ঢামেক হাসপাতাল
কুষ্টিয়ার জোড়া লাগা সেই জমজ দুই শিশুর ঢামেক হাসপাতালে মৃত্যু
দারিদ্র্যের যাঁতাকলে থমকে যাওয়া কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বুক থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লাগা তিন মাসের জমজ দুই শিশু মোছা. জয়নব ও মোছা. উম্মে কুলসুমের চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে আশার আলো জ্বলেছিল, তা নিভে গেল এক বিষাদময় পরিণতিতে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশু দুটি মারা গেছে।
কুষ্টিয়ার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় দোকান কর্মচারী মো. নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ৪ মে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) জন্ম নেয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন একাধিক ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ দলের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। তিন মাস পর শিশুদের পুনরায় ঢাকায় আনার পরামর্শ দেওয়া হলেও চরম আর্থিক অনটনে সেই চিকিৎসাযাত্রা থমকে যায়।
সম্প্রতি এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। তার সরাসরি নির্দেশনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এই দুই শিশুর অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসহ যাবতীয় সব ব্যয়ভার বহনের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে।
নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় গত রবিবার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজে জয়নব ও উম্মে কুলসুমের বাবা নাহিদ হাসানকে ফোন করে অতি দ্রুত শিশুদের ঢাকায় নিয়ে আসার পরামর্শ দেন।
সরকারি সহযোগিতার আশ্বাসে গত সোমবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ওইদিনই শিশুদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করায় পরিবারটি। এরপর চিকিৎসকদের অধীনে তাদের বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গতকাল বিকেলে শিশু দুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, চিকিৎসকরাও চেষ্টা করছিলেন। আমরা নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম। কিন্তু আমার কোলজুড়ে আসা ফুটফুটে বাচ্চা দুটোকে আর বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম না। আল্লাহ তাদের তুলে নিলেন, এই কষ্ট সওয়ার ক্ষমতা যেন আমাদের দেন।’
গতকাল রাতে শিশুদের মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন বাবা নাহিদ হাসানসহ স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
১৩ দিন আগে
বৈঠকের পর ঢামেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক, পরবর্তী বৈঠক মন্ত্রণালয়ে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরিচালকের পদত্যাগ দাবি, অন্যদিকে কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় উত্তেজনার সৃষ্টির পর বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। বৈঠকের পর ঢামেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর থেকেই হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানের পদত্যাগ চেয়ে তার কক্ষে অবস্থান করেন হাসপাতালে চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে কর্মচারী হানিফকে মারধরের ঘটনায় প্রতিবাদ মিছিল ও বিচার চেয়ে অবস্থান নেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা।
এ সময় খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে ছুটে যান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
অন্যদিকে, একই ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা.জহিরুল ইসলাম শাকিল।
দুই পক্ষের যৌথ বৈঠক শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক এবং কর্মচারীদের মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, সেটা নিরসনে আমরা হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে এসেছিলাম। পরে বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি সভা করার আশ্বাস দিলে চিকিৎসক ও কর্মচারীরা চলে যান। আমরা আশা করি, যে বিষয়টি নিয়ে সমস্যা সেটি দ্রুতই সমাধান করা যাবে।
ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল জানান, আমরা আসার পর চিকিৎসকরা পরিচালকের কক্ষ ত্যাগ করেছেন। প্রশাসনিক ব্লকে কর্মচারীদের যে অবস্থান ছিল সেটিকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী অবগত আছেন এবং মন্ত্রণালয়ে এই বিষয় নিয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান ড্যাবের মহাসচিব।
১৫ দিন আগে
ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামের বদলিকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক এবং কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে এই চিত্র দেখা যায়।
একদিকে ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানের বদলি চাচ্ছেন। অন্যদিকে, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হানিফকে মারধরের ঘটনায় অবস্থান নিয়েছেন কর্মচারীরা।
আজ দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি দল হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করে ‘দফা এক, দাবি এক—পরিচালকের পদত্যাগ’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারা পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামের বদলি ও তার পরিবর্তে নতুন কর্মকর্তার যোগদানকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই হাসপাতালটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
সম্প্রতি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। একইসঙ্গে ময়মনসিংহের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। তবে মোজাম্মেল হককে ঢাকা মেডিকেলে যোগদান করতে না দেওয়ায় চিকিৎসকদের একটি পক্ষ পরিচালকের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে। ওই পক্ষের চিকিৎসকরা মোজাম্মেল হককে দ্রুত যোগদান দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
গত রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার চিকিৎসকদের ওই পক্ষ রেজাউলের কক্ষে তালা দিতে গেলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মো. হানিফের কাছে তালা চান। এ সময় চিকিৎসকরা তাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেন হানিফ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা সোমবার হাসপাতালে প্রতিবাদ মিছিল করেন। একই সঙ্গে তারা তাদের সহকর্মী হানিফকে মারধরের ঘটনায় পরিচালকের কাছে মৌখিকভাবে বিচার দাবি করেন। মঙ্গলবার তারা লিখিতভাবে পরিচালকের কাছে হানিফকে মারধরের ঘটনার বিচার চেয়ে স্মারকলিপি দিতে প্রশাসনিক ব্লকে যান।
তবে ওই সময় চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি দল পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করে অবস্থান নেওয়ায় কর্মচারীরা স্মারকলিপি দিতে পারেননি। বর্তমানে পরিচালকের কক্ষের ভেতরে চিকিৎসকরা অবস্থান করছেন এবং বাইরে কর্মচারীরা অবস্থান করছেন। ফলে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামের বদলির আদেশের প্রজ্ঞাপন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সোমবার বাতিল করেছে বলে জানা গেছে। এর পরদিনই চিকিৎসকরা হাসপাতালে এসে পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে তার কক্ষে অবস্থান নেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. আজিম বলেন, আমাদের কর্মচারী মো. হানিফকে মারধরের ঘটনায় আমরা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিতে এসেছিলাম। আমাদের কর্মচারীর গায়ে কেন হাত দেওয়া হলো, সেটির বিচার আমরা চাই। আমরা এখনও স্মারকলিপি দিতে পারিনি। চিকিৎসকরা পরিচালকের কক্ষের ভেতরে অবস্থান করছেন।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুল আলম বাদশা বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি চিকিৎসা করতে দেননি। তিনি ফ্যাসিস্টের দোসর। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ না করবেন, ততক্ষণ আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
১৫ দিন আগে
ঢামেক হাসপাতালের অষ্টম তলা থেকে লাফিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে রিয়া (২০) নামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরে শাহবাগ থানাধীন ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরডাঙ্গি গ্রামে।
নিহতের বাবা লতিফ মল্লিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়ে পাঁচ দিন যাবৎ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। ‘আজ (শুক্রবার) ভোররাতে পাশের অন্য রোগীর স্বজনরা আমাকে বলে, এই দেখেন, আপনার মেয়ে লাফ দিচ্ছে।
‘সঙ্গে সঙ্গে আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি সব শেষ। আমার মেয়ে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যায়। সবাই তাকে লাফ দিতে নিষেধ করলেও সে কারও কথা না শুনে লাফ দিলে নিচে থাকা একটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে। এতে তার মাথা ফেটে মগজ বেরিয়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ভোর ৫টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর সোয়া ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসএসসি পাস করার পরই সিঙ্গাপুরপ্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে মোবাইলে আমার মেয়ের বিয়ে দেই। এর মধ্যে ওর স্বামী দেশে এসে আবার চলে যায়। অনেক চেষ্টার পরও সন্তান না হওয়ায় ধীরে ধীরে ওর মানসিক সমস্যা শুরু হয়। গত দশদিন যাবৎ ওর সমস্যাটা একটু বেশি হচ্ছিল। সব সময় উল্টাপাল্টা কথা বলত। ওকে কিছু জিজ্ঞেস করলে বলত, ‘এটা কোন দেশ? আমি কোন দেশে আছি?’ এছাড়া জিহ্বায় ঘা ও শরীরের অন্যান্য কিছু সমস্যা নিয়ে পাঁচ দিন যাবত ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি ছিল। আমার দুই সন্তানের মধ্যে আমার মেয়ে ছিল বড়।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহবাগ থানাকে জানানো হয়েছে।
২৬ দিন আগে
ঢামেক হাসপাতালের পাশ থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশ থেকে অজ্ঞাতনামা দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বয়স আনুমানিক ৫৮ ও ৬০ বছর।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারের (ওসেক) পেছন থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আইয়ুব আলী জানান, আজ (সোমবার) সকাল দশটার দিকে আমরা জানতে পারি জরুরি বিভাগের পাশে অচেতন অবস্থায় দুই নারী পড়ে আছেন। পরে ট্রলিম্যানদের সহায়তায় জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মরদেহ দুটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের পরিচয় জানার জন্য ইতোমধ্যেই সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৩০ দিন আগে
আকস্মিক পরিদর্শনে ঢামেক হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আকস্মিক পরিদর্শনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে ঢামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের পুরোনো ভবনের বেশ কিছু ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটার ও বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এখানে রোগীর তুলনায় সুযোগ-সুবিধা কম। আরও চিকিৎসক দরকার। হাসপাতালে স্টাফ, নার্সদেরও স্বল্পতা রয়েছে।
তিনি বলেন, আগে যেমন দেখতাম রোগীর বিছানা তেলাপোকায় ভরা, এখন সেটি কম। রোগীরা অনেক ওষুধ পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগ রয়েছে। একটি বাদে বাকি অপারেশন থিয়েটার উন্নত না। অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক স্বল্পতা রয়েছে। হাসপাতালের বেডশিটসহ বিভিন্ন কাপড় নিম্নমানের ওয়াশ করানো হয়; এ জন্য হাসপাতালের পরিচালককে বলেছি, বিল কেটে নেওয়ার কথা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আজকে আমি কোনো দালাল দেখিনি। হাসপাতালে কাউকে দালালি করতে দেব না। ট্রলি ভাড়া দিয়ে টাকা নিতে দেব না। দালালদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আমরা সীমিত সম্পদের মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই।
১৭৫ দিন আগে
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ কয়েদির ঢামেকে মৃত্যু
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কেন্দ্রীয় কারাগারের অসুস্থ এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত ওই কয়েদির নাম মো. মামুন শেখ (৩৪)।
ঢামেক থেকে কারারক্ষী রবিন বলেন, ওই কয়েদি আজ (বুধবার) সকালে কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা কয়েকজন কারারক্ষী চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। ময়নাতদন্তের পর কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
১৮৯ দিন আগে
রাজধানীতে এক ব্যক্তির হাতবাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর রামপুরা থানা এলাকায় হাসান ভূঁইয়া (৪৩) নামে এক ব্যক্তির হাতবাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় তার স্ত্রী মিলাকে (২৮) জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত হাসানের বড় ভাই নাসির ভূইয়ার অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মিলা তাকে হত্যা করেছে। পরে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রেম করে ৬ বছর আগে মিলাকে বিয়ে করে আমার ছোট ভাই। বিয়ের পর থেকে আমাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। তাদের ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে।
‘গতকাল সকালে জানতে পারি, ভাই আমার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি গলায় ফাঁস লাগানো আছে ঠিকই, কিন্তু তার পেছনে হাত বাঁধা রয়েছে। বাসার ছাদের পানির ট্যাংকির পাইপের সঙ্গে গলায় রশি ও হাত বেঁধে আমার ভাইকে তার স্ত্রী মিলা হত্যা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, তার স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলার কারণে তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে সে। এ ঘটনার পর মিলাকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। আমি বাদী হয়ে রামপুরায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আল আমিন জানান, গতকাল হাসান ভূঁইয়া নামে একজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু মরদেহ উদ্ধার করার সময় তার হাত শরীরের পেছনে বাঁধা অবস্থায় ছিল। এতে মনে হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।
নিহতের বড় ভাই অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন বিষয়ে মাথায় রেখে তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
২০৭ দিন আগে
ঢামেকে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে লাফিয়ে রোগীর আত্মহত্যা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলার বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে লাফিয়ে পড়ে নাজমীন (২০) নামে এক রোগী আত্মহত্যা করেছে। তিনি কিডনি রোগে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাজনীন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার জালাল মিয়ার মেয়ে ছিলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাজমীনের মা পারভিন বলেন, ‘দুই মাস আগে আমার মেয়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছিলাম। এরপর গত রবিবার তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করিয়েছি। আমার মেয়ের স্বামী রায়হানের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। তার পক্ষে চিকিৎসা সেবার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘আজ সন্ধ্যার দিকে মেয়ে আমাকে বলে, “মা তোমাদের আর কষ্ট দেব না। তোমরা আমার মেয়েকে দেখে রেখো।” এর কিছুক্ষণ পরেই বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে আমার মেয়ে আট তলার বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে লাফিয়ে একটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে অনেক কষ্ট নিয়ে মারা গেছে। আর্থিক অবস্থা ভালো থাকলে হয়তো তাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করানো যেত। কিন্তু সে যে এমন একটি কাজ করবে, বিষয়টি আমরা বুঝতেই পারিনি।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
২১২ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে অতিরিক্ত মদ্যপানে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩
মুন্সীগঞ্জে অতিরিক্ত মদ্যপানের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও তিনজন অসুস্থ অবস্থায় মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে গতকাল (শুক্রবার) বিকেল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন— টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কাঁঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়নের কাঁঠাদিয়া গ্রামের বাচ্চু বেপারী (৬০), একই গ্রামের ইব্রাহিম মুন্সী (৬০) এবং সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের ঘাসিপুকুরপাড় এলাকার হোসেন ডাক্তার (৬৫)।
এদের মধ্যে বাচ্চু বেপারী বৃহস্পতিবার রাতে এবং অন্য দুজন শুক্রবার মারা যান। অপরদিকে অতিরিক্ত মদ্যপানে অসুস্থ রহমতউল্লাহ বেপারীকে (৬০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর অসুস্থ আলামিন (৪৬) ও সিজানকে (২৮) স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে মদ্যপানে ৩ জনের মৃত্যুর অভিযোগ
স্থানীয়রা জানান, হতাহতরা দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপানে অভ্যস্ত ছিলেন।
কাঁঠাদিয়া-শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের দাফন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকায় মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি, খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
৩৫৪ দিন আগে