সুদান
সুদানে ছয় মাসে ৩ শতাধিক শিশু হতাহত: ইউনিসেফ
সুদানের চলমান যুদ্ধে গত ছয় মাসে ৩ শতাধিক শিশু নিহত বা আহত হয়েছে, যার বেশিরভাগই ড্রোন হামলার শিকার বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
ইউনিসেফ জানায়, বর্তমানে করদোফান, দারফুর ও ব্লু নাইল অঙ্গরাজ্যগুলোতে সংঘাত সবচেয়ে তীব্র। এসব এলাকায় মোট হতাহতের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটছে ড্রোন হামলার কারণে।
উত্তর করদোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের লড়াইয়ের মধ্যে সম্ভাব্য নৃশংসতা নিয়ে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘ-সমর্থিত মানবাধিকার পরিষদ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব ভোট ছাড়াই অনুমোদন করে। এতে এল-ওবেইদ এবং আশপাশের এলাকায় আরএসএফ ও তাদের মিত্রদের সহিংসতা বৃদ্ধির নিন্দা জানানো হয়।
প্রস্তাবে সুদান থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোকে আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধে ‘সব ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপের’ নিন্দা জানানো হয়।
সংঘাতে সুদানে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত, প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দেশটির বহু এলাকা দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে তিন কোটির বেশি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে স্কুল, বাজার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং পানি সরবরাহকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনেক এলাকায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বেসামরিক মানুষ প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করছে।
সুদানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘শিশুরা অবিরাম সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও বঞ্চনার এক নির্মম চক্রের মধ্যে আটকে পড়েছে।’
এমন পরিস্থিতিতে সংঘাতের সব পক্ষের প্রতি বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা, নিরাপদ, দ্রুত ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিশুদের ক্ষতি থেকে রক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
১৯ দিন আগে
ঈদের দিন সুদানের গ্রামে চালানো হামলায় নিহত ২৭
সুদানের উত্তর কর্ডোফান অঞ্চলে একটি গ্রামে ঈদুল আজহার সময় চালানো হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে দেশটির চিকিৎসকদের সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক । এ হামলার জন্য আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) বাহিনীকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক অভিযোগ করে, আধাসামরিক আরএসএফ বাহিনী বৃহস্পতিবার নর্থ কর্ডোফানের বারাহ শহরের পশ্চিমে অবস্থিত আল-মুররাহ এলাকার কয়েকটি গ্রামে হামলা চারিয়েছে। মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে হামলা চালানো হয় ।
সংগঠনটি জানায়, সামপ্রতিক যুদ্ধের কারণে সুদানে সাধারণ মানুষ যে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এই হামলা চলমান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত চলে আসছিল। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এই দুই বাহিনীর মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে কর্ডোফান অঞ্চল সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ফ্রন্টে তাদের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা বর্তমানে পশ্চিম দারফুর অঞ্চল এবং দক্ষিণ সুদানের সীমান্তঘেঁষা কর্ডোফান অঞ্চলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই দুই অঞ্চলই তেলক্ষেত্র ও স্বর্ণখনিতে সমৃদ্ধ। এছাড়া বারাহ শহর নিয়েও আরএসএফের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক তাদের বিবৃতিতে জানায়, গ্রাম ও বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা এবং এভাবে নাগরিকদের হত্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ সুদানের সাউথ কর্ডোফানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট নর্থ বাহিনী এবং ওতোরো গোত্রের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে ৬১ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৯ টি শিশুও ছিল।
এছাড়া গত সপ্তাহে মধ্য দেশটির একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় ২৮ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও কয়েক ডজন মানুষ।
সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, সেই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ।
যুদ্ধের ফলে দেশটির বহু এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সুদানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
৫৭ দিন আগে
সুদানে নিহত ৬ শান্তিরক্ষীর জানাজা সম্পন্ন
সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সকাল সোয়া ৯টায় অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
জানাজা শেষে মরদেহে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর একে একে তিনবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহতদের কফিনে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আইএসপিআর জানায়, জানাজার আগে নিহত সেনাসদস্যদের জীবন বৃত্তান্ত পড়ে শোনানো হয়। পাশাপাশি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়। এরপর সেনাসদস্যদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার নিজ নিজ জেলায় উদ্দেশে রওনা দেয়।
নিহত শান্তিরক্ষীরা হলেন: কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, এএসসি (নাটোর); সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম, বীর (কুড়িগ্রাম); সৈনিক শামীম রেজা, বীর (রাজবাড়ি); সৈনিক শান্ত মন্ডল, বীর (কুড়িগ্রাম); মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ), লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।
শনিবার বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে নিহত শান্তিরক্ষীদের কফিন বহনকারী বিমান শাহাজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
গত ১৩ ডিসেম্বর আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী পরিচালিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ জন দায়িত্বরত শান্তিরক্ষী নিহত হন। ওই হামলায় আরও নয় শান্তিরক্ষী আহত হন।
আহতদের বিষয়ে এর আগে আইএসপিআর জানিয়েছিল, আহত শান্তিরক্ষীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ত্যাগও করেছেন। বর্তমানে আহতদের সবাই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
২১৬ দিন আগে
সুদানে আহত বেড়ে ৯, শান্তিরক্ষীদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাল আইএসপিআর
সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ড্রোন হামলায় আরও একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে করে দেশটিতে আহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানিয়েছে, সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৮ জন শান্তিরক্ষী আহত হন। পরবর্তীতে প্রাপ্ত হালনাগাদ তথ্যে আরও একজন শান্তিরক্ষী আহত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ায় মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আহত শান্তিরক্ষীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ত্যাগও করেছেন। বর্তমানে আহতদের সবাই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া, ওই হামলায় নিহত ছয় শান্তিরক্ষীর মরদেহ আগামী ২০ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরানোর কথা রয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে প্রত্যাবর্তনের পর যথাযথ মর্যাদায় তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
গত ১৩ ডিসেম্বর আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী পরিচালিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ জন দায়িত্বরত শান্তিরক্ষী নিহত হন।
২১৯ দিন আগে
সুদানে হতাহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিচয়সহ সর্বশেষ তথ্য জানাল আইএসপিআর
সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে গতকাল (শনিবার) স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ড্রোন হামলা চালায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী। হামলায় সেখানে দায়িত্বরত ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ এবং আটজন শান্তিরক্ষী আহত হন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ ও আহত শান্তিরক্ষীদের নাম ও পরিচয় জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সেইসঙ্গে আহতদের চিকিৎসার সর্বশেষ আপডেট জানানো হয়েছে।
শহীদ শান্তিরক্ষীরা হলেন: কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, এএসসি (নাটোর); সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম, বীর (কুড়িগ্রাম); সৈনিক শামীম রেজা, বীর (রাজবাড়ি); সৈনিক শান্ত মন্ডল, বীর (কুড়িগ্রাম); মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ), লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)।
আহত শান্তিরক্ষীরা হলেন: লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, পিএসসি, অর্ডন্যান্স (কুষ্টিয়া); সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, বীর (দিনাজপুর); কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, সিগনালস (ঢাকা); ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম, ইএমই (বরগুনা); সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, বীর (কুড়িগ্রাম); সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, ইঞ্জি. (রংপুর); সৈনিক চুমকি আক্তার, অর্ডন্যান্স (মানিকগঞ্জ); সৈনিক মো. মানাজির আহসান, বীর (নোয়াখালী)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, আহত আটজন শান্তিরক্ষীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ইতোমধ্যে তার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অপর আহত সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা সকলেই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। শহীদ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল ও গৌরবময় নিদর্শন হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হচ্ছে।
২২৩ দিন আগে
সুদানে ভূমিধসে প্রাণহানি হাজার ছাড়াল
আফ্রিকার দেশ সুদানের দক্ষিণাঞ্চলের দারফুর প্রদেশে ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণকারী একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী মন্তব্য করেছে, এটি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনাগুলোর অন্যতম।
এক বিবৃতিতে সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট-আর্মি জানায়, কয়েকদিন ধরে তীব্র বৃষ্টিপাতের পর রবিবার (৩১ আগস্ট) মধ্য দারফুরের মারাহ পর্বতমালায় অবস্থিত তারাসিন গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিবৃতি বলা হয়, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী কেবল একজন ছাড়া ওই গ্রামের সব বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। তাই এক হাজারেরও বেশি প্রাণহানি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, পুরো গ্রামটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি লাশ উদ্ধারে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ বিতরণ সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মারাহ পর্বতমালা হলো একটি দুর্গম আগ্নেয়গিরির শৃঙ্খল, যা রাজধানী খার্তুম থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার (৫৬০ মাইল) পশ্চিমে এবং এল-ফাশের থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত।
এদিকে দেশটির ক্ষমতাসীন সার্বভৌম পরিষদ মারাহ পর্বতমালার ভূমিধসে ‘শত শত নিরীহ বাসিন্দার মৃত্যুতে’ শোক প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ওই এলাকায় সহায়তার জন্য ‘সম্ভাব্য সব ধরনের সক্ষমতা’ কাজে লাগানো হচ্ছে।
একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, মারাহ পর্বতমালার মাঝখানে সমতল হয়ে যাওয়া এলাকায় একদল উদ্ধারকারীকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটল। দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সংঘর্ষ ও কঠোর বিধিনিষেধের কারণে দারফুরের সংঘাতপীড়িত অঞ্চলগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তাদানকারী সংগঠনগুলোর জন্য কার্যত অগম্য হয়ে পড়েছে।
মানবিক সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) সতর্ক করেছে, মারাহ পর্বতমালাসহ দরফুরের বহু এলাকা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার কারণে বাইরের বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিছিন্ন হয়ে গেছে।
পড়ুন: আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০০, আহত ৩ হাজারের বেশি
সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট-আর্মি, যা মারাহ পর্বতমালা এলাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে সক্রিয়। গোষ্ঠীটি দারফুর ও কোরদোফান অঞ্চলে সক্রিয় একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হলেও চলমান যুদ্ধে কোনো পক্ষ নেয়নি।
এল-ফাশের বর্তমানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যকার ভয়াবহ সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আর আশপাশের এলাকা থেকে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য মারাহ পর্বতমালা একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রূপ নিয়েছিল।
সুদানে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আর ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। দুর্ভিক্ষের কারণে অনেক পরিবার বেঁচে থাকার জন্য ঘাস খেতে বাধ্য হচ্ছে।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই যুদ্ধে জাতিগত হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ নৃশংসতা ঘটছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) জানিয়েছে, তারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করছে।মারাহ পর্বতমালা ৩ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত একটি ইউনেস্কো স্বীকৃত বৈশ্বিক ঐতিহ্যবাহী স্থান। এটি আশেপাশের এলাকার তুলনায় শীতল ও বেশি বৃষ্টিপাতের জন্য পরিচিত।
দেশটিতে প্রতি বছর জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মৌসুমি বর্ষায় শত শত মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক ভূমিধসটি ছিল সুদানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে একটি।
৩২৬ দিন আগে
সুদানের পূর্বাঞ্চলে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ১২০: জাতিসংঘ
সুদানের পূর্ব-মধ্যাঞ্চলের একটি শহরে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের যোদ্ধাদের কয়েকদিনের হামলায় ১২০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকদের একটি গ্রুপ ও জাতিসংঘ।
সুদানের সামরিক বাহিনীর কাছে একের পর এক বিপর্যয়ের শিকার হওয়ার পর এটি ছিল গোষ্ঠীটির সর্বশেষ হামলা। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ আফ্রিকার দেশটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। লাখ লাখ জনগণকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং দেশটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
আরএসএফ যোদ্ধারা গত ২০-২৫ অক্টোবরের মধ্যে গেজিরা প্রদেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের গ্রাম ও শহরগুলোতে তাণ্ডব চালান। তারা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালান এবং নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালান। এছাড়া তারা খোলা বাজারসহ ব্যক্তিগত ও সরকারি সম্পত্তি লুটপাট করেছে।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের ট্র্যাকিং ম্যাট্রিক্সের রবিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে তাম্বুল শহর এবং পূর্ব ও উত্তর গেজিরার অন্যান্য গ্রামের ৪৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ আগামী সপ্তাহে সুদান সফরের আগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, ‘গেজিরা প্রদেশে হত্যাকাণ্ড এবং ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন সুদানের জনগণের উপর এই সংঘাতের অগ্রহণযোগ্য মানবিক ক্ষতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।’
সংঘাত বন্ধে সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'নষ্ট করার সময় নেই। লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।’
সুদানে জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ সমন্বয়কারী ক্লেমেন্টাইন এনকোয়েতা-সালামি শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, 'এগুলো নৃশংস অপরাধ। নারী, শিশু এবং সবচেয়ে অরক্ষিত লোকেরা এমন একটি সংঘাতের ধকল বহন করছে; যা ইতোমধ্যে বহু জীবন কেড়ে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ২০০০ সালের গোড়ার দিকে দারফুর গণহত্যার সময় ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা ও গণহত্যাসহ যে ভয়াবহতা সংঘটিত হয়েছিল তার সঙ্গে এই হামলার মিল রয়েছে।
জানজাভিদ নামে পরিচিত আরব মিলিশিয়া থেকে আরএসএফ সৃষ্টি হয়েছিল। সুদানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ওমর আল-বশির দারফুরের মধ্য বা পূর্ব আফ্রিকান হিসেবে চিহ্নিত জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এসব বিদ্রোহীদের একত্রিত করেছিলেন। এ সময় জানজাভিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য নৃশংসতার অভিযোগ আনা হয় এবং দারফুর গণহত্যার সমার্থক হয়ে ওঠে। জানজাভিদ গ্রুপগুলো এখনো আরএসএফকে সহায়তা করছে।
আরও পড়ুন: সুদানে মসজিদে বিমান হামলায় নিহত ৩১
সুদানিজ ডক্টরস ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সারিহা শহরে কমপক্ষে ১২৪ জন নিহত ও ২০০ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে ত্রাণ সংস্থাগুলো যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য 'নিরাপদ করিডোর' খোলার জন্য আরএসএফকে চাপ দিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, 'আহতদের সাহায্য করা বা চিকিৎসার জন্য তাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো উপায় নেই।’
অনলাইনে বেশকিছু ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। এর কিছু আরএসএফ যোদ্ধারা নিজেরাই শেয়ার করেছে। সেসব ফুটেজে দেখা গেছে, আধাসামরিক গোষ্ঠীর সদস্যরা বন্দিদের ওপর নির্যাতন করছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সামরিক ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তি এক বৃদ্ধের চিবুক ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এবং পেছনে অন্য সশস্ত্র ব্যক্তিরা স্লোগান দিচ্ছেন।
ওই ভিডিওতে করা মন্তব্যে আরএসএফ তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
আরএসএফের বিরুদ্ধে গ্রামগুলোতে হামলা চালিয়ে বেসামরিকদের ওপর গুলি চালানোর পাশাপাশি 'বিপুল সংখ্যক বাসিন্দার' সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ করেছে গণতন্ত্রপন্থি দল ও গোষ্ঠীগুলোর জোট কোঅর্ডিনেশন অব সিভিলিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস।
এক বিবৃতিতে জোটটি 'এই ব্যাপক লঙ্ঘনের জন্য আরএসএফকে দায়ী' করেছে এবং প্রস্তুতকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
সামরিক বাহিনী সফলভাবে আরএসএফের দখলে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করার পর গেজিরায় এ হামলা চালানো হলো।
সেপ্টেম্বরে সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুম ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করে এবং আরএসএফের কাছ থেকে বিশাল এলাকা পুনরুদ্ধার করে। এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুর দিকে তারা গেজিরা প্রদেশের কৌশলগত পার্বত্য এলাকা জেবেল মোয়া এবং গেজিরা ও নিকটবর্তী সিন্নার প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ দখল করে আরএসএফ বাহিনীকে হটিয়ে দেয়।
অক্টোবরে আরএসএফের একজন শীর্ষ কমান্ডার, গেজিরার ডি ফ্যাক্টো শাসক আবু আকলাহ কেইকেল পক্ষত্যাগ করেন এবং সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়, এর ফলে আরএসএফ যোদ্ধারা কেইকেলের অনুগত হিসেবে পরিচিত গেজিরার গ্রাম ও শহরগুলোতে হামলা চালায়।
২০২৩ সালের এপ্রিলে খার্তুমে সামরিক বাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সুদানে যুদ্ধ শুরু হয়।
এই যুদ্ধ গণহত্যা এবং জাতিগতভাবে উসকানি দিয়ে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, এসব কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। বিশেষ করে দারফুরের পশ্চিমাঞ্চলে, যেখানে আরএসএফের নৃশংস আক্রমণ চলছে।
সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা অনুসারে, সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২৪ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত ১১
৬৩৫ দিন আগে
সুদানে মহামারী রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে ৩৪ লাখ শিশু: ইউনিসেফ
সুদানে পাঁচ বছরের কম বয়সী অন্তত ৩৪ লাখ শিশু মারাত্মক মহামারী রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সুদানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে কলেরা, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু জ্বর, হাম ও রুবেলার মতো রোগ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আক্রান্ত রাজ্য ও এর বাইরে শিশুদের অবস্থা মারাত্মকভাবে খারাপ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, চলমান অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে টিকাদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং স্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। সুদানের অনেক শিশুর পুষ্টির অবস্থার অবনতি তাদের আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইউনিসেফ গত ৯ সেপ্টেম্বর সুদানে ৪ লাখ ৪ হাজার ডোজ ওরাল কলেরা টিকা সরবরাহ করে। অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে সুদানে টিকা দেওয়া ৮৫ শতাংশ থেকে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
এতে বলা হয়, সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোর ৭০ শতাংশের বেশি হাসপাতালেই কার্যকম বন্ধ রাখতে হয়েছে। কয়েক মাস ধরে বেতনও পাচ্ছেন না স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা।
আরও পড়ুন: বন্যায় বিপর্যস্ত সুদানের ৭ লাখ মানুষ
গত বছরের এপ্রিলে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী এসএএফ এবং র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে লড়াই শুরুর পর থেকে কমপক্ষে ১৬ হাজার ৬৫০ জন মারা গেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এসময় কলেরা, ম্যালেরিয়া, হাম ও ডেঙ্গু জ্বরের মতো মহামারী রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, যেসব রোগের কারণেও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৭ আগস্ট দেশটিতে কলেরার প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করেন সুদানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাইথাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম। কলেরা ছড়িয়ে পড়ার জন্য সংঘাতের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত অবস্থার অবনতি এবং অপরিষ্কার পানির ব্যবহারকে দায়ী করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১৫ জুলাই থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ৩২৮ জনের মৃত্যুসহ ১০ হাজার ২২ জন কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুদানে কলেরার প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত সাড়ে ৯ হাজার, মৃত্যু ৩১৫
৬৭৫ দিন আগে
সুদানে আরএসএফের হামলায় ৪০ বেসামরিক নাগরিক নিহত
মধ্য সুদানে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) হামলায় অন্তত ৪০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।
বেসরকারি একটি সংগঠন আবু গৌতা প্রতিরোধ কমিটি এক বিবৃতিতে জানায়, গেজিরা প্রদেশের আবু গৌতা এলাকার গৌজ আল-নাকা গ্রামে আরএসএফের হামলায় অন্তত ৪০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাস্তুচ্যুত গ্রামবাসীদের গ্রামে ফিরে আসতে আরএসএফ বাধা দেওয়ায় বেশ কিছু লাশ দাফন করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিবৃতির মাধ্যমে তারা নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোকে আরএসএফের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে গৌজ আল-নাকার বাসিন্দারা গ্রামে যেয়ে লাশগুলো দাফন করতে পারে।
এ হামলার বিষয়ে আরএসএফ এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
গত বছরের ডিসেম্বরে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) গেজিরার রাজধানী ওয়াদ মাদানি থেকে সরে যাওয়ার পর এই প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আরএসএফ।
সুদানে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে সহিংস সংঘাত চলছে এসএএফ ও আরএসএফের মধ্যে। যার ফলে অন্তত ১৬ হাজার ৬৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ।
৬৭৭ দিন আগে
সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত ২৫, আহত ৩০
পশ্চিম সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী আল ফাশিরে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) আর্টিলারি হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছে।
উত্তর দারফুর রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রধান ইব্রাহিম খাতির সিনহুয়াকে বলেন, 'সোমবার আরএসএফ আবু শৌক শিবিরের বাজার লক্ষ্য করে চারটি গোলা নিক্ষেপ করে।
আহতদের চিকিৎসার জন্য আবু শৌক এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সৌদি হাসপাতাল ও সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার আল ফাশিরের প্রতিরোধ কমিটি তাদের ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে জানায়, আরএসএফ সোমবার আল ফাশিরের সাব-সাহারান কলেজে বোমা বর্ষণ করেছে। এতে কলেজের প্রধান হল, পরীক্ষাগার, মর্গ এবং অন্যান্য ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।
এ হামলা নিয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
গত ১০ মে থেকে আল ফাশিরে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে।
এর আগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে সুদানে এসএএফ ও আরএসএফের মধ্যে মারাত্মক সংঘাত শুরু হয়। যে সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬৫০ জন প্রাণ হারিয়েছে।
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, সুদানের আনুমানিক ১০.৭ মিলিয়ন মানুষ এখন দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত অবস্থায় আছে। আর প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ২.২ মিলিয়ন।
৬৯৬ দিন আগে