সংঘর্ষ
পটুয়াখালীতে বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২০
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে এ সংঘর্ষ হয়।
দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে পৌর মঞ্চ চত্বর থেকে উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির (আহ্বায়ক পক্ষ) উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা ও র্যালি শুরু হয়। অন্যদিকে সিনেমা হল রোডে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিলেন দলটির সাবেক কমিটির (হাসান মামুনপন্থী) নেতা-কর্মীরা।
পুলিশ সাবেক কমিটির নেতা-কর্মীদের উপজেলা পরিষদের ফটকের ভেতরে আটকে রাখলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বর্তমান কমিটির মিছিলটি সিনেমা হল রোড এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। কথা-কাটাকাটির মধ্যেই উভয় পক্ষ হাতাহাতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে।
এরপর শহরের কালীবাড়ি ও বটতলা এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কালীবাড়ি রোডের ‘হাবিব রেস্টুরেন্টে’ ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রেস্তোরাঁটির মালিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির সমর্থনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির পুরোনো কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপিতে ‘নুরপন্থী’ ও ‘মামুনপন্থী’ হিসেবে পরিচিত দুটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতির কারণে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। বর্তমানে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
৯ দিন আগে
সীতাকুণ্ডে বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষ, মহাসড়ক অবরোধ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেলও বিস্ফোরিত হয়। এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক পক্ষ অবরোধ সৃষ্টি করলে মহাসড়কের উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং নপ্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর গাড়িও আটকা পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লায়ন আসলাম চৌধুরী ও কাজী সালাউদ্দিন গ্রুপ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে পড়ে ওষুধ কোম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধিও মারধরের শিকার হন।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে উপজেলার মুন স্টার কমিউনিটি সেন্টারে দুই গ্রুপ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। সকাল থেকে লায়ন আসলাম চৌধুরী গ্রুপের অনুসারীরা মুন স্টার কমিউনিটি সেন্টার মাঠে অবস্থান নেন। অন্যদিকে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা অবস্থান নেন পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায়।
আসলাম চৌধুরী অনুসারীরা দুপুর ১টার দিকে মিছিল নিয়ে পৌর সদরের দিকে যাওয়ার সময় হাসান গোমস্তা মসজিদের সামনে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও বেশ কয়েকটি কটকেল বিস্ফোরণ হয়।
অন্যদিকে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। এ সময় মহাসড়কের উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
সড়ক অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী ও কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামসুদৌহা বলেন, কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নেতা-কর্মীর দুপুর ২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন মন্ডল বলেন, বাঁশবাড়িয়া এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা দুপুর ২টার দিকে মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। এ সময় উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দুই গ্রুপ পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। দুপুরে মুন স্টার কমিউনিটি সেন্টার থেকে একটি গ্রুপ মিছিল নিয়ে পৌর সদরের দিকে আসলে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
১০ দিন আগে
ফরিদপুরে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০
ফরিদপুরে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বোয়ালমারীতে দুইপক্ষের মধ্যে হামলা ও দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
একপক্ষের হামলার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে জানিয়েছেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে হামলার পরদিন গতকাল রবিবার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া সেতু এলাকায় বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজারটি বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান (৫ আগস্টের পর) ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের (মানবতাবিরোধী মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাবেক জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চুর ছেলে) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। ওই সময় জিহাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠে। এরপর মান্নান মাতুব্বরসহ তার পক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে গেলে জিহাদপন্থি লোকজন ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার পক্ষের লোকজন এলাকায় ফিরে এলে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গেল শুক্রবার ময়েনদিয়া দাইপাড়া এলাকায় একটি দোকানে হামলার অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জিহাদের কয়েকজন সমর্থক ওই হামলা চালায়। এর পরদিন শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে গেলে জিহাদপন্থি যুবদল নেতা সোলায়মান মাতুব্বরের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় এক ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবসায়ীর কাছে ৪ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। পরে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জড়ো হলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে সোলায়মান আহত হন।
খবর পেয়ে জিহাদ বাজারে গিয়ে সোলায়মানকে উদ্ধার করে একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। জিহাদের অভিযোগ, সেখানে রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনিও গুরুতর আহত হন। এ হামলার জন্য তিনি মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজনকে দায়ী করেন।
জিহাদপন্থি যুবদল নেতা মাহবুব হাসান সজিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মান্নান মাতুব্বর বাজারে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। বাজারকে তার প্রভাবমুক্ত করতে জিহাদকে উপদেষ্টা করা হয়েছিল। গেল শনিবার মান্নান মাতুব্বরের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে জিহাদ ও সোলায়মান আহত হন।
অন্যদিকে, ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মজিবর রহমান মোল্যার অভিযোগ, জিহাদ লোকজন নিয়ে এলাকায় এসে হামলা চালান। সাধারণ দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী মাওলানা মাসুদুর রহমানও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। শনিবারও এক ব্যবসায়ীর কাছে চার হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শনিবারের হামলার জের ধরে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া সেতু এলাকায় দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। একপর্যায়ে সংঘর্ষটি আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সালথার খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে একপক্ষের লোকজনের সঙ্গে বোয়ালমারীর ময়েনদিয়ার আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত পরমেশ্বরদী গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা, হাশেম মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা ও মনসুর মোল্যার ছেলে লোকমান মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন গতকাল রাতে বলেন, সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের পর ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় দুইপক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধতে পারে। ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন আতঙ্কে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জিহাদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর দুইজনকে গতকাল আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিবেশ শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১১ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে পুলিশ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গানবাজনাকে কেন্দ্র করে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডার পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দিবাগত রাত ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত জেলার বড় মাদরাসা হিসেবে পরিচিত জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় দুপক্ষের মধ্যে আলোচনার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পুলিশ, মাদরাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী ও তার স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) উপদেষ্টা সিদারাতুল মুনতাহার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি হচ্ছিল। অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গানবাজনা হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সেখানে এসে আওয়াজ কমাতে বলেন।
পরে শতাধিক মাদরাসা শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা করে। সে সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে। মাদরাসার ছাত্ররাও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাল্টা ঢিল ছুড়তে শুরু করে। এতে মাদরাসা শিক্ষার্থী ও পুলিশসহ ৩০ জন আহত হন।
আহতরা হলেন: শেখ সানি (১১), সাখাওয়াত (২০), বিন ইয়ামিন (২০), আব্বাস (১৭), জাকারিয়া (২১), মেরাজ (১৮), আশরাফ (১৮), হাবিবুল্লাহ (১৮), সিয়াম (১৭), ফাইজুর রহমান (২১), আরাফাত (১৮), বাশার (১৯), মাহাদী (২০), তাওহীদ (১৮), হাবিবুল্লাহ (১৮), বাইজিদ (১৭), শেখ সাদী (১৬), ফাহিম (২০), আব্দুর রহিম (২০), মিরাজ (২৭), আশরাফ (১৭), সাদেক (১৯), মনি (২৭), রাফি (১৮), শামিম (১৭), তালহা (১৮), আতাউল্লাহ (১৯), নিয়ামত উল্লাহ (২২), ইমতিয়াজ (১৭), আশরাফ (১৭) ও তানভির (১৭)।
আহতদের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দাবি, বুধবার তাদের মাদরাসায় পরীক্ষা ছিল। গানবাজনার উচ্চশব্দে তাদের সমস্যা হচ্ছিল। তাই প্রথমে তারা কয়েকজন পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গিয়ে শব্দ কমানোর জন্য বলেন। প্রথমে শব্দ কমালেও পরে তারা আবারও তা বাড়িয়ে দেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদরাসার ছাত্রদের তর্কাতর্কি হয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে মাদরাসা ছাত্রদের আহত করে।
এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন তারা। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে, ওই ঘটনার পর রাতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী বড় মাদরাসা জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ায় গভীর রাতে দুপক্ষের বৈঠক হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম জানান, বৈঠকে জেলার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ সময় হেফাজত ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুরসহ জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজুল ইসলাম পুলিশের বরাত দিয়ে বলেন, পুলিশ লাইন্সের প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালনকারী তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে।
২৩ দিন আগে
প্রেমের প্রস্তাব ঘিরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতভর সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অর্থনীতি বিভাগের এক ছাত্রীকে ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্র র্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর ও প্রধান ফটক-সংলগ্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এতে দুই বিভাগের অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা হোসাইন নবীন বরণ অনুষ্ঠানের দিন অর্থনীতি বিভাগের পঞ্চদশ ব্যাচের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। সে সময় ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোন নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান মুসা। পরে ওই ছাত্রী প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে র্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে মুসার বিরুদ্ধে।
বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের পঞ্চদশ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের সিনিয়রদের জানালে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের মুসা নামের ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। এতে তার মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
পরে রাতভর ক্যাম্পাসের ভেতর ও বাইরে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ববির অ্যাম্বুলেন্সে করে অর্থনীতি বিভাগের ৫-৭ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর ফটক এলাকায় তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অর্থনীতি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের বিভাগের জুনিয়র এক মেয়েকে র্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্রস্তাব দেন ইংরেজি বিভাগের মুসা। মেয়ে রাজি না হওয়ায় তাকে আটকে রাখেন মুসা। বিষয়টি জানতে পেরে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীরা ভিসি গেটের বিপরীতে জড়ো হন। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের ত্রয়োদশ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী আকস্মিকভাবে মারধরের জন্য এগিয়ে এলে হাতাহাতির সূত্রপাত হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’
অভিযুক্ত মুসা আহত হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইংরেজি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, মুসা কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া যেত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘দুই পক্ষকে নিবৃত করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৬ দিন আগে
হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালকসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কারখানা গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে মশহুদ আহাম্মদ (৪০), ইনাতগঞ্জ দক্ষিণ গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম (৫০) এবং ইনাতগঞ্জ বাজারের ফাহিম মিয়া (৩০)। তারা সকলেই সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে ইনাতগঞ্জ বাজারের কয়েকজন সবজি ব্যবসায়ী ও কর্মচারী পিকআপ ভ্যানযোগে বাহুবল উপজেলার দিগাম্বর বাজারে কাঁচামাল আনতে যাচ্ছিলেন। পথে রোকনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লাকি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মশহুদ আহাম্মদ নিহত হন। গুরুতর আহত পিকআপ ভ্যানের চালকসহ চারজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আবুল কাশেম ও ময়না মিয়ার মৃত্যু হয়। বর্তমানে পিকআপ ভ্যানের চালকসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আউশকান্দি এলাকায় আটক করা হয়। বাস ও পিকআপ ভ্যানটি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম উদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। পরে সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
৩২ দিন আগে
সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের সঙ্গে আ.লীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০
সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ হামলায় উভয় পক্ষের ১০-১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাত্রদল গ্রুপের আহত ৮ জনকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে সদর হাসপাতাল ও আরেকজনকে অপর এক মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মঞ্জুরুল আলম বাপ্পী জানান, বিএনপি ও ছাত্রদল নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার বিষয়টি জানতে চাইলে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেনকে নাজমুল আটকে রাখেন। খবর পেয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে তিনি সেখানে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় দুপক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অর্ঘ্য জানান, ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল, যুবলীগ নেতা খালিদ ও আওয়ামী লীগ নেতা লাল্টুর নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি দাবি করেন।
তবে এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৩৩ দিন আগে
হবিগঞ্জে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২
হবিগঞ্জের মাধবপুরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সিএনজি অটোরিকশাচালক আবুল খায়ের (৪৫) ও ট্রাকচালকের সহযোগী রিপন মিয়া (২৭)। আবুল খায়ের পশ্চিম মাধবপুরের বাসিন্দা ও রিপন মিয়া উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেজুড়া এলাকায় ঢাকাগামী একটি বালুবাহী ট্রাক ও সিলেটগামী একটি তেলবাহী বাউজারের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি সিএনজি অটোরিকশার ওপর বালুবাহী ট্রাকটি উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে সিএনজি অটোরিকশাচালক আবুল খায়ের নিহত হন। সে সময় ট্রাক থেকে ছিটকে পড়ে চালকের সহযোগী রিপন মিয়া নিহত হন।
খবর পেয়ে মাধবপুর ফায়ার ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মন্তোষ মল্লিকের নেতৃত্বে একদল কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাকবলিত ৩টি গাড়ি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, মরদেহ দুটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি গাড়ি পুলিশ হেফাজতে নিয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
৩৩ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৫
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ইসলামী ছাত্র শিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—ছাত্রদলকর্মী তুহিন, জাকারিয়া, অলক, তোফায়েল, আলামিন, তানজিম, রাসেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি অমিত হাসান, অফিস সম্পাদক রায়হান, তোলারাম কলেজ শাখা সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল, অর্থ সম্পাদক জুহাজ, বন্দর থানার সভাপতি আসাদুল ইসলাম।
হামলার ঘটনায় কলেজ রোড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান ব্যবসায়ীরা। এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। এ সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরের উদ্দেশে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। পরে পাল্টাপাল্টি এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তারা কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ান। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব জানান, পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবির এ হামলা করেছে। তাদের ৩০ জনের মতো নেতাকর্মী কলেজের ভেতর ছিলেন। আর ডাকবাংলোর মোড়ে ছিলেন ২০০ জনের মতো কর্মী। তারা আগে থেকেই লাঠি নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন। কলেজের ভেতরে তর্কাতর্কি হওয়ার সময় ছাত্রশিবিরের কর্মীরা অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি দাবি করেন, হামলায় ছাত্রশিবির দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে। ছাত্র শিবিরের কলেজ শাখা সভাপতি এমদাদুল হক শুভ নিজে অস্ত্র হাতে হামলা করেছেন।
এদিকে, ছাত্রশিবির মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান এ ঘটনায় ছাত্রদলকে দোষারোপ করে বলেন, কলেজে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কলেজ গেটের বাইরে আমাদের কলেজ শাখা সভাপতি শুভ ও সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবালকে বেধড়ক পেটানো হয়। এ খবর পেয়ে আমি ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে যাই। কারণ তাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। কিন্তু যাওয়ার সময় ডাকবাংলোর মোড়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ বা মামলা করেনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) হাসিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের কারও মারাত্মক জখম হয়নি।
তিনি বলেন, তদন্ত করে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৭ দিন আগে
বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে, জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন-আল রশিদ।
অফিস আদেশে সদয় অবগতকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট সময় বেধে না দেওয়া হলেও খুব শিগগিরই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতিতে সকাল থেকেই ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক এলইডি স্ক্রিনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীসহ জুলাই ও বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যানার ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির।
তবে, একটি ফেস্টুনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলীসহ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি ছিল।
ছাত্রদল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই ফেস্টুন সরানোর দাবিতে প্রোগ্রামস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল ছোঁড়া হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। দফায় দফায় চলে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ।
এ সময় আহত হন বেরোবি শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির সমর্থিত প্যানেলের ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এছাড়াও ছাত্রদল নেতা আশিকসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন।
৩৭ দিন আগে