কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ নিহত ৫
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ধানবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে রৌমারী উপজেলার সায়দাবাদ এলাকার শিবের ডাঙ্গী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উপজেলার চরলাকান্দা গ্রামের প্রভাষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম (৪২), তার দুই সন্তান রিশাদ (১২) ও তুবা মনি (৭) এবং লিপি বেগমের বোন কত্তিমারী এলাকার বাসিন্দা বাদল মিয়ার স্ত্রী শরিফা খাতুন (৫০)। নিহত আরেক ব্যক্তি হলেন অটোরিকশাটির চালক। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি শিবের ডাঙ্গী সড়ক দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিল। পথে সায়দাবাদ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির ধানবোঝাই একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দুর্ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত একজনকে উদ্ধার করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে রৌমারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের দেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাওসার আলী (ওসি) জানান, নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে এবং ট্রাকটিকে আটকের চেষ্টা চলছে।
এদিকে একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচজনের এমন হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে সায়দাবাদ ও চরলাকান্দা গ্রামে বিরাজ করছে শোকের আবহ।
১ দিন আগে
‘মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে’ মা নিহত, বাবা গুরুতর আহত
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মা নিহত ও বাবা গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সুমন মিয়া বর্তমানে পলাতক।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশবাড়ি গ্রামে খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মুনিরা বেগম (৫৬)। আহত সরদার আলী (৬৫) একজন অবসরপ্রাপ্ত টেক্সটাইল প্রকৌশলী।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে মা-বাবা তাকে একাধিকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠান। কিন্তু প্রতিবারই সেখান থেকে পালিয়ে আসেন তিনি।
ঘটনার দিন ভোরে সিরাজগঞ্জ থেকে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা সুমনকে নিতে আসেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে সুমন উত্তেজিত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে মা মুনিরা বেগমের বুকে আঘাত করেন। এ সময় স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বাবা সরদার আলীর পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান সুমন।
পরে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা গুরুতর আহত দম্পতিকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুনিরা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। সরদার আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুমন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।’
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৪ দিন আগে
কুড়িগ্রামে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ থেকে খুলতে গিয়ে চালকের মৃত্যু
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ থেকে খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. গোলাম রব্বানী (৩৮) নামের এক চালক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চান্দামারী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খামারপাড়া গ্রামে চালকের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত গোলাম রব্বানী ওই গ্রামের মো. আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) সকালে গোলাম রব্বানী নিজ বাড়িতে চার্জে বসানো অটোরিকশার ব্যাটারির সংযোগ খুলতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
দুর্ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পাননি উল্লেখ করে ওই এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ইসলাম বলেন, সকালে ঘটনাটি ঘটলেও পরিবারের সদস্যরা শুরুতে জানতে পারেননি। পরে দুপুরের দিকে অটোরিকশা রাখার ঘরে গিয়ে তারা গোলাম রব্বানীর মরদেহ দেখতে পান। এরপর প্রতিবেশীদের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ থেকে খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল-সংক্রান্ত খোঁজখবর নিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
২৬ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ধর্ষণের চার মামলায় গ্রেপ্তার ৫
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ধর্ষণের পৃথক চার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট রাতে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আজিজুল হক, ওবায়দুল হক ও খোতেজা বেগমকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে সদর ইউনিয়নে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় শাহজালাল মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই দিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আউয়াল।
এছাড়া উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সিআর মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন জানান, প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ অভিযুক্ত তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসেন আলীর (৪৫) বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, ‘ঘটনাগুলোতে থানায় পৃথক চারটি মামলা রুজু হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
২৮ দিন আগে
আমন উৎপাদন বাড়াতে কুড়িগ্রামে ৫০০ টন ইউরিয়া সারের বিশেষ বরাদ্দ
চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় সার সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে অতিরিক্ত আরও ৫০০ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) থেকে এই বিশেষ বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত এই সার প্রান্তিক কৃষকদের কাছে দ্রুত ও সুষমভাবে পৌঁছে দিতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণ দেবনাথ ইউএনবিকে বলেন, ‘চলতি আমন মৌসুমে জেলার কৃষকদের সারের চাহিদা পূরণ ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেপ্টেম্বরের নিয়মিত বরাদ্দের বাইরেও নতুন করে ৫০০ টন ইউরিয়া সার পাওয়া গেছে। বিসিআইসি ও বিএডিসির অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের হাত অবধি সার পৌঁছানো নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় সারের মোট বরাদ্দ লক্ষণীয়ভাবে বাড়ানো হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত মজুত থাকায় কুড়িগ্রামে কোনো ধরনের সারসংকটের সুযোগ নেই। কোথাও যাতে সার নিয়ে অসাধু চক্র কোনো সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কঠোর তদারকি চালু রেখেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে কুড়িগ্রাম জেলার জন্য মোট ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ৪ হাজার ৬৪৪ টন সার বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের (৩,৮৯৪ টন) তুলনায় প্রায় সাড়ে ৭০০ টন বেশি। অতিরিক্ত ৫০০ টন যুক্ত হওয়ায় চলতি মাসে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হলো।
প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের মাঝে। নির্ধারিত সরকারি মূল্যে পর্যাপ্ত সার মেলায় তারা আমন ধানের সুষম বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তারা।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মাঠে ধানের যে বৃদ্ধিপর্যায় রয়েছে, তাতে পরিমিত পরিমাণ সারই যথেষ্ট। অতিরিক্ত সার ব্যবহার রোধ এবং সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জেলায় সারের সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনা করে পর্যাপ্ত সার মজুত করা হয়েছে। পরিমিত ও সঠিক নিয়মে ইউরিয়া ও ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার ব্যবহারের জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে ফসলের মান উন্নত হয় এবং উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকে।’
জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকায় চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৩২ দিন আগে
কুড়িগ্রামে সার বিতরণে মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা
কুড়িগ্রামে চলতি আমন মৌসুমে সারের বরাদ্দ বাড়লেও বিতরণ প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ও ঘাটতির গুজবে মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
জেলার রৌমারী উপজেলায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর ক্ষুব্ধ কৃষকরা এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে যান। একই দিনে ভূরুঙ্গামারীতে খোলাবাজারে সার বিক্রির দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রৌমারী উপজেলার মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় বন্দবেড় ইউনিয়নের কৃষকরা সার সংগ্রহের জন্য ভোররাত থেকে এক ডিলারের গুদামের সামনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে থাকেন। সকাল গড়িয়ে বেলা ১১টা বাজলেও সার বিক্রি শুরু হচ্ছিল না। কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিত ছিলেন না। একপর্যায়ে উত্তেজিত কৃষকরা গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সারের বস্তা তুলে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক জাকির হোসেন জানান, বেলা ১১টা পেরিয়ে গেলেও ডিলার বিক্রি শুরু করেনি। পুলিশ বা প্রশাসনের লোকও ছিল না। তীব্র গরমে দীর্ঘ অপেক্ষা থেকে তৈরি অসন্তোষের কারণেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অবশ্য পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত হলে অনেকে নিয়ে যাওয়া সার ফেরত দেন বলেও জানা গেছে।
একই দিন বেলা ১১টার দিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড় এলাকায় আমজাদের সারের দোকানের সামনে ক্ষুব্ধ কৃষকরা বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবি, সার নিতে এসে সকাল থেকে দুপুর পার হয়ে যাওয়ায় তাদের পুরো দিনের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। তারা খোলাবাজারে সহজ নিয়মে সার বিক্রির দাবি জানান।
অন্যদিকে কৃষি বিভাগ দাবি করছে, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। আগাম সারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের গুজবের কারণেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় সারের সরবরাহ বিগত বছরের চেয়ে অনেক বেশি।
স্থানীয় কৃষকদের অনেকে অভিযোগ করেন, খুচরা সার বিক্রি বন্ধ থাকায় কিছু খুচরা বিক্রেতা দিনমজুর বা ভাড়াটে লোক লাইনে দাঁড় করিয়ে অবৈধভাবে সার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তারাই মূলত লাইনে ভিড় তৈরি করছেন এবং সাধারণ কৃষকদের উসকানি দিচ্ছেন। এছাড়া সামনের রবি মৌসুমে ভুট্টা ও আলু চাষের জন্য চরাঞ্চলের অনেক কৃষক আগাম সার কিনে বাড়িতে মজুত করার চেষ্টা করছেন, যা সার বিতরণে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
সারের ঘাটতির তথ্য পুরোপুরি সঠিক নয় জানিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চলতি মাসে আমন ধানে সার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রায় শেষ। এলাকায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। তবে আগামী রবি মৌসুমে সংকট হতে পারে—এমন গুজবে কান দিয়ে কিছু কৃষক আগাম অতিরিক্ত সার কেনার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও জানান, সারের কোনো অভাব নেই এবং আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসের রবি মৌসুমের জন্য আরও বেশি বরাদ্দ আসবে। গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে কৃষকদের শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।
৪০ দিন আগে
কোটি টাকার ইজারা দিয়েও চিলমারী নদীবন্দরে নেই প্রত্যাশিত যাত্রীসেবা
হাজারো যাত্রীর পদচারণায় প্রতিদিন মুখর থাকে কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চিলমারী নদীবন্দর। রৌমারী, রাজীবপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষের নৌপথে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ঘাট এটি। তবে দীর্ঘদিনেও এখানে নিশ্চিত হয়নি ন্যূনতম যাত্রীসেবা। নেই যাত্রীছাউনি, গণশৌচাগার কিংবা পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু ও বয়স্কদের।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত চিলমারী নদীবন্দর একসময় দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌবন্দর হিসেবে পরিচিত ছিল। সময়ের পরিক্রমায় এর জৌলুস কিছুটা কমলেও গুরুত্ব কমেনি একটুও। প্রতিদিন রৌমারী, রাজীবপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ নৌপথে যাতায়াতের জন্য এই ঘাট ব্যবহার করেন।
সরেজমিনে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নৌকার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন। তীব্র রোদ কিংবা বৃষ্টিতে তাদের জন্য নিরাপদ কোনো অপেক্ষালয় নেই। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অসুস্থ, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
শুধু যাত্রীছাউনির অভাবই নয়, চিলমারী নদীবন্দরে কোনো গণশৌচাগারও নেই। রৌমারী কিংবা রাজীবপুরের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে দুই-তিন ঘণ্টার নৌযাত্রা শেষে ঘাটে আসা যাত্রীরা প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের দুর্ভোগ হয় সবচেয়ে বেশি। প্রয়োজনের সময় অনেককে বাধ্য হয়ে আশপাশের বাড়িতে যেতে হয়। আবার কেউ কেউ লোকলজ্জা এড়িয়ে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম সারতে বাধ্য হচ্ছেন।
রৌমারী উপজেলা থেকে আসা বেলাল হোসেন বলেন, ‘অনেক দূর থেকে নৌকায় করে আসি। ঘাটে এসে বসার বা সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কোনো টয়লেট নেই। নারীদের জন্য বিষয়টি আরও কষ্টের। এত বড় ঘাটে অন্তত একটি গণশৌচাগার থাকা উচিত।’
একই উপজেলার শাহারিয়ার নাজিম বলেন, ‘নৌকার জন্য অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বৃষ্টি এলে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়। যাত্রীদের জন্য দ্রুত ছাউনি ও বসার ব্যবস্থা করা দরকার।’
ঘাট-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিলমারী নদীবন্দর দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫০টি নৌকা চলাচল করে। প্রতিটি নৌকায় গড়ে ৮০ থেকে ১০০ জন যাত্রী থাকেন। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল থাকলেও পর্যাপ্ত আসন, সুপেয় পানি কিংবা শৌচাগারের সুবিধা নেই।
চলতি অর্থবছরে চিলমারী নদীবন্দর ঘাটটি থেকে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হলেও যাত্রীসেবায় কোনো দৃশ্যমান উন্নতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবছর ঘাট থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হচ্ছে। অথচ যাত্রীদের বসার জায়গা নেই, টয়লেট নেই, পানির ব্যবস্থা নেই। এত বড় একটি ঘাটে এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
এদিকে, চিলমারী নদীবন্দর উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পের কাজও এগোচ্ছে ধীরগতিতে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলমান বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৪ শতাংশ বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, আলাদাভাবে গণশৌচাগার নির্মাণের কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই। তবে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেটির কাজ শেষ হলে টার্মিনালটি চালু করা হবে এবং তখন যাত্রীরা সব সুবিধা পাবেন।
ঈদের আগেই টার্মিনালটি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুর হাসান বলেন, ‘চিলমারী নদীবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’
৫২ দিন আগে
চিলমারীর চরাঞ্চলে শিক্ষকসংকট চরমে, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চরাঞ্চলে শিক্ষকসংকটে প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে দিয়েই তিন শ্রেণির পাঠদানসহ দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে। একই ইউনিয়নের দক্ষিণ নটারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ২০২২ সাল থেকে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে।
অতি সম্প্রতি মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম একাই তিন শ্রেণির পাঠদান করছেন। এক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া বুঝিয়ে দিয়ে অন্য শ্রেণিতে ছুটে যেতে হচ্ছে তাকে। এর পাশাপাশি দাপ্তরিক কাগজপত্র তৈরি, মিড-ডে মিলের হিসাব, উপস্থিতি রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং সরকারের বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের নথিপত্রে মাসুমা আক্তার নামে আরেকজন শিক্ষক থাকলেও ২০২৩ সালে যোগদানের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে তিনি চিলমারী সদরের একটি বিদ্যালয়ে প্রাক্কলনে (ডেপুটেশন) চলে যান। দুই শিক্ষকবিশিষ্ট বিদ্যালয় থেকে একজনকে অন্যত্র প্রাক্কলনে পাঠানোর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
দুই বছর আগে অবসরে যাওয়া বিদ্যালয়টির সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, তার সময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ২৫০ জন। শিক্ষকসংকটের কারণে তা কমে বর্তমানে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়বিমুখ হয়ে পড়ছে বলেও জানান তিনি।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসি মনি বলে, ‘একজন স্যার সবাইকে বেশি সময় দিতে পারেন না, তাই আমরা ভালো শিখতেও পারছি না।’
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকসংকটের কারণে শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক শিশু শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
৬২ দিন আগে
কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি বাড়ছে, প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল
দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও হু হু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা অববাহিকায় অবস্থিত চরাঞ্চল ও দ্বীপচরের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৮২ মিটার, যা সকাল ৯টায় বেড়ে ২৮ দশমিক ৯৬ মিটারে পৌঁছায়। মাত্র তিন ঘণ্টায় নদীটির পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময়ে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
একই সময়ে পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার এবং তালুকসিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী উপজেলায় ১৫০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কুড়িগ্রাম পাউবো।
পানি বৃদ্ধির ফলে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
তিস্তা অববাহিকার ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা বদিয়ত মিয়া জানান, এক রাতে এত দ্রুত পানি বাড়তে আগে দেখিনি। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আজ রাতেই অনেক এলাকা তলিয়ে যেতে পারে।
১০২ দিন আগে
কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দম্পতি নিহত
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দম্পতি নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উলিপুর পৌরসভার বলদিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— বলদিপাড়া গ্রামের আবু সাইয়েদ (৬৮) ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৬০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) দুপুরে নিজেদের বাড়িতে আবু সাইয়েদ বৈদ্যুতিক বোর্ডের একটি সুইচে অসাবধানতাবশত হাত দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় স্বামীকে ছটফট করতে দেখে তাকে উদ্ধার করতে দ্রুত এগিয়ে যান স্ত্রী রাবেয়া বেগম। কিন্তু কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিয়ে সরাসরি স্বামীকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। ফলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রথমে আবু সাইয়েদ ও এর কিছুক্ষণ পর রাবেয়া বেগমের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে উলিপুর থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের খবর দেয় পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দম্পতির মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। নিহতদের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বলদিপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অসচেতনতার কারণেই দুটি প্রাণ ঝরে গেল। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
১০২ দিন আগে