বাণিজ্যমন্ত্রী
বিনিয়োগে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব বাণিজ্যমন্ত্রীর
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবাগুলোকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণবিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির (আইবিএ) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানও বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে ব্যবসা নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা পাওয়ার বিদ্যমান প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনায় অপ্রয়োজনীয় ধাপ বাদ দেওয়া, প্রক্রিয়া সম্পন্নের সময় কমানো এবং উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘসূত্রতা কমানো গেলে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ উৎসাহিত হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্যবসা ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সেবাগুলো ধীরে ধীরে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন, যাতে আরও বেশি স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর চলমান উদ্যোগ, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও সেবা প্রদান ব্যবস্থা উন্নত করার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজনেস বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি দাবি জানালেও যাচাই-বাছাই না করে দাম বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট সদর উপজেলায় সুরমা নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির দাবি জানালেও সরকার বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নেবে।’
এছাড়া দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগে কোনো প্রভাব যাতে না পড়ে সে দিকে সরকারের নজর রয়েছে।’
১ দিন আগে
সুরমার দুই তীরে ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ-সড়ক নির্মাণ হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
সিলেটের নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার দীর্ঘদিনের সমস্যা মোকাবিলায় সুরমা নদীর দুই তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেট সদর উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা সুরক্ষিত করতে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের পাশাপাশি নদীতীর সংরক্ষণ, পুনঃখনন ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সুরমা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেহন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, টোকের বাজারে ৫০০ মিটার ও মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ রয়েছে।
এর পাশাপাশি কুশিয়ারা ও বাসিয়া নদী পুনঃখনন এবং সারি ও আরশারিক নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় মসজিদের ইমাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে তদারকি কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় সুরমা নদীর দুই তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের উন্নয়ন একটি সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়। সরকার, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাণিজ্যমন্ত্রী সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেটের নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
চীনা নারী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বিশেষ করে ইউনান প্রদেশের নারী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা সফররত চীনের ইউনান প্রদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউনানের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটারের একটি কার্যকর সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা সম্ভব হলে প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে।
ইউনানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রদেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। প্রদেশটির প্রায় চার কোটি ৬৪ লাখ জনসংখ্যার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে প্রস্তাবিত বিনা মূল্যের বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও প্রদর্শনী সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দুই অঞ্চলের বাণিজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে ইউনান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ এক দশমিক তিন বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে।
অন্যদিকে ঝাও জুনমিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ইউনানের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা নীতির আওতায় এসেছে। এর আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস, প্রদর্শনী কেন্দ্র ও শুল্ক-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো দ্রুতই কার্যকর হবে।
তিনি আরও জানান, ইউনানের বাণিজ্য বিভাগ ও বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শনের জন্য ইউনানে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। এ সুবিধা কাজে লাগাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, ফল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য ইউনানে রপ্তানি এবং ইউনান থেকে ফুল, সার ও পশুখাদ্য আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ স্থাপিত হলে দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে জ্বালানি, ই-কমার্স ও প্রযুক্তিখাতে দুই পক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে, বিশেষ করে ইউনানের নারী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
সিলেটের পুরনো কারাগারকে পার্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী কুনমিংয়ের আধুনিক পার্কগুলোর আদলে সিলেটে একটি আধুনিক পার্ক গড়ে তুলতে ইউনান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান।
ঝাও জুনমিন বাংলাদেশের এসব প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
বছরজুড়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি জোরদার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার নজরদারি আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, শুধু রমজান মাস নয়, সারা বছর নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী সংগঠন, আমদানিকারক, উৎপাদক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা–সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাজারে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। কেউ বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
সভায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, রমজান মাসে ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তবে সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনা শুধু রমজানকেন্দ্রিক নয়। সারা বছরই পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য সহনীয় রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পণ্য পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবও কয়েকটি এলাকায় বাজারে পড়েছে। তবে শীতকাল সামনে থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন সবজি বাজারে আসতে শুরু করবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিয়মিত বাজার পরিস্থিতির খোঁজ রাখার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের দামে দুই-চার টাকার অস্বাভাবিক ওঠানামা সামগ্রিক হিসাবে খুব বড় মনে না হলেও তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বাজার নিয়ে আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাজারে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি মানুষের আস্থা ধরে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী জানান, বাজারে মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নজরদারি ও মনিটরিং কার্যক্রম বাড়ানো হবে। আমদানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে পণ্যের মজুত, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশকেও এর অর্থনৈতিক চাপ বহন করতে হয়। সরকার ভোক্তাদের ওপর পুরো চাপ একবারে না দিয়ে একটি অংশ বহন করলে শেষ পর্যন্ত তা রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার ওপরই পড়ে। তাই জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাজার ও ব্যবসা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিকও পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত পণ্য এবং যেসব পণ্যের ঋণপত্র বা এলসি ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে কিংবা যেগুলো জাহাজীকরণ পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলোর তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আমদানি পরিস্থিতি ইতিবাচক
সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির একটি চিত্র উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় দেশে নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক।
কমিশনের তথ্যানুযায়ী, দেশে মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাত লাখ মেট্রিক টন। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪২ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানি হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে এক লাখ ছয় হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।
ভোজ্যতেলের কাঁচামাল বা সিড আমদানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দুই লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন সিড আমদানি হয়েছিল। চলতি বছর তা বেড়ে তিন লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।
দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২১ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা তৈরি হয়। কমিশন জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের আমদানি ও পাইপলাইন পরিস্থিতি ইতিবাচক রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ট্রেসেবিলিটি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পণ্য সরবরাহের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ডিম ও পোল্ট্রিসহ গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যকে এ কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের মূল উদ্দেশ্য বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা, যৌক্তিক মূল্য বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের আস্থা শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ী নেতাদের পরামর্শ বাজার ব্যবস্থাপনা ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
সভায় ব্যবসায়ী নেতারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, সরবরাহ ও বাজারমূল্য-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম এবং ডাল, তেল, খেজুর, ডিম ও চিনি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে ৩৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি সাশ্রয়ের আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে চলতি অর্থবছরে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি সাশ্রয় হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) টিসিবির সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির কার্যক্রমের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ভর্তুকির অপচয় আরও উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এখনও পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকর হয়ে ওঠেনি। উৎপাদক পর্যায় থেকে পণ্য শহর বা রাজধানীর খুচরা বাজারে পৌঁছানোর পর অনেক ক্ষেত্রে দামের বড় ব্যবধান তৈরি হয়। আবার সাময়িক সরবরাহ ঘাটতিও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে টিসিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে টিসিবির সেবায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে টিসিবির সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নেওয়া বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল টিসিবি কার্ড, ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ডিলার ব্যবস্থাপনা, অল-ইন-ওয়ান পিওএস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)ভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা।
৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারী বাদ
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে।
সরকারি ভর্তুকি যেন প্রকৃত ও যোগ্য উপকারভোগীর কাছেই পৌঁছে, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ডেটাবেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ উপকারভোগী টিসিবির সেবার আওতায় রয়েছেন। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
১৪ দিন আগে
ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের মানুষের নিরাপদ, বিশুদ্ধ ও মানসম্মত পণ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি, জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষ তার কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে যেন ভেজাল, নিম্নমানের বা ক্ষতিকর পণ্য কিনতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দেশের ১৭ থেকে ১৮ কোটি মানুষের ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় অধিদপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, অধিদপ্তরকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রশিক্ষণ, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সেবাগুলো পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের আকার বা পরিচিতির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের জীবনে ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বাস্তব প্রভাব। সে বিবেচনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাজের গুরুত্ব অনেক বেশি।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, জনবল ও সেবা কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (বিআইডিএস) দিয়ে গবেষণা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, গবেষণার সুপারিশের আলোকে অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও জনবান্ধব করা হবে। খুব শিগগিরই বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যার মাধ্যমে ভোক্তারা প্রতিষ্ঠানটির সেবা আরও সহজে ও কার্যকরভাবে পাবেন।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অধিদপ্তরের বর্তমান কার্যক্রম, প্রযুক্তির ব্যবহার, জনবল কাঠামো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ভোক্তা সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
১৪ দিন আগে
হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোর
হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাজা ফল, পাট ও চামড়াজাত পণ্যসহ উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হংকং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সামিটের সাইডলাইনে হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এইচকেটিডিসি) নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪১৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করেছে ১০৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি সামান্য বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সরাসরি প্রবেশ বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৈঠকে বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও লেবুসহ প্রিমিয়াম ফল হংকংয়ের সুপারমার্কেট ও বড় আমদানিকারকদের কাছে পৌঁছাতে ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বিটুবি) ম্যাচমেকিং আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হংকংয়ের গ্রিন রিটেইল ও ডিজাইন শিল্পে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে ভর্তুকিযুক্ত বা বিনামূল্যের প্রদর্শনী স্টল, ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট অব অরিজিন চালু, শুল্ক প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং যৌথ শিপিং ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হংকংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, হংকংকে দক্ষিণ চীন ও গ্রেটার বে এরিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।
সোফিয়া চং বাংলাদেশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়াতে হবে। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
বৈঠক শেষে সোফিয়া চংয়ের নেতৃত্বে এইচকেটিডিসির একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
২১ দিন আগে
ইইউয়ের ৬১ বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান করেছে বাংলাদেশ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চিহ্নিত ৬১টি শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধার (নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ারস) মধ্যে ৪৮টির সমাধান করেছে বাংলাদেশ। অবশিষ্ট বিষয়গুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত মার্চ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য পরিচালনায় বিদ্যমান কিছু নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে এসব সমস্যার বড় অংশের সমাধান করা হয়েছে।
সমাধান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি করে ২০ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণ এবং রপ্তানি পণ্যের ট্রেসিবিলিটি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতা দূরীকরণ এবং যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা।
এলডিসি উত্তরণে ইইউর সহযোগিতা প্রত্যাশা
বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) ও অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সুপারিশ ইতিবাচকভাবে এসেছে। আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শক্তিশালী সমর্থন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এফটিএ আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহ থেকেই এ বিষয়ে যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে।
তিনি বলেন, উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে হলে একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই লাভবান হবে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিমান চলাচল ও বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এয়ারবাস ক্রয়-সংক্রান্ত আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২৫ দিন আগে
তিন বছরে ৪ শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বিগত তিন বছরে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের কারণে দেশে ৪০০টির বেশি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সদস্য ২৮২টি ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্য ১২০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে।’
বিজিএমইএর ২২ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে আটটি প্রধান কারণ রয়েছে। এগুলো হলো—কোভিড-১৯ মহামারি; রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ; মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত; বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা; বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা; অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট; ভারত, ভিয়েতনাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি; এবং সহজে সরাসরি তদারকি করতে চাওয়ার কারণে বিদেশি ক্রেতাদের ছোট ও মাঝারি কারখানায় ক্রয়াদেশ দিতে অনীহা।
বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর উন্নত দেশগুলোর দেওয়া বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধার আওতায় অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা হারাবে, যার ফলে ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা করছে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) জোটভুক্ত দেশগুলো, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীন ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি বাজারের সঙ্গে ইপিএ, সিইপিএ বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের উদ্যোগও চলছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিহার আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৫০৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের জুলাইয়ে এ খাত থেকে ৩ দশমিক ৮৮৬৭২ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে।
এছাড়া জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ওই সময়ে বাংলাদেশ ভারত থেকে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বাকি অংশ ছিল প্রতিবেশী দেশটি থেকে আমদানি।
চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তবে সরকার কোনো একটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আলাদাভাবে মোকাবিলার পরিবর্তে সামগ্রিক রপ্তানি সক্ষমতার দিকে গুরুত্ব দিতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সামগ্রিক রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো।’
তিনি জানান, রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে—এমন খাত হিসেবে চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও সেমিকন্ডাক্টরকে সরকার চিহ্নিত করেছে। এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা জোরদার করতে নীতিগত সহায়তা ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে কিছু বাধা রয়েছে। তবে গত দুই বছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশও কিছু বাধা তৈরি করেছে।
মুক্তাদির জানান, সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে সফর করেছে এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার এই প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে।
ভারত থেকে বাংলাদেশের বেশি আমদানির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, এসব আমদানির বেশির ভাগই করেছে বেসরকারি খাত, সরকার নয়। ব্যবসায়ীরা যেসব উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য পেতে পারেন, সেখান থেকেই আমদানি করেন বলে তিনি জানান।
বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদে যে পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন, তাতে দেখা যায়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২১ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৩১৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২২ অর্থবছরে ১১ দশমিক ৬৯৯ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৭১৭ বিলিয়ন ডলার, ২০২৪ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৪৩১ বিলিয়ন ডলার ও ২০২৫ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮৬০ বিলিয়ন ডলার।
এছাড়া চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সারওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তাদির বলেন, ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে বছরে আনুমানিক ২২ লাখ থেকে ২৫ লাখ টন ভোজ্যতেলের প্রয়োজন হয়।
২৮ দিন আগে