বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ বিষয়ে সরকার নজরদারি রাখবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে সিলেট জেলা পরিষদের ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়ার কথা না। কেউ যদি বাড়তি মূল্য রাখে, তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে দাম বাড়বে বলে অনুমান করেও দাম বাড়িয়ে দেওয়া ঠিক না।
এ বিষয়ে সরকারের তদারকির সুযোগ রয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হবে। কেউ বাজার প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। সেটি কমাতে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য একটি ডেনিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দরের কাজ দ্রুত হলে ইউনিটপ্রতি খরচ কমে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধারা যদি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তা পরিবর্তনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।’
সরকারি কল কারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকারের কাজ ব্যবসা করা না। সরকার যেখানেই ব্যবসা করতে যায়, সেখানেই অদক্ষতার কারণে লোকসান হয়। এতে জনগণের টাকা অপচয় হয়।
তিনি আরও বলেন, সবগুলো লোকসানি প্রতিষ্ঠান সরকার ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। এসব কল-কারখানা চালু করে যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থা করা হয় সরকার সেই চেষ্টা করছে।
বাইশটিলায় ন্যাচারাল পার্ক নির্মাণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাইশটিলা এলাকায় সিলেট জেলা পরিষদের ৪৩ একর জায়গা রয়েছে। এটিকে পর্যটক আকর্ষনীয় স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ন্যাচারাল পার্কে ক্যাবল কার থাকবে, রোপ ব্রিজ থাকবে— এরকম অনেক কিছু থাকবে। শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য অনেক উপকরণ থাকবে। এটি নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান করেছে জেলা পরিষদ। এটি সিলেটের অন্য পর্যটক আকর্ষণীয় স্থান হবে। সরকার এতে অর্থায়ন করবে।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে (সিই) রূপান্তর এখন আর শুধু পরিবেশগত আলোচনার বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন—বিজিএমইএ’র যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশে ‘সুইচ টু সিই পাইলট উদ্যোগের মাধ্যমে সার্কুলার অর্থনীতির রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ববাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। টেকসই উৎপাদন এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার অন্যতম নির্ধারক। ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা এখন এমন উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতি বেশি আগ্রহী যা দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিচয় বহন করে।
তিনি বলেন, ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি’ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রম ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো কল্পনাপ্রসূত ধারণা নয়; বরং এটি বাস্তবসম্মত, অর্জনযোগ্য এবং এর বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপ ও বেস্টসেলারের সহযোগিতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে সার্কুলার অর্থনীতির প্রয়োগে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখিয়েছে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহিম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত প্রধান মাইকেল মিলার এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
৩ দিন আগে
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিকে পারস্পরিক স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।’
মঙ্গলবার (৫ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী নয়, তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা এবং আমরা সেটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চাই।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো।
বাংলাদেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কোনো ক্ষেত্রেই ‘ওভার ক্যাপাসিটি’ নেই এবং বাংলাদেশ ডাম্পিং করে এমন অভিযোগও ভিত্তিহীন।
তিনি যোগ করেন, আমরা অধিকাংশ পণ্য আমদানি করি। যেগুলো রপ্তানি করি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত—তা কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের মধ্যে পরিচালিত হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন বা শিশুশ্রমের কোনো সুযোগ নেই।
চুক্তি বাতিলের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনো চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।
তিনি এটিকে ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির মধ্যেই সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
বৈঠকে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব রুটিন দায়িত্ব মো. আবদুর রহিম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলা হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ন মিলকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডিসিরা নিজ নিজ জেলার বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু এবং ডিসটিলারি স্থাপনের মাধ্যমে রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়ানোর মতো কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।’
বাজার ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে সরকার আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর (এআই-ভিত্তিক) সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ শৃঙ্খল) পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি, মজুত, পাইকারি ও খুচরা প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এর মাধ্যমে টিসিবির বাজার হস্তক্ষেপ আরও কার্যকর, সময়োপযোগী ও লক্ষ্যভিত্তিক হবে।
আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটিও চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ-মাদরাসা-সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। এছাড়া, কোরবানি-পরবর্তী সাত দিন চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্থানীয় সংরক্ষণ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার সম্মিলিতভাবে কাজ করে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করবে, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’
ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, শিল্প সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং বস্ত্র ও পাট সচিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাংলাদেশে ডেনিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একটি বিনিয়োগবান্ধব দেশ এবং দক্ষ জনশক্তি, বৃহৎ বাজার ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক তরুণ কর্মশক্তি শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, যা শিল্প ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, লজিস্টিকস দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহজীকরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে। খন্দকার মুক্তাদির ডেনমার্কের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ-ডেনমার্ক সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে ব্যবসায়িক অংশীদারত্বে উত্তরণের একটি সফল উদাহরণ।
তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ডেনমার্ক বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ডেনমার্কের বিভিন্ন কোম্পানি—বিশেষ করে মার্স্ক বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করছে। তিনি আরও জানান, ডেনমার্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কার কার্যক্রমকে সমর্থন করে এবং এসব উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি ও ডেইরি ভ্যালু চেইন কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আব্দুর রহিম খান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ভুটানের আগ্রহ প্রকাশ
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর ও জলবিদ্যুৎ খাতে যৌথ উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপি প্রায় ৫৯ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও পারস্পরিক বাণিজ্য মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি, যা সম্ভাবনার তুলনায় অত্যন্ত কম। এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার অপরিহার্য।
তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে আঞ্চলিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বল্প দূরত্বে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন পারস্পরিকভাবে লাভজনক হতে পারে।
ভুটানের রাষ্ট্রদূত খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে বাণিজ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক বেশ নিবিড়। এ সম্পর্ক আরও জোরদারে তারা আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বুড়িমারি সীমান্ত থেকে ভুটানের দূরত্ব একশত কিলোমিটারের কাছাকাছি। নিকটবর্তী দেশ হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুবিধাজনক ও লাভজনক।
তিনি জানান বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন এবং ভুটানে ফিরে সেদেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত হন। এতে করে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতিরও বিনিময় হচ্ছে।
এ বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং ভুটানের মিনিস্টার কাউন্সিলর (ট্রেড) দাওয়া শেরিং উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন বিষয়ে জাতীয় প্রশিক্ষণ শুরু, সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ
বৈশ্বিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর নোটিফিকেশন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে পালনের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ট্রেনিং অন ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন রিকয়ারমেন্টস’শীর্ষক ৪ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নোটিফিকেশন ডব্লিউটিও টুলবক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সঠিকভাবে বজায় রাখতে পারলেই আমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় আরও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারব।
তিনি আরও বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীরা কী শিখলেন—তা জানার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কাজে প্রয়োগ করাই হবে এই প্রশিক্ষণের মূল সাফল্য।
বাণিজ্যমন্ত্রী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আইটিটিসির (ITTC) সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম আয়োজন করা হবে, যাতে সংশ্লিষ্টরা ডব্লিউটিও সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে পারেন।
মন্ত্রী বলেন, গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক সম্প্রদায় সম্মিলিতভাবে যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে, তা আরও শক্তিশালী হয়ে এগিয়ে যাবে—এই আশাবাদ আমাদের রাখতে হবে।
ডব্লিউটিও সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে খুব শিগগিরই ডব্লিউটিও নতুন উদ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। এ ছাড়াও ডাব্লিউটিও-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের হেড অব কাউন্সিলর আইটিটিসি ওসমান আলী খিলজি ও ডাব্লিউটিও-এর সেন্ট্রাল ও ইস্টার্ন ইউরোপ, সেন্ট্রাল এশিয়া ও ককেশাস অঞ্চলের হেড অব কাউন্সিলর ড. কেঞ্জা লি মেনটেকও বক্তব্য রাখেন।
চার দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মোট ৫০ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। ডব্লিউটিও সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একাধিক সেশনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
১২ দিন আগে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে ঐতিহাসিক ‘বাসিয়া খাল’ খনন প্রকল্পের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাড়তি মূল্যে জ্বালানি আমদানি করলেও তার অভিঘাত জনগণের ওপর পড়বে না, সরকার তার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে ডিজেলের দাম মাত্র ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। এই সামান্য বৃদ্ধির ফলে পণ্যমূল্যে কেজি প্রতি মাত্র ৩০ পয়সার মতো প্রভাব পড়তে পারে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
সিলেটে সাম্প্রতিক লোডশেডিং বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা লাভ করেছি, যা এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনও অনেকাংশে গ্যাস নির্ভর। দেশে বর্তমানে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হলেও চাহিদা মেটাতে আরও ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করতে হয়। অর্থের সংস্থান থাকলেও কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে চাহিদামাফিক গ্যাস আমদানি ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। তবে সরকার দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।
আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খনন কাজের উদ্বোধন করবেন জানিয়ে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের ২৩ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত এই খনন কাজ চলবে। এর ফলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
সৌদি আরব থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজুদ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশ যাতে জিম্মি না হয়ে পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন স্টোরেজ বা সংরক্ষণাগার নির্মাণ করবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান।
১৫ দিন আগে
এফবিসিসিআইকে কার্যকর, শক্তিশালী ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর জোরারোপ বাণিজ্যমন্ত্রীর
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে (এফবিসিসিআই) দেশের ব্যবসায়ী সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী, কার্যকর ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের কাছে তাদের দাবিদাওয়া কার্যকরভাবে উপস্থাপনে এফবিসিসিআইয়ের ভূমিকা আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় হতে হবে। প্রয়োজনে ইতিবাচক ও গঠনমূলক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নীতিগত সহায়তা আদায়ে সংগঠনটিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তবে এফবিসিসিআইকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি এফবিসিসিআই দেখতে চাই, যা প্রকৃত অর্থেই সকল ব্যবসায়ীর সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এফবিসিসিআই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে নীতিনির্ধারণে বাস্তবভিত্তিক মতামত প্রদান করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সংগঠনটিকে গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে যোগ্য, দূরদর্শী ও উদ্যমী নেতৃত্ব অপরিহার্য। এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্ব ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকেই আসা উচিত এবং সংগঠনটি যেন ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—তা নিশ্চিত করা হবে।
ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন আমদানি নীতি (ইমপোর্ট পলিসি) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই তা উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা সহজীকরণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হবে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, আব্দুল হক, বাংলাদেশ সিএনজি মেশিনারিজ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়ন, বাংলাদেশ সুপার মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী খোকন, রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন রাজেশ এবং সাবেক পরিচালক সৈয়দ বখতিয়ার প্রমুখ।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী নেতারা এফবিসিসিআইকে আরও কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। তারা নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে ব্যবসায়ী সমাজ থেকে একজনকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন।
২০ দিন আগে
বাহরাইনে নিহত প্রবাসী গিরিশ চন্দ্রের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
বাহরাইনে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ আজ সকালে দেশে পৌঁছেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন। এরপর নিহতের ছোট ভাই সমর চন্দ্র সূত্রধরের কাছে তিনি মরদেহটি হস্তান্তর করেন।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ সৎকারের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, ওয়ারিশ সনদ প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিহতের পরিবারকে আরও ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বিদেশগামী সকল কর্মীকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে নিবন্ধন করে বিদেশ যাওয়ার আহ্বান জানান, যাতে তারা সরকারের আনুষ্ঠানিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন। তিনি প্রবাসে কর্মরত সকল বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করেন এবং নিহত গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
উল্লেখ্য, গিরিশ চন্দ্র সূত্রধর সিলেট জেলার সদর উপজেলার পূর্ব মাছপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কিছুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনক কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
২৪ দিন আগে