বিস্ফোরণ
রাজধানীতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দগ্ধ একই পরিবারের ১০
রাজধানীর উত্তরার কামারপাড়ায় একটি বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন— মো. রুবেল (২৮), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (০৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই মো. এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী মোছা. দুলারা খাতুন (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১৩), এনায়েতের ভাই মো. হাবিব (৩০), ভাগনি আয়েশা, (১৯) মো. হাবিব (৩৫) ও আবু কালাম রুবেল (৩৫)।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা সাজেদ মাতব্বর জানান, উত্তরার কামারপাড়া ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডের মেম্বার বাড়ির পাশে আবুল কালামের বাসায় দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন রুবেল। ওই বাসায় ভোরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।
তিনি জানান, রুবেল মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার করেন। রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত দুবাই প্রবাসী। কিছুদিন আগে দেশে ফিরেছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারি অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তিদের মধ্যে শিশু রোজার শরীরের ১৮ শতাংশ দগ্ধ, সোনিয়া আক্তার দগ্ধ ১০০ শতাংশ, রুবেলের ৩২ শতাংশ, জুনায়েদ ২৪ শতাংশ, এনায়েত আলী ৪৫ শতাংশ, দিলেরা খাতুন ১৪ শতাংশ, আবু কালাম রুবেলের ৭ শতাংশ, হাবিবের ১৯ শতাংশ, আয়েশা আক্তার ১২ শতাংশ ও রিয়া আক্তারের শরীরের ৩২ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে।
যাদের শরীরের দগ্ধের পরিমাণ বেশি, তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অন্যদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান এ চিকিৎসক।
১ দিন আগে
কক্সবাজারে গ্যাস ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণ, ১৬ জন দগ্ধ
কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে এন আলম নামের একটি এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন ও বিপুল জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১০টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের মধ্যে ৭ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ নিশ্চিত করেছেন, ওই ফিলিং স্টেশনটির কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না এবং গ্যাস লিকেজ থেকেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, এন আলম নামক ওই ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা ধরে পুরো এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
রাত সোয়া ১০টার দিকে বিকট শব্দে পাম্পের ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন দ্রুত পাম্পের চারপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় ৫ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
৯ দিন আগে
চট্টগ্রামে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৪
চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আশুরা আক্তার পাখি (৩০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পাখির বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার রহিমানগর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আবুল বাশারের মেয়ে ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, পাখি আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এছাড়া তার শ্বাসনালীতে দগ্ধজনিত ক্ষত হয়ে গিয়েছিল যা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।
এর আগে একই ঘটনায় নুরজাহান আক্তার ও তার ছেলে শাওন এবং দেবর সুমনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ পাখি আক্তারের মৃত্যু হলো।
এদিকে, এই বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আরও ৫ জন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় গ্যাস লাইন থেকে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হন। ঘটনার পর দগ্ধদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
১০ দিন আগে
চট্টগ্রাম–কুমিল্লার বিস্ফোরণে দগ্ধদের দেখতে বার্ন ইনস্টিটিউটে দুই মন্ত্রী
চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদের দেখতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ন্ত্রণে তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছান তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন। পরে তিনি আহতদের বর্তমান অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীদের বিস্তারিত জানান।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে একই পরিবারের ৯ জন অগ্নিদগ্ধের মধ্যে ২ জন মারা গেছেন, ৭ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং একজন রোগী ভেন্টিলেশনে আছেন। আমি তাদের দেখে এসেছি। ভর্তিকৃত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। অন্যদিকে কুমিল্লা থেকে সকালে একই পরিবারের ৪ জন এসেছে। তাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমরা এখানে চিকিৎসকদের বলেছি তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্যাস লিকেজ থেকে সারাবছরই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের হালিশহরে গতকাল একটি ঘটনা ঘটেছে এবং আজকে সকালে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আরো একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা শিল্প মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থা মন্ত্রণালয় এই তিনটি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাই। যাতে মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারকে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা যায়। আমরা অল্প সময়ের মধ্যে তিন মন্ত্রণালয় বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব কিভাবে এই দুর্ঘটনাকে কমিয়ে আনা যায়।’
সাংবাদিকদের তিনি আরও জানান, ‘এই ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক শিশু বাচ্চা সহ নারীরা আহত হয়েছেন। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যে ধরনের সাপোর্ট লাগে আমরা সেই ধরনের সাপোর্ট দেব।’
পরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা নাসির উদ্দিন জানান, ‘আজকেও সেহরির পরে শিশু বৃদ্ধসহ বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছে। আমরা এই ধরনের ঘটনা আমরা প্রায়ই পাই। আমাদের এখানে চিকিৎসায় তাদের কোন সমস্যা হবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা চিকিৎসার ব্যাপারে সাহায্য পাব। আমাদের চিকিৎসায় কোন সমস্যা হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সহযোগিতা পাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম থেকে আগেই বিষয়টি জানানো হয়। সেই অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। আমাদের চিকিৎসকরা বিষয়টি জানতেন এবং আমাদের অতিরিক্ত জনবল ডিপ্লয় করা ছিল। চট্টগ্রাম থেকে আনার পথে একজন নারী এখানে মারা যায়। অনেকের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। আইসিইউ ও এইচডিইউতে তাদের চিকিৎসা চলছে। ৮ জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি আমাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।’
১১ দিন আগে
কুমিল্লায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের দগ্ধ ৪
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন— মনোয়ারা (৬০), জিল হক (৩৭), উম্মে হুমায়রা (৩০) ও হুররাম (২)।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে মনোয়ারা বেগমের শরীরের ২ শতাংশ, জিল হকের শরীরের ৫৪ শতাংশ, হুমায়রার শরীরের ৬৫ শতাংশ ও শিশু হুররামের শরীরের ৬ শতাংশ পুড়ে গেছে। এদের মধ্যে জিল হক ও হুমায়রার দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তাদের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।
১১ দিন আগে
চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৩
চট্টগ্রামে হালিশহরে গ্যাস লাইন লিকেজে বিস্ফোরণে দগ্ধ সামির আহমেদ সুমন (৪০) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩ জনে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সুমনের শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল এবং তার ইনহ্যালেশন ইনজুরি ছিল।
এর আগে, নুরজাহান আক্তার ও তার ছেলে শাওন নামে দুই জনের মৃত্যু হয়েছিল। দগ্ধ বাকি ৬ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান এ চিকিৎসক।
ডা. শাওন জানান, শাখাওয়াত ও পাখি আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। শিপনের ৮০ শতাংশ, আয়েশার ৪৫ শতাংশ, উম্মে আয়মান স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ এবং আনাসের শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে নগরীর হালিশহর এলাকার এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়।
বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন— শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), তার ভাই মো. শিপন (৩১), মো. সামির আহমেদ সুমন (৪০), শাখাওয়াতের বড় ছেলে মো. শাওন (১৬), সামিরের বড় ছেলে মো. ফারহান আহমেদ আনাস (৬), শাখাওয়াতের ছোট মেয়ে মো. আইমান স্নিগ্ধা (৯), সামিরের ছোট মেয়ে আয়েশা আক্তার (৪), সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩৫) এবং শাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী (৪০)।
১১ দিন আগে
ভোলায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যালট ছিনতাই, আটক ১
ভোলা-১ (সদর) আসনের আলীনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের মাঠে ককটেল বিস্ফোরণ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘনটাস্থল থেকে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে একদল গুন্ডা লোক বোমা ফাটিয়ে কেন্দ্রের মধ্যে প্রবেশ করে কেন্দ্রের দায়িত্বরত অনেককে হেনস্তা করেছে। এ সময় তারা ৫৬টি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয় এবং ৭৬টি উল্টাপাল্টা সিল মেরে রেখে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সে সময় থেকে কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়।
এ খবর পেয়ে কেন্দ্রে ছুটে যান সংসদ সদস্য প্রার্থী বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর দুপুর ২টার পর পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
২৩ দিন আগে
চীনে জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৮
মধ্য চীনের শানসি প্রদেশে একটি জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (ফেব্রুয়ারি) ভোরে শানসি প্রদেশের শানইন কাউন্টিতে জিয়াপেং বায়োটেকনোলজি কোম্পানির একটি কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কারখানাটি শানইন শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে একটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি বায়ো-ফিড, কয়লা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং রং উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শানইন কাউন্টি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোম্পানির আইনগত প্রতিনিধিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনাস্থল শুয়োঝৌ শহরের কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করছেন বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, রবিবারও জরুরি পরিষেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও গাঢ় হলুদ ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বসবাসকারী এক ব্যক্তি বেইজিং নিউজকে বলেন, বিস্ফোরণে দুর্ঘটনাস্থলই শুধু নয়, আশপাশের এলাকাও কেঁপে ওঠে। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন যে ভূমিকম্প হচ্ছে। তার ঘরের জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিকট এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। পরে বাইরে বেরিয়ে দূরে আকাশছোঁয়া আগুনের শিখা ও সাদা ধোঁয়া দেখতে পান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনা বুঝতে পেরে আমি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। এরই মধ্যে পথে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি তাকে অতিক্রম করে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৬ জুন জিয়াপেং বায়োটেকনোলজি কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নিবন্ধিত ঠিকানা এমন একটি গ্রামের কাছে যেখানে আগে খনিশিল্পের কার্যক্রম চলত। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স এখনও পায়নি।
ওই জায়গাটি লিজ নিয়ে বার্ষিক ১৫ হাজার টন বায়ো-ফিড কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য ৮৫ লাখ ইউয়ান (প্রায় ১২ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করে সেখানে কর্মশালা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল কোম্পানিটি।
১ হাজার বর্গমিটার আয়তনের একটি উৎপাদন কারখানা, ৫০০ বর্গমিটারের একটি গুদাম, ২০০ বর্গমিটারের অফিস ও আবাসন সুবিধা এবং দুটি বায়ো-ফিড কাঁচামাল উৎপাদন লাইনসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কেনা কোম্পানিটির পরিকল্পনায় ছিল।
কোম্পানির ভবনের বিন্যাসচিত্র অনুযায়ী, উৎপাদন কারখানা গোটা জায়াগার মাঝখানে অবস্থিত। এর আর চার কোণে রয়েছে অফিস ভবন, গুদাম, পয়ঃশোধন কেন্দ্র ও অস্থায়ী বিপজ্জনক বর্জ্য সংরক্ষণাগার।
এদিকে, এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, বায়ো-ফিড উৎপাদন কোনোভাবেই ‘স্বল্পঝুঁকির’ কাজ নয়। বিশেষ করে ধুলিকণা ঝমে বিস্ফোরণের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
তারা বলছেন, শস্য ও প্রোটিন পাউডারের মতো উপকরণ থেকে সৃষ্ট জৈব ধুলা বদ্ধ স্থানে জমে থাকে। এরপর তাতে সামান্য আগুন বা বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গও বিস্ফোরণের সূত্রপাত করতে পারে।
২৭ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আলাউদ্দিনের মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ আলাউদ্দিন (৩৫) মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্য কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আলাউদ্দিন। তার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ওই দুর্ঘটনায় বর্তমানে জরিনা বেগম শরীরের ২০ শতাংশ, সাথীয়া আক্তার ১২ শতাংশ এবং সাইমা শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রান্নাঘরে লাইনের গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ভোর ৪টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধ আলাউদ্দিনের বোন সালমা আক্তার রবিবার বলেছিলেন, ‘আমার ভাইয়ের বাসায় লাইনের গ্যাসের মাধ্যমে রান্নার কাজ চলত। গত রাতে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমে যায়। পরে তা থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়ে আমার দুই ভাতিজিসহ ভাইয়ের পরিবারের চার সদস্য আহত হয়।’
ওই ঘটনায় আলাউদ্দিনের শরীরেরই সর্বাধিক ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শুধু তাকেই নিবিড় পরিচর্যা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছিলেন ডা. শাওন বিন রহমান। তবে তিন দিনের চিকিৎসাও পরও তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হলো না।
৮৭ দিন আগে
গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারায়ণগঞ্জে ৪ জন দগ্ধ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশু ও নারীসহ এক পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণে দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার কাঁচপুর পাটাততা গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন— জরিনা বেগম (৬৫), আলাউদ্দিন (৩৫), সাঁথিয়া আক্তার (১৪) ও সাইমা (৪)।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আজ ভোরে সোনারগাঁও এলাকা থেকে শিশু ও নারীসহ চারজনকে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের মধ্যে জরিনা বেগমের শরীরের ২০ শতাংশ, আলাউদ্দিননের ৪০ শতাংশ, সাঁথিয়া আক্তারের ১২ শতাংশ এবং শিশু সাইমার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে আলাউদ্দিনের দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে এবং অন্যদের জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদেরও ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হতে পারে।
দগ্ধ আলাউদ্দিনের বোন সালমা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাইয়ের বাসায় লাইনের গ্যাসের মাধ্যমে রান্নার কাজ চলত। গত রাতে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমে যায়। পরে তা থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়ে আমার দুই ভাতিজিসহ ভাইয়ের পরিবারের চার সদস্য আহত হয়। পরে আজ ভোরে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি।’
এ বিষয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনা আমাদের কেউ জানায়নি। শুনেছি দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।’
৯১ দিন আগে