বাণিজ্যমন্ত্রী
ইইউর সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয় সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং একে একে সেগুলোর সমাধানে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার বার্তা পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান নন-ট্যারিফ (অশুল্ক) বাধাগুলো অপসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়াও এলডিসি গ্রাজুয়েশন পেছানো ও বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এফটিএ চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উত্থাপিত বিভিন্ন উদ্বেগ দূর করতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে যাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমে এবং অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়।
তিনি বলেন, ইইউর সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয় সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং একে একে সেগুলোর সমাধানে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সম্পূর্ণ সক্ষম— এ বার্তা পৌঁছে দিতেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হবে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর হবে, জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প-কারখানাগুলো দক্ষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। এসব সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী ।
এ সময় ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা শুরুর জন্য ইইউ প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশকে একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা (এনটিবি) দূর করা, ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক সুবিধা মসৃণভাবে অব্যাহত রাখতে দ্রুত ও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ-ইইউ এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে।
বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো, কৃষি ও যোগাযোগ উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ, কৃষি, সেচ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সিলেট সদরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ এবং রাজারগাঁও জামিয়ুল উলুম মাদরাসা বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চলমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই হাজার উপকারভোগীর প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। এছাড়া প্রায় ৭০০ জনকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রাজারগাঁও জামেয়া মাদরাসা ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে তিনতলা বিশিষ্ট এ ভবনটি মাদরাসা হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বন্যা বা অন্য যেকোনো দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভবনটিতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক কক্ষ, বাথরুম এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা রাখা হয়েছে, যাতে দুর্যোগকালে নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা যায়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন, নতুন রাস্তা নির্মাণ, প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। সাময়িক জলাবদ্ধতা ও সেচের পানির অভাবে যেসব জমি অনাবাদি থাকে, সেগুলোকে চাষাবাদের আওতায় আনতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
মন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচিকে আরও জোরদার করে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে সিলেটের কৃষিজমিতে সারা বছর চাষাবাদ সম্ভব হয়। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে এবং জনগণ এর সুফল ভোগ করবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
কৃষি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় এআইভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
কৃষি ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও তথ্যনির্ভর ও কার্যকর করতে সরকার এআইভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানির প্রয়োজনীয়তা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শাকসবজি রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে সিলেটে একটি আধুনিক প্যাকেজিং সেন্টার স্থাপন, কৃষকদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং পণ্য অনুসরণ ব্যবস্থা (ট্রেসেবিলিটি) নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেটে বিপুল পরিমাণ শাকসবজি উৎপাদিত হলেও প্যাকেজিং ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে রপ্তানির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এসব সমস্যা দূর করা গেলে সিলেট দেশের প্রধান শাকসবজি রপ্তানি অঞ্চলে পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিজ্ঞানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
পণ্যের মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।
এ বছর রপ্তানি বাড়বে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানিতে প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও জানান তিনি।
বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি এআইভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এআইভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে। এর ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বাণিজ্যমন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
টেকসই উত্তরণের লক্ষ্যেই এলডিসি প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়াতে চাইলেও এর উদ্দেশ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়; বরং একটি টেকসই, স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল উত্তরণ নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশস প্রিপেয়ার্ডনেস ফর এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড দ্য র্যাশনাল ফর এক্সটেনশন অব দ্য প্রিপারেটরি পিরিয়ড’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সেমিনারটির আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, ‘উত্তরণের এই অতিরিক্ত সময় আমরা কোনো বিলম্বের জন্য চাই না; বরং একটি টেকসই, স্থিতিশীল এবং কার্যকর অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য চাই।’
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বর্তমান সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএনসিডিপি) কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জানায়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রস্তুতিমূলক সময়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এসব কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তাই সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা।
তিনি জানান, জাতিসংঘের ওএইচআরএলএলএস পরিচালিত গ্র্যাজুয়েশন প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলডিসি উত্তরণের জন্য যথেষ্ট অনুকূল নয়। সে কারণেই অতিরিক্ত প্রস্তুতির সময় প্রয়োজন।
সরকার ইতোমধ্যে ২৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার নিয়ে একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ (ডিরেগুলেশন), প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন।
মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা শুরু করতে বর্তমানে যে সময় লাগে, তা এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে, যাতে কোনো উদ্যোক্তা ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারেন।
এছাড়া ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা ও কাজের পুনরাবৃত্তি দূর করে ব্যবসার সময় ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৯ দিন আগে
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ব্যবসা শুরু, লাইসেন্স প্রদান, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতে দ্রুতগতিতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ‘শিল্পখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিজিএমইএ’কে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও সংগঠিত ব্যবসায়িক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত, যেমন: চামড়া, পাট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাহাজ নির্মাণ খাতে উন্নয়ন হলেও স্বল্পমেয়াদে কোনো খাতই তৈরি পোশাক শিল্পের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তাই অর্থনীতিতে এই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে ব্যবসা শুরু ও লাইসেন্স প্রাপ্তিতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগলেও, এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধনের মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই উদ্যোক্তারা আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) এবং অন্যান্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়ে যাবেন, যার ফলে দ্রুত যন্ত্রপাতি আমদানি ও শিল্প স্থাপন সম্ভব হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে এবং শিল্প স্থাপনের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি নিবন্ধন, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি বিলুপ্তিসহ সকল সেবা অনলাইনে প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সফল মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততার ফলে কার্গো পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন।
জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি আমদানির পাশাপাশি আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। তাই নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার, যা শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। স্বাগত বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক। এ ছাড়াও, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ফাউন্ডার কামাল আহমেদ, ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং এবং এইচএসবিসি ব্যাংকের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সৈয়দা আফজালুন নেসা বক্তব্য দেন।
আলোচনায় বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কুতুবউদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক সহ-সভাপতি ও ঊর্মি গ্রুপের বাবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশের মতো দেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো উদাহরণ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। তিনি বলেন, নানা সংকট ও দুর্যোগের মধ্যেও এ দেশের মানুষ সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন অটুট রেখেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে সিলেটে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এই দেশ আবহমানকাল ধরেই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির দেশ। এটি কোনো মুখের কথা নয়, বরং শাশ্বত সত্য। অর্থনৈতিক সামর্থ্য কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকে আমরা হয়তো অনেক দেশের চেয়ে পিছিয়ে আছি, কিন্তু ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো দেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই।’
তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঔদার্য ও একসঙ্গে বসবাসের যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা বিশ্ববাসীর জন্য অনুকরণীয়। নানা সংকট ও দুর্যোগের মধ্যেও এ দেশের মানুষ সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন অটুট রেখেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ায়। এ দেশের মানুষের এই অদম্য মানসিক শক্তি ও বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
তিনি বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ সময় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।
মন্ত্রী বলেন, মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা প্যাগোডা— যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করবে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনগুলো সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে, বাকি কাজ সরকার সম্পন্ন করবে।
আগামী দিনের নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে আসন্ন ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৫ দিন আগে
বিমানবন্দরে কার্গো জট নিরসনে ছুটির দিনেও সেবা চালু রাখার পরিকল্পনা বাণিজ্যমন্ত্রীর
বিমানবন্দরে বিদ্যমান কার্গো জট নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালু রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ‘শুক্র ও শনিবার কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিমানবন্দরে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ কমছে না। স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সেবা চালু রাখা জরুরি।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ইইউ উত্থাপিত ‘নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার’-বিষয়ক সমস্যাগুলোর মধ্যে বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনায় সংকট ও এর সমাধান নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর কোনো স্টোরেজ বা গুদামজাতকরণের স্থান নয়, এটি মূলত পণ্য আগমন ও বহির্গমনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কার্গো বিমানবন্দরে অবস্থান করলে সংকট তৈরি হয়। এ কারণে বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপদ ও আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধাসহ একটি পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। কার্গোর ধরন অনুযায়ী হ্যাজার্ডাস (ঝুঁকিপূর্ণ), নন-হ্যাজার্ডাস (ঝুঁকিমুক্ত), ফাস্ট-মুভিং (দ্রুতগামী) ও স্লো-মুভিং (ধীরগামী) পণ্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এতে কার্গো পরিচালনা আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।
সভার আলোচনায় উঠে আসে, বর্তমানে প্রতিদিন যত পরিমাণ কার্গো বিমানবন্দরে আসছে, প্রায় একই পরিমাণ পণ্য খালাস হচ্ছে। তবে আগে থেকে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকাও এর অন্যতম কারণ।
মন্ত্রী বলেন, সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের সমাধান নিয়েই কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা এবং করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশে আসা একটি উড়োজাহাজ এবং বিমানবন্দরে পণ্য খালাসের অভিজ্ঞতাই বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের প্রথম পরিচয়। সেই অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই নেতিবাচক হতে পারে না। এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বিমানবন্দরের কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিই করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তাই দ্রুত কার্গো জট কমিয়ে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।’
বিমান পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর চাপ কমানো সম্ভব।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যা থাকলে আলোচনার টেবিলে বসুন, হুমকি বা কর্মবিরতির পথে যাবেন না। সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করছে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কার্গো অপারেটর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৬ দিন আগে
পাঁচ-সাতটি খাতেই বদলে যেতে পারে রপ্তানি অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের রপ্তানি আয় বর্তমান প্রায় ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারলে এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন নয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) উপস্থাপন ও কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। এজন্য শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর জোর দিতে হবে।
তিনি বলেন, এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের মূল ধারণা সময়োপযোগী হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম বড় দুর্বলতা। ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা রাখতে হবে।
মন্ত্রী জানান, লেদার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে প্রতিষ্ঠিত অবকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশীয় শিল্প দ্রুত বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারে।
পাট খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির তুলনায় মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও পাটভিত্তিক সুতা উৎপাদনে বহুগুণ বেশি আয় সম্ভব। এ খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিল্প উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপদ্ধতি ও ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
১৮ দিন আগে
ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে কাজ করছে। একটি ব্যবসা শুরু করতে যেখানে আগে প্রায় এক বছর সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আদর্শ পরিস্থিতিতে একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। এই রূপান্তরকালকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদনভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির কথা বলা হয়েছে। এ শব্দগুলো শুধু অলংকার নয়; বরং বর্তমান সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি। বাজেটে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা হ্রাস এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, নিয়ম-নীতি প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, যথাযথ পর্যালোচনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় যেসব দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে এবং সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশ সরকারও এ রূপান্তরকে সমর্থন করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি) সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সরকারের লক্ষ্য।
ফোরামের সুপারিশ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রসার এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বিশ্বাসযোগ্য সোর্সিং ও উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুপারিশের সঙ্গে সরকার সম্পূর্ণ একমত। ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কোথায় সময় কমানো ও প্রক্রিয়াগত ওভারল্যাপ দূর করা সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী জুলাই মাসে এসব পরিবর্তন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে একটি জন ঘোষণা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী সদস্য মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (দ্বিপাক্ষিক—পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
১৯ দিন আগে
নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে কুনমিং এক্সপো: বাণিজ্যমন্ত্রী
চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো ২০২৬-এ থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের ডিয়ানচি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘১০ম চায়না–সাউথ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা–২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুধু সম্মানের বিষয় নয়, বরং এটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত চলমান এই আন্তর্জাতিক মেলায় বিশ্বের ৬৮টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রদর্শক অংশগ্রহণ করছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ব্যবস্থাপনায় এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক ১০১টি প্রতিষ্ঠানের ১৭৫ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতসমূহের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইলস, ওষুধশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্য এবং হস্তশিল্প।
এর আগে, সকাল ৯টায় থিম কান্ট্রি হিসেবে স্থাপিত বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবো। পরে মন্ত্রী প্যাভিলিয়নের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবোর সভাপতিত্বে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার, লাওসের উপ-প্রধানমন্ত্রী, শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যমন্ত্রী, নেপালের ডেপুটি স্পিকার, সার্ক মহাসচিব এবং সার্ক চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আখতার হোসেন এমপি, মো. খালেদ হোসেন মাহবুব এমপি, সুলতানা জেসমিন এমপি, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, কুনমিংস্থ বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইপিবি এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলার প্রথম দিনে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার ইয়ান ডং বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে, এক্সপোর সাইডলাইন ইভেন্ট ‘বিগ মার্কেট ফর অল: এক্সপোর্ট টু চায়না’-এ ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ চীনে বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
আগামীকাল (১২ জুন) এক্সপো প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন হবে, যেখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং রপ্তানি সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হবে।
৩০ দিন আগে