেখানে গাছ লাগান। ছেঁড়া তার ও জমে থাকা পানি পরিষ্কারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন। ভাঙা কাঁচ, দালানের কোন অংশ ভেঙে পড়ে থাকলে সেগুলো সাবধানে পরিষ্কার করুন। সাহায্যকারী কোন সংস্থার আশায় বসে না থেকে নিজেরা উদ্যমী হয়ে এক সাথে একে অপরের উপকারে নেমে পড়ুন
শেষাংশ
সর্বপরি বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য উচিত মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, যেহেতু এই অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের কিছুই করার থাকে না। এই দুর্যোগের পেছনে মানুষের হাত নেই বললে মিথ্যে বলা হবে। কারণ বিশ্ব জুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি আর গাছপালার সংখ্যা কমে যাওয়া এগুলো সব আমাদেরই কাজ। কিন্তু এ অবস্থার উন্নতি অসম্ভব কিছু নয়। এর জন্য প্রয়োজন আমার আপনার সদিচ্ছা এবং প্রত্যেককে প্রত্যেকের জায়গা থেকে এগিয়ে আসা।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বজ্রপাতে ...
১৯৪০ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলায় বজ্রপাতে নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
নিহতরা হলেন শাহজাদপুর উপজেলার দুগলি গ্রামের আজম ব্যাপারীর ছেলে স্কুলছাত্র নাজমুল (১৫), একই গ্রামের আজগর আলীর ছেলে হাসেম আলী (২৫) ও চিথুলিয়া গ্রামের শাকেরা খাতুন (৬০) এবং উল্লাপাড়া উপজেলার পশ্চিম কৃষ্টপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের মেয়ে স্কুল ছাত্রী মোহনা খাতুন (১৭)।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে বাবা-ছেলেসহ নিহত ৩
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শাহজাদপুর উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামে বাড়ির আঙ্গিনায় কাজ করার সময় সন্ধ্যার আগে বজ্রপাতে শাকেরা খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। একই উপজেলার দুগলি গ্রামে বজ্রপাতে নাজমুল ও হাসেম আলী ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। এদিকে উল্লাপাড়া উপজেলার পশ্চিম কৃষ্টপুর গ্রামে বজ্রপাতে মোহনা খাতুন নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু
উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পশ্চিম কৃষ্টপুর গ্রামে বাড়ির পাশে কাজ করছিল মোহনা। এসময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
১৯৫৯ দিন আগে