তথ্যমন্ত্রী
জনগণকে ভুল ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বুধবার (৮ জুলাই) মন্ত্রণালয়ে তথ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ফান বমেল। সাক্ষাৎকালে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত তথ্যমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের একটি শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে যা বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়েছে। তিনি এ সম্পর্ক আরও জোরদারে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কাজের ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। গণমাধ্যম ও কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বে নিউ মিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ইকো সিস্টেম নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন এবং এ বিষয়ে নেদারল্যান্ডস কীভাবে কাজ করছে, তা জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী।
নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে জানান।
সাক্ষাৎকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা ও অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে অর্থনীতি ও রাজনীতির সমন্বয়ের ওপর জোর তথ্যমন্ত্রীর
এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে যে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ও রপ্তানি চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় অর্থনীতিকে কার্যকর রাজনৈতিক কাঠামো ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) এবং ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ ও রপ্তানি প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ তখনই জনগণের কল্যাণে বাস্তব ফল বয়ে আনবে, যখন তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হবে।
তিনি বলেন, অর্থনীতিকে যদি রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আনা না যায়, তাহলে বিশেষজ্ঞদের সব আলোচনা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক আলোচনায় রূপ নেয়। কারণ জনগণের কল্যাণে যেকোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দিতে হলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নেতৃত্ব ও কার্যকর বাস্তবায়ন কাঠামো অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই রাজনীতির প্রধান দায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক নীতির সফল বাস্তবায়নও সেই দায়িত্বেরই অংশ।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ কমবে না, বরং আরও বাড়বে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত সময় চাওয়ার উদ্দেশ্য কোনো সমস্যা থেকে পালানো নয়; বরং প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দেশের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের পর বাংলাদেশ এই অতিরিক্ত সময় পাবে এবং সেই সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন বছর কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করলে দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এজন্য রপ্তানির পথে বিদ্যমান সব ধরনের প্রতিবন্ধকতার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কারে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি বলেন, অর্থনীতিবিদরা গবেষণার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই সুপারিশগুলোকে বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেবে।
বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দিতে হলে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলোকে রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তথ্যমন্ত্রী।
র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা।
৩ দিন আগে
ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সময়োপযোগী করা হবে: তথ্যমন্ত্রী
প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিস্তারের ফলে সৃষ্ট নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা সময়োপযোগী করা এবং প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন পর্যালোচনা ও বাস্তবতার নিরিখে যুগোপযোগী সুপারিশ প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রবিবার (৫ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন সময়োপযোগীকরণ এবং নতুন আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা, যোগাযোগ ও সামাজিক আচরণের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। প্রযুক্তি যেমন মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে, তেমনি এর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সেগুলোকে একটি কার্যকর আইনি কাঠামোর আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যমান সব আইন, বিধি, প্রবিধান ও নিয়মাবলি পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কোন আইন আধুনিকায়ন প্রয়োজন, কোথায় নতুন আইন প্রয়োজন এবং কোন ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতি রয়েছে এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়ন করবে সংশ্লিষ্টরা।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি মূলত প্রিন্ট মিডিয়া ও সম্প্রচারমাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিকাশের ফলে অসংখ্য নতুন মাধ্যম তৈরি হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই প্রচলিত আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনি কাঠামোও আধুনিকায়ন করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এসব দেশের আইন ও অভিজ্ঞতা গভীরভাবে অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার দায়িত্বও কমিটিকে দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তোলা যায়।
তিনি বলেন, সাইবার জগৎ, ডিজিটাল ট্রান্সমিশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবাকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনতে হলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মতামত গ্রহণেরও প্রয়োজন হতে পারে।
তথ্যমন্ত্রী উপস্থিত সকলকে নতুন চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট অংশীজন নির্ধারণ, দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনে কমিটির বাইরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী প্যানেলের সদস্যরা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে যোগ দিতে রাতে ঢাকা ছাড়ছেন আরও দুই মন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চীন সফরে যোগ দিতে আজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকা ছাড়বেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে চীনের বেইজিংয়ে যোগ দেবেন।
বিএনপি মিডিয়া সেলের তথ্যমতে, সফরকালে তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সম্পৃক্ত থাকবেন।
এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন তিনজন পূর্ণমন্ত্রী। তারা হলেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং পানিসম্পদমন্ত্রী।
গত রবিবার বিকেল পৌনে ৩টায় সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তিনি দেশটি সফর করেন।
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে সরাসরি চীন সফরে যান প্রধানমন্ত্রী।
চীন সফরকালে আগামী ২৫ জুন তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং ২৬ জুন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া তিনি ২৩ থেকে ২৫ জুন লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর সপ্তদশ বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।
মালয়েশিয়া সফরকালে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে, চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পাবে। আগামী ২৬ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
১৬ দিন আগে
জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই সরকারের একমাত্র কাজ নয়: তথ্যমন্ত্রী
জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই সরকারের একমাত্র কাজ নয়, দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন বজায় রাখা সরকারের কাজ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ঈদের ছুটি শেষ গতকাল (রবিবার) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল সরকার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়াটা একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করবে কি না জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা বোধহয় জানেন যে জ্বালানি সংকট যেদিন থেকে শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই যারা আমদানিনির্ভর জ্বালানিভিত্তিক দেশ, তারা সকলেই কিন্তু আন্তর্জাতিক সংকটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দাম বাড়িয়ে চলছে। নিশ্চয়ই এ তথ্য আপনাদের সকলের জানা আছে। এই তথ্যও সকলের জানা আছে যে শুরুতে অন্য দেশের সরকার দাম বাড়ালেও আমাদের সরকার কিন্তু দীর্ঘদিন দামকে পুরোনো জায়গাতে ধরে রেখেছে, যদিও আমরা আমদানিনির্ভর একটি দেশ।
তিনি বলেন, আমাদের জ্বালানি আমদানি করে চলতে হয়। আমাদের বিদ্যুৎমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী তারা নিয়মিতই এ বিষয়ে জাতিকে অবহিত করেছেন, পরিসংখ্যান দিয়েছেন। কিন্তু এটা তো সত্য, আমদানি করেই যদি চলতে হয় তাহলে তো আমাকে আমার আমদানি ক্ষমতার ওপরে ভর করেই চলতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাহেবের নেতৃত্বে একটা পরামর্শ কমিটি করেছে। যেই পরামর্শ কমিটির পরামর্শে সরকার চলছে।
জ্বালানি তেলের সংকট এখনও কাটেনি জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের আমদানি করেই চলতে হবে। এই সব বিষয় মাথায় রেখেই সরকারকে পরিচালনা করতে হয়। জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই কিন্তু সরকারের একমাত্র কাজ নয়। সরকারের কাজ হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন বজায় রাখা।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করা, পবিত্র ঈদুল ফিতরের অনুষ্ঠান করা এবং গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালন করা এবং তারপরে এটা। এ পর্যন্ত আমাদের কাছে যতটুকু সংবাদ সর্বত্রই একটা স্বতঃস্ফূর্ততার ছাপ পড়েছে। উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো নেতিবাচক কোনো কিছু তো কানে আসেনি।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে সাংবাদিক নেতারা, সংবাদপত্রের সম্পাদকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। সংবাদপত্রের মালিকরা দেখা করেছেন। সবাই বলেছেন, এই প্রথম তারা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সাংবাদিকতা করেছেন এবং কোথাও কোনো মহল থেকে, সরকারি মহল থেকে কোনো ধরনের চাপ বা কোনো ধরনের কোনো কিছু করা হয়নি।
ফ্যাসিবাদ-উত্তর পরিস্থিতি নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ-উত্তর পরিস্থিতিতে যে ধরনের মামলা-মোকদ্দমা ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে, এটার অনেকটাই ক্ষোভ-বিক্ষোভ থেকেও আসছে। আর ভুক্তভোগীরা তো স্বাভাবিক করবেই। কিন্তু এই মামলাগুলো কতটা গোছানো, কতটা অগোছালো, নতুন সরকার হিসেবে আমাদের সেটা দেখতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রেও আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে সাংবাদিকদের সাক্ষাতের সময় তিনি বলেছেন যে, সুনির্দিষ্ট অপরাধ ছাড়া কোনো মিথ্যা অভিযোগে কাউকে হয়রানির মধ্যে আমরা পড়তে দেব না। সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা অভিযোগ যাই থাক, তা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এগিয়ে চলবে তার প্রক্রিয়ায়।
আদ-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, আমি যতটুকু শুনলাম, তাতে বোঝাই যায় যে ওই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। যদি আপনার বক্তব্য সত্য হয়ে থাকে, তবে আমি আরও বিস্তারিত খবর নেব। একইসঙ্গে এ প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার যে গণমাধ্যমের কাজই হচ্ছে সবকিছুকে জনগণের সামনে ট্রান্সপারেন্ট (স্বচ্ছ) করে তুলে ধরা। সেই কাজ করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করাই হচ্ছে রাষ্ট্র এবং সমাজের সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে আমি মনে করি যে আপনার যারা টেলিভিশন সাংবাদিক, আপনারাতো একদম সরাসরি দেখাচ্ছেন। তাহলে বরং এখানে তথ্য বিকৃত করার সম্ভাবনা কম।
তিনি বলেন, এই সরকার বারবার জবাবদিহিতার সংস্কৃতির কথা বলেছেন। আমরা সেই আলোকেই এই ধরনের ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষণ করি, বিচার করি এবং মূল্যায়ন করি।
৩৮ দিন আগে
গণমাধ্যম কমিশন গঠনে পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে হবে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা: তথ্যমন্ত্রী
গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে এবং সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার একটি হোটেলে ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘পিআইএমএইচআইই প্রকল্প: নীতিগত সংস্কার থেকে নিউজরুম চর্চা—শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি সরকার প্রধানের সঙ্গে মালিক সমিতি ও সম্পাদকদের বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে পূর্বে যেমন আলোচনা হয়েছে, পরামর্শক কমিটি গঠনের পর আবারও আলোচনা করা হবে, যাতে একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করা যায়।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তম্ভকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে গণমাধ্যম কমিশন গঠন শুধুমাত্র সরকারের একক বিষয় নয়; এটি সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, সরকার একদিকে যেমন এ প্রক্রিয়ায় সমান অংশীদার হিসেবে কাজ করবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমন্বয়কারী ও ব্যবস্থাপকের দায়িত্বও পালন করবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যম সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন এ উদ্যোগে সরকারের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, গণমাধ্যম কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান ও যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ।
৫০ দিন আগে
ইতালিতে বৈধ পথে আরও বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে আরও বেশি অভিবাসী গ্রহণের জন্য ইতালি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইতালির বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতালি বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।
মন্ত্রী গণযোগাযোগ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সম্প্রচার খাতে ইতালির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে ইতালির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন থেকে জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রেও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতালিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন এবং তারা বাংলাদেশ ও ইতালি উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
এ সময় তিনি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সমুদ্রপথে ইতালিতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের বিষয়টি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদারে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে ইতালিতে অভিবাসন বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
জবাবে ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে বৈধ অভিবাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে ২০ হাজার মানুষ ইতালিতে অভিবাসী হয়েছেন।
৫১ দিন আগে
স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর
দেশের গণমাধ্যম খাতে একটি স্বাধীন, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম পরিচালনায় কেবল নিয়ন্ত্রণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং সব অংশীজনকে নিয়ে জবাবদিহিমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সরকার সব পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করছে।
রবিবার (১৭ মে) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্পাদক ও সংবাদ প্রধানদের নিয়ে গঠিত টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল’ টিইসির নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘ধারণাগত ঘাটতি’ রয়েছে। মালিক, উদ্যোক্তা, সাংবাদিক ও সরকারের মধ্যে গণমাধ্যমকে আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে সমন্বিত চিন্তার অভাব ছিল। ফলে খাতটি অনেকাংশে ব্যক্তি প্রভাব, বিনিয়োগ ও ক্ষমতার বলয়ে পরিচালিত হয়েছে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম এমন একটি জগৎ যেখানে সরকার নিজেও একটি অংশীজন। তাই সরকার একদিকে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে, অন্যদিকে অন্য অংশীজনদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতে সরকারগুলো গণমাধ্যমকে মূলত নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিতে দেখেছে। এর ফলে গণমাধ্যম খাতে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ আয় রক্ষার হাতিয়ার হিসেবেও গণমাধ্যম ব্যবহার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে একটি ‘কোয়াসি জুডিশিয়াল কমিশন’ বা স্বাধীন কর্তৃপক্ষ গঠন ছাড়া বিকল্প নেই। তবে সেই কমিশন যেন আবার কোনো সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নামে কমিশন, কিন্তু বাস্তবে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের ইন্সট্রুমেন্ট না হয়—সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল গঠনকে ঐতিহাসিক উদ্যোগ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পেশাভিত্তিক সংগঠন গণমাধ্যম সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি সম্পাদকদের মালিকপক্ষ, কেবল অপারেটর, ব্রডকাস্টিং ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাফিকস ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সঙ্গেও মতবিনিময়ের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম শিল্পে শ্রম আইন, কর ব্যবস্থা, বেতন-ভাতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন হওয়া উচিত নয়। তবে এসব সিদ্ধান্ত যেন রাজনৈতিক দর কষাকষির হাতিয়ার না হয়, সে জন্যই স্বাধীন কমিশনের প্রয়োজন রয়েছে।
সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশের কারণে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজ এখনও পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারেনি।
তিনি বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) মানুষের সক্ষমতাকে কোটি গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে সাংবাদিকতাসহ অনেক পেশার চরিত্র বদলে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় গণমাধ্যম খাতকে নতুনভাবে ভাবতে হবে।
গণমাধ্যমে কল্যাণমুখী স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বের কোনো বিরোধ নেই। নৈরাজ্যপূর্ণ স্বাধীনতা অর্জিত সভ্যতাকেও ধ্বংস করতে পারে।
সভায় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সব অংশীজনকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ঐকমত্য তৈরির আহ্বান।
বৈঠকে সংগঠনটির আহ্বায়ক বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ও বার্তা প্রধান ড. আবদুল হাই সিদ্দিক বলেন, বিগত সময়ে টেলিভিশন সম্পাদকদের নিয়ে একটি পকেট সংগঠন গঠিত হয়েছিল যারা অপতথ্য, গুজব, হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়ানো এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি ছাড়া জনগণকে কিছুই দিতে পারেনি।
টেলিভিশনের একটি বেতন কাঠামো গঠন করাসহ ওয়েজ বোর্ড করার দাবি জানান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডিবিসি নিউজের সম্পাদক লোটন একরাম। এছাড়া টেলিভিশনের জন্য একটি বিজ্ঞাপন নীতিমালা তৈরি করতেও সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন সংগঠনির অন্যান্য নেতারা।
সংগঠনির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সময় টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু ছাড়াও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য একাত্তর টিভির বার্তা প্রধান ও সিওও শফিক আহমেদ, বৈশাখী টেলিভিশন বার্তা প্রধান জিয়াউল কবির সুমন, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল, চ্যানেল নাইন নির্বাহী সম্পাদক, ফরহাদুল ইসলাম ফরিদ, গাজী টিভি বার্তা প্রধান গাউসুল আজম বিপু, দেশ টিভির বার্তা প্রধান ও নির্বাহী কর্মকর্তা মহি উদ্দিনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
৫৩ দিন আগে
সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের রাজনীতির কারণে দেশে এমন এক সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সৌজন্যে আয়োজিত ‘ইসলামিক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, একসময় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের পরিচয়, টুপি, দাড়ি কিংবা নামাজ আদায়ের মতো ধর্মীয় অনুশীলনকেও কিছু মহল সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছিল যা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির সংস্কৃতির পরিপন্থী।
তিনি বলেন, যারা ভোটারবিহীনভাবে গণবিচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভিন্ন কারণে বিভেদ তৈরি করত।
তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভোটারবিহীন ও গণবিচ্ছিন্ন শাসনব্যবস্থা জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছিল। ধর্মীয় বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা ছিল তার অন্যতম অংশ।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে নানা ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। ইসলামসহ সকল ধর্মই অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করার শিক্ষা দেয়। তাই সমাজে বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ নেই।
ইসলামিক প্রতিযোগিতার আয়োজন মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিভা, যুক্তিবোধ ও নৈতিক শিক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তথ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ভারসাম্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকট বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে সময় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। আগামী দুই বছর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখা গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। তাই সকল নাগরিককে বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় সংসদে গঠনমূলক বিতর্ককে গণতন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংসদের বিতর্ক ও মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই রাজপথে সংঘাত বা বিশৃঙ্খলার কারণ না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চাকারীদের সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে শান্তি, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আলেম-উলেমা ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক, হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীসহ আলেম-উলেমা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
৫৭ দিন আগে
ভুল ও অপতথ্য প্রতিরোধ আমাদের জন্য যুদ্ধে পরিণত হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভুল এবং অপতথ্য প্রতিরোধ করাটা একটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দিক থেকেও এটা আমাদের জন্য এখন যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে একসঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে মতপ্রকাশের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারও বাড়ছে, যা সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
মন্ত্রী বলেন, আলোচনায় এসেছে যে সারা পৃথিবীতেই এবং আমাদের জন্য তো অবশ্যই ভুল এবং অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা একটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দিক থেকেও এটা আমাদের জন্য এখন যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে যেভাবে মানুষের জন্য সুযোগ রয়ে গেছে, সেই সুযোগে অপতথ্য প্রচারকারীরা একটা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনে। সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং সরকার কীভাবে জনগণকে এই অপতথ্যের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, এটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল একসময়ের চ্যালেঞ্জ। এখন শুধু স্বাধীনতা নয়, ভারসাম্যপূর্ণ স্বাধীনতাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যারা স্বাধীনতা একটু চর্চা করছেন, সেটা প্রতিষ্ঠান হোক অথবা ব্যক্তিই হোক, বিশেষ করে যখন সামাজিক মাধ্যমে আমরা দেখছি যে এই স্বাধীনতার অপব্যবহারটা এমন হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি ভুক্তভোগী হয়ে পড়ছে। অতএব গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অপতথ্যের হাত থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, দুটো কাজই তথ্য মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে করতে হচ্ছে।
বৈঠকের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় গন্তব্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দাতা হচ্ছে তারা। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অংশীদার হচ্ছে তারা। সেই বিবেচনায় আমাদের বন্ধুত্বকে আমরা আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
তিনি বলেন, আমরা এবং সারা পৃথিবী এখন একটা মিডিয়া পরিস্থিতি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছি। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এরকম একটা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটা দেশ এই নতুন ইকোসিস্টেমকে কীভাবে ম্যানেজ করে, এ ব্যাপারে আমরা পারস্পরিকভাবে আমাদের কীভাবে সহযোগিতা বিনিময় করতে পারি—এটাই ছিল মূলত আলোচনার বিষয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিশন ফর মিডিয়া কীভাবে কাজ করে এবং আমাদের এখানে একটা মিডিয়া কমিশন গঠন করার যে প্রতিশ্রুতি সরকার ঘোষণা করেছে, সেই কাজটা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা আমাদের নৈতিক সহযোগিতা করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা দুই পক্ষ—যুক্তরাষ্ট্রের এখানকার রাষ্ট্রদূতদের কার্যালয় এবং আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আমরা পারস্পরিকভাবে খোঁজার চেষ্টা করব যে কোথায় আমরা গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করতে পারি।
৭৩ দিন আগে