প্রভোস্ট
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: হল প্রভোস্টকে অব্যাহতি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিটসহ বিভিন্ন অভিযোগে আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে শহিদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম।
উপাচার্য বলেন, ‘সাংবাদিকদের সেন্টিমেন্টের প্রতি আমরা সম্মান জানিয়ে জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছি। বাদ-বাকি বিষয়গুলো তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
এ সময় আন্দোলনরত সাংবাদিকরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তারা ছয়টি দাবি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে হল প্রভোস্টকে অব্যাহতির দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে। বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন তিন দিন সময় চেয়েছে।
তারা আরও বলেন, ‘আমরা চাই, এই তিন দিনের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলেও তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনরত সাংবাদিকরা। পরবর্তীতে হামলার গুরুত্বপূর্ণ ওই ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগও ওঠে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার সময় ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে হল প্রভোস্টের উপস্থিতি থাকলেও তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেননি। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রভোস্টকে অব্যাহতির দাবি জানান তারা।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হল প্রভোস্ট। তার দাবি, হলের সংস্কারকাজ চলায় সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং সেখানে কোনো ফুটেজ সংরক্ষিত ছিল না।
এর আগে গত রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলের সামনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা দেশীয় অস্ত্রের ছবি তুলতে থাকেন। ছবি ও সংবাদ সংগ্রহের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
১৩ দিন আগে
প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে ইবি ছাত্রী হলে বিক্ষোভ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। হলের এক ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে প্রভোস্টকে একাধিকবার ফোন দিলেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা এ বিক্ষোভ শুরু করেন বলে জানা গেছে।
রবিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে ওই হল গেটের সমানে অবস্থান কর্মসূচির শুরু করে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এসময় হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. নিলুফা আক্তার বানুর পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, রবিবার সন্ধ্যায় ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রাজিয়া সুলতানা নামের এক ছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তার সহপাঠীরা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. নিলুফা আক্তার বানু কাছে ফোন দিলেও তেমন কোন ব্যবস্থা নেননি। অ্যাম্বুলেন্স আসতে অনেক দেরি করায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রভোস্টকে ফোন দেন। এতে বিরক্তি হয়ে প্রভোস্ট বলেন, বারবার ফোন দেয়ার কি আছে?
পরে ছাত্রীরা হাউস টিউটর শিমুল রায়কে ফোন করার পর তিনি অ্যাম্বুলেন্স পাঠান। অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি এবং প্রভোস্টের অসহযোগীতার অভিযোগ তুলে ওই হলের প্রায় শতাধিক ছাত্রী বিক্ষোভ শুরু করেন।
পড়ুন: শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে: দীপু মনি
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি তাদের এসে সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে প্রভোস্টের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তারা।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূইয়া ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে পরিবেশে শান্ত করেন।
এ বিষয়ে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, হল প্রভোস্ট ঠিক মতো হলে আসেন না। কোনো সুবিধা-অসুবিধায় তাকে সময় মতো পাওয়া যায় না। এছাড়া হলে আরও নানান সমস্যা রয়েছে। এজন্যই আমরা তার পদত্যাগ চাইছি।
হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. নিলুফা আক্তার বানু বলেন, ‘ছাত্রী অসুস্থ হওয়ার বিষয়ে এক ছাত্রী আমাকে ফোন দিলে আমি হলের দায়িত্বরত হাউজ টিউটরকে ফোন দিতে বলি। এরপর আরেক ছাত্রী আমাকে এ ব্যাপারে ফোন দিলে আমি বলেছি, একই ইস্যুতে তোমরা কতবার ফোন দিবা?
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূইয়া বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা সেখানে যাই এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করি।
পড়ুন: বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ববিতে মশাল মিছিল
১৬৮৭ দিন আগে
ক্যাম্পাসের পোস্টারে সূর্য সেন হলের ‘প্রভোস্ট নিখোঁজ’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যা এবং কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ধরতে একটি অনন্য উপায় অবলম্বন করেছে। ‘প্রভোস্ট নিখোঁজ’ লেখা পোস্টার লাগিয়ে তারা এই অভিনব প্রতিবাদ জানায়।
হলটির প্রভোস্ট মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্ররা হলের টয়লেট থেকে মধুর ক্যান্টিনে ‘প্রভোস্ট নিখোঁজ’ লেখা পোস্টার লাগিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলের এক আবাসিক ছাত্র ইউএনবিকে জানিয়েছেন ডাইনিং হলে সরবরাহ করা খাবারের নিম্নমান, মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, ভাঙা পানি পরিশোধক দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করা, অপরিষ্কার টয়লেট এবং খেলাধুলার সামগ্রীর অভাব ইত্যাদি কারণে ছাত্ররা এই প্রতিবাদ করছেন।
আরও পড়ুন: ঢাবির আবাসিক হলের ক্যান্টিনের দেয়াল ধসে আহত ২
সম্প্রতি ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের কর্মীরা দুই ছাত্রকে মারধর করার পরও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেন নি বলে জানিয়েছেন আরেক ছাত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অমরা যখন কোন সমস্যার সম্মুখীন হই তখন প্রভোস্টকে পাওয়া যায় না। তাই নিখোঁজ নোটিশ লাগিয়েছি।
আবার অনেকের মতে, এই প্রতিবাদটি হয়তো তারাই করেছে যাদের হলে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের হল ইউনিট আমন্ত্রণ জানায়নি।
আরও পড়ুন: ঢাবির এফ রহমান হলে ৫ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ
প্রতিবেদকের মাধ্যমে হলটির প্রভোস্ট ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মকবুল হোসেনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ‘আমি পরে কথা বলব’ বলে কলটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর থেকে তাকে কলে পাওয়া যাচ্ছিল না।
তবে প্রভোস্ট নিখোঁজ নন বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী।
তিনি বলেন, এই কাজটি আমাদের কিছু ছাত্র করেছে। তিনি এই প্রতিবাদকে ‘বিরক্তিকর’ বলে অভিহিত করেন।
১৭৮১ দিন আগে