আদালত
কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে আসামিকে লক্ষ্য করে গুলি, গুলিবিদ্ধ ২
কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে আসামিকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর দুপক্ষের সংঘর্ষে ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (২৪ মে) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এতে মহিউদ্দিন ও রণি নামে দুজন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা গুলিবিদ্ধসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার তার সহযোগীদের নিয়ে মামলায় হাজিরা দিতে আসেন। সেটি শেষ করে বের হওয়ার পথে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন জনকে আটক করা হয়েছে। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
৬ দিন আগে
তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ দুই জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত ।
মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ এ আদেশ দেন।
অবৈভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় আজ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। তবে তোফায়েল আহমেদের অসুস্থতার কথা জানিয়ে সময়ের আবেদন করেছেন তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার।
তিনি বলেন, তোফায়েল আহমেদের বয়স ৮২ বছর। তিনি বার্ধ্যক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি কাউকে চিনতে পারেন না। তার স্মৃতিশক্তি নেই। আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম।
তার মানসিক অবস্থা পরীক্ষার অনুরোধ জানিয়ে শুনানি পেছানোর আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার (৭ মে) অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেন।
এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং মোশাররফ হোসেন। তিন আসামির মধ্যে মোশারফ হোসেন জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দেন।
২০০২ সালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি করেছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করেছেন। পরবর্তীতে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে তিন জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।
২৪ দিন আগে
ফেনীতে আলোচিত নাশিত হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
ফেনীতে চাঞ্চল্যকর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিতকে (১০) অপহরণের পর হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
নিহত নাশিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের আনসার আলী ফকির বাড়ির মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফেনী পৌরসভার একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আশরাফ হোসেন তুষার (২০), মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২০) ও ওমর ফারুক রিপাত (২০)।
এদিন বেলা ১১টার দিকে কারাগার থেকে তিন আসামিকে আদালতে আনা হয়। এজলাসে নেওয়ার সময় তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঔদ্ধাত্যপূর্ণ আচরণ করেন। রায় ঘোষণা শেষে আদালত সাজার রায় দিয়ে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের অ্যাকাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং ক্লাস শেষ করে স্থানীয় বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় নাশিত।
১২১ দিন আগে
ফরিদপুরে বিচারকের আচরণ ঘিরে চলছে আইনজীবীদের আদালত বর্জন
ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তিনি আইনজীবী ও মক্কেলদের সঙ্গে রুঢ় আচরণ ও অশোভন ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ পরিস্থিতিতে, ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে এক জরুরি সভা ডেকে ওই আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজও (বুধবার) আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধানে আইনজীবী সমিতির সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ জিয়া হায়দার।
সমিতির সভাপতি আইনজীবী খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু বলেন, ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সেলিম রেজা আইনজীবী এবং মামলার পক্ষদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রুঢ় ব্যবহার করেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সমিতি এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও বিচারপ্রক্রিয়ায় সম্মান ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আইনজীবীদের সঙ্গে এমন আচরণ সহ্য করা যায় না। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) কোর্ট বর্জন ঘোষণার পরই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান কিছু মামলার শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আইনজীবীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। তারা বলছেন, এটি শুধু আদালতে কর্মপরিবেশের মান রক্ষা নয়, বরং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি সবার আস্থা বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ।
এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার জন্য উদ্বেগজনক। এটি সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার আহ্বায়ক আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম স্ট্যালিন জানান, ফরিদপুরের আইনজীবী সমাজ এই প্রেক্ষাপটে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যাতে আদালতের মর্যাদা ও আইনশৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা বলছেন, আদালত হলো ন্যায়ের শেষ ঠিকানা, আর সেখানে সকল পক্ষের প্রতি শালীন ও সম্মানজনক আচরণ অপরিহার্য।
১২২ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধে জয়-পলকের বিচার শুরুর আদেশ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন প্রথমে দুই আসামির অব্যাহতি চাওয়া আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে তাদের বিরুদ্ধে আনা প্রসিকিউশনের তিনটি অভিযোগ পড়েন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরুর হলো।
এ মামলায় সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলাটিতে দুই আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন পলক। তাকে আজ (বুধবার) সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। অপর আসামি জয়ের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।
এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি এ মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন পলকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ ও জয়ের পক্ষে আইনজীবী মনজুর আলম। শুনানিতে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের বিরোধিতার পাশাপাশি জয়-পলকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন তারা। এজন্য এ মামলায় চার্জ গঠন না করাসহ তাদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। অন্যদিকে, অভিযোগ গঠনের আর্জি জানান প্রসিকিউশন।
গত ১১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ওইদিন তিনটি চার্জ পড়ে শোনানোর পাশাপাশি দুই আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানান তিনি।
এ মামলায় তিনটি অভিযোগ হলো— জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে উসকানি দেন পলক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী। এ ছাড়া ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেন তারা। একইসঙ্গে হত্যায় সহায়তা করেন। ফলে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় শহিদ হন রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন। তিন নম্বর অভিযোগটি হলো, উত্তরায় ৩৪ জন হত্যায় সহায়তা করেন তারা।
এসব ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১০ ডিসেম্বর জয়কে আত্মসমর্পণে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত। গ্রেপ্তার থাকায় পলককে একই দিন হাজির করা হয়। ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) আমলে নেন আদালত।
১২৯ দিন আগে
আদালতের নির্দেশে নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিকদের আইনানুগ বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রম ও ব্যবসায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পঞ্চদশ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শ্রম উপদেষ্টা জানান, ইতোমধ্যে আদালত দ্বারা নিয়োগকৃত প্রশাসকের মাধ্যমে নাসা গ্রুপের শেয়ার বিক্রি করে তাদের শ্রমিকদের ৭৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও নাসা গ্রুমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ৮ টি ব্যাংকের ডাউন পেমেন্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি ১৫টি ব্যাংকের ডাউন পেমেন্ট এবং শ্রমিকদের অবশিষ্ট বকেয়া আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে নাসা গ্রুপের কিছু সম্পত্তি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিক্রি করে পরিশোধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নাসা গ্রুপের প্রশাসকসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
১৩১ দিন আগে
জুলাই যোদ্ধা সুরভী রিমান্ডে, মুক্তির দাবিতে গাজীপুরে বিক্ষোভ
প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার আলোচিত জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৫ জানুয়ারি) আদালতের বিচারক এই আদেশ দেন।
এদিকে, তার মুক্তির দাবিতে অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ব্যানারে আদালত এলাকায় বিক্ষোভ করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের নেতারা সেখানে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া, গারদখানা থেকে প্রিজনভ্যানে তোলার সময় তাহরিমা নিজেও নানা কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। পরে গত ২৫ ডিসেম্বর টঙ্গীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তাহরিমা জামান সুরভী।
১৪৫ দিন আগে
রাতভর নাটকীয়তার পর সকালে জামিনে মুক্ত হবিগঞ্জের সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা
রাতভর নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে আজ রবিবার সকালে জামিন পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব মাহদী হাসান।
গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে তাকে হবিগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। তবে কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে গতকালই সংবাদকর্মীরা যোগাযোগ করলেও, হবিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার, কেউই মুখ খোলেননি।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে মাহদীকে হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মাহদীর আইনজীবী আব্দুল মালেক হৃদয় মাহদির জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এই নেতার বিরুদ্ধে বেআইনি লোকজন মিলিত হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দেখানো হয়েছে।
এদিকে, মাহদীর মুক্তির দাবিতে রাতভর হবিগঞ্জ থানার ফটকের সামনে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তারা মাহদীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্লোগান দেন। থানা এলাকার পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। এছাড়া গতরাতে রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হয়েও মাহদীর মুক্তির দাবি জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাত সোয়া ১টার দিকে পুলিশ একটি মাইক্রোবাসে করে মাহদীকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই তাকে আদালতের মাধ্যমে জামিন দেওয়ার প্রস্তুতির কথা শোনা গেলেও বিচারক না আসায় তাকে কোর্ট হাজতে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
নয়নকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার নেতা-কর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন। এ সময় জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র অধিকার আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী ওসির কক্ষে অবস্থান নেন। তারা দাবি করেন, নয়ন একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরে তিনি জুলাই আন্দোলনে জড়িত হন। তারা নয়নকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি করেন।
আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে একপর্যায়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির সঙ্গে তর্কে জড়ান মাহদী হাসান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাহদী ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, “আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?”’ একপর্যায়ে মাহদী হাসান ওসিকে বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম; এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিকলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছে নাকি?’
খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ছুটে যান। তার মধ্যস্থতায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এনামুল হাসানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, ‘আটক হওয়া ছাত্রনেতা একসময় ছাত্রলীগ করলেও তিনি জুলাই আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। শুধু তার অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে আসে।’
মাহদী প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মূল সমন্বয়কারীদের একজন সারজিস আলম। তিনিও তো একসময় ছাত্রলীগ করেছেন। তাহলে তিনিও কি অপরাধী?’ তিনি দাবি করেন, তাদের তিন নেতা-কর্মীকে আটক করে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ আগেও ‘অপরাধ’ করেছে।
বানিয়াচং থানা জ্বালিয়ে দেওয়া ও পুলিশকে পুড়িয়ে ফেলার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি স্লিপ অব টাং (মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে)।’
তবে, ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মাহদীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুস্পষ্ট জবাব দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের সই করা একটি শোকজ নোটিশ গতকাল বিকেলে প্রকাশিত হয়। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংগঠনের কার্যক্রম থেকে তাকে বিরত থাকতেও নোটিশে বলা হয়েছে। কারণ দর্শনোর নোটিশ মাহদী পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা তাকে (এনামুল) বৈষম্যবিরোধী একটি মামলায় সন্দেহভাজন ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আটক করি। ওই দিন রাত বেশি হওয়ায় আমরা যাচাই-বাছাই করতে পারিনি। পরদিন নানাভাবে তথ্য নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, আটক হওয়া ব্যক্তি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
১৪৬ দিন আগে
নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অব্যাহতি পেলেন ফজলুর রহমান
নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমান।
ট্রাইব্যুনালের তলবে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) হাজির হয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলে তাকে সতর্ক করে দিয়ে আদালত অবমাননা প্রশ্নে জারি করা ‘কারণ দর্শাও নোটিশটি’ নিষ্পত্তি করে দেন ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন।
আদালতে ফজলুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ সময় ট্রাইব্যুনালে ফজলুর রহমানের পক্ষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজলসহ বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন গাজী এমএইচ তামীম। এ সময় ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ অপর প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।
গত ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে ফজলুর রহমানকে অ্যাকাডেমিক সনদ ও বার কাউন্সিলের সনদসহ সশরীরে উপস্থিত হয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলেছিল। সেই অনুযায়ী এদিন ফজলুর ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান।
তার আগে, গত ২৬ নভেম্বর ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার একটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। যেখানে গত ২৩ নভেম্বর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ‘মুক্তবাক: রাজনীতির তর্ক-বিতর্ক’ টকশোতে ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যকে আদালত অবমাননাকর উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
গত ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সশরীরে ফজলুর রহমানকে হাজিরের নির্দেশ দিয়ে ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন।
১৭৩ দিন আগে
খুলনায় আদালত চত্বরে দুজনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা
খুলনা আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে দুজনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রূপসার বাগমারা এলাকার হাসিব হাওলাদার (৪১) এবং ফজলে রাব্বি রাজন (৪০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা মহানগর ও দায়রা জজ আদালতে একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে আসেন বাগমারা এলাকার রাজন ও হাসিব। হাজিরা শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকজন তাদের ওপর গুলি চালায় ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। এরপর তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম বলেন, আদালতের সামনে দুইজনকে গুলি করা হয়েছে বলে খবর পেয়ে এসেছি। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে রক্ত, চাপাতি ও দুটি মোটরসাইকেল পড়ে ছিল। তাদের গুলি করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ ঘটনার পরে পুরো আদালত চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আদালতের আইনজীবীরা।
১৮১ দিন আগে