শিক্ষামন্ত্রী
দাবি পূরণের আশ্বাসে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করল সিজেপি
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও সিজেপির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয় বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর ‘সদিচ্ছা’র ভিত্তিতে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করছেন।
তারা জানান, একটি দাবি ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
সৌরভ দাস বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। তাই আমরা আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনস্থল ত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের দাবিগুলো মৌলিক ছিল, উগ্র কোনো দাবি ছিল না।’
পরে পুলিশ লাউডস্পিকারে যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়। নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই ছিল সিজেপির প্রধান দাবি।
১ দিন আগে
বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে মাসব্যাপী উত্তাল ছিল দিল্লিসহ ভারতের প্রধান শহরগুলোর রাজপথ। এরই মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে তৃতীয় ধাপের বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলেও পোস্ট করেছেন তিনি।
এক্সে পোস্ট করা একটি চিঠিতে তিনি লেখেন, এটি (মন্ত্রিত্ব) তার জন্য কখনোই ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয়’ ছিল না।
দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের মূল দাবিই ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
তার পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে দুই দফা আলোচনার পরও মীমাংসা না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত ছিল। আজ শনিবার সকালে সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করলে আর কোনো আলোচনা হবে না।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো ছিল—ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
১ দিন আগে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পুলিশের দমন অভিযান উপেক্ষা করে আজ বৃহস্পতিবারও হাজারো তরুণ বিক্ষোভকারী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল জন্তর মন্তরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল (বুধবার) রাতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। চলতি সপ্তাহে পুলিশ দ্বিতীয়বারের মতো বিক্ষোভকারীদের দমনে এই অভিযান চালায়।
এর আগে, সোমবারও হাজারো বিক্ষোভকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে সেই বিক্ষোভ ছত্ভঙ্গ করে।
‘ককরোচ’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনটি গত এক মাসেরও আগে থেকে শুরু হয়। মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও সরকারি চাকরির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলনের সূচনা হলেও পরে এটি শুধু ওই ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধীরে ধীরে এতে পেশাজীবী ও পরিবারের সদস্যরাও যোগ দেন। ফলে আন্দোলনটি সামগ্রিক জনঅসন্তোষে রূপ নেয়।
এদিকে, গতকালের পুলিশি অভিযানের পর আজ সকালে পুলিশের কড়াকড়ি অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা আবারও বিক্ষাভস্থলে জড়ো হতে থাকে। এ সময় তারা সড়কে থাকা ব্যারিকেড উপেক্ষা করে বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসেন।
অপরদিকে, আন্দোলনে মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত করতে কর্তৃপক্ষ মধ্য দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে।
প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি ভারতের লাখো তরুণের ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
আজ ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই!’
৩ দিন আগে
ট্রল করে, অপবাদ দিয়ে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করে কিংবা অপবাদ দিয়ে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষা ভাবনাকে বাদ দিয়ে যারা উশৃঙ্খল কথাবার্তার মাধ্যমে সমাজকে উসকানি দিতে চান, তরুণ প্রজন্ম তাদের ব্যর্থ করে দেবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী শহরের বরুনকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচন করেন।
সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যারা ট্রল করল, তারা কেউ পরীক্ষার্থী না। সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ভিকারুননেসার মতো প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখেনি আন্দোলন করতে। এইভাবে আন্দোলন করে মিসগাইডেড করে কি একটা হ্যাভক (বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি করা হলো।’
তিনি বলেন, ‘স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা এসেছি, এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব পেয়েছি। যে যত ট্রলই করেন না কেন, যত অপবাদই দেন না কেন, আমাদের সঠিক দায়িত্ব থেকে আপনারা বিচ্যুত করতে পারবেন না। শিক্ষা ভাবনাকে বাদ দিয়ে যারা উশৃঙ্খল কথা বলে সমাজকে উস্কানি দিতে চায়, আমাদের এই তরুণ প্রজন্ম তাদের ব্যর্থ করে দেবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলাম। আজকে তারই জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের অধীনে আমি দায়িত্ব পালন করছি। কী করে ভাবতে পারেন যে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হবে? নিশ্চয়ই না।’
সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্বে অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আপনাদের দায়িত্বে অটল থাকুন। লেখাপড়া আমাদের করতেই হবে এবং তার মান আমাদের উন্নয়ন করতেই হবে।’
সম্প্রতি কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থেই মানবিক বিবেচনায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোর বিষয়ে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরীক্ষা ছাড়া মেধার মূল্যায়ন ও সনদ প্রদান সম্ভব নয়।
ড. মিলন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ যেন পড়াশোনা করতে বাংলাদেশে আসে, সেভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অনেক মেধাবী। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যেই সরকার উচ্চশিক্ষাকে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নিতে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৮ দিন আগে
দুর্যোগে পরীক্ষা দিতে না পারা এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পুনঃপরীক্ষার সুযোগ পাবে: শিক্ষামন্ত্রী
বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব শিক্ষার্থী চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়ার এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, এ বছর সারা দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও দেশের কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও অন্যান্য অনিবার্য কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
তিনি বলেন, যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হলো।
বিবৃতিতে মন্ত্রী আরও জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি আবারও আশ্বস্ত করছি, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে, তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।’
১১ দিন আগে
সারা দেশে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা স্থগিত না করার কারণ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেও চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত না করার সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, জেলা প্রশাসন এবং মাঠ প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতেই চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে কেবল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় সেখানে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা এক বা দুদিন পেছানোর দাবি জানালেও তা করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছাতে কী ধরনের সমস্যা ছিল—জানতে চান তিনি।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৬৪টি জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
তিনি বলেন, পরীক্ষা হওয়ার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই তখন জানিয়েছিলেন যে আবহাওয়ার উন্নতি হবে এবং পরীক্ষা নিতে কোনো সমস্যা হবে না। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, পরদিন সকালে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে গেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু করা হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সময়ও এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা নিতে কোনো ধরনের দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার দুটি প্রশ্নে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়। ফলে এবারের প্রশ্নপত্র আগের সরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশন কমিটির মাধ্যমেই প্রস্তুত হয়েছে। তারপরও সরকার ভুল শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন-জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা আবারও পর্যালোচনা করছি। যদি কোথাও আমাদের প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার পর যদি পরীক্ষা না দিতে পেরে থাকে, এই জরিপটা আমাদের কাছে আসার পরে সেভাবে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষাও নিতে পারি। আমরা চিটাগাং বোর্ডে এই ব্যবস্থাটি করেছি এবং সেই অবস্থান আমাদের রয়েছে। সেজন্য আবারও অনুরোধ করব, শিক্ষার্থীরা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, তাদের চেয়ে আমরাই উদ্বিগ্ন। তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন যে কীভাবে আমরা তাদের পরীক্ষা সঠিকভাবে নেব। এই দুর্যোগ মোকাবিলা করব।
তিনি আরও বলেন, আমি আবারও আশ্বাস দিচ্ছি যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ধরনের ভুলত্রুটি হয়েছে, সেখানে পুনারায় পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। এরা আমাদের ভবিষ্যৎ। এদের আমরা কোনো অবস্থায় বঞ্চিত করতে পারি না, করব না। সেটাই আমি মহান সংসদের মাধ্যমে জাতিকে জানাতে চাচ্ছি।
১২ দিন আগে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে গতকাল সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র অতীতের চেয়ে কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন একদল পরীক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে নগরীর বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা।
অবরোধের ফলে সড়কের দুধারে অসংখ্য যানবাহন আটকে চরম যাত্রী দুর্ভোগ হয়। এ প্রতিবেদন লেখার সময় দুপুর দেড়টার দিকেও অবরোধ চলছিল।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একজন হাতেম আলী কলেজ শিক্ষার্থী আলিফ বলেন, বৈরি পরিবেশের মধ্যেও গতকাল (সোমবার) পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া কঠিন পরীক্ষার আগেও পর্যাপ্ত বন্ধ দেওয়া হয়নি। উল্টো অতীতের চেয়ে এবার প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে। এমনকি সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। এছাড়াও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক স্থানেই পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার পরও এক বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও সব বোর্ডে তা স্থগিত করা হয় নি। সমস্যাগুলো সমাধান না করেই শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কটুক্তি করেছেন তাই আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।
এছাড়াও তারা এই পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন দাবি করেন।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলছেন। আশাকরি, খুব শিগগিরই অবরোধ উঠে যাবে।
১২ দিন আগে
২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালু, গঠিত হয়েছে কমিটি: শিক্ষামন্ত্রী
২০২৮ সাল থেকে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরে যুগোপযোগী নতুন কারিকুলাম চালু করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কারিকুলাম প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র সাড়ে চার মাস হয়েছে। তাই আগামী শিক্ষাবর্ষে বড় ধরনের কারিকুলাম পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে ২০২৮ সাল থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম চালু করা হবে। তিনি বলেন, অতীতের পুরোনো ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করা হবে।
মন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, কর্মদক্ষতা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব থাকবে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। প্রথমে তাত্ত্বিক, পরে ব্যবহারিক শিক্ষা যুক্ত হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষাও পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এ জন্য প্রয়োজন হলে সরকারি সহায়তা ও স্টুডেন্ট লোন দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে নতুন সাইবার আইনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০ সম্পূর্ণ সংশোধন করা হয়েছে। নতুন আইনে প্রশ্নফাঁস, প্রশ্নপত্র পরিবর্তন, পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টদের অনিয়মসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো অনিয়ম করে কেউ যেন পার না পায়, সে লক্ষ্যেই আইনটি কঠোর করা হয়েছে।
পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তনের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে শিক্ষার্থীরা শুধু ট্যাবুলেশন শিট যাচাইয়ের সুযোগ পেত। এখন উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নও নমুনাভিত্তিকভাবে পুনরায় যাচাই করা হবে, যাতে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়ার প্রবণতা শনাক্ত করা যায়। পরীক্ষকদের সংখ্যা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং একজন পরীক্ষকের ওপর অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের চাপ কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ বা অবহেলার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো এলাকায় সমস্যা সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেবে। তবে পরীক্ষা স্থগিতের পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করছে। কেন শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে, তার কারণ অনুসন্ধান করে ভবিষ্যতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিজিটাল প্রশ্নপত্র চালুর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেও ডিজিটাল প্রশ্নপত্র হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাই বাংলাদেশে বিদ্যমান ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিন সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।
এহছানুল হক মিলন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার সূচি যেমন অনেক আগে ঘোষণা করা হয়েছে, তেমনি ভর্তি পরীক্ষাগুলোও সমন্বয় করে সেশনজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানানো হবে।
কোচিং নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত পাঠদান বা ইন-হাউস কোচিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের বাইরে কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে না হয়। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থী কোচিংমুখী হয়ে পড়ে, সেগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা হবে। কোচিং সেন্টার পরিচালনায়ও সরকারি অনুমোদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষা খাতে এবার জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা অতীতের তুলনায় বেশি। সরকার ধাপে ধাপে এই বরাদ্দ আরও বাড়াবে। তবে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি সেই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদেরও পরীক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তাই গুজব বা বিভ্রান্তি এড়িয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
২৫ দিন আগে
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কাল
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় এবার অংশ নিচ্ছে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব জানান, এবার দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যেসব দিন পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।
নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন ও ছাত্রীর ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। এ বছর ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি।
তিনি আরও জানান, নকলের জন্য পরিচিত ভেন্যু কেন্দ্রগুলো বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য এলাকা ও দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কিছু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে। সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের শনিবারের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থায় সূর্যাস্তের পর নেওয়া হবে।
আবদুল খালেক বলেন, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন। একইসঙ্গে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৭৭টি এবং কেন্দ্র বেড়েছে ২১টি।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী ৯২ হাজার ৯০৫ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার ৮০৩ জন বেশি। এ বোর্ডে কেন্দ্র বেড়েছে ২টি এবং প্রতিষ্ঠানও ২৩টি বেড়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল থেকে দেশের যেকোনো পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। এ বোর্ডে গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬৪৭ জন কমেছে। একইসঙ্গে, কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৩টি কমে ৬১০টিতে নেমে এসেছে।
২৫ দিন আগে
জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) সিলেট নগরীর জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার নকলমুক্ত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অতীতের মতো এবারও কঠোর নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে। ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন এবং সিসিটিভির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ, নমুনা উত্তরপত্র পর্যালোচনা, পরীক্ষকদের মূল্যায়ন এবং অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব শুধু পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রয়েছে। আদালতের রায়ের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদের শূন্যতা রয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নিয়মিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ৩০ হাজারের বেশি মামলাও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলার শিক্ষা পরিস্থিতি সরাসরি পর্যালোচনা, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবর এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
এ সময় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্রপ্রধান এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২৮ দিন আগে