মামলা
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন
বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে সরকার।
রবিবার (৮ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন–১ অধিশাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের একজন প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পর্যায়ের নিচে নয়)।
কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন–১ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, জেলা কমিটি থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রত্যাহারযোগ্য মামলা চিহ্নিত করবে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপর এসব মামলার তালিকা প্রস্তুত করে সেগুলো প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজনে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
দুর্নীতি মামলায় কাঠগড়ায় ইস্তাম্বুলের মেয়র, হতে পারে ২০০০ বছরের জেল
তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু ও তার ৪০২ জন সহযোগী বড় ধরনের দুর্নীতি মামলার বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরোধী এই নেতার বিরুদ্ধে ১৪২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে বিরোদী দলকে দমনের রাজনৈতিক চেষ্টা বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
স্থানীয় সময় সোমবার (৯ মার্চ) দেশটির আদালতে এই বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয়।
ইমামোগলু প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ২৩ বছরের শাসনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। গত বছরের মার্চে তাকে আটক করার পরও কারাগারে থাকা অবস্থাতেই ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) তাকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ৪০২ জন আসামির অধিকাংশই ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির কর্মী। ২০১৯ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইমামোগলু। এই আসামিদের মধ্যে অনেকেই সিএইচপির কর্মকর্তা। এছাড়া তাদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন।
গত বছরের ১৯ মার্চ ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার করার পর তুরস্কে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে সড়ক বিক্ষোভ শুরু হয়। গত দশ বছরের মধ্যে এটিই ছিল দেশটিতে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ আন্দোলন।
ইমামোগলুর বিরুদ্ধে মোট ১৪২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হলো ২০১৫ সাল থেকে ‘ইমামোগলু ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন ফর প্রফিট’ নামে একটি সংগঠন গঠন করার অভিযোগ। ওই সময় তিনি ইস্তাম্বুলের বেইলিকদুজু জেলার মেয়র ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের করা ৩ হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র দরপত্র কারসাজি ও ঘুষের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেননি। পাশাপাশি তারা সিএইচপির ভেতরে ইমামোগলুর রাজনৈতিক উত্থানকে অর্থায়ন করেছে, যা শেষ পর্যন্ত তাকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার পথে নিয়ে গিয়েছে।
যদি এসব অপরাধে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার ২ হাজার বছরেরও বেশি কারাদণ্ড হতে পারে।
শুক্রবার একটি পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে ইমামোগলু বলেন, সোমবারের এই বিচার তুরস্কের ইতিহাসে গণতন্ত্র রক্ষায় সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি। এটি জনগণের ইচ্ছাকে অবদমিত করার একটি প্রচেষ্টা।’
ইমামোগলুর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ইমামোগলু ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন ফর প্রফিট’ নামের ওই সংগঠনের মামলা। এসব মামলায় তিনি কারাদণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধও হতে পারেন। অন্যান্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জাল ডিপ্লোমা ডিগ্রি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অপমান করার অভিযোগ।
তবে সরকারের সমালোচকদের মতে, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে বিচারিক অভিযান চালাচ্ছে সরকার। এতে সিএইচপির নির্বাচিত প্রার্থীরা, বিশেষ করে অন্যান্য বড় শহরের মেয়ররা সন্ত্রাসবাদ ও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পড়েছেন।
২০২৩ সালে কংগ্রেসে নিয়মভঙ্গের অভিযোগে সিএইচপির শীর্ষ নেতৃত্বও আইনি চাপের মধ্যে রয়েছে।
ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির বিরুদ্ধে হওয়া এই মামলার পরিসর এবং এর দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ নতুন একটি আদালত ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালত ভবনটি ইস্তাম্বুলের পশ্চিমে সিলিভ্রি কারাগার কমপ্লেক্সে নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে ইমামোগলুসহ অনেক আসামি বন্দি রয়েছেন।
নতুন আদালত ভবনটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মামলায় সংশ্লিষ্টদের কারাগারে বিদ্যমান একটি আদালতকক্ষে গাদাগাদি করে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।
সিএইচপি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এটি তুলে ধরতে ইমামোগলুর সমর্থক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইস্তাম্বুলের চিফ প্রসিকিউটরের ভূমিকা।
ইমামোগলুর সমর্থকদের মতে, আকিন গুরলেক ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইস্তাম্বুলের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। তার আগে তিনি উপবিচারমন্ত্রী ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি সিএইচপি নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করেন। পরে গত মাসে তিনি আবার সরকারে ফিরে গিয়ে বিচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সমালোচকরা আরও বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে গোপন সাক্ষী ব্যবহার করা হচ্ছে, যাদের পরিচয় প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের কাছেও গোপন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আসামিদের দিয়ে সহ-আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ানো হচ্ছে, যা ন্যায়বিচারের অধিকার লঙ্ঘন করে বলে দাবি করছেন তারা।
তবে দেশটির সরকার বলছে, তুরস্কের বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক বেঞ্জামিন ওয়ার্ড বলেন, ‘গত এক বছরে সিএইচপির বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোকে আমরা ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে দেখছি।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সরকার ইমামোগলুকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এজন্য রাষ্ট্রপক্ষ তার দলের দুর্নাম করার চেষ্টা করছে। এর ফলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
৭ ঘণ্টা আগে
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি সম্পাদক পরিষদের
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলাসহ অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে এখনো অনেক সাংবাদিক কারাবন্দি রয়েছেন এবং অনেকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে তাদের স্বাভাবিক পেশাগত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
তবে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন; কিন্তু হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একাধিকবার বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তারা আশ্বস্ত করেছিলেন যে মামলাগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।
নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্পাদক পরিষদের জোরাল আহ্বান, তারা যেন বিষয়টির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ আরও বলে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক অঙ্গীকার—এই প্রত্যাশাই তারা পুনর্ব্যক্ত করছেন।
১২ দিন আগে
গালাগালকাণ্ডে হবিগঞ্জের সেই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ওসির মামলা, আদালতে সোপর্দ
হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী তুষারকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৮৯/ ৫০৪ ও টেলিকমিউনিকেশন অধ্যাদেশ ২০২৬-এর ৬৯ ধারায় বাহুবল থানায় মামলা করেছেন। আদালত পরিদর্শক সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, বাহুবল থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে গতকাল (রবিবার) দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকে তুষারকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
এর আগে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
১৪ দিন আগে
আশুলিয়ায় মরদেহ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ, আট জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও রাজসাক্ষীকে খালাস দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর পাঁচ আসামি হলেন— আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ, থানার সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগকর্মী রনি ভূঁইয়া।
এ মামলায় সাবেক মোট আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ৮ আসামির মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফীক্ যাবজ্জীবন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন আরজুকে যাবজ্জীবন, সাবেক এসআই মালেককে মৃত্যুদণ্ড, এসআই আরাফাত উদ্দিনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, এএসআই কামরুল হাসানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, মামলার রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে খালাস ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
পলাতক আট আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপনকে যাবজ্জীবন, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদকে মৃত্যুদণ্ড, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানকে যাবজ্জীবন, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাসকে যাবজ্জীবন, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহাকে মৃত্যুদণ্ড ও যুবলীগের রনি ভূইয়াকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। এর মধ্যে কনস্টেবল শেখ আবজালুল হক আদালতে দোষ স্বীকার করলে তাকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট
মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এতে শহিদ হন সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলি করে হত্যার পর লাশগুলো একটি ভ্যানে স্তূপ করে রাখা হয়। এ সময় গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকেও ওই লাশের স্তূপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ভ্যানটিতে পেট্রোল ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবরের ৬ তারিখ ধানমন্ডিস্থ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত কার্যালয় অভিযোগ পত্র জমা দেয়া হয়। একই দিনে তদন্ত শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০২৫ সালের জুন মাসের ১৯ তারিখ তদন্ত কর্মকর্তা তার তদন্ত রিপোর্ট প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেন।
তদন্ত থেকে বিচারিক প্রক্রিয়া
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২ জুলাই প্রসিকিউশন ১৬ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-২ এ ‘ফরমাল চার্জ’ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ জমা দেওয়া হয়। এ মামলায় সাক্ষী করা হয় ৫৩ জনকে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং তাঁদের হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ গঠন ও সূচনা বক্তব্য
গত বছরের (২০২৫) ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওই দিন বিচারকার্যের শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে করা আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন, কিন্তু এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন জানান। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণ ও রাজসাক্ষীর জবানবন্দি
এ মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহিদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম ও শহিদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। ২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি।
বিচার চলাকালে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল এসআই শেখ আবজালুল হকের রাজসাক্ষী হওয়া। গত বছরের ১৯ নভেম্বর তিনি ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেন। ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দিলেও, তার দেওয়া তথ্যের পূর্ণতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে প্রসিকিউশনের দাবি, রাজসাক্ষী হিসেবে তিনি নিজের জানা সব তথ্যই প্রকাশ করেছেন। সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আরেক আসামি আরাফাত হোসেন।
যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণা
গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এরপর আসামিপক্ষের নিযুক্ত ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন। গত ২০ জানুয়ারি উভয় পক্ষের আইনি লড়াই ও যুক্তিখণ্ডন শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।
আসামিদের পরিচয় ও অবস্থান
এ মামলায় মোট ১৬ আসামির মধ্যে ৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, কনস্টেবল মুকুল এবং রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হক।
বাকি আট আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
পলাতকদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য গত ২৮ জুলাই ট্রাইব্যুনাল সরকারি খরচে দুজন আইনজীবী নিয়োগ দেন।
৩২ দিন আগে
জুলাই যোদ্ধাদের মামলায় জড়ানো যাবে না, দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন কোনো মামলা না করার বিধান রেখে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়, ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে যা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
এতে আরও বলা হয়, এ প্রতিরোধ কর্মে এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। তাই এ প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে করা সব দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা বিধান অনুযায়ী প্রত্যাহার করা হবে। এ বিষয়ে নতুন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে আইনত করা যাবে না।
কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করার কারণে করা হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত কোনো আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা হবে। আবেদন করার পর আদালত এ মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। এ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ যা কিছু থাকুক না কেন, যে ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে (পুলিশ বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) কর্মরত ছিলেন, সেক্ষেত্রে কমিশন ওই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে বর্তমানে বা আগে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে না। তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করবেন বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায়, অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দেবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায় অভিযোগে উল্লিখিত কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সেক্ষেত্রে কমিশন উপযুক্ত মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে।
এক্ষেত্রে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না কিংবা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়। অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।
৪২ দিন আগে
চট্টগ্রামে র্যাব কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর মামলা, গ্রেপ্তার তিন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহতের ঘটনার দুই দিন পর মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে র্যাবের এক কর্মকতা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা।
মামলায় ২৯ জনের মধ্যে জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দা ইয়াসিনকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও মামলায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ। এর মধ্যে দুইজন এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে প্রাপ্ত আসামি বলে জানান শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৪৬ দিন আগে
আজ নয়, চানখারপুলে গণহত্যা মামলার রায় ২৬ জানুয়ারি
চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যা মামলার রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আজ রায় হচ্ছে না। রায়ের পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে ২৬ জানুয়ারি।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রায়ের পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
বেঞ্চের অন্য ২ সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার রায়ের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ তারিখ ধার্য করেন। ওই দিন আসামি ইমাজ হোসেন ইমনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মো. জিয়াউর রশিদ। পরে পলাতক ৪ আসামির হয়ে যুক্তি তুলে ধরেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী কুতুবউদ্দিন আহমেদ। প্রসিকিউশনের পক্ষে পাল্টা যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যরা।
ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট ৮ জন এই মামলার আসামি। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন ৪ জন। এরা হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক বাকি ৪ আসামি হলেন— সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৪ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
৪৮ দিন আগে
পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই: ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার ৭
ময়মনসিংহ সদরের দিঘারকান্দা এলাকায় মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামির বাবাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতভর যৌথ বাহিনীর অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, ওইদিন বিকেলে দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় মামলার আসামি স্থানীয় আরিফুল ইসলামকে ধরতে গেলে তার পরিবারের লোকজন এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
অভিযানে পুলিশের দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ। আহত হয়ে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কয়েকদিন আগে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে দিঘারকান্দা এলাকার সাগর আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজনের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা হয়। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে আমার নেতৃত্বে পুলিশের পাঁচ সদস্যের একটি দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে আসার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে গুরুতর জখম করে হাতকড়া পরিহিত আরিফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পৌঁছে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমকে) হাসপাতালে ভর্তি করান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল রাতেই আরিফুলের বাবা সাগর আলীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ মমেক হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ওসি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলামকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া রাতভর অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৫৪ দিন আগে
মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেহজাবিন চৌধুরী
পারিবারিক ব্যবসার অংশীদার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে এই মামলার শুনানি নিয়ে ঢাকার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকার এই আদেশ দেন। মেহজাবিনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদীর সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আসামি মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার (অংশীদার) হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থ এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মোট ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় বাদী বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করেন।
পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা বলেন, এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না; তোকে বাসার সামনে আবার দেখলে জানে মেরে ফেলব।
এসব কথা বলে তারা বাদীকে জীবননাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর বিষয়টি সমাধানের জন্য বাদী সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।
পরে আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/ ১১৭(৩) ধারায় মামলা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে আসামি মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১০ নভেম্বর আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ আফরোজা হক তানিয়ার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। সেদিন শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।
৫৬ দিন আগে