সংঘর্ষ
নারায়ণগঞ্জে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে এক শিশুসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার এনায়েতনগরে শাসনগাঁও চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ইমরান (১১), রাকিব (২৩) এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক (৪০)।
চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুট মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের সঙ্গে যুবদলের অভি-মনির গ্রুপের সংঘর্ষে বাঁধে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে ওই পোশাক কারখানায় ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী সালাম। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি ফারুক মন্ডলের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ সেখানে হামলা চালায়। এই গ্রুপটি বেশ কিছুদিন ধরে এখানে চাঁদা দাবি করছিল। এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন ফতুল্লার আরেক ঝুট ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাসেল মাহমুদ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে অভি গ্রুপের সশস্ত্র লোকজন বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় এনায়েতনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব গুলিবিদ্ধ হন। পরে রাসেল মাহমুদের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ এলাকায় প্রবেশ করে গোলাগুলি করে। এতে ১১ বছর বয়সী শিশু ইমরান গুলিবিদ্ধ হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে আহত শিশু ইমরানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চাঁদনী হাউজিং এলাকার বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষের সময় অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলিতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জীবন রক্ষায় সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
এনায়েতনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকা জানান, ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক হাজী মাসুদুর রহমান মাসুদের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া অভি, মনির, সুমন, জসিমসহ ২০-৩০ জন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) হাসিনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুট মালামাল নিয়ে বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের শুরু হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
৯ দিন আগে
সুনামগঞ্জে গ্যারেজে অটোরিকশা রাখা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশ-পথচারীসহ আহত শতাধিক
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় গ্যারেজে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও পথচারীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জের ছাতক রোডে দিঘলী খোজার পাড়ার জাবেদ মিয়ার গ্যারেজে অটোরিকশা রাখতে গেলে তার সঙ্গে চালক ছাদিক মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপর মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যারেজের বাইরে। পরে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে দীঘলী ও তিকপুরের শতাধিক লোকজন জড়ো হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছাতক থানা, জাউয়া তদন্তকেন্দ্র ও জয়কলস হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লেও দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারীসহ শতাধিক লোক আহত হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত কমপক্ষে ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সহিংসতার কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তিনটি সড়কের দুইপাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে থাকে। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং বিদেশগামী যাত্রীদের সে সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবলু দাশের ওয়ার্কশপে রাখা সাতটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করেন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আটকে থাকা সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে এসআইসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ টহল জোরদার রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
৯ দিন আগে
চট্টগ্রামে দুই গ্রুপের গোলাগুলি: শিশুসহ আহত ৪, আটক ৫
চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়ায় সন্ত্রাসীদের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে ফাহিম (১২) নামে এক শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে মহানগরীর বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগর ময়দারমিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সিএমপি বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ময়দার মিল এলাকায় ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ফাহিমসহ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গোলাগুলিতে আহত শিশু ফাহিম ময়দার মিল এলাকার পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা মো. কালামের ছেলে। তার মা জোসনা জানান, সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে সে গুলিবিদ্ধ হয়। বর্তমানে ফাহিম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, ফাহিমের হাঁটুর নিচে গুলির আঘাত রয়েছে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে তার প্রাণের আশঙ্কা নেই।
এ ঘটনায় ফাহিম ছাড়াও মো. হাসান, জসিম ও ইসমাইল মিয়া নামে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরেই ময়দার মিল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সাধারণ মানুষ এ ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তার দাবি, প্রশাসন যেন দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করে।
স্থানীয়রা জানান, গোলাগুলিতে জড়িত দুই গ্রুপই সরকার দলীয় বিএনপি-সমর্থিত সন্ত্রাসী।
পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী মোরশেদ খানের অনুসারীরা প্রতিপক্ষ আব্দুস সোবাহান ও শওকতের অনুসারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান তারা। মোরশেদ খান নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত ৩০০ সন্ত্রাসীর মধ্যে তার নাম রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মোরশেদ খান এলাকায় ফিরে আসেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। এলাকায় ফিরে আসার পর তার প্রতিপক্ষ সোবাহান ও শওকত তাকে মারধর করে এলাকাছাড়া করেন। এই ঘটনার জেরে গতকাল (শনিবার) তার অনুসারীরা প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালান। হামলায় প্রতিপক্ষের কেউ আহত না হলেও সাধারণ মানুষ আহত হন বলে দাবি পুলিশের।
নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানান, অভিযানে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাসা থেকে একটি শটগান ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
হবিগঞ্জে পাওনা টাকা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সুনেশ্বর গ্রামে বাকির টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের জালাল মিয়ার দোকান থেকে রসম আলী বাকিতে মাল ক্রয় করতে যান। এ সময় রসম আলী আগের ১৮৫ টাকা পাওনা চাইলে তাদের মধ্যে তর্ক হয়। এর জের ধরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ৩০ আহত হন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
খবর পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) শহিদুল হক মুন্সী জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
১৯ দিন আগে
গেটের টাকা নিয়ে সংঘর্ষে ভেস্তে গেল বিয়ের আনন্দ, আহত ৪
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বিয়েবাড়িতে গেটের টাকা দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের মল্লিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গেটের টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বরপক্ষের রাসেল মল্লিক (২৫), শফিক হাওলাদার (২৬), শাকিল হোসেন (১৬) এবং কনেপক্ষের জামাল হাওলাদার (৪০) আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাউফলে পাঠানো হয়েছে।
বরপক্ষের দাবি, সংঘর্ষে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক মানুষের জন্য প্রস্তুত খাবার নষ্ট হয়ে যায়, ভাঙচুর করা হয় আসবাবপত্র এবং নগদ অর্থ লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
কনের বাবা সাগর মিয়া বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে বরপক্ষের সদস্যরা দাবি করেন, তারা হামলার শিকার হয়েছেন। তবে উভয় পক্ষই বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
দশমিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমাম মেহেদী বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২২ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ফিলিং স্টেশনে তেলের সিরিয়াল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২
রাজবাড়ীর কালুখালীতে জ্বালানি তেল নেওয়ার সিরিয়াল দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি তেলের পাম্পে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ১১টার দিকে কালুখালী উপজেলার মোহনপুর এলাকার শেখ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়দের করা একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সোমবার দিবাগত রাতে ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এ সময় কয়েকজন সিরিয়াল ভেঙে আগে তেল নেওয়ার চেষ্টা করলে অপেক্ষমাণ অন্যদের সঙ্গে প্রথমে কথা কাটাকাটি, পরে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এতে উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে তেল সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চরম হট্টগোল চলছে। একে অপরকে কিলঘুষি মারছে। একজনকে শার্টের কলার ধরে রাখছে, অপর কয়েকজন কিলঘুষি মারছে। আবার অপর একজনকে হ্যান্ড মাইক নিয়ে হট্টগোল থামানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। আরেকজনকে তেল নিতে আসা হাতে প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে তেলের ড্রামের ওপর বারবার আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তেল নিতে আসা অন্যান্য মোটরসাইকেল আরোহীদের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ।
ঈদের পর গত দুই দিন জেলার বিভিন্ন তেল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ বন্ধ থাকায় নানা স্থানে উত্তেজনা দেখা যায়।
এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত শাখা) মো. হাফিজুর রহমান জানান, আজকে (সোমবার) থেকে সবগুলা পাম্প তেল পাবে। গত ২দিন ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না করায় অধিকাংশ পাম্পেই তেল শেষ। সপ্তবর্ণা ও করিম ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিসরে তেল দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার রাতের মারামারি প্রসঙ্গে কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, তেলের লাইনে দাঁড়ানো এবং আগে তেল নেয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী আফরা এলাকা থেকে আসা এক যুবক তার হাতে থাকা চাবির রিং দিয়ে স্থানীয় মোহনপুর এলাকার এক যুবকের শরীরে আঘাত করলে তার মাথায় সামান্য রক্তপাত হয়। পরে আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে স্থানীয় পর্যায়ে মীমাংসা হওয়ায় কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি।
২৫ দিন আগে
নাটোরে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৮, বাড়িঘর-গাড়ি ভাঙচুর
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকারসহ বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মাধা বাঁশবাড়িয়া গ্রামে সুজাউদ্দোলা সূর্য ও সোলায়মান হোসেন লাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে রবিবার (২২ মার্চ) সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে একটি প্রাইভেটকার ও কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এতে অন্তত আটজন আহত হন। গুরুতর আহতদের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাদের উপস্থিতিতেই সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুন নূর জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
২৭ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত, খবরে ‘স্ট্রোকে’ দাদার মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে শিমুল হোসেন কাজি (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে শিমুলের দাদা নাজিম উদ্দিন কাজি (৭০) স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। সংঘর্ষের ঘটনায় নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষ ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত শিমুল হোসেন কাজি ওই গ্রামের লাবু হোসেনের ছেলে। নাজিম উদ্দিন কাজি তার দাদা এবং মৃত ইংরেজ আলী কাজির ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ওই গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন ঢাকায় অবস্থানকালে কয়েক দিন আগে ফেসবুকে একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ঈদের দুই দিন আগে তিনি বাড়িতে ফিরলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ঈদের দিন (শনিবার) দুপুরে হৃদয় হোসেনের সঙ্গে সাহাবুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে হৃদয় ও তার চাচা বজলু আহত হন। পরে পাল্টা হামলায় আব্দুল্লাহর মা আলিয়া বেগম, তরিকুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আহত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে পূর্বশত্রুতার জেরে হান্নান-কুবির গ্রুপ ও লাল খাঁ-জাহাঙ্গীর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে কুবির কাজি ও শিমুল কাজি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় শিমুলের মৃত্যু হয়।
এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে নাজিম উদ্দিন কাজি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করেন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
২৮ দিন আগে
ঈদের নামাজের স্থান নিয়ে কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষ, আহত ১৩
ঈদের নামাজ মসজিদে হবে নাকি ঈদগাহ মাঠে—এ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষের কারণে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—রুবেল হোসেন (৩০), গফুর (৪০), আলম (৪৫), শাকিল (২৫), রিপন (২৬), সরোয়ার (৪৫), আশরাফুল (৩৫), শাহিন (৩৫), জিয়া (৩৭), মুসা (৪৫), মন্টু (৫৫), জুয়েল (২৭) ও ফিরোজা খাতুন (৩৩)। তারা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গড়াই নদীর চরে অবস্থিত এই গ্রামে প্রায় ১২০টি পরিবারে পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস। তাদের জন্য একটি জামে মসজিদ ও একটি ঈদগাহ মাঠ রয়েছে। ঈদের দিন সকাল থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টির কারণে ঈদগাহ কমিটি সকাল সাড়ে ৮টার পরিবর্তে সাড়ে ৯টায় জামাত নির্ধারণ করে।
এ নিয়ে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একপক্ষ মসজিদে নামাজ শুরু করলে অপরপক্ষ তাদের ঈদগাহে যাওয়ার আহ্বান জানায়। এ সময় বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ।
সংঘর্ষে আহত রুবেল হোসেন অভিযোগ করেন, তর্কাতর্কির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তার মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে জুয়েল বলেন, মসজিদে নামাজ শেষে খুতবা চলাকালে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি, তার বাবা ও স্বজনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের বাড়িতেও ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহত কয়েকজনকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা গেছে, যাদের হাত, মুখ ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এরপর বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা রোকেয়া খাতুন অভিযোগ করেন, ‘নামাজ নিয়ে রাস্তায় মারামারির পর আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।’ অন্যদিকে ছারা খাতুন দাবি করেন, তার ছেলের অটোরিকশা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের কারণে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি স্থানীয় স্কুলশিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নামাজের স্থান নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নামাজ আর অনুষ্ঠিত হয়নি।’
ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময় পরিবর্তন করা হলেও একপক্ষ মসজিদে নামাজ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে প্রায় ৪৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেননি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, নামাজের স্থান নিয়ে বিরোধে দুপক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
২৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা নিহত, মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ নিয়ে ঝিনাইদহ শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দলের হাজারো নেতা-কর্মী।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ও নিহতের ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সীসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ তার বক্তব্যে বলেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহন হন। আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। বিএনপি এই ন্যক্কারজনক হত্যার বিচার চায়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাবে।
জামায়াত ও শিবিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক সঙ্গে আমরা হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হটিয়েছি। এখন দেশ গড়ার সময়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আপনারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না।
পুলিশ জানায়, মরদেহ নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ শেষে সেটি তার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে পৌছায়। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে মাধবপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
জানাজায় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের স্থানীয় শত শত নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অপরদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তরু মুন্সীর স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। আজ (শনিবার) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আমির ড. মো. হাবিবুর রহমান এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে বিএনপির লোকজন গিয়ে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। এ কারণে স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তরু মুন্সী শারিরীকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক করেন। এ মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার ইফতার ও তালিম নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তরু মুন্সীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। নিহত তরু ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
৩৫ দিন আগে