মামলা
পটুয়াখালীতে মামলার আসামি না হয়েও জেলে, পুলিশের ভুল স্বীকার
পটুয়ালীর মহিপুরে চেক ডিজঅনার মামলার ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে গিয়ে মামলার প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তিনি মামলার নথিতে উল্লেখ করা আসামি নন। পরে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে পুলিশ।
মামলার নথি অনুযায়ী, মো. আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে পটুয়াখালীর আদালতে মামলা করেন। নথিতে বলা হয়, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়।
ওই মামলায় আদালত থেকে জারি করা ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ মো. জলিল হাওলাদার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিবারের দাবি, মামলার আসামি ও তাদের স্বজন একই ব্যক্তি নন। পরিবারের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যেও দুই ব্যক্তির পরিচয়ে পার্থক্য রয়েছে বলে জানান তারা।
পরিবারের অভিযোগ, পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে জলিলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হচ্ছে, যার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, ‘আসামির নাম, বাবার নাম ও গ্রামের নাম একই হওয়ায় ভুলে আটক হয়েছে।’
মায়ের নামের পার্থক্যের বিষয়টি জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘ওয়ারেন্ট কপিতে তো মায়ের নাম থাকে না। এজন্য পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
ভুল করে আটক হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাতে দ্রুত আইনগত প্রক্রিয়ায় কারাগার থেকে বের হতে পারেন, সে বিষয়ে তার পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ওসি।
১ দিন আগে
পীর শামিমের দেহাবশেষ আগের কবরস্থানে দাফন, থানায় মামলা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কবর খুঁড়ে আলোচিত পীর হিসেবে পরিচিত আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের দেহাবশেষ তুলে তার প্রতিষ্ঠিত দরবার শরিফে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শনিবার বিকেলে দরবার শরিফ থেকে উদ্ধার করা দেহাবশেষ আগের কবরস্থানেই পুনরায় দাফন করা হয়েছে।
নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে দৌলতপুর থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থান থেকে শামিমের দেহাবশেষ তুলে তার প্রতিষ্ঠিত ‘শামিমি বাবার দরবার শরিফে’ নিয়ে দাফন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শনিবার সকালে বিষয়টি জানতে পারেন তার স্বজনেরা। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান।
পরে প্রশাসনের নির্দেশে দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে খোঁড়া নতুন কবর থেকে শামিমের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ‘৫০০ বিঘা মাঠ’ নামে পরিচিত কবরস্থানে তার দেহাবশেষ পুনরায় দাফন করা হয়।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, পুরোনো কবর খুঁড়ে দেখা যায় সেখানে শামিমের দেহাবশেষ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরবারে থাকা দেহাবশেষ উদ্ধার করে মূল কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কবর থেকে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পায়। পরে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় দরবার প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন করে আগের কবরস্থানেই পুনরায় দাফন করা হয়।
তিনি বলেন, রাতের আঁধারে কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছে, তা শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেহাবশেষ পুনরায় দাফনের পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছিল, তা তদন্ত করে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি পাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক-দুই দিনের মধ্যে পরিবার এ কাজ বাস্তবায়ন করবে।
জানা গেছে, জীবিতাবস্থায় শামিম তার প্রতিষ্ঠিত দরবার শরিফ প্রাঙ্গণেই সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। মৃত্যুর পর তার অনুসারীদের একটি অংশও দরবার প্রাঙ্গণে তাকে দাফনের দাবি জানায়। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামিমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধর করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ১২ এপ্রিল ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার একটি ঈদগাহে জানাজা শেষে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শামিম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে ১৩ এপ্রিল রাতে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
হত্যার প্রায় পাঁচ মাস পর কবর খুঁড়ে শামিমের দেহাবশেষ তুলে দরবার শরিফে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দেহাবশেষ আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হলেও কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
প্রতারণার মামলায় বিদিশা সিদ্দিককে হাইকোর্টের জামিন
প্রতারণার মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠিয়েছিলেন বিচারিক আদালত।
আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান খান ও অ্যাডভোকেট মাসুদ মিয়া। পরে এ বিষয়ে আইনজীবী মাসুদ মিয়া বলেন, বিদিশার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই।
গত ২৬ আগস্ট প্রতারণার মামলায় বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা ছিল।
গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। সে সময় কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
ঢাকার পল্লবী এলাকার ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, মোশাররফ ২০০১ সালের ১০ জুলাই বারিধারায় একটি ফ্ল্যাটের জন্য বিদিশাকে ৭৫ লাখ টাকা দেন। ফ্ল্যাটটি ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাটটি হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দিলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত (ডিসঅনার) হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগকারী জানান, টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর—কোনোটিই না করে বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করেন। পরে তিনি তাকে হত্যার হুমকিও দেন।
২ দিন আগে
প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু দেখানোয় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু হিসেবে দেখিয়ে জাল জন্মসনদ ও কাগজপত্র তৈরি করে জামিন নেওয়া, আদালতের অর্ডার শিটের আদেশ কাটাকাটি ও নথি গায়েবের অভিযোগে গাইবান্ধা জেলা বারের আইনজীবী, গোবিন্দগঞ্জ কোর্টের জিআরও ও মুহুরির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদেশটি গোবিন্দগঞ্জ থানায় পৌঁছালে এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ। এর আগে গতকাল (বুধবার) গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ বিভিন্ন মামলায় অভিযান চালিয়ে হ্যাকারসহ পলাশ রানা, সুমন মিয়া, শামীম চৌধুরী ও এনামুল হক নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের কারামুক্ত করতে আত্মীয়স্বজনরা জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের পরামর্শ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপন বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিবাহিত যুবক এনামুল হককে নাবালক ও শিশু প্রমাণ করতে জাল জন্মসনদ তৈরি করেন। তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু হিসেবে দেখিয়ে জামিন করানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে কোর্টের জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুর ও মুহুরি হাসান আলীর সহযোগিতায় আদালতের নথি গায়েব ও আদেশ কাটাকাটির অভিযোগ রয়েছে আইনজীবী শেফাউল ইসলামের বিরুদ্ধে। এভাবে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সাবালক আসামিদের নাবালক দেখিয়ে তাদের জামিন নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী সারোয়ার হোসেন, মোত্তালিব হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী আদালতে জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শিশু আদালত-২-এর বিচারক বিষয়টি আমলে নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম গালিব হাসানকে তদন্তভার দেন। গত ১৯ আগস্ট শিশু আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে মূল অভিযুক্ত আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল, মুহুরি হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বাতিল ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
সেই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক বিচার বিভাগের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ বলে পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।
এছাড়া শিশু আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারীকে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।
বুধবার আদেশ দেওয়া হলেও আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সেটি থানায় পৌঁছায়। পরে তিন অভিযুক্ত আইনজীবী, মুহুরি ও কোর্ট জিআরওর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আদেশটি পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
৫ দিন আগে
উল্টোপথে যাওয়ায় মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে ২ মামলা
উল্টোপথে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে এক মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা জানান, এদিন সকাল ৯টা ৮ মিনিটে একজন মন্ত্রীর ‘রেঞ্জ রোভার’ গাড়ি সার্কিট হাউস সড়ক দিয়ে উল্টোপথে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাফিক পুলিশ ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৮-২১২৫ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের পতাকাবাহী গাড়িটি থামিয়ে দেয়।
তিনি আরও জানান, চালককে বলা হয়, এভাবে উল্টোপথে গাড়ি চালানো আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। গাড়িটির চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। দুটি মামলায় তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পরে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, গাড়িটি বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জমান মিল্লাতের গাড়ি ছিল। ওই সময় তিনি গাড়িতেই ছিলেন। অন্যদিকে, তার গাড়িটি যখন উল্টোপথে যাচ্ছিল, তখন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পাশের সড়ক দিয়ে সচিবালয় অভিমুখে অতিক্রম করছিল।
ট্রাফিক কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে চলার অভিযোগ মামলা হলো, যা নজিরবিহীন। অতীতেও মন্ত্রীর গাড়ি গন্তব্যে দ্রুত যাওয়ার জন্য অথবা যানজট এড়াতে উল্টোপথে যাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। তবে মামলার ঘটনা এই প্রথম।
এদিকে মন্ত্রীর গাড়ির উল্টোপথে চলার এই সংবাদে সচিবালয়ে ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের ঊধর্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক আইন মেনে সচিবালয়ে যাওয়া-আসা করছেন, যানজটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহন ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছে, সেখানে মন্ত্রী কিংবা সচিবের গাড়ি উল্টোপথে যাওয়ার এই ঘটনার পরিণতি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য একটি বার্তা হিসেবে চিহ্নিত থাকবে।’
৫ দিন আগে
নিরাপদ খাদ্য আইনে এক সপ্তাহে ২০ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা, ১৬ মামলা
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ লঙ্ঘনের দায়ে গত এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সময়ে এসব ঘটনায় ১৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গত ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী পরিচালিত অভিযান, মোবাইল কোর্ট ও সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এসব জরিমানা ও মামলা করা হয় বলে রবিবার (৩০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিএফএসএ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, পচা ও বাসি খাবার বিক্রি এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ার মতো অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এসব ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড় ও সিলেট জেলায় ১২টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
অনুমোদনহীন রং ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ বা বিক্রি, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং পোড়া তেল ব্যবহারের মতো অপরাধে এসব প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ঘটনায় ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাশাপাশি গত ২৬ আগস্ট পাবনার চাটমোহর ও সদর উপজেলায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা, পাবনার উপস্থিতিতে সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়।
এ সময় নিবন্ধন ছাড়া পনির উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অন্যটির বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিএফএসএ জানায়, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা তদারকি কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ ২৬৪টি খাদ্যস্থাপনায় তদারকি করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
৯ দিন আগে
ঝিনাইদহে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে যুবক নিহত: জোড়া মামলায় আসামি ২ শতাধিক
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিহত ও সুমন নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ২ শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা করা হয়। কালীগঞ্জ থানার বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
পুলিশ সূত্র জানায়, গরু চুরির অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেছেন গরু চুরিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা ইয়াসমিন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের ভাই ও যশোর শহরের আরাপপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে দুই শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলাটি করেছেন।
উল্লেখ্য, গেল শুক্রবার ভোর রাতে বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা বেগমের বাড়িতে গরু চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হন হাবিব ও সুমন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের একটি বাঁশের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে।
সংঘবদ্ধ পিটুনির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই হাবিবের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলা ও তদন্তের বিষয়ে এসআই আবুল কালাম আজাদ জোড়া মামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, ‘দুই শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করবে।’
১৬ দিন আগে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৯ মামলা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ক্যামেরা স্থাপনের পর থেকে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৯টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কে যানবাহনের গতি, ভুল পথে চলাচল, অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করতে এআই ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়া অপরাধের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা ও জরিমানার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম বলেন, ‘মহাসড়কে এআই ক্যামেরার কার্যক্রম আরও বাড়ানো হলে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা কমার পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে। ইতোমধ্যে সেটির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরার যাত্রা শুরু হয়। এ পদক্ষেপের আওতায় মহাসড়কের ২৫০ কিলোমিটারে লাগানো হয়েছে ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা।
২০ দিন আগে
দুর্নীতির মামলায় গ্রামীণ ব্যাংকের চার কর্মকর্তার ৩০ বছরের কারাদণ্ড
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি পৃথক মামলার পৃথক দুটি ধারায় চারজনকে পৃথক দুটি ধারায় মোট ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৭ লাখ ২০ হাজার ৩৯০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মোহা. আদীব আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর এলাকার গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক রুনা লায়লা, একই ব্যাংকের ওই শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মো. ইনছার আলী, সাবেক দ্বিতীয় কর্মকর্তা রণেশ বিশ্বাস ও সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মমতাজ পারভীন।
দুদক খুলনা সমন্বিত কার্যালয়ের সরকারি কৌঁসুলি মো. মোফাককার হোসেন মনি জানান, একটি মামলায় ১২৬ জন গ্রাহকের পাঁচ লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে তিনজনকে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর মামলায় ৬৭ জন গ্রাহকের তিন লাখ ৫৯ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে আরও ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০ দিন আগে
হাইকোর্টে ১১ কার্যদিবসে ৫০ হাজারের বেশি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মাত্র ১১ কার্যদিবসে ৫০ হাজার ৩২৫টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে নতুন করে ৬ হাজার ৯৬৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে এ সংখ্যা অর্ধলাখ ছাড়িয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৫৭ হাজার ২৩২টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা জট কমানো এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
গত ৭ মে থেকে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চের বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা নিষ্পত্তির এ বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেন।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
৩৩ দিন আগে