মামলা
জুলাই যোদ্ধাদের মামলায় জড়ানো যাবে না, দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন কোনো মামলা না করার বিধান রেখে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়, ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে যা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
এতে আরও বলা হয়, এ প্রতিরোধ কর্মে এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। তাই এ প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে করা সব দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা বিধান অনুযায়ী প্রত্যাহার করা হবে। এ বিষয়ে নতুন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে আইনত করা যাবে না।
কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করার কারণে করা হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত কোনো আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা হবে। আবেদন করার পর আদালত এ মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। এ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ যা কিছু থাকুক না কেন, যে ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে (পুলিশ বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) কর্মরত ছিলেন, সেক্ষেত্রে কমিশন ওই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে বর্তমানে বা আগে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে না। তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করবেন বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায়, অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দেবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায় অভিযোগে উল্লিখিত কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সেক্ষেত্রে কমিশন উপযুক্ত মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে।
এক্ষেত্রে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না কিংবা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়। অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।
১ দিন আগে
চট্টগ্রামে র্যাব কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর মামলা, গ্রেপ্তার তিন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহতের ঘটনার দুই দিন পর মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে র্যাবের এক কর্মকতা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা।
মামলায় ২৯ জনের মধ্যে জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দা ইয়াসিনকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও মামলায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ। এর মধ্যে দুইজন এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে প্রাপ্ত আসামি বলে জানান শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৪ দিন আগে
আজ নয়, চানখারপুলে গণহত্যা মামলার রায় ২৬ জানুয়ারি
চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যা মামলার রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আজ রায় হচ্ছে না। রায়ের পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রায়ের পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
বেঞ্চের অন্য ২ সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার রায়ের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ তারিখ ধার্য করেন। ওই দিন আসামি ইমাজ হোসেন ইমনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মো. জিয়াউর রশিদ। পরে পলাতক ৪ আসামির হয়ে যুক্তি তুলে ধরেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী কুতুবউদ্দিন আহমেদ। প্রসিকিউশনের পক্ষে পাল্টা যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যরা।
ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট ৮ জন এই মামলার আসামি। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন ৪ জন। এরা হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক বাকি ৪ আসামি হলেন— সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৪ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
৭ দিন আগে
পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই: ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার ৭
ময়মনসিংহ সদরের দিঘারকান্দা এলাকায় মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামির বাবাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতভর যৌথ বাহিনীর অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, ওইদিন বিকেলে দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় মামলার আসামি স্থানীয় আরিফুল ইসলামকে ধরতে গেলে তার পরিবারের লোকজন এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
অভিযানে পুলিশের দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ। আহত হয়ে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কয়েকদিন আগে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে দিঘারকান্দা এলাকার সাগর আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজনের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা হয়। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে আমার নেতৃত্বে পুলিশের পাঁচ সদস্যের একটি দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে আসার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে গুরুতর জখম করে হাতকড়া পরিহিত আরিফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পৌঁছে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমকে) হাসপাতালে ভর্তি করান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল রাতেই আরিফুলের বাবা সাগর আলীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ মমেক হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ওসি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলামকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া রাতভর অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
১৩ দিন আগে
মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেহজাবিন চৌধুরী
পারিবারিক ব্যবসার অংশীদার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে এই মামলার শুনানি নিয়ে ঢাকার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকার এই আদেশ দেন। মেহজাবিনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদীর সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আসামি মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার (অংশীদার) হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থ এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মোট ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় বাদী বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করেন।
পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা বলেন, এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না; তোকে বাসার সামনে আবার দেখলে জানে মেরে ফেলব।
এসব কথা বলে তারা বাদীকে জীবননাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর বিষয়টি সমাধানের জন্য বাদী সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।
পরে আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/ ১১৭(৩) ধারায় মামলা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে আসামি মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১০ নভেম্বর আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ আফরোজা হক তানিয়ার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। সেদিন শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।
১৫ দিন আগে
চাঁদপুরে লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
চাঁদপুরে হাইমচরের সীমান্তবর্তী এলাকায় মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ১০ জনসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের কর্মচারী মিন্টু, সোহেল, মহিন হাওলাদার ও মনিরুজ্জামানকে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এরপর আদালত তাদের জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি জাকির সম্রাট-৩ ও বরিশালগামী অ্যাডভেঞ্চার-৯ নামের দুই লঞ্চের সংঘর্ষে এক নারীসহ ৪ যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও অনেকে।
এরপর গতকাল (শনিবার) রাত ১১টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর নদীবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) বাবুলাল বৈদ্য বাদী হয়ে হাইমচর থানায় মামলা করেন।
মামলায় নামীয় ৮ আসামি হলেন: মো. ফিরোজ খান (৫৩), মো. কামাল হোসেন (৫৫), মো. মনিরুল ইসলাম (৪৩), মো. সুলতান খান (৪৫), মো. মিন্টু (২৮), মো. সোহেল (৪০), মহিন হাওলাদার (২৫) ও মো. মনিরুজ্জামান (৪০)। এই আটজন এমভি জাকির সম্রাট-৩ ও অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের কর্মচারী।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হাসান বলেন, বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর নদীবন্দরের পক্ষে করা মামলাটি তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে নৌ-পুলিশ।
নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের গ্রেপ্তার ৪ আসামিকে ঝালকাঠি থেকে গতকাল (শনিবার) চাঁদপুর নৌ থানায় আনা হয়। আজ তাদের চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
২৯ দিন আগে
পাবনায় আট কুকুরছানা হত্যায় মামলা: সেই নারী গ্রেপ্তার
পাবনার ঈশ্বরদীতে ৮ কুকুরছানা বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত নিশি রহমানকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর সদরের রহিমপুর গার্লস স্কুলের পাশের এক বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এর আগে, মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে ‘প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯’-এর ধারা ৭-এ নিশির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর মামলার বিষয়ে জানান, মামলায় ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী নিশি রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে। যে কারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার ফোন করেছিলেন। তিনি বলেছেন যে এই ঘটনা অমানবিক। এই ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তাই প্রাণী হত্যায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ ছাড়া মহাপরিচালক স্যারও ফোন করে তার পক্ষে মামলা করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, কুকুরছানা হত্যার ঘটনায় হাসানুর রহমান নয়নকে সোমবার (১ ডিসেম্বর) গেজেটেড কোয়ার্টার ছাড়তে লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা মঙ্গলবার বিকেলে বাসা খালি করে অন্যত্র চলে গেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাতে ঈশ্বরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়ন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জীবন্ত ৮টি কুকুরছানাকে বস্তার মধ্যে বেঁধে উপজেলা পরিষদের পুকুরে ফেলে হত্যা করার অভিযোগ আনা হয়।
৫৫ দিন আগে
নুরাল পাগলার মাজারে হামলা, মসজিদের ইমামসহ গ্রেপ্তার ১৮
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলোচিত নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা, কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরসহ হামলায় হতাহতের ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, গোয়ালন্দে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, মাজার ভাঙা, মারামারিতে আহত, নিহত, সম্পদ লুটপাট, কবর থেকে লাশ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলার অপরাধে আজ সকাল পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম লতিফ হুজুর, যিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। আজ ভোরে তাকে মানিকগঞ্জের চর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়াও দরবার ভাঙা, মারামারিতে আহত, নিহত, সম্পদ লুটপাট, কবর হতে লাশ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় নিহতের পিতা মো. আজাদ মোল্লা (৫৫) বাদী হয়ে গতকাল (সোমবার) রাতে একটি মামলা করেছেন বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নুরাল পাগলার দরবার থমথমে, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা
গত ২৩ আগস্ট (শনিবার) বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান নুরাল পাগলা। ওই দিন রাতে দরবারের ভেতরে ১২ ফুট উঁচু করে দাফন করা হয়। বিষয়টি শরিয়ত পরিপন্থি বলে অভিযোগ তোলেন ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি।
এরপর গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা নুরাল পাগলার দরবারে হামলা, ভাঙচুর চালায়। এ সময় নুরাল পাগলার ভক্তদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত এবং দুপক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয় ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা।
১৪০ দিন আগে
নুরাল পাগলার দরবার থমথমে, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা
রাজবাড়ীতে আলোচিত নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে গতকাল কয়েক দফায় হামলার পর ওই এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দরবারের ভেতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ধ্বংসাবশেষ। সেসব থেকে মাঝেমধ্যে ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে। হামলার খবরে সেখানে ছুটে এসেছে উৎসুক জনতা। ধ্বংসস্তুপ এক নজর দেখতে ভিড় করছে তারা।
এদিকে, নুরাল পাগলার দরবারে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত দরবার এলাকায় অবস্থান করে দেখা যায়, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড জুড়ান মোল্লার পাড়ায় অবস্থিত নুরাল পাগলার দরবারের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ রয়েছে। দরবারের ভেতরে একটি তিনতলা এবং অপরটি দ্বিতল ভবন। তিনতলা ভবনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকতেন নুরাল পাগলা। প্রতিটি ভবনের সবকটি কক্ষ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। দামি দামি আসবাবপত্র সব খোয়া গেছে। অবশিষ্ট জিনিসপত্র ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভবন থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে অবস্থিত নুরাল পাগলার আস্তানা। টিনশেড ওই ঘরটিতে বসে ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটাতেন তিনি। তার মৃত্যুর আগেই টিনশেড ঘরসহ সমতল ভূমি থেকে কয়েক ফুট উচুঁ করে বেদি তৈরি করা হয়। বেদির ওপর একপাশে টিনশেড ঘরে বসে তিনি সময় কাটাতেন, আর মৃত্যুর পর অপরপাশে নুরাল পাগলাকে কবর দেওয়া হয়।
১৪৩ দিন আগে
গ্রেনেড হামলা: তারেকসহ সব আসামির খালাসের রায় আপিলেও বহাল
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হওয়া মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস করে হাইকোটের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে তারেক রহমান-বাবরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহজাহান ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এ সময় বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক, আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তারেক রহমানসহ সব আসামিকে খালাস দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। পরে ১৯ মার্চ এ মামলায় সব আসামির খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। দীর্ঘদিন শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য ছিল। আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে আদেশ দেন।
আরও পড়ুন: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: সব আসামি খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। নিহত হন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন। আহত শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী।
ভয়াবহ এ হামলার তদন্তে নামে বিএনপি–জামায়াত জোট সরকার। হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সে সময় অভিযুক্ত হন ২৮ জন। অভিযোগপত্র দেয় সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। শুরু হয় বিচার।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ নতুন করে তদন্ত শুরু করে। টানা ৪১০ দিন টিএফআই সেলে নিয়ে পুনরায় স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় মুফতি হান্নানের। সম্পূরক চার্জশিটে যুক্ত করা হয় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদসহ আরও অনেককে।
আলোচিত এ মামলায় ২০১৮ সালে বিচারিক আদালত ফাঁসির দণ্ড দেন বাবরসহ ১৯ জনকে। যাবজ্জীবন হয় তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনের।
তবে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ওই রায় বাতিল করে দেন হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়, সম্পূরক চার্জশিট এবং বিচারের পুরো প্রক্রিয়াই ছিল বেআইনি।
বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে এই বিচারপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হলো। ফলে মুক্তি মিলেছে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সবার।
১৪৫ দিন আগে