বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
পানি স্বল্পতায় কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিট বন্ধ
খরার কারণে দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর। ফলে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি স্বল্পতায় কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে (কপাবিকে) ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৩টি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বাকি ২ ইউনিট থেকে বর্তমানে মাত্র ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। অথচ এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর আরও কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে যেকোনো সময় কেন্দ্রটির অবশিষ্ট ২ ইউনিট থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বুধবার (১০ জুন) কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়রা জানান, কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, হ্রদনির্ভর মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। বিশেষ করে বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হ্রদের বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৬৮ এমএসএলকে বিপজ্জনক সীমা হিসেবে ধরা হয়। পানির স্তর ৬৮ এমএসএলে নেমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
কপাবিকের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দিন দিন কমছে। চলতি সপ্তাহে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যেখানে কাপ্তাই হ্রদের রুল কার্ভ অনুযায়ী, পানির লেভেল ৭৮ দশমিক ৩৪ ফুট মিন সি লেভেল থাকার কথা সেখানে আজ (বুধবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির লেভেল ছিল ৭৩ দশমিক ৯১ ফুট মিন সি লেভেল। অর্থাৎ এখনও পানির লেভেল ৪ দশমিক ৪৩ ফুট মিন সি লেভেল কম আছে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানান, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত শুধুমাত্র ২টি ইউনিট হতে ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তার মধ্যে ২ নম্বর ইউনিট হতে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট হতে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
দ্রুত মুষলধারে বৃষ্টিপাত না হলে বাকি ইউনিটগুলো চালু করা সম্ভব হবে না বলে জানান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
১৬ দিন আগে
সিলেটে বন্যা: গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে নগরবাসী
প্রায় এক সপ্তাহের বন্যায় বিশুদ্ধ পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
শনিবার বিকালে সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২ এর অধীস্থ নগরের উপশহরের বিভিন্ন ব্লক, তেররতন, সুবহানীঘাট, যতরপুর, মেন্দিবাগ, চালিবন্দর, মাছিমপুর, ছড়ারপাড় এলাকা তলিয়ে আছে। উপশহরে অবস্থিত বিদ্যুতের সাব স্টেশনও গত পাঁচ দিন ধরে পানির নিচে রয়েছে। এজন্য এলাকাগুলো এখনও অন্ধকারে নিমজ্জিত।
নগরীতে পানি কমার সঙ্গে বন্যাদুর্গত এলাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নেই স্যানিটেশন ব্যবস্থাও। কোথাও শুধু খাদ্য সংকট, কোথাও সুপেয় পানি ও খাবারের অভাব। হাজারো বাসা-বাড়িতে নেই গ্যাস। এ অবস্থায় অনেকেই মানবেতর দিন পার করছেন। অনেকেই পানিবাহিত রোগে ভুগছেন।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে নগরীর অভিজাত শাহজালাল উপশহর এলাকার বাসিন্দারা। আটদিন ধরে গোটা উপশহরেই পানি। পাশের যতরপুর থেকে মীরাবাজার পর্যন্ত পানি। সুবহানীঘাটের সব এলাকায় পানি ঢুকেছে। এসব এলাকার অনেকেই বাসা-বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এখনও কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি। একই অবস্থায় নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো। রাত হলেই আতঙ্ক বাড়ে মানুষের। নগরীর মাছিমপুর, ছড়ারপাড় এলাকার লোকজনও পানিবন্দি। ওই এলাকায়ও তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার খেয়ে দিন যাপন করছেন বন্যাকবলিত মানুষ।
আরও পড়ুন: সিলেটে বন্যায় মৎস্য সম্পদের ক্ষতি ২ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা
উপশহরে গিয়ে দেখা যায়, গত সোমবার থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এ, বি, সি, ডি, ব্লকের বাসিন্দারা। সঙ্গে বন্ধ রয়েছে গ্যাস সংযোগও। যেসব বাসা-বাড়ি এবং দোকানপাটে বন্যার পানি প্রবেশ করেছিল, তা ধোয়ামোছা করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে তাদেরকে বেগ পেতে হচ্ছে।
ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান, অনেক ব্লকে এখনও কোমর সমান পানি, ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। পানির মটর তলিয়ে গেছে, তাই পানি তুলতে পারছেন না। কিছু কিছু জায়গায় মটর ঠিক থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় পানি তোলা যাচ্ছে না। অন্তত দেড় ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে ট্যাংকি ভরে পানি মজুদ করা যেত। যারা কষ্ট করে ২-৩ লিটার পানি এনে দিচ্ছেন তাতে ৭-৮ জনের পরিবারের পানির অভাব মেটানো সম্ভব নয়।
ঘরে জমে থাকা পানি সেচে ধোয়ামোছা করছেন উপশহর ই-ব্লকের বাসিন্দা ইমা বেগম। তিনি জানান, শুক্রবার রাতেই তার ঘর থেকে পানি নেমে গেছে। তারপরও ঘরে প্রচুর পানি আটকে আছে। এসব পানি শনিবার সকাল থেকে সেচে বের করছেন। ঘর পরিষ্কার করে জীবাণুনাশক স্প্রে প্রয়োগ করবেন বলে জানান।
আরও পড়ুন: নদীর পানি কমায় সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
সি ব্লকের বাসিন্দা ফাতেহা বেগম জানান, পাঁচদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। বাসার রিজার্ভ ট্যাংকের পানি শেষ। বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কখন বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হবে জানি না। কখন বাসার পানির সমস্যা দূর হবে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় ‘মানবিক টিম’ নামক সংগঠনের সদস্যরা উপশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়িতে বোতলজাত খাবার পানি ভ্যানে করে সরবরাহ করছেন। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিলেট রেঞ্জ পুলিশের এসপি মো. জেদান আল মুছা, এসএমপি’র মিডিয়া শাখার শফি আহমদ পিপিএম। এছাড়া উপশহরে স্থানীয় কাউন্সিলর এডভোকেট ছালেহ আহমদ সেলিম বিভিন্ন বাসা বাড়িতে বোতলজাত পানি দিচ্ছেন। পাশাপশি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরাও নেমেছেন সেবা দিতে।
আরও পড়ুন: সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ভোগান্তিতে বানভাসিরা
১৪৯৬ দিন আগে
চাকরি: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে নিয়োগ
পিডিবি - বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে আগ্রহী প্রার্থীদের। ৩১ জন নেবে পিডিবি ২টি পদে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন করা যাবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন আগ্রহী প্রার্থীরা।
পদের বিবরণ ও বেতন স্কেল:
১. বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে সহকারী পরিচালক (হিসাব/অর্থ/অডিট/বাণিজ্যিক পরিচালন) পদে নিয়োগ।
পদসংখ্যা: ১১।
বেতন স্কেল: ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা। এ ছাড়া প্রচলিত অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা।
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
বাণিজ্যে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর। কোনো পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগের নিচে ফল হলে আবেদন করতে পারবেন না । বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে।
২. বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে হিসাবরক্ষক পদে নিয়োগ।
পদসংখ্যা: ২০।
বেতন স্কেল: ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা।
এ ছাড়া প্রচলিত অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা।
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
বাণিজ্যে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর। তবে কোনো পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগের নিচে ফল হলে আবেদন করতে পারবেন না ।
চাকরির ধরন: স্থায়ী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
কর্মস্থল: যেকোনো স্থান
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও আরও জানতে ভিজিট করুন www.bpdb.teletalk.com.bd এই ওয়েবসাইটে। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে।
আবেদন ফি: টেলিটক সিমের মাধ্যমে আবেদন ফি ৬০০ টাকা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।
আবেদনের শেষ সময়: ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ।
১৭৫৯ দিন আগে