রাষ্ট্রদূত
বেলজিয়াম ও ইইউতে ভারতের রাষ্ট্রদূত হলেন প্রণয় ভার্মা
বাংলাদেশে নিযুক্ত বর্তমান ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার এই নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বেলজিয়ামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রণয় ভার্মা খুব শিগগিরই তার নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনারের নাম এখনও ঘোষণা না হওয়ায় প্রণয় ভার্মা আরও এক বা দুই মাস এখানে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
এর আগে, ভিয়েতনামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রণয় ভার্মা ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসেন।
১৯৯৪ সালে ভারতীয় পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেওয়া এই কূটনীতিক হংকং, সান ফ্রান্সিসকো, বেইজিং, কাঠমান্ডু এবং ওয়াশিংটনে বিভিন্ন কূটনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রণয় ভার্মা ২০১৭ সালের জুন থেকে নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি পরমাণু শক্তি বিভাগে বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক যুগ্ম সচিব হিসেবে ভারতের পরমাণু কূটনীতির বিষয়টি দেখভাল করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে প্রণয় ভার্মা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী।
ভারতীয় পররাষ্ট্র সেবায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভারতের ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টাটা স্টিলে তার পেশাদার জীবন শুরু করেছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবারি ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থেকে চীনা ভাষার ওপর তার মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে।
৯ দিন আগে
পুলিশ সংস্কারে ফ্রান্সের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, মব নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসবাদ দমন, পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, র্যাবের সংস্কার ও পুনর্গঠন, ফরেনসিক খাতে সহযোগিতা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পুলিশ সংস্কারে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি। তবে এই উন্নয়ন রাতারাতি সম্ভব নয়; ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল থাকায় মব নিয়ন্ত্রণে তারা সফল হতে পারেনি। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কোনো মবের ঘটনা ঘটেনি। সরকার কোনো ধরনের মব বা বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সভা-সমাবেশ ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশ করতে পারবে।
র্যাবের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজন রয়েছে। র্যাবের নাম সংশোধন এবং বিদ্যমান জনবল ও লজিস্টিকসকে কাজে লাগিয়ে আইনি পর্যালোচনার মাধ্যমে বাহিনীটিকে কার্যকরভাবে রাখা হবে।
এ সময় ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে চায় এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে ফ্রান্স সহযোগিতার পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘অ্যান্টি রায়ট ট্রুপ’-এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে ফ্রান্স দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
এছাড়া ফ্রান্স দূতাবাস থেকে আইজিপি, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন করে চিঠি ইস্যু করেছে বলেও মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ফ্রান্স দূতাবাসের ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাটাচে ক্রিস্টেল ফন্টেইন এবং পলিটিক্যাল কাউন্সেলর ক্রিশ্চিয়ান বেক উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম
জেনেভায় জাতিসংঘের দপ্তরগুলোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলামকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়ামের পররাষ্ট্র সচিব পদে নিয়োগের পর থেকে এই পদটি খালি ছিল।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রদূত আরিফুল ইসলাম ইতোমধ্যে জেনেভা থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যোগদান করেছেন।
গত বছরের জুনে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এর আগে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তারেক মো. আরিফুল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিসিএস (পররাষ্ট্র ক্যাডার) ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা তারেক মো. আরিফুল ইসলাম ১৯৯৮ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।
তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটি থেকে কূটনীতি ও বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত হলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, মানবাধিকার ও অভিবাসন বিষয়ে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
পেশাগত জীবনে আরিফুল ইসলাম নিউইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনেও কাজ করেছেন। বাংলাদেশে সর্বশেষ ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালকের (দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগ) দায়িত্ব পালন করেছেন।
২২৮ দিন আগে
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত হলেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন
বাংলাদেশের জন্য রাষ্ট্রদূত হিসেবে পেশাদার কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে মনোনীত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এতে বলা হয়েচছে, সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের সদস্য ও ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
একাধিক নিয়োগ ও মনোনয়নের অংশ হিসেবে এই পদে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ। ক্রিস্টেনসেনের পাশাপাশি বর্তমান স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুসকে জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত এবং সের্গেই গরকে ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তিনটি নিয়োগই দেশটির সিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বর্তমানে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিন বছর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক বিভাগে কাউন্সিলর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে পররাষ্ট্র দপ্তরের পাকিস্তান ও বাংলাদেশবিষয়ক অফিসে বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অবশ্য বর্তমানে এ নামে আর কোনো অফিস নেই।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়: ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত প্রোফাইল অনুসারে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের পুরো নাম ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পলিটিক্যাল-মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র হস্তান্তর অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর (২০১৬-২০১৯) এবং হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির এশিয়া ও প্যাসিফিক সাব-কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের স্টাফে পারসন ফেলো (২০১৫-২০১৬) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়াও উত্তর কোরিয়া নীতির জন্য বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী, ইস্ট এশিয়া ও প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর সাইবার কো-অর্ডিনেটর, ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসে অর্থনীতিবিষয়ক ডেপুটি কাউন্সেলর, সান সালভাদরে মার্কিন দূতাবাসে ডেপুটি ইকোনমিক কাউন্সেলর, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে অর্থনৈতিক কর্মকর্তা এবং হো চি মিন সিটিতে মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের ভাইস কনসাল হিসেবে কাজ করেছেন।
সিনেটে অনুমোদন পেলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হবেন ক্রিস্টেনসেন। গত বছর বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিদায় নেওয়ার পর অবসরে যান হাস। তারপর থেকে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস রাষ্ট্রদূতশূন্য রয়েছে।
হাসের পর মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ অবসরপ্রাপ্ত আরেক পেশাদার কূটনীতিক ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দিয়ে পাঠায়। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই পদে দায়িত্বে রয়েছেন।
২২৮ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: রাষ্ট্রদূত তারেক
রোহিঙ্গাদের রাখাইনে স্বেচ্ছা, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সব পক্ষের সাথে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
শুক্রবার (৪ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৫৯তম অধিবেশনে ওআইসির উত্থাপিত ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার প্রাক্কালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য দ্রুত একটি অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব।
রাখাইনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার চলমান সংঘাত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন এই রাষ্ট্রদূত।
শনিবার (৫ জুলাই) জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, রাখাইনের সংঘাতে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে বাংলাদেশের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
রাখাইন রাজ্যে চলমান হত্যাযজ্ঞ, নিপীড়ন এবং সহিংসতা এড়াতে শুধু ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ আঠারো হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।
এ ছাড়াও, আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা নিয়ে অনুষ্ঠেয় উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাস্তবমুখী এবং সময়াবদ্ধ সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ এশিয়ায় জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার: ড. ইউনূসকে জাইকা শীর্ষ কর্মকর্তা
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৫৯তম অধিবেশনে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কিত প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের জন্য ক্রমহ্রাসমান মানবিক সহায়তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকতর দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে জোর দেয়া হয়।
এ ছাড়াও, এতে জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলোকে রাখাইনে নিরবিচ্ছিন্ন এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রস্তাবটিতে রাখাইনে বিচারহীনতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি অবসানের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হয়। এর পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের সব স্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের অংশগ্রহণ এবং অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন কাঠামো স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।
গত ১৬ জুন শুরু হওয়া জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৫৯তম অধিবেশন আগামী ৯ জুলাই শেষ হবে।
২৮৮ দিন আগে
বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে পর্যটন সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ
বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্কের ক্ষেত্রে পর্যটন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সরাসরি সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি।
দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের অংশ হিসেবে হিমালয়ের উচ্চতা এবং বঙ্গোপসাগরের গভীরতার মধ্যে প্রকৃত সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ভিসা সমস্যা ও সম্পর্ক জোরদারে একসঙ্গে কাজ করবে ঢাকা-আমিরাত: লুৎফে সিদ্দিকী
‘নেপাল-বাংলাদেশ ট্যুরিজম মিট’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত। নেপাল পর্যটন বোর্ডের সহযোগিতায় ঢাকাস্থ নেপাল দূতাবাস অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নেপাল সরকার পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা তুলে ধরার পাশাপাশি নেপালকে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে যাত্রা ও ভ্রমণ উদ্যোক্তাদের অবদানও প্রশংসার যোগ্য।’
৩০৪ দিন আগে
জামায়াত আমিরের সাথে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। যেখানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জাতীয় নির্বাচন, নারী অধিকার, সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছন দলটির নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মি. মাইকেল মিলার সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় আমিরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দসহ আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে উরুগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
বৈঠক শেষে তাহের বলেন, ‘সম্প্রতি আমিরে জামায়াতসহ আমরা ব্রাসেলস সফর করেছি। সেখানে বেলজিয়াম সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, উন্নয়ন-অগ্রগতিসহ নানা বিষয়ে আমাদের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু এবং আমাদের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস বিষয়ে আমাদের অবস্থান তারা জানতে চেয়েছেন। এসব বিষয়ে আমরা তাদেরকে স্পষ্ট ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা তাদেরকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর কথা বলেছি। প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসাতে আমরা তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং একই ব্যক্তির দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিষয়টিও আমরা তাদেরকে অবহিত করেছি। নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালার বিষয়ে তাদেরকে বলেছি যে, যৌনকর্মীর লাইসেন্স প্রদান নারীর মর্যাদা ও অধিকারের প্রতি চরম আঘাত। তারা এসব বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তারা জামায়াতে ইসলামীতে শতকরা ৪৩ ভাগ নারীর অংশগ্রহণের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার ব্যাপারে তারা দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
৩৫৭ দিন আগে
বাঘ বাঁচাতে সাইকেলে চড়ে ডাচ রাষ্ট্রদূতের সুন্দরবন যাত্রা
সুন্দরবনকে বাঁচানোর উপায় বরাবরই কেবল কথা নয়, বরং তার চেয়েও বেশি কিছুর দাবি রাখে। এর জন্য প্রয়োজন হয় ঘর্মাক্ত শরীর, ফোসকা পড়া পা ও এমন একগুঁয়েমি, যাতে সূর্যের প্রখর রোদে শরীর পুড়লেও যাত্রা ব্যাহত হবে না; কঠিন পরিস্থিতিতেও চলবে অগ্রযাত্রা।
গত ২৮ থেকে ৩০ মার্চ এমন কিছুই করে দেখিয়ে দিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত আন্দ্রে কারসটেন্স। কূটনীতির করিডোর ছেড়ে সাইকেলে চেপে তিনি বেরিয়ে পড়েন ধুলি ওড়া, কঠিন পথে। বরিশাল থেকে বাঘের ডেরা সুন্দরবনের জয়মণিতে অবস্থিত ওয়াইল্ডটিমের কনজারভেশন বায়োলজি সেন্টার ‘টাইগারহাউস’ পর্যন্ত ১৬৩ কিলোমিটার পথ সাইকেলে পাড়ি দিয়েছেন এই কূটনীতিক।
ছেলে কারস্টেন্স ইয়াকোবাস হেরমানাস ও দুই বন্ধু নিলস ফন ডেন বের্গে (নেদারল্যান্ডস পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য) ও ইয়ংমান কারিনকে সঙ্গে নিয়ে এই যাত্রা করেন তিনি। এ সময় আড়ম্বর করে প্রতিনিধি দল কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নেননি এই কূটনীতিক; এটি ছিল নীরব-নিভৃতে সচেতন এক অভিযাত্রা।
আরও পড়ুন: সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এনআইসি সদস্য হলেন এনায়েতউল্লাহ খান
তার এই কর্মকাণ্ড এক যুগ আগের এমনই আরেকটি যাত্রার কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদ, কূটনীতিক ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের একটি দল দেশজুড়ে রিকশা চালিয়েছিলেন। সেই সময়ের লক্ষ্য ছিল বাঘের অস্তিত্ব সংকটকে জনসমক্ষে তুলে ধরা।
আর এবারের মিশন ছিল সুন্দরবনের হৃদস্পন্দন—এর উত্তাপ, কানাকানি ও নাজুক অস্তিত্বের ভার সরেজমিনে অনুভব করা।
গত ১০ ও ১১ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের উপপ্রধান ড. বেয়ার্ন্ড স্পানিয়েরের সঙ্গে প্রথমবার ওয়াইল্ডটিমস কনজারভেশন বায়োলজি সেন্টার পরিদর্শন করেন কারসটেন্স। এরপর ৮০ দিনেরও কম সময়ের ব্যবধানে তিনি সেখানে ফিরে যান। তবে এবার শুধু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, তাদের আবাসস্থল ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিজে অনুভব করে এসব বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সচেতনতা বৃদ্ধিই ছিল তার লক্ষ্য।
আন্দ্রের মতে, ‘মানুষ ভাবে সুন্দরবন শুধুই একটি বন, কিন্তু সত্যিকার অর্থে এটি বাংলাদেশের শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া জীবন্ত রক্ষাকবচ। আপনি যখন এর ভেতর দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাবেন, তখন বুঝতে পারবেন—এটি আমাদের কত কিছু দিচ্ছে এবং ঠিক কতটা হারাচ্ছে।’
নিলস ফন ডেন বের্গে নেদারল্যান্ডসের সংসদ সদস্যই শুধু ছিলেন না, ডাচ ওয়াখেনিনগেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পরিবেশবিদ হিসেবে স্নাতকও সম্পন্ন করেছেন। বিশ্বব্যাপী বিলুপ্তপ্রায় এই বাঘের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের আবাসস্থল বাংলাদেশের সুন্দরবন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বের্গে বলেন, ‘ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশটি যেভাবে এই বনটিকে আগলে রেখেছে, তা দেখে আমি অভিভূত। ওয়াইল্ডটিমের মতো সংস্থা ও কমিউনিটি—যারা এটি সম্ভব করেছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’
‘আমার প্রিয় লেখক অমিতাভ ঘোষের ‘হাংরি টাইডের’ এই ভূখণ্ডে এটি আমার তৃতীয় ভ্রমণ। অর্থাৎ তৃতীয়বারের মতো আমি সুন্দরবন এসেছি। কিন্তু সাইকেল চালিয়ে এটিই আমার প্রথম সুন্দরবন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। অসাধারণ এক যাত্রা ছিল এটি। যেখানেই গিয়েছি, সেখান থেকেই সহযোগিতা পেয়েছি। গ্রামের ছেলেরা সরু অস্থায়ী সেতুর ওপর দিয়ে সাইকেল নিয়ে যেতে আমাদের সহযোগিতা করেছে। এর সঙ্গে ছিল রেস্তোরাঁয় বিনামূল্যের চা ও চমৎকার সব আড্ডা,’ বলেন তিনি।
‘দ্য হাংরি টাইড’ ভারতীয় লেখক অমিতাভ ঘোষের চতুর্থ উপন্যাস। সুন্দরবনের প্রেক্ষাপটে এটি লেখেন তিনি। কথা সাহিত্যের জন্য ২০০৪ সালে ‘হাচ ক্রসওয়ার্ড বুক অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত হয় বইটি।
আরও পড়ুন: ওএএনএ সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন এনায়েতউল্লাহ খান
টাইগারহাউসে সাইক্লিস্টরা পৌঁছানোর পর পুরোনো বন্ধুদের মতো সম্ভাষণ জানান টাইগারস্কাউটরা—স্থানীয় তরুণ সংরক্ষণবাদী, যারা সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে থাকেন। এছাড়া ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমও (ভিটিআরটি) তাদের স্বাগত জানায়। মানুষ ও বাঘের সংঘাত নিরসনে কাজ করতে এই টিমকে প্রশিক্ষণ দেয় ওয়াইল্ডটিম।
এই কেন্দ্রটি আইইউসিএনের সমন্বিত বাঘের আবাসস্থল সংরক্ষণ কর্মসূচির (আইটিএইচসিপি) অধীনে ওয়াইল্ডটিমের কাজের প্রাণকেন্দ্র। জার্মানি ও কেএফডব্লিউ উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় এটি পরিচালিত হয়। এটি এমন একটি কেন্দ্রস্থল যেখানে বিজ্ঞানের সঙ্গে টিকে থাকার লড়াইয়ের মিলন ঘটে।
৩৮২ দিন আগে
মরক্কো ছেড়ে কানাডায় যাওয়া রাষ্ট্রদূত হারুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
মরক্কোতে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে না ফিরে কানাডায় গিয়ে সেখান থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা ও বিগত সরকারের সাফাই গাওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের জেরে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হারুন আল রশিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (১৪ মার্চ) প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ ডিসেম্বর মরক্কোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হারুন আল রশিদকে দেশে প্রত্যাবর্তন ও অনতিবিলম্বে মন্ত্রণালয়ে যোগদানের জন্য আদেশ দেওয়া হয়। এ সত্ত্বেও তিনি স্বপদে বহাল থেকে এ বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব ত্যাগ করেন।
মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে যাত্রা বিলম্বিত করেন। মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়াই তিনি মরক্কোর রাবাত থেকে কানাডার অটোয়ায় চলে গেছেন বলে জানা গেছে। এরপর গত ৬ মার্চ তার অটোয়া থেকে ঢাকায় ফিরে আসার কথা থাকলেও তিনি আসেননি।
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আজ হারুন ফেসবুকে ‘A Plea for Bangladesh-and for Myself Subject: Bangladesh’s Descent into Anarchy under Yunus-The World’s Silence is painful’ শীর্ষক একটি লেখা পোস্ট করেন। যেখানে তিনি পূর্ববর্তী ‘নিপীড়ক ফ্যাসিবাদী সরকারের’ গুণকীর্তনের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে পরিস্থিতি ক্রমশ নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে চিত্রিত করার অপচেষ্টা করেছেন। তার পোস্টে হারুন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, “প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশে বিরাজমান পরিস্থিতি এবং বাস্তবতাকে সম্পূর্ণরূপে বিকৃত উপস্থাপন করে ফেসবুকে এ ধরনের লেখা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং এর বিষয়বস্তু গভীরভাবে উদ্বেগজনক। এরূপ রচনা লেখকের গোপন উদ্দেশ্য বা অসৎ অভিসন্ধির ইঙ্গিত দেয়।”
“বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ও মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পরিবর্তে তিনি কানাডায় চলে যান এবং সেখান থেকে ফেসবুকে লেখালেখি শুরু করেন। তিনি তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজেকে ‘নির্যাতিত কূটনীতিক’, ‘নির্বাসিত ঔপন্যাসিক’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মূলত বিদেশে সহানুভূতি অর্জনের অভিপ্রায়ে করা হয়েছে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে তার এবং তার পরিবারের (সদস্যদের) পাসপোর্ট বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় মোহাম্মদ হারুন আল রশিদের এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীর এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না জানিয়ে ভবিষ্যতেও যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
৪০১ দিন আগে
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ম্যারি মাসদুপুই।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এ সময় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে, রাষ্ট্র্রদূতের সঙ্গে ছিলেন দূতবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ক্রিশ্চিয়ান বেক।
আরও পড়ুন: জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে দোয়া মাহফিল করবে বিএনপি
বৈঠক শেষে আমীর খসরু সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’
‘নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রদূত আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন; আমরা তা বলেছি।’
৪১৭ দিন আগে