সংঘর্ষ
মিরপুরে সংঘর্ষের পেছনে সমন্বয়ের অভাব থাকতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হওয়া সংঘর্ষে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল বলে মনে করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পুলিশের সহায়তা নিয়ে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তিনি যতটুকু জানতে পেরেছেন, তা থেকে তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানতে পেরেছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিটি করপোরেশন বা রাজউকের কর্মকর্তারা পুলিশের সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ করেননি। সেখানে সমন্বয়ের অভাব ছিল বলে তার কাছে মনে হয়েছে।
এর আগে ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। একপর্যায়ে হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়।
এ সময় সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় হকারদের হাতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১ দিন আগে
মিরপুরে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত, ডিএনসিসির গাড়িতে আগুন
রাজধানীর মিরপুর-১০-এ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকার ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সকাল ১০টার দিকে হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতে এ সংঘর্ষ হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানান, সংঘর্ষের সময় ডিএনসিসির দুটি ময়লার ট্রাকে আগুন দেওয়া হয় এবং তিনটি বুলডোজার ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
হকাররা দাবি করেন, ডিএনসিসির কর্মীরা ফুটপাতের দোকান সরাতে শুরু করলে প্রথমে একটি বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে কিছু পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হকাররা উচ্ছেদ অভিযানে জড়িতদের লক্ষ্য করে লাঠি ও ইট ছুড়তে থাকেন। পরে ডিএনসিসির দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও হামলার শিকার হয়েছেন। যমুনা টেলিভিশনের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এছাড়া সময় টিভির একজন প্রতিবেদক ও একজন ক্যামেরাপারসনকে মারধর করা হয়েছে।
সমকালের ফটোসাংবাদিক মাহবুব হোসেন নবীনও কয়েকজন হকারের হামলায় আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ এলাকার সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলেন, সংঘর্ষে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
১ দিন আগে
কুমিল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩৫
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের নলচর গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল্লাহ রবি সরকার ও বিএনপি নেতা আব্দুল বারেকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছে। তারই জেরে আজ (মঙ্গলবার) ভোরে আব্দুল বারেকের লোকজন রবিউল্লাহ রবি সরকারের লোকজনের ওপর হামলা চালায়।
এরপর রবি সরকারের লোকজন পাল্টাহামলা চালাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইট-পাটকেল ও টেঁটা নিক্ষেপ শুরু হলে উভয় পক্ষের ৩৫ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, আজ ভোরে নলচর গ্রামের রবি ও বারেকের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষই ইট-পাথর নিক্ষেপ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
নড়াইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যু
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হাসান শেখ (৩৮) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাসান শেখের মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হোসেন আলী।
নিহত হাসান শেখ কালিয়ায় কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া গ্রামের তারা মিয়া শেখের ছেলে।
এর আগে গতকাল (বুধবার) সকালে হওয়া ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১১ জন হন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (বুধবার) সকাল ৭টার দিকে কলাবাড়িয়া এলাকায় সোহেল মেম্বার ও আবেদ শেখের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন। তাদের প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহতদের ডা. গোলাম রব্বানীর পরামর্শে খুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়, যার মধ্যে হাসান শেখও ছিলেন।
ওসি মো. হোসেন আলী বলেন, নিহত হাসান শেখের ময়নাতদন্ত শেষে দেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এলাকায় যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৭ দিন আগে
নড়াইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৫
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ ও তিনজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চরকান্দিপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সোহেল ও আবেদ গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় গোলাগুলি ও হামলায় উভয় পক্ষের আটজন আহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন ইসরাফিল শিকদার, রাসেল শেখ, মতিউর রহমান, মুক্তি শেখ ও হাসান শেখ।
আহতদের প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী বলেন, পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাদের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া আরও তিনজন সামান্য আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হোসেন আলী বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে চরকান্দিপাড়ার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, শুনেছি কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবেন।
এছাড়া সংঘর্ষে কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
এদিকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
৮ দিন আগে
পটুয়াখালীতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেড ও মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশ—এই দুই দলের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ চলছিল। খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেড একটি গোল করলে প্রতিপক্ষ দল ফাউলের দাবি তোলে। এ নিয়ে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ায় অপর দল। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে জড়িতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গলাচিপা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের অনেকেই গলাচিপা ও পটুয়াখালীর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চলে গেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, এলাকার পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে।
১৪ দিন আগে
পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫
পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে মহাসড়কে অবস্থান নেন দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা। রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল (রবিবার) রাত ১০টার দিকে জেলা শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল ছোড়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় লাঠি হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন দুই গ্রুপের সদস্যরা।
আরও জানা যায়, রবিবার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের সামনেই বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। এরই রেশ ধরে রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ফিরে যান। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
এ সংঘর্ষে দুইপক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে গুরুতর আহত চারজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
আহতরা হলেন রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)। তারা সবাই বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চারজনকে রমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। রাজনৈতিক মারামারিতে তারা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৭ দিন আগে
পটুয়াখালীতে বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২০
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে এ সংঘর্ষ হয়।
দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে পৌর মঞ্চ চত্বর থেকে উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির (আহ্বায়ক পক্ষ) উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা ও র্যালি শুরু হয়। অন্যদিকে সিনেমা হল রোডে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিলেন দলটির সাবেক কমিটির (হাসান মামুনপন্থী) নেতা-কর্মীরা।
পুলিশ সাবেক কমিটির নেতা-কর্মীদের উপজেলা পরিষদের ফটকের ভেতরে আটকে রাখলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বর্তমান কমিটির মিছিলটি সিনেমা হল রোড এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। কথা-কাটাকাটির মধ্যেই উভয় পক্ষ হাতাহাতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে।
এরপর শহরের কালীবাড়ি ও বটতলা এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কালীবাড়ি রোডের ‘হাবিব রেস্টুরেন্টে’ ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রেস্তোরাঁটির মালিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির সমর্থনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির পুরোনো কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপিতে ‘নুরপন্থী’ ও ‘মামুনপন্থী’ হিসেবে পরিচিত দুটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতির কারণে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। বর্তমানে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
৩০ দিন আগে
সীতাকুণ্ডে বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষ, মহাসড়ক অবরোধ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেলও বিস্ফোরিত হয়। এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক পক্ষ অবরোধ সৃষ্টি করলে মহাসড়কের উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং নপ্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর গাড়িও আটকা পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লায়ন আসলাম চৌধুরী ও কাজী সালাউদ্দিন গ্রুপ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে পড়ে ওষুধ কোম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধিও মারধরের শিকার হন।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে উপজেলার মুন স্টার কমিউনিটি সেন্টারে দুই গ্রুপ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। সকাল থেকে লায়ন আসলাম চৌধুরী গ্রুপের অনুসারীরা মুন স্টার কমিউনিটি সেন্টার মাঠে অবস্থান নেন। অন্যদিকে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা অবস্থান নেন পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায়।
আসলাম চৌধুরী অনুসারীরা দুপুর ১টার দিকে মিছিল নিয়ে পৌর সদরের দিকে যাওয়ার সময় হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও বেশ কয়েকটি কটকেল বিস্ফোরণ হয়।
অন্যদিকে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। এ সময় মহাসড়কের উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
সড়ক অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী ও কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুদৌহা বলেন, কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নেতা-কর্মীর দুপুর ২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন মন্ডল বলেন, বাঁশবাড়িয়া এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা দুপুর ২টার দিকে মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। এ সময় উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দুই গ্রুপ পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। দুপুরে মুন স্টার কমিউনিটি সেন্টার থেকে একটি গ্রুপ মিছিল নিয়ে পৌর সদরের দিকে আসলে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
৩০ দিন আগে
ফরিদপুরে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০
ফরিদপুরে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বোয়ালমারীতে দুইপক্ষের মধ্যে হামলা ও দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
একপক্ষের হামলার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে জানিয়েছেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে হামলার পরদিন গতকাল রবিবার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া সেতু এলাকায় বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজারটি বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান (৫ আগস্টের পর) ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের (মানবতাবিরোধী মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাবেক জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চুর ছেলে) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। ওই সময় জিহাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠে। এরপর মান্নান মাতুব্বরসহ তার পক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে গেলে জিহাদপন্থি লোকজন ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার পক্ষের লোকজন এলাকায় ফিরে এলে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গেল শুক্রবার ময়েনদিয়া দাইপাড়া এলাকায় একটি দোকানে হামলার অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জিহাদের কয়েকজন সমর্থক ওই হামলা চালায়। এর পরদিন শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে গেলে জিহাদপন্থি যুবদল নেতা সোলায়মান মাতুব্বরের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় এক ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবসায়ীর কাছে ৪ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। পরে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জড়ো হলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে সোলায়মান আহত হন।
খবর পেয়ে জিহাদ বাজারে গিয়ে সোলায়মানকে উদ্ধার করে একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। জিহাদের অভিযোগ, সেখানে রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনিও গুরুতর আহত হন। এ হামলার জন্য তিনি মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজনকে দায়ী করেন।
জিহাদপন্থি যুবদল নেতা মাহবুব হাসান সজিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মান্নান মাতুব্বর বাজারে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। বাজারকে তার প্রভাবমুক্ত করতে জিহাদকে উপদেষ্টা করা হয়েছিল। গেল শনিবার মান্নান মাতুব্বরের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে জিহাদ ও সোলায়মান আহত হন।
অন্যদিকে, ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মজিবর রহমান মোল্যার অভিযোগ, জিহাদ লোকজন নিয়ে এলাকায় এসে হামলা চালান। সাধারণ দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী মাওলানা মাসুদুর রহমানও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। শনিবারও এক ব্যবসায়ীর কাছে চার হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শনিবারের হামলার জের ধরে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া সেতু এলাকায় দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। একপর্যায়ে সংঘর্ষটি আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সালথার খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে একপক্ষের লোকজনের সঙ্গে বোয়ালমারীর ময়েনদিয়ার আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত পরমেশ্বরদী গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা, হাশেম মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা ও মনসুর মোল্যার ছেলে লোকমান মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন গতকাল রাতে বলেন, সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের পর ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় দুইপক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধতে পারে। ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন আতঙ্কে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জিহাদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর দুইজনকে গতকাল আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিবেশ শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৩১ দিন আগে