মামলা
ময়মনসিংহে শিশু নিছামনি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চাঞ্চল্যকর পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে তাদের দুই লাখ টাকা করে জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আরিফ, রাকিব ও সিয়াম। এই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক অপর আসামি মারুফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৫ জুন নিছামনির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনে ৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে আদালত তিন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, রায়ে নিছামনির বাবা-মা সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। তারা এই রায় কার্যকর করতে সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।
নিছামনির মা বলেন, ‘এই রায় দ্রুত কার্যকর হলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’
বাবা তাজু মিয়া বলেন, আমার মেয়ের বয়স ছিল ৪ বছর ৭ মাস। এই বয়সের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেয়। এই ঘটনা যে শুনেছে, সে-ই কেঁদেছে। আমি দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই এবং সরকার যেন এই রায় দ্রুত কার্যকর করে, সেই দাবি জানাই।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগে
ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২৪ জন গ্রেপ্তার
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ৪২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৬৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৪১ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ২৬ জন, ওয়ায়ী বিভাগ থেকে ৫২ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৪৮ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫৫ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ৯৭ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৯ জন, উত্তরা বিভাগে ৬৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, ৫ হাজার ২১৮ পিস ইয়াবা, ১৫ পুরিয়া হেরোইন, ৪ বোতল ফেন্সিডিল, ১টি চাপাতি, ১টি চাকু, ১টি রশি, ২টি ইনজেকশন প্যাথেডিন, ২৪টি মোবাইল, ২ জন ভিকটিম, মাদকদ্রব্য সেবনের সরঞ্জামাদি, বিভিন্ন প্রজাতির ১১০৪টি প্রাণী, ৭৫ কেজি লেবু ও ১টি মেমো উদ্ধার করা হয়।
নিয়াজ মেহেদী আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৬ দিন আগে
বগুড়ায় কুকুর নির্যাতনের অভিযোগে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা
বগুড়া শহরের কানছগাড়ী এলাকায় একটি কুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে মো. স্বপন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) বগুড়া শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় অভিযুক্ত মো. স্বপন কানছগাড়ী পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় ফার্নিচার ব্যবসায়ী।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আজ (সোমবার) দুপুরে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে মো. এমরান হোসেন কানছগাড়ী এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি গলিতে যান। সেখানে একটি সাদা-কালো রঙের কুকুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ড্রেনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় দুই ব্যক্তি এসএম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সহযোগিতায় কুকুরটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জলেশ্বরীতলার একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
এমরান হোসেন বলেন, খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাসহ জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি সমন্বিত চিকিৎসক দল কুকুরটিকে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসার পর প্রাণীটি কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনাস্থলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত স্বপন ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে কুকুরটিকে আঘাত করে গুরুতর জখম করেছেন। আহত প্রাণীটির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এবং সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।
এ বিষয়ে অভিযোগটি গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বগুড়া সদর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৯ দিন আগে
খৈলের চালানে ‘অন্য পণ্য আমদানি’, বেনাপোল বন্দরে আনসার সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বেনাপোল স্থলবন্দরে ট্রান্সশিপমেন্টের সরিষার খৈলের চালানের মধ্যে অন্য পণ্য আমদানি এবং অবৈধভাবে অপসারণ ও আত্মসাতের অভিযোগে আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী এবং ট্রাকচালক ও সহকারীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি বাংলাদেশি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বেনাপোল পোর্ট থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৫ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করেন বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ওবাইদুল মিয়া।
মামলায় ৩ আনসার সদস্য, ৪ জন বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী, ট্রাকচালক ও সহকারীসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন ভারত থেকে সরিষার খৈলবোঝাই একটি ট্রাক বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। ২৫ জুন ট্রাকটি কেমিক্যাল জোনে অবস্থানকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন আনসার সদস্য ও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীর যোগসাজশে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে অবৈধভাবে ৪০ প্যাকেট পণ্য স্থানান্তর করা হয়। পরে ট্রাকটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে ওজন করলে ঘোষিত ওজনের তুলনায় ২ হাজার ৭৮৪ কেজি পণ্যের ঘাটতি ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা গেট পাস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই ট্রাক চলাচল ও পণ্য অপসারণে সহযোগিতা করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত বাংলাদেশি ট্রাকটি শনাক্ত করা হয় এবং ট্রাকচালক ও সহকারীকে আটক করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দশ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তা জেনেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
১২ দিন আগে
অপহরণ ও অর্থ লুটের মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মোমছেদুল খান বুলবুলকে (৩৫) ডাকাতি, অপহরণ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লুটের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাশিরাম মনিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (শনিবার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১৩ রংপুরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার মোমছেদুল খান বুলবুল উপজেলার উত্তর মুশরাত মদাতী এলাকার বাসিন্দা। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চাপারহাট থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন স্থানীয় রবিউল ইসলাম ওরফে মিস্টার আলী (৩০)। চাপারহাট-ভূল্যারহাট সড়কের গুরুদয়াল চৌপথি মোড়ে পৌঁছালে বুলবুল ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে তাকে অপহরণ করেন। পরে তাদের বুলবুলের মালিকানাধীন একটি মুরগির খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভোররাত পর্যন্ত আটকে রেখে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা রবিউলের কাছে থাকা নগদ ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এছাড়া প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট (বিকাশ ও নগদ) থেকে ধাপে ধাপে মোট ৮ লাখ ২৪ হাজার ১০৭ টাকা স্থানান্তর করে নেন তারা। পরদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর শর্তে ও জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ৩ এপ্রিল বুলবুলকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলার পর থেকেই বুলবুল পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বুলবুলকে আগেই ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
পুলিশের অপরাধ তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সিডিএমএস) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুলবুলের বিরুদ্ধে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও সদর থানায় ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, গুরুতর আঘাত এবং মারামারিসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, মোমছেদুল খান বুলবুলকে র্যাব-১৩ গ্রেপ্তার করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়েছি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।
১৯ দিন আগে
তিন মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক এমপি মমতাজ বেগম
রাজধানীর মিরপুর থানায় করা সাগর হত্যা মামলাসহ তিন মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শিল্পী মমতাজ বেগমকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
পৃথক আবেদন শুনানির পর সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি এবিএম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে মমতাজের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট খায়রুন নেছা।
এর আগে, এসব মামলায় মমতাজ বেগমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে গ্রেপ্তার হন মমতাজ বেগম। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম একাধিকবার মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।
এরপর গত বছরের ১৭ মে চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেন। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
২৪ দিন আগে
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলির মামলার রায় ২৮ জুন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচজন।
সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।
এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। প্রথমেই আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।
মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
২৪ দিন আগে
সিলেটে ফাহিমা হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেন এবং মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এতে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহ গুমে জাকিরকে সহযোগিতার জন্য তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা সকলে ফাহিমার প্রতিবেশী। ঘটনার পরই জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ফাহিমা। দুই দিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পরদিন ১২ মে সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট আনার জন্য পাঠায় জাকির। সিগারেট এনে দেওয়ার পর জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। জিজ্ঞাসাবাদে জাকির জানিয়েছেন, সে সময় ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করে জাকির। প্রথমে তিনি মরদেহ ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখেন। পরে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় সেটি পাশেই রেখে পালিয়ে যান জাকির।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।
এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।
২৭ দিন আগে
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে করবী ফেরির র্যাম ভেঙে এসবি পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ওই বাসের চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় বাসের চালক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজার কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আজমল হোসেন (৩৮) এবং সহকারী আলামপুর এলাকার বাসিন্দা শাকিব হোসেনের (২২) নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া এস বি সুপার ডিলাক্স (নন-এসি) পরিবহনের বাস পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে ফেরির অবকাঠামো ও যাত্রীদের মালামাল মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) সকালে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এস বি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছায়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য চালককে নির্দেশ দেন নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
নির্দেশনা অনুসারে, বাসের প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ জন যাত্রী নেমে পায়ে হেঁটে ফেরির দিকে যেতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পর বাসের চালক ঝন্টু আলী বাসটি স্টার্ট দিয়ে বেপরোয়া ও অবহেলামূলকভাবে চালাতে শুরু করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় পারাপারের জন্য নির্ধারিত ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’-এ না তুলে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে সেখানে অবস্থানরত ‘করবী অক্সফ্যাম’ নামের অপর একটি ফেরির ওপর উঠে যায়। পরে ফেরিটির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে র্যাম্পের শিকল ও সিটকিনি ছিঁড়ে যায় এবং বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
নৌ-পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার আগে সুপারভাইজার ও সহকারী কৌশলে লাফ দিয়ে ফেরিতে নেমে যান। আর চালক সাঁতরে পন্টুনের কাছে এলে নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
দুর্ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে তুলে আনা সম্ভব হয়। পরে বাসটি জব্দ করে নৌ-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অধিকাংশ কাঁচের জানালাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এজাহারে দাবি করা হয়, দুর্ঘটনায় করবী অক্সফ্যাম ফেরির র্যাম্প, ক্যাবল ও শিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামালের একটি অংশ পানিতে ভিজে, ডুবে বা হারিয়ে যায়। সব মিলিয়ে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তারর দেখিয়ে আজ (শনিবার) রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নৌ-পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া মালামাল যাচাই-বাছাই করে যাত্রীদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৩৩ দিন আগে
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২২ জনের নামে এবার ছাত্রদলের মামলা
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এবার এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে ছাত্রদল পাল্টা মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) ঝিনাইদহ সদর থানায় এই মামলাটি করেন ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি মো. এনামুল কবির।
মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী তারেকুল ইসলাম তারেক রেজাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন: মেহেদী হাসান আশিক, সিয়াম উদ্দিন তুর্য, তানাঈম, আসিফ, অয়ন রহমান খান, তাইন, জয়নাল, আলমগীর, শাহরিয়ার অভীক, হৃদয় মাস্টার, লাবাবুল বাশার লাবু, শিহাব শাহ, নয়ন, সুলতান শাহ, হৃদয়, রুবায়েত হাসান তুর্য, শেখ সামি, রিফাত, হাকিম, কাইসার ও ইমরানসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে বাদী মো. এনামুল কবির ঝিনাইদহ পৌরসভাধীন পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যান। নামাজ শেষে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে মসজিদ থেকে বের হয়ে তিনি দেখতে পান, এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়কারী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী জেলা শাখার নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন।
বাদীর অভিযোগ, ওই বক্তব্যে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর সমালোচনা করছিলেন, যাতে ১ নম্বর আসামি তারেক রেজা উস্কানি দেন। এ সময় বাদী ও সাধারণ মুসল্লিরা এই বক্তব্যের প্রতিবাদ ও অনুরোধ জানালে ১ নম্বর আসামির হুকুমে এনসিপির নেতা-কর্মীরা ছাত্রদল নেতাদের ওপর চড়াও হন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে বাদীকে ঘিরে ধরে এবং মারপিট শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামি তানাঈম বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তার কপাল ফেটে গুরুতর জখম হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি হৃদয় হোসেন এবং জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি নয়ন হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে পিস্তলের বাট, ধারালো দা ও ইট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান আজ (শনিবার) বিকেলে জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১৫ জন নেতা-কর্মীর নামে এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই পাল্টা মামলা করা হলো।
৪৭ দিন আগে