সমাজকল্যাণমন্ত্রী
১৬ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
পরীক্ষামূলক প্রকল্পের পর আগামী ১৬ আগস্ট থেকে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, চলতি মাসের ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’-ভিত্তিক ব্যবস্থা। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। কেউ দরিদ্র থেকে স্বাবলম্বী হলে বা আবার আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়লে সেই পরিবর্তনও নিবন্ধনে প্রতিফলিত হবে।
তিনি বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহের পর ইউনিয়ন পর্যায়ে গণশুনানির আয়োজন করা হবে। এতে প্রকৃত উপকারভোগী যাতে বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যাতে অন্তর্ভুক্ত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। প্রতি মাসেই তথ্য পর্যালোচনা ও হালনাগাদের ব্যবস্থা থাকবে।’
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘এই কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। সবার জন্য একই নীতিমালা অনুসরণ করা হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে।’
তিনি জানান, চলতি মাসের ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হলো এই সহায়তা শুধু ভাতা হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলা। বিশেষ করে পরিবারের নারী সদস্যরা এই অর্থ শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটিরশিল্প, সেলাই বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রামীণ দারিদ্র্যও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।’
তিনি বলেন, ‘কর্মসূচির প্রভাব নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। অর্থ বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ও দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মাধ্যমে স্বাধীন মূল্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হবে। ছয় মাস পর কর্মসূচির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।’
তিনি জানান, ইতোমধ্যে দেশের ৫৬টি স্থানে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যশোর ও নেত্রকোনার কলমাকান্দায় স্থানীয়ভাবে কিছু তথ্য সংগ্রহের সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় কার্যক্রম সফল হয়েছে এবং প্রতারণার হার ৩ শতাংশেরও কম ছিল।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়ায় তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পৃথক কমিটি কাজ করবে। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং জাতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা কমিটি পুরো কার্যক্রম তদারকি করবে।
‘একজন ব্যক্তি যাতে একাধিক ভাতা না পান, সেজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হবে। পুরো কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
৮ দিন আগে
অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা মানবিক বাংলাদেশে অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটে ‘ওয়ার্ল্ড হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ বছর বিশ্বের ১৭১টি দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রকাশ করুন, দ্রুত নির্ণয় করুন, জীবন বাঁচান’।
মন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নয়, সার্বিক উন্নয়নেও বদ্ধপরিকর। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
সমাজে বসবাসরত মূক ও বধির ব্যক্তিরাও যে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটে নবনির্মিত অডিটরি ভারবাল থেরাপি (এভিটি) সেন্টারের উদ্বোধন করেন।
এ সময় জানানো হয়, যেসব শিশু জন্মগতভাবে বা পরবর্তীকালে শ্রবণশক্তি হারিয়েছে এবং অন্য কোনো উপায়ে যাদের শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তাদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ব্যয়বহুল কক্লিয়ার ইমপ্লান্টেশন সার্জারি করা হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত এভিটি সেন্টারে থেরাপির মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিকভাবে কথা বলা শেখানো হবে। সেই সঙ্গে বিভাগীয় পর্যায়েও এভিটি সেন্টারের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি মাথা ও ঘাড়-সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অনুদানের চেক ও চিকিৎসা-সহায়ক ডিভাইস বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মনোয়ার হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাজহারুল শাহীন এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হেড অ্যান্ড নেক সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সাত্তার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাসান জাফর।
১৮ দিন আগে
সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে নানাবাড়ির দিকে নজর দিতে বললেন স্পিকার
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে তার নানাবাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের উপর ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমার এলাকাটা অত্যন্ত অবহেলিত। এই এলাকাটিতে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রীসহ এখানে যারা রয়েছেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সমাজকল্যাণমন্ত্রীর জন্মও কিন্তু আমার গফরগাঁওয়ে! উনার নানার বাড়ি আমার গফরগাঁওয়ে, আমার এই মন্ত্রী মহোদয়রা যদি একটু দৃষ্টি দেন এই অবহেলিত জনপদের প্রতি, তাহলে এই গফরগাঁওয়ের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। পিছিয়ে পড়া এই জনপদটি এগিয়ে যাবে। আমি আশা করব, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে গফরগাঁওকে গুরুত্ব দিয়েছেন, মন্ত্রী মহোদয়রাও যেন সেভাবে গুরুত্ব দেন।’
এ সময় সংসদে উপস্থিত সমাজকল্যাণমন্ত্রীর উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘সমাজকল্যাণমন্ত্রী, নানার বাড়ির দিকে খেয়াল রাখবেন।’
গফরগাঁওকে অবহেলিত শুনে স্পিকার প্রশ্ন করেন, ‘গফরগাঁওয়ের বেগুন তো আছে!’ জবাবে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘লাফা বেগুন সেটিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে।’
আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমার এলাকার কিছু সমস্যার কথা আমাকে বলতেই হবে এখানে। আমি যে এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছি, ৪৭ বছর পর ওই এলাকা থেকে এই সংসদে আসার সৌভাগ্য হয়েছে। আমি ছিলাম গোলন্দাজের জুলুমের রাজ্যে।
‘আমার এখানে জিয়া হত্যার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন অবসরপ্রাপ্ত গিয়াস এই মহান সংসদে এসে এই সংসদকে কলঙ্কিত করেছিলেন। তারা জুলুমের রাজ্য কায়েম করেছিলেন, আমি ইনসাফের রাজ্য কায়েম করতে চাই। সেই ইনসাফের রাজ্য কায়েম করতে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করব, সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে অবকাঠামো উন্নয়নে বিভাগভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে, কিন্তু ময়মনসিংহ বিভাগ সেখানে অন্তর্ভুক্ত নেই। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এখানে রয়েছেন, উনি অত্যন্ত আন্তরিক। আমি উনার প্রতি অনুরোধ জানাব, উনি সারা বাংলাদেশের মতোই ময়মনসিংহ বিভাগকে, ময়মনসিংহ জেলাকে ও আমার পিছিয়ে পড়া গফরগাঁও-পাগলার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছি। এখানে উপস্থিত অনেকেই জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছেন, আমাদের সন্তানেরাও করেছেন। কিন্তু অনেকেই জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন। আমরা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করি না, আমরা জুলাইকে ধারণ করি। জুলাই তো বিক্রি করার বিষয় নয়।’
ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য আরও বলেন, যারা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন তাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। অনেকেই আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডো গাড়িতে চড়েন, আর জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন। আমি এখনও যে গাড়িতে আগে চড়তাম, সেই গাড়িতেই চলাফেরা করি। নির্বাচনের সময় গাড়িটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে, তারপরও সেটিই ব্যবহার করছি।
৫০ দিন আগে
অবহেলিত শিশুরা দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, অবহেলিত শিশুরা যেন বড় হয়ে সমাজের বোঝা না হয়ে বরং দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠে এবং স্বাবলম্বী হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।
একইসঙ্গে শিশুদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রংপুর নগরের মর্ডান মোড়ে অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার ঝটিকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সমাজের অবহেলিত শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তারা যেন নিজেদের পরিবারহীন বা সুবিধাবঞ্চিত মনে না করে, সে ধরনের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বলেও তিনি জানান।
১৩২ দিন আগে
জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবায় এগিয়ে আসতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ট ফেইলিউর বিভাগ এবং বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত ‘ব্রিজ দ্য গ্যাপ বিটুইন ড্রাগস, ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্জারি ইন হার্ট ফেইলিউর’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক হার্ট ফেইলিউর কনফারেন্সের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যাধি ও সংক্রামক ব্যাধির প্রতিকার বা প্রতিরোধের জন্য সরকারের যে প্রতিষ্ঠিত কাঠামো রয়েছে, সেই কাঠামোকে আরও কার্যকর, সমন্বিত এবং জনমুখী করতে হবে, যাতে করে চিকিৎসাসেবা দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. শফিউদ্দিন।
জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজেস (এনআইসিভিডি) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে এটি হৃদরোগ চিকিৎসায় অন্যতম প্রধান বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, হার্টের রোগের বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে যা পুষ্টিগত গুণাগুণ কিংবা নারী-পুরুষ ও ধনী-দরিদ্র কোনো শ্রেণিভেদে নির্ধারিত হয় না; এ রোগ সবার হয়।
জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে হৃদরোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা হৃদরোগীর সংখ্যার তুলনায় কম। উপস্থিত চিকিৎসকদের হৃদরোগবিদ্যার টেকনিক্যাল এক্সপার্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারাই নির্ধারণ করবেন কীভাবে আপনারা হৃদরোগীদের সেবা দেবেন। দেশের নীতি-নির্ধারকদের আপনারাই রাস্তা দেখাবেন, কীভাবে এই সেক্টরে উন্নয়ন হবে।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। আপনারা যারা হৃদরোগবিদ্যার প্রশিক্ষক রয়েছেন জুনিয়র ডাক্তারদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দক্ষ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসা অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে হৃদরোগীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপনাদেরই দায়িত্বশীল এবং অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কয়েকজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের স্মরণ করেন এবং প্রথমবারের মতো এ ধরনের সম্মেলন আয়োজনের জন্য আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, হৃদরোগবিদ্যায় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সর্বোপরি, হৃদরোগীদের সেবার মানোন্নয়নের জন্য এটি একটি শক্তিশালী ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এবং সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
চিকিৎসাকে মহান পেশা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পেশার মহত্ত্বই সমাজে অন্যদের থেকে তাদের আলাদা মর্যাদা দেয়। তিনি চিকিৎসকদের মানবিকতার ব্রত নিয়ে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান। দেশের চিকিৎসাখাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য চিকিৎসকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সম্মেলনের সমাপনী পর্বের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশ হার্ট ফেইলিউর অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি ঘোষণা করা। এ কমিটিতে সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ডা. আতাহার আলী, সাধারণ সম্পাদক ডা. ডিএমএম ফারুক ওসমানী খোকন এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ডা. এস এম ই বাকেরের নাম ঘোষণা করা হয়।
দুইজন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কে এম এইচ এস সিরাজুল হক এবং অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামকে হৃদরোগবিদ্যায় বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ ছাড়াও ডা. শহিদুল হকের হার্ট ফেইলিউরের ওপর লিখিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ। সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল জুরিখ থেকে আগত অধ্যাপক ড. রবার্ট মানকা, যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ হাসপাতালের হার্ট ফেইলিউর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক থেরেসা এ. ম্যাকডোনাঘ, রয়্যাল প্যাপওর্থ হাসপাতালের অ্যাডভান্সড হার্ট ফেইলিউর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক স্টিফেন পেটিট, এবং অধ্যাপক ফ্র্যাঙ্ক রুশিৎসকাসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বৈজ্ঞানিক সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
সম্মেলনের প্রাক-আয়োজনে মেডিকেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং কার্ডিয়াক চৌম্বকীয় অনুরণন ইমেজিং (এমআরআই) বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
মালয়েশিয়া থেকে আগত আধুনিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. সুতান কাভেরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। দেশি-বিদেশি ৮০০ জন কার্ডিওলজিস্ট এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
১৩৬ দিন আগে
১৬ মার্চ দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী: জাহিদ হোসেন
দিনাজপুরের কাহারোলের বলরামপুরে সাহাপাড়া থেকে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় একইসঙ্গে সারা দেশের ৫৩টি খাল খনন উদ্বোধন করবেন তিনি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সাহাপাড়া–বলরামপুর খাল পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুরের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময় একইসঙ্গে সারা দেশে ৫৩টি জেলায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি।
তিনি বলেন, দলের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে যে সমস্ত খাল খনন করা হয়েছিল, সেই সমস্ত খালের অনেকগুলি ভরাট হয়ে গেছে। খালগুলো পুনরায় খননে বিগত সরকারগুলো কোনো দ্বায়িত্ব নেয়নি।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, খাল খননের মাধ্যমে কৃষকের সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খাল নির্ভর অর্থনীতি—মাছ চাষ, হাঁস পালন, খালের পাড়ে বৃক্ষ রোপন দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়া যায়। শুকনা মৌসুমে পানি ধরে রেখে এর মাধ্যমে সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। এর ফলে ভূ-অভ্যন্তরের পানি কম ব্যবহার হবে এবং উপরিতলের পানি বেশি ব্যবহার হবে। এতে মরুভূমি হবার সম্ভাবনা কমে যাবে। এটা আমাদের উত্তরাঞ্চলের জন্য অতি জরুরি।
পাউবোর প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, সাড়ে ২২ কোটি টাকা খরচে ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার পুরাতন ওই খাল পুনঃখননের ফলে প্রতি বছর রক্ষা পাবে ২টি বিলের ১ হাজার ৫০০ একর জমির প্রায় ৬০ হাজার টন আমন ধান। নষ্ট হয়ে যাওয়া ধানের দাম প্রায় ২০৫ কোটি টাকা। খননের ফলে পাশাপাশি সেচ সুবিধার আওতায় পানির অভাবে পড়ে থাকা অনাবাদি ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি থেকে আসবে বাড়তি ফসল। খালের সেচের সুবিধায় আসবে ৪০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা।
১৫৪ দিন আগে
বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা
বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও তার ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কুড়িগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২) ও (৩) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় এ মামলা করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম দুদকের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, সাবেক মন্ত্রীকে ২ নম্বর আসামি এবং ছেলেকে ১ নম্বর আসামি করা হয়।
তিনি বলেন, ছেলের বিরুদ্ধে ২ কোটি ১১ লাখ ২৪ হাজার ৪০০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ১০টি ব্যাংক হিসাবে ১১ কোটি ২৬ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৪ টাকা জমা এবং ১১ কোটি ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ৪১১ টাকা সন্দেহজনক উত্তোলনসহ সর্বমোট ২২ কোটি ৪৩ লাখ ২ হাজার ৯২৫ টাকার সঠিক বৈধ উৎস ও ব্যাখ্যা না থাকায় সন্দেহজনক লেনদেন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মন্ত্রী থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত অবৈধ অর্থকে বৈধ করার উদ্দেশ্যে ছেলের নামে সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখতে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়। ঘটনাস্থল লালমনিরহাট জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা উল্লেখ করা হয়। আর ঘটনার সময়কাল নির্ধারণ করা হয় ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল। মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন নিজে তদন্ত করবে।
আরও পড়ুন: সিদ্ধিরগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন
তিনি বলেন, সাবেক মন্ত্রীকে গত বৃহস্পতিবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডের পোস্ট অফিসের গলিতে মানিক নামে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী। মন্ত্রীর নামে রংপুর ও ঢাকায় তিনটি হত্যা মামলা রয়েছে। সে মামলায় তিনি জেলহাজতে আছেন।
নুরুজ্জামান আহমেদ রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ৪ আগস্ট নগরীর রাজা রামমোহন ক্লাবের সামনে গুলিতে নিহত পথচারী মাহমুদুল হাসান মুন্না হত্যা মামলার আসামি। ওই ঘটনায় নুরুজ্জামান আহমেদসহ ১২৮ জনের নামে গত ৩১ আগস্ট রংপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন মুন্নার বাবা কাউনিয়া উপজেলার বরুয়াহাট এলাকার আব্দুল মজিদ।
এ ছাড়াও তার নামে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় ১১ সেপ্টেম্বর ও ২৪ আগস্ট করা দুটি হত্যা মামলা রয়েছে। তিনটি হত্যা মামলায় তিনি এতদিন আত্মগোপন করে ছিলেন।
নুরুজ্জামান আহমেদ লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনে তিনবার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একবার প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও একই দপ্তরের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
৫৫৬ দিন আগে
চাঁদপুরে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর বাড়িতে হামলা, জেলা আ. লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ
চাঁদপুর শহরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনির বাসভবন, জেলা আওয়ামী লীগরে কার্যালয়, সদর উপজলো ভুমি অফিস, জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও জেলা পরিষদ চয়োরম্যান ওসমান গনি পাটোয়ারীর অফিসে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নসিংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (৪ আগস্ট) দিনভর দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলশি-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংর্ঘষ হয়।
করছেন।
আরও পড়ুন: বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে দেশ ছাড়লেন শেখ হাসিনা
এতে পুলিশ সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
বেলা ১১টার দিকে চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অসহযোগ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এসময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলায় বেশ কয়কেজন আহত হন। দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে আবারও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
দফায় দফায় সংঘর্ষে গুরুতর আহত ২৪ জনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সদর উপজেলা সহকারী কমশিনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-এমরান খাঁন ইউএনবিকে বলেন, দুর্বৃত্তরা আমার দপ্তরেও ভাঙচুর চালায়। তবে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় কারফিউ ভেঙে রাজপথ দখল আন্দোলনকারীদের, সংঘর্ষ-গুলিতে আহত অর্ধশতাধিক
দেশ পরিচালনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে: সেনাপ্রধান
৭৩৯ দিন আগে
নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে ‘উই হাটবাজার’
দেশীয় পণ্যের পসরা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের অনলাইন মার্কেট প্লেস- উইহাটবাজার ডট কম।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে এই বিশেষায়িত ই-কমার্স প্লাটফর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
এ সময় তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার একজন মানুষকে কীভাবে পাল্টা দিতে পারে- উই তার একটি উদাহরণ। নারীদের সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে উই।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নারীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে জানিয়ে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘সরকারের নানা মন্ত্রণালয়ের এই প্রশিক্ষণগুলো দিয়ে নারীরা ক্রমাগত দক্ষ হয়ে উঠছে। প্রান্তিক মানুষগুলোকে নারীসহ এই মানুষগুলোকে মূলধারায় নিয়ে আসার জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যার চেষ্টা আমরা দেখছি।’
তিনি আরও বলেন, সাম্যের পৃথিবী তৈরি করতে আমরা যেমন নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের চেষ্টা করছি একই সঙ্গে তার অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নটা খুব জরুরি। সেই কাজটি উই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সরকারের নানা সুবিধার কারণে আজকে ৫০ শতাংশের বেশি নারী উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। এখন থেকে আরও ৫ হাজার নারী উদ্যোক্তাদের ৫০ হাজার টাকা করে গ্রান্ট দেওয়া হবে। আশা করছি জুন মাস থেকেই দেওয়া শুরু হবে।
উইর ও ডাক বিভাগের একটি সমঝোতায় উদ্যোক্তাদের পণ্য ডেলিভারিতে সহায়তা করা হবে বলেও জানান পলক।
তিনি আরও বলেন, নারী উদ্যোক্তারা যাতে সুলভমূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট পান সেই ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও নগদের ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে বিনা জামনতে নারী ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য ফাইন্যান্সিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
অনুষ্ঠানে উই হাটবাজারের ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক ও উই হাটবাজারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিমা আক্তার নিশা।
তিনি জানান, ডিজিটাল কমার্স খাতে দেশে ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই প্লাটফর্মের কল্যাণে ই-কমার্স খাতে এক লাখ নারীর কর্মসংস্থান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন তথ্য ও যেগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি এবং বিশ্বব্যাংকের লিড কান্ট্রি ইকোনোমিস্ট সোলায়মান কুলিবালি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উই হাটবাজার ডটকম চেয়ারম্যান জাহানুর কবির সাকিব। এরপর নতুন এই প্লাটফর্ম বিষয়ে আলোকপাত করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ঈমানা হক জ্যোতি।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন আইসিটি খাতের শীর্ষ সংগঠন বেসিস, বিসিএস, আইএসপিএবি, বাক্কোসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
এফ কমার্স, পিকমার্স এবং ঘরোয়া পণ্যকে ই-কমার্স প্লাটফর্মে আনতে ১০০ জন উদ্যোক্তা মার্চেন্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে উই হাটবাজার। এই প্লাটফর্ম স্মার্ট নারীর ক্ষমতায়নে মাইলফলক হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
প্রসঙ্গত, এখানে শুধুমাত্র নারী উদ্যোক্তাদের দেশীয় পণ্য পাওয়া যাবে। বিদেশি কোনো পণ্য পাওয়া যাবে না।
৮১৯ দিন আগে
আনারসের পাতার আঁশ থেকে কাপড় তৈরি যুগান্তকারী: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
আনারসের পাতার আঁশ থেকে কাপড় তৈরি এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চর বেউথা এলাকায় অবস্থিত আনারসের পাতার আঁশ থেকে সিল্ক সুতা তৈরি ও সিল্কের শাড়ি, জামদানি শাড়ি তৈরির কেন্দ্র পরিদর্শন করে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জেলেদের খাদ্য সহায়তা বাড়ানোর দাবি সমাজকল্যাণমন্ত্রীর
তিনি বলেন, আনারসের পাতা থেকে উৎপাদিত পণ্য কীভাবে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে কীভাবে এই শিল্পকে সামনের সারিতে আনা যায় সে ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই সিল্কের সুতার তৈরি শাড়ি, জামদানি ও বিভিন্ন হস্তশিল্প দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন- সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সালেহ মো. মোস্তফা কামাল, জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুল বাতেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
৮৩৬ দিন আগে