তেহরান
সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক, ওয়াশিংটনে ফিরছেন ভ্যান্স
ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে এই আলোচনা চলে। তবে শেষ পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে কোনো ‘সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি’ পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কী ঘটবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি ভ্যান্স। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘উভয় পক্ষের জন্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা অপরিহার্য।’ তিনি আরও জানান,সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংলাপ আয়োজনে ইসলামাবাদ সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।
ইরানের পক্ষ থেকে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘দুই বা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে’ আলোচনা ভেস্তে গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি জানান, আলোচনায় হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে, তবে পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে তিনি কিছু উল্লেখ করেননি
হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বিশ্ববাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলা এই যুদ্ধ সপ্তম সপ্তাহে গড়ানোর পর গত শনিবার ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হয়।
ভ্যান্স জানান, আলোচনা চলাকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, আমাদের এমন একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন যে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না এবং এমন কোনো সরঞ্জাম জোগাড় করবে না যা তাদের দ্রুত পরমাণু অস্ত্র অর্জনে সহায়তা করবে। এটিই মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এবং আমরা আলোচনার মাধ্যমে এটিই অর্জনের চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও জানান, গত ২১ ঘণ্টায় তিনি ৬ থেকে ১২ বার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গেও তার আলাপ হয়েছে।
দুই পাশে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে পডিয়ামে দাঁড়িয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনা করেছি। এখন আমরা একটি সাধারণ প্রস্তাব এবং সমঝোতার প্রক্রিয়া রেখে যাচ্ছি, যা আমাদের চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব। এখন দেখা যাক ইরানিরা তা গ্রহণ করে কি না।’
‘দুই থেকে তিনটি বড় ইস্যুতে’ মতপার্থক্য
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার জানিয়েছে, দুই বা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা সফল হয়নি।
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত এই আলোচনা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।’ তবে সেই ইস্যুগুলো ঠিক কী ছিল, তা তিনি বিস্তারিত জানাননি।
বাঘাই আরও জানান, কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা ‘আসলে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় পৌঁছেছিলেন।’ তিনি বলেন, আলোচনায় হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করেননি।
যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান পাকিস্তানের
ঐতিহাসিক এই সরাসরি বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষ যাতে যুদ্ধবিরতি পালন অব্যাহত রাখে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে এবং আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ সহজতর করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
৩ দিন আগে
আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান তেহরানের, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩১
লেবানন ও ইরানজুড়ে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে পারমাণবিক আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নতুন করে আলোচনা শুরু করার দাবিকে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবে না। কারণ, তাদের সশস্ত্র বাহিনী এই সংঘাত শুরু করেনি, বরং দেশটি এখন আত্মরক্ষার কাজ করছে।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) জানায়, রবিবার (১ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, দেশটি দুইবার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার চেষ্টা করেছিল; প্রথমবার ২০২৫ সালের স্থগিত আলোচনার সময় এবং দ্বিতীয়বার পুনরায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সময়।
এদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় তেল আবিব, জেরুজালেম ও বেইত শেমেশে আঘাত হানে। এতে মধ্য ইসরায়েলে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।
হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযান ঘোষণা ইসরায়েলের
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর এক বৈঠকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির বলেন, আমরা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছি।
লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় রাজধানীর উপশহরে ২০ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়েছেন এবং দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছেন।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার ফলে সৃষ্ট সংঘাতের রেশ ধরে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট ছুড়লে ইসরায়েল এই হামলা শুরু করে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের হুমকির কারণে ইতোমধ্যে দক্ষিণ লেবাননের লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটনের সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকবে। তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
এদিকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে বাহরাইনে একজন নিহত হয়েছেন। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং প্রায় ৪০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর ইরাক ও কুয়েতেও ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, দেশটির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার হুমকি রয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন দূতাবাস কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে আহ্বান জানিয়েছে। হামলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনার এবং সতর্ক থাকার আহ্বানও জানাচ্ছে। দূতাবাসের কর্মীরাও বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।
ইরানের সানান্দাজে হামলায় নিহত ২
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারস জানিয়েছে, সানান্দাজ শহরে শত্রু পক্ষের হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পুলিশ স্টেশনের কাছে কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।
এছাড়া তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী জনবহুল এলাকাগুলোসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
আল জাজিরার যাচাইকৃত ফুটেজে একটি হামলার সময় আকাশে আগুন এবং বিশাল ধোঁয়ার মেঘ দেখা গেছে।
‘আমেরিকা ফার্স্ট’ থেকে ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’
আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, ট্রাম্প তার ভ্রান্ত কল্পনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন এবং এখন আরও মার্কিন হতাহতের ভয় পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ট্রাম্প তার নিজের তৈরি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানকে ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’-এ রূপান্তর করেছেন এবং ইসরায়েলের উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য আমেরিকান সেনাদের বলি দিয়েছেন।
মার্কিন সেনা ও তাদের পরিবারকে এর মূল্য দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৪৪ দিন আগে
ইরানকে সীমিত হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হতে পারে বলে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক জানালেও তেরানে সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প নিজেই হামলার বিষয়ে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বলতে পারেন, আমি বিষয়টি (হামলা) বিবেচনা করছি।’ কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আরও বলেন, ইরানকে ‘একটি ন্যায্য চুক্তি’ নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানান, তার দেশ ‘আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে’ একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করে ওয়াশিংটনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
আরাগচি এমএসএনবিসির ‘মর্নিং জো’-এর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই চুক্তি করতে বেশি সময় লাগবে না। হয়তো এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা চুক্তির মূল বিষয় নিয়ে বাস্তব ও গুরুতর আলোচনা শুরু করতে পারব এবং একটি সিদ্ধান্তেও পৌঁছাতে পারব।’
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে চুক্তিসংক্রান্ত দাবি আদায়ে চাপ বাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। এখনো আরও যুদ্ধজাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে দেশটি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত জাহাজের ছবিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের নির্দেশে ক্যারিবীয় সাগর থেকে পাঠানো ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোল্ড নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে।
এমন বাস্তবতায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে গেলে তারা উভই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরাগচি বলেন, ‘আমরা যেমন কূটনীতির জন্য প্রস্তুত, তেমনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং ঠিক একইভাবে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছি।’
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলি ভাইজ বলেন, ইরান যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখবে।
ভাইজের মতে, প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের নেতারা দ্বিতীয়বার ভাববেন না এবং তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা হলেও তারা ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।
যা নিয়ে চলছে আলোচনা
এসব ঘটনার এক দিন আগে ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনার পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিনই ‘যথেষ্ট সময়’। জেনেভায় চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আলোচনাসহ বিভিন্ন বৈঠকে দৃশ্যমান অগ্রগতি কম হলেও আলোচনা চলছে।
তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের ২০১৫ সালে যে পারমাণবিক হয়, তা থেকে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়। তারপর থেকেই এই আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।
তারপর থেকে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর দাবিগুলো, যেমন: ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল ইরান।
যদিও প্রকাশ্যে মার্কিন কর্মকর্তারা ভিন্ন কথা বলেছেন, আব্বাস আরাগচি শুক্রবার বলেন, সর্বশেষ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি করেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিসহ চিরকাল শান্তিপূর্ণ থাকবে এমন পরিস্থিতি নিশ্চিত করা। এর বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান আস্থা বৃদ্ধিমূলক কিছু পদক্ষেপও বাস্তবায়ন করবে।’
আরাগচির এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বা তা তৈরির সক্ষমতা রাখতে পারবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও করতে পারবে না।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যেকোনো আলোচনা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই হওয়া উচিত। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে না বলেও দাবি করেছে তেহরান।
সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশে তেহরান বাধা দেওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘শান্তিপূর্ণ’ দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ মনে করে, এর লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত অস্ত্র উন্নয়ন।
মার্কিন কংগ্রেস যা বলছে
ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলার আগে প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কাইন শুক্রবার জানান, তিনি একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ প্রণয়ন করেছেন, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হবে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের একক সামরিক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা সীমিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ এটিতে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পেরই সই লাগবে। তবুও অতীতে ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সিনেটে যেসব রেজল্যুশনের ওপর ভোট হয়েছিল, সেগুলোর মতোই এই উদ্যোগে উভয় দলের কিছু সমর্থন তৈরি হয়েছে। যদিও সেসব রেজল্যুশন পাস হয়নি, তবু তা ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ তুলে ধরে।
এক সংবাদ বিবৃতিতে কাইন বলেন, ‘যদি আমার কিছু সহকর্মী যুদ্ধকে সমর্থন করেন, তাহলে তাদের উচিত সেই যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেওয়ার সাহস দেখানো এবং ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করা—ডেস্কের নিচে লুকিয়ে থাকা নয়।’
৫৩ দিন আগে
আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় ‘ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু’ বাদ দিয়েছে ইরান
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরবর্তী ধাপ শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেইসঙ্গে ‘ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আপস, এমনকি আলোচনাও করতে তেহরান রাজি নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ওমানের মাসকটে আলোচনায় বসে তেহরান। প্রথম ধাপের এই আলোচনার পর আগামী সপ্তাহে আরও এক দফা আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
এরপর স্থানীয় সময় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আরাগচি আলজাজিরাকে বলেন, শুক্রবারের আলোচনায় ইরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি’ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের কোনো অঞ্চলে হামলা চালায়, তাহলে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাটিগুলোতে হামলা চালাবে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মাসকটে দুপক্ষ আলোচনায় বসলেও সেটি প্রত্যক্ষ আলোচনা ছিল না। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা শেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
এ বিষয়ে আরাগচি বলেন, মাসকট আলোচনা পরোক্ষ হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ হয়েছে। এটি একটি ভালো সূচনা হতে পারে, তবে পাস্পরিক আস্থা তৈরি হতে এখনও অনেক পথ বাকি।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই বৈঠক নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও রাজধানী তেহরানে ইরানিদের মাঝে তেমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, আমার মতে, আগেরবারের মতো আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হবে। কারণ উভয় পক্ষই তাদের নিজেদের অবস্থানে অটল এবং পিছু হটতে রাজি নয়।
কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ আল-শায়জি বলেন, আমি দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন চুক্তির প্রত্যাশা করছি। তবে এ ব্যাপারে খুব বেশি আশাবাদী নই।
কাতারের রাজধানী দোহায় আল জাজিরা ফোরাম থেকে আল-শায়জি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে এবং তারা ইরানিদের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য ইসরায়েলের দ্বারা প্ররোচিত হচ্ছে। তারা মনে করছে, গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ফলে দেশটির সরকার এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এজন্য ইরানের কাছ থেকে দাবি আদায় এখন সহজ হবে।
পারমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ইরানের অধিকার
ট্রাম্প যদিও বলছেন যে শুক্রবারের আলোচনা ‘খুব ভালো’ হয়েছে, কিন্তু তিনি শনিবার থেকে কার্যকর এমন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন যাতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ইরানের তেল রপ্তানি রোধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র অসংখ্য জাহাজ সংস্থা এবং জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে ইরানের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বাণিজ্য হয়েছে চীনের সঙ্গে। এর মধ্যে আমদানি হয়েছে ১৮ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি হয়েছে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পারমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ইরানের অপরিহার্য অধিকার এবং এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই সমৃদ্ধকরণ নিয়ে নিশ্চয়তা দেয়, আমরা এমন সমঝোতা করতে প্রস্তুত। কেবল আলোচনার মাধ্যমেই ইরানের পারমাণবিক বিষয়গুলোর সমাধান হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চললেও আমাদের ‘ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি’ আলোচনার বিষয় নয়। কারণ এটি একটি প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত বিষয়।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন মোকাবিলার চেষ্টা করছে, যা আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে ইসরায়েল। তেহরান অবশ্য বারবার পারমাণবিক ইস্যুর বাইরে আলোচনার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
আল-শায়জি বলেন, ইরানিরা কোনো ধরনের ছাড়ের ব্যাপারে কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রও একই অবস্থান নিয়েছে যা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর জন্য তাদের চুক্তিতে আনা খুবই কঠিন করে তুলবে।
গত বছর ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বোমা হামলার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়ে। ওই ঘটনার পর শুক্রবারে প্রথমবারের মতো আলোচনায় বসে উভয় দেশ।
গত মাসে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে হুমকি বাড়িয়েছেন এবং মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছেন। এমনকি মাসকটে যখন বৈঠক চলছিল, তখন সেখানে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সামরিক নেতা ব্র্যাড কুপার।
শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার কৌশল
বৈঠেকের পর গতকাল (শনিবার) ওমান থেকে আরব সাগরে অবস্থানরত যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ পরিদর্শন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জারেড কুশনার।
পরিদর্শন শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে উইটকফ বলেন, ওই জাহাজ এবং তার স্ট্রাইক গ্রুপ আমাদের নিরাপদ রাখছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার’ বার্তা রক্ষা করছে।
তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার একটি ইরানি ড্রোনকে ভূপাতিত করা এক পাইলটের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তবে তিনি জানান, ড্রোনটি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ছোড়া হয়নি।
ডেনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের চেষ্টা করছেন। তবে আল-শায়জি বলেছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদী কোনো কৌশল হতে পারে না। তার মতে, ট্রাম্প তার বাহিনীকে দীর্ঘ সময় সতর্ক অবস্থায় রাখতে পারবেন না। এটা সত্যিই ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ইরানের প্রতি কঠোর ও কঠিন অবস্থানের ভাবমূর্তিকে অবমূল্যায়ন করবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরান নিয়ে আলোচনা করতে আগামী বুধবার মর্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেন, যেকোনো আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সীমাবদ্ধতা এবং ইরানকে মিত্র দেশগুলোর সমর্থন বন্ধ করা অবশ্যই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
তবে আরাগচি আশা প্রকাশ করেছেন, ওয়াশিংটন হুমকি ও চাপ প্রয়োগ থেকে বিরত থাকবে যাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
৬৬ দিন আগে
ইরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যানুষ্ঠান শুরু
তেহরানে ইসরায়েলের হামলায় নিহত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীসহ প্রায় ৬০ জনের রাষ্ট্রীয় জানাজা শুরু হয়েছে। তেহরান ছাড়াও দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে একই ধরনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়েছে, শহিদদের সম্মান জানাতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।
শনিবার (২৮ জুন) সকালে দেশটির রাজধানী তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সেখান থেকে আজাদি স্কয়ারের দিকে শোকযাত্রাটি শেষ হওয়ার কথা।
সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, শোকাতুর জনতা শোকের কালো পোশাক ও ইরানের পতাকা হাতে সমবেত হয়েছেন।
ইরানের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এর মধ্যেই নিহত শীর্ষ সামরিক ব্যর্ক্তি ও কর্মকর্তাদের কফিনের ছবি প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: সংঘাত থেকে কী পেল ইরান-ইসরায়েল?
নিহতদের মধ্যে আছেন ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাঘেরি, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি এবং আইআরজিসির বিমান শাখার প্রধান কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহ।
২৯১ দিন আগে
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত: তেহরানে বাংলাদেশিদের নিরাপদে স্থানান্তরের উদ্যোগ
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের রাজধানীর পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশিদের তেহরানের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রুহুল আলম সিদ্দিক সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে, ইরান ছেড়ে (বিমানপথে) যাওয়ার কোনো উপায় নেই। আমরা তাদের (বাংলাদেশিদের) নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশনা দিয়েছি।’
মিশনের কাছে থাকা তহবিল দিয়ে স্থানান্তর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তারা তেহরানে ৪০০ বাংলাদেশি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, কারণ তারা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তবে সিদ্দিক বলেন, প্রত্যাবাসন ও স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় আর্থিক সহায়তা পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধাও রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই কারণেই প্রত্যাবাসন ও স্থানান্তরে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
সিদ্দিক বলেন, নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনা করে ইরানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যেই তার বাসস্থান ছেড়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তেহরানে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি রয়েছেন। এর মধ্যে ১০০ জন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
সিদ্দিক বলেন, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং আবাসনের খরচ তাদের সরকার বহন করবে। এছাড়া যদি কেউ স্থলপথে ইরান ছাড়তে চায় সেক্ষেত্রে তাদের পাকিস্তান বা তুরস্ক হয়ে বাইরে পাঠানো যাবে কিনা তা তারা খতিয়ে দেখবে।
তেহরানে বাংলাদেশ মিশনে ৪০ জন কর্মী রয়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমরা সকল উপায় অনুসন্ধান করছি।’ তারা ইরানসহ বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সহায়তা চাইছেন।
এই বিষয়ে মিশন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
চ্যান্সেরিটি নিরাপদ নয় এবং এর এক কিলোমিটারের মধ্যে সংবেদনশীল অবকাঠামো (তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র) অবস্থিত। গত কয়েকদিনে এটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তেহরানের দুটি যোগাযোগ (ইন্টারনেট) কেন্দ্রের মধ্যে একটি চ্যান্সারির খুব কাছে অবস্থিত।
দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, এই অবকাঠামোগুলোতে যেকোনো আক্রমণের ফলে ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে, ইরানে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক ও বাংলাদেশে তাদের আত্মীয়স্বজনদের জানানো হয়েছে যে, তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন চালু করেছে।
ইরানে বসবাসকারী সকল বাংলাদেশি নাগরিক ও বাংলাদেশে তাদের আত্মীয়স্বজন জরুরি পরিস্থিতিতে দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিম্নলিখিত মোবাইল ফোন নম্বরগুলিতে (হোয়াটসঅ্যাপ সহ) সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন-
বাংলাদেশ দূতাবাস, তেহরান হটলাইন:
১. +৯৮৯৯০৮৫৭৭৩৬৮২. +৯৮৯১২২০৬৫৭৪৫
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা হটলাইন:
+৮৮০১৭১২০১২৮৪৭
ইরানে বসবাসকারী বাংলাদেশির সংখ্যা ২০০০ এরও কম এবং তাদের অনেকেই সেখানে বিয়ে করেছেন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলায় ইরানের হাসপাতালগুলোতে ‘রক্তবন্যা’
৩০২ দিন আগে
ইসরায়েলি হামলায় ইরানের হাসপাতালগুলোতে ‘রক্তবন্যা’
ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েল হামলা চালানোর পর থেকেই ইমাম খোমেনি হাসপাতালে আহতদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তবে স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় হামলার পর হাসপাতালটিতে হতাহতদের ঢল নামে। জরুরি বিভাগের বিভীষিকাময় এই পরিস্থিতিকে এক চিকিৎসক বর্ণনা করেছেন ‘রক্তস্নান’ হিসেবে।
দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি হামলার ভয়বহতার কথা এভাবেই বর্ণনা করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক।
তিনি বলেন, ‘যেন এক রক্তস্নান শুরু হয়েছে আমাদের হাসপাতালে। চারদিকে শোকাতুর আত্মীয়-স্বজনের চিৎকার আর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আমরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। অসংখ্য জীবন-সঙ্কটাপন্ন। আহত, ছোটখাটো আঘাত পাওয়া, এমনকি লাশ পর্যন্ত আনা হয়েছিল।’
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘর্ষ চতুর্থ দিনে গড়ালে ইরানের হাসপাতালগুলোতে একের পর এক হতাহতদের নিয়ে আসা শুরু হয়। হঠাৎ করে এমন পরিস্থিতিতে দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ছে। রোগীর চাপ সামলাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আহতদের সংখ্যা বেড়ে চলায় নাজেহাল হয়ে পড়ছে তেহরানের স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা।
সাক্ষাৎকারে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘আমি শিশু, কিশোর, প্রাপ্তবয়স্ক, এমনকি বৃদ্ধদেরও আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসতে দেখেছি। রক্তে ভিজে সন্তানকে নিয়ে ছুটে আসছেন মা। অনেক বাবা-মা তো বুঝতেই পারছেন না যে তারাও আহত। সন্তানকে কোল থেকে নামিয়ে রাখার পর যন্ত্রণায় কাতর হয়ে বসে পড়ছেন তারা।’
আহতদের মধ্যে উরুর হাড় ও কোমরের নরম টিস্যুতে ধাতব টুকরো প্রবেশ, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং মারাত্মক আকারে দগ্ধ হওয়ার মতো আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানান তিনি। ইসরায়েলের বোমার আঘাতে আহত হয়ে এবং বস্তুর ধারালো টুকরোর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মানুষজন হাসপাতালে ছুটে আসেন বলে জানান এই চিকিৎসক।
গত শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক স্থানে হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েল ওই অপারেশনের নাম দেয় রাইজিং লায়ন। এর পরপরই পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। তারপর থেকেই উভয় দেশের মধ্যে সংঘাত বেড়েই চলেছে।
সোমবার (১৬ জুন) সকালে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২২৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-অধিভুক্ত হাসপাতালগুলোতে অন্তত ১ হাজার ২৭৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানান ইমাম খোমেনি হাসপাতালের ওই চিকিৎসক। তাদের হাসপাতালের আইসিইউতে আরও শয্যা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ছোটখাটো আঘাতপ্রাপ্তদের অন্য ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আহত বা নিহতের সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্ট না করার জন্য আইসিইউ-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ডিউটির তালিকা বিভাগীয় প্রধানদের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নিহত ও আহতদের সংখ্যা জানতে চাইলে তেহরানের কর্তৃপক্ষ তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তেহরানভিত্তিক এক সাংবাদিকও।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপূর বলেন, আহতদের মধ্যে ৯০ শতাংশই বেসামরিক নাগরিক। যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কেবল ইরান সরকারের মালিকানাধীন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।
গতকাল একটি বিমানঘাঁটিতে সফরকালে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা যখন তেহরানের আকাশ নিয়ন্ত্রণে রাখি, তখন আমরা শুধু শাসকগোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করি। ইরানের অপরাধী সরকার যেমন আমাদের নাগরিকদের, শিশু ও নারীদের হত্যা করতে আসে, আমরা তেমনটি করি না।’
অন্যদিকে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক ঘাঁটি ও আবাসিক এলাকায় আঘাত হানার ফলে ইসরায়েলে অন্তত শিশুসহ ১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। আর ইরানের কেরমানশাহর একটি হাসপাতালে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত কারাজ শহরের একটি হাসপাতালের এক কর্মী জানান, ‘হাসপাতালে অনেক লাশ আছে, তবে তারা কারা সেটি আমি বলতে পারছি না। আমি শুধু যতটা সম্ভব জীবন বাঁচাতে চাই।’
আবাসিক এলাকায় হামলা চালানোর জন্য তিনিও ইসরায়েলের ওপর দোষারোপ করেন। এমনকি ইরান সরকারও বেসামরিকদের জীবনের প্রতি খুব একটা যত্নবান নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খাওয়া-দাওয়ার সময় পর্যন্ত পাইনি। সকাল পার হলে আরও লাশ আসবে বলে ভয় হচ্ছে আমার।’
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, সোমবার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতা করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আহ্বান করতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে ইরান। তবে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি।
এদিকে, দুঃস্বপ্নের মতো এই যুদ্ধে আহতদের সেবা দিতে গিয়ে ভয়াবহ এক সময় পার করছেন ইরানের স্বাস্থ্যকর্মীরা।
ইমাম খোমেনি হাসপাতালের ওই চিকিৎসক বলেন, ‘গত তিন দিনের পরিস্থিতি আমাকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের ভয়ঙ্কর সব স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। আঘাতগুলো ভয়ানক; আমার মনে হচ্ছে, আমরা যুদ্ধক্ষেত্রের পাশে কোনো অস্থায়ী হাসপাতালে কাজ করছি।’
আরও পড়ুন: অবিলম্বে তেহরান খালি করার আহ্বান ট্রাম্পের
৩০২ দিন আগে
সংঘাতের মাঝেও তেহরানের বায়ুমান ঢাকার চেয়ে ভালো
সোমবার রাত থেকেই দফায় দফায় কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়েছে ঢাকায়। ভোর থেকেও বেশ কিছুক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজেছে শহর। ফলে আজ রাজধানীর বায়ুমানের যে উন্নতি হবে তা আগেই টের পাওয়া যাচ্ছিল।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার বাতাসের একিউআই স্কোর ছিল ৭৩, মান অনুযায়ী যা ‘মাঝারি’। দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় এ সময় ঢাকার অবস্থান ছিল বেশ নিচে, ২৮তম স্থানে।
তবে এই সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে টপকে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, মিসরের কায়রো ও ইরাকের বাগদাদ। শহর তিনটির একিউআই স্কোর ছিল যথাক্রমে ১৬৯, ১৬৪ ও ১৬২। এরপরই ছিল পাকিস্তানের দুই শহর লাহোর (১৫১) ও করাচি (১৩৭)।
গত কয়েকদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলোতে বায়ুমানের অবনতি লক্ষ করা যাচ্ছে। অবশ্য ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণেই এমনটি হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কারণ চলমান সংঘাতের মধ্যেও আজ একই সময়ে তেহরানের বায়ুমান ছিল ঢাকার চেয়েও উন্নত (৫৬)। অন্যদিকে, ইসরায়েলের তেল আবিব শহরের বায়ুমান ছিল ৬৯।
আরও পড়ুন: দীর্ঘ ছুটি শেষে প্রথম দিনই বায়ুদূষণে বিশ্বে দ্বিতীয় ঢাকা
কণা দূষণের একিউআই মান যদি ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকে, তবে তা ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে হলে সেটি ‘মাঝারি’।
একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে— বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ভুগছে। শীতকালে এখানকার বায়ুমান সাধারণত সবচেয়ে খারাপ থাকে, আর বর্ষাকালে তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ।
৩০২ দিন আগে
তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সবাইকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত
ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনীতিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের যেকোনো সময় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, দূতাবাসের বর্তমান ভবনটি নিরাপদ নয়। কারণ এটি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত, যা সাম্প্রতিক সময়ে হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
আরও পড়ুন: ইরানে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য হটলাইন চালু
এ ছাড়া তেহরানের দুটি ইন্টারনেট হাবের একটি ওই ভবনের খুব কাছেই অবস্থিত। দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন, এসব স্থাপনায় হামলা হলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
হটলাইন চালু
এদিকে, ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে।
রবিবার (১৫ জুন) ইরানে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরানে বসবাসরত সব বাংলাদেশি নাগরিকের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দূতাবাস ইমার্জেন্সি হটলাইন স্থাপন করেছে।
এ ক্ষেত্রে ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের স্বজনরা নিচের নম্বরগুলোতে (হোয়াটসঅ্যাপসহ) জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারবেন:
বাংলাদেশ দূতাবাস, তেহরান হটলাইন:
১. +৯৮৯৯০৮৫৭৭৩৬৮
২. +৯৮৯১২২০৬৫৭৪৫
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা হটলাইন:
+৮৮০১৭১২০১২৮৪৭
ইরানে নথিভুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ২ হাজারেরও কম বলে জানিয়েছে সূত্র।
৩০২ দিন আগে
তেহরানে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জয়া আহসান
বাংলাদেশ-ইরানের যৌথ প্রযোজনায় ‘ফেরেশতে’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। এটি ‘ফেরেশতে’ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২২তম আসরে প্রদর্শন করা হয়েছে।
আর অভিনয়ের জন্য বরাবরের মতো বেশ প্রশংসিত হয়েছেন জয়া।
এবার ইরানের বৃহৎ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি হিসেবেও দেখানো হলো ‘ফেরেশতে’।
আরও পড়ুন: শেষ হলো জয়া আহসানের প্রথম বলিউড সিনেমার শুটিং
বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের তেহরানে শুরু হয়েছে ৪২তম ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।
এটি চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ উৎসবে ৩৭টি সিনেমা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে প্রতিযোগিতা করছে।
এরমধ্যে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে আছে ইরানি নির্মাতা মুর্তজা অতাশ জমজম পরিচালিত ‘ফেরেশতে’।
ফজর চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ফেরেশতে’র উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন- তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান, ছবির নির্মাতা অতাশ জমজম এবং ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা জয়া আহসান, সুমন ফারুক ও রিকিতা নন্দিনী শিমু।
আরও পড়ুন: অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে সিনেমাটি করতে হয়েছে: জয়া আহসান
৮০৩ দিন আগে