অভিযোগ
এসএসসির খাতায় উত্তর লিখে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত, পটুয়াখালীতে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে কথিত ‘সিক বেডে’ এক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার সুযোগ করে দেওয়া এবং প্রকাশ্যে গণিত পরীক্ষার খাতায় উত্তরপত্র লিখে সরবরাহ করার ঘটনায় খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ৩ মে গণিত পরীক্ষার দিন অসাদুপায় অবলম্বনের দায়ে খেপুপাড়া মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ভিজিলেন্স টিম বহিষ্কার করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক জহিরুল ইসলাম (সমাজবিজ্ঞান) ও মেজবা উদ্দিন ওই শিক্ষার্থীকে অঙ্কের সমাধান সংবলিত পরীক্ষার বোর্ডের আলাদা বাড়তি খাতা সরবরাহের প্রমাণ মিলেছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ এ ঘটনার পরই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেককে বিষয়টির তদন্তের দায়িত্ব দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, নকল সরবরাহ করা, কথিত ‘সিক বেড’ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই শিক্ষকের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। শুধু তা-ই নয়, এই দুই শিক্ষকের যোগসাজশে বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীকে প্রশ্নের উত্তরপত্র লিখে সরবরাহ করা হয়েছিল। এমনকি সিসি ক্যামেরাবিহীন ওই কক্ষের মূল দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক শিক্ষক দেবাশীষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নকলে সরাসরি সহায়তার প্রমাণও মিলেছে।
গত ৬ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থীকে শিক্ষা বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতায় কয়েকটি অঙ্কের সমাধান লিখে দেওয়ার বিষয়ে সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন। শিক্ষার্থীর খাতার হাতের লেখার সঙ্গে অতিরিক্ত খাতার হাতের লেখার মিল নেই। মূল খাতার অর্ধেকের বেশি খালি থাকা সত্ত্বেও কক্ষ পরিদর্শকের সই ও তারিখবিহীন গণিতের সমাধান করা বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতা পাওয়া যায়।
তদন্ত কর্মকর্তা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার নমুনা পরীক্ষাও করেন। এরপর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর কাছে পাওয়া অতিরিক্ত খাতার লেখার সঙ্গে মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার বহু অক্ষরের মিল পাওয়া গেছে। তারপরও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডির মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর বাবা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান, তার সন্তানের অসুস্থতার খবর তার জানা ছিল না।
কক্ষপরিদর্শক দেবাশীষ চন্দ্র সিকদার তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, পরীক্ষা চলাকালীন (ঘটনার দিন) শিক্ষক জহিরুল ইসলাম ৯ নম্বর কক্ষে (সিসি ক্যামেরাবিহীন) বহু নির্বাচনি প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। কিছুক্ষণ পরেই সহকারী শিক্ষক মেজবা উদ্দিন ওই কক্ষে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীর সৃজনশীল প্রশ্নের ছবি তুলে নেন। এক ঘণ্টা পরে বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত উত্তরপত্রে প্রশ্নের সমাধান করে ওই পরীক্ষার্থীকে তা সরবরাহ করেন। কক্ষ পরিদর্শক দেবাশীষ মেজবা উদ্দিনকে বাধা দিলে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাকে নিবৃত থাকতে বাধ্য করেন। এরপর কেন্দ্র সহকারী জহিরুল ইসলাম দাঁড়িয়ে থেকে ওই পরীক্ষার্থীকে নকলে সহায়তা করেন। এমনকি মেডিকেল সনদ ছাড়া সভাপতি কিংবা কেন্দ্রের পরামর্শ ছাড়া ‘সিক বেডে’ ক্যামেরাবিহীন কক্ষে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মুহাম্মদ মহসিন রেজাকে অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন ও জহিরুল ইসলাম চাপ প্রয়োগ করেন বলেও উল্লেখ করেছেন দেবাশীষ।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব জানান, তিনি এই প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। মেডিকেল সনদ ব্যতীত বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া ‘সিক বেডের’ কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষক তাকে চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত এবং ওই দুই শিক্ষকের এ বিষয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও তিনি তদন্ত টিমকে জানিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার মতামতে উল্লেখ করেছেন, কেন্দ্র সহকারী কম্পিউটার অপারেটর জহিরুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক মেজবা উদ্দিন বহিষ্কৃত ওই পরীক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সিসি ক্যামেরাবিহীন কক্ষে মেডিকেল প্রত্যয়ন ব্যতীত ‘সিক বেডে গণিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং বোর্ডের সরবরাহ করা অতিরিক্ত উত্তরপত্রে নকল সরবরাহ করায় একই সঙ্গে অসাদাচারণ ও ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। ঘটনাটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা-২০২৪-এর প্রবিধান-৫২ (২) (জ), ৫২ (২) (ঝ)-এর দণ্ড ও প্রবিধান ৫২-এর অপরাধযোগ্য দণ্ড ও দি পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট ১৯৮০-এর ৮ ও ৯ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন তিনি।
এই প্রতিবেদনের আলোকে উপরোক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালক, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদনসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয় অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন বলেন, ‘মূলত কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শক তাদের অপরাধ আমাদের ওপর চাপাচ্ছেন। আমাদের ওপর আনীত অভিযোগ কিংবা দায় সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। কারণ কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকের অনুমতি ছাড়া অন্য কারও কক্ষে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, জড়িত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার কার্যক্রম থেকে তাদের অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডকে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে প্রতিবেদন আকারে প্রদান করা হয়েছে। সরকারের নকলমুক্ত পরিবেশকে তারা সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন অপকর্ম করেছেন বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেছেন।
১৮ দিন আগে
বহিরাগত দিয়ে রাবি ছাত্রদল নেতাকে পেটানোর অভিযোগ কর্মীর বিরুদ্ধে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিরাগতদের দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শাওন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন ডিসিপ্লিনের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। অভিযুক্ত আকাশ একই ডিসিপ্লিনের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শাওন মোটরসাইকেলে করে চারুকলার দিকে যাওয়ার সময় আকাশসহ কয়েকজন তাকে থামান। একপর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি মেরে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া হয়।
শাওনের অভিযোগ, হঠাৎ করেই তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার কারণ হিসেবে তিনি জানান, প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পর একদিন আকাশ চারুকলার মঞ্চে ধূমপান করছিলেন। সেখানে উপস্থিত সিনিয়র শিক্ষার্থীদের স্থান ছাড়তে বললে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এছাড়া আকাশ বিভিন্ন ঘটনায় তার নাম ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগ করেন শাওন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পূর্ব বিরোধের জেরে বহিরাগতদের এনে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে একজন বহিরাগতকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩০ দিন আগে
ইবির শিক্ষিকা হত্যায় ৪ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় চারজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে নিহতের স্বামী মো. ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় এ অভিযোগ করেন।
এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানকে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে নিহত আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী চারজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সহকর্মী ও স্বজনরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ জোহরের নামাজের পর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি চার সন্তানের মা ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ কক্ষে বসে থাকা অবস্থায় তাকে ছুরিকাঘাত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে তিনি নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৮৩ দিন আগে
এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে তুরস্কে ডয়চে ভেলের সাংবাদিক গ্রেপ্তার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলের অনুসন্ধানী সাংবাদিক আলিজান উলুদাগকে গ্রেপ্তার করেছে তুরস্ক সরকার। ওই অভিযোগ একটি মামলা দায়ের হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উলুদাগকে তার আঙ্কারার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আলিজান উলুদাগগ ডয়চে ভেলের তুর্কি সার্ভিসে কাজ করেন। তার বিরুদ্ধে এক্সে করা পোস্টের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিচারব্যবস্থা ও দুর্নীতির মামলার ওপর প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত এই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পর ইস্তাম্বুলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগ আনেন। এই অপরাধে তার সর্বোচ্চ ৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে উলুদাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার পোস্টগুলো ছিল একজন বিচারবিষয়ক সাংবাদিক হিসেবে করা বৈধ সমালোচনা। আদালতের নথি উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে কুমহুরিয়েত পত্রিকা।
তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানায়। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছে তারা।
অন্যদিকে, ডয়চে ভেলের মহাপরিচালক বারবারা মাসিং উলুদাগের মুক্তি দাবি করে এ গ্রেপ্তারকে ‘ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেমূলক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন।
ইস্তাম্বুলের চাগলায়ান আদালত ভবনের বাইরে সাংবাদিকরা উলুদাগের আটকাদেশের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান।
সংবাদমাধ্যম বিষয়ক অধিকার সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স তুরস্ককে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে দমনমূলক দেশগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির দাবি, দেশটির অধিকাংশ গণমাধ্যম সরকারি নিয়ন্ত্রণে এবং সাংবাদিকরা প্রায়ই আইনি চাপ বা ভয়ভীতির মুখে পড়েন।
তুর্কি সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মী দেশটির কারাগারে আছেন।
৯৬ দিন আগে
নির্বাচনি তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণে দায়িত্বে ১০ কর্মকর্তা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন-ইসির ১০ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ইসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়
দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে খুলনা অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দীন আহমদ (মোবাইল: ০১৭১২৫৯১১৪৪, ইমেইল: [email protected])।
ফরিদপুর অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হাসান ভূঞা (মোবাইল: ০১৭১১৩৬৯৯৭৬, ইমেইল: [email protected])।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার (মোবাইল: ০১৭১২০৪৪১৮৮, ইমেইল: [email protected])।
বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ আল-মামুন (মোবাইল: ০১৯৩৭৬৩৮০৩৫, ইমেইল: [email protected])।
সিলেট অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন ইসির সহকারী পরিচালক মিসবাহ উদ্দীন আহমেদ (মোবাইল: ০১৭১৭২৪৪০৭৮, ইমেইল: [email protected])।
ঢাকা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক জাকির মাহ্মুদ (মোবাইল: ০১৭১৮৫৬৪৬৩৫, ইমেইল: [email protected])।
রংপুর অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব সৈয়দ গোলাম রাশেদ (মোবাইল: ০১৮১৮২৬৮০৮২, ইমেইল: [email protected])।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাঃ সরওয়ার হোসেন (মোবাইল: ০১৭১৭৪০৫৫৯৪, ইমেইল: [email protected])।
রাজশাহী অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোঃ মমতাজ-আল-শিবলী (মোবাইল: ০১৬৭৬৩২৪৬০৯, ইমেইল: [email protected])।
কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন ইসি সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো: ইকরামুল হাসান (মোবাইল: ০১৭৯৭১৮৫১২৩, ইমেইল: [email protected])।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের দুটি ই-মেইলে নির্বাচন-সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ পাঠানো যাবে ([email protected], [email protected])।
নির্বাচন কমিশন গত ১৪ ডিসেম্বর ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি গঠন করেছে। এসব কমিটির কাছেও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা যাবে।
১৪১ দিন আগে
রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ জুলাই আহতদের, ক্ষোভ প্রকাশ
রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে জুলাই আন্দোলনে আহতরা তাদের চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ জুন) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটির সদস্যরা হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে চিকিৎসাবঞ্চিতরা তাদের কাছে এই অভিযোগ করেন।
চিকিৎসা নিতে আসা সৌরভ নামের একজন আহত বলেন 'এখানে কাউকেই সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। যারা ভর্তি ছিল কর্তৃপক্ষ তাদের বলেছে ঈদে বাড়ি যেতে এবং বাড়ি থেকে ঘুরে আসার পর তাদের আবার ভর্তি নেওয়া হবে। কিন্তু তারা(হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) তাদের কথা রাখেনি। বাড়ি থেকে আসার পর আহতদের আর ভর্তি নেওয়া হয়নি। আর যারা আহত হয়ে পড়ে আছে তাদের পচন ধরে যাচ্ছে। আপনারা যদি জিজ্ঞেস করেন আহতরা একই সুরে একই কথা বলবে, যে আমাদের চিকিৎসা দরকার।’ আমরা যদি সুচিকিৎসা না পাই—তাহলে এই হাসপাতালে আবার জুলাই হবে, বলেন সৌরভ।
আশিক নামের আরেকজন বলেন, আমি বাড়ি থেকে ১১ দিন পর এসেছি। আমাকে ভর্তি নেওয়নি। তারা বলেছে ভর্তি নেবে না, আমি তাই ফ্লোরে ঘুমাই এখন। কোনো চিকিৎসাও পাইনা। যদি ভর্তি নেয়, চিকিৎসা দেয়, সেজন্য এখানেই থাকি।
কাঁধে ব্যান্ডেজ লাগানো আয়েশা নামের এক নারীকে হাসপাতালের ভিতরে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বলে দাবি তার। তিনি জানান, চিকিৎসা এবং সহায়তা তার পাওয়ার কথা ছিল সেটা তিনি পাননি।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বৈষম বিরোধীবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটির সদস্যরা ব্রিফিং করেন। কমিটির মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশা বলেন, 'আমরা হাসপাতাল পরিদর্শন করে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। একজন মা তার ছেলেকে নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন, এরপর ফিরে আসার পর ছেলেকে আর ভর্তি নেওয়া হয়নি বলে সেই মা অভিযোগ করেছেন আমাদের কাছে।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী সেই মা আমাদের জানান, তিনি হাসপাতালে এবং বাসা বাড়িতে কাজ করে ছেলের খাবার ওষুধের টাকা জোগাড় করছেন। আমরা শুনেছি তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না এবং চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো আশ্বাসও দেওয়া হয়নি।
পড়ুন: তোপের মুখে পঙ্গু হাসপাতাল ছাড়লেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা
৩২৬ দিন আগে
নরসিংদীতে ইউনিয়ন পরিষদে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
নরসিংদীর রায়পুরায় ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারীর কক্ষে শামীম নামে এক ব্যক্তি মোহাম্মদ শাহিন নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২ জুন) দুপুর ২-৩টর দিকে উপজেলার হাসনাবাদে স্থাপিত আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারীর কক্ষের ভিতর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহিন (৪২) মির্জানগর ইউনিয়নের মেজেরকান্দী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। হাসনাবাদ বাজারের একজন স্যানিটারী ব্যবসায়ী তিনি।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেলা দুইটার দিকে তিনি ‘তাহসিন ইলেক্ট্রনিক অ্যান্ড স্যানিটারী’ প্রতিষ্ঠানের ট্রেডলাইসেন্স করতে আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ যান। সেখানে হিসাব সহকারীর কক্ষে বসে ট্রেডলাইসেন্স সংক্রান্ত কথা বার্তা বলার সময় হঠাৎ করে শামীম একটি ধারালো দা নিয়ে শাহিনকে কোপাতে থাকে। এসময় সঙ্গে থাকা হিসাব সহকারী কামাল হোসেন সহ অন্যান্যরা ঘাতক শামীমকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। শামীমের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সচিবসহ আরও দুইজন আহত হয়। পরে এলাকাবাসী ঘাতক শামীমকে আটক করে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে।
এ ব্যাপারে আমিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে মাদক সেবী শামীম মাতাল অবস্থায় চিৎকার চেচামেচি করতে থাকে। এসময় ট্রেডলাইসেন্স করতে আসা শাহিন ও আমি মাদকসেবী শামীমকে চিৎকার চেচামেচি করতে বারণ করি। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের উপর আক্রমণ করতে এলে আমরা রুমের দরজা বন্ধ করে দেই।
এসয় মাদক সেবী শামীম একটি বাঁশ নিয়ে দরজায় সজোরে আঘাত করে দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সে ব্যর্থ হয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে সে ধারালো দা নিয়ে আমার রুমে ঢুকেই শাহিনকে দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে থাকে। আমিসহ অন্যরা ফিরানোর চেষ্টা করলে দুইজন আহত হই। এ অবস্থায় সে শাহিনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ব্যবসায়ী শাহিনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পড়ুন: কুষ্টিয়ায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদিল মাহমুদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে যাই এবং ঘাতক শামীমকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩২৯ দিন আগে
ডাকসু নির্বাচন বানচালে পাঁয়তারার অভিযোগ, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা
সাম্য হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক ঘটনায় স্থবির হয়ে আছে ডাকসু নির্বাচন কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশন গঠনের সময়সীমা মে মাসের মাঝামাঝি নির্ধারিত থাকলেও এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে ডাকসু নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শনিবার (২৪ মে) দুপুরে ডাকসু নির্বাচনসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা। মিছিল শেষে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ভবনের সামনে অবস্থান নেন।
এসময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বলেন, ‘আজকের মধ্যেই ডাকসুর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। আর কোনো টালবাহানা আমরা মেনে নেব না। ডাকসু নির্বাচন বানচালের কোনো চেষ্টাই সফল হবে না।’
আরও পড়ুন: জুনের আগে ডাকসু নির্বাচনের দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবিগুলো হলো- সাম্য হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদ্দাসির চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন এবং পুলিশের নির্লিপ্ততা পরিলক্ষিত হচ্ছে। একটি মহল এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ডাকসু নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে। সাম্য হত্যাকাণ্ডের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ইস্যু করে পরিকল্পিতভাবে ডাকসু নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চলছে। বিষয়টি এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুরো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকাণ্ড ব্যাহত এবং ডাকসু নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।’
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের বক্তব্য, ‘আমরা আর কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। প্রশাসনকে এখন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আমাদের সামনে আসতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যাল প্রশাসন জানিয়েছে, সাম্য হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
এদিকে একই দাবিতে উপাচার্য বাংলোর সামনে চতুর্থ দিনের মতো আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছে স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দীন খালিদসহ একদল শিক্ষার্থী। অনশনরত অবস্থায় দুই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। এখনো পর্যন্ত তারা চিকিৎসাধীন।
৩৬৮ দিন আগে
ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাত ও ভিডিও ফাঁসের অভিযোগ
যশোর জেলা ছাত্রদলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাফার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাত এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফাঁসের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার আমতলী এলাকার বাসিন্দা মাহিনুর আক্তার মাহি নামের এক তরুণী যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ফেসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে মাহি ও রাফার মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে রাফা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে মাহি রাজি হন এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর রাফার অনুরোধে মাহি যশোরে আসেন। ওই দিন বিকালে মনিহার সিনেমা হলের সামনে থেকে রাফা তাকে যশোর আইটি পার্কের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে সন্ধ্যায় বিয়ের আশ্বাসে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। এ সময় কৌশলে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন রাফা।
আরও পড়ুন: সীমান্তে উত্তেজনা: বাংলদেশের প্রতিবাদ সত্ত্বেও পুশ-ইন অব্যাহত
পরবর্তীতে রাফা তাকে জানায়, তার কাছে কিছু অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও আছে—যেগুলো মাহি কথা না শুনলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
ভিডিও ফাঁসের হুমকি দিয়ে মাহির কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন রাফা। টাকা না দিলে ভিডিও ছড়ানোর হুমকি দেন। ভয়ে মাহি যশোর ইসলামী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে টাকা দেন। পরে আরও কয়েক দফায় মোট ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাহি জানান, ২৩ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বান্ধবী স্বর্ণা খাতুনকে নিয়ে রাফার শংকরপুরের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে সম্পর্কের বিষয়টি জানান। রাফার বাবা-মা সম্পর্ক মেনে নেওয়ার কথা বললেও, রাফা বন্ধুমহলের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে হুমকি দেন এবং মাহিকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
৩৬৮ দিন আগে
বারবার ডাকলেও আসেননি ডাক্তার, অবশেষে বৃদ্ধের মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় আব্দুল মোমিন মালিতা পানু (৮০) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। এসময় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালে।
সোমবার (৫ মে) রাত ৯টা ৪০মিনিটে হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুল মোমিন মালিতা।
তিনি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত হায়দার মালিতার ছেলে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সদর হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আব্দুল মোমিন সোমবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তারা একাধিকবার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদেরকে ওয়ার্ডে আসার অনুরোধ করেন। তবে তিনি নিজে না গিয়ে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক পাঠান। পরে প্রায় ২০ মিনিট পর তিনি এসে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মৃতের বড় ছেলে মাসুদ আল মাহমুদ তুষার বলেন, ‘অ্যাজমা-জনিত শ্বাসকষ্ট ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চারদিন ধরে বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা বারবার চিকিৎসককে ডাকলেও তিনি আসেননি। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়ত বাবা বেঁচে যেতেন।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ডা. আব্দুল কাদেরের ওপর চড়াও হন। তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় চিকিৎসকের। পরে হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আরও পড়ুন: ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বন্দির মৃত্যু
চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদের বলেন, জরুরি বিভাগে সবসময় রোগীর চাপ থাকে। প্রথমে ইন্টার্ন চিকিৎসক পাঠানো হয় এবং তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে রোগীর স্বজনরা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও মারধরের চেষ্টা করেন, ফলে পুলিশের সহায়তা নিতে হয়।
চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদের বলেন, ‘জরুরি বিভাগে সব সময়ই রোগীর চাপ থাকে। সব সময় ওয়ার্ডে যাওয়ার সুযোগ হয়ে উঠে না। প্রথমে ইন্টার্ন চিকিৎসককে পাঠানো হয়, তারা রোগীর প্রাথমিক পরিস্থিতি জানালে আমরা সেই মোতাবেক চিকিৎসা দেই।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘রোগীর স্বজনরা জরুরি বিভাগে এসে আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন, গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করেছেন। এ কারণে আমাকে পুলিশের সহায়তা নিতে হয়েছে।’
এদিকে, রাত প্রায় ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আব্দুল মোমিন মালিতার লাশ তার গ্রামের বাড়ি গোপালপুরের উদ্দেশ্যে সদর হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও আবাসিক মেডিকেল চিকিৎসা কর্মকর্তাকে (আরএমও) একাধিবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
৩৮৭ দিন আগে