বাণিজ্যমন্ত্রী
এফবিসিসিআইকে কার্যকর, শক্তিশালী ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ওপর জোরারোপ বাণিজ্যমন্ত্রীর
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে (এফবিসিসিআই) দেশের ব্যবসায়ী সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী, কার্যকর ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের কাছে তাদের দাবিদাওয়া কার্যকরভাবে উপস্থাপনে এফবিসিসিআইয়ের ভূমিকা আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় হতে হবে। প্রয়োজনে ইতিবাচক ও গঠনমূলক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নীতিগত সহায়তা আদায়ে সংগঠনটিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তবে এফবিসিসিআইকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি এফবিসিসিআই দেখতে চাই, যা প্রকৃত অর্থেই সকল ব্যবসায়ীর সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এফবিসিসিআই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে নীতিনির্ধারণে বাস্তবভিত্তিক মতামত প্রদান করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সংগঠনটিকে গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে যোগ্য, দূরদর্শী ও উদ্যমী নেতৃত্ব অপরিহার্য। এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্ব ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকেই আসা উচিত এবং সংগঠনটি যেন ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—তা নিশ্চিত করা হবে।
ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন আমদানি নীতি (ইমপোর্ট পলিসি) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই তা উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা সহজীকরণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হবে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, আব্দুল হক, বাংলাদেশ সিএনজি মেশিনারিজ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়ন, বাংলাদেশ সুপার মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী খোকন, রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন রাজেশ এবং সাবেক পরিচালক সৈয়দ বখতিয়ার প্রমুখ।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী নেতারা এফবিসিসিআইকে আরও কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। তারা নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে ব্যবসায়ী সমাজ থেকে একজনকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন।
১১ ঘণ্টা আগে
বাহরাইনে নিহত প্রবাসী গিরিশ চন্দ্রের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
বাহরাইনে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ আজ সকালে দেশে পৌঁছেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন। এরপর নিহতের ছোট ভাই সমর চন্দ্র সূত্রধরের কাছে তিনি মরদেহটি হস্তান্তর করেন।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ সৎকারের জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, ওয়ারিশ সনদ প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিহতের পরিবারকে আরও ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বিদেশগামী সকল কর্মীকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে নিবন্ধন করে বিদেশ যাওয়ার আহ্বান জানান, যাতে তারা সরকারের আনুষ্ঠানিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন। তিনি প্রবাসে কর্মরত সকল বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করেন এবং নিহত গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
উল্লেখ্য, গিরিশ চন্দ্র সূত্রধর সিলেট জেলার সদর উপজেলার পূর্ব মাছপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কিছুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনক কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
৪ দিন আগে
অর্থনীতিতে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে জোর দিচ্ছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের অর্থনীতিতে টেকসই স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, অতীতে জবাবদিহিতার অভাব এবং অযৌক্তিক প্রকল্প গ্রহণের ফলে অর্থনীতিতে অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হয়েছে যার প্রভাব এখনও বিদ্যমান।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের বাইরে কোনো আলাদা সত্তা নয়; জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগের মাধ্যমেই একটি সুস্থ অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। এ সংযোগ ও স্বচ্ছতা ভেঙে গেলে অর্থনীতিতে অস্থিরতা ও ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য। কিন্তু অতীতে এমন কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর যথাযথ যৌক্তিকতা ছিল না এবং প্রকৃত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের আওতাধীন বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পর্যালোচনায়ও অনেক প্রকল্পে দুর্নীতি ও অকার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, শুধু সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করা সম্ভব নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ ব্যবসা প্রক্রিয়া (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস) এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা জরুরি। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই লাইসেন্স ও নিবন্ধন সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এলএনজি, ক্রুড অয়েল ও সার আমদানির খরচ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যা সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সক্ষমতা (স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ) গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য করজাল (ট্যাক্স নেট) সম্প্রসারণ অপরিহার্য। ব্যক্তিগত করহার বাড়ানোর পরিবর্তে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। আসন্ন বাজেট ও পরবর্তী সময়ে এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বেসরকারি খাতকে সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করলে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করা সম্ভব।’
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ প্রাক-বাজেট আলোচনায় জেনারেল ইকোনমিকস ডিভিশনের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমানসহ দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
৬ দিন আগে
ভোক্তা-কৃষকের সরাসরি সংযোগে সিলেটে ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে ‘কৃষকের হাট’।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট-সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়। ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। ভোক্তা-কৃষকের সরাসরি সংযোগে বাজারে স্বস্তি আসবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
৮ দিন আগে
দেশের স্বার্থে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
দেশের মানুষের স্বার্থে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাসভবনে সিলেটের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে সবার উচিত জ্বালানি সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করা, যাতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখা যায় এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার খরচও কমানো যায়।
তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, দেশের সব মানুষের স্বার্থে আমরা যেন জ্বালানি সাশ্রয় করি। সাশ্রয় করলে আমরা জ্বালানি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করতে পারব। এতে দেশের জন্য কম আমদানি করতে হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার খরচও কমবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে হবে। তাই এই স্বাভাবিকতা ধরে রাখার জন্য সবাইকে আমার পক্ষ থেকে অনুরোধ থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি সামঞ্জস্য করে বিশেষ করে পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করলে বাড়তি খরচ এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে। এইভাবে আমরা জ্বালানি সংরক্ষণ করতে পারব যা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারযোগ্য থাকবে।
এছাড়া এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবসহ যেসব দেশ থেকে এলপিজি গ্যাস আমদানি করা হয়, সেখানকার বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল থাকবে।
জ্বালানিসংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্যাস-নির্ভর শিল্পে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই জ্বালানির কারণে শিল্প উৎপাদন কমার সুযোগ নেই। আমরা নিশ্চিত করেছি যে শিল্পমালিকরা উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবেন।
মন্ত্রী আরও জানান, জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই হয়েছে। এটি এখনও সংসদে পাশ হয়নি, পাশ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এছাড়া দেশের পণ্য বিদেশে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতিও চলছে। এগুলো সম্পন্ন হলে এলডিসি থেকে উত্তোরণের পরও বাংলাদেশের পণ্য অনেক দেশে অগ্রাধিকার পাবে।
এর আগে, বাণিজ্যমন্ত্রী সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিলেটে পৌঁছান। এরপর নগরীর পীরমহল্লা জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেন এবং মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল ৪টায় নিজ বাসভবনে স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন, এহতেশামুল হক চৌধুরী, সাংগঠনিক সচিব নিয়াজ মো. আজিজুল করিম, আব্দুল হাদি পাভেল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
১৬ দিন আগে
এলডিসি উত্তরণের পর নির্দিষ্ট সময় বিশেষ সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) পর্যায় থেকে উত্তরণের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের চতুর্দশ অধিবেশনের (এমসি১৪) তৃতীয় দিনের বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেশনে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি ডব্লিউটিও সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, একটি কার্যকর, পূর্বানুমেয় এবং নিয়মভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ও দ্বিস্তরবিশিষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠা আহ্বান জানান এবং আপিল বিভাগ পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা অপরিহার্য।
মৎস্য খাতে ভর্তুকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষতিকর ভর্তুকিতে বাংলাদেশের অবদান প্রায় শূন্যের কাছাকাছি, যেখানে বড় মৎস্য আহরণকারী দেশগুলোর অংশীদারত্ব বেশি। তিনি ক্ষতিকর ভর্তুকির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিশেষ ও পৃথক সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ন্যায্যতা ও স্থায়ীত্ব বজায় রাখতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জেলেদের সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ‘উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ সহজীকরণ চুক্তি’ (ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্ট)–এ ১২৯তম সদস্য হিসেবে যোগদানের ঘোষণা দেয়। এটি ডব্লিউটিও কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশের প্রথম কোনো বহুপাক্ষিক চুক্তিতে অংশগ্রহণ।
২০ দিন আগে
ডব্লিউটিও সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে ‘ডব্লিউটিও রিফরম: ফান্ডামেন্টাল ইস্যুস’ শীর্ষক সেশনে তিনি এ আহ্বান করেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ডব্লিউটিওর মূল ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়মভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (এমএফএন) শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার (ডিএফকিউএফ) এবং বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা (এসঅ্যান্ডডিটি)-এর মতো ব্যবস্থাগুলো বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২৩ দিন আগে
দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পেরেছি: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, গত এক মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল, আমরা দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পেরেছি।
তিনি বলেছেন, এটা কারও ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়। আল্লাহর মেহেরবানি, সরকারের চেষ্টা ও সাধারণ মানুষের শৃঙ্খলার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। কেউ আতঙ্কিত হননি। এই শৃঙ্খলাবোধ স্থিতিশীলতার নিয়ামক, প্রাথমিক শর্ত।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত আদায় করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এই জামাতে প্রবাসীকল্যাণ বৈদেশিক ও কর্মসংস্থামন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও অংশ নেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার মানুষের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি সরকার। বৈশ্বিক যে চাপ আসুক, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে—এই দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে যেন দ্রব্যমূল্য থাকে। জীবনযাপন যেন সহনীয় থাকে, এটি হবে প্রধানতম লক্ষ্য। এজন্য সরকারি যত যন্ত্র ব্যবহার করা লাগে, সেটা করতে কার্পণ্য করা হবে না।
এ সময় প্রবাসীকল্যাণ বৈদেশিক ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আজকে আমাদের অনেক প্রবাসী ভাইবোনরা নানাবিধ সমস্যায় রয়েছেন। কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন, কেউ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, কেউ গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাদের জন্য আমরা দোয়া করি, প্রবাসের যুদ্ধকালীন সময়ে যারা যেখানে আছেন, তারা যেন সুন্দরভাবে আমাদের মধ্যে ফিরে আসেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
শাহী ঈদগাহের এই ঈদ জামাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ লাখো মানুষ নামাজ আদায় করেন।
এ সময় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নগরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিচ্ছন্ন আধুনিক নগর গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত, আধুনিক নগর গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা ও সহায়তায় আমরা একটি আধুনিক ও উন্নত সিলেট গড়ার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
সিলেটে এবার মোট ২ হাজার ৯৫৮টি স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় ৩৯৬টি জামাত। প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় নগরীর শাহী ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায়। এতে ইমামতি করেন বরুণার পীর নামে পরিচিত মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক।
২৯ দিন আগে
উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে ইমামদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আগামীতে উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে ইমামদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ইমামরা তদারকিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলে সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমাজের মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেদের মালিকানা অনুভব করবেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) সিলেট নগরীর সারদা হলে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত মহানগরীর মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইমামদের কল্যাণে সরকার দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সে লক্ষ্যে ইমামদের মর্যাদা রক্ষায় ব্যক্তিগত ইচ্ছায় নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি রোধে রাষ্ট্র স্বীকৃত একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি ইমামদের জন্য এমন সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে চার থেকে ছয় সদস্যের একটি পরিবার স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমান সিসিক প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন। আগামী দিনে সিলেট সিটি করপোরেশনে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটবে। সিসিকের আওতাধীন সব সড়ক ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করা হবে। নগরবাসীর জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিনোদন ও হাঁটার উপযোগী পার্ক নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সিলেট থেকে অনলাইন জুয়া ও মাদক চিরতরে নির্মূলের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এসব কাজে সিসিক প্রশাসক সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেবেন।
সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগরীর ৮২৭টি মসজিদের ১ হাজার ৬৪ জন ইমাম এবং ১ হাজার ২১১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী দেওয়া হয়েছে।
৩৪ দিন আগে
বাজারের মূল্য তারতম্য অনুসন্ধানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের দামের অযৌক্তিক ব্যবধানের কারণ অনুসন্ধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: ভোগ্যপণ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারে অনেক ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য দামের ব্যবধান দেখা যায়। এই ব্যবধানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, প্রশাসনের সদস্য এবং প্রয়োজন হলে অন্যান্য পেশাজীবীদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও আমদানি নির্ভর দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বা পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়া স্বাভাবিক। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণজনিত কোনো কারণে যেন পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।
বিদেশি ফল আমদানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছু ফল রয়েছে যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা প্রয়োজন, যেমন: আপেল, আঙ্গুর ও কমলা। এসব ফলের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার প্রয়োজনে নীতিগত পদক্ষেপ বিবেচনা করবে। তবে অত্যধিক দামি, বিলাসী ফলের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি ব্যবসায়ীরাই। সরকারের কাজ হলো ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বাজার যেন বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে তা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে বাজার তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের যেন অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
রমজান মাস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মাস ত্যাগ ও সংযমের মাস। তাই ব্যবসায়ীরা যদি মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেন, তবে তা সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
তিনি আরও বলেন, চলতি রমজান মাসে ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, যা গত কয়েক দশকের তুলনায় ইতিবাচক উদাহরণ। এজন্য পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে কোথাও কোথাও ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সীমিত বিক্রির অজুহাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রবণতার বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত শোনার জন্যই তিনি খাতুনগঞ্জে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
সভায় চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ী নেতারা, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
৩৫ দিন আগে