হাসপাতাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড থেকে এক নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
চুরি হওয়া নবজাতকটি জেলার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের শামীম মিয়া ও মরিয়ম বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান।
শিশুটির পরিবার জানায়, গত সোমবার প্রসবব্যথা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন মরিয়ম বেগম। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী বোরকা পরিহিত এক নারী অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয়ে মরিয়ম ও তার মায়ের সঙ্গে পরিচিত হন। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন ওই নারী।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, মরিয়মের পেটে ব্যথা অনুভূত হলে সহযোগিতার কথা বলে নবজাতককে কোলে নেন ওই নারী। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে নিয়ে কক্ষের দরজার কাছে যান তিনি। এ সময় মরিয়ম তাকে কক্ষের ভেতরে আসতে বলেন। কিন্তু তার কথা উপেক্ষা করে মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান ওই নারী।
এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পাননি। খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ওই নারীকে শিশুটি নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।
নবজাতকের নানি মমতাজ বেগম বলেন, দুপুরে ওই নারী এসে অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি আমাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে মরিয়মের পেটে ব্যথা শুরু হলে তিনি শিশুটিকে কোলে নেন। এরপর তিনি মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে চলে যান।
শিশুটির মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘বিয়ের তিন বছর পর আমার প্রথম পুত্রসন্তান হয়েছে। ওই নারী প্রতারণা করে আমার শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি আমার বুকের ধনকে ফেরত চাই। সরকার ও পুলিশ যেন দ্রুত উদ্ধার করে আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেয়। ওই নারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’
শিশুটির বাবা শামীম মিয়া বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই। সন্তানকে না নিয়ে হাসপাতাল থেকে যাব না। সরকারি হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি হয়ে যাবে, এটা কী করে হয়? এখানে নিরাপত্তা কোথায়?’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, ‘হাসপাতালে সবসময় রোগীদের স্বজনদের অতিরিক্ত ভিড় ও চাপ থাকে। শিশু চুরির খবর আমরা পেয়েছি। পরিবারের লোকজনের অসচেতনতার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক আনসার নিয়োজিত থাকলে সুবিধা হয়। সিসিটিভিগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন সিসিটিভি স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে আবেদন করা হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে শিশুটির পরিবার ও আশপাশের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ওই নারীকে শনাক্ত ও শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
৯ দিন আগে
শরীয়তপুরে নার্সকে মারধরের অভিযোগে রোগীর স্বামী আটক
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ইনজেকশন সংগ্রহকে কেন্দ্র করে এক স্টাফ নার্সকে মারধর ও নার্সদের কক্ষের আসবাব ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক রোগীর স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মুয়াজ নামের ওই ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নার্সদের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। আটক মুয়াজ শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তার জানান, অসুস্থ স্ত্রীকে সন্ধ্যায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন মুয়াজ। চিকিৎসক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ইনজেকশন সংগ্রহের জন্য বলেন। এ সময় হাসপাতালে মজুত না থাকায় ইনজেকশনটি বাইরে থেকে সংগ্রহের জন্য টোকেন দেওয়া হয়।
কিন্তু মুয়াজ ফার্মেসি থেকে ইনজেকশনের পরিবর্তে ট্যাবলেট নিয়ে আসেন। এ নিয়ে কর্তব্যরত নার্সের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নার্সকে মারধর করেন এবং নার্সদের কক্ষে থাকা চেয়ার ভাঙচুর করেন।
আরও জানা যায়, ঘটনার সময় কর্তব্যরত স্টাফ নার্স জান্নাতী রহমানের সঙ্গে মুয়াজের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে মুয়াজকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, সদর হাসপাতালে ঘটনার পর মুয়াজকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
১৪ দিন আগে
ফরিদপুরে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তামান্না আক্তার মৌ (২৩) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালে রেখে তার স্বামী পালিয়ে গেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার চন্ডিদাসদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তামান্না ওই এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার রামেশ্বর এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে তামান্নার ঘরের দরজা বন্ধ দেখেন তার স্বামী। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তামান্নাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা গ্রীন প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে তামান্নার মরদেহ উদ্ধার করে। দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়।
তামান্নার মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে তার স্বামী শাখাওয়াত নির্যাতনের পর হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’
ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
২৭ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাঙচুর, দুই চিকিৎসক আহত
কুষ্টিয়ার মিরপুরে পানিতে ডুবে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন। এতে হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবায় সাময়িক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম রাফি (৩)। সে ওই গ্রামের সাব্বির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ (শুক্রবার) সকালে বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় রাফি। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত মিরপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে তাদের অবহেলায় রকির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে অসদাচরণ করেন। পরে ১১ নম্বর মেডিকেল অফিসারের কক্ষসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালানো হয়।
এ ঘটনায় ডা. আব্দুস সামাদ ও ডা. জান্নাতুল রিয়া নামে দুই চিকিৎসক আহত হয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে মিরপুর থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতের পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলার কারণে রকির মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা অস্বীকার করেছেন তারা।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল রিয়া বলেন, স্বজনদের প্রিয়জন হারানোর বেদনা আমরা সহানুভূতির সঙ্গে দেখি। তবে হাসপাতালে জরুরি সেবাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে, ভাঙচুরের পর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী।
মিরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) আব্দুল আজিজ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তসহ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
৩০ দিন আগে
চিকিৎসক-জনবল সংকটে ভুগছে নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বন্ধ অপারেশন থিয়েটার
৫০ শয্যার হাসপাতাল, রয়েছে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বিভিন্ন সরঞ্জাম। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতিতে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া রোগীরা।
প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, এমন রোগীদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে শরীয়তপুর জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। এতে রোগী ও স্বজনদের বাড়তি সময়, অর্থ ও দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জে অবস্থিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবলের সংকটে অনেক রোগীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়েই অন্যত্র যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিশেষ করে জরুরি ও জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্ট জনবল থাকলে অনেক রোগীর চিকিৎসা নড়িয়াতেই সম্ভব হতো। কিন্তু জনবল না থাকায় সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রেও রোগীদের নির্ভর করতে হচ্ছে দূরের হাসপাতালের ওপর।
হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটারের অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের অভাবে সেটি নিয়মিত চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ছোটবড় বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া রোগীদেরও অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এ পরিস্থিতি বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
স্থানীয়দের মতে, নড়িয়ার মতো একটি বড় উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত পূরণ করা জরুরি। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য সহায়ক কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটার পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে স্থানীয় পর্যায়েই অনেক রোগীর চিকিৎসা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জেলা সদর ও রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপও কমবে।
এলাকাবাসী দ্রুত জনবল সংকট নিরসন করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়ে অপারেশন থিয়েটারসহ হাসপাতালের সব সেবা কার্যকরভাবে চালু করবে।
নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মো. দিদার হোসেন বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতির কারণে অপারেশন থিয়েটার চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। জনবল সংকট কাটলে হাসপাতালের সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
৩৬ দিন আগে
হাসপাতালে বাইরে পরীক্ষা করানোর অভিযোগ, সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের হাসপাতালের বাইরে পাঠানোর অভিযোগে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সব ধরনের পরীক্ষা হাসপাতালে করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ডেঙ্গু ওয়ার্ডও পরিদর্শন করেন।
এ সময় রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালের বাইরে পাঠানোর অভিযোগ পান তিনি। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
সাখাওয়াত বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও রোগীরা যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সম্প্রতি হাসপাতালের সেবার মান ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেবাপ্রত্যাশীদের ক্ষোভের বিষয়টি নজরে আসার পর পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ আকস্মিক পরিদর্শনে যান।
৩৭ দিন আগে
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা ৩০,৩১১, প্রয়োজন ৮৮,৯০৯: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চিকিৎসক ও জনসংখ্যার ন্যূনতম অনুপাত পূরণ করতে দেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হলেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে মাত্র ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সংসদে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিহার (মাদারীপুর-২) লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বেলা ৩টার দিকে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন সংসদে জানান, সরকারের অর্থায়নে ২০২৬ সালে পরিচালিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসকের ন্যূনতম মান পূরণ করতে চলতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের অনুমোদিত মোট পদ রয়েছে ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ফলে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে কতজন চিকিৎসক প্রয়োজন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্যকর্মী-সংক্রান্ত মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়।
তবে দেশে চিকিৎসকের মোট সংখ্যা ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণ ও চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদগুলো ধীরে ধীরে পূরণ করতে সরবার চলমান নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে।
৪১ দিন আগে
জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি
অসুস্থ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালে গিয়ে তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাষ্ট্রপতি হাসপাতালে যান এবং জ্বালানিমন্ত্রীর শয্যার পাশে কিছু সময় অবস্থান করেন।
তিনি বলেন, এ সময় তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানেন। তার ছেলে আবেদ হাসান মাহমুদের সাথেও কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি।
ওই সময়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক কর্ণেল এ কে এম ফয়জুল হক, রাষ্ট্রপতির সহকারি একান্ত সচিব মো. ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার ছেলে আবেদ হাসান মাহমুদ জানান, গত কয়েকদিন ধরে তার বাবা তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে জ্বালানিমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।
৪৬ দিন আগে
আবহাওয়া পরিবর্তন ও লোডশেডিংয়ে ঝিনাইদহের জনস্বাস্থ্যে প্রভাব, হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু
গরমের পাশাপাশি হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে ঝিনাইদহে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত হয়ে জেলা শহরের দুইটি হাসপাতালে ২০০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে।
এদিকে, মাত্র ৪৬টি বেডের বিপরীতে একই সঙ্গে ১৯৭ শিশু চিকিৎসাধীন থাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে চরম হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং যা অসুস্থ শিশুদের দুর্ভোগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা মাত্র ৪৬টি, কিন্তু সেখানে ১৯৭টি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৮০ জন, ডায়রিয়া ও ভাইরাসজনিত কারণে ৯৭ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে আরও ২০ জন শিশু।
অন্যদিকে, শহরের ২৫ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সেখানে হাম ও নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে আরও ২১ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। সদর হাসপাতালে বেড না পেয়ে মেঝে, বারান্দা ও প্যাসেজে শয্যা পেতে শিশুদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
রাহেলা বেগম নামে এক শিশু রোগীর স্বজন জানান, তীব্র গরমের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার খেলায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ফ্যান বন্ধ থাকায় শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুরা ছটফট করছে। এনসিইউ ও সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে ছোট ছোট শিশুদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে গরম থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন মায়েরা।
৫৬ দিন আগে
বাগেরহাটে হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, চালক দগ্ধ
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল চত্বরে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক দগ্ধ হয়েছেন। এ সময় আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ছড়িয়ে পড়ায় হুড়োহুড়িতে রোগীসহ ৮ জন আহত হয়েছেন। আগুনে অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। একই সঙ্গে পাশে থাকা ৯টি মোটরসাইকেলও সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের প্রধান ফটকের কাছে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন।
অগ্নিদগ্ধ অ্যাম্বুলেন্সচালক ফরিদ হোসেনকে (৬৮) প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আগুনের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাছান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার, সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুবুল আলম এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমদ্দার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে থাকা ফিটনেসবিহীন অ্যাম্বুলেন্স বাগেরহাট জেলা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী নেওয়ার জন্য হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ফটকে আসে। তবে রোগী ওঠানোর আগেই সেটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বেড়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে বের হতে থাকেন। আগুনে অ্যাম্বুলেন্সচালক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
৬৮ দিন আগে