মূল্যবৃদ্ধি
ফরিদপুরে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে
ফরিদপুরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও প্রত্যন্ত এলাকায়ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে এলপিজির সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে বিক্রেতারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা করছেন না। বর্তমানে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে আকার ও ব্র্যান্ডভেদে একটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৮৩৭ টাকা।
নগরকান্দা, সালথা, মধুখালী উপজেলার প্রত্যন্ত বাজারগুলোতে কোথাও কোথাও দাম আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফরিদপুর শহরের মুজিব সড়কের দুজন অটোচালক, একজন হোটেল ব্যবসায়ী ও একজন গৃহিনী জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে। এর মধ্যে রান্নার গ্যাসও যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়, তাহলে সাধারণ পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানান তারা।
এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরও। নগরকান্দা বাজারের কয়েকজন জানান, উপজেলা সদরের তুলনায় গ্রামে গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম অনেক বেশি। হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও চায়ের দোকানের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এলপিজি ব্যবহার হওয়ায় তাদের ব্যয় বেড়েছে।
উপজেলার ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাসের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় আয় বাড়েনি। ফলে বাড়তি খরচ সামাল দিতে গিয়ে লাভ কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রান্নার খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের দামও বেশি। সব মিলিয়ে আগের মতো ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তবে খুচরা এলপিজি বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে প্রয়োজনের তুলনায় এলপিজির সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। সরবরাহ সংকটের কারণে তাদেরও বাড়তি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ফলে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
একজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, ‘আমরাও বেশি দামে গ্যাস কিনে এনেছি। সরবরাহ ঠিকমতো না থাকায় অনেক সময় সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। তবে আমরা ইচ্ছা করে বেশি দাম নিতে চাই না।’
এদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ থাকলেও ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা বলেন, ‘এলপিজির দাম নিয়ে বাজার তদারকির জন্য জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
৯ দিন আগে
এলপিজির দামে বড় লাফ, ১২ কেজি সিলিন্ডারে বেড়েছে ২৫২ টাকা
অক্টোবরের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) খুচরা দাম প্রতি কেজিতে ২১ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। এতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন দাম এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি অক্টোবরের জন্য ভ্যাটসহ বেসরকারি এলপিজির খুচরা দাম প্রতি কেজি ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করেছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১৩২ টাকা ৮ পয়সা।
সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত দামে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হয়েছিল। সৌদি আরামকোর কনট্রাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে অক্টোবরে এলপিজির দাম বাড়ল।
অক্টোবরে প্রোপেন ও বিউটেনের গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টনে ৭১২ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। ৩৫:৬৫ অনুপাতের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে।
অক্টোবরে ৫ দশমিক ৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৭২৭ টাকা। আর ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯১৩ টাকা করা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১ হাজার ৬৫২ টাকা।
১৫ কেজি, ২০ কেজি ও ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম যথাক্রমে ২ হাজার ২৯৬ টাকা, ৩ হাজার ৬১ টাকা ও ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এসব সিলিন্ডারের দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৯৮২ টাকা, ২ হাজার ৬৪২ টাকা ও ৫ হাজার ৯৪৫ টাকা।
মোটরযানে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। অক্টোবরে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি, যা সেপ্টেম্বরের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সার তুলনায় ১১ টাকা ৫৩ পয়সা বেশি।
পাইপলাইনভিত্তিক ব্যবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির ভোক্তা পর্যায়ের দাম তরল অবস্থায় প্রতি কেজি ১৪৯ টাকা ৩১ পয়সা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি লিটার ৩৩ দশমিক ১৯ পয়সা বা প্রতি ঘনমিটার ৩৩১ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা আদেশ অনুযায়ী ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এলপিজির ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সায় অপরিবর্তিত রেখেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিইআরসি এলপিজি মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ লাইসেন্সধারীদের সংশোধিত দামে পরিবেশকদের কাছে এলপিজি বিক্রি এবং সে অনুযায়ী মূসক চালান বা ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ইস্যু করার নির্দেশও দিয়েছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি এবং খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ার খবরের মধ্যে এই মূল্যবৃদ্ধি করা হলো। সেপ্টেম্বরে বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করলেও সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু এলাকার ভোক্তারা এর চেয়ে উল্লেখযোগ্য বেশি দামে এলপিজি কিনেছেন।
১১ দিন আগে
বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বাজারে বেশি প্রভাব ফেলবে না: উপদেষ্টা জাহেদ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এ সময়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
বাজেটের পর এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। কিছুদিন পর বাজেট ঘোষণা। এই সময়ে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কতটা যৌক্তিকতা?— এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন।
জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের সমন্বয় কোনো না কোনো সময় করতেই হয়। বাজেট এলেই বা বাজেট হওয়ার পর মূল্য বৃদ্ধির একটি প্রবণতা দেখা যায়। তবে বর্তমানে কাঁচাবাজার ও সবজির দাম আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির যে প্রবণতা ছিল, সেখানে ইতোমধ্যে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
ভর্তুকি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন ভর্তুকিতে এত বেশি খরচ করে ফেলি, সরকারের কিন্তু আরও অনেক উন্নয়ন প্রকল্প আছে এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রকল্প আছে। আমরা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় ব্যয় করতে চাই, শিক্ষায় চাই এবং সামাজিক নিরাপত্তায়। আপনারা কৃষক কার্ডের কথা জানেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা জানেন, ওগুলোর ব্যয় সংস্থান তো আসলে আমাদের করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যদি কোনো কারণে বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, তবে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। তবে নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা বিদ্যুতের দাম তাদের জন্য বাড়াইনি, আমরা তাদের জন্য জ্বালানির দাম বাড়াইনি এবং তারা আবার সরকারের কাছ থেকে অনেকেই ভাতা পেতে শুরু করবেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এই বাজেটে একটা বড় অংশের মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে যাবেন। সুতরাং তাদের ওই চাপ একই সঙ্গে অন্যান্য যেসব নিরাপত্তার বিষয় আছে, যেমন: টিসিবির যেসব প্রকল্প ছিল বা অন্যান্য যেসব সেফটি নেটের প্রকল্প ছিল, সেগুলো বলবৎ থাকছে। সুতরাং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর খুব বেশি পড়বে না বলে আশা করছি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, তার মানে এই না যে বাজারে যে অন্যায়ভাবে মূল্য বৃদ্ধি হয়, সেটা নিয়ে সরকার কাজ করবে না। সরকার নিশ্চয়ই কাজ করবে বলে জানান তিনি।
১৩২ দিন আগে
বাড়ল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম
দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এপ্রিল মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বেড়েছে।
জ্বালানি তেলের নতুন দাম (১৯ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
সর্বশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছিল। সেই দাম মার্চ মাসেও বহাল থাকে। এপ্রিল মাসেও আগের দাম বহাল রাখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্য। এ উত্তেজনার বড় প্রভাব পড়ে হরমুজ প্রণালিতে। এই প্রণালিটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ ভাগ তেল এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে গত কিছুদিন ধরেই যানবাহনের ভিড়। মানুষের অভিযোগ, চাহিদামতো তারা জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত তেল মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ করা হচ্ছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ জ্বালানি তেল মজুত করছে। জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে পাঁচ লাখের বেশি অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে যতক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব, সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াবে না।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমাবাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত) আলোকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা।
১৮০ দিন আগে
জেট ফুয়েলের ৮০% মূল্যবৃদ্ধি ‘অযৌক্তিক’, পুনর্বিবেচনার আহ্বান এওএবির
দেশে জেট ফুয়েলের মূল্য প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সংগঠনটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত দেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য ক্ষতিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
এওএবি জানায়, ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত বিইআরসি সভায় ৫ থেকে ২২ মার্চ ২০২৬ সময়ের প্ল্যাটস রেটের গড়, জানুয়ারি-জুন সময়ের সংশোধিত প্রিমিয়াম, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত ধরে জেট এ-১-এর নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ১১২ দশমিক ৪১ টাকা থেকে বেড়ে ২০২ দশমিক ২৯ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার মূল্য ০.৭৩৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৩২১৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
এওএবির সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং এসব তেল আগেই নির্ধারিত দামে আমদানি করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম কমেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখিয়ে জেট ফুয়েলের দাম এত বড় পরিসরে বাড়ানো যৌক্তিক নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ভারত ও নেপালে জেট ফুয়েলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও পাকিস্তানে ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে বাংলাদেশে এই হার প্রায় ৮০ শতাংশ।
এওএবি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপবে। জেট ফুয়েলের ওপর কর বৃদ্ধির ফলে পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে, যা খাতটির টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে।
সংগঠনটি আরও সতর্ক করে বলেছে, মূল্যবৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় এওএবি সরকারের প্রতি দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দেশের এভিয়েশন খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।
২০৫ দিন আগে
রমজানে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে পিএমওর নির্দেশ
রমজান মাসে মূল্যবৃদ্ধি রোধে পণ্য মজুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও)।
এছাড়া ইফতার ও সেহরির সময় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি রোজার মাসে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয় তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রমজানের আগে পিএমওতে অনুষ্ঠিত একটি সভা থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্টক, সরবরাহ ও মূল্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরে মানুষের বাড়ি ফেরা নির্বিঘ্ন করতে এই নির্দেশনা এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: মুসলিম দেশগুলো অভিন্ন মুদ্রা চালুর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
মুখ্য সচিব বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবারের রমজানে খাদ্যশস্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ বেশি।
তিনি বলেন, ‘বাজারে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস রয়েছে। রোজার মাস সামনে রেখে আমরা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছি। জনগণ তাদের চাহিদামতো পণ্য কিনতে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা রমজান ও ঈদ খুব ভালোভাবে উদযাপন করতে পারব।’
তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, প্রতি বছর এই সময়ে ১২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ থাকলে আমরা সন্তুষ্ট। কিন্তু এ বছর এখন আমাদের কাছে প্রায় ১৭ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে।
এছাড়াও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষ করে চিনি, পেঁয়াজ এবং ভোজ্য তেলের স্টক আছে কি না পর্যালোচনা করা হয়েছে। ‘বাজারে পর্যাপ্ত চিনি পাওয়া যাচ্ছে এবং আরও চিনি আমদানি করা হচ্ছে, তাই আমরা সম্ভাব্য চিনি সংকট নিয়ে চিন্তিত নই। বাজারে ভোজ্য তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সুতরাং, ভোজ্য তেল নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না,’ যোগ করেন তিনি।
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যাতে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে সেজন্য পণ্যের সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্য সচিব।
সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অংশ হিসেবে রমজানে কিস্তিতে ওএমএস ও টিসিবির মাধ্যমে দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা রোজার মাসে এক কোটি মানুষকে দ্বিগুণ ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ ও খেজুর দেব।’
পর্যালোচনা সভায় পরিবহন টিকিট ব্যবস্থা সহজীকরণ, ঈদের সময় মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ঈদের আগে সড়ক ও সেতু সংস্কার, ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধ, আকাশপথে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বৃদ্ধি এবং যথাযথ অর্থ বিতরণের বিষয়ে আলোচনা হয়। ঈদকে সামনে রেখে গার্মেন্টস ও জুটমিল শ্রমিকদের মধ্যে বেতন নিয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (সমন্বয় ও সংস্কার), সেতু বিভাগ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
৯৫৪ দিন আগে
ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: সামন্ত লাল সেন
ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি এবং এটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ওষুধ কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সামন্ত লাল সেন।
মঙ্গলবার(২৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
আরও পড়ুন: খতনা করতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নির্দেশ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি বলেন, 'সংবাদপত্রে প্রায়ই ওষুধের মূল্য নিয়ে লেখালেখি হয়। হঠাৎ করে ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে না। কেন বাড়ছে, কতটা বাড়ছে, যৌক্তিক কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।’
আরও পড়ুন: প্রাক্তন স্বামীর আগুনে দগ্ধ চিকিৎসকের খোঁজ নিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৯৬১ দিন আগে
নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে: এলজিআরডি মন্ত্রী
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঠিকাদাররা সারাদেশে বিভিন্ন প্রকল্প বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদারের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বকে চমকে দিয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সরকারি দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্কুল-প্রতিষ্ঠানসহ অনেক নির্মাণকাজ অর্ধেক শেষ হয়ে আছে।
তিনি বলেন, ‘এখন অবস্থা এমন, কাজ শুরু না হলে ভালো হতো। কাজ বন্ধ থাকায় জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে বারবার অনুরোধ করেও কাজ করা হচ্ছে না।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে গিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির জন্য সংসদ সদস্যরা অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে নির্মাণ সামগ্রীর দাম কয়েকগুণ বেড়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আগে যে রড প্রতি মেট্রিক টন ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন প্রতি মেট্রিক টন রড এক লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে যে সিমেন্ট প্রতি বস্তা ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি হতো তা হয়ে গেছে ৫০০ টাকা।
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব কাজে ঠিকাদাররা অংশ নিয়েছেন, সবগুলোতেই দাম বাড়ার কারণে ঠিকাদাররা কাজে অনীহা প্রকাশ করেছেন।’
তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বাস্তবতা অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে এসব সামগ্রীর দাম বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: সাগর-রুনি হত্যার বিচার হারিয়ে যাবে না: আইনমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘কিন্তু যে ঠিকাদাররা আগে কাজ করেছিলেন তারা সত্যিকারের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ায় তাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ আমাদের যে কাজগুলো করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেগুলো বাদ দিয়ে নতুন করে দরপত্র জারি করা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’
এই প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকাসহ অনেক এলাকায় ঠিকাদাররা কাজ পেলেও বাস্তবায়ন করতে পারেনি, তাদের সব কাজ বাতিল করে তা বাস্তবায়নের জন্য নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: জলাভূমি সংরক্ষণের জন্য ম্যাপ তৈরি করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী
৯৮৪ দিন আগে
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিলেও আগস্টে খাদ্যমূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ: বিবিএস
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারেরে উদ্যোগ সত্ত্বেও চলতি বছরের আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশে। আর আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ মূল্যস্ফীতির তথ্য অনুযায়ী- গত দুই মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় মূল্যস্ফীতি আগস্টে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে বেকার সংখ্যা ২.৭০ লাখ বেড়েছে: বিবিএস
গত দুই মাসে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমার পর আগস্টে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। চলতি মাসে সামগ্রিকভাবে খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জুলাইয়ে তা ছিল ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
তবে জুলাই মাসে সামগ্রিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ হলেও আগস্টে তা ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
এ ছাড়াও গ্রামীণ অঞ্চলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আগস্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
আগস্টে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ মানে- একজন ব্যক্তি যিনি ২০২২ সালের আগস্ট মাসে ১০০ টাকায় পণ্য ও পরিষেবা কিনতেন। যা চলতি বছরের আগস্টে একই পণ্য কিনতে খরচ হয়েছে ১০৯ দশমিক ৯২ টাকা।
বিশ্লেষকরা বলেন, এক বছরের ব্যবধানে খরচ বেড়েছে ৯ দশমিক ৯২ টাকা। অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতি একটি করের মতো যা ধনী-গরিব সবার কাছেই সমান বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
বিবিএসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ অঞ্চলে খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি আগস্টে ছিল ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর শহরাঞ্চলে খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ১১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশের নিচে।
আরও পড়ুন: জুন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯.৭৪ শতাংশে নেমে এসেছে: বিবিএস
বিবিএসের জিডিপি ও মুদ্রাস্ফীতির তথ্য নতুন পদ্ধতিতে হালনাগাদে সন্তুষ্ট আইএমএফ
১১৩১ দিন আগে
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করুন নতুবা রাজপথে নামবে জনগণ: সরকারকে বিএনপি
সরকার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলু।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। এটা সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। আমরা এর বিরুদ্ধে ১৬ জানুয়ারি সারাদেশের মহানগরী ও উপজেলায় বিক্ষোভ করব।’
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপি নেতা বলেন, অবিলম্বে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। ‘অন্যথায় আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করব। আমরা আগামী দিনে বিদ্যুৎ বিল দেব না এবং মানুষ বিদ্যুৎ বিল দেয়া বন্ধ করে দেবে।’
দুর্নীতির মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদালতের আদেশের প্রতিবাদে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে বিরোধীদলীয় মঞ্চ ডেমোক্রেসি ফোরাম।
আরও পড়ুন: ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে আরও জেগে ওঠুন: জনগণের প্রতি ফখরুল
জানুয়ারি থেকে কার্যকর বিদ্যুতের খুচরা মূল্য পাঁচ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার।
এর আগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল।
জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরাতে সরকারের নির্দেশে আদালত তারেক ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বুলু। এই সরকার তারেক রহমানের ভয়ে ভুগছে।
তিনি বলেন, দুঃশাসনের কারণে জনগণ আর আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছে।
কুইক রেন্টাল অ্যান্ড রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট ও মেগা প্রজেক্টের নামে যারা ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা লুট করেছে এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে তাদের আগামী দিনে জনআদালতে বিচার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বুলু।
আরও পড়ুন: সরকার বিরোধী দলকে দমন করতে মরিয়া: ফখরুল
১৩৭১ দিন আগে