পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে, সুস্থ হলে ফিরবে আবাসস্থলে
সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধারের পর সেটিকে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে, তবে সুস্থ হওয়ার পর সেটিকে আবাসস্থলে উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা উম্মুল খায়ের ফাতেমার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল (রবিবার) সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের চিলা ইউনিয়নের শোরকির খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে আধা কিলোমিটার বনের ভেতর ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গত পরশু (শনিবার) বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় জেলে বাওয়ালি মারফত জানা যায়, উল্লিখিত এলাকায় বাঘটি দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করছিল। একই স্থানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় এলাকার কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম ও বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ সবাইকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাতেও বাঘটি স্থান ত্যাগ না করায় ওই স্থানের পাহারা জোরদার করা হয় এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বন অধিদপ্তরের পশুসম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি অভিজ্ঞ দল জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা থেকে সুন্দরবন যায়। গতকাল সকালে দলটিসহ খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষজ্ঞগণ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটি উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
প্রাথমিকভাবে বাঘটিকে পর্যবেক্ষণের পর বোঝা যায় যে, এটি কোনো ফাঁদে আটকা পড়ে আছে। এই অবস্থায় বাঘটিকে অবচেতন করে চিকিৎসা দিয়ে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঘন বন ও মাংসাশী বন্যপ্রাণী হওয়ায় এটিকে অবচেতন করার ক্ষেত্রে কিছুটা বেগ পেতে হয়। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের চেষ্টায় সফলভাবে বাঘটিকে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সুন্দরবনে অবমুক্ত না করে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করে চিকিৎসা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বাঘটিকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলনায় স্থানান্তর করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাঘটির জ্ঞান ফিরেছে এবং রেসকিউ সেন্টারে পশুসম্পদ কর্মকর্তা হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইনের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বাঘটি সুস্থ হলে তার আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
৬ দিন আগে
ঢাকার ১৯ খাল উদ্ধারের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে: রিজওয়ানা
ঢাকার ১৯টি খাল উদ্ধারের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে ‘ন্যাচারাল ক্যাপিটাল ম্যাপিং’ বা দেশের পাহাড় ও টিলাসহ প্রাকৃতিক সম্পদের মানচিত্র প্রণয়ন কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় উপদেষ্টা এ কথা জানান।
‘আমরা ঢাকার খালগুলো উদ্ধারের পরিকল্পনাতে ১৯টি খালকে বেছে নিয়ে প্রায় ১৯টির কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলেছি বাজেটসহ। এটা হয়তো এ মাসের শেষের দিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব,’ বলেন রিজওয়ানা।
আরও পড়ুন: তিন সংকট মোকাবিলায় এডিবির সহযোগিতা চান পরিবেশ উপদেষ্টা
উপদেষ্টা বলেন, ‘দুটি কমিটি কাজ করছে, ঢাকার চারপাশের চারটি নদীকে দখল-দূষণমুক্ত করতে কি কি কাজ বাকি আছে, সেটা নিয়ে।’
‘দখল অনেকটাই মুক্ত হয়েছে, দূষণমুক্তি করতে আমরা কি কি কাজ করতে পারি, ফেব্রুয়ারির আগে এই রিপোর্ট চূড়ান্ত হবে না। জিপিএস দিয়ে আমাদের প্রত্যেকটি পয়েন্ট দেখতে হচ্ছে, শিল্প-কারখানা শনাক্তকরণ করতে হচ্ছে। পুরো শহরের স্যুয়ারেজ গিয়ে পড়ছে নদীগুলোতে।’
প্রত্যেক জেলা প্রশাসক (জেলা) তার জেলায় একটি করে নদী দখল এবং দূষণমুক্ত করার পরিকল্পনা বাজেটসহ পাঠিয়েছেন জানিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেটা থেকে আটটি বিভাগীয় শহর এবং কক্সবাজার- এই ৯টি ধরে একটি কমিটি যাচাই-বাছাই করে কর্মপরিকল্পনা ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত করবে। এরপর আমরা অর্থসংস্থান করে কাজে নামতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকার খালগুলো ব্যাপারে আমরা দ্রুতই কাজে নামতে পারব। বাকিগুলোর ব্যাপারে আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘পৃথিবীর যে দেশেই খোঁজ নেন না কেন নদী দূষণমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে শেষ হতে দেশ ভেদে ৫ থেকে ১০ বছর লেগেছে। কাজটা যাতে চলমান থাকে সেভাবেই একটা অ্যাকশন প্ল্যান আমরা করে দিয়ে যাব।’
আরও পড়ুন: পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য: পরিবেশ উপদেষ্টা
তিনি বলেন, আশা করি আমরা কাজটি শুরু করে যাওয়ার সময় পাবো।
অনেক জায়গায় প্রকল্প বাতিল করে বনের জায়গা ফিরিয়ে আনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত হাজার তিনেক একর বন ফেরত এনেছি, রেকর্ড সংশোধন হচ্ছে। নতুন করে কাউকে কোন স্থাপনার জন্য বন ও পাহাড়ের জায়গা দেওয়া হচ্ছে না।’
৩৬১ দিন আগে
লাইসেন্স না থাকা পোষা পাখির দোকান মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিশেষ নির্দেশনায় লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতীত খামার ও পোষা পাখির দোকান মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করছে বন বিভাগ।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়।
আরও পড়ুন: ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসির লাইসেন্স পেল নগদ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পোষা পাখি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২০ এর বিধি ৪ মোতাবেক লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতীত কোনো খামারি পোষা-পাখির উৎপাদন, লালন পালন, খামার স্থাপন, ক্রয়-বিক্রয় বা আমদানি-রপ্তানি করতে পারবেন না বা কোনো পেটশপ পরিচালনাকারী পোষা পাখি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন না।
লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতীত খামার ও পেটশপ স্থাপন ও পরিচালনা করা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো ব্যক্তি উক্ত বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
উল্লেখ্য, ১৪ আগস্ট বন অধিদপ্তরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় রাজধানীর কাটাবনের পাখি মার্কেটে বিদ্যমান অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন বিভাগকে নির্দেশ দেন পরিবেশ ও বন উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: উন্নত প্রযুক্তিগত সেবা প্রদানে একীভূত লাইসেন্স পেল বাংলালিংক
৫০৮ দিন আগে
জেব্রার মৃত্যু: সাফারি পার্কে নতুন প্রকল্প পরিচালক
গত এক মাসে ১০টি জেব্রা মারা যাওয়ার ঘটনায় গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবিরকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
বুধবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকা এর বন সংরক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মোল্যা রেজাউল করিমকে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এর আগে ৩১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুরে জেব্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়িত্বে অবহেলাকারীদের শনাক্তকরণের লক্ষ্যে গঠিত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান এবং ভেটেরিনারি অফিসার ডা. হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকারনাইনকে প্রত্যাহার পূর্বক বন অধিদপ্তর, ঢাকায় সংযুক্ত করে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়।
শনিবার পর্যন্ত এক মাসের ব্যবধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ১০টি জেব্রা মারা গেছে।
আরও পড়ুন: সাফারি পার্কে জেব্রার মৃত্যু: ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি অফিসারকে প্রত্যাহার
১৪৩৮ দিন আগে