মামলা
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী বিচ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আশিস সূত্রধর শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে মামলাটি করেন।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকিরা অজ্ঞাতপরিচয়। এতে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদের নামও রয়েছে।
এর আগে রিসোর্টের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম সুমনকে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। তাকেও এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এর আগে শনিবার সকালে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার খবর পায়। ফায়ার সার্ভিসের দল সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহতদের মধ্যে ছয়জন হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মিম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)। দুই নারী, এক শিশুসহ বাকি চারজন নিহতের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
১২ ঘণ্টা আগে
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজার প্রাঙ্গণে ঘটনায় অজ্ঞাতনামা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
মামলাটি করেন এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী লালন শাহের মাজার পরিদর্শনে আসেন। মাজার পরিদর্শন ও লালনের গান শোনা শেষে রাত আনুমানিক সোয়া ৮টায় মাজারের মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তার ওপর হামলা চালান।
এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীদের মধ্যে একজন নাসীরুদ্দীনকে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর নিক্ষেপ করেন। এরপর অন্যদের উদ্দেশে ‘শালাদের আজ শেষ করে ফেল’ বলে উসকানি দেন। পরে হামলাকারীরা লাঠি, বাঁশ, পাইপ, বাটাম, লোহার রড, পাথরসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাসীরুদ্দীন ও তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা ও মারধর করেন। এতে কয়েকজন আহত হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলা থেকে বাঁচতে নাসীরুদ্দীন, এনসিপির নেতা-কর্মীরা মাজারের ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে হামলাকারীরা তাদের পিছু নিয়ে মাজারের ভেতরেও ধাওয়া করেন এবং হামলার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে নাসীরুদ্দীনকে নিরাপদে বের হতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তার ব্যবহৃত গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, এনসিপির নেতা-কর্মী ও উপস্থিত অন্যরা তাদের রক্ষায় এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মাজার থেকে বের হয়ে মূল ফটকে অবস্থান নেন। সেখানে তারা বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি ও পুলিশের সহায়তায় নাসীরুদ্দীনসহ অন্যরা নিরাপদে মাজার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় গত বুধবার মামলা হয়েছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে কাজ করছে পুলিশ।
৯ দিন আগে
সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর
বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৪ অক্টোবর) এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আখতারুজ্জামানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
গত শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর গতকাল (শনিবার) তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৩৮) বিপুলসংখ্যক যাত্রী ঢাকায় পৌঁছান। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। একই সময়ে ট্রলি সংকট দেখা দিলে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে তাকে লক্ষ্য করে আখতারুজ্জামান অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এতে বাধা দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তাকর্মীকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগ মামলায় রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে দুবার বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন তিনি।
১৪ দিন আগে
সহিংসতার মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে
ফরিদপুরে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর দায়ের করা সহিংসতার মামলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহ মো. আলতাফ হুসাইনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে জেলা ও দায়রা জজ জিয়া হায়দার নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার মোল্যা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শাহ মো. আলতাফ হুসাইন ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাটিকানাইপুরের বাসিন্দা। চলতি বছরের ২৭ জুন কোতয়ালী থানায় তার বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই মামলার ১ নম্বর আসামি তিনি।
পুলিশ জানায়, মধ্য কাশিমাবাদ গ্রামের জামে মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধি ও ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় নির্ধারণকে কেন্দ্র করে ঈদের দিন গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সে সময় ১৭টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এর জেরে পরবর্তীতে ২৬ জুন দ্বিতীয় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় মধ্য কাশিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা আরিফ হোসেন বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মো. আলতাফ হুসাইনকে ১ নম্বর আসামি করে এবং ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে কোতয়ালী থানায় মামলা করেন।
এসআই আবুল বাশার বলেন, ‘ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন শাহ মো. আলতাফ হুসাইন। মেয়াদ শেষ হওয়ায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। এ সময় তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।’
১৯ দিন আগে
ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ, বিজিবির মামলা
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নলজুড়ি সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মো. বাবলা লিটন (২৮) নামের এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) তামাবিল ক্যাম্পের কমান্ডার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা এ ঘটনায় বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন।
বাবলা লিটনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলার এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিএসএফ গুলি করলে তা লিটনের হাতে লাগে।
বাবলা লিটন নলজুড়ি এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরও সাত থেকে আটজন ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিজিবির মামলায় তাদের বিরুদ্ধে সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা ও বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তের ১২৭৮/৪ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে বাবলা লিটনসহ সাত থেকে আটজন ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। তখন তারা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়লে বিএসএফ সদস্যরা চারটি গুলি ছোড়েন। এতে বাবলা লিটন গুলিবিদ্ধ হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও বাবলা লিটনসহ অন্যরা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন। পরে খবর পেয়ে সিলেট বিজিবির তামাবিল ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও ইট-পাথর ছোড়া হয়। এতে বিজিবির কয়েকজন সদস্য সামান্য আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা পাঁচটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হলে সতর্কতামূলকভাবে চার থেকে পাঁচটি গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
২৪ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতার ওপর হামলায় বিএনপির ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আব্দুস সবুরের স্ত্রী শোহর ভানু বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলাটি করেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি রাকিবুল বলেন, গতকাল (শনিবার) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চের গাড়িবহরকে অভ্যর্থনা জানাতে সয়দাবাদ এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা জমায়েত হন। লং মার্চ রংপুরের উদ্দেশে চলে গেলে তারা নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের ওপর একদল লোক হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে জখম করে। এছাড়া নুরনবী নামের আরেক জামায়াত নেতাও মারধরের শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুস সবুরকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতেই তার স্ত্রী বাদী হয়ে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম সরকারসহ ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।
এ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২৮ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ধর্ষণের চার মামলায় গ্রেপ্তার ৫
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ধর্ষণের পৃথক চার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট রাতে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আজিজুল হক, ওবায়দুল হক ও খোতেজা বেগমকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে সদর ইউনিয়নে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় শাহজালাল মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই দিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আউয়াল।
এছাড়া উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সিআর মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন জানান, প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ অভিযুক্ত তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসেন আলীর (৪৫) বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, ‘ঘটনাগুলোতে থানায় পৃথক চারটি মামলা রুজু হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
২৮ দিন আগে
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় মঙ্গলবার
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্য প্রসিকিউটররা।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয় যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
৩৪ দিন আগে
ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
রংপুরের কাউনিয়ায় শরীর ম্যাসাজের কথা বলে কক্ষে ডেকে এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে আজিজুল হাকিম (২৪) নামের এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় মামলাটি করেন।
অভিযুক্ত আজিজুল হাকিম রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়া নাটারাম এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও ভুক্তোভোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে কাউনিয়া উপজেলার একটি মাদরাসায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষক আজিজুল তার শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী ছাত্রকে তার কক্ষে ডেকে নেন। একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এরপর গত সোমবার রাতে আবারও ওই ছাত্রকে কক্ষে ডেকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন আজিজুল। এ সময় টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে সে বাড়িতে চলে যায়।
ভুক্তভোগী তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে তারা ওই রাতেই মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়।
তবে আপস-মীমাংসার কথা বলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকরা বলছেন, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে সালিশ করার আশ্বাস দিয়ে তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। পরে অভিযুক্তকে মাদরাসা পরিচালকের ছেলের জিম্মায় রেখে অন্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে যান। এই সুযোগে তাকে গোপনে সরিয়ে দেওয়া হয়।
মাদরাসা পরিচালকের ছেলে রায়হান বলেন, সকালে সবার অগোচরে ওই শিক্ষক পালিয়ে গেছেন। তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ছাত্রের ভাষ্য, শিক্ষক আজিজুল প্রায়ই রাতে তাকে শরীর ম্যাসাজের কথা বলে কক্ষে ডাকতেন। এমনকি তাকে বাঁশের লাঠি, রড ও পাইপ দিয়ে মারধরও করতেন। সোমবার রাতেও একইভাবে তাকে ডেকে নেন। পরে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে যায় সে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষক আজিজুল হাকিমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৩৯ দিন আগে
পটুয়াখালীতে মামলার আসামি না হয়েও জেলে, পুলিশের ভুল স্বীকার
পটুয়ালীর মহিপুরে চেক ডিজঅনার মামলার ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে গিয়ে মামলার প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তিনি মামলার নথিতে উল্লেখ করা আসামি নন। পরে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে পুলিশ।
মামলার নথি অনুযায়ী, মো. আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে পটুয়াখালীর আদালতে মামলা করেন। নথিতে বলা হয়, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়।
ওই মামলায় আদালত থেকে জারি করা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ মো. জলিল হাওলাদার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিবারের দাবি, মামলার আসামি ও তাদের স্বজন একই ব্যক্তি নন। পরিবারের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যেও দুই ব্যক্তির পরিচয়ে পার্থক্য রয়েছে বলে জানান তারা।
পরিবারের অভিযোগ, পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে জলিলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হচ্ছে, যার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, ‘আসামির নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম একই হওয়ায় ভুলে আটক হয়েছে।’
মায়ের নামের পার্থক্যের বিষয়টি জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘ওয়ারেন্ট কপিতে তো মায়ের নাম থাকে না। এজন্য পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
ভুল করে আটক হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাতে দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ায় কারাগার থেকে বের হতে পারেন, সে বিষয়ে তার পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওসি।
৪১ দিন আগে