নেপালে বন্যা
জলবায়ু পরিবর্তনে উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়, বাড়ছে নেপালের মতো দুর্যোগ
অতি সম্প্রতি নেপালের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের দিকে পানি, পাথর ও কাদার স্রোত ধেয়ে এলে পেমা তামাং ও তার প্রতিবেশীরা পাহাড়ের উপরের দিকে একটি বৌদ্ধ মন্দিরে আশ্রয় নেন। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর গত বছরই মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।
ইতোমধ্যে ভূমিকম্পপ্রবণ হিমালয়ের খাড়া পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে উঁচু পর্বতের হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে ওই অঞ্চলে ঘন ঘন আকস্মিক বন্যা হচ্ছে। এতে নদীর গতিপথ কখনো কখনো ভয়াবহ দ্রুততায় বদলে যাচ্ছে। এক দুর্যোগের পর আরেক দুর্যোগের মধ্যে বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য খুব কম সময়ই মিলছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি বাড়তে থাকায় এসব জনগোষ্ঠী টিকে থাকতে পারবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মন্দিরটির কথা উল্লেখ করে তামাং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, ‘ভূমিকম্পে মন্দিরটি ধ্বংস হওয়ার পর মাত্র গত বছরই আমরা এটি পুনর্নির্মাণ করেছি। বন্যার কবল থেকে প্রাণ বাঁচাতে আমরা সেখানেই আশ্রয় নিই।’ কাঠমান্ডুর একটি বৌদ্ধবিহারে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসে তিনি এসব বলছিলেন।
নেপাল ও প্রতিবেশী চীনে ২৬ আগস্টের বন্যায় ১ হাজার ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে শত শত মানুষ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হিমালয়ের একাধিক নদীতে শিলাস্তর ও হিমবাহের বরফ ধসে পড়ার পর ধ্বংসাবশেষ ও পানি প্রবল বেগে নেমে এলে এই বন্যার সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিপর্যয়ের সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি যোগসূত্র স্থাপনের জন্য এখনই উপযুক্ত সময় নয়। তবে তেল, গ্যাস ও কয়লা পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে এ ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কাও বাড়ছে, বিশেষ করে হিমালয় পর্বতমালায়, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত বাড়ছে।
১০ দিন আগে
নেপাল দৃঢ়তার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
নেপালের উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রতিক আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে হতাহতের ঘটনায় শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নেপাল দূতাবাসে গিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।
শোক বইয়ে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘আমরা যখন একসঙ্গে দাঁড়িয়েছি, তখন আমরা আত্মবিশ্বাসী যে নেপালের জনগণ দৃঢ়তা ও সাহসের সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা ও শক্তি রাখে।’
গত ২৬ আগস্ট নেপালের উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে পর্যটকসহ শত শত মানুষের মৃত্যু এবং ব্যাপক সম্পদ ও অবকাঠামোর ধ্বংসের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নেপাল সরকার ও দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
গভীর শোকের এই সময়ে ভয়াবহ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি বাংলাদেশের আন্তরিক চিন্তা ও প্রার্থনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
১৪ দিন আগে
নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত ১০০০ ছাড়িয়েছে; জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও আটকে বহু শ্রমিক
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় কাদায় চাপা পড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে আজ মঙ্গলবারও জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। তবে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৯৮৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন, যাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ রবিবারের হিসাবে, তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি।
দুই দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪০০-এর বেশি।
নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জনপদগুলোতে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উড়োজাহাজের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে, নেপালের বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী বেসরকারি খাতের একটি সংগঠন জানিয়েছে, দেশটির রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলায় আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৯০০ শ্রমিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
এসব শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক বিশেষজ্ঞের মতে, তাদের কেউ কেউ সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেন পাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকতে পারেন। তবে অন্যরা বলছেন, জীবিত অবস্থায় তাদের উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে। এর মধ্যেই নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কাদায় ভরা তিনটি সুড়ঙ্গ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গেল বুধবার দুর্যোগ শুরু হওয়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হওয়া কয়েকজন শ্রমিক জানান, তাদের অনেক সহকর্মী তখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে ছিলেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, নেপাল (আইপিপিএএন)-এর সভাপতি মোহন কুমার দাঙ্গি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে শুরুতে সাহায্য চাওয়ার পর থেকে আটকা পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে উদ্ধারকারীদের আর কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দুর্যোগের ছয় দিন পর কিছু শ্রমিকের দমবন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন দাঙ্গি।
পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে তৈরি বিশাল সুড়ঙ্গ
পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত বিশাল সুড়ঙ্গগুলোতেই আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রিয়ার গ্রাৎস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানী জ্যাকব স্টেইনার বলেন, এসব সুড়ঙ্গ এতটাই বড় যে এর ভেতর দিয়ে ট্রাক চলাচল করতে পারে। তার ভাষ্য, ভেতরে আটকা পড়া কয়েকজন শ্রমিকের কাছে অক্সিজেন পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন এবং তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, কারণ শ্রমিকদের খাবার ও পানির প্রয়োজন।
১৪ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: নিহত বেড়ে ৬৭৬, নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ।
গেল বুধবারের ভয়াবহ বন্যার চার দিন পর আজ শনিবারও নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদায় চাপা পড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলে সাতজন নিহত এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দুই অঞ্চলে মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৬ এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর অন্যতম নুয়াকোটে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। তবে দুপুরের আগে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসার পর আবারও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, কিছু হেলিকপ্টারে পোশাক, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, বিস্কুট ও চালসহ ত্রাণসামগ্রী দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়। অন্য হেলিকপ্টারগুলো বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মানুষদের নিয়ে ফিরে আসে।
১৭ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: নিহত বেড়ে ৬৩৩, নিখোঁজ ২৯৮০
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান আজ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যাও বেড়ে ২ হাজার ৪২৬ জন হয়েছে।
এছাড়া চীনের অংশে হতাহত ও জীবিতদের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য পাওয়া গেলেও শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অংশে ৫৫৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবারের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে উদ্ধারকর্মী ও সামরিক সদস্যরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শনিবার আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।
নেপালের রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা এবং চীনের তিব্বত অংশে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গিরং সীমান্ত ক্রসিংসহ কয়েকটি স্থানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
বাসনেত বলেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে ঘন কাদায় ভরা একটি সুড়ঙ্গে ১০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকর্মীরা ঝুড়ি ও দড়ির সাহায্যে কয়েকজনের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
তবে চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর কাদা এবং হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য সীমিত জায়গা থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য নতুন বন্যার সতর্কতার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোকে কিছু সময়ের জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নিতে হয়েছে।
বুধবারের প্রাথমিক বন্যার পর হিমালয়ের উঁচু এলাকায় হিমবাহ ধসের ফলে একটি নতুন হ্রদ সৃষ্টি হয়। হ্রদটি উপচে পড়তে শুরু করায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
তবে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ তথ্যের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত হ্রদটির আয়তন কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর পানির স্তর প্রায় ১০ মিটার বা ৩২ ফুট নেমেছে।
এদিকে, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে।
নেপালের বন্যাকবলিত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটে শনিবার নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন বহু মানুষ। একটি ত্রাণকেন্দ্রে সামরিক সদস্যরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের নামসংবলিত কাগজ দেওয়ালে টাঙিয়ে দেন। স্বজনরা সেগুলো ঘিরে প্রিয়জনদের নাম খুঁজতে থাকেন। অনেকে তালিকার ছবি তোলেন এবং নাম খুঁজতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
চীনের সঙ্গে নেপালের সীমান্তবর্তী গিরং বন্দরেও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা হেঁটে ও ভেলায় করে সেখানে পৌঁছাচ্ছেন। ড্রোনের সাহায্যেও কিছু উদ্ধারকর্মীকে এলাকায় নামানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তারা জীবিতদের সন্ধানে ডাকাডাকি করছেন।
বন্যার সময় ওই সীমান্ত চেকপোস্টের ভবনটিতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তারা সেখানে কাজ, ট্রেকিং অথবা একটি পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন।
১৭ দিন আগে
নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৮
নেপালে টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির পুলিশ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১০১ জন আহত এবং ৫৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৩ হাজার ৬৬১ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করেছে নেপাল সরকার।
আরও পড়ুন: নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ৬৬ জনের মৃত্যু, আবারও অনেক নিখোঁজ
কাঠমান্ডুর জেলা পুলিশ রেঞ্জের মুখপাত্র নওয়ারাজ অধিকারী সিনহুয়াকে জানান, মধ্য নেপালের ধাদিং জেলার জায়াপল খোলায় ভূমিধসে চাপা পড়া তিনটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৩৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, 'অবরুদ্ধ মহাসড়কগুলোতে তল্লাশি, উদ্ধার ও পরিষ্কার করার জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা দল মোতায়েন করা হয়েছে।’
শুক্রবার টানা বর্ষণের কারণে ভূমিধস ও বন্যায় দেশের বেশিরভাগ প্রধান মহাসড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও রাতে মহাসড়কে রাতে বাস চলাচল নিষিদ্ধ করা হয় এবং গাড়ি চলাচল না করতে আহ্বান জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক জানান, কর্মকর্তারা বন্যার বর্তমান ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। লোকজনকে উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
এছাড়াও সারা দেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করা হয়।
গত ১০ জুন থেকে শুরু হওয়া বর্ষা মৌসুমে নেপালে গড় পরিমাণের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আরও পড়ুন: নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৫৯, আহত ৩৬
৭১৬ দিন আগে
বন্যায় ভারত ও নেপালে মৃতের সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়েছে
ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ভারতের দুটি রাজ্য উত্তরাখণ্ড ও কেরালা এবং নেপালে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে, ভূমিধসেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডে এক পরিবারের পাঁচ জনসহ কমপক্ষে ৫০ জন মারা গেছেন। নেপালে প্রায় ৭৭ জন মারা গেছেন, উভয় দেশের আরও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬
কেরালা রাজ্যের দক্ষিণে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় ৩৯ জন মারা গেছেন।
বুধবার উত্তরাখণ্ডে আরও ছয়টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্কুলসহ রাজ্যে ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিম নেপালের সেতি গ্রামে দু’দিন ধরে আটকে থাকা মানুষ জনের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারতে ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসে নিহত ২১
নেপালের সরকার বন্যাকবলিত প্রত্যেক পরিবারকে ১ হাজার ৭০০ ডলার করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে চার লাখ রুপি এবং যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য আরও এক লাখ ৯০ হাজার রুপি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক গভীর করতে চায় নেপাল
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটারে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘উত্তরাখণ্ডের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির কারণে প্রাণহানির ঘটনায় আমি শোকাহত। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক।’
১৭৯০ দিন আগে