কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে সার বিতরণে মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা
কুড়িগ্রামে চলতি আমন মৌসুমে সারের বরাদ্দ বাড়লেও বিতরণ প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ও ঘাটতির গুজবে মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
জেলার রৌমারী উপজেলায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর ক্ষুব্ধ কৃষকরা এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে যান। একই দিনে ভূরুঙ্গামারীতে খোলাবাজারে সার বিক্রির দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রৌমারী উপজেলার মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় বন্দবেড় ইউনিয়নের কৃষকরা সার সংগ্রহের জন্য ভোররাত থেকে এক ডিলারের গুদামের সামনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে থাকেন। সকাল গড়িয়ে বেলা ১১টা বাজলেও সার বিক্রি শুরু হচ্ছিল না। কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিত ছিলেন না। একপর্যায়ে উত্তেজিত কৃষকরা গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সারের বস্তা তুলে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক জাকির হোসেন জানান, বেলা ১১টা পেরিয়ে গেলেও ডিলার বিক্রি শুরু করেনি। পুলিশ বা প্রশাসনের লোকও ছিল না। তীব্র গরমে দীর্ঘ অপেক্ষা থেকে তৈরি অসন্তোষের কারণেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অবশ্য পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত হলে অনেকে নিয়ে যাওয়া সার ফেরত দেন বলেও জানা গেছে।
একই দিন বেলা ১১টার দিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড় এলাকায় আমজাদের সারের দোকানের সামনে ক্ষুব্ধ কৃষকরা বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবি, সার নিতে এসে সকাল থেকে দুপুর পার হয়ে যাওয়ায় তাদের পুরো দিনের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। তারা খোলাবাজারে সহজ নিয়মে সার বিক্রির দাবি জানান।
অন্যদিকে কৃষি বিভাগ দাবি করছে, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। আগাম সারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের গুজবের কারণেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় সারের সরবরাহ বিগত বছরের চেয়ে অনেক বেশি।
স্থানীয় কৃষকদের অনেকে অভিযোগ করেন, খুচরা সার বিক্রি বন্ধ থাকায় কিছু খুচরা বিক্রেতা দিনমজুর বা ভাড়াটে লোক লাইনে দাঁড় করিয়ে অবৈধভাবে সার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তারাই মূলত লাইনে ভিড় তৈরি করছেন এবং সাধারণ কৃষকদের উসকানি দিচ্ছেন। এছাড়া সামনের রবি মৌসুমে ভুট্টা ও আলু চাষের জন্য চরাঞ্চলের অনেক কৃষক আগাম সার কিনে বাড়িতে মজুত করার চেষ্টা করছেন, যা সার বিতরণে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
সারের ঘাটতির তথ্য পুরোপুরি সঠিক নয় জানিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চলতি মাসে আমন ধানে সার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রায় শেষ। এলাকায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। তবে আগামী রবি মৌসুমে সংকট হতে পারে—এমন গুজবে কান দিয়ে কিছু কৃষক আগাম অতিরিক্ত সার কেনার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও জানান, সারের কোনো অভাব নেই এবং আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসের রবি মৌসুমের জন্য আরও বেশি বরাদ্দ আসবে। গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে কৃষকদের শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।
৫৬ মিনিট আগে
কোটি টাকার ইজারা দিয়েও চিলমারী নদীবন্দরে নেই প্রত্যাশিত যাত্রীসেবা
হাজারো যাত্রীর পদচারণায় প্রতিদিন মুখর থাকে কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চিলমারী নদীবন্দর। রৌমারী, রাজীবপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষের নৌপথে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ঘাট এটি। তবে দীর্ঘদিনেও এখানে নিশ্চিত হয়নি ন্যূনতম যাত্রীসেবা। নেই যাত্রীছাউনি, গণশৌচাগার কিংবা পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু ও বয়স্কদের।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত চিলমারী নদীবন্দর একসময় দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌবন্দর হিসেবে পরিচিত ছিল। সময়ের পরিক্রমায় এর জৌলুস কিছুটা কমলেও গুরুত্ব কমেনি একটুও। প্রতিদিন রৌমারী, রাজীবপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ নৌপথে যাতায়াতের জন্য এই ঘাট ব্যবহার করেন।
সরেজমিনে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নৌকার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন। তীব্র রোদ কিংবা বৃষ্টিতে তাদের জন্য নিরাপদ কোনো অপেক্ষালয় নেই। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অসুস্থ, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
শুধু যাত্রীছাউনির অভাবই নয়, চিলমারী নদীবন্দরে কোনো গণশৌচাগারও নেই। রৌমারী কিংবা রাজীবপুরের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে দুই-তিন ঘণ্টার নৌযাত্রা শেষে ঘাটে আসা যাত্রীরা প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের দুর্ভোগ হয় সবচেয়ে বেশি। প্রয়োজনের সময় অনেককে বাধ্য হয়ে আশপাশের বাড়িতে যেতে হয়। আবার কেউ কেউ লোকলজ্জা এড়িয়ে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম সারতে বাধ্য হচ্ছেন।
রৌমারী উপজেলা থেকে আসা বেলাল হোসেন বলেন, ‘অনেক দূর থেকে নৌকায় করে আসি। ঘাটে এসে বসার বা সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কোনো টয়লেট নেই। নারীদের জন্য বিষয়টি আরও কষ্টের। এত বড় ঘাটে অন্তত একটি গণশৌচাগার থাকা উচিত।’
একই উপজেলার শাহারিয়ার নাজিম বলেন, ‘নৌকার জন্য অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বৃষ্টি এলে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়। যাত্রীদের জন্য দ্রুত ছাউনি ও বসার ব্যবস্থা করা দরকার।’
ঘাট-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিলমারী নদীবন্দর দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫০টি নৌকা চলাচল করে। প্রতিটি নৌকায় গড়ে ৮০ থেকে ১০০ জন যাত্রী থাকেন। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল থাকলেও পর্যাপ্ত আসন, সুপেয় পানি কিংবা শৌচাগারের সুবিধা নেই।
চলতি অর্থবছরে চিলমারী নদীবন্দর ঘাটটি থেকে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হলেও যাত্রীসেবায় কোনো দৃশ্যমান উন্নতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবছর ঘাট থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হচ্ছে। অথচ যাত্রীদের বসার জায়গা নেই, টয়লেট নেই, পানির ব্যবস্থা নেই। এত বড় একটি ঘাটে এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
এদিকে, চিলমারী নদীবন্দর উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পের কাজও এগোচ্ছে ধীরগতিতে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলমান বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৪ শতাংশ বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, আলাদাভাবে গণশৌচাগার নির্মাণের কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই। তবে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেটির কাজ শেষ হলে টার্মিনালটি চালু করা হবে এবং তখন যাত্রীরা সব সুবিধা পাবেন।
ঈদের আগেই টার্মিনালটি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুর হাসান বলেন, ‘চিলমারী নদীবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’
১২ দিন আগে
চিলমারীর চরাঞ্চলে শিক্ষকসংকট চরমে, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চরাঞ্চলে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে দিয়েই তিন শ্রেণির পাঠদানসহ দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে। একই ইউনিয়নের দক্ষিণ নটারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ২০২২ সাল থেকে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে।
অতি সম্প্রতি মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম একাই তিন শ্রেণির পাঠদান করছেন। এক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া বুঝিয়ে দিয়ে অন্য শ্রেণিতে ছুটে যেতে হচ্ছে তাকে। এর পাশাপাশি দাপ্তরিক কাগজপত্র তৈরি, মিড-ডে মিলের হিসাব, উপস্থিতি রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং সরকারের বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের নথিপত্রে মাসুমা আক্তার নামে আরেকজন শিক্ষক থাকলেও ২০২৩ সালে যোগদানের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে তিনি চিলমারী সদরের একটি বিদ্যালয়ে প্রাক্কলনে (ডেপুটেশন) চলে যান। দুই শিক্ষকবিশিষ্ট বিদ্যালয় থেকে একজনকে অন্যত্র প্রাক্কলনে পাঠানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
দুই বছর আগে অবসরে যাওয়া বিদ্যালয়টির সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, তার সময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ২৫০ জন। শিক্ষকসংকটের কারণে তা কমে বর্তমানে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়বিমুখ হয়ে পড়ছে বলেও জানান তিনি।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসি মনি বলে, ‘একজন স্যার সবাইকে বেশি সময় দিতে পারেন না, তাই আমরা ভালো শিখতেও পারছি না।’
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকসংকটের কারণে শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক শিশু শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
২২ দিন আগে
কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি বাড়ছে, প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল
দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও হু হু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা অববাহিকায় অবস্থিত চরাঞ্চল ও দ্বীপচরের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৮২ মিটার, যা সকাল ৯টায় বেড়ে ২৮ দশমিক ৯৬ মিটারে পৌঁছায়। মাত্র তিন ঘণ্টায় নদীটির পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময়ে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
একই সময়ে পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার এবং তালুকসিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী উপজেলায় ১৫০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কুড়িগ্রাম পাউবো।
পানি বৃদ্ধির ফলে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
তিস্তা অববাহিকার ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা বদিয়ত মিয়া জানান, এক রাতে এত দ্রুত পানি বাড়তে আগে দেখিনি। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আজ রাতেই অনেক এলাকা তলিয়ে যেতে পারে।
৬১ দিন আগে
কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দম্পতি নিহত
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দম্পতি নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উলিপুর পৌরসভার বলদিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— বলদিপাড়া গ্রামের আবু সাইয়েদ (৬৮) ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৬০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) দুপুরে নিজেদের বাড়িতে আবু সাইয়েদ বৈদ্যুতিক বোর্ডের একটি সুইচে অসাবধানতাবশত হাত দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় স্বামীকে ছটফট করতে দেখে তাকে উদ্ধার করতে দ্রুত এগিয়ে যান স্ত্রী রাবেয়া বেগম। কিন্তু কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিয়ে সরাসরি স্বামীকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। ফলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রথমে আবু সাইয়েদ ও এর কিছুক্ষণ পর রাবেয়া বেগমের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে উলিপুর থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের খবর দেয় পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দম্পতির মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। নিহতদের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বলদিপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অসচেতনতার কারণেই দুটি প্রাণ ঝরে গেল। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
৬১ দিন আগে
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তিন জেলায় বন্যার শঙ্কা
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় জেলাগুলোতে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে, তলিয়ে যাচ্ছে ফসলের খেত। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে করে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদ-নদীর পানি
সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। সুনামগঞ্জ, সিলেট ও ভারতের মেঘালয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো।
৭৮ দিন আগে
ভারত থেকে ‘পুশইন’ শঙ্কায় কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা
ভারত থেকে বাংলা ভাষাভাষী লোকজনকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করার অভিযোগকে ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
রবিবার (৮ জুন) কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে পুশইনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ কৌশলগত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্তের প্রতিটি বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) থেকে দিনরাত টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে যৌথ টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গতিবিধি পরিলক্ষিত হলে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা দেখা গেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে অবৈধ প্রবেশ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির বাড়তি সতর্কতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
৯১ দিন আগে
নদীভাঙনে ১০ বছরে গৃহহীন এক লাখ মানুষ, পৃথক মন্ত্রণালয় ও বাজেট চায় চরাঞ্চলের মানুষ
বর্ষা এলেই নদীর পাড়ে বসবাসকারী হাজারো মানুষের জীবনে ফিরে আসে পুরোনো আতঙ্ক। এক রাতে নদী গিলে নেয় বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা; কখনও আবার পুরো একটি গ্রাম। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো নতুন আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে বেড়ায়, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয় শহরমুখী হতে। কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে এমন বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার গল্প বহু বছরের।
এই প্রেক্ষাপটে চরাঞ্চলের মানুষের টেকসই উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে চর বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন এবং জাতীয় বাজেটে চরাঞ্চলের জন্য আলাদা ও স্থায়ী বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ। একই সঙ্গে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম বৃহৎ চরাঞ্চল অধ্যুষিত জেলা। জেলায় প্রায় ৪০০টি চর রয়েছে, যার মধ্যে আড়াই শতাধিক চরে মানুষের বসবাস। এসব চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, দারিদ্র্য, যোগাযোগ সংকট এবং মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত জীবনযাপন করছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে কুড়িগ্রামে প্রায় এক লাখ মানুষ নদীভাঙনের কারণে গৃহহীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শুধু বসতভিটাই হারায়নি, হারিয়েছে জীবিকা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাও। প্রতিবছর নতুন নতুন পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে কুড়িগ্রাম জেলার অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের শিকার হয়। এছাড়া গত পাঁচ বছরে নদীভাঙনের কারণে প্রায় দুই হাজার পরিবার স্থায়ীভাবে ঢাকা, ঠাকুরগাঁও ও পার্বতীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে গেছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, শুধু কুড়িগ্রাম নয়, দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১০০টি উপজেলার চর ও নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস। এই বিপুল জনগোষ্ঠী কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়নের মূলধারা থেকে এখনও অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।
৯৪ দিন আগে
কালজানির ভাঙনে তিন দিনে বিলীন ৭০ বসতভিটা, ঘুম উড়েছে দুই গ্রামের মানুষের
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে গত তিন দিনে অন্তত ৭০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক পরিবার। ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে অনেক পরিবার এখন বসতঘর সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমান্তঘেঁষা উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় নদীর স্রোত সরাসরি আঘাত হানায় কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতীরজুড়ে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। কেউ টিন খুলছেন, কেউ ঘরের খুঁটি উপড়ে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেশি।
স্থানীয়দের মতে, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কালজানি নদীর পানি বেড়েছে। এর সঙ্গে তীব্র হয়েছে নদীভাঙন।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালজানি নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় নদীতীরবর্তী মানুষকে ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকার আরও অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ভাঙনের শিকার তোফাজ্জল মিয়া বলেন, ‘এর আগেও কয়েকবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছি। কষ্ট করে আবার ঘর তুলেছিলাম। এখন আবার নদী ঘরের কাছাকাছি চলে এসেছে। কীভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচব, বুঝতে পারছি না।’
আরেক বাসিন্দা শাজাহান আলী বলেন, ‘দিনরাত ঘর সরানোর কাজ করছি। নদী কখন কী নিয়ে যায়, সেই ভয়ে আছি। সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।’
৯৫ দিন আগে
কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই যুবক নিহত
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১ জুন) সকাল ও দুপুরে উপজেলার পৃথক দুটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— নাগেশ্বরী পৌর এলাকার ফকিরটারী বাগডাঙ্গা গ্রামের শাহিনুর আলমের ছেলে মাহবুবুল হাসান মুহিত এবং বামনাঙ্গা ইউনিয়নের কুটি বামনডাঙ্গা এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে সাবু মিয়া।
নিহতদের স্বজনরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুহিত বাড়িতে আইপিএসে ব্যাটারির সংযোগ দেওয়ার কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, দুপুর ১২টার দিকে বামনডাঙ্গা এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। অনুষ্ঠানের সাউন্ড বক্সের সংযোগ দেওয়ার সময় বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে আহত হন সাবু মিয়া। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিনে পৃথক দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চলছে আহাজারি।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হীল জামান বলেন, দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৯৮ দিন আগে