সংঘর্ষ
মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে সংঘর্ষে ঝিনাইদহে একজন নিহত
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো ও সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে দেলোয়ার (৪৫) নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের বরইতলা মাঠের মধ্যে একটি শরবত ও চায়ের দোকানের পাশে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানান হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার।
পাখিমারা গ্রামের লাল্টু এবং হরিশপুর গ্রামের শুভর মধ্যে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো ও সাইড দেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি উভয় পক্ষের গ্রামবাসী জানতে পারলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা করে। এতে হরিশপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, শুভ ও আবু তালেব আহত হন। আহতদের কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার দেলোয়ার হোসেন মারা যান।
পুলিশ জানায়, পাখিমারা গ্রামের লাল্টু, মশা ফকির, মাহাবুব ও বাদশার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে হরিশপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় হরিশপুর গ্রামের খয়বর মন্ডলের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের গলায় মারাত্মক আঘাত লেগে ছিদ্র হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শুক্রবার) ভোরে দেলোয়ার মৃত্যুবরণ করেন।
ওসি অসিত কুমার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। এখনও থানায় কোনো মামলা হয়নি। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
১ দিন আগে
শেবাচিম হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু, স্বজন-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের তুলকালাম
নবজাতক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিহতের স্বজনদের তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মৃত শিশুটির এক স্বজনসহ দুইজনকে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা মারধর করে আটকে রাখেন। পরে হাসপাতাল পরিচালক, মেডিকেল কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ক্ষমা চেয়ে- মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পায় আটকে থাকা দুই ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (২০ মে) রাত ১১টার দিকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
ওয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখারের বাসিন্দা উজ্জল দের ৭ দিনের কন্যা সন্তান অসুস্থ হওয়ায় তাকে শেবাচিম হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির মৃত্যুর পরপরই স্বজনরা আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তোলেন, যা নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের বাগবিতণ্ডাও হয়। এর কিছুক্ষণ পরে মেডিকেল কলেজের কিছু শিক্ষার্থী এসে জয়দেব নামে ওই শিশুর এক স্বজনকে মারধর করেন, সেই ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে মামুন নামে আরেক যুবক মারধরের শিকার হন। পরে তাদের হাসপাতালের নিচতলার জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
যদিও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শেবাচিমের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী শান্তা তালুকদার বলেন, মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের সকালে ও বিকেলে ওয়ার্ড থাকে এবং এর ওপর আইটেম থাকে। আইটেম দিয়ে বের হওয়ার সময় মৃত শিশুর বাবা তার স্বজনদের বলেন আমাদের আটকে রাখতে। তার অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার জন্য শিশু সন্তানটি মৃত্যুবরণ করেছে।
তিনি বলেন, মৃতের স্বজনরা আমাদের আটকানোর চেষ্টাকালে মেয়ে শিক্ষার্থীদের অ্যাপ্রোন ও ব্যাগ ধরে টান দেন। সেইসঙ্গে ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্সদেরও হেনস্থা করেন।
অপর শিক্ষার্থী মুনায়াত মুন বলেন, নবজাতক ওয়ার্ডের পাশে আমাদের একটি শ্রেণিকক্ষ আছে, যেখান থেকে বের হওয়ার সময় হট্টগোলের বিষয়টি শুনতে পাচ্ছিলাম। তবে সেখান থেকে যাওয়ার সময় একটা লোক আমাদের কারও হাত, কারও ওড়না, আবার কারও ব্যাগ ধরে টান দেন এবং অশোভন আচরণ শুরু করেন। এরপর আমরা আত্মরক্ষার্থে সেবিকাদের সহায়তায় একটা কক্ষে আশ্রয় নেই। এরপর আমাদের দুই ছেলে ব্যাচমেট এসে তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি তাদের মোবাইল ভাঙচুর করেন। পরে ইউনিফর্ম লুকিয়ে আমরা সেখান থেকে পালিয়ে আসি।
তবে শিশুর বাবা উজ্জল জানান, সন্ধ্যার পরে তার সন্তানের শ্বাসকষ্ট হওয়ায় চিকিৎসকের কাছে যান তারা। ওইসময় রুমে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ছিলেন, তারা এসে শিশুকে মৃত ঘোষণা করলে তার মামা আবেগআপ্লুত হয়ে পড়ে। এ সময় তিনি ইন্টার্ন চিকিৎসকেদর ওয়ার্ড থেকে যেতে নিষেধ করলে তাকে এবং অপর আরেক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়।
মৃত শিশুর মা পূজা রানী দাস বলেন, সন্তানের মৃত্যুর পর তার মামা হয়তো মুখে কিছু বলেছে, কিন্তু কারও গায়ে হাত দেননি। তারপরও তাকে শিক্ষার্থীরা মারতে মারতে নিচে নিয়ে গেছে। যদি আমার ভাই কোনো ভুল করে থাকে, তাহলে আমি হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি, আমাদের মাফ করে দেন। রাত ১ টা পর্যন্ত এখানে মৃত সন্তানকে নিয়ে বসে আছি, আমাদের যেতে দিন।
এদিকে, শিক্ষার্থীরা শিশুটির মামাসহ দুজনকে আটকে রাখার খবরে হাসপাতাল পরিচালক ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা আটক দুজনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। সেইসঙ্গে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, বিষয়টি উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে সমাধান করা হয়েছে। আমরা চাই এখানে যারা পড়ালেখা করছে, তারা যেন স্বাভাবিকভাবে ইউনিফর্ম পরে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারে, সেইসঙ্গে রোগীদেরও যেন ঠিকভাবে চিকিৎসা হয়। সমস্যা আমাদের অনেক রয়েছে, ধীরে ধীরে সমাধান করতে হবে এবং ধৈর্য্য ধরতে হবে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার অলক কান্তি শর্মা জানিয়েছেন, ছাত্র আর রোগীর স্বজনদের মধ্যে কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ যাদের কাছ থেকে পাব, তার সূত্র ধরেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৯ দিন আগে
শেরপুরে জমির বিরোধ নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫
শেরপুরে শ্রীবরদী উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়াকাজীরচর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আশরাফুল ইসলাম (৩৩) ওই গ্রামের মৃত বাঁশীবাদক কালু মিয়ার ছেলে ছিলেন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মাহালম (৪৫), শরিফ (১৮), শামিম (২৮), নজরুল (১৮), আজিরন (৮০), হাজেরা বেগমকে (৫৫) শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মাদারপুর এলাকার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নুরুল আমিনের সঙ্গে একই এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে আশরাফুল ইসলামের দীর্ঘ দিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। গত ১৬ মে শনিবার রাতে নুরুল আমিন মেম্বার তার লোকজন নিয়ে আশরাফুল ইসলামের বাড়িতে হামলা করে তাদের মারপিটের পর ভ্যানগাড়িসহ বসতবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন।
ওই ঘটনার জেরে আজ (সোমবার) সকালে পুনরায় আশরাফুল ও নুরল আমিন মেম্বারদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে আশরাফুল ইসলামসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, আশরাফুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুদ্ধ জনতা নুরুল আমিন মেম্বারের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনান্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মোফাজ্জল হোসেন বিদ্যুৎ বলেন, আজ বেলা ১১টার দিকে মারামারির ঘটনায় বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে আসেন। এর মধ্যে একজনকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই। এছাড়া গুরুতর আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মমেক হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিই। আন্যদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তাদের চিকিৎসা চলছে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঞাঁ বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১১ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় বাস-তেলবাহী ট্যাঙ্কার সংঘর্ষে নিহত অন্তত ১৬
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) দুপুরে দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের নর্থ মুসি রাওয়াস জেলার ট্রান্স-সুমাত্রা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে মুগোনো নামে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, অন্তত ২০ আরোহী নিয়ে চলা আন্তঃনগর বাসটি দক্ষিণ সুমাত্রার লুবুকলিংগাউ শহর থেকে জাম্বি শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সংঘর্ষের আগে বাসটি থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছিল। এতে চালক বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাসটিকে সড়কের ডান পাশে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা ট্যাঙ্কারটির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানোর সময় পাননি তিনি।
মুগোনো বলেন, ‘সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটিতে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা গোটা বাসে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দুটি যানবাহনই আগুনে পুড়ে গেছে। এ সময় অনেক যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন।’
নিহতদের মধ্যে বাসচালক, ১৩ জন যাত্রী এবং ট্যাঙ্কারের চালক ও তার সহকারী রয়েছেন। তারা সবাই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
দুর্ঘটনার পর বাসের চার যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন এবং একজন সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের তালিকা এখনও যাচাই করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠছে। সড়কে বাস ও ট্যাঙ্কারের পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। আর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
উদ্ধারকর্মী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চালান। কয়েকজন যাত্রী যানবাহনের ভেতরে আটকা পড়ে থাকায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
আজ (বৃহস্পতিবার) নর্থ মুসি রাওয়াস ট্রাফিক পুলিশের প্রধান মুহাম্মদ করিম জানান, লুবুকলিংগাউয়ের সিতি আইশাহ হাসপাতালে ১৬টি মরদেহ শনাক্তের জন্য রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ সুমাত্রা পুলিশের ডিজাস্টার ভিকটিম আইডেন্টিফিকেশন (ডিভিআই) দল এখন পর্যন্ত পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে বাসচালক, বাসের দুই কর্মী, ট্যাঙ্কারচালক এবং একজন যাত্রী রয়েছেন। বাকি ১১ জনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
সব মরদেহই মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে, ফলে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য প্রাদেশিক রাজধানী পালেমবাংয়ের ভায়ানগকারা পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পুলিশ আগের প্রাথমিক তথ্য থেকে সরে এসে বলেছে, বাসটি সড়কের একটি গর্ত এড়াতে গিয়ে বিপরীত লেনে চলে গিয়েছিল। এতে সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিম্নমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
গত সপ্তাহেও রাজধানী জাকার্তার বাইরে একটি স্টেশনের কাছে বিকল হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্যাক্সিকে ধাক্কা দেওয়ার পর দূরপাল্লার একটি ট্রেনের সঙ্গে একটি কমিউটার ট্রেনের সংঘর্ষে হয়। ওই ঘটনায় নারী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বগিতে থাকা অন্তত ১৫ নারী যাত্রী নিহত হন।
২৩ দিন আগে
রংপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ভ্যানচালক খুন
রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরিফুল ইসলাম(২৫) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বালুয়াভাটা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত আরিফুল পৌরশহরে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রংপুর আদালতে একটি মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের মমিনুলসহ তার দলের ৫ জন হাজিরা দিতে যায়। একই মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের ফিরোজ শাহ ওরফে মার্ডার ফিরোজ ও তার দলবলও সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময়ে বাগবিতণ্ডা হলে ফিরোজ ও তার দলবল মমিনুল গ্রুপের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় মমিনুলসহ কয়েকজন আহত হয়। তবে সেখানেই বিষয়টির মীমাংসা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ওই ঘটনার জের ধরে গতকাল বিকেলে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। প্রতিশোধ নিতে মমিনুল তার লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজ বাহিনীকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে পাঠানপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আরিফুলকে ছুরি দিয়ে জখম করে ফিরোজ গ্যাং। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিফুলের বাবা রেজাউল ইসলাম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘মোর বাবা পাঠান পাড়ার বলে মারছে ওরা। মোর তিনটে ব্যাটা, একটা ব্যাটাক বাঁচপার পাও নাই। আর দুইটার একটাক মারি ফেলাইলো। বাপের ঘারত ছেলের লাশ, এর চেয়ে দুঃখ পৃথিবীতে আর হয় না। আমার ছেলে কোনো অপরাধ করে নাই। আমি অপরাধকে মানিয়ে নেওয়া লোক নোয়াই। আমি এর কঠোর বিচার চাই, নাহলে আমি আত্মহত্যা কইরব।’
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক যাদোন্দ্রনাথ বলেন, রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই তিনি মারা গেছেন।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ সরকার বলেন, কোর্টে আগের মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে মারামারি হয়েছে। পরে পাঠানপাড়ারা সঙ্গবদ্ধ হয়ে এসে একটা দোকান ভেঙে চলে যাওয়ার পর ফিরোজ গ্রুপ এসে পাঠানপাড়ার বাসিন্দা হওয়ায় একটি নিরীহ ভ্যানচালককে কুপিয়ে জখম করে। ফিরোজের বিরুদ্ধে এর আগেও তিনটি হত্যা মামলাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। নতুন করে এই ঘটনার এজাহার নেওয়া হয়েছে।
২৪ দিন আগে
রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি
রাঙ্গামাটিতে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলটির পদবঞ্চিত ও বর্তমান কমিটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে সোমবার (৪ মে) দুপুর থেকে পদবঞ্চিতরা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন।
অন্যদিকে, পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে নবনির্বাচিত কমিটির অনুসারীরা আনন্দ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে নবনির্বাচিত কমিটির সমর্থকরা পদবঞ্চিত কর্মীদের হটিয়ে বিএনপি কার্যালয় দখলে নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়ন রয়েছে।
রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের পৌরসভা এলাকা থেকে বনরুপা পর্যন্ত ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে বলে জানান তিনি।
২৫ দিন আগে
মাগুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মসজিদের ভেতরে সংঘর্ষ, আহত ৫
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে গয়েশপুর ইউনিয়নের চর-জোকা গ্রামে জোকা মসজিদের ভেতরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমান (দলু) এবং সাচ্চু মিয়ার নেতৃত্বে দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। উভয়েই স্থানীয়ভাবে একই রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ঘটনার শুরুতে সাচ্চুর সমর্থক লাল্টু (৪০) প্রতিপক্ষের মারধরে গুরুতর আহত হন। এর জেরে কিছুক্ষণ পর সাচ্চুর পক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মসজিদের ভেতরে হামলা চালান। এতে দলুর পক্ষের মুক্তার (৪৫), আনোয়ার (৬০), রেজাউল (৪০) ও দুলাল মন্ডল (৫০) গুরুতর আহত হন।
হামলার সময় মসজিদের ভেতরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুসল্লিরা প্রাণভয়ে দ্রুত সরে যান। পরে সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মসজিদের ভেতরে এমন সহিংসতার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া জানান, চর-জোকা পশ্চিম পাড়া বাইতুল মুকাররম জামে মসজিদের ভেতরে দুপুর দেড়টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২৭ দিন আগে
চাদে পানি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৪২
উত্তর-মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের পূর্বাঞ্চলে পানি ব্যবহারের একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সুদান সীমান্তের কাছে ওয়াদি ফিরা প্রদেশের ইগোটে গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী লিমানে মাহামাত। আহতদের প্রাদেশিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মাহামাত বলেন, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ওই দুই পক্ষ এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিল যে তারা বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ‘দ্রুত পদক্ষেপ’ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেছে এবং এখন পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।
গ্রামটিতে একটি প্রচলিত ‘মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া’ শুরু এবং অপরাধমূলক দায় নির্ধারণে বিচারিক কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী।
মধ্য আফ্রিকার এই দেশে সম্পদ নিয়ে আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। গত বছর দক্ষিণ-পশ্চিম চাদে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪২ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার সময় বহু ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
মাহামাত বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা রোধে সরকার ‘সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে।
চাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো কয়েক মাস ধরে সুদানের যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে। এর ফলে তাদের সম্পদ ও নিরাপত্তার ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। সুদানে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে চাদে আশ্রয় নিচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ সুদানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় চাদ। তারা মনে করে, যুদ্ধরত সুদানি পক্ষগুলোর যোদ্ধারা একাধিকবার সীমান্ত অতিক্রম করায় সংঘাত তাদের দেশেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানের যুদ্ধে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, তবে সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
এই সংঘাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে, যেখানে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এটি রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়েছে এবং সুদানের কিছু অংশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
৩২ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিকাশে টাকা লেনদেন নিয়ে সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৩০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিকাশে টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে উপজেলার নতুন হাবলি গ্রামের পশ্চিম পাড়ার সঙ্গে পূর্ব পাড়া ও দক্ষিণ আরিফাইল এলাকাবাসীর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, ২-৩ সপ্তাহ আগে নতুন হাবলি গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকার বোরহান মিয়া পূর্ব পাড়া এলাকার শিহাবের দোকানে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে যান। কিন্তু বিকাশে টাকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় বোরহান মিয়া অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল তাদের মধ্যে।
গতকাল (রবিবার) বিকেলে শিহাব দক্ষিণ আরিফাইল এলাকার রায়হান, ইয়াসিনসহ আরও কিছু বন্ধুদের নিয়ে পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঘুরতে যান। এ সময় স্থানীয় একটি মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে তর্কে জড়ান শিহাব ও বোরহান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বোরহান তার লোকজনদের নিয়ে শিহাব ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা ও মারধর করেন। খবরটি জানাজানি হওয়ার পর সন্ধ্যায় পশ্চিম পাড়া এলাকাবাসীর সঙ্গে পূর্ব পাড়া ও দক্ষিণ আরিফাইল এলাকার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় রাতের আঁধারে টর্চের আলো জ্বালিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে ইট পাটকেল নিক্ষেপ আর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় পুরো এলাকা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে সরাইল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩২ দিন আগে
খুলনায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত
খুলনার তেরখাদায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নুর আলম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের বাড়ির সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।
খুলনার তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, আজ (শনিবার) সকালে আমজাদের বাড়ির সামনে একটি জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শহীদুল ও সাইফুল মোড়লের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সংঘর্ষে ৫ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর দুপুরে আহত নুর আলমের মৃত্যু হয়। বাকিরা খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
৩৪ দিন আগে