তথ্যমন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কুতুবপুরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী।
এ সময় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক।
এ সময় তিনি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পরে অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টুসহ অন্যরা।
১ দিন আগে
পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার মতো কোনো কাঠামো না থাকায়ে চ্যালেঞ্জের মুখে সাংবাদিকতা: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতা পেশাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার মতো কোনো কাঠামো এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। আর সে কারণে সাংবাদিকতা পেশা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তথ্যের অবাধ প্রবাহের এই সময়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ খুঁজে বের করে জনগণের সামনে তুলে ধরা সাংবাদিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সোমবার (২৭ জুলাই) বরিশাল সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে বরিশাল বিভাগের সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও বেগবান করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য এখনও শক্তিশালী কোনো কাঠামো গড়ে উঠেনি। অথচ এই পেশার অস্তিত্ব ছাড়া একটি সভ্য সমাজ কল্পনা করা যায় না। বর্তমান সরকারের সময়ে সাংবাদিকরা অনেক বেশি চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারছেন। এজন্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজকে প্রতিনিয়ত আয়নার সামনে দাঁড় করায় গণমাধ্যম। তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখা রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। গণমাধ্যমের কল্যাণ মানেই দেশের কল্যাণ। সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল বিভাগের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা সম্প্রসারণ, চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক অনুদান, দক্ষতা উন্নয়নসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। এসব পরামর্শ বাস্তবায়নযোগ্য উল্লেখ করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এরপর বরিশাল, ঝালকাঠী ও পটুয়াখালী জেলার ৪৯ জন সাংবাদিকের মাঝে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খোন্দকার, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাওছার হোসেন খোন্দকার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
২ দিন আগে
পেশাদারত্ব বজায় রাখতে সাংবাদিকদের তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতা এমন একটি প্রক্রিয়া, যা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তাই সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, বরং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন হওয়া উচিত।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬-এর একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, হিমাল সাউথ এশিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মনি দীক্ষিত, দ্য হিন্দুর কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দারসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো বিষয় সংবাদ নয়, সেটি কেবল মতামত হতে পারে। তিনি সমাজকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ ও চ্যালেঞ্জের ধরন ভিন্ন হলেও এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে একই রকম। তারা স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
পরে দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল কনফারেন্স অন এআই লিডারশিপ-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
সেখানে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র, শিল্প ও সেবা খাতের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এআই নিয়ে কাজ করা এখন সময়ের দাবি। এ প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মেলনে প্রযুক্তিবিদ প্রণব যোগেন্দ্র ব্রহ্মভট্ট, ব্যারিস্টার তাসমিয়া রহমান প্যাটেল, টেরি কে রুপার্টসহ দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
৪ দিন আগে
কে সাংবাদিক আর কে নয়, তা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নয় তা নির্ধারণ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি।’
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার মানসিকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যাতে সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সে বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে সকল নাগরিকের প্রতি সমান দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।
গণমাধ্যম একটি বহপাক্ষিক ক্ষেত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে বিভিন্ন মত, দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার মানুষের সহাবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। তাই কোনো সংকীর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার নীতি অনুসরণ করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকৃত সক্ষমতা কঠিন ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যেই নিহিত।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের অন্যতম রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়। এখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক বিষয়ের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিটির সদস্যদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার ওপরই সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্যটিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাছাড়া শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই বাংলাদেশের সকল ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়। এই দর্শন বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
তিনি বলেন, ভারত উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ধারাবাহিক প্রকাশ।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে যুদ্ধকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত উপাদান।
স্বাধীনতা-পরবর্তী জাতীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয়ও দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক—তিনি যে ভাষায় কথা বলুন, যে ধর্ম পালন করুন কিংবা যে নৃগোষ্ঠীরই হোন না কেন—বাংলাদেশি পরিচয়ের মধ্যেই তার মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হয়। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি এবং বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।
আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয়তাবাদ কেবল ভাষা, ধর্ম কিংবা বর্ণের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয় না; বরং একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন।
তিনি বলেন, কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সকল ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে সম্মান ও ধারণ করেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়েছে। এই দর্শনের মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজেকে সমানভাবে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে অনুভব করতে পারেন।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যতেও দেশের অগ্রযাত্রায় পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।
৭ দিন আগে
নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ছাড়া সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, সম্মানজনক বেতন-ভাতা এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম শিল্পের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। তাহলেই সাংবাদিকরা নিরাপদ কর্মপরিবেশে স্বাধীনভাবে মেধা, সৃজনশীলতা ও পেশাগত দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর একটি মিডিয়া গ্রুপের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনকালে সেখানে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করা না গেলে পেশাদার সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অপসাংবাদিকতার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকৃত ও মেধাবী সাংবাদিকদের এই পেশায় ধরে রাখতে হলে সম্মানজনক বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংবাদপত্র শিল্পের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে এমন নীতিগত সহায়তা দিতে হবে, যাতে গণমাধ্যম শিল্পে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, গণমাধ্যম সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় কমিশন গঠনের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। সরকারের লক্ষ্য অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দায়িত্বশীল, স্বাধীন ও টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের প্রধান চ্যালেঞ্জ সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে নয়; বরং ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত লড়াই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রচলিত গণমাধ্যম বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতাদের উত্থানের ফলে বিজ্ঞাপনের বড় একটি অংশ ডিজিটাল মাধ্যমে স্থানান্তরিত হচ্ছে। তাই মূলধারার গণমাধ্যমকে প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে।
তিনি সরকারি বিজ্ঞাপনের বিষয়ে দর্শক ও পাঠক সংখ্যাই গণমাধ্যমের স্ট্যান্ডার্ড নিরূপণের মূল ভিত্তি উল্লেখ করেন এবং এ বিষয়টি নির্ধারণে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভায় ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, কালের কন্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মেহেদী হাসান তালুকদার, নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, নিউজ ২৪-এর বার্তা প্রধান শরিফুল ইসলাম খান, বাংলা নিউজ ২৪ ডটকম-এর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ কে এম মনজুরুল ইসলাম মনজু ও কালের কন্ঠের যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খান বক্তব্য রাখেন।
১৩ দিন আগে
ডিজিটাল যোগাযোগ জোরদারে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পরিবর্তিত তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের প্রচলিত কার্যক্রমকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। মাঠপর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম, বিশেষ করে দুর্যোগকালীন তথ্য দ্রুত, নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলার মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহকে পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য রাখা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্য মানুষের জীবনে অক্সিজেনের মতো অপরিহার্য। জনগণ যাতে সহজে, দ্রুত ও সঠিক তথ্য পায়, তা নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধ করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। তাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তথ্যপ্রবাহ গতিশীল, উন্মুক্ত ও নির্ভুল রাখতে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম, তথ্য সংগ্রহ, প্রতিবেদন প্রেরণ এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া সময়ের দাবি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের প্রধান কাজ ছিল প্রজেক্টর ও প্রচারযান নিয়ে মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা। সেই কার্যক্রমের গুরুত্ব এখনও থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় এর পাশাপাশি ডিজিটাল যোগাযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ আধুনিক যোগাযোগমাধ্যম আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সময়মতো জনগণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে না পারলে সরকার ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে এবং এতে বিভ্রান্তির সুযোগ সৃষ্টি হয় বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও প্রধান তথ্য অফিসকে (পিআইডি) যৌথভাবে প্রতিদিন তথ্য সংগ্রহ, সমন্বয় ও প্রচারের নির্দেশনা দেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলেও এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দুর্যোগ-সংক্রান্ত তথ্যের নিয়মিত হালনাগাদ নিশ্চিত করতে একটি অনলাইন ড্যাশবোর্ড বা ডিজিটাল পোর্টাল চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে সংশ্লিষ্ট সবাই যেকোনো সময় সর্বশেষ তথ্য জানতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দুর্যোগ-সংক্রান্ত তথ্য আরও নির্দিষ্ট, বিশ্লেষণভিত্তিক ও প্রমাণসমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃতি, স্থানভিত্তিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানান।
সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা তথ্য অফিস থেকে প্রাপ্ত বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ত্রাণ বিতরণসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন জেলার তথ্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।
১৫ দিন আগে
জনগণকে ভুল ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বুধবার (৮ জুলাই) মন্ত্রণালয়ে তথ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ফান বমেল। সাক্ষাৎকালে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত তথ্যমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের একটি শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে যা বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়েছে। তিনি এ সম্পর্ক আরও জোরদারে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কাজের ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। গণমাধ্যম ও কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বে নিউ মিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ইকো সিস্টেম নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন এবং এ বিষয়ে নেদারল্যান্ডস কীভাবে কাজ করছে, তা জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী।
নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে জানান।
সাক্ষাৎকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা ও অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে অর্থনীতি ও রাজনীতির সমন্বয়ের ওপর জোর তথ্যমন্ত্রীর
এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে যে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ও রপ্তানি চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় অর্থনীতিকে কার্যকর রাজনৈতিক কাঠামো ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) এবং ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ ও রপ্তানি প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ তখনই জনগণের কল্যাণে বাস্তব ফল বয়ে আনবে, যখন তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হবে।
তিনি বলেন, অর্থনীতিকে যদি রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আনা না যায়, তাহলে বিশেষজ্ঞদের সব আলোচনা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক আলোচনায় রূপ নেয়। কারণ জনগণের কল্যাণে যেকোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দিতে হলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নেতৃত্ব ও কার্যকর বাস্তবায়ন কাঠামো অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই রাজনীতির প্রধান দায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক নীতির সফল বাস্তবায়নও সেই দায়িত্বেরই অংশ।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ কমবে না, বরং আরও বাড়বে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত সময় চাওয়ার উদ্দেশ্য কোনো সমস্যা থেকে পালানো নয়; বরং প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দেশের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের পর বাংলাদেশ এই অতিরিক্ত সময় পাবে এবং সেই সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন বছর কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করলে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এজন্য রপ্তানির পথে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কারে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি বলেন, অর্থনীতিবিদরা গবেষণার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই সুপারিশগুলোকে বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেবে।
বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দিতে হলে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলোকে রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তথ্যমন্ত্রী।
র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা।
২৩ দিন আগে
ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সময়োপযোগী করা হবে: তথ্যমন্ত্রী
প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিস্তারের ফলে সৃষ্ট নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা সময়োপযোগী করা এবং প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন পর্যালোচনা ও বাস্তবতার নিরিখে যুগোপযোগী সুপারিশ প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রবিবার (৫ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন সময়োপযোগীকরণ এবং নতুন আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা, যোগাযোগ ও সামাজিক আচরণের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। প্রযুক্তি যেমন মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে, তেমনি এর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সেগুলোকে একটি কার্যকর আইনি কাঠামোর আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যমান সব আইন, বিধি, প্রবিধান ও নিয়মাবলি পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কোন আইন আধুনিকায়ন প্রয়োজন, কোথায় নতুন আইন প্রয়োজন এবং কোন ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতি রয়েছে এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়ন করবে সংশ্লিষ্টরা।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি মূলত প্রিন্ট মিডিয়া ও সম্প্রচারমাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিকাশের ফলে অসংখ্য নতুন মাধ্যম তৈরি হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই প্রচলিত আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনি কাঠামোও আধুনিকায়ন করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এসব দেশের আইন ও অভিজ্ঞতা গভীরভাবে অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার দায়িত্বও কমিটিকে দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তোলা যায়।
তিনি বলেন, সাইবার জগৎ, ডিজিটাল ট্রান্সমিশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবাকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনতে হলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মতামত গ্রহণেরও প্রয়োজন হতে পারে।
তথ্যমন্ত্রী উপস্থিত সকলকে নতুন চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট অংশীজন নির্ধারণ, দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনে কমিটির বাইরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী প্যানেলের সদস্যরা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে