বিস্ফোরণ
ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ মামা-ভাগনির মৃত্যু
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন নতুন বাজার ১০০ ফিট এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ জন দগ্ধের ঘটনায় মো. শাহীন (২৪) ও তাদের ভাগ্নি হাফছা (৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহীনের মৃত্যু হয়। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে মারা যায় হাফছা।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, ভাটারা এলাকায় গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে আমাদের এখানে তিনজন এসেছিলেন। তাদের মধ্যে শাহিন আজ সকাল ৬টায় আইসিইউতে মারা যান। তার শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গতকাল রাত ১২টার দিকে আইসিইউতে তার ভাগ্নি হাফছাও মারা যায়। তার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় শাহিনের স্ত্রী ফাহিমা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
এর আগে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে দগ্ধ অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. জসিম জানান, দগ্ধ শাহীন একটি দোকানের কর্মচারী ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে ভাটারার নতুন বাজার ১০০ ফিট রোডের একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলায় থাকতেন। ওইদিন ভোরে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
২ দিন আগে
সিলেটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪
সিলেট নগরীর শাহপরান থানার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লেগে চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে টিলাগড় এলাকার আল জালাল সিএনজি ফিলিং স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন— আল জালাল সিএনজি স্টেশনের কর্মী আবু সাঈদ (২০) ও আবু সুফিয়ান (২২) এবং স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল (২০) ও হাবিব (২২)।
আহতদের প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আবু সাঈদের শরীরের ১৫ শতাংশ, আবু সুফিয়ানের ৯ শতাংশ, জুয়েলের ১২ শতাংশ এবং হাবিবের ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সবাই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
আল জালাল সিএনজি স্টেশনের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, গতকাল সকালে একটি বাসে গ্যাস নেওয়ার সময় হঠাৎ বাসটির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে স্টেশনের দুই কর্মীসহ চারজন দগ্ধ হন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৪ দিন আগে
ভারতে তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বিস্ফোরণ, নিহত ১০
হিমালয়ের কোলঘেঁষা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে চীনের সীমান্তসংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজ্যের রাজধানী গ্যাংটক থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের সামারদুং গ্রামে সোমবার (২০ জুলাই) এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল বলে মঙ্গলবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা অনুপমা তামলিং জানান, বিস্ফোরণের সময় সুড়ঙ্গের ভেতরে একাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন। যারা প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তারা জানিয়েছেন, প্রথমে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর সুড়ঙ্গের ভেতরে ধস নামে এবং অনেক শ্রমিক আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশনের (এনএইচপিসি) ছয় কর্মকর্তা উদ্ধারকাজে অংশ নিতে সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেন। তবে তারাও ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় পুলিশপ্রধান সোনাম দোলমা বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ১৭ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীসহ (এনডিআরএফ) উদ্ধারকারী দলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
এনডিআরএফ কর্মকর্তা নিতীন কুমার বলেন, ‘সুড়ঙ্গের ভেতরে মিথেন, কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত করা হয়েছে।’ তিনি জানান, উদ্ধারকারীরা বিশেষ শ্বাস-প্রশ্বাসের সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিপজ্জনক পরিবেশে জীবিতদের খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভারতে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে নির্মাণ দুর্ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল ভূতাত্ত্বিক গঠন, নির্মাণ ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।
বিশেষ করে, হিমালয় অঞ্চলে ভঙ্গুর পাহাড়, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা এবং অনিশ্চিত ভূগর্ভস্থ অবস্থার কারণে সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডে একটি সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ শ্রমিক ১৭ দিন আটকা থাকার পর উদ্ধার হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা নদী অববাহিকা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এ এলাকায় তুলনামূলক নবীন ও ভঙ্গুর শিলাস্তর, অসংখ্য ফাটল এবং ভূগর্ভে আটকে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে।
পাশের মেঘালয় রাজ্যের নর্থ-ইস্টার্ন হিল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবেশ ওয়ালিয়া বলেন, এলাকাটিতে কয়লাবাহী শিলাস্তরসহ তুলনামূলক নবীন ভূতাত্ত্বিক গঠন রয়েছে। মিথেনসহ অন্যান্য গ্যাস ভূগর্ভে জমে বিস্ফোরণের সূত্রপাত ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
৫ দিন আগে
ভাটারায় গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে এক পরিবারের দগ্ধ ৩
রাজধানীর ভাটারায় একটি বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে শিশুসহ একটি পরিবারের ৩ জন দগ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে ভাটারা থানার নতুন বাজার ১০০ ফিট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে সকাল ৬টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তারা জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দগ্ধরা হলেন— মো. শাহীন (২৪), তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (২১) ও তাদের ভাগনি হাফছা (৮)।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা শাহীনের ভগ্নিপতি মো. জসিম জানান, শাহীন পেশায় একটি দোকানের কর্মচারী। তিনি পরিবার নিয়ে ভাটারা থানাধীন নতুন বাজার ১০০ ফিট রোডের একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। আজ ভোরে তারা সবাই ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘরে আগুন ধরে যায়। পরে তাদের দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, ভাটারা এলাকা থেকে গ্যাস লাইন লিকেজজনিত বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে তিনজন হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে শাহীনের শরীরের ৫০ শতাংশ, তার স্ত্রী ফাহিমার ৪৫ শতাংশ ও তাদের ভাগনি হাফছার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দগ্ধ তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তাদের সবাইকে বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৫ দিন আগে
কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইনের কাজ করার সময় বিস্ফোরণ, ৩ শ্রমিক দগ্ধ
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের একটি বাসায় গ্যাস লাইনের কাজ করার সময় পাইপলাইনে বিস্ফোরণে তিন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন— রাকিব (১৪), রাজন (২৫) ও সুমন (২৭)।
তাদের সঙ্গে থাকা সহকর্মী সজীব জানান, গতকাল (শুক্রবার) রাতে বরইতলা এলাকার আরিফ মিয়ার বাসায় গ্যাস লাইনের কাজ করছিলেন তারা। কাজের একপর্যায়ে পাইপলাইনে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটলে তিন শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, রাকিবের শরীরের প্রায় ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অন্য দুইজনের দগ্ধের পরিমাণ তুলনামূলক কম। তাদের শরীরে ড্রেসিং চলমান থাকায় এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ বলা সম্ভব নয়। তবে তিনজনই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
১৫ দিন আগে
রাজধানীর বংশালে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ব্যবসায়ী নিহত, দগ্ধ ১
রাজধানীর বংশালে একটি মোটর পার্টসের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দেলওয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নাজমুল হোসেন (৩৩) নামে আরও একজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানার মুকিম বাজার রোডের শিয়া গলি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দেলওয়ার হোসেন যশোরের শার্শা উপজেলার আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি দগ্ধ নাজমুলের খালাতো ভাই। বংশাল এলাকায় মোটর পার্টসের ব্যবসা করতেন দেলওয়ার।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা দোকানের কর্মচারী মো. হামিদুল ইসলাম জানান, ভোরে মোটর পার্টসের দোকানে হঠাৎ গ্যাস লিকেজ থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় দোকানের একটি ভারী বস্তু দেলওয়ারের মাথার ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আঘাত পান।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনা দেখে আশপাশের লোকজন ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেলওয়ার হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
দগ্ধ নাজমুল বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি বংশাল থানাকে জানানো হয়েছে।
১৬ দিন আগে
রাজধানীর কলাবাগানে সেপটিক ট্যাঙ্কের গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩
রাজধানীর কলাবাগানে একটি সাততলা ভবনের নিচ তলায় সেপটিক ট্যাঙ্কে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (১জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে কলাবাগান থানার কাঠালবাগান ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
দগ্ধরা হলেন— মো. জুয়েল (২০), মো. রানা (২২) ও মো. পারভেজ (২১)।
জুয়েলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বাংখালী গ্রামে। তার বাবার নাম সবুজ মিয়া। রানা একই এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে এবং পারভেজ একই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হারুনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কলাবাগান এলাকা থেকে জুয়েলকে শরীরের ৩০ শতাংশ, রানাকে ৬৩ শতাংশ এবং পারভেজকে ২১ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদের ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় রানা ও জুয়েলকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।
পারভেজকে জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাকেও আইসিইউতে স্থানান্তর করা হতে পারে।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. রাজিব জানান, তিনজনই পান্থপথের একটি ফার্নিচারের দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। রাতে তারা কাঠালবাগান ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি সাততলা ভবনের নিচতলায় জুয়েলের বাসায় ছিলেন। এ সময় হঠাৎ সেপটিক ট্যাঙ্কে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে তারা দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়।
২৪ দিন আগে
কাতারের গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে বিস্ফোরণ, আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮
ইরানের হামলার পর পুনরায় কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা চলাকালে কাতারের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন আহত এবং আরও অন্তত ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২১ জুন) রাতে কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কাতার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। এ বিস্ফোরণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কাতার।
যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে ইরান প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করায় কাতার রপ্তানি টার্মিনাল পুনরায় চালুর কাজ শুরু করে। গতকাল রাতে সেই কাজ চলাকালে বারজান গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি।
বিস্ফোরণের পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। শুরুতে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অল্প কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনেক বেশি হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে।
বারজান প্ল্যান্টের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ছিল প্রায় ১৪০ কোটি ঘনফুট। কাতার মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আরব উপদ্বীপের মরু অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো পরিচালনায় এই গ্যাস ব্যবহার করত।
প্ল্যান্টটির প্রায় পুরো মালিকানাই কাতারের, তবে এর একটি ছোট অংশের মালিক যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
গত মার্চে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফানে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ইরানি হামলার কারণে তার আগেই সেখানে উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কাতার।
৩৪ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসে বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ১৫
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সদর উপজেলার পাগলা তালতলা এলাকার নির্জন গার্মেন্টসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত শ্রমিকদের মধ্যে আরবিন, জাকির, মঞ্জু, শাহীন, জয়, হৃদয়, সাবিনা, খাদিজা, নাসিমা, আল-আমিন ও অন্তরসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। তারা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, বয়লার বিস্ফোরণের পর বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। এতে কারখানার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বয়লারের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে তারা আগে থেকেই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তারা অভিযোগ করেন, কারখানার অভ্যন্তরীণ সড়কে মালামাল রাখায় চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে দুর্ঘটনার সময় অনেক শ্রমিক দ্রুত বের হতে পারেননি। ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক অবরোধ করেন। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা কারখানার পিএম জসীম উদ্দীন ও সুপারভাইজার মনিরকে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
পরে ফতুল্লা থানা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক বাবুল আহমেদ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন।
৩৭ দিন আগে
মিরপুরে গ্যাস লাইনের সামনে সিগারেট খাওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩
রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় গ্যাস লাইনের লিকেজের সামনে সিগারেট খেতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন— মিরাজ (২৬), সুজন (২৪) ও বিপ্লব (২৪)।
দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, আজ ভোরের দিকে তিন যুবক মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় সিগারেট খাওয়ার সময় লাইনের গ্যাস থেকে লিকেজের ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে মিরাজের শরীরে ১৫ শতাংশ, সুজনের শরীরে ২৪ শতাংশ দগ্ধ এবং বিপ্লবের শরীরে ১০ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে। আমরা ৩ জনকেই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখেছি।
৫০ দিন আগে