ডিসি সম্মেলন
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাঁড়াশি অভিযান, মামলা ও বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর চতুর্থ দিনের তৃতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান তিনি।
সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে প্রাক-নির্বাচনি সময়ে জনসাধারণকে যেসব লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল, সেই অস্ত্রগুলো এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। সেই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে শিগগিরই সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়।
তিনি জানান, চিঠিতে তিন ক্যাটাগরিতে আগ্নেয়াস্ত্র ফেরতদিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: (১) ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগে লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র, (২) ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র এবং (৩) ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যুকৃত লাইসেন্সসমূহ যাচাই-বাছাইয়ের লক্ষ্যে ইতোপূর্বে গঠিত কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই শেষে যেসব লাইসেন্স নীতিমালা মোতাবেক ইস্যু হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হবে, সেসব লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান, মামলা ও বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহা নিরাপদ করতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সড়ক-মহাসড়কের ওপর এবং রেলপথের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে এবং পুলিশ বডি-ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে টহল দেবে।
তিনি আরও জানান, ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। মহাসড়কগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডের ব্যবস্থা করা হবে।
চামড়া শিল্প রক্ষায় সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ করা হবে যাতে তৃণমূল পর্যায়েই সাত দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণ করা যায়। ঢাকার প্রবাহিত বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র (ইটিপি) সিস্টেমের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় চামড়াগুলো যাতে সাত দিন পর ক্রমান্বয়ে ঢাকার দিকে আনা হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে জেলাপ্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর প্রধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর পুশইন ঠেকাতে বিজিবিকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পর বাংলাদেশে পুশইন ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ অধিবেশন হয়।
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ কাউকে বাংলাদেশি সন্দেহ করে সরাসরি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ‘পুশইন’ নামে পরিচিত।
দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি—বিজেপির বিজয়ের পর বাংলাদেশে মুসলমানদের পুশইন বাড়বে কিনা, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে আমাদের বর্ডার গার্ড (বিজিবি) যেন একটু অ্যালার্ট (সতর্ক) থাকে, সে ব্যাপারে আমরা গতকাল তাদের নির্দেশ দিয়েছি। (পুশইনের) সেই রকমের সম্ভাবনা দেখি না, তারপরও যদি হয়, তা যেন মোকাবিলা করতে পারে, সেজন্য আমরা আগে থেকে বিজিবিকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছি। তবে আমার মনে হয় না, সেরকম কোনো ঘটনা ঘটবে।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসকদের কী ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা তাদের প্রধানতম দায়িত্ব। সেজন্য পুলিশ, জেলা প্রশাসন সবাই সমন্বয় করেই কাজটা করে থাকে এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিচার বিভাগের সঙ্গেও তারা সুসমন্বয় করে। এটা কোনো নির্দেশনার বিষয় নয়, এটা তাদের কাজের আওতা পরিধির মধ্যে পড়ে।
মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স এজন্যই ঘোষণা করেছি যে মাদক, বিশেষ করে অনলাইন জুয়া—এগুলো বন্ধ না করতে পারলে সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হবে।
‘অনলাইন জুয়ার অ্যাপ তো প্রকাশ্যে চলছে’ উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, এগুলো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, সিআইডি সবাই এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা যতই এগিয়ে যাচ্ছি, ইন্টারনেটভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এ দুনিয়ায় অপরাধের ধরনটাও বিভিন্নভাবে রূপ পাল্টাচ্ছে। এগুলোকে মোকাবিলা করার জন্য আমরা একটা আইন প্রণয়নের ব্যবস্থাও গ্রহণ করব।
তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে একটা কমিটি করে দিয়েছি। এর আগ পর্যন্ত আমরা যেভাবে পারি, ওইসব ওয়েবসাইটগুলো ব্লক করার চেষ্টা করছি। আর এই সমস্ত অপরাধগুলো তো আগে এত বিস্তৃত ছিল না, সেজন্য হয়তো আগের সরকারগুলো সেভাবে বিষয়টি আমলে নেয়নি। তবে এখন এটা আমাদের অগ্রাধিকার। জুয়া, অনলাইন জুয়া, মাদক—এগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে বন্ধ করতেই হবে।
১১ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হওয়া মানবতাবিরোধী মামলাগুলো যাচাই-বাছাই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর, অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া মানবতাবিরোধী মামলাগুলো যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য জেলা পর্যায়ে থেকে মামলাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ অধিবেশন হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু মামলা হয়েছে, যেগুলো গণহত্যার মামলা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। জেলা পর্যায়ে কতগুলো মামলা সেরকম দাখিল হয়েছে, আজকে সে ব্যাপারে আমরা তাদের (ডিসি) কাছে তালিকা চেয়েছি। এগুলো প্রত্যন্ত জেলাগুলোতে হয়তো কম, কিন্তু মহানগরগুলোতে সংখ্যাটা একটু বেশি। অনেক মামলার মধ্যে হাজার হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে, সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব প্রকৃত অর্থে প্রকৃত আসামি কারা। তদন্ত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখবেন যাতে স্বল্প সময়ের ভেতরে সেগুলোর নিষ্পত্তি করা যায়।
তিনি বলেন, যাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের যাতে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়, সেই সুপারিশ আমরা করেছি। তবে এটা আইনানুগভাবে, আইনি প্রক্রিয়ায় হবে।
ডিসিদের মামলাগুলো পাঠানোর জন্য কত দিন সময় দেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি এটা যথাশীঘ্র সম্ভব পাঠাতে। মৌখিকভাবে বলেছি সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পাঠাতে। তবে কোনো ক্ষেত্রে কেউ যদি বিলম্ব করে থাকে, আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সেটা বিবেচনা করব। আশা করি যারা মামলা প্রত্যাহার চান, তারা বিলম্ব করবেন না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, পাবলিক প্রসিকিউটর (সরকারি কৌঁসুলি) এবং আরও একজন প্রতিনিধি আছেন। এই কমিটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে, যদি কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভুয়া/মিথ্যা মামলা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি নির্দিষ্ট একটি ফরমে আবেদন করতে পারবেন।
তিনি জানান, আবেদনের সঙ্গে এফআইআর, এজাহার বা চার্জশিট (যদি হয়ে থাকে) এবং মামলাটি কোন আদালতে চলছে—এসব তথ্য দিতে হবে। এরপর কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেখবে, মামলাটি সত্যিই এ ধরনের কি না। যদি তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করবে।
মন্ত্রী জানান, এই আবেদনগুলো প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে সঙ্গে সঙ্গে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পরে সেগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে থাকা একটি কমিটি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। তারা যদি মনে করে কোনো মামলা প্রত্যাহারের উপযুক্ত, তাহলে তা আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারার অনুযায়ী মামলাগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় বা হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে যেসব ভুয়া ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল, সেগুলোর বিষয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও একটি পত্র দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তবে তখন কিছু ধরনের মামলা এর আওতায় আনা হয়নি, যেমন: হত্যা, অস্ত্র, নারী নির্যাতন, মাদক পাচার ও মানব পাচারের মামলা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক সরকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখেছি, আমাদের বিরুদ্ধেও অনেক হত্যা ও অস্ত্র মামলা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও অন্তত দুই-তিনটি হত্যা মামলা ছিল—যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে। চৌদ্দগ্রামের মামলাসহ আমার বিরুদ্ধেও একই ধরনের মামলা ছিল; অস্ত্র মামলাও ছিল। আমাদের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মাদক ও নারী নির্যাতনের মামলাও দেওয়া হয়েছিল, যাতে যেকোনোভাবে আটক রাখা যায়।
১১ দিন আগে
ইতোমধ্যে ৮১ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে হামের টিকা নেওয়ার উপযোগী ৮১ শতাংশের বেশি শিশুর টিকাদান ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই শতভাগ টিকাদান সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রবিবার (৩ মে) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, হামের ক্ষেত্রে আমরা ৮১ শতাংশ টিকা কভার করেছি। বাকিটাও খুব শিগগিরই কভার করে ফেলব। দ্রুত আমরা শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে কাজ করছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে হাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মৃত্যুহারও কমেছে। পর্যাপ্ত টিকা আছে এবং সারা দেশে টিকার সরবরাহও ঠিক আছে।’
এদিকে, দেশে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬১টি শিশু।
রবিবার (৩ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও একটি শিশুর।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ২৪৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫০টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ২৯৪টি শিশু মারা গেছে।
১৪ দিন আগে
উন্নয়নের চেতনায় সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডিসিদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেতনা নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে জনগণবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত যে জুলাই সনদ, এটার প্রতিটি দফা প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। আমি আশা করব, আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
তিনি বলেন, আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
শাসনব্যবস্থার অগ্রাধিকার তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সুশাসন বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি আমরা করতে চাইছি। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। সেটি হচ্ছে আমরা দুর্নীতির সঙ্গে কম্প্রোমাইজ (আপোস) করতে চাই না।
ডিসিদের প্রতি নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ সময়মতো বাস্তবায়ন, ব্যয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কর্মকর্তাদের অযথা আইনি জটিলতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে বাস্তবমুখী, কার্যকর ও জনমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান যাতে নাগরিকরা দ্রুত সরকারি কর্মসূচির সুফল পেতে পারেন।
১৪ দিন আগে
ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে আগামীকাল
আগামীকাল রবিবার শুরু হচ্ছে চলতি বছরের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সম্মেলন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হবে বুধবার (৬ মে)। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব এবার সম্মেলনে উঠছে।
শনিবার (২ মে) সচিবালয়ে ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠন করা বিএনপি সরকারের এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, এবারের ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে আটজন বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিদের কাছ থেকে ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্যে কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৪৯৮টি প্রস্তাব।
প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোতে জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ কমানো, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ, পর্যটনের বিকাশ, আইনকানুন বা বিধিমালা সংশোধন, জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৪৪টি প্রস্তাব স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ-সংক্রান্ত বলেও জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রথম দিন রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।’
এবারের সম্মেলনের বিশেষ দিক তুলে ধরে অতিরিক্ত সচিব বলেন, এবারের সম্মেলন ৩ থেকে ৬ মে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের সম্মেলন তিন দিনব্যাপী ছিল। সম্মেলন চলাকালে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, নির্দেশনা গ্রহণ ও মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়াও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের সঙ্গে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে কার্য-অধিবেশন রয়েছে।
এবারের ডিসি সম্মেলনে সর্বমোট ৩৪টি অধিবেশন ও কার্য-অধিবেশন রয়েছে রয়েছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কার্য-অধিবেশন ৩০টি। এর মধ্যে একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান এবং রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, নির্দেশনা গ্রহণসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা ২টি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও সভা রয়েছে।
এবারের ডিসি সম্মেলনে একটি কার্যালয় (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়), দুটি কমিশন (নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন) এবং ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশ নেবে বলেও জানিয়েছেন অতিরিক্ত সচিব।
সরকারের নীতি নির্ধারক এবং জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মধ্যে সামনাসামনি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য সাধারণত প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন হয়।
কার্য-অধিবেশনগুলোতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী, জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব এবং আওতাধীন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।
গত বছরের ডিসি সম্মেলনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মিলে মোট ৪০০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, সামগ্রিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৪৪ শতাংশ।
প্রাধান্য পাবে যেসব বিষয়
ডিসির সম্মেলনে প্রধান প্রধান আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে— ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম জোরদারকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্ম সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভন্যান্স, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়।
১৫ দিন আগে
চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শুরু হবে ৩ মে
আগামী ৩ থেকে ৬ মে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি স্মারক সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্মারকে জানানো হয়,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩ মে সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় শাখা সোমবার (৯ মার্চ) ডিসি সম্মেলনের পূর্ব প্রস্তুতি নিতে সব সচিব এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের একান্ত সচিবদের চিঠি পাঠিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩ থেকে ৬ মে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উদ্বোধন করতে সম্মতি দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক সম্মেম্মলন চলাকালে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবেরা বিভিন্ন অধিবেশনে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মূল্যবান উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দেবেন।
৬৯ দিন আগে
ডিসি সম্মেলন: করের আওতায় আসছেন চিকিৎসক ও উপজেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা
জেলা, উপজেলা এবং গ্রাম অঞ্চলে যেসব ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত আয় করেন কিন্তু ট্যাক্স দেন না; সেসব ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকদের ট্যাক্সের আওতায় আনতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকদের। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিন দিনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
একইসাথে চিকিৎসক এবং আইনজীবীরা যে ফি নেন; সেটাও রশিদ বা ডিজিটাল পেমেন্ট মেথডে এনে তাদেরকেও করের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: পুলিশের ৩০০ গাড়ি পুড়েছে, দিতে হবে ৫০০ কোটি টাকা: অর্থ উপদেষ্টা
উপদেষ্টা বলেন, আপনারা জানেন—সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত আমরা বাস্তবায়ন করি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে। মাঠ পর্যায়ের অফিসাররা যদি দক্ষ এবং সেবক হন, তাহলে জনগন যে সেবাটা পান সেটা কার্যকর হয়।
‘চিকিৎসক-আইনজীবীরা সরাসরি ক্যাশ ট্রানজেকশন করেন। এর কারণে কিন্তু তাদেরকে করের আওতায় আনা যায় না। চিকিৎসকরা যে ফি নেন, তার রিসিট তো আপনারা নেন না। এই ফি যদি ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া হয়; তাহলে কিন্তু তার একটা রেকর্ড থাকে। বিদেশে কিন্তু এগুলো সব রেকর্ডেড।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এম্পলয়মেন্টটা বাড়াতে হবে। লোকাল লেভেলে এম্পলয়মেন্ট বাড়ানো সহজ। চায়নাতে গ্রাম্য শিল্পের সাথে গভীর যোগাযোগ। চায়নার প্রত্যন্ত একটি গ্রামে তৈরি হওয়া পণ্য আমেরিকার ওয়ালমার্টেও পাবেন। অথচ বাংলাদেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের এই জিনিসগুলো যোগাযোগের অভাবে উঠে আসে না।
আরও পড়ুন: আমরা একশ চাপের মধ্যে আছি, খুরের ওপর দিয়ে হাঁটছি: অর্থ উপদেষ্টা
তিনি আরও বলেন, ডিসিরাই উত্থাপন করেছে গ্রামাঞ্চলে ব্যবসায়ীরা অনেক আয় করেন। তখন এনবিআর এ বিষয়টি নিয়ে ড্রাইভ দিতে বলেছে। আমাদের ট্যাক্সের আওতা না বাড়ালে-তো হবে না। এমনিতেই তো দাবি থাকে ভ্যাট কমান-ট্যাক্স কমান। সুতরাং ভ্যাট-ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে রেখে ট্যাক্স গ্রহণের পরিধিটা বাড়ানোর বিষয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এই ট্যাক্স নেটটা বাড়িয়ে রাজস্ব আরও বিস্তৃত করতে পারি। মোটকথা জোর করে করের পরিমাণ না বাড়িয়ে ট্যাক্সের নেট বাড়ানো হবে। আমাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে ৫০ থেকে ৬০ লাখ কিন্তু কর দেয় মাত্র পাঁচ লাখ।
চিকিৎসকদের করের আওতায় কি উদ্যোগ নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের যেসব সহকারী বসে থাকেন, তারা টাকা নেন কিন্তু রিসিট দেওয়া হয় না৷ এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ইনসিস্ট করা যে আপনারা রিসিট দেন৷ আমি তো কোনো চিকিৎসককে দেখি না তারা রিসিট দেন।
৪৫৪ দিন আগে
ভয়-ভীতি ও লোভের ঊর্ধ্বে উঠে ডিসিদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে সব ধরনের ভয়-ভীতি ও লোভের ঊর্ধ্বে উঠে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) আইনানুগ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,‘মানুষের কল্যাণের জন্য সব ধরনের ভয়-লোভের ঊর্ধ্বে উঠে বৈধ দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
মঙ্গলবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলন ২০২২-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং বাঙালি জাতিকে মাথা উঁচু করে বিশ্ব মঞ্চে এগিয়ে যেতে সক্ষম করাই তার সরকারের লক্ষ্য।’
আরও পড়ুন: ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ২৪ দফা নির্দেশনা
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের পক্ষে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন কিনা তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো পরিবারের সদস্যরা ভিক্ষা করে জীবন যাপন করবে এটা মেনে নেয়া যায় না। ‘অন্তত, যতদিন আমি ক্ষমতায় আছি, আমি তা দেখতে চাই না।’
আরও পড়ুন: জ্ঞানভিত্তিক সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন দূরদর্শী প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে।’
তিনি বলেন,‘এখন আমাদের দায়িত্ব অনেকগুণ বেড়েছে। আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে কেননা বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ দ্রুত এগোচ্ছে। কিন্তু করোনার কারণে উন্নয়ন যাত্রায় বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।’
শেখ হাসিনা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গ্রামীণ এলাকার দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ মনোযোগ দেয়ার এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে নির্দেশ দেন।
এসময় তিনি একটি জেলার সার্বিক উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা বৃদ্ধির তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
১৫৮০ দিন আগে
ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ২৪ দফা নির্দেশনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে দুর্নীতি দূর এবং সরকারি দপ্তরে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ২৪ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন-২০২২ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ কর্মসূচিতে যোগ দেন।
নির্দেশনাগুলো হলো:
(১) করোনাভাইরাসজনিত সংকট মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত নির্দেশনাসমূহ মাঠপর্যায়ে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।
(২) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে গৃহীত উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমসমূহের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং এর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
(৩) খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
(৪) সরকারি অফিসসমূহে সাধারণ মানুষ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে যথাযথ সেবা পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের সন্তুষ্টি অর্জনই যেন হয় সরকারি কর্মচারীদের ব্রত।
(৫) এসডিজি স্থানীয়করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে তৎপরতা জোরদার করতে হবে।
(৬) গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তসহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যেন প্রকৃত অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
(৭) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থায় অনলাইনে বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে পাঠদান কার্যক্রম যেন অব্যাহত থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।
আরও পড়ুন: জ্ঞানভিত্তিক সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী
(৮) কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো যেন কার্যকর থাকে তা প্রতিনিয়ত তত্ত্বাবধান করতে হবে এবং নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।
(৯) শিশু-কিশোরদের শারীরিক-মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে তাদের জন্য প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীলতার চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
(১০) নাগরিকদের সুস্থ জীবনাচারের জন্য জেলা ও উপজেলায় পার্ক, খেলার মাঠ প্রভৃতির সংরক্ষণ এবং নতুন পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।
(১১) পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে সংগতি রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উচ্চ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।
(১২) জনসাধারণের মাঝে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধে উদ্যোগ নিতে হবে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা বৃদ্ধির তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
(১৩) বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
(১৪) মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করতে হবে।
১৫৮০ দিন আগে