বিমান দুর্ঘটনা
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে যানবাহনে আঘাত করে আগুন ধরে যায়। এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রানওয়ে ছেড়ে যায়। পরে বিমানবন্দরসংলগ্ন গুদাম ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ব্যবহার করেন এমন একটি সড়কের ওপর দিয়ে গিয়ে কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করে।
মায়ামি-ডেড কাউন্টির কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ দুর্ঘঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে পাঁচজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিমানের পাইলটরা বেঁচে আছেন কি না কিংবা নিহত সবাই বিমানটির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ভেতরে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মায়ামি-ডেড রেসকিউ ফায়ার বিভাগের প্রধান রে জাদাল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনায় পাইলট ও কো-পাইলট ককপিটে এবং কয়েকজন যাত্রী বিমানের যাত্রীবাহী অংশের ভেতরে আটকা পড়েন। একটি যাত্রীবাহী অংশের নিচে আটকে পড়া একজনকেও উদ্ধারকারীদের বের করে আনতে হয়েছে।
ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যাওয়ার পর ব্যস্ত এই বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বেশ কিছু সময় বন্ধ ছিল। দুর্ঘটনার পরপরই প্রায় ২০০ জরুরি উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। বিমানের ইঞ্জিনের জটিল অংশে আগুন ধরে যাওয়ায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এতে আবহাওয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় বজ্রঝড় এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৮ কিলোমিটার বেগে বায়ু প্রবাহ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে মায়ামিতে একটি দল পাঠাচ্ছে সংস্থাটি। এই তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে অ্যামাজন।
১৭ দিন আগে
পাইলটরা ছবি তুলতে গিয়েই সংঘর্ষ হয়েছিল সেই দুই যুদ্ধবিমানের
২০২১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় মাঝ আকাশে দুটি যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পাঁচ বছর পর অবশেষে দুর্ঘটনার কারণ সামনে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, বিমানের পাইলটরা ছবি তোলা ও ভিডিও করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল, দীর্ঘদিন পর বুধবার (২২ এপ্রিল) তারা এক প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিমানদুটি একটি ফ্লাইট মিশনে থাকাকালে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় পাইলটরা কোনো আঘাত না পেলেও বিমানদুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা মেরামত করতে দেশটির সামরিক বাহিনীর খরচ হয়েছে ৮৮০ মিলিয়ন ওন।
ওই ঘটনার পর সামরিক বাহিনী ছেড়ে দেওয়া এক পাইলটকে ৮৮ মিলিয়ন ওন জরিমানা করা হয়।
ওই পাইলট মূলত তার শেষ ফ্লাইট স্মরণীয় করে রাখতেই কিছু ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইটের আগে দেওয়া ব্রিফিংয়ে তার এই ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
অডিট বোর্ড জানায়, গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট থেকে ছবি তোলা তখন পাইলটদের মধ্যে ‘ব্যাপকভাবে প্রচলিত’ ছিল। ঘটনার আগমূহুর্তে অভিযুক্ত পাইলট উইংম্যান বিমানটি চালাচ্ছিলেন এবং মিশনের সময় লিড বিমানের অনুসরণ করছিলেন। এরপর বেসে ফেরার সময় তিনি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ছবি তুলতে শুরু করেন। বিষয়টি লক্ষ করে লিড বিমানের পাইলট তার সঙ্গী আরেক পাইলটকে উইংম্যান বিমানের ভিডিও ধারণ করতে বলেন। এরপর উইংম্যান হঠাৎ করে তার জেট বিমানটি আরও উঁচুতে নিয়ে যান এবং ক্যামেরায় ভালোভাবে ধরার জন্য সেটিকে উল্টে দেন। এর ফলে দুটি বিমান খুব কাছাকাছি চলে আসে।
সংঘর্ষ এড়াতে সে সময় লিড বিমানটি দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিমানদুটির সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় লিড বিমানের বাঁ দিকের ডানা এবং উইংম্যানের বিমানের লেজের স্ট্যাবিলাইজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানবাহিনী পাইলট উইংম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বরখাস্ত হওয়ার পর সামরিক বাহিনী ছেড়ে একটি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনে কাজ শুরু করেন তিনি।
পরবর্তীতে, মেরামতের পুরো খরচ আদায় করতে বিমান বাহিনী উইংম্যানকে ৮৮০ মিলিয়ন ওন জরিমানা করতে চায়। তবে পাইলট যখন এই জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেন, তখন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্ত চলাকালে উইংম্যান স্বীকার করেন যে তার এই কৌশলী চালনার কারণেই সংঘর্ষ হয়েছিল। তবে তিনি যুক্তি দেন যে লিড বিমানের পাইলটও এ বিষয়ে ‘নীরব সম্মতি’ দিয়েছিলেন, কারণ ভিডিও ধারণের বিষয়টি তিনি দেখেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি থেকে সিদ্ধান্ত হয় যে উইংম্যানকে বিমানবাহিনী যে জরিমানা করতে চেয়েছিল, তার এক-দশমাংশ পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি পাইলটদের ব্যক্তিগতভাবে ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে যথাযথ নিয়ম না থাকায় বিমান বাহিনীরও এ ঘটনায় কিছু দায় রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
১৫৫ দিন আগে
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত অন্তত ৬৬
উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই কলম্বিয়ায় একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) দেশটির ছোট শহর পুয়ের্তো লেগিসামোতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ১২৮ আরোহী নিয়ে উড্ডয়ন করেছিল ওই বিমানটি।
পুয়ের্তো লেগিসামো আমাজন অঞ্চলের পুতুমায়ো প্রদেশে অবস্থিত, যা ইকুয়েডর ও পেরুর সীমান্তবর্তী এলাকা।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং সেনাবাহী একটি ট্রাক ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল হুগো আলেহান্দ্রো লোপেজ বারেতো জানান, এখনও চারজন সামরিক সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমাদের ৬৬ জন সামরিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
বারেতো বলেন, ‘এটি কোনো অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ছিল কিনা, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা ইঙ্গিত এই মুহূর্তে নেই।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে সহকারী মেয়র কার্লোস ক্লারোস জানান, নিহতদের মরদেহ শহরটির মর্গে নেওয়া হয়েছে। আহতদের প্রথমে স্থানীয় দুটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে তাদের বড় শহরে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিতদের সহায়তায় এগিয়ে আসা পুয়ের্তো লেগিসামোর মানুষদের আমি ধন্যবাদ জানাই।’
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেস এক্সে দেওয়া বার্তায় জানান, সোমবার বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি পুতুমায়োর আরেক শহরে সেনা সদস্যদের নিয়ে যাচ্ছিল।
বিমানটিতে মোট ১২৮ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে ১১৫ জন সেনাসদস্য, ১১ জন ক্রু এবং ২ জন জাতীয় পুলিশের সদস্য। বারেতো জানান, দুর্ঘটনার পর ৫৭ জনকে উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মোটরসাইকেলে করে আহত সেনাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
কলম্বিয়ার বিমান বাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফের্নান্দো সিলভা বলেন, দুর্ঘটনার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি, তবে বিমানটিতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং এটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সেটি বিধ্বস্ত হয়।
তিনি আরও জানান, আহতদের রাজধানী বোগোটা ও অন্যান্য স্থানের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ৭৪ শয্যাবিশিষ্ট দুটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার’ কারণে এই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।
পেত্রোর ভাষ্যে, ‘বেসামরিক বা সামরিক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যদি দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হন, তবে তাদের সরিয়ে দিতে হবে।’
তবে সমালোচকরা দাবি করেছেন, পেত্রো প্রশাসনের অধীনে বাজেট ঘাটতির কারণে সামরিক বিমানগুলোর উড্ডয়ন ঘণ্টা কমে গেছে, যার ফলে ক্রু-দের অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
কলম্বিয়ার বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বিশ্লেষক এরিক সাউমেথ জানান, বিধ্বস্ত হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানটি ২০২০ সালে কলম্বিয়াকে অনুদান হিসেবে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তিন বছর পর এতে ‘ওভারহল’ করা হয়, যেখানে ইঞ্জিন পরীক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, যন্ত্রাংশের ঘাটতির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।’ তবে কেন উড্ডয়নের পরই চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট বিমানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ল, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সানচেসও জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি লিখেছেন, ‘এই দুর্ঘটনা দেশের জন্য গভীর বেদনাদায়ক। আমরা আশা করি, আমাদের প্রার্থনা কিছুটা হলেও এই শোক লাঘব করবে।’
১৮৪ দিন আগে
বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীসহ নিহত ৫
ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় রাজ্যটির উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় ব্যক্তিগত বিমানটিতে থাকা আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি দলীয় র্যালিতে যোগ দিতে ব্যক্তিগত বিমানে করে মুম্বাই থেকে নিজ শহর বারামতি যাচ্ছিলেন অজিত পওয়ার। মুম্বাই থেকে প্রায় ২৫৪ কিলোমিটার দূরে গিয়ে জরুরি অবতরণের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে তাতে আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। টেলিভিশনের ফুটেজে ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের (ডিজিসিএ) প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়, মাঝারি আকারের লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটিতে ছিলেন পাওয়ারের দুই স্টাফ সদস্য ও দুই ক্রু সদস্য। দুর্ঘটনায় সবাই নিহত হয়েছেন।
রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের অংশ হিসেবে রাজ্যের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজ্যের চিনি উৎপাদন অঞ্চলে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। গ্রামীণ ভোটারদের সংগঠিত করার সক্ষমতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
এ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাওয়ারকে একজন নিবেদিতপ্রাণ জনসেবক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মোদি বলেন, ‘প্রশাসনিক বিষয়ে তার গভীর উপলব্ধি এবং দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের ক্ষমতায়নে তার আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। তার অকালমৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও শোকের। তার পরিবার ও অগণিত শুভানুধ্যায়ীকে আমার সমবেদনা।’
২৩৯ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ৮ আরোহীসহ ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে ৮ আরোহী নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ নামের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বিমানের যাত্রীদের অবস্থা সম্পর্কে তারা প্রাথমিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। এফএএ ও জাতীয় পরিবহন সুরক্ষা বোর্ড দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করছে।
রবিবার দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে ব্যাঙ্গরেও টানা তুষারপাত হয়। এই মধ্যে নিউ ইংল্যান্ডসহ দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে রাতে ঝড় হয়। ঝড়ের মধ্যে পড়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এক বিবৃতিতে ব্যাঙ্গর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি উড্ডয়নের সময় জরুরি কর্মীরা বিমানবন্দরে ছিলেন। তবে বিমানটি ছেড়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই বিমানবন্দরটি ওরল্যান্ডো, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন, ডিসি এবং শার্লট, উত্তর ক্যারোলিনার মতো শহরগুলোতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। বোস্টন থেকে এটি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
গত সপ্তাহজুড়ে প্রবল ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশে শিলাবৃষ্টি এবং তুষারপাত হয়েছে। এর ফলে বহু বিমান ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অসংখ্য বাড়িঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে দেশটির বেশিরভাগ অংশে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিমানের ফ্লাইট শনাক্তকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটওয়্যার ডটকমের তথ্য অনুসারে, রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং আরও অন্তত ২০ হাজার ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হয়েছে। ঝড়ের কারণে ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন, বাল্টিমোর, উত্তর ক্যারোলিনা, নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দরগুলোতেও দৈনন্দিন কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছে।
বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০০ হলো একটি চওড়া আকৃতির ব্যবসায়িক জেট বিমান যা ৯ থেকে ১১ জন যাত্রীর জন্য তৈরি। এটি ১৯৮০ সালে ওয়াক-অ্যাবাউট কেবিনসহ প্রথম ব্যক্তিগত জেট হিসেবে চালু হয় এবং এয়ারচার্ট সার্ভিস ডটকমের তথ্য অনুসারে, এটি বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ব্যক্তিগত বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
২৪১ দিন আগে
মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৩৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হারল শিক্ষার্থী তাসনিয়া
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ শিক্ষার্থী তাসনিয়া (১৫) মারা গেছে। সে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়।
নিহত তাসনিয়ার বাড়ি ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানায়।
আরও পড়ুন: মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ফরিদপুরের রাইসা মনির সমাধিতে বিমান বাহিনীর শ্রদ্ধা
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি বলেন, উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গত মাসের ২১ জুলাই জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয় তাসনিয়া। ৩৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সকালে আইসিইউতে মারা যায় সে।
তার শরীরের ৩৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে জানান তিনি।
৩৯৭ দিন আগে
বিমান দুর্ঘটনায় আহত ৩ জন এখনও আশঙ্কাজনক, একজন লাইফ সাপোর্টে: বার্ন ইনস্টিটিউট পরিচালক
রাজধানী ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সাম্প্রতিক সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় আহত তিনজনের অবস্থা এখনও গুরুতর। তবে তাদের একজন লাইফ সাপোর্টে আছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সোমবার(২৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে ইনস্টিটিউটে মোট ৩৩ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে ২৭ জন শিশু।
রোগীদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাদের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আরও নয়জন রোগী গুরুতর বিভাগে রয়েছেন। বাকিরা কম গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।
ডা. নাসির উদ্দিন আরও বলেন, আজ প্রাথমিকভাবে তিনজন রোগীকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত ড্রেসিং করার প্রয়োজনের কারণে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে আরও বেশ কয়েকজনকে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিঙ্গাপুর, চীন এবং ভারত থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসারা দগ্ধদের চিকিৎসায় সহায়তা করতে এসেছিলেন। তারা তাদের সহযোগিতা দেওয়ারর পর পর্যায়ক্রমে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন।
পড়ুন: রুপগঞ্জে স্টিল মিলে ভাট্টি বিস্ফোরণে ৩ শ্রমিক দগ্ধ
এর আগে, শনিবার আয়ান খান (১২) ও রাফসিকে (১২) মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, অন্যদিকে কাজী আমজাদ সাঈদ (২০) এবং সবুজা বেগম (৪০) কে রবিবার ছুটি দেওয়া হয়।
দুঃখজনকভাবে, মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র সাহিল ফারাবী আয়ান (১৪) রবিবার ভোর ১টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
৪২৩ দিন আগে
উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত অজ্ঞাত শিশুদের পরিচয় শনাক্ত করল সিআইডি
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত অজ্ঞাত পাঁচ শিশুর পরিচয় ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডি জানায়, গত ২২ জুলাই ঢাকা সিএমএইচে রক্ষিত অজ্ঞাত মৃতদেহ ও দেহাংশ থেকে তাদের ডিএনএ ল্যাবের সদস্যরা ১১টি নমুনা সংগ্রহ করেন। এসব নমুনা বিশ্লেষণ করে পাঁচজন নারীর ডিএনএ প্রোফাইল শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে, এসব প্রোফাইল ৫টি ভিন্ন পরিবারের ১১ জন সদস্যের দেওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মেলানো হয়। এতে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শনাক্ত হওয়া পাঁচ নারী হলেন— মো. ফারুক হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে কিয়া ফেরদৌস নিধি (পিএম নম্বর: ৬২৫)।
মো. বাবুল ও মাজেদা দম্পতির মেয়ে লামিয়া আক্তার সোনিয়া (পিএম নম্বর: ৬২৬, ৬৩১, ৬৩২, ৬৩৩–এম৯, এম১০, এম১১)।
মো. আব্বাস উদ্দিন ও মোসা. মিনু আক্তার দম্পতির মেয়ে আফসানা আক্তার প্রিয়া (পিএম নম্বর: ৬২৭, ৬২৮)।
মো. শাহাবুল শেখ ও মিসেস মিম দম্পতির কন্যাসন্তান রাইসা মনি (পিএম নম্বর: ৬২৯)।
মো. আব্দুল কাদির ও উম্মে তামিমা আক্তার দম্পতির মেয়ে মারিয়াম উম্মে আফিয়া (পিএম নম্বর: ৬৩০)।
সিআইডি সূত্রে আরও জানা যায়, বিমান দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে অজ্ঞাত পরিচয় মৃতদের শনাক্তে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। নিহতদের লাশ পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে আত্মীয়দের দেওয়া ডিএনএ নমুনার ভিত্তিতে এই প্রোফাইলিং করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ বিশ্লেষণের কাজ চলছে। শনাক্তদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হবে দ্রুত।
আরও পড়ুন: উত্তরায় যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০
৪২৭ দিন আগে
বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে গুজব ছড়ানো গুরুতর অপরাধ: আইন উপদেষ্টা
উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার তথ্য প্রচারে সরকার পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখাসহ জনসাধারণের বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে—এমন গুজব প্রতিরোধের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সবকিছু অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। গণমাধ্যম স্বাধীন ও শক্তিশালী রয়েছে।’
ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সত্য না জেনে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে গুজব ছড়ানো একটি বড় অপরাধ।’
তিনি সরকারকে সহনশীল বর্ণনা করে দায়িত্বশীল, তথ্য-ভিত্তিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে ভুল তথ্য রোধের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, সরকারের তথ্য চ্যানেল সকলের জন্য উন্মুক্ত এবং ব্যবহারযোগ্য— যার মাধ্যমে জনগণ সঠিক তথ্য জানতে পারে।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সম্পর্কে মন্তব্য করে আইন উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা পরিস্থিতি নিয়ে খুবই সহযোগিতা করেছেন।
তবে তিনি স্বীকার করেন কিছু ব্যক্তি রাগ বা হতাশা প্রকাশ করতে পারেন। তারা এটিকে বড় করে দেখেন না বলেও উল্লেখ করেন আইন উপদেষ্টা।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসময় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক: উপদেষ্টা আসিফ
সোমবার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে মর্মান্তিক সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। সবশেষ আজ বৃহস্পতিবার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, মাহতাব নামে নিহত কিশোরের ৮৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এছাড়াও, ৫৬ জন আহত ব্যক্তি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৪৪ জন বার্ন ইনস্টিটিউটে, ২১ জন ঢাকা সিএমএইচে, একজন কুয়েত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সরকারি হাসপাতালে, একজন শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও একজন উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর আগে বুধবার সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিচয় প্রকাশ
৪২৭ দিন আগে
বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কম দেখানোর কোনো কারণ নেই: প্রেস সচিব
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের দুর্ঘটনা নিয়ে হতাহতের সংখ্যা ঘিরে ছড়ানো ভুয়া তথ্যকে উড়িয়ে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, হতাহতের সংখ্যা কম দেখানোর সরকারের কোনো কারণ নেই।
বুধবার (২৩ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন হতাহতের সংখ্যা গোপন রাখা প্রায় অসম্ভব।
তিনি লিখেছেন, ‘২০০২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমি বহু বড় ধরনের দুর্যোগ কভার করেছি। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বাংলাদেশে হতাহতের সংখ্যা গোপন রাখা কার্যত অসম্ভব। প্রথমদিকে পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জন নিখোঁজ হিসেবে জানায়, পরে হাসপাতাল বা কর্তৃপক্ষ থেকে তথ্য এলে তারা স্বজনদের অবস্থান জানতে পারে। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও মাইলস্টোন কলেজ প্রতিদিনের হাজিরা খাতা যাচাই করে অনুপস্থিতদের শনাক্ত করতে পারবে।’
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের অবস্থা নিয়ে নিয়মিত তথ্য জানাচ্ছে, সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে। ‘আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, হতাহতের সংখ্যা কম দেখানোর সরকারের কোনো প্রয়োজন নেই।’
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই: প্রেস সচিব
তিনি লেখেন, ‘আমরা মাইলস্টোন কলেজে গিয়েছিলাম নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে, যারা এখনো এই শোক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। চারদিকে ভারী শোকাবহ পরিবেশ ছিল। অনেকে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনে ক্ষোভ জানিয়েছে।’
ঘটনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রেস সচিব জানান, দুই উপদেষ্টা স্কুল কর্তৃপক্ষকে ক্যাম্পাসে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়মিত আহত ও মৃতের তথ্য জানানো হবে, যা স্কুলের উপস্থিতির তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে প্রকাশ করা হবে।
প্রেস সচিব জানান, উপদেষ্টারা সুপারিশ করেছেন যাতে বর্তমান শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন ছাত্ররা কন্ট্রোল রুমের কাজে যুক্ত থাকে। ‘আমরা আশা করছি, এটি আজ থেকেই সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হবে।’
‘আমরা গতকাল (মঙ্গলবার) নয় ঘণ্টা স্কুলে ছিলাম। চাইলে আগে বেরিয়ে আসতে পারতাম, কিন্তু উপদেষ্টারা শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ছিলেন। প্রয়োজন হলে আরও দীর্ঘ সময় থাকতেন, আমরা তখনই বেরিয়েছি যখন সেটি যথাযথ মনে হয়েছে,’ বলেন প্রেস সচিব।
শফিকুল আলম বলেন, যেসব শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। এই বিমান দুর্ঘটনাকে তিনি জাতীয় শোক হিসেবে অভিহিত করে নিহতদের শহীদ হিসেবে বর্ণনা করেন।
‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আকাশপথে শূন্য দুর্ঘটনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে,’ যোগ করেন তিনি।
৪২৮ দিন আগে