আগ্নেয়গিরি
ফিলিপাইনে মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে লাভা উদগীরণ, ঘরবাড়ি ছেড়েছে ৩ শতাধিক পরিবার
ফিলিপাইনে গত সপ্তাহের শেষে মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে ফের লাভা উদগীরণ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আশপাশের ৩ শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) আগ্নেয়গিরির ঢালে জমে থাকা লাভার স্তর ধসে পড়ায় বিপুল পরিমাণ ছাই আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পবিদ্যা প্রতিষ্ঠানের পরিচারক তেরেসিতো বাকোলকল জানান, মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে এখন পর্যন্ত কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। তবে জানুয়ারি থেকে কয়েকবার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২ মে) সন্ধ্যার আগে আগ্নেয়গিরির দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালে জমে থাকা বিপুল লাভা হঠাৎ ধসে পড়ে। এর ফলে গরম পাথর, ছাই ও গ্যাসের প্রবল ধারা নিচে নামতে থাকে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ঘন ছাই তিনটি শহরের ৮৭টি গ্রামের ওপর ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার মানুষেরা হঠাৎ বিপাকে পড়েন। ছাইয়ের কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সড়কে যান চলাচলও ধীর হয়ে যায়।
মেয়ন আগ্নেয়গিরির পাদদেশের কাছে অবস্থিত কামালিগ শহরের মেয়র ক্যালয় বালদো বলেন, ‘ছাই পড়ার পর পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে মহাসড়কে কোনো কিছু দেখা যাচ্ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় ওইসব এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
ক্যালয় বালদো জানান, ছাই ছড়িয়ে পড়ার কারণে কামালিগ শহরে সবজির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দম বন্ধ করা গ্যাসে চারটি মহিষ ও একটি গরু মারা গেছে।
কামালিগ শহরটি আলবাই প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ৮ হাজার জনসংখ্যার একটি শহর। ইতোমধ্যে এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে।
তেরেসিতো বাকোলকল বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে মেয়নে অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে।’
উল্লেখ্য, মেয়ন আগ্নেয়গিরি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৪৬২ মিটার (৮ হাজার ৭৭ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। নিখুঁত শঙ্কু আকৃতির হওয়ায় আগ্নেয়গিরিটি ফিলিপাইনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। তবে দেশটির ২৪টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে এটি অগ্ন্যুৎপাতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। তাই এই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকিও বেশি।
আগ্নেয়গিরিটি থেকে জানুয়ারিতে ধারাবাহিক অগ্ন্যুৎপাত, বড় আকারের পাথর গড়িয়ে পড়া এবং প্রাণঘাতী পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ দেখা গেছে।
১ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩
ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ জাভাতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
দেশটির কর্মকর্তারা রবিবার জানিয়েছেন, সাতজন এখনও নিখোঁজ রয়েছে এবং ধোঁয়াটে ধ্বংসাবশেষ ও ঘন কাদা অনুসন্ধান তৎপরতায় বাধা সৃষ্টি করছে।
পূর্ব জাভা প্রদেশের লুমাজাং জেলার মাউন্ট সেমেরুর আকাশে ১২’শ মিটারেরও (৪০ হাজার ফুট) বেশি ছাইয়ের পুরু স্তর ছড়িয়ে পরেছিল। শনিবার ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হঠাৎ অগ্ন্যুৎপাতের পরে সিয়ারিং গ্যাস ও লাভার ঢল প্রবাহিত হওয়া শুরু হয়। ফলে বেশ কিছু গ্রাম ছাইয়ের প্রলেপে ঢেকে যায়।
আরও পড়ুন: কোভিশিল্ডের বুস্টার ডোজের অনুমোদন চায় সিরাম ইনস্টিটিউট
ভূতাত্ত্বিক জরিপ কেন্দ্রের প্রধান ইকো বুদি লেলোনো বলেছেন, বজ্রঝড় ও কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে সেমেরুর তিন হাজার ৬৭৬ মিটার (১২ হাজার ৬০ ফুট) উপরের লাভা গম্বুজটি ভেঙে পড়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, শনিবার অন্তত দুবার সিয়ারিং গ্যাস ও লাভার প্রবাহ কাছাকাছি একটি নদীতে ৮০০মিটার (দুই হাজার ৬২৪ ফুট) পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে। জনগণকে আগ্নেয়গিরির উৎস মুখ থেকে পাঁচ কিলোমিটার (তিন দশমিক এক মাইল) দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
লুমাজাং জেলা প্রধান থরিকুল হক বলেন, ছাইয়ের ঘন প্রলেপ বেশ কয়েকটি গ্রামকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছে। কয়েকশ’ মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অনেকেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার অভিযান বাধা সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাপী মানুষের বাস্তুচ্যুতি বেড়েছে
১৬১২ দিন আগে