শিক্ষামন্ত্রী
২০২৭ সালের এসএসসি শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন
আগামী এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। আগামী বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে শুরু হবে আগামী বছরে ৬ জুন এবং শেষ হবে ১৩ জুলাই।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা জানান।
তিনি বলেন, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমাদের এসএসসি ও সমমানের প্রায় ২০ লাখ এবং এইচএসসি ও সমমানের প্রায় ২০ লাখ; এই ৪০ লাখ শিক্ষার্থী—এদের লেখাপড়া, ভবিষ্যৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসএসসি পরীক্ষা দিতে এবং পাস করতে স্বাভাবিকভাবে একটি ছাত্রের জীবনে ১৬ বছর সময় লাগে। আর এইচএসসি অর্থাৎ টুয়েলফথ গ্রেড, হায়ার সেকেন্ডারি—আরও দুই বছর যোগ করলে ১৮ বছর সময় লাগে। কিন্তু আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি যে এই এইচএসসি পাস করতে ২০ বছর বয়স হয়ে যায়। অর্থাৎ জ্যামিতিক লভ্যাংশে আমরা দেখেছি যে জাতি ৪০ লাখ বছর পিছিয়ে যায়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি সেশন জটকে কমিয়ে আনা, সিলেবাস কভার করা এবং সঠিকভাবে তাদের শিখন সম্পন্ন হওয়ার পরে পরীক্ষা নেওয়া। এই বিষয়গুলোকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। এসএসসি পরীক্ষার জন্য বসে থেকে ছাত্রছাত্রীদের প্রায় এক বছর নষ্ট হয় এবং এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রীরা বসে থেকে প্রায় এক বছর নষ্ট হয়। এই গ্যাপটাকে ক্রমান্বয়ে আমরা বন্ধ করতে চাচ্ছি। ধরে নিচ্ছি যে ডিসেম্বর বছরের শেষ মাস এবং এটা হলো পরীক্ষার মাস; সেই দিকে আমরা এগোচ্ছিলাম।
তিনি বলেন, নবম-দশম শ্রেণিতে দুই বছরের সিলেবাস কারিকুলাম ডিসেম্বরে শেষ হবে। সিলেবাস শেষ হওয়ার পরে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। ঠিক সেভাবে ফলাফল দুই মাসের মধ্যে বেরিয়ে যাবে। আবার এইচএসসিতে ভর্তি হবে এবং তারা সময়মতো বেরিয়ে যাবে। এবং পরীক্ষা দেওয়ার পর ফল বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন আবার তারা ভর্তি হতে পারে, সেই জিনিসগুলো আমরা সমন্বয় করার জন্য লক্ষ নির্ধারণ করেছি যে এসএসসি এবং এইচএসসির সেশন সমাপ্ত করার জন্য ডিসেম্বর হচ্ছে উপযুক্ত মাস।
এহছানুল হক মিলন বলেন, সেটাকে সামনে রেখে আমরা কাজ শুরু করেছি। এবার আমরা ২ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। তবে অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা সাপেক্ষে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আগামী এসএসসি পরীক্ষা আমরা শুরু করব ৭ জানুয়ারি এবং পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। আমরা রুটিন ইতোমধ্যে করেছি, একইসঙ্গে তা দিয়ে দিচ্ছি, যেন শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে পরিকল্পনা করে লেখাপড়া করতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, এইচএসসি নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। এখানে কিছুটা সময় আমরা গুছিয়ে এনেছি যেন তারা পরীক্ষায় পাস করার পর ফল সেমিস্টার (বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হওয়ার সময়কাল) ধরতে পারে। সেই টার্গেট নিয়ে এবং সিলেবাসও যেন কাভার করতে পারে। যদিও এর আগে অ্যাডমিশন কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে, সেটাকে আমরা গুছিয়ে আনছি। এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করব ৬ জুন এবং শেষ করব ১৩ জুলাই। এই পরীক্ষার রুটিনও আমরা করে ফেলেছি।
ফল প্রকাশের সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ফল প্রকাশের সময় দুই মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নীতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করা হবে।
উচ্চশিক্ষায় ভর্তি সমন্বয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফল প্রকাশের পর কোনো গ্যাপ না রেখে দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট না হয়।
১২ দিন আগে
বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি শিগগিরই: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি শিগগিরই চালু করা হবে। সবকিছু প্রস্তুত করা হয়েছে, এখন কমিটিগুলো হচ্ছে। তারপর বদলি শুরু হবে।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান।
মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষকদের বদলি করা হবে। সবকিছু প্রস্তুত করেছি, এখন কমিটিগুলো হচ্ছে, বদলি শিগগিরই করব। চাকরির বিধিমালায় যে শর্তগুলো রয়েছে, সেগুলো দিয়েই তাদের যোগদান করানো হবে বলেও জানান তিনি।
আয়োজিত খেলায় বালকদের মধ্যে ফাইনালে কচুয়া সরকারি পাইলট প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাগদৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্দিষ্ট সময়ে ১-১ গোলে ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারে জয় লাভ করে কচুয়া সরকারি পাইলট প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এছাড়া বালিকাদের মধ্যে ১-০ গোলে শিলাস্থান প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে আশরাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল দল বিজয়ী হয়।
শিক্ষামন্ত্রী তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী ও মেয়ে তানজিনা নাহার হককে নিয়ে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের মাঝে ট্রফি তুলে দেন।
এ সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা মোসাদ্দেক হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল আবেদীন স্বপন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার, সাবেক পৌর মেয়র হুমায়ুন কবীর প্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস কর্মসূচি
আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ২৫টি উপজেলা বা থানার ৩ হাজার ৫২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভা শেষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আজকের সভায় আমাদের ব্যবসায়ীরা ছিলেন। বিজিএমইএ আমাদের এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য পোশাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরকম আরও সহযোগিতা পেলে আমরা সব শিক্ষার্থীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্কুল ড্রেস দিতে পারব।’
কবে থেকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু হবে—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আমরা জুলাই থেকে এটা শুরু করব। এটা পাইলট প্রোগ্রাম। প্রথমে আটটি বিভাগেরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর আমরা ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে এর আওতায় আনব।
বেসরকারি বিদ্যালয়ে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ী মাদরাসা এই সুবিধা পাবে। এরপর বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রাথমিক স্তরের কাজ শেষ হওয়ার পর মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলোতে পোশাক বিতরণ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রতি শ্রেণিতে এক সেট করে পোশাক পাবে। পরবর্তীতে আমাদের সক্ষমতা বাড়লে আমরা আরও বেশি দিতে পারি কি না, তা বিবেচনা করা হবে। তবে প্রথমে এক সেট করে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়া হবে।
পোশাকের ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোশাক একই রকম হবে। ছেলেদের পোশাক এক ধরনের, মেয়েদের আরেক ধরনের হবে। ইবতেদায়ী মাদরাসার পোশাক কিছুটা ভিন্ন হবে। কেমন রঙের হবে, সেটাও আমরা ঠিক করেছি। শিগগিরই তা জানানো হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কাজটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় করবে। তবে এতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যুক্ত থাকবে। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব এবং শিক্ষাকে এগিয়ে নেব।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মসহ বিজিএমইএ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২৭ দিন আগে
রাজধানীর নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত
পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর কিছু নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও সশরীরে ক্লাস পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহে এটি শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে, রাজধানীর বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে সভা করেন শিক্ষামন্ত্রী। সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, প্রাথমিকভাবে রাজধানীর অন লাইন ক্লসের সক্ষমতাসম্পন্ন এমন কিছু নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতি চালু করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে নগরীর যানজট হ্রাস, জ্বালানি সাশ্রয় এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে ক্লাস হবে ছয় দিন। এর মধ্যে তিন দিন অনলাইনে ও তিনদিন সশরীরে ক্লাস হবে। শনিবার, সোমবার ও বুধবার সশরীরে ক্লাস হবে। আর রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস হবে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ক্লাস নেবেন। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ পদ্ধতি চালু করতে সক্ষম সেখানেই তা চালু হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির সংযোজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ইন্টারনেট সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি রিপোর্টিং সিস্টেম চালুর প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়, যা অফলাইন ক্লাসে ফলো-আপের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়; বরং একটি পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ। যেসব প্রতিষ্ঠান সক্ষম, তারা স্বেচ্ছায় এই পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, ‘আপাতত ঢাকা মহানগরীর বড় ও যানজটপ্রবণ এলাকার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পদ্ধতি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এটি সবার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যারা সক্ষমতা রাখে, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে আমরা এই ‘ব্লেন্ডেড এডুকেশন’ বা সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছি।
শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে অনলাইনে ক্লাসে যুক্ত হলেও শিক্ষকদের স্কুলেই উপস্থিত থেকে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষকরা বাসায় বসে ক্লাস নেবেন না।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় এনে শিক্ষাব্যবস্থাকে অভিযোজিত করা জরুরি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগ সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।
৪৭ দিন আগে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে সেই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে। অনলাইনেও ক্লাস নেওয়া হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত হবে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে। এর আগে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তিনি আরও বলেন, সম্ভবত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর মন্ত্রিসভা বৈঠকে যাবে। মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংবাদ সম্মেলন করবে। এর মাঝে আমাদের বলার কিছু থাকবে না।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আমরা আলোচনা করছি অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোকে উৎসাহিত করার। যেহেতু বিশ্বব্যাপী সংকট (জ্বালানি সংকট), তার মানে বাংলাদেশেও সংকট। আমরা কেউ জানি না, কতদিন এই সংকট চলবে। সে কারণে আমরা দেশের স্কুলব্যবস্থাকে অনলাইন ও সশরীর—এই মিশ্র পদ্ধতিতে আনার কথা ভাবছি।
সাধারণত প্রতি বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। সেই হিসাবে পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠক আগামী ৯ এপ্রিল।
গত বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। এটি আজ (রবিবার) থেকে কার্যকর হয়েছে। একইসঙ্গে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধেরও সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কিনতে ঋণ দেওয়া বন্ধ, জ্বালানি বরাদ্দের ৩০ শতাংশ কমানোসহ আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ, এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী রবিবার থেকে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান–সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হবে।
৫১ দিন আগে
জ্বালানি সংকটে স্কুলে অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে ক্লাসের কথা ভাবছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে স্কুল পর্যায়ে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতে ক্লাস চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে এবং আলোচনার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক এই সংকট কেবল বাংলাদেশকেই প্রভাবিত করছে না এবং এটি কতদিন চলবে তাও আমাদের জানা নেই। সে কারণেই আমরা আমাদের স্কুল ব্যবস্থাকে অনলাইনের আওতায় আনা এবং একটি সমন্বিত পদ্ধতি অবলম্বনের কথা ভাবছি।
তিনি উল্লেখ করেন যে, রমজানের ছুটি এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যে স্কুলের স্বাভাবিক পাঠদান বিঘ্নিত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, আগে সপ্তাহে পাঁচ দিন ক্লাস হতো। এখন অনেক সময় নষ্ট হওয়ায় আমরা স্কুল ছুটির দিন কমিয়ে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস করার কথা ভাবছি। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে নির্দিষ্ট কিছু সময়ে অনলাইন ক্লাসের বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।
এহছানুল হক মিলন জানান, সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ উত্তরদাতা অনলাইন শিক্ষার সুযোগ চান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পুরোপুরি অনলাইন শিক্ষায় চলে গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হতে পারে। তাই সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতির কথা চিন্তা করছে।
এর আগে, সকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
৫৬ দিন আগে
স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল, ২০২৭ থেকে ফিরছে ভর্তি পরীক্ষা
দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে আর লটারি পদ্ধতি থাকছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে ভর্তিতে পরীক্ষা নেব। তবে খুব জটিল কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না। ক্লাস ওয়ানে তো আর আমরা ওদের নিউরোসার্জন বানাব না। একটা সিম্পল টেস্টের মাধ্যমে স্কুলে ভর্তি করানো হবে।’
ভর্তি পরীক্ষা ফিরলে কোচিং বাণিজ্য ও তদবির বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কোচিং করানোর সুযোগ রাখা হবে না। সিম্পল টেস্ট হবে... সাধারণভাবে সবকিছু হবে। এটা নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমি মনে করি, লটারি করে ভর্তি করানো কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় থাকতে পারে না।’
৭১ দিন আগে
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দুই ক্যাটাগারিতে নির্বাচিত হয়েছে ৪৬ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে পেয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ জন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় এ ফল প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হয় এ পরীক্ষা।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশের ঘোষণা দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এবার সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ড থেকে সারাদেশে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৪৬ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে পেয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ জন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৩ হাজার ৬৩৫ এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৭ হাজার ৭৯০ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৯৬৭ ও সাধারণ ক্যাটাগরিতে ২,০৭৩ জন বৃত্তি পেয়েছে।
রাজশাহী বোর্ডে ট্যালেন্টপুলে ১ হাজার ৯২৬ জন এবং সাধারণ ৪ হাজার ১২৮ জন; কুমিল্লায় ট্যালেন্টপুলে ১ হাজার ৬৭৭ জন এবং সাধারণ ৩ হাজার ৫৯৩ জন; ট্যালেন্টপুলে ৯৪৮ এবং সাধারণ বৃত্তি ২ হাজার ৩০ জন পেয়েছে সিলেট বোর্ডে, বরিশালে ট্যালেন্টপুলে ৮৭৩ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ১ হাজার ৮৭১ জন।
এ ছাড়া যশোরে ট্যালেন্টপুলে ১ হাজার ৬৬২ এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৩ হাজার ৫৬১ জন; চট্টগ্রামে ট্যালেন্টপুলে ১ হাজার ২১০ জন এবং সাধারণ বৃত্তি ২ হাজার ৫৯৩ জন; ট্যালেন্টপুলে ১ হাজার ৮০২ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৩ হাজার ৮৬১ জন দিনাজপুর বোর্ডে।
ফলাফল দেখার প্রক্রিয়া
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল (২০২৬) দিলেই ফল দেখা যাবে।
এসএমএস পদ্ধতি: মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল টাইপ করে ১৬২২২ নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই ফিরতি মেসেজে রেজাল্ট জানা যাবে।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৪৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা করে পাবে। এ বৃত্তির টাকা দুই বছর (নবম-দশম) পর্যন্ত দেওয়া হবে। এছাড়া তাদের বছরে এককালীন অর্থও দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ও চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়।
৯০ দিন আগে
শিক্ষাখাতে যুগোপযোগী সংস্কারে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার
শিক্ষাখাতে সময়োপযোগী ও মানসম্মত সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত—যেমন পরীক্ষা বন্ধ বা অটোপাস—নেওয়া হয়েছিল। তবে সেগুলো কখনোই কাঙ্ক্ষিত বা স্থায়ী সমাধান ছিল না। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনা।
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতিবন্ধকতা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের দলীয়করণ এবং শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতার মূল দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের পাঠদান। দাবি-দাওয়া থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে; তবে ক্লাস ফেলে রাজপথে নামা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান বজায় রেখে দাবি বিবেচনায় সমাধানের পথেই অগ্রসর হবে।
শিক্ষার মান রক্ষায় নকলবিরোধী অবস্থান অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আর বিশেষ অভিযানের প্রয়োজন হবে না; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও অধ্যয়নচর্চা জোরদারের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই নকল প্রবণতা কমে আসবে।
উপকূলীয়, চর ও হাওর অঞ্চলে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিক্ষাব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের বিষয়ে তিনি জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষা কমিশন গঠনের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন ও মনিটরিং জোরদার করা হবে। শিক্ষক নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি নীতিমালার আওতায় আনতে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি বিধিবিধানের বাইরে পরিচালিত হতে পারবে না। অনিবন্ধিত বা অস্থায়ী অবকাঠামোয় স্কুল পরিচালনা গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অগ্নি নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত মানদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হবে এবং নিবন্ধন ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।
তফসিল ঘোষণার সময়কালে ব্যাপক বদলি ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো খতিয়ে দেখা হবে। নির্বাচন কমিশনের বিধান লঙ্ঘন বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করা হবে। প্রায় ১,৭০০ এমপিও আবেদন চূড়ান্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি পর্যালোচনা করে বাজেট বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দুর্নীতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার বিষয়ে মন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট দ্রুত পুনর্গঠন এবং বকেয়া ভাতা পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান কারিগরি শিক্ষায় তত্ত্বের তুলনায় ব্যবহারিক শিক্ষার ঘাটতি রয়েছে—এটি সমন্বয় করা হবে। পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে প্র্যাকটিক্যাল অংশ বৃদ্ধি, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ জোরদার এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী সরকারের তাৎক্ষণিক তিনটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন—শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, জাতীয় কারিকুলাম রিভিউ ও পরিমার্জন এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন।
ঘোষিত ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক—সব পর্যায়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ১৮০ দিনের রোডম্যাপের মাধ্যমে কোন পর্যায়ে কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মান ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে মনিটরিং জোরদার করা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, শিক্ষা খাতে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নৈতিকতা, জবাবদিহিতা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
৯৬ দিন আগে
ধাপে ধাপে খোলা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শিক্ষামন্ত্রী
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধাপে ধাপে খোলা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাত মন্ত্রী, চার সচিব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা জননিরাপত্তা এবং ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে চাই।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা এর আগেও বলেছি- যারা নিরাপরাধ শিক্ষার্থী এবং যারা শান্তিপূর্ণভাবে এ আন্দোলন অংশগ্রহণ করেছে তারা কেউই যাতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানির শিকার বা আইনি জটিলতায় না পড়েন এই ঘোষণা দিয়েছি।
যেসব শিক্ষার্থী বা অভিভাবকরা যদি মনে করেন তারা নিরপরাধ তারা অবশ্যই সেটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা সরাসরি তাদেরকে সকল ধরনের সহযোগিতা দেব। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে অবশ্যই সেগুলো বলা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: সাঈদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রশ্নে আমরা বারবার বলছি সবার আগে জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা সকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে চাই। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আমাদের যে বিদ্যালয়গুলো আছে এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো আছে সেগুলোও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরূপণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এই মুহূর্তে আমরা প্রতিদিন নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরূপণ করছি। এগুলো বিবেচনায় নিয়েই আমরা যথাসময়ে জানাব।
অনলাইনে ক্লাসের শুরুর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট যেহেতু সচল হয়েছে সেহেতু আমরা এই বিষয়টি বিবেচনায় নেব। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করেছি। বেসরকারি কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। সেটা আমরা যথাসময়ে জানিয়ে দেব। এইচএসসি পরীক্ষা কখন হবে সেটাও আমরা যথাসময়ে জানিয়ে দেব৷
এর আগে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কারফিউ, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ, চলমান বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনায় বসে ৭ মন্ত্রী ৪ সচিব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী,আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আলোচনায় যোগ দেন। এছাড়া বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব, বাণিজ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও জননিরাপত্তা বিভাগের দুই সচিবও বৈঠকে ছিলেন।
এছাড়া আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এবং র্যাব, বিজিবি ও আনসারপ্রধান সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও মৌন মিছিল
৬৬৫ দিন আগে