বিমান হামলা
নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলায় শতাধিক নিহত, দায় অস্বীকার সেনাবাহিনীর
নাইজেরিয়ার জামফারা অঙ্গরাজ্যের একটি বাজারে সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তবে দেশটির সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় বেসামরিক কেউ নিহত হয়েছেন, এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্থানীয় সময় সোমবার (১১ মে) এক বিবৃতিতে জানায়, রবিবার (১০ মে) জামফারা অঙ্গরাজ্যের তুমফা এলাকার একটি বাজারে সামরিক বিমান হামলা চালানো হয়।
ওই রাজ্যের রেড ক্রস কর্মকর্তা ইব্রাহিম বেলো গারবা এ ঘটনাটি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই হামলায় একাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নাইজেরিয়ার পরিচালক ইসা সানুসি এপিকে বলেন, হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু একটি গ্রামেই ৮০ জনকে দাফন করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন কি না, এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। তারা সবাই সাধারণ মানুষ। নিহতদের বেশিরভাগই ছিল তরুণী ও শিশু।
এদিকে, নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী এপিকে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা দাবি করছে, গণমাধ্যমে যেভাবে বেসামরিক হতাহতের দাবি করা হচ্ছে, তার সঠিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল মাইকেল ওনোজা বলেন, ‘বেসামরিক মানুষ কখনোই আমাদের লক্ষ্য নয়। সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ ওই এলাকায় সামরিক অভিযান এখনও চলছে বলে জানান তিনি।
গত মাসেও নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনীর ভুলবশত চালানো এক হামলায় ১০০ জন নিহত হয়েছিল। অ্যামনেস্টির এই অভিযোগটি নাইজেরিয়ায় বেসামরিক মানুষের ওপর ভুলবশত সামরিক বিমান হামলার আরেকটি ঘটনা সামনে এনেছে। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বোকো হারামসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলায় সাধারণ মানুষ নিহতের পেছনে বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এর আগেও সেনাবাহিনীর হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
যদিও নাইজেরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, অভিযানের সময় তাদের হামলার লক্ষ্য থাকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা, কিন্তু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিশে থাকে। এ কারণে আলাদা করে তাদের চিহ্নিত করা সেনাবাহিনীর জন্য জটিল হয়ে পড়ে। ফলে নিহত হয় সাধারণ মানুষ।
১৪ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩৯ জন নিহত
লেবাননে ইসরায়েলের টানা বিমান হামলায় আরও অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৯ মে) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে সাকসাকিয়েহতে ইসরায়েলি হামলার খবর জানায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ওই হামলায় ‘প্রাথমিকভাবে সাতজন শহিদ হয়েছেন, যার মধ্যে একটি মেয়ে শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন, তাদের মধ্যে তিনটি শিশু।’
এদিকে আইডিএফ দাবি করেছে, তারা ওই এলাকায় ‘সামরিক কাজে ব্যবহৃত একটি স্থাপনা থেকে পরিচালিত হিজবুল্লাহ সদস্যদের’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তারা আরও জানায়, হামলার আগে ‘নির্ভুল অস্ত্র ও আকাশপথে নজরদারির’ মাধ্যমে বেসামরিক মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানায় আইডিএফ।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সাকসাকিয়েহ শহরে ইসরায়েলের এক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং ‘নিরীহ বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির খবর সম্পর্কে’ অবগত রয়েছে।
অন্যদিকে, নাবাতিয়েহ এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা এক সিরীয় নাগরিক ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, প্রথম হামলার স্থান থেকে সরে যাওয়ার পর ড্রোনটি দ্বিতীয়বার হামলা চালায়, এতে বাবা নিহত হন। এরপর ড্রোনটি মেয়েটিকে ‘সরাসরি তৃতীয়বারের মতো’ লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়। মেয়েটির জীবন রক্ষায় অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের অধিকাংশ বিমান হামলা দক্ষিণ লেবাননে হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
এদিকে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। এতে তিনজন ইসরায়েলি সেনা সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের আলাদা করে হিসাব দেয়নি।
ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে সীমান্তবর্তী লেবাননের একটি অংশ দখল করে রেখেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উত্তরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্য তারা ‘হিজবুল্লাহমুক্ত নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তুলতে চায়।
এসব এলাকায় পুরো গ্রাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যা গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, কিছু ঘটনা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, চলমান ইসরায়েলি হামলার জবাবে শনিবার তারা উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে ‘হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠনের ছোড়া বিস্ফোরকবাহী ড্রোন’ শনাক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এরপর থেকে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিহত করার পর ২ মার্চ পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন ছোড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। মার্চের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী পুনরায় দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করে এবং সেখানে গ্রাম ধ্বংসের পাশাপাশি প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা দখলে রাখে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৭৯৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ১৭ জন সেনা ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন আরও দুই বেসামরিক ব্যক্তি।
১৭ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর ৩ কমান্ডার নিহত
লেবাননে ইসরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর ৩ কমান্ডারসহ আরও ৮ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েন বলে জানিয়েছে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) প্রাথমিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে জানায়, পূর্ব লেবাননের রিয়াক এলাকায় একটি ভবনে চালানো বিমান হামলায় ১০ জনের বেশি নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছে।
পরে জানা যায়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩৫ জন। এছাড়া নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।
নিহতদের মধ্যে হিজবুল্লাহর ৩ কমান্ডার ছিলেন। তারা হলেন— হুসেইন মোহাম্মদ ইয়াঘি, আলি জেইদ আল-মুসাওয়ি এবং মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল-মুসাওয়ি।
কমান্ডার হুসেইন মোহাম্মদ ইয়াঘির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তিনি লেবানন ও এর জনগণের প্রতিরক্ষায় শহিদ হয়েছেন।
লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হিজবুল্লাহর অবস্থানসহ পূর্ব লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৬ টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। তবে, তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মাঝেমধ্যেই লেবাননে হামলা চালিয়ে আসছে।
৯৫ দিন আগে
সীমান্তে ফের উত্তেজনা, কম্বোডিয়ায় থাইল্যান্ডের বিমান হামলা
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দোষারোপের মধ্যেই কম্বোডিয়ার সঙ্গে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ড।
থাই সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, সোমবার (৮ নভেম্বর) সকালে থাইল্যান্ডের সিসাকেট প্রদেশে কম্বোডিয়ান বাহিনীর গুলিতে এক থাই সেনা নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এরপরই বিমান হামলা চালিয়েছে তারা। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার দাবি, থাই বাহিনীই প্রথমে হামলা চালায়।
সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধ চলতি বছরের জুলাইয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। পাঁচ দিন ধরে চলা ওই সংঘর্ষে বহু সেনা ও বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এই দুই দেশ অক্টোবরে এক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করে। তবে তারপরও উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি।
সর্বশেষ সংঘর্ষের পর থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কম্বোডিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে দেশটির ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে গেছে। এ ছাড়া আরো অনেকে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘থাইল্যান্ড কখনো সহিংসতা চায়নি। আমি আবারও বলতে চাই, থাইল্যান্ড কখনো লড়াই বা আগ্রাসন শুরু করেনি। তবে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’
অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার তথ্যমন্ত্রী নেথ ফিয়াকত্রা জানিয়েছেন, থাই সীমান্তের কাছে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার গুলি বিনিময়ের মাধ্যমে শুরু হয় সংঘর্ষ
নভেম্বরের শুরুর দিকে ল্যান্ড মাইনে কয়েকজন থাই সেনা আহত হওয়ার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে ব্যাংকক। যদিও মাইন অপসারণে তাদের যৌথভাবে কাজ করার কথা, কিন্তু উভয় দেশই একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে।
এর মধ্যে গতকাল (রবিবার) সীমান্তে আবারও এক দফা সংঘর্ষ ঘটে। এবারও একে অপরকে দোষারোপ করে দুপক্ষ।
থাই সেনাবাহিনী জানায়, কম্বোডিয়া থেকে চালানো গুলিতে দুই থাই সেনা আহত হয়। এরপর থাই বাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে এই গোলাগুলি।
পরে থাই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল উইন্থাই সুবারি আজ (সোমবার) বলেন, কম্বোডিয়ার সেনারা থাই ভূখণ্ডের একাধিক স্থানে গুলি চালিয়েছে। এতে এক সেনা নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
‘কম্বোডিয়ার গোলাবর্ষণ দমন করতেই’ থাইল্যান্ডের বিমান বাহিনী কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অপরদিকে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, থাইল্যান্ড থেকেই প্রথমে গুলি চালানো হয়েছে। তাদের (কম্বোডিয়া) পক্ষ থেকে পাল্টা গুলি পর্যন্ত চালানো হয়নি।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচেতা বলেন, ‘সোমবার থাই বাহিনীই কম্বোডিয়ার সেনাদের ওপর হামলা চালায়। প্রাথমিক আক্রমণের সময় কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা হামলা করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি, এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে—থাইল্যান্ড অবিলম্বে যেন এমন সব বৈরী তৎপরতা বন্ধ করে।’
এদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সম্ভাব্য নতুন সংঘর্ষ এড়াতে যেকোনো প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে প্রস্তুত মালয়েশিয়া।
বিরোধের নেপথ্যে
থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বহু দশক ধরেই বিরোধপূর্ণ। এ বিরোধের মূল উৎস ১৯০৭ সালে ফরাসি উপনিবেশিক শাসনামলে আঁকা একটি মানচিত্র।
কম্বোডিয়াকে থাইল্যান্ড থেকে আলাদা করতে ওই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। ওই মানচিত্র ধরে কিছু এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে কম্বোডিয়া। তবে মানচিত্রটি প্রত্যাখ্যান করেছে থাইল্যান্ড।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিরোধ রয়েছে প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো প্রেয়া ভিহেয়ার মন্দির নিয়ে। ১৯৬২ সালে কম্বোডিয়াকে এই মন্দির এলাকার মালিকানা দেয় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। যার ফরে দেশদুটির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে পড়ে।
এরপর ২০১১ সালে নতুন করে সংঘর্ষ বাঁধে, যেখানে ২০ জনের মতো নিহত হন এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এরপর কম্বোডিয়া আবার বিচার আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং ২০১৩ সালে আদালত আবারও তাদের পক্ষে রায় দেয়।
সম্প্রতি কম্বোডিয়া আবার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে আদালতের এখতিয়ার মানতে অস্বীকৃতি জানায় থাইল্যান্ড।
১৭০ দিন আগে
থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষের নেপথ্যে কী?
দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) স্থানীয় সময় সকালে প্রতিবেশি দেশদুটির ছয়টি সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি ও রকেট হামলার মধ্য দিয়ে এই সহিংসতা শুরু হয়।
গতকাল শুক্রবারও সীমান্তবর্তী চারটি প্রদেশের কাছে একাধিক স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে থাই সেনাবাহিনী। কম্বোডিয়ার ওপর থাইল্যান্ড বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ডে অন্তত ১৪ জন এবং কম্বোডিয়ায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। চলমান এই সংঘাতের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ নিরাপত্তার জন্য বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
এ নিয়ে চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো সংঘর্ষে জড়াল দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশ। এর আগে মে মাসে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়েছিল।
প্রতিবেশি এই দুই দেশের সংঘাতের নেপথ্যে কী আছে, চলুন তা জেনে নেওয়া যাক।
সবশেষ উত্তেজনার সূত্রপাত যেভাবে
চলতি বছরের মে মাসে ছোট একটি সীমান্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
সে সময় এক কম্বোডিয়ান সেনা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। দুই পক্ষই দাবি করে যে তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছে। এ নিয়ে তখন উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে কয়েকজন থাই সেনা আহত হওয়ার পর এই সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে গাঁজা কিনতে লাগবে প্রেসক্রিপসন!
পরে দুই দেশ উত্তেজনা হ্রাসে একমত হয়। তবে সীমান্তে কড়াকড়ি, নিষেধাজ্ঞা ও বাকযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এরপর কম্বোডিয়া সীমান্তে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাইল্যান্ড। এর ফলে শুধু শিক্ষার্থী, চিকিৎসাপ্রার্থী ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো মানুষ দেশটিতে যাতায়াত করতে পারছিল না। এরপর বৃহস্পতিবার পুরো সীমান্তই বন্ধ করে দেয় থাইল্যান্ড।
জবাবে থাই চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নিষিদ্ধ করে কম্বোডিয়া। এ ছাড়াও থাইল্যান্ড থেকে জ্বালানি, গ্যাস, ফলমূল ও সবজি আমদানিও বন্ধ করে দিয়েছে তারা। এমনকি প্রতিবেশি দেশটির সঙ্গে কিছু আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ ও বিদ্যুৎ সরবারহও স্থগিত করেছে নমপেন।
দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ
থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বহু দশক ধরেই বিরোধপূর্ণ। এ বিরোধের মূল উৎস ১৯০৭ সালে ফরাসি উপনিবেশিক শাসনামলে আঁকা একটি মানচিত্র।
কম্বোডিয়াকে থাইল্যান্ড থেকে আলাদা করতে ওই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। ওই মানচিত্র ধরে কিছু এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে কম্বোডিয়া। তবে মানচিত্রটি প্রত্যাখ্যান করেছে থাইল্যান্ড।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিরোধ রয়েছে প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো প্রেয়া ভিহেয়ার মন্দির নিয়ে। ১৯৬২ সালে কম্বোডিয়াকে এই মন্দির এলাকার মালিকানা দেয় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। যার ফরে দেশদুটির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে পড়ে।
এরপর ২০১১ সালে নতুন করে সংঘর্ষ বাঁধে, যেখানে ২০ জনের মতো নিহত হন এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এরপর কম্বোডিয়া আবার বিচার আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং ২০১৩ সালে আদালত আবারও তাদের পক্ষে রায় দেয়।
বর্তমানে কম্বোডিয়া আবার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তবে আদালতের এখতিয়ার মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে থাইল্যান্ড।
আরও পড়ুন: সাইবার অপরাধ: ১০ হাজার শ্রমিককে থাইল্যান্ড পাঠাচ্ছে কারেন বিদ্রোহীরা
থাই রাজনীতিতে তোলপাড়
এদিকে, উভয় দেশের জাতীয়তাবাদী মনোভাব দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এরই মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে এক কম্বোডিয়ান শীর্ষ নেতার সঙ্গে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে গত ১ জুলাই তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
জুন মাসে ফাঁস হওয়া ওই ফোন কলে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘চাচা’ বলে সম্বোধন করেন সিনাওয়াত্রা এবং থাইল্যান্ডের সামরিক নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। সমালোচকরা এসব মন্তব্যকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান হিসেবে অভিহিত করেছেন।
হুন সেন পেতংতার্নের বাবার দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন। তবে সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া ফোনালাপ থাইল্যান্ডজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়। এরপর পেতংতার্নকে সরিয়ে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফুমথম ওয়েচায়াচাইকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
৩০৫ দিন আগে
ইরানে ফের ইসরায়েলের বিমান হামলা, ইরানের পাল্টা
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এবার ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ শহরের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ জুন) সকালে ইরানে বিমান হামলার চালানোর কথা জানায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
এর আগে, ইরানের রাষ্ট্র সমর্থিত সংবাদমাধ্যম নুর নিউজ জানায়, আজ ভোরে তেহরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বৃহৎ সামরিক কমপ্লেক্স পারচিনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
জবাবে, ইরানও ইসরায়েলের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে সেটি ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা মাঝপথেই প্রতিহত করা হয় বলে দাবি করেছে আইডিএফ।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে বড় পরিসরে হামলা ইরানের, জাতিসংঘে চিঠি
গত ১৩ জুন প্রথম ইরানের শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর থেকেই দুই দেশ নিজেদের প্রতিশোধের নেশায় মত্ত। শক্তির প্রদর্শন করে লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া দুপক্ষই।
এর সঙ্গে গতকাল রবিবার (২২ জুন) যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তারা।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় অত্যন্ত সফলভাবে হামলা পরিচালনা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহান।’
এই হামলারও প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে ইরান। তবে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি এখনও।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির সমাধান করতে চীনকে অনুরোধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
৩৩৮ দিন আগে
ইসরায়েলি হামলায় আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান ও দুই জেনারেল নিহত
ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধানসহ আরও দুই জ্যেষ্ঠ জেনারেল নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তেহরান সরকার। কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলি-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
তেহরানসহ অন্যান্য ইরানের অন্যান্য শহরে টানা তৃতীয় দিনের ইসরায়েলি হামলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি ভূখণ্ডে নতুন করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ইসরায়েল যদি তাদের আগ্রাসন বন্ধ করে, তাহলে তেহরানও প্রতিক্রিয়া বন্ধ করবে।
শুক্রবার (১৩ জুন) রাজধানী তেহরানসহ দেশটির শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলা শুরু পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে অন্তত ২২৪ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের হামলায় ইসরায়েলে এক ডজনের বেশি নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে ইসরায়েলের হামলা, তেহরানেরও পাল্টা জবাব
৩৪৫ দিন আগে
গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ: দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ
মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের চিরশত্রু ইরানের ওপর নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার (১৩ জুন) রাজধানী তেহরানসহ দেশটির শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করা এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন রাইজিং লায়ন বা জেগে উঠা সিংহ। হামলার মূল কারণই ছিল পশ্চিমাদের ভাষায় ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া।
হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যকে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে, ইরানও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ‘ট্রু প্রমিস ৩’ নামের অভিযান শুরু করেছে।
শুক্রবার (১৩ জুন) ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতানজ, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা, শীর্ষ কমান্ডার ও পরমাণু বিজ্ঞানীরা হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। এই হামলায় অন্তত ২০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় বলে জানায় ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
আরও পড়ুন: ইরানে ইসরায়েলের হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, জড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্রও
এদিন ভোররাত থেকে একের পর এক বিমান হামলায় প্রথমে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ও গোয়েন্দা কাঠামোতে আঘাত করে। এরপর ধারাবাহিক হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং শেষে দেশটির বৃহত্তম ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতানজে হামলা চালানো হয়।
নাতানজের আংশিক ভূ-উপরিভাগে হওয়ায় সরাসরি আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েল।
৩৪৭ দিন আগে
গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১৭
গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও ১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোরে চালানো বিমান হামলায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উত্তরাঞ্চলের আরও গভীরে প্রবেশ করেছে এবং হামাসের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান জোরদার করেছে।
হামাস পরিচালিত গাজার হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অনেকেই একই পরিবারের সদস্য। হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পরও ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
আরও পড়ুন: নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে হামাসের সম্মতি, পাল্টা প্রস্তাব ইসরায়েলের
এই হামলার মাত্র একদিন আগেই ইসরায়েলি হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হাতে জিম্মি হওয়া ইসরায়েলিদের মুক্তি দিতে চাপ সৃষ্টি করতেই ইসরায়েল গাজায় হামলা বাড়িয়েছে। ইসরায়েলি বাহিননীর হামলায় গাজায় গত দুই সপ্তাহেই শত শত লোক মারা গেছেন।
শুক্রবার ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বাড়ানোর জন্য তাদের স্থল বাহিনী গাজার উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করেছে।
স্থল অভিযানের আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী উত্তর গাজার কিছু অংশ থেকে খালি করার জন্য বাসিন্দাদের নির্দেশ দিয়েছিল।
গত মাসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তর।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হন। এসময় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় হামাস যোদ্ধারা। এরপর যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে বেশিরভাগ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যদিও ইসরায়েলও অসংখ্য মৃতদেহসহ মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনিদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করত ইসরায়েলি বাহিনী
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়টির দেওয়া হিসাবে বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধার আলাদা হিসাব দেওয়া হয়নি। তথ্যমতে, নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। ইসরায়েল প্রায় ২০ হাজার হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করার দাবি করলেও এর সমর্থনে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।
চলমান এই যুদ্ধ গাজাকে ধ্বংস করেছে। বেশিরভাগ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি হামলার মাত্রা এতো বেশি যে, ভূখন্ডটির নজনসংখ্যার ৯০ শতাংশ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
৪১৭ দিন আগে
বিমান হামলার পর ইয়েমেন ছেড়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান
ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় জাতিসংঘের এক কর্মী আহত হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস দেশ ছেড়েছেন।
হামলার পর সরিয়ে নেওয়া আহত কর্মীর কথা উল্লেখ করে তেদ্রোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা এখন জর্দানে রয়েছি। সেখানে তাকে আরও চিকিৎসা দেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) টেড্রোস ও জাতিসংঘের অন্য কর্মকর্তারা যখন ইয়েমেন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।
হুথিদের হাতে আটক জাতিসংঘের ১৩ কর্মীর মুক্তির লক্ষ্যে জাতিসংঘের নেতৃত্বে আলোচনায় অংশ নিতে দেশটিতে যাওয়া টেড্রোস এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, সব জায়গায় বেসামরিক নাগরিক ও মানবতাবাদীদের ওপর হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সংকটের মূলে লিঙ্গ বৈষম্য: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, তারা ইরানি অস্ত্র চোরাচালানে ব্যবহৃত হুথিদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
হুথি পরিচালিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন বিমান হামলায় হতাহতের কথা জানিয়ে বলেছে, এতে বিমানবন্দর ও অন্যান্য স্থানের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পুরো পরিমাণ এবং হতাহতের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট করতে পারেনি তারা।
৫১৫ দিন আগে