হজযাত্রী
২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে ২০২৭ সালের হজযাত্রী নিবন্ধন
২০২৭ সালের (হিজরি ১৪৪৮ সন) হজের রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম এবং ৮ নভেম্বর স্বাক্ষরিত হবে দ্বিপাক্ষিক হজচুক্তি।
রবিবার (৭ জুন) মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে এ রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৯ মে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের জেদ্দায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমের সময়সূচি ঘোষণা করে এবং বিভিন্ন দেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীদের নিকট তা হস্তান্তর করে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ তার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হজের রোডম্যাপ হস্তান্তর করেন।
রোডম্যাপ অনুসারে, চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম এবং ৮ নভেম্বর স্বাক্ষরিত হবে দ্বিপাক্ষিক হজচুক্তি। ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে এবং ৮ এপ্রিল শুরু হবে হজ ফ্লাইট। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৫ মে (৯ জিলহজ্ব) অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের হজ।
এছাড়া, সৌদি প্রান্তের খরচের অর্থ নুসুক মাসার প্লাটফর্মের ই-ওয়ালেটে সরাসরি স্থানান্তর কার্যক্রম চলবে এ বছরের ১৫ জুলাই থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। নুসুক মাসারের মাধ্যমে সামগ্রিক সেবা প্যাকেজ (তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ, মক্কা ও মদিনায় হোটেল, ক্যাটারিং ও পরিবহন সেবা) গ্রহণের নিমিত্ত চুক্তি স্বাক্ষর শুরু হবে চলতি বছরের ২৯ জুলাই এবং তা শেষ হবে ২৩ জানুয়ারি।
হজযাত্রীদের ডাটা নুসুক মাসার সিস্টেমে আপলোড করতে হবে ১৪ আগস্ট হতে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে। হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর ও নুসুক মাসারে ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করতে হবে চলতি বছরের ২৯ জুলাই হতে ৮ নভেম্বরের মধ্যে।
ঘোষিত এ রোডম্যাপ অনুযায়ী হজের কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।
১৮ দিন আগে
দেশে ফিরেছেন ৩৭৪৩৫ জন হাজি
গতকাল শনিবার পর্যন্ত পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৩৭ হাজার ৪৩৫ জন হাজি।
রবিবার (৭ জুন) ৯টি ফ্লাইটে আরও ৩ হাজার ৬৪৬ জন হজযাত্রীর দেশে প্রত্যাবর্তনের কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে অর্ধেকেরও বেশি হাজি দেশে পৌঁছে যাবেন। বাকি হাজিরা পর্যায়ক্রমে ফ্লাইট শিডিউল অনুসারে দেশে ফিরবেন। আগামী ১ জুলাই হজের ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে।
দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন অনেক হাজি। জানিয়েছেন তাদের হজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সৌদি সরকারের সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন হাজিরা। সরকারি মাধ্যমে হজ পালনকারী হাজিরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং মানুষকে সরকারি মাধ্যমে হজ পালনের পরামর্শ দিয়েছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শনিবার) পর্যন্ত মক্কা ও মদিনার বাংলাদেশ হজ মিশন মেডিকেল সেন্টার হতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে ৫৮ হাজার ৪৯টি। এছাড়া সৌদি আরবের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৯৮ জন।
এ বছর হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৮ জন। বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২২ জন হজযাত্রী।
১৯ দিন আগে
বিমানবন্দরে হাজিদের লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ সত্য নয়: প্রতিমন্ত্রী
দেশে ফেরা হাজিদের বিমানবন্দরে ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয় তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনের কক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত পরশুদিন যেসব হাজি হজ থেকে ফিরেছেন, তাদের লাগেজ-সংক্রান্ত বিষয়ে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি বলেছেন, বিমানবন্দরে হাজিদের ১৫০টি লাগেজ কাটা হয়েছে এবং লাগেজগুলি থেকে মালামাল চুরি হয়েছে। ওই পোস্টটিতে প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দেন এবং আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে এটা তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেই।
তিনি বলেন, আজকে আমরা আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি যাতে করে বস্তুনিষ্ঠ বিষয়টা আপনাদের জানাতে পারি। আপনারা জানেন যে প্রায়ই এ রকম সোশ্যাল মিডিয়ার সংবাদে আমাদের বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়। যেটা আপনাদের সহযোগিতায় আমরা সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটি পরিবেশন আপনাদের মাধ্যমেই করতে পারি। তাতে করে বিভ্রান্তিটা নিরসন হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়ে আমরা একটা বিবৃতি আপনাদের দিতে চাই।
তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয় জানিয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে তদন্ত প্রতিবেদন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমার কাছে কর্তৃপক্ষ পাঠায়। ওই ফ্লাইটে আসা ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া এবং কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছ থেকে মৌখিকভাবে জানা যায়।
২২ দিন আগে
এবার সিলেট থেকে সরাসরি হজ ফ্লাইট ৭টি, যাত্রা শুরু ৪ মে
এ বছর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মোট ৭টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ফ্লাইটটি ৪ মে রাত ১টা ২৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে মদিনার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে সিলেট হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) কার্যালয়ে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রা-সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হাব সিলেট অঞ্চলের সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও সিলেট থেকে সরাসরি পবিত্র হজ ফ্লাইট চালু হওয়া অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের বিষয়। প্রথম ফ্লাইটটি ৪ মে রাত ১টা ২৫ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে মদিনার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি সকল হজযাত্রীকে মোবারকবাদ জানান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, গত বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও সিলেট থেকে মোট ৭টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে একটি মদিনায় এবং বাকি ৬টি জেদ্দা বিমানবন্দরে যাবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এসব ফ্লাইট ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ (দুটি ফ্লাইট) ও ১৮ মে সিলেট-জেদ্দা রুটে পরিচালিত হবে।
এ বছর সিলেট অঞ্চলের মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৯৪ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৩৩ জন সরাসরি সিলেট থেকে সাতটি ফ্লাইটে সৌদি আরবে যাবেন এবং বাকি ৪৬১ জন ঢাকা হয়ে যাত্রা করবেন। ‘রোড টু মক্কা’ কর্মসূচির আওতায় ঢাকায় ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হলেও সিলেট থেকে যাত্রাকারীদের ইমিগ্রেশন সৌদি আরবেই সম্পন্ন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী হজে অংশ নেবেন। সৌদি সরকারের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী প্রতি এজেন্সির জন্য ন্যূনতম ২ হাজার জন যাত্রীর সীমা থাকলেও সিলেট অঞ্চলে এ নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হয়নি।
সিলেট অঞ্চলে মোট ৩০টি হজ এজেন্সি কার্যক্রমে যুক্ত থাকলেও এ বছর ২৩টি এজেন্সি নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেয়। এসব এজেন্সির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হজযাত্রীদের নিবন্ধন, ভিসা কার্যক্রম এবং সৌদি আরবে বাসস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ বছর একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে ‘সিলেট অ্যালায়েন্স হজ ২০২৬’ প্ল্যাটফর্মের অধীনে লিড এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ সার্ভিসেসের লাইসেন্সে হজ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা সমন্বিত ব্যবস্থাপনার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এ বছর সিলেট থেকে অংশগ্রহণকারী হজ এজেন্সিগুলো হলো: লতিফ ট্রেভেলস প্রাইভেট লিমিটেড, সানশাইন ট্রেভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, ইকরা ট্রেভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস, সিপার এয়ার সার্ভিসেস, ট্রেভেলন এয়ার সার্ভিসেস, এলাইট ট্রেভেলস, সিটি ওভারসীজ, আল মনসুর এয়ার সার্ভিস লিমিটেড, আল ইহসান ট্রেভেলস, রাব্বানী ওভারসীজ এভিয়েশন, আকাবা ট্রেডিং কর্পোরেশন, তাশফিক ট্রেভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, যাত্রীক ট্রেন্ডেলস, নিবরাস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেভেলস, আলফা ট্রেভেলস, আবাবিল এয়ার সার্ভিস, আল শরিফাইন ট্রেভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, শিপলু ওভারসীজ, খাজা এয়ার লাইনার, খাজা ট্রেভেলস, নিউ মডার্ন ট্রেভেলস ইন্টারন্যাশনাল এবং ডিসকভারী সিলেট ট্রেভেলস ট্যুরস।
৫৪ দিন আগে
হজযাত্রীদের নিষিদ্ধ পণ্য বহন না করার অনুরোধ
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কিংবা হজ এজেন্সি বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের প্ররোচনায় যেকোনো ধরনের নিষিদ্ধ পণ্য বহন থেকে বিরত থাকতে সকল হজযাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সৌদি আরবের আইনানুযায়ী হজযাত্রীর লাগেজে নেশাজাতীয় ওষুধ, তামাক পাতা, জর্দা, গুল, পানপাতা, শুঁটকি, রান্না করা খাবার এবং পচনশীল দ্রব্যাদি বহন নিষিদ্ধ। বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইনেও উল্লেখ রয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন সময়ে সৌদি বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের লাগেজে নিষিদ্ধ পণ্য পাওয়া গেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বারবার সতর্ক করার পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ বিষয়ে হজযাত্রীদের সতর্ক থাকার ও দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, সৌদিতে কোনও হজযাত্রীর লাগেজে নিষিদ্ধ পণ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সে দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এমন কাজে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর হজ পালনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। এমনকি হজ করার সুযোগ নাও পেতে পারেন তিনি। এ কারণে কোনোভাবেই নিষিদ্ধ পণ্য বহন করা যাবে না।
উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করবেন। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীরা সৌদি গমন করবেন।
৭৭ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি: ভ্রমণ বিপর্যয়ে দিশেহারা হজযাত্রীরা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট ভ্রমণ বিপর্যয়ে বিপাকে পড়েছেন ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়া হজযাত্রীরা। ইতোমধ্যে অনেক যাত্রী সেখানে আটকা পড়েছেন এবং ঘরে ফেরার বিকল্প পথ খুঁজছেন। আবার অনেককে তাদের পরিকল্পিত সফর পুরোপুরি বাতিল করতে হয়েছে।
ওমরাহ সম্পন্নকারী অনেকের মনেই ইসলামের পবিত্র স্থান দর্শনের অভিজ্ঞতার ওপর বিষাদের ছায়া ফেলেছে যুদ্ধ পরিস্থিতি।
ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহবিষয়ক উপমন্ত্রী দাহনিল আনজার সিমানজুন্তাকের মতে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি ইন্দোনেশীয় ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন।
তিনি জানান, আটকা পড়া যাত্রীদের হোটেল এবং ফ্লাইটের বাড়তি খরচের বোঝা কমাতে সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। এছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে তাদের ওমরাহ যাত্রা এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইচসান মার্শা একে একটি জরুরি মানবিক ও লজিস্টিক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আর্থিক ও মানসিক ধকল
সৌদি আরবে আটকা পড়া জানিরাহ ফারিস নামের এক ওমরাহযাত্রী ইন্দোনেশিয়ার আইনিউজ টিভিকে জানান, তার ফেরার ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে এবং তার নতুন ফ্লাইট আগামী ১২ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আটকা পড়া যাত্রী, বিশেষ করে যাদের এই বিলম্বের কারণে বাড়তি খরচ বহনের সামর্থ্য নেই, তাদের সাহায্য করার জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জানিরাহ বলেন, সবার পক্ষে হোটেলে অতিরিক্ত থাকার খরচ মেটানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মানসিক যন্ত্রণা। আমি খুব হতাশ, কারণ আমার সন্তানরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতি বছর, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে লাখ লাখ মানুষ ওমরাহ করতে সৌদি আরব যান।
জেদ্দায় মালয়েশিয়ার কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ জারাইফ রাজা আব্দুল কাদির গত মঙ্গলবার দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামাকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার প্রায় ১ হাজার ৬০০ ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন। তিনি জানান, যাত্রীরা ভালো আছেন। তার কার্যালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি ২৪ ঘণ্টার অপারেশন রুম খুলেছে।
রবিবার পর্যন্ত সৌদি আরবের জেদ্দা এবং মদিনা থেকে অস্থায়ীভাবে যাত্রী ফেরত পরিষেবা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস।
এদিকে, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আটকা পড়া নাগরিক ও ওমরাহযাত্রীদের সরিয়ে নিতে কূটনৈতিক মিশন, আঞ্চলিক সরকার এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলো ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার যাত্রীদের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে কাজ করে যা বর্তমানে এই যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত।
আকস্মিক পরিবর্তন ও পরিবারের পুনর্মিলন
৪৪ বছর বয়সী মিসরের নাগরিক মাগেদ খোলাইফ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (যেদিন যুদ্ধ শুরু হয়) সৌদি আরব থেকে কুয়েতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার ফ্লাইট বাতিল হয়ে কয়েক দিন পিছিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ওমরাহর আধ্যাত্মিক ও আনন্দময় পরিবেশ থেকে এটি ছিল এক আকস্মিক ও নেতিবাচক পরিবর্তন।
স্ত্রী ও শাশুড়িসহ আটকা পড়া খোলাইফ কুয়েতে থাকা সন্তানদের কাছে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কুয়েত থেকে পরিচিতদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, সেখানে সাইরেন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। খোলাইফ বলেন, ‘সবাই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল।’
পরে তিনি সড়কপথে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মঙ্গলবার কুয়েতে পৌঁছালে পরিবারের সঙ্গে এক আবেগঘন পুনর্মিলন ঘটে তার। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের চোখের সামনে দেখা এবং বুকে জড়িয়ে ধরার পর যতক্ষণ আমরা একসঙ্গে আছি, আর কী ঘটবে তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না।’
কঠিন সিদ্ধান্ত ও সফর বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী জাভেদ খিজের জানান, তিনি তার পরিবারের ওমরাহ সফর বাতিল করেছেন। তুরস্ক ও কাতার হয়ে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল তাদের।
তিনি বলেন, আমরা খবর দেখে বুঝতে পারছিলাম যে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সিদ্ধান্তটি (সফর বাতিল) কঠিন ছিল। কে জানে আগামী রমজানে আমি বেঁচে থাকব কি না? কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ধর্মীয় আচারে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সপরিবারে ওমরাহ করতে আসা ৫২ বছর বয়সী মজিদ মুঘল বলেন, আমরা পবিত্র ভূমিতে (সৌদি আরব) আসাকে আল্লাহর ডাক হিসেবে গণ্য করি। রমজান মাসে আসাটা অনেক সওয়াবের কাজ। তবে যুদ্ধ শুরু হবে জানলে আসতেন না বলে জানান তিনি।
মুঘল জানান, সৌদি আরবে আসার পথে তারা হামলার খবর পান। অন্য রুটের অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়লেও তাদের ফ্লাইটটি স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করেছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিক আছে, আলহামদুলিল্লাহ। এখানে কোনো সমস্যা নেই। রমজানের কারণে প্রচুর ভিড়, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও স্বাভাবিক দেখছি এবং আমরা অনিরাপদ বোধ করছি না।
এই পরিবারটি যুদ্ধের কথা ভুলে এখন রোজা, নামাজ এবং ধর্মীয় আচারে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে খবর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনদের বারবার আশ্বস্ত করতে হচ্ছে যে, তারা ভালো আছেন।
সবশেষে তাদের মনে বাড়ি ফেরা নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। মুঘল বলেন, ফ্লাইটগুলো চালু আছে কি না, নিশ্চিত হতে আমরা প্রতিদিন ফ্লাইটের খুঁটিনাটি যাচাই করছি। আমার সন্তানদের স্কুলে ফিরতে হবে; আমাকেও কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
১১১ দিন আগে
৫ মার্চের মধ্যে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করার নির্দেশ
আগামী ৫ মার্চের মধ্যে সকল হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা গ্রহণ ও গ্রুপ তৈরি সম্পন্ন করে ভিসা প্রক্রিয়া করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব এজেন্সির মালিক ও ব্যবস্থাপকদের অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এ অনুরোধ জানিয়ে ৩০টি এজেন্সির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০টি এজেন্সির মোট ৭ হাজার ৩৫৫ জন হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা এখনও বাকি রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাকি রয়েছে বাংলাদেশ ওভারসিজ সার্ভিসেসের (১৩০৬ জন) এবং সর্বনিম্ন এহসান এয়ার ট্রাভেলসের (১০ জন)।
চিঠিতে বলা হয়, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের টাইমলাইন মোতাবেক আগামী ২০ মার্চ হজযাত্রীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ শেষ করতে হবে। ভিসা প্রক্রিয়াকরণের পূর্বে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ফিটনেস সনদ গ্রহণ এবং টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক। ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য হজযাত্রীর গ্রুপ তৈরি, গ্রুপ প্রক্রিয়াকরণ ইত্যাদি যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে ভিসা পেতে ৫ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে। এছাড়া কারিগরি জটিলতার উদ্ভব হলে এর চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
আগামী ২০ মার্চের নিকটবর্তী সময়ে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয় দেশেই সংশ্লিষ্ট অফিস বন্ধ থাকবে। ফলে ২০ মার্চের অনেক আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা প্রদান ও ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলে জানানো হয় চিঠিতে।
১২০ দিন আগে
এবারও সরকারি খরচে কাউকে হজে নেওয়া হবে না: ধর্ম উপদেষ্টা
চলতি বছর হজ শেষে দুটি প্যাকেজের সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদেরকে ৩ কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। গত বছরের মতো এ বছরও সরকারি খরচে কাউকে হজে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শেষ কর্মদিবসে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ড. আ ফ ম খালিদ বলেন, গত দেড় বছর অত্যন্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সঙ্গে আমি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে গেছি। কর্মকর্তা- কর্মচারীদেরকেও সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি ও উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জুগিয়েছি।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ২০২৫ সালের হজে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সেদেশের একটি মেডিকেল সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে হজযাত্রী প্রতি দুই সৌদি রিয়াল হিসেবে একটি হেলথ সার্ভিস চুক্তি করা হয়েছিল। এবার হজে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নেগোসিয়েশন কুশলতার কারণে এই সেবাটি আমাদের দেশের সকল হাজী বিনামূল্যে নিতে পারবেন। আমরা আশা করছি, ২০২৬ এর হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২-এর হজযাত্রীদেরকে ৩ কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারব।
জুলাই বিপ্লবের পর হজ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, যৌক্তিক খরচে হজ পালনের যে জনআকাঙ্ক্ষা ছিল সেটি নিয়ে আমি বিশেষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ ও নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। এ বছর বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত দুইবছরে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখ করার মতো অর্জন বলে আমি মনে করি।
উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালের হজে যেখানে বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, ২০২৬ সালের হজে এসে বিমান ভাড়া হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এটাকে আরও কমানোর বিষয়ে আমি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম।
ড. আ ফ ম খালিদ বলেন, আমরা গতবছর সরকারি মাধ্যমের হাজীদেরকে হজের খরচ নির্বাহ শেষে উদ্বৃত্ত ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হজ এজেন্সির অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা যেটা সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএন হিসেবে পড়ে ছিল সেটা অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে ফেরত দিয়েছি।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, গত বছর হজে সৌদি প্রান্তে হজ ব্যবস্থাপনার কাজে সমন্বিত চিকিৎসক ছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাইরে কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং দল সদস্য সংখ্যাও ২০২৪-এর তুলনায় আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমিয়েছিলাম। গত বছর সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজে নেওয়া হয়নি। এ বছরও কাউকে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, গত বছর আমাদের হজ প্যাকেজ ছিল ২টি। এ বছর আমাদের হজ প্যাকেজ ৩টি। এ বছর সীমিত বা নির্দিষ্ট আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ যাতে হজ করতে পারেন সেজন্য আমরা একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, মাত্র ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার হজ প্যাকেজ আমরা ঘোষণা করেছি। এ বছর আমাদের হজের প্রস্তুতি আজ পর্যন্ত সন্তোষজনক। ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া, তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শেষ কর্মদিবসে ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, এ বছর হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে আমরা কিছু সাফল্য অর্জন করেছি। হজ প্যাকেজ-৩ এর সার্ভিস চার্জ, সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ যোগাযোগের মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল কমানো হয়েছে। প্যাকেজ-৩-এর হজযাত্রীদের মক্কায় আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা ছিল, যা হারাম শরিফের বহিরাঙ্গন থেকে ৬-৮ কিলোমিটারের মধ্যে। আজিজিয়া এলাকা থেকে হারাম শরিফ যেতে হলে হাজীদেরকে দুইবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। এটা হাজীদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। এই বিবেচনায় আমরা হজ প্যাকেজ-৩-এর হাজীদের জন্য বাড়িভাড়া করেছি হারাম শরিফ থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। এর ফলে হাজীদের যাতায়াতে বিড়ম্বনা লাঘব হয়েছে এবং তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরিফে আদায় করতে পারবেন।
১৩৬ দিন আগে
হজযাত্রীদের ভিসা আবেদনের সময় নির্ধারণ
চলতি বছরের হজযাত্রীদের ভিসার আবেদন শুরু হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। ভিসার আবেদন করা যাবে আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত ।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের নিবন্ধনকারী সকল হজযাত্রীর সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রাজকীয় সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণ সম্পন্ন করে ফিটনেস সনদ গ্রহণ করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে সৌদি নুসুক মাসার প্রক্রিয়ায় ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের হজে নিবন্ধিত প্রবাসী-বাংলাদেশিসহ সকল হজযাত্রীকে বাংলাদেশের যে কোনো সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্ধারিত টিকা কেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহণ করে ফিটনেস সনদ গ্রহণ করে আগামী ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার আবেদন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে এ বিজ্ঞপ্তিতে।
এ বছর ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো হজযাত্রী হজে যেতে পারবেন না বলেও ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
১৪৬ দিন আগে
রোডম্যাপ অনুসারে হজ কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে: ধর্ম উপদেষ্টা
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, রোডম্যাপ অনুসারে হজের সকল কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদনে নিরলস কাজ করছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা জানান, আসন্ন হজে এদেশের হজযাত্রীদের জন্য বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। সকল এজেন্সিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়িভাড়া চুক্তি স্বাক্ষরের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মদিনা ও মক্কা উভয় স্থানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রীর বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। বাকি হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে হজ এজেন্সিসমূহকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার জন্য রোডম্যাপ অনুসারে বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পাদন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। তিনি বাংলাদেশের সার্বিক হজ কার্যক্রমের অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
ধর্ম উপদেষ্টা এ বছর বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক আগামীতে আরও মজবুত ও সুসংহত করাসহ দুদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
এসময় ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম ও যুগ্ম সচিব ড. মো. মঞ্জুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।
১৪৯ দিন আগে