মামলা
ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ, বিজিবির মামলা
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নলজুড়ি সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মো. বাবলা লিটন (২৮) নামের এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) তামাবিল ক্যাম্পের কমান্ডার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা এ ঘটনায় বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন।
বাবলা লিটনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলার এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিএসএফ গুলি করলে তা লিটনের হাতে লাগে।
বাবলা লিটন নলজুড়ি এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার সময় তার সঙ্গে আরও সাত থেকে আটজন ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিজিবির মামলায় তাদের বিরুদ্ধে সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা ও বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তের ১২৭৮/৪ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে বাবলা লিটনসহ সাত থেকে আটজন ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। তখন তারা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়লে বিএসএফ সদস্যরা চারটি গুলি ছোড়েন। এতে বাবলা লিটন গুলিবিদ্ধ হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও বাবলা লিটনসহ অন্যরা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন। পরে খবর পেয়ে সিলেট বিজিবির তামাবিল ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও ইট-পাথর ছোড়া হয়। এতে বিজিবির কয়েকজন সদস্য সামান্য আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা পাঁচটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হলে সতর্কতামূলকভাবে চার থেকে পাঁচটি গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতার ওপর হামলায় বিএনপির ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আব্দুস সবুরের স্ত্রী শোহর ভানু বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলাটি করেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি রাকিবুল বলেন, গতকাল (শনিবার) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চের গাড়িবহরকে অভ্যর্থনা জানাতে সয়দাবাদ এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা জমায়েত হন। লং মার্চ রংপুরের উদ্দেশে চলে গেলে তারা নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের ওপর একদল লোক হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে জখম করে। এছাড়া নুরনবী নামের আরেক জামায়াত নেতাও মারধরের শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুস সবুরকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতেই তার স্ত্রী বাদী হয়ে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম সরকারসহ ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।
এ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৮ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ধর্ষণের চার মামলায় গ্রেপ্তার ৫
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ধর্ষণের পৃথক চার ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট রাতে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আজিজুল হক, ওবায়দুল হক ও খোতেজা বেগমকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে সদর ইউনিয়নে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় শাহজালাল মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই দিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আউয়াল।
এছাড়া উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সিআর মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইকবাল হোসেন জানান, প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ অভিযুক্ত তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসেন আলীর (৪৫) বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, ‘ঘটনাগুলোতে থানায় পৃথক চারটি মামলা রুজু হয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
৮ দিন আগে
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় মঙ্গলবার
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্য প্রসিকিউটররা।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয় যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
১৪ দিন আগে
ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা
রংপুরের কাউনিয়ায় শরীর ম্যাসাজের কথা বলে কক্ষে ডেকে এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে আজিজুল হাকিম (২৪) নামের এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় মামলাটি করেন।
অভিযুক্ত আজিজুল হাকিম রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়া নাটারাম এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও ভুক্তোভোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে কাউনিয়া উপজেলার একটি মাদরাসায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষক আজিজুল তার শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী ছাত্রকে তার কক্ষে ডেকে নেন। একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এরপর গত সোমবার রাতে আবারও ওই ছাত্রকে কক্ষে ডেকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন আজিজুল। এ সময় টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে সে বাড়িতে চলে যায়।
ভুক্তভোগী তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে তারা ওই রাতেই মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়।
তবে আপস-মীমাংসার কথা বলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকরা বলছেন, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে সালিশ করার আশ্বাস দিয়ে তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। পরে অভিযুক্তকে মাদরাসা পরিচালকের ছেলের জিম্মায় রেখে অন্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে যান। এই সুযোগে তাকে গোপনে সরিয়ে দেওয়া হয়।
মাদরাসা পরিচালকের ছেলে রায়হান বলেন, সকালে সবার অগোচরে ওই শিক্ষক পালিয়ে গেছেন। তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ছাত্রের ভাষ্য, শিক্ষক আজিজুল প্রায়ই রাতে তাকে শরীর ম্যাসাজের কথা বলে কক্ষে ডাকতেন। এমনকি তাকে বাঁশের লাঠি, রড ও পাইপ দিয়ে মারধরও করতেন। সোমবার রাতেও একইভাবে তাকে ডেকে নেন। পরে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে যায় সে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মাদরাসা শিক্ষক আজিজুল হাকিমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
১৯ দিন আগে
পটুয়াখালীতে মামলার আসামি না হয়েও জেলে, পুলিশের ভুল স্বীকার
পটুয়ালীর মহিপুরে চেক ডিজঅনার মামলার ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে গিয়ে মামলার প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তিনি মামলার নথিতে উল্লেখ করা আসামি নন। পরে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে পুলিশ।
মামলার নথি অনুযায়ী, মো. আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে পটুয়াখালীর আদালতে মামলা করেন। নথিতে বলা হয়, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়।
ওই মামলায় আদালত থেকে জারি করা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ মো. জলিল হাওলাদার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিবারের দাবি, মামলার আসামি ও তাদের স্বজন একই ব্যক্তি নন। পরিবারের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যেও দুই ব্যক্তির পরিচয়ে পার্থক্য রয়েছে বলে জানান তারা।
পরিবারের অভিযোগ, পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে জলিলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হচ্ছে, যার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, ‘আসামির নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম একই হওয়ায় ভুলে আটক হয়েছে।’
মায়ের নামের পার্থক্যের বিষয়টি জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘ওয়ারেন্ট কপিতে তো মায়ের নাম থাকে না। এজন্য পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
ভুল করে আটক হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাতে দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ায় কারাগার থেকে বের হতে পারেন, সে বিষয়ে তার পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওসি।
২১ দিন আগে
পীর শামিমের দেহাবশেষ আগের কবরস্থানে দাফন, থানায় মামলা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কবর খুঁড়ে আলোচিত পীর হিসেবে পরিচিত আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের দেহাবশেষ তুলে তার প্রতিষ্ঠিত দরবার শরিফে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শনিবার বিকেলে দরবার শরিফ থেকে উদ্ধার করা দেহাবশেষ আগের কবরস্থানেই পুনরায় দাফন করা হয়েছে।
নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে দৌলতপুর থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থান থেকে শামিমের দেহাবশেষ তুলে তার প্রতিষ্ঠিত ‘শামিমি বাবার দরবার শরিফে’ নিয়ে দাফন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শনিবার সকালে বিষয়টি জানতে পারেন তার স্বজনেরা। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান।
পরে প্রশাসনের নির্দেশে দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে খোঁড়া নতুন কবর থেকে শামিমের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ‘৫০০ বিঘা মাঠ’ নামে পরিচিত কবরস্থানে তার দেহাবশেষ পুনরায় দাফন করা হয়।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, পুরোনো কবর খুঁড়ে দেখা যায় সেখানে শামিমের দেহাবশেষ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরবারে থাকা দেহাবশেষ উদ্ধার করে মূল কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কবর থেকে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পায়। পরে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় দরবার প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন করে আগের কবরস্থানেই পুনরায় দাফন করা হয়।
তিনি বলেন, রাতের আঁধারে কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছে, তা শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেহাবশেষ পুনরায় দাফনের পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছিল, তা তদন্ত করে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি পাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক-দুই দিনের মধ্যে পরিবার এ কাজ বাস্তবায়ন করবে।
জানা গেছে, জীবিতাবস্থায় শামিম তার প্রতিষ্ঠিত দরবার শরিফ প্রাঙ্গণেই সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। মৃত্যুর পর তার অনুসারীদের একটি অংশও দরবার প্রাঙ্গণে তাকে দাফনের দাবি জানায়। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামিমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধর করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ১২ এপ্রিল ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার একটি ঈদগাহে জানাজা শেষে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শামিম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে ১৩ এপ্রিল রাতে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
হত্যার প্রায় পাঁচ মাস পর কবর খুঁড়ে শামিমের দেহাবশেষ তুলে দরবার শরিফে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দেহাবশেষ আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হলেও কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২২ দিন আগে
প্রতারণার মামলায় বিদিশা সিদ্দিককে হাইকোর্টের জামিন
প্রতারণার মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছিলেন বিচারিক আদালত।
আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান খান ও অ্যাডভোকেট মাসুদ মিয়া। পরে এ বিষয়ে আইনজীবী মাসুদ মিয়া বলেন, বিদিশার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই।
গত ২৬ আগস্ট প্রতারণার মামলায় বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা ছিল।
গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। সে সময় কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
ঢাকার পল্লবী এলাকার ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, মোশাররফ ২০০১ সালের ১০ জুলাই বারিধারায় একটি ফ্ল্যাটের জন্য বিদিশাকে ৭৫ লাখ টাকা দেন। ফ্ল্যাটটি ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাটটি হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দিলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত (ডিসঅনার) হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগকারী জানান, টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর—কোনোটিই না করে বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করেন। পরে তিনি তাকে হত্যার হুমকিও দেন।
২২ দিন আগে
প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু দেখানোয় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু হিসেবে দেখিয়ে জাল জন্মসনদ ও কাগজপত্র তৈরি করে জামিন নেওয়া, আদালতের অর্ডার শিটের আদেশ কাটাকাটি ও নথি গায়েবের অভিযোগে গাইবান্ধা জেলা বারের আইনজীবী, গোবিন্দগঞ্জ কোর্টের জিআরও ও মুহুরির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদেশটি গোবিন্দগঞ্জ থানায় পৌঁছালে এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ। এর আগে গতকাল (বুধবার) গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ বিভিন্ন মামলায় অভিযান চালিয়ে হ্যাকারসহ পলাশ রানা, সুমন মিয়া, শামীম চৌধুরী ও এনামুল হক নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের কারামুক্ত করতে আত্মীয়স্বজনরা জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের পরামর্শ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপন বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিবাহিত যুবক এনামুল হককে নাবালক ও শিশু প্রমাণ করতে জাল জন্মসনদ তৈরি করেন। তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু হিসেবে দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে কোর্টের জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুর ও মুহুরি হাসান আলীর সহযোগিতায় আদালতের নথি গায়েব ও আদেশ কাটাকাটির অভিযোগ রয়েছে আইনজীবী শেফাউল ইসলামের বিরুদ্ধে। এভাবে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সাবালক আসামিদের নাবালক দেখিয়ে তাদের জামিন নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী সারোয়ার হোসেন, মোত্তালিব হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী আদালতে জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শিশু আদালত-২-এর বিচারক বিষয়টি আমলে নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম গালিব হাসানকে তদন্তভার দেন। গত ১৯ আগস্ট শিশু আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে মূল অভিযুক্ত আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল, মুহুরি হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বাতিল ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
সেই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক বিচার বিভাগের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ বলে পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।
এছাড়া শিশু আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারীকে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।
বুধবার আদেশ দেওয়া হলেও আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সেটি থানায় পৌঁছায়। পরে তিন অভিযুক্ত আইনজীবী, মুহুরি ও কোর্ট জিআরওর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আদেশটি পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
২৫ দিন আগে
উল্টোপথে যাওয়ায় মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে ২ মামলা
উল্টোপথে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে এক মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা জানান, এদিন সকাল ৯টা ৮ মিনিটে একজন মন্ত্রীর ‘রেঞ্জ রোভার’ গাড়ি সার্কিট হাউস সড়ক দিয়ে উল্টোপথে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাফিক পুলিশ ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৮-২১২৫ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের পতাকাবাহী গাড়িটি থামিয়ে দেয়।
তিনি আরও জানান, চালককে বলা হয়, এভাবে উল্টোপথে গাড়ি চালানো আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। গাড়িটির চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। দুটি মামলায় তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পরে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, গাড়িটি বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জমান মিল্লাতের গাড়ি ছিল। ওই সময় তিনি গাড়িতেই ছিলেন। অন্যদিকে, তার গাড়িটি যখন উল্টোপথে যাচ্ছিল, তখন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পাশের সড়ক দিয়ে সচিবালয় অভিমুখে অতিক্রম করছিল।
ট্রাফিক কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে চলার অভিযোগ মামলা হলো, যা নজিরবিহীন। অতীতেও মন্ত্রীর গাড়ি গন্তব্যে দ্রুত যাওয়ার জন্য অথবা যানজট এড়াতে উল্টোপথে যাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। তবে মামলার ঘটনা এই প্রথম।
এদিকে মন্ত্রীর গাড়ির উল্টোপথে চলার এই সংবাদে সচিবালয়ে ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের ঊধর্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক আইন মেনে সচিবালয়ে যাওয়া-আসা করছেন, যানজটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহন ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছে, সেখানে মন্ত্রী কিংবা সচিবের গাড়ি উল্টোপথে যাওয়ার এই ঘটনার পরিণতি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য একটি বার্তা হিসেবে চিহ্নিত থাকবে।’
২৫ দিন আগে