কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের চার আসনে নীরব ভোটারদের দিকে তাকিয়ে প্রার্থীরা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একেবারে শেষ সময়ে এসে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। মিছিল, মিটিং, সভা-সমাবেশে মাঠ মুখর থাকলেও ভোটের ফলাফল নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। কে জয়ী হবেন, এ মুহূর্তে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সরজমিনে স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনীতি বিশ্লেষক এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন দলের কর্মী-সমর্থকরা সক্রিয় থাকলেও প্রকাশ্যে মত দিচ্ছেন মাত্র ৩০ শতাংশ ভোটার। বাকি প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার নীরব, মুখ খুলছেন না তারা। ফলে শেষ মুহূর্তে ভোটের হিসাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী ও সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। যে প্রার্থী এই ভোটব্যাংক নিজের দিকে টানতে পারবেন, জয়ের পথে তিনিই এগিয়ে থাকবেন।
কুড়িগ্রাম-১
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা, ১১ দলীয় জোটের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী হারিসুল বারী রনি এবং গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ প্রতীকের প্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লা।
এ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ৪২৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন।
স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এখানে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে ধানের শীষ, ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের মধ্যে। তবে কে বিজয়ী হবেন তা এখনও অনিশ্চিত।
কুড়িগ্রাম-২
এ আসনে প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোটের ড. আতিক মুজাহিদ (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টির পনির উদ্দিন আহমেদ (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের অধ্যক্ষ নুর বখত (হাতপাখা), নাগরিক ঐক্যের মেজর (অব.) মুহাম্মদ আবদুল সালাম (কেটলি), সিপিবির নূর মোহাম্মদ (কাস্তে), এবি পার্টির নজরুল ইসলাম খান (ঈগল), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাফিউর রহমান (হাঁস)।
এখানে মোট ভোটার রয়েছেন ৬ লাখ ৪ হাজার ৭৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯০, নারী ৩ লাখ ৪ হাজার ৮৪১ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজারহাট উপজেলায় হিন্দু ভোটারদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা পলাতক থাকলেও তাদের সমর্থক-ভোটাররা ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
কুড়িগ্রাম-৩
এ আসনের প্রধান প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তাসভীর-উল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের ‘দাঁড়িপাল্লা’র প্রার্থী ড. মাহবুবুল আলম সালেহী, জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সোবহান সরকার, ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখা’র প্রার্থী ডা. আক্কাছ আলী সরকার, গণঅধিকার পরিষদের ‘ট্রাক’ প্রতীকের প্রার্থী নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, স্বতন্ত্র ‘হাঁস’ প্রতীকের প্রার্থী সাফিউর রহমান।
এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ জন। এর মাঝে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪ জন এবং নারী ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৬ জন।
এখানেও আওয়ামী লীগপন্থী ও হিন্দু ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফলে ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এই ভোটব্যাংক নিজের দিকে টানতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম-৪
এই আসনের প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির আজিজুর রহমান (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোটের মোস্তাফিজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির কে এম ফজলুল হক মণ্ডল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের হাফিজুর রহমান (হাতপাখা), বাসদ (মার্ক্সবাদী) রাজু আহমেদ (মই), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রুকুনুজ্জামান (বালতি)।
এ আসনে রয়েছে ভিন্ন মাত্রার লড়াই। আসনটিতে ধানের শীষ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন আপন দুই ভাই।
ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন করেছে কুড়িগ্রামের এ এলাকাগুলোকে। পাশাপাশি ভাটিয়া ও উজানী জনগোষ্ঠীর মধ্যেও রয়েছে সামাজিক বিভাজন। ফলে ভোটের মাঠে বিরাজ করছে নানা জটিল সমীকরণ।
কুড়িগ্রামের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, বিগত নির্বাচনগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় মানুষ ভোটের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার এখনও ভোটে অনাগ্রহী। তবে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলে শেষ মুহূর্তে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, কুড়িগ্রামের চার আসনেই নির্বাচন নিয়ে উত্তাপ থাকলেও জয়-পরাজয়ের হিসাব এখনও অঙ্কের বাইরে, শেষ সিদ্ধান্ত নেবে নীরব ভোটারা—এমন অভিমত স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষক, ভোটার ও সচেতন মহলের।
৭ দিন আগে
ভোট নয়, টিকে থাকার দুশ্চিন্তায় কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়লেও কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে তার কোনো প্রতিফলন নেই। এখানে ভোট নয়, মানুষের প্রধান ভাবনা—আগামী বছর বসতভিটা থাকবে তো? অসুস্থ হলে শহরে কি পৌঁছানো যাবে? সংসার চলবে কীভাবে আর সন্তানরা আদৌ শিক্ষার আলো পাবে কি?
ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগা, গোয়াইলপুরী, পূর্ব ঝুনকা, অষ্টআশির চর, চিড়া খাওয়া, খেয়ারচরসহ প্রায় ২০টি চরে বসবাসরত প্রায় ৫ হাজার ২০০ ভোটারের মধ্যে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নেই। অনেকেই জানেন না ‘হ্যাঁ’ ভোট বা ‘না’ ভোট কী; এমনকি ভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই।
চরাঞ্চলের মানুষের জীবন নদীনির্ভর ও অনিশ্চিত। ১৯৫০ সাল থেকে অব্যাহত নদীভাঙনের ফলে এসব চর সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও যোগাযোগব্যবস্থা।
কালির আলগা চরের বাসিন্দা জামাল বলেন, ‘ভোট দিয়ে কী হবে? নদী আইলে আইলে ভাঙে। আজ ঘর আছে, কাল নাই—এই চিন্তায় ভোট মনে আসে না।’
গোয়াইলপুরী চরের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, ভোটের সময় কেউ আসে না। আর এলেও ভোট শেষ হলে আর খোঁজ থাকে না। তাই ভোট নিয়ে ভাবার সময় আমাদের নেই।
চরাঞ্চলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষক নিয়মিত না যাওয়ায় শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পূর্ব ঝুনকা চরের এক অভিভাবক বলেন, ‘স্কুল আছে, কিন্তু মাসে কয়দিন শিক্ষক আসেন, কেউ জানে না।’ বাচ্চারা পড়ালেখা থেকে পিছিয়ে পড়ছে বলে শঙ্কিত তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার অবস্থাও নাজুক। স্থায়ী কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। চিড়া খাওয়া চরের গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, অসুখ হলে নৌকা পাওয়াই মুশকিল। শহরে যেতে যেতে অনেক সময় চলে যায়। এই অবস্থায় ভোটের কথা ভাববে কে?
চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘শুধু যাত্রাপুর ইউনিয়ন নয়, কুড়িগ্রাম জেলায় ১৬টি নদ-নদীবেষ্টিত চর ও দ্বীপচর মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৪৬৯টি চর রয়েছে। এর মধ্যে ২৬৯টি চরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করছে। এসব চরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ বলতে কার্যত কিছুই নেই।’
তিনি বলেন, ‘এর আগে রাজনৈতিক নেতারা যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাদের ওপর আস্থা হারিয়েছে চরবাসী। ফলে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ খুবই কম।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, ‘দারিদ্র্যের দিক থেকে ৬৪ জেলার মধ্যে কুড়িগ্রাম প্রায় তলানিতে অবস্থান করছে। ২৩ লাখ ২৯ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ মানুষ দরিদ্র। চরাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার আরও বেশি।’
তিনি বলেন, ‘গত পতিত সরকার নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় শুধু চরাঞ্চল নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভোটের প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে। আমার হিসেবে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার নীরব অবস্থানে রয়েছেন। ফলে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত জটিল। কোন প্রার্থী জয়ী হবে, তা অনুমান করা কঠিন।’
চরবাসীদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের তেমন আনাগোনা নেই। প্রচারণা শহর ও মূল ভূখণ্ডেই কেন্দ্রীভূত থাকে। চরগুলো এসব কার্যক্রম থেকে কার্যত উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
খেয়ারচরের যুবক আল আমিন বলেন, ‘ভোটের জন্য কেউ আসে না, বোঝায় না। উন্নয়ন না হলে ভোটে আগ্রহ আসবে কীভাবে?’
চরবাসীরা বলছেন, তারা ভোটের বিরোধী নন। তবে ভোটের আগে নয়, ভোটের পর বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চান। নদীভাঙন রোধ, স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হলেই ভোটের গুরুত্ব তাদের কাছে নতুনভাবে ধরা দেবে। তাদের একটাই দাবি, ভোটের আগে চাই বাঁচার নিশ্চয়তা; উন্নয়ন এলে ভোট আপনাতেই গুরুত্ব পাবে।
৮ দিন আগে
একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাদের বড় নেতারাও তাতে সায় দেয়: জামায়াত আমির
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাক করে তাকে বিব্রত অবস্থায় ফেলে একটি দল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লজ্জাজনকভাবে তাদের চুনোপুঁটিসহ বড় বড় নেতারাও তাতে সায় দেয়। তবে সত্য কখনও ঢাকা থাকে না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চার দিন আগে আমার এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছিল। একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লজ্জাজনকভাবে তাদের চুনোপুঁটিসহ বড় বড় নেতারাও তাতে সায় দেয়। তবে আমাদের সাইবার টিম দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। সত্য কখনো ঢাকা থাকে না।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এই যুগে সবচেয়ে বড় দল হলেও আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। আমরা পরিবারতন্ত্র বা গোষ্ঠীতন্ত্রও কায়েম করতে চাই না। এমনকি আমরা বাংলাদেশ ইসলামী কিংবা জামায়াতের বিজয়ও চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।
‘এই বিজয়ের সূচনা হয়েছে তিস্তাপাড় থেকে। সারা বাংলায় এখন মুক্তির গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এ আন্দোলনে দেশের মেয়েরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি যুগিয়েছে। মা-বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের চলাচলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
১২ দিন আগে
বাঁশের সরু সাঁকোই আট গ্রামের মানুষের ভরসা
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে আটটি গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে একটি সরু বাঁশের সাঁকো।
উপজেলার ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের নীলকমল নদীর ওপর নির্মিত এই সাঁকো ব্যবহার করছেন বালাটারী, চন্দ্রখানা, জেলেপাড়া, কুমারপাড়া, বামনটারী, আবাসন, বৈরাগিপাড়া ও দাশিয়ারছড়ার মানুষ। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, গত তিন বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে তারা প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছেন। আগে এখানে একটি কাঠের সেতু ছিল, কিন্তু সেটি ভেঙে যাওয়ার পর এ দুর্ভোগ শুরু হয়। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজন এসে আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, এ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো থেকে পড়ে অনেকেই আহত হয়েছেন। এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণও হারিয়েছেন। তারপরও নিরুপায় গ্রামবাসী প্রতিদিন সাঁকোটি ব্যবহার করছেন। তবে ভারী মালপত্র আনা-নেওয়ার জন্য তাদের নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়।
আরও পড়ুন: ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় চট্টগ্রামের মেগা সড়ক প্রকল্পে বিলম্ব
৬০ বছর বয়সী কৃষক এহসান আলী জানান, এক বছর আগে তার ছেলে আতিকুর রহমান (৩৬) সাঁকো থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং এক মাস চিকিৎসার পর মারা যান।
কান্নাজড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও দুইবার এই সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছি। প্রতিবার শুধু প্রতিশ্রুতি পাই, সেতু পাই না। কবে নীলকমলের ওপর একটি সেতু হবে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।’
১৬২ দিন আগে
রৌমারীতে অটোভ্যানের চাকার নিচে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অটোভ্যানের চাকার নিচে পড়ে মো. রায়হান ওরফে রাহাব (৪) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কাশিয়াবাড়ি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাহাব রৌমারী উপজেলার কাশিয়াবাড়ি গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাহাব বাড়ির উঠানে খেলছিল। একপর্যায়ে সে রাস্তার দিকে চলে গেলে চলন্ত একটি অটোভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়।
আরও পড়ুন: হানিফ ফ্লাইওভারে বাসের নিচে সিএনজি, নিহত ২
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মলিক ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি অপমৃত্যু মামলা (ইউডি) করা হয়েছে।
১৬৩ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ৬২৯ কোটি টাকার ধরলা প্রকল্পে ধস, আতঙ্কে হাজারো পরিবার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব গ্রামে ধরলা নদীর তীরে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। এতে বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন আশপাশের বাসিন্দারা।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাত থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার দীর্ঘ বাঁধটির ৩০ মিটার অংশে একের পর এক সিসি ব্লক ধসে পড়ছে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে সহস্রাধিক পরিবার ও কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি।
স্থানীয়রা জানান, একের পর এক সিসি ব্লক দেবে যেতে দেখে তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। বাঁধ রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অবহেলার কারণে বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ইতোমধ্যে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাম্পিং জোনে পর্যাপ্ত সিসি ব্লক ফেলা হয়নি। ফলে পানির প্রবল স্রোত বাঁধটিকে আঘাত করছে এবং ধসের ঝুঁকি বাড়ছে।
সারডোব গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই বাঁধ আমাদের রক্ষার কবচ। ধসে গেলে কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি ও সহস্রাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ২০২২ সালের বন্যার ক্ষতি আমরা এখনও সামলে উঠতে পারিনি। এবার যদি বাঁধ ভেঙে যায়, গ্রামটি পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।’
কৃষক আব্দুল হোসনের অভিযোগ করে বলেন, ‘বাঁধের কাজে অনিয়ম হয়েছে। প্রয়োজনীয় সিসি ব্লক না ফেলার কারণে বাঁধ এখন স্রোতের আঘাত সহ্য করতে পারছে না। বাঁধটি যদি রক্ষা না হয়, আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মুন্না হক বলেন, ‘উজানে চর জেগে ওঠায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে স্রোত সরাসরি বাঁধে আঘাত করছে। এ কারণে বাঁধের কিছু অংশ দেবে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আপাতত জিও ব্যাগ ফেলছি। পানি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হবে।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, ধসে যাওয়া প্রকল্প এলাকায় রংপুরের ঠিকাদার হাসিবুল হাসান কাজ করেছেন, তবে কাজ হস্তান্তর হয়নি। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সম্পূর্ণ দায়ভার ঠিকাদারকেই নিতে হবে।
তিরি আরও বলেন, ‘আমরা সর্বদা বাঁধটির ওপর নজর রাখছি। আপাতত জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষা করা হচ্ছে। পানি নেমে গেলে নিয়ম অনুযায়ী মেরামত করা হবে।’
আরও পড়ুন: কাজ শেষ হওয়ার আগেই রংপুরে নদী তীর রক্ষা বাঁধে ধস
কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য ২০২০ সালে ৬২৯ কোটি টাকার ‘ধরলা প্রকল্প’ হাতে নেওয়া হয়। এর আওতায় ২০ কিলোমিটার ২৯০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ১৭ কিলোমিটার ৯০০ মিটার বিকল্প বাঁধ নির্মাণ এবং ১৪ কিলোমিটার ৮৮৯ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে দাবি করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এই প্রকল্পের ফলে প্রায় ২২ হাজার ৪০০ পরিবার, ৫০টি হাট-বাজার, ৩০টি নৌ-ঘাট ও ১০ হাজার হেক্টর আবাদি জমি বন্যার কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে সারডোব গ্রামের বাঁধে নতুন করে ধসের শঙ্কা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশ্ন তুলছে।
১৬৮ দিন আগে
বহুল প্রতীক্ষীত তৃতীয় তিস্তা সেতু চালু হচ্ছে আজ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে তিস্তাপাড়ের মানুষের। আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে বহুল প্রত্যাশিত তৃতীয় তিস্তা সড়ক সেতু।
এর আগে পাঁচ দফা সময়সীমা পেছালেও অবশেষে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার (১.৪৯ কিলোমিটার) দীর্ঘ এই সেতুটি কুড়িগ্রামের চিলমারী এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মানুষের বহুকালের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে নির্মিত এ সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৬৭ কোটি টাকা। আর সংযোগ সড়ক, নদীশাসন, কালভার্ট ও জমি অধিগ্রহণে খরচ হয়েছে আরও ৩৬৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। তিস্তা নদীর বুকে এটি হলো তৃতীয় সড়ক সেতু। তবে ধৈর্ঘ্যে এই সেতুটিই সবচেয়ে বড়।
প্রথম তিস্তা সড়ক সেতুটি নির্মিত হয় ২০১২ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা এলাকায়, যার দৈর্ঘ্য ৭৫০ মিটার এবং ব্যয় হয়েছিল ৮৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয়টি নির্মিত হয় ২০১৮ সালে রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহিপুরে। সেটির দৈর্ঘ্য ৮৫০ মিটার এবং ব্যয় হয়েছিল ১৩১ কোটি টাকা।
এবার চালু হতে যাচ্ছে সবচেয়ে আধুনিক তৃতীয় সেতুটি, যা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
এলজিইডি কার্যালয় সুত্র জানায়, এলজিইডির অধীনে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ইফাদের (ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট) অর্থায়নে এবং চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। শুরুতে ২০২৩ সালের জুনে শেষ করার কথা থাকলেও, নানা কারণে পাঁবার সময়সীমা পিছিয়ে অবশেষে এ বছরের আগস্টে শেষ হয় কাজ।
আরও পড়ুন: রংপুরে তিস্তা বাঁধে ধস, শঙ্কায় হাজারো পরিবার
সেতুটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ২৯০টি পাইল, ৩০টি পিলার, ২৮টি স্প্যান এবং ১৫৫টি গার্ডার। উভয় প্রান্তে পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে ১২টি ব্রিজ ও ৫৮টি বক্স কালভার্ট। পাশাপাশি ১৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে নদীশাসনসহ মোট ৫৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
১৮০ দিন আগে
কুড়িগ্রামের বন্যাকবলিত চরাঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘গুচ্ছ বসতভিটা’
কুড়িগ্রামের বন্যাপ্রবণ নদ-নদীবিধৌত চরাঞ্চলে টিকে থাকার লড়াইয়ে নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে ‘গুচ্ছ বসতভিটা’। বন্যা মোকাবিলায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর তীরবর্তী চরবাসীর যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠছে এসব উঁচু বসতভিটা। প্রতিটি বসতভিটায় ৫ থেকে ১০টি পরিবার একসঙ্গে বসবাস করে যা বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
সমতল থেকে ৮-১০ ফুট উঁচুতে গড়ে তোলা হচ্ছে এসব বসতভিটা। ১৫ থেকে ২৫ শতক জমিজুড়ে নির্মিত একেককটি গুচ্ছ বসতভিটা নির্মাণে খরচ পড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
কুড়িগ্রামে বর্তমানে চরের সংখ্যা প্রায় ৪৬৯টি। এসব চরের অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে গুচ্ছ বসতভিটার এই অভিনব মডেল।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রাম–চিলমারী রেলপথ আধুনিকায়ন প্রকল্পে অগ্রগতি নেই
এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলার চর মনতলার মিজানুর রহমান (৫৫) বলেন, ‘গত বছর আমরা দশটি পরিবার মিলে ২৫ শতক জমিতে গুচ্ছ বসতভিটা তৈরি করি। এতে খরচ হয়েছিল ৬০ হাজার টাকা। বন্যার সময় যখন চারপাশ ডুবে যায়, তখন আমাদের ভিটা নিরাপদ থাকে। আশেপাশের অনেক পরিবারও এসে তখন আশ্রয় নেয়।’
১৯০ দিন আগে
কুড়িগ্রাম–চিলমারী রেলপথ আধুনিকায়ন প্রকল্পে অগ্রগতি নেই
মাত্র ২৯ কিলোমিটার রেলপথ। কিন্তু এই পথ পাড়ি দিতেই সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী থেকে জেলা শহর কুড়িগ্রাম পর্যন্ত চলাচলকারী একমাত্র লোকাল ট্রেনটি প্রতিদিন মাত্র একবার চলাচল করে, তাও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে। ভাঙাচোরা লাইনে ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ১০–১৫ কিলোমিটার, যেখানে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলে ৪০–৪৫ কিলোমিটার বেগে।
কুড়িগ্রাম–রমনা রেলরুটে কুড়িগ্রাম, পাঁচপীর, উলিপুর, বালাবাড়ী ও রমনা—এই পাঁচটি স্টেশন থাকলেও কার্যত রেলসেবার মান এখন নাজুক। চিলমারীর রমনা স্টেশনে প্রতিদিন শত শত যাত্রী ট্রেনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন।
৬৫ বছর বয়সী ট্রেনযাত্রী মফির উদ্দিন বলেন, ‘একসময় রমনা স্টেশন ছিল ব্যস্ততম। প্রতিদিন তিন জোড়া ট্রেন চলত। এখন কখনো চলে, কখনো চলে না। তবুও অপেক্ষা করি, কারণ ট্রেনেই সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাতায়াত হয়।’
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘চিলমারী নদীভাঙন ও দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা। এখানকার অনেক মানুষ কুড়িগ্রাম বা অন্য শহরে গিয়ে দিনমজুরির কাজ করেন। স্বল্প খরচে যাতায়াতের জন্য ট্রেনই তাঁদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু রেললাইন এত খারাপ যে যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।’
আরও পড়ুন: রেলপথ হবে পরিকল্পিত ও লাভজনক, রেশনালাইজেশন হবে গবেষণার ভিত্তিতে: শেখ মইনউদ্দিন
তিনি আরও বলেন, ‘রেলপথ পুনর্বাসনের একটি প্রকল্প শুরু হলেও কার্যত কোনো অগ্রগতি নেই। দুদফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও কাজ হয়নি। চিলমারীকে বরাবরই অবহেলিত রাখা হচ্ছে। আমরা আর বৈষম্য চাই না।’
চিলমারী নৌবন্দরকেন্দ্রিক যাত্রীচাপের কথাও তুলে ধরেন সালাম। ‘প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই বন্দরে আসা–যাওয়া করেন। রেলসুবিধা উন্নত করা গেলে তাঁদের বড় উপকার হতো,’ বলেন তিনি।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, চিলমারী–কুড়িগ্রাম রেলপথ পুনর্বাসন ও আধুনিকায়নের জন্য ২০২৩ সালে দুটি পৃথক প্যাকেজে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কুড়িগ্রাম–উলিপুর ১৯ কিলোমিটার অংশের ব্যয় ধরা হয় ২৯ কোটি টাকা এবং রমনা–উলিপুর ১০ কিলোমিটার অংশে ব্যয় ধরা হয় ৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট, প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ, নতুন রেললাইন ও স্লিপার বসানো এবং ১২টি সেতু–কালভার্ট সংস্কারের কথা ছিল। কাজ শুরুর সময় ছিল ২০২৩ সালের নভেম্বর এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ম্যানেজার রুবেল ইসলাম বলেন, ‘আর্থিক সংকটে ভুগছি। রেলওয়ের কাছ থেকে আমাদের কাজের অর্ধেক বিল এখনো বকেয়া। ফলে প্রয়োজনীয় মালামাল কিনতে পারছি না, কাজও এগোচ্ছে না।’
তিনি জানান, ‘কুড়িগ্রাম–উলিপুর অংশে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও রমনা–উলিপুর অংশে কাজ হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। আমরা যদি সম্পূর্ণ বিল পেতাম, তাহলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হতো।’
লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদার আর্থিক সংকটে থাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি হয়নি। তাঁদের বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। আমরা উপরের দপ্তরে জানিয়েছি, যাতে বিল অনুমোদন হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রেলপথটির পুনর্বাসন শেষ হলে চিলমারী–কুড়িগ্রাম রুটে দ্রুত গতিতে ট্রেন চালানো যাবে এবং নতুন ট্রেনও যুক্ত করা সম্ভব হবে। চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্প শেষ করার চেষ্টা চলছে।’
১৯৫ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২, আহত ৩
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা উল্টে অটোচালকসহ দুইজন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ঘুন্টিঘর নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— পাইকেরছড়া ইউনিয়নের অটোচালক বানু মিয়া (৩০) ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের আনিকা (১২)।
আহতরা হলেন— রতনপুরের আবুবকর সিদ্দিক (৩৮), তার স্ত্রী মোর্শেদা বেগম (৩৫) ও ফাতেমা (৯)। তাদের ভূরুঙ্গামারী হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে বলে জান গেছে।
জানাগেছে, আজ (রবিবার) দুপুরে সোনাহাট থেকে যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা ভূরুঙ্গামারী আসার পথে ঘুন্টিঘর নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ড্রামট্রাক অটোকে ধাক্কা দিলে অটো উল্টে ঘটনা স্থলেই আনিকার মৃত্যু ঘটে।
আরও পড়ুন: রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
এরপর সঙ্গে সঙ্গে অটোচালক বানু মিয়াকে ভূরুঙ্গামারী হাসপাতালে নিয়ে গেল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল হেলাল মাহমুদ জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজন মারা গেছে এবং অটোচালক চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছেন। ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা চলমানন বলেও জানান ওসি।
২১৮ দিন আগে