কন্যাশিশু
কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
মেয়েদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা এবং তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে সরকার, পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যে এ বছর দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ শুধু একটি বিয়ে নয়। এটি শৈশবের অবসান, শিক্ষার ব্যাঘাত ও সম্ভাবনার অপচয়।’
তিনি মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতের পথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন জগতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পেতে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯, ১০৯৮ ও ৯৯৯ সম্পর্কে পরিবার ও শিশুদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সঠিক সময়ে করা একটি ফোনকল শিশুর জীবন ও শৈশব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মেয়েদের শিক্ষা মৌলিক অধিকার, আর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, ‘কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয়; এটি অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বাল্যবিবাহের ফলে অল্প বয়সে মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মেয়েরা নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
তিনি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি মেয়েদের কল্যাণে ধারাবাহিক ও সুপরিকল্পিত বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মেয়েদের আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে আলোচনার সময় ছেলেদের পাশাপাশি তাদেরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
বাল্যবিবাহের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দারিদ্র্যের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মেয়েদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষা, উপবৃত্তি, বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর খাবার এবং সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জন্মনিবন্ধন যাচাইব্যবস্থা শক্তিশালী করা, মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং ১৯৭৮ সালে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়টির নাম পরিবর্তন করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মেয়েদের বিনা মূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারও মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সুফল প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েসহ প্রত্যেক কন্যাশিশুর কাছে পৌঁছাতে হবে, যাতে লিঙ্গপরিচয়, নিরাপত্তার উদ্বেগ কিংবা পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা তাদের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের নারীদের অর্জনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি পর্বতারোহী নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, দেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা সাহসিকতা দেখিয়েছেন ও নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছেন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা, জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীরা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন করেন, ‘শৈশবে এসব মেয়ের হাতে বইয়ের বদলে যদি বিয়ের শাড়ি তুলে দেওয়া হতো, তাহলে কি আজ আমরা তাদের এই অর্জনগুলো দেখতে পেতাম?’
তিনি আরও বলেন, ‘কন্যাশিশুরা জয় করবে বিশ্ব’ স্লোগানটি নিছক কাব্যিক কথা নয়; এটি বাংলাদেশের বাস্তব সম্ভাবনার প্রতিফলন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানবসভ্যতা ও এর অগ্রগতিতে নারী ও পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে অবদান রেখেছেন।
মেয়েদের বোঝা নয়, সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করতে এবং ছেলে ও মেয়ের জন্য সমান মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের সম্মান করতে এবং তাদের মতামতের মূল্য দিতে শেখানোর পরামর্শ দেন তিনি।
কন্যাশিশুদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি বড় স্বপ্ন দেখতে ভয় না পেয়ে লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
অন্যায়, নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হলে নীরব না থেকে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। প্রয়োজনে উপযুক্ত হেল্পলাইনের মাধ্যমে সহায়তা নিতেও বলেন তিনি।
মেয়েদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, বিবাহ নিবন্ধক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে প্রতিটি কন্যাশিশু নিরাপদে জন্ম নেবে, ভয়হীন পরিবেশে বেড়ে উঠবে, শিক্ষা গ্রহণ করবে, দক্ষতা অর্জন করবে, স্বাবলম্বী হবে এবং নিজের দেশ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গর্ব করতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘আর কোনো বাল্যবিবাহ নয়। আর কোনো বৈষম্য নয়। কোনো কন্যার স্বপ্ন থামিয়ে দেওয়া হবে না। কন্যা এগিয়ে যাবে। কন্যারাই বিশ্ব জয় করবে।’
বাংলাদেশের সব কন্যাশিশুর সুস্থ, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শিশুর নিরাপদ, সফল ও কল্যাণময় জীবন কামনা করেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
সিলেটে দেড় বছরের কন্যাশিশুকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগে মা আটক
সিলেটে দেড় বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুবিনা বেগমকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২২ মে) ভোরে সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন কালারুকা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম মাইমুনা জান্নাত তোহা। তার বাবার নাম আমির আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ (শুক্রবার) ভোরে শিশুটির বাবা ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা দা দিয়ে নিজের মেয়েকে গলাকেটে হত্যা করেন মা সুবিনা বেগম। নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে শিশুটির বাবা আমির আলী ঘরে ঢুকে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান।
পরে খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একইসঙ্গে অভিযুক্ত মাকেও আটক করে পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) সাইফুল ইসলাম বলেন, সুবিনা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। তিনি স্বাভাবিক হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন জানা যাবে, এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় আটক সুবিনার বিরুদ্ধে তার স্বামী বাদী হয়ে মামলা করলে তা হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করবে পুলিশ।
শিশুটির বাবা আমীর আলী জানান, ‘ফজরের আজানের সময় শিশু তোহা ঘুম থেকে উঠলে তিনি তার স্ত্রীকে উঠে নামাজ পড়তে বলে মসজিদে যান। নামাজ শেষে তার ছোট ছেলে গিয়ে তাকে তোহার গলা কেটে ফেলার খবর জানায়। তিনি আসার আগে প্রতিবেশীদের জড়ো করে তাদের বড় ছেলে।
আমীর আলী আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল হাবিব জানান, সুবিনা বেগম মানসিক রোগে আক্রান্ত বলে দাবি করেন তার পরিবারের সদস্যরা। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৪২ দিন আগে
চট্টগ্রামে কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ
চট্টগ্রাম বন্দর থানাধীন পোর্ট কলোনি এলাকা থেকে এক কন্যাশিশুর (৭) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ররিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পোর্ট কলোনির একটি পরিত্যক্ত বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও কলোনির বাসিন্দাদের ধারণা মেয়েটি পথশিশু ছিল। তাকে কে বা কারা ধর্ষণের পর হত্যা করে ফেলে যায়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ৫ শিল্পপতির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
সিএমপির বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে আমাদের টিম কাজ করছে এবং সিআইডির টিমও রয়েছে।
প্রথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে শনিবার রাতে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়া তার বাবা পেশায় রিকশা চালক, মা ভিক্ষা করেন। আমরা তার লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে দেশীয় অস্ত্র জব্দ, গ্রেপ্তার ৫
চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
১৪৮৫ দিন আগে
যশোরে মাছের ঘের থেকে কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার
যশোরের অভয়নগরে একটি মাছের ঘের থেকে ৮ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শফি কামালের মাছের ঘের থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাইমা বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মনিরুল ইসলামের মেয়ে এবং বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) এ কে এম শামিম হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রবিবার বিকালে নাইমা বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা শফি কামালের মাছের ঘেরে কচুরিপানা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় নাইমার লাশ দেখতে পায়। পরে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
ওসি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে কে বা কারা নাইমাকে হত্যা করে ঘেরে ফেলে রেখে গেছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান ওসি।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে ৭ বছরের শিশুর লাশ উদ্ধার
কালিগঙ্গায় নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার
১৫২৬ দিন আগে
দুই কন্যাশিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা!
গাজীপুরে দুই কন্যাশিশুকে হত্যা করে এক মা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় মহানগরের মোক্তার টেক এলাকায় একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু হলো- তাসফিয়া জাহান তাবিহা (৪) ও তাসনিম জাহান বুশরা (৯ মাস)। তারা ওই এলাকার শামসুল হকের বাড়ির ভাড়াটিয়া বিল্লাল হোসেনের কন্যা সন্তান। বিল্লাল হোসেনের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বারে।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় বিল্লাল হোসেন সন্তানদের জন্য নাস্তা কিনতে বাসার নিচে যান। কিছুক্ষণ পর মুড়ি, কলা এবং কেক নিয়ে বাসায় উঠে দেখতে পান শ্বাসরোধ করে দুই কন্যাসন্তানকে হত্যার পর তার স্ত্রী লিজা আক্তার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছেন। তখন বিল্লাল হোসেনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে লিজাকে নিচে নামিয়ে হাসপাতালে পাঠায়।
বিল্লাল হোসেন জানান, তার স্ত্রী লিজা আক্তার (২৩) কয়েক মাস ধরেই মানসিক রোগে ভুগছিলেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মো. জাকির হাসান জানান, লাশ দুটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়নাতদন্ত করাতে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর তাদের মা লিজা আক্তার পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, আটক মা
সাতক্ষীরার ২ শিশু সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা!
১৭৭২ দিন আগে
‘পাবলিক প্লেসে নারীর নিরাপত্তায় জোর দিতে হবে’
ঘরে কিংবা বাইরে কোথাও নিরাপদ নয় নারী ও কন্যাশিশুরা। জন সমাগমস্থল ও চলার পথকে নারীদের জন্য নিরাপদ করতে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি রোধে জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই। একজন নারীর নিরাপত্তা ও চলার পথকে মসৃণ করতে হলে, তাঁকে অবশ্যই উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে তরুণ সমাজকে।
বরিশালে শুক্রবার ‘জনস্থানে নারীর নিরাপত্তা ক্যাম্পেইন’ বিষয়ক এক বিভাগীয় কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন’র (সিআরআই) ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের যৌথ উদ্যোগে যুব স্বেচ্ছাসেবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ই কমার্স সবাস্তবায়নে চুক্তি সই
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপি'র হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রাম-এর সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মশালাটিতে বরিশালের ২৫ জন যুব সংগঠক অংশগ্রহণ করে নারীর প্রতি নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে অঙ্গীকার করেন। নগরীর এবিসি ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, অংশগ্রহণমূলক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, অংশীদার বিশ্লেষণ এবং তাদের দায়িত্ব নির্ধারণসহ প্রচারাভিযান সফল করার মূলনীতি নিয়ে আলোচনা এবং দলীয় কাজের উপস্থাপন করা হয়। সহায়ক হিসেবে কর্মশালা পরিচালনা করেন জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ ও ইয়ুথনেটের সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান।
আরও পড়ুন: দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অনুঘটক হিসেবে আবির্ভূত কোভিড
কর্মশালায় নারীর প্রতি জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা ও যৌন হয়রানি নিয়ে আলোচনা করেন ইউএনডিপির জেন্ডার বিশেষজ্ঞ বিথিকা হাসান এবং হয়রানির শিকার হওয়া নারীদের দোষারোপের সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলেন আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল। অনলাইনে যুক্ত হয়ে ইয়ুথনেটের প্রধান সমন্বয়কারী শাকিলা ইসলাম এবং ইয়ং বাংলার অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্ডিনেটর ইসরাত জাহান তন্বী জানান, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে তাঁর যোগ্য সম্মান ও অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের তেমন কোন সুযোগই দেয়া হয়না। ঘর থেকে বেরোনোর পরই এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় প্রায় প্রতিটি নারীকে। নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবেই হারিয়ে যায় হাজারও সম্ভাবনাময় নারী ঠিক কিছু কুৎসিত মানুষের চিন্তাধারার মতো চির অন্ধকারে। তাই পুরুষতান্ত্রিক আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে জনস্থানকে নারীর জন্য নিরাপদ করে তোলাই এই প্রচারাভিযানের উদ্দেশ্য।
ক্যাম্পেইনটি অনলাইন প্লাটফর্মে সারা দেশব্যাপী পরিচালিত হলেও বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশের ১০টি এলাকায় সিআরআই - এর ইয়ুথ প্লাটফর্ম ইয়ং বাংলার ১০টি সংগঠনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: আবারও পেছাল সাক্ষ্যগ্রহণ
ইউএনডিপির কমিউনিকেশন এক্সপার্ট আলি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ চৌধুরী অনলাইনে প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে যুক্ত হয়ে একজন নারী সহিংসতার শিকার হলে তার কী কী করণীয় কিংবা একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে তরুণদের কী করণীয়, কাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দেন। তাছাড়াও একটি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হলে শক্তি, দুর্বলতা সুযোগ এবং হুমকির সম্মুখীন হয়ে কিভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়, এগুলো বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হবে যাতে নিরাপদে ক্যাম্পেইন করা যায় এ সকল বিস্তারিত আলোচনা হয়। এলাকাভিত্তিক (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, জনসমাগমের স্থান, রেলওয়ে স্টেশন, সমাবেশের স্থান, সেবা প্রতিষ্ঠান, সাইবার জগৎ) স্টেকহোল্ডারদের খুঁজে বের করে প্রচারাভিযান পরিচালনার জন্য তরুণদের দলে বিভক্ত করে দল গঠন ও দায়িত্ব বন্টন করা হয়।
কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতীকী যুব সংসদের চেয়ারপার্সন আমিনুল ইসলাম (ফিরোজ মোস্তফা), প্রোগ্রাম ম্যানেজার ময়ূরী আক্তার টুম্পা ও আভাসের প্রকল্প অফিসার আলী আহসান প্রমুখ।
১৮৫০ দিন আগে