মামলা
লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ ও ছিনতাই মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এক ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ, ছুরিকাঘাত ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এ রায় দেন।
রায়ে দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) তিন আসামির প্রত্যেককে পৃথকভাবে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদালত উল্লেখ করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পাটগ্রাম উপজেলার ইসফারমারা (সোনারভিটা) এলাকার সবুজ মিয়া, একই উপজেলার হাদীসপাড়া এলাকার রমজান আলী এবং ভাটিয়াটারী এলাকার আরিফুল ইসলাম ওরফে তানজিদ।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট দুপুরে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাথর নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকচালক লক্ষ্মীনন্দর সিংয়ের (৩৬) ট্রাকটি বুড়িমারী সড়কে আটকে যায়। ওইদিন দিবাগত রাত ১টার দিকে আসামিরা পে-লোডার বা ক্রেন দিয়ে ট্রাক উদ্ধারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।
পরে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভোটবাড়ী এলাকায় নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। এরপর তার কাছে থাকা ৮ হাজার ভারতীয় রুপি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় আসামিরা।
পরবর্তী সময়ে টহল পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ট্রাকচালককে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় মামলা করেন।
বিচার শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৬৫ (অপহরণ) ও ৩৯৪ (আঘাত করে ছিনতাই) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজ মিয়া শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ তিন আসামির বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। ভারতীয় নাগরিককে অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা নিন্দনীয়। এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
২ দিন আগে
জামালপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
জামালপুরে এক কিশোরীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের উপস্থিতিতেই বিচার কার্য সম্পন্ন হয়।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সকাল ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার ভারুয়াখালী হরিপুর গ্রামের কবির হোসেনের কিশোরী কন্যা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় বাড়ির পাশের রাস্তায় প্রাইভেটকার নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকা শামীমের নেতৃত্বে ৩ থেকে ৪ জনের একটি দল তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। তারা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। সে সময় ভুক্তভোগী ভারুয়াখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা কবির হোসেন ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি জামালপুর সদর থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন। সেই মামলায় আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলায় আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জাবেদ আলী।
৯ দিন আগে
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৪১
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে ৪১টি মামলা করা হয়েছে।
ডিএমপির তথ্যমতে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৪০ জন, লালবাগ বিভাগে ২৬ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৫ জন, মতিঝিল বিভাগে ২৫ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬৪ জন, মিরপুর বিভাগে ৮৫ জন, গুলশান বিভাগে ৩২ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৩ জন ও গোয়েন্দা বিভাগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের হেফাজত হতে ৩ হাজার ৩০ পিস ইয়াবা, ৫৫ কেজি ২৩০ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ২০০ বোতল ফেন্সিডিল, ১টি প্রাইভেটকার, ২টি মাইক্রোবাস, ১টি তালা কাটার মেশিন, ৬টি মোবাইল, ৩৩০ টাকা ও একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
১৫ দিন আগে
দুদকের মামলায় সাবেক বাখরাবাদ কর্মকর্তার ৮ বছরের কারাদণ্ড
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী খালেদ সাইফউল্লাহ টিপুকে ৮ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯০ পয়সা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ফেনী সদর থানার ২০১১ সালের একটি দুর্নীতি মামলায় আসামি খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় ৫ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। উভয় দণ্ড মিলিয়ে তাকে মোট ৮ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত একই সঙ্গে তাকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯০ পয়সা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, খালেদ সাইফুল্লাহ টিপু ২০০০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড কুমিল্লার গৌরীপুর কার্যালয়ে বিক্রয় সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৮ টাকায় ৫১৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি ক্রয় করেন এবং একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৯১ টাকা ব্যয় দেখান। তবে প্রকৌশলীর প্রতিবেদনে ভবনটির প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় ৬১ লাখ ৭ হাজার ৯৯ টাকা ৫২ পয়সা পাওয়া যায়। এছাড়া সোনাগাজীতে একটি মার্কেট নির্মাণের ব্যয় সম্পর্কেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
দুদকের তদন্তে দেখা যায়, ভবন ও মার্কেট নির্মাণ ব্যয়ের হিসাবে গোপনীয়তার মাধ্যমে তিনি মোট ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯৪ পয়সা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন, যা তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন দুদকের নোয়াখালীর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন। তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন দুদকের নোয়াখালী কোর্ট ইন্সপেক্টর মো.ইদ্রিছ।
১৬ দিন আগে
ময়মনসিংহে শিশু নিছামনি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চাঞ্চল্যকর পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে তাদের দুই লাখ টাকা করে জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আরিফ, রাকিব ও সিয়াম। এই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক অপর আসামি মারুফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৫ জুন নিছামনির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনে ৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে আদালত তিন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, রায়ে নিছামনির বাবা-মা সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। তারা এই রায় কার্যকর করতে সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।
নিছামনির মা বলেন, ‘এই রায় দ্রুত কার্যকর হলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’
বাবা তাজু মিয়া বলেন, আমার মেয়ের বয়স ছিল ৪ বছর ৭ মাস। এই বয়সের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেয়। এই ঘটনা যে শুনেছে, সে-ই কেঁদেছে। আমি দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই এবং সরকার যেন এই রায় দ্রুত কার্যকর করে, সেই দাবি জানাই।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।
২০ দিন আগে
ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২৪ জন গ্রেপ্তার
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ৪২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৬৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৪১ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ২৬ জন, ওয়ায়ী বিভাগ থেকে ৫২ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৪৮ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫৫ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ৯৭ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৯ জন, উত্তরা বিভাগে ৬৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, ৫ হাজার ২১৮ পিস ইয়াবা, ১৫ পুরিয়া হেরোইন, ৪ বোতল ফেন্সিডিল, ১টি চাপাতি, ১টি চাকু, ১টি রশি, ২টি ইনজেকশন প্যাথেডিন, ২৪টি মোবাইল, ২ জন ভিকটিম, মাদকদ্রব্য সেবনের সরঞ্জামাদি, বিভিন্ন প্রজাতির ১১০৪টি প্রাণী, ৭৫ কেজি লেবু ও ১টি মেমো উদ্ধার করা হয়।
নিয়াজ মেহেদী আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
২৬ দিন আগে
বগুড়ায় কুকুর নির্যাতনের অভিযোগে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা
বগুড়া শহরের কানছগাড়ী এলাকায় একটি কুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে মো. স্বপন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) বগুড়া শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় অভিযুক্ত মো. স্বপন কানছগাড়ী পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় ফার্নিচার ব্যবসায়ী।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আজ (সোমবার) দুপুরে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে মো. এমরান হোসেন কানছগাড়ী এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি গলিতে যান। সেখানে একটি সাদা-কালো রঙের কুকুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ড্রেনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় দুই ব্যক্তি এসএম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সহযোগিতায় কুকুরটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জলেশ্বরীতলার একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
এমরান হোসেন বলেন, খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাসহ জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি সমন্বিত চিকিৎসক দল কুকুরটিকে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসার পর প্রাণীটি কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনাস্থলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত স্বপন ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে কুকুরটিকে আঘাত করে গুরুতর জখম করেছেন। আহত প্রাণীটির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এবং সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।
এ বিষয়ে অভিযোগটি গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বগুড়া সদর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২৯ দিন আগে
খৈলের চালানে ‘অন্য পণ্য আমদানি’, বেনাপোল বন্দরে আনসার সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বেনাপোল স্থলবন্দরে ট্রান্সশিপমেন্টের সরিষার খৈলের চালানের মধ্যে অন্য পণ্য আমদানি এবং অবৈধভাবে অপসারণ ও আত্মসাতের অভিযোগে আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী এবং ট্রাকচালক ও সহকারীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি বাংলাদেশি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বেনাপোল পোর্ট থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৫ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করেন বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ওবাইদুল মিয়া।
মামলায় ৩ আনসার সদস্য, ৪ জন বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী, ট্রাকচালক ও সহকারীসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন ভারত থেকে সরিষার খৈলবোঝাই একটি ট্রাক বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। ২৫ জুন ট্রাকটি কেমিক্যাল জোনে অবস্থানকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন আনসার সদস্য ও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীর যোগসাজশে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে অবৈধভাবে ৪০ প্যাকেট পণ্য স্থানান্তর করা হয়। পরে ট্রাকটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে ওজন করলে ঘোষিত ওজনের তুলনায় ২ হাজার ৭৮৪ কেজি পণ্যের ঘাটতি ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা গেট পাস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই ট্রাক চলাচল ও পণ্য অপসারণে সহযোগিতা করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত বাংলাদেশি ট্রাকটি শনাক্ত করা হয় এবং ট্রাকচালক ও সহকারীকে আটক করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দশ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তা জেনেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
৩২ দিন আগে
অপহরণ ও অর্থ লুটের মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মোমছেদুল খান বুলবুলকে (৩৫) ডাকাতি, অপহরণ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লুটের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাশিরাম মনিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (শনিবার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১৩ রংপুরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার মোমছেদুল খান বুলবুল উপজেলার উত্তর মুশরাত মদাতী এলাকার বাসিন্দা। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চাপারহাট থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন স্থানীয় রবিউল ইসলাম ওরফে মিস্টার আলী (৩০)। চাপারহাট-ভূল্যারহাট সড়কের গুরুদয়াল চৌপথি মোড়ে পৌঁছালে বুলবুল ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে তাকে অপহরণ করেন। পরে তাদের বুলবুলের মালিকানাধীন একটি মুরগির খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভোররাত পর্যন্ত আটকে রেখে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা রবিউলের কাছে থাকা নগদ ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এছাড়া প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট (বিকাশ ও নগদ) থেকে ধাপে ধাপে মোট ৮ লাখ ২৪ হাজার ১০৭ টাকা স্থানান্তর করে নেন তারা। পরদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর শর্তে ও জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ৩ এপ্রিল বুলবুলকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলার পর থেকেই বুলবুল পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বুলবুলকে আগেই ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
পুলিশের অপরাধ তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সিডিএমএস) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুলবুলের বিরুদ্ধে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও সদর থানায় ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, গুরুতর আঘাত এবং মারামারিসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, মোমছেদুল খান বুলবুলকে র্যাব-১৩ গ্রেপ্তার করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়েছি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।
৩৯ দিন আগে
তিন মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক এমপি মমতাজ বেগম
রাজধানীর মিরপুর থানায় করা সাগর হত্যা মামলাসহ তিন মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শিল্পী মমতাজ বেগমকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
পৃথক আবেদন শুনানির পর সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি এবিএম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে মমতাজের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট খায়রুন নেছা।
এর আগে, এসব মামলায় মমতাজ বেগমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে গ্রেপ্তার হন মমতাজ বেগম। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম একাধিকবার মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।
এরপর গত বছরের ১৭ মে চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেন। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
৪৪ দিন আগে