বরখাস্ত
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা বরখাস্ত
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত তিনি যেদিন থেকে অনুপস্থিত ছিলেন, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ সেবা-১ অধিশাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট থেকে বিনা অনুমতিতে অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এ বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তার জবাব সন্তোষজনক হয়নি।
পরবর্তীতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(গ) অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবও সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৪(৩)(ঘ) বিধি অনুযায়ী ‘চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ’-এর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) প্রস্তাবিত এই গুরুদণ্ড আরোপের পক্ষে তাদের মতামত দিলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
৯ দিন আগে
কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে কয়েদি পলাতক, বরখাস্ত ৭
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে নারী বন্দি পালানোর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক ও নারী কারারক্ষীসহ ৭ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় ভিত্তিতে ওই সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ।
তিনি জানান, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে একজন বন্দি পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন, সেটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত দল গঠন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
বরখাস্তরা হলেন— তত্ত্বাবধায়ক লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।
এআইজি মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানান, গত বৃহস্পতিবার কারাবন্দি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার রিম্পা (২১) কারাগার থেকে পালিয়ে যান। এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ি থানায় মামলা করা হয়েছে। রিম্পা ঢাকার ধানমণ্ডি থানার ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া একটি মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় টমহিলা কারাগারে ছিলেন।
কারা সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারাগারের ভেতরে প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রিম্পা কারাগারের দেওয়াল টপকে পালিয়ে যান। পরে কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বন্দির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ।
১২ দিন আগে
ভাতার দাবিতে আন্দোলন: সচিবালয়ের ১৪ কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত
সচিবালয় ভাতার দাবিতে আন্দোলন করা ১৪ জন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আদালত চার্জশিট গ্রহণ করায় সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে ওই কর্মচারীদের বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীদের মধ্যে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির, সহ-সভাপতি শাহীন গোলাম রাব্বানী ও নজরুল ইসলাম রয়েছেন।
এ ছাড়াও সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মচারীরা হলেন—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মো. তায়েফুল ইসলাম, বিকাশ চন্দ্র রায়, ইসলামুল হক, মো. মহসিন আলী, রোমান গাজী ও আবু বেলাল, তথ্য মন্ত্রণালয়ের মিজানুর রহমান সুমন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কামাল হোসেন ও মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিপুল রানা বিপ্লব এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নাসিরুল হক।
সচিবালয় ভাতার দাবিতে গত ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে আন্দোলনে নামেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের একাংশের নেতৃত্বে হওয়া ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রায় ছয় ঘণ্টা সচিবালয়ের একটি দপ্তরে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা।
পরের দিনও আন্দোলন অব্যাহত থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন কর্মচারীকে সচিবালয় এলাকা থেকেই আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আদালত তাদের রিমান্ডেও পাঠান।
সরকার দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ার পরও আন্দোলন অব্যাহত রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আন্দোলনকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।
২২৪ দিন আগে
পিআইবি পরিচালক শাখাওয়াত মুন বরখাস্ত
প্রাথমিক তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ শাখার পরিচালক কে এম শাখাওয়াত মুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিব ছিলেন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনসহ পুলিশের ১৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মুনের বিরুদ্ধে আনীত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট-এর চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৮৮ এর বিধি ৩৯(১) অনুযায়ী সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।
শাখাওয়াত মুন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নির্বাহী প্রযোজক (অনুষ্ঠান) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
৩৩০ দিন আগে
বেরোবির দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ‘একজন’ বরখাস্ত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) যৌন হয়রানির অভিযোগে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে একই অভিযোগে অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. তানজিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে এখনও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিচার বৈষম্যের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উঠেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৪ জুলাই) রাতে শিক্ষার্থীরা ইউএনবিকে জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তারা আন্দোলনে নামবেন।
শিক্ষার্থী সুমন, জুয়েল ও মেহেরা আফরোজের অভিযোগ, উপাচার্য বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন এবং অভিযুক্ত তানজিউল ইসলামকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, তবে আমরা তা কোনোদিনই হতে দেব না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিসংখ্যান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৩শ সভার সিদ্ধান্তক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর রশিদের সই করা এক আদেশের মাধ্যমে তার বরখাস্তের বিষয়েটি জানানো হয়।
বেরোবি সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে ওই শিক্ষককে ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে এক বছরের জন্য বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়— এমন তথ্য জানাজানি হলে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে উপাচার্যের কাছে তার বহিষ্কার দাবি করেন। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ কয়েকবার সময় নিয়েও ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের ডাক দেন। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ওই শিক্ষককে বহিষ্কারের খবর জানানো হয়।
তবে প্রায় একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ড. তানজিউল ইসলামের বিরুদ্ধেও পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া নিয়ে কারসাজি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপও ছড়িয়ে পড়ে। তাই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তবে চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি শিক্ষক জীবনের বিরুদ্ধে তেমন কিছু খুঁজে পায়নি— এই মর্মে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু এত তথ্যপ্রমাণ থাকার পরও তদন্ত কমিটির কোনো কিছু খুঁজে না পাওয়া সন্দেহজনক।
সূত্র বলছে, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষক জীবনকে তার অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে এবং আগামী যেকোনো সিন্ডিকেটে এ সিদ্ধান্ত পাস করিয়ে নেওয়া হবে।
এ খবর জেনে ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকেই বলছেন, এই শিক্ষক বিএনপিপন্থি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ভিসির সঙ্গে সখ্যকে কাজে লাগিয়ে তিনি তদন্তকাজ প্রভাবিত করেছেন।
আরও পড়ুন: বেরোবি প্রশাসনকে ‘শাড়ি-চুড়ি’ দিল শিক্ষার্থীরা
এ ছাড়াও প্রভাবশালী পরিচয়, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা কিংবা গোপন সমঝোতার জেরে তানজিউল ইসলাম রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি অনেকের। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় নিষ্পত্তিমূলক তদন্ত ও সমান বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ড. তানজিউল ইসলাম জীবনের বিপক্ষে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষক আমির বলেন, ‘আমরা তদন্ত কমিটি গঠন হওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন কবে এটি প্রকাশ করবে তা উপাচার্য জানেন।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো শওকত আলী বলেন, ‘আমরা একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। সিন্ডিকেট মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কার করেছি।’
একই অভিযোগ, একই তদন্ত কমিটি। তাহলে একটির ফল সাময়িক বহিষ্কার, অথচ অন্যজন এখনো বহাল— এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা সামনের সিন্ডিকেট মিটিংয়ে এটা তুলব। তারপর সিদ্ধান্ত নেব। এসব বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স।’
৩৫৮ দিন আগে
বিএসইসির ২১ কর্মকর্তা বরখাস্ত, ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান চেয়ারম্যানের
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ২১ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। পরবর্তীতে কমিশনের সবাইকে নিয়ে সভা করে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কমিশন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
কমিশন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) জরুরি সভা করে বিএসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভায় গত ৫ মার্চ বিএসইসিতে যারা চেয়ারম্যান, কমিশনার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আটকে রেখে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে তাদের তালিকা ধরে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) বিএসইসি এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বরখাস্তরা জানান, আগে পিছে এ নিয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। অফিসে এসে খবর পেয়েছেন তারা।
সাময়িক বরখাস্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবু রায়হান, মো. মোহতাছিন বিল্লা, অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম, যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল ইসলাম, উপপরিচালক বনী ইয়ামিন, আল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক জনি হোসেন, রায়হান কবীর, সাজ্জাদ হোসেন ও আবদুল বাতেন, লাইব্রেরিয়ান মো. সেলিম রেজা বাপ্পী, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ।
এর বাইরে রয়েছেন পরিচালক আবুল হাসান ও ফখরুল ইসলাম মজুমদার, অতিরিক্ত পরিচালক মিরাজ উস সুন্নাহ, উপপরিচালক নান্নু ভূঁইয়া, সরকারি পরিচালক আমিনুর রহমান খান, তরিকুল ইসলাম ও সমির ঘোষ।
আরও পড়ুন: রূপপুর ‘দুর্নীতি’: প্রচ্ছায়ার ৮ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৫ মার্চ সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চার দফা দাবিতে চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনারকে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।
এ ঘটনায় পরদিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সংস্থাটির ১৬ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে মামলা করে বিএসইসির চেয়ারম্যানের গানম্যান আশিকুর রহমান। যারা বরখাস্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ১৪ জন এ মামলায় অভিযুক্ত।
এদিকে বরখাস্তের ঘোষণার পর কমিশনের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে জরুরি সভা করেছেন রাশেদ মাকসুদ। সভায় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বলেন, চলমান যে-সব বিষয় নিয়ে বিবাদ আছে তা শিগগিরই সুরাহা করা হবে। দেশের পুঁজিবাজারকে সচল রাখতে নতুন উদ্যোমে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
৪৫৫ দিন আগে
সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক বরখাস্ত
কূটনৈতিক পাসপোর্টকে রাতারাতি অর্ডিনারি পাসপোর্ট করে দেওয়াসহ নানা অভিযোগে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তিনি সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জুলাই হামলা: জাবিতে ২৫৯ ছাত্রলীগকর্মী ও ৯ শিক্ষক বরখাস্ত
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিলেট বিভাগের পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৩৯ ধারার উপবিধি ২-এর বিধান অনুযায়ী তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, রাতারাতি কূটনৈতিক পাসপোর্টকে অর্ডিনারি পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়াসহ আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
৪৫৭ দিন আগে
গাজা বিক্ষোভ: শিক্ষার্থীদের ‘ডাবল অ্যাবসেন্টের’ হুমকি, ড্যাফোডিল শিক্ষিকা বরখাস্ত
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে ডাকা কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলে তাদের ‘ডাবল অ্যাবসেন্ট’ দেওয়ার ঘোষণা দেন বাংলাদেশের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক। পরে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে সোমবার (৭ এপ্রিল) শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন ভাষায় কথা বলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) জার্নালিজম, মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের প্রভাষক তাহমিনা রহমান। যারা বিক্ষোভে অংশ নেবেন, তাদের ‘ডাবল অ্যাবসেন্ট’ করে দেবেন বলেও তিনি হুমকি দেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালো হামাস, আহত ৩
ডিআইইউর মুখপাত্র এবং এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু এমন তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাহমিনা রহমানকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হবে।’
রাজু জানান, ‘তাহমিনা হোয়াটস্যাপ গ্রুপে শিক্ষার্থীদের বলছেন যে গাজার গণহত্যার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ক্লাসে না এলে ডাবল অ্যাবসেন্ট দেবেন। প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে, সেখানে তিনি আলাদা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন না। আবার ক্লাস উপস্থিতি যদি কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েই থাকেন, তাহলে সর্বোচ্চ একটি উপস্থিতি কাটতে পারবেন। ডাবল অ্যাবসেন্ট দেয়ার যে হুমকি তিনি শিক্ষার্থীদের দিয়েছেন, তা নিয়মবহির্ভূত।’
এর বাইরে সেই গ্রুপে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি যে ভাষায় কথা বলেছেন এবং যেসব শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা একজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রভাষক হিসেবে শোভনীয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মবহির্ভূত এসব আচারণের কারণেই তার বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র।
এর আগে রোববার (৬ এপ্রিল) সারাবিশ্ব এবং দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরাও ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ পালনের সিদ্ধান্ত নেন। সে হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা সোমবার ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলে প্রভাষক তাহমিনা তাদের ডাবল অ্যাবসেন্ট দেয়ার হুমকি দেন এবং গাজার প্রতি সংহতি জানানো এসব কর্মসূচি নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: গাজার ৫০ শতাংশ ইসরায়েলের দখলে, নিজ ভূমিতে পরবাসী ফিলিস্তিনিরা
তার হোয়াটসঅ্যাপের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে এই শিক্ষিকাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির সঙ্গে তারা একাত্মতা ঘোষণা করেছেন আগেই। কেন এই শিক্ষিকা এমন আচারণ করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে?
ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে তাহমিনা নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান। বলেন, ‘তিনি অনলাইন ক্লাস নিতে চেয়েছিলেন। কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা চাইলে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারতো। পুরো ঘটনাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন এ প্রভাষক।’
৪৭৮ দিন আগে
আসনবিহিন টিকিট কেটে ‘বসে যাওয়ার অপরাধে’ বৃদ্ধকে মারধর: ট্রেনের কর্মকর্তা বরখাস্ত
আসনবিহিন টিকিট কেটে ‘বসে যাওয়ার অপরাধে’ ট্রেনযাত্রী এক বৃদ্ধকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত রেলওয়ের কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রশাসন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ওই বৃদ্ধের এলাকার লোকজন উত্তেজিত হয়ে ট্রেন আটকায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে অভিযুক্তকে বরখাস্ত করা হয়।
ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার। রবিবার (৩০ মার্চ) বিকাল আড়াইটার দিকে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ভেতর এ ঘটনা ঘটে। পরে কসবা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
কসবা রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন ৬২ বছর বয়সী উপজেলার সায়েদাবাদ এলাকার বাসিন্দা ফুল মিয়া। কসবা স্টেশন পর্যন্ত আসনবিহীন একটি টিকিট কেটে ট্রেনের পাওয়ার কার বগিতে অবস্থান করেন তিনি। একপর্যায়ে ফাঁকা জায়গা পেয়ে সেখানে বসেও পড়েন।
বেলা আড়াইটার দিকে ট্রেনটি ফেনী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনের পাওয়ার কার অপারেটর কাউসার মিয়া এগিয়ে গিয়ে ফুল মিয়ার কাছে টিকিট আছে কিনা জানতে চান। সে সময় আসনবিহীন টিকিট আছে বলে জানান তিনি। আসনবিহীন টিকিট কেটে বসে পড়ার অপরাধে তার কাছে ২০০ টাকা জরিমানা চান কাউসার। টাকা না দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অপমানজনক কথাবার্তার একপর্যায়ে বৃদ্ধ ফুল মিয়াকে মারধর শুরু করেন তিনি।
এ ঘটনার কথা ফুল মিয়ার কাছ থেকে কসবারই আরেক যাত্রী শুনে তার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ভিডিওটি কসবার স্থানীয় জনগণের মাঝে মুহূর্তেই ছড়িয়ে যায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা কসবা রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান নেন। পরে ট্রেনটি কসবা স্টেশনে পৌঁছালে সেটিকে আটকে দেন স্থানীয়রা।
এরপর ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগ শুনে পাওয়ার কার অপারেটর কাউসার মিয়াকে আটক করেন ট্রেনের গার্ড।
তবে স্থানীয় জনতার রোষ না কমলে একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম, স্থানীয় থানা পুলিশ ও সেনা সদস্যরা কসবা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ সময় কাউসার ফুল মিয়ার কাছে ক্ষমা চান। পরে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে জানালে বিকাল ৫টার দিকে স্টেশন ছেড়ে দেন স্থানীয়রা।
ইউএনও ছামিউল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ট্রেনের ওই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ খবরে উত্তেজিত জনতা শান্ত হলে ট্রেনটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশে কসবা স্টেশন ছেড়ে যায়।’
৪৮৬ দিন আগে
মুক্তিপণ আদায়, ডিবির ৫ সদস্যকে বরখাস্ত করেছে আরএমপি
বগুড়ায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পাঁচ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ মার্চ) বিকালে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এ সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, ‘তারা কোনো অভিযানে যায়নি বা কাউকে জানিয়েও যায়নি। নিজেদের ইচ্ছায় গিয়েছে এবং সেখানে আটক হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিকালে আমি তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেছি। এখন তদন্ত হবে, এরপর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- আরএমপির গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিন মোহাম্মদ অনু ইসলাম, কনস্টেবল রিপন মিয়া, আবুল কালাম আজাদ, মাহবুব আলম ও বাশির আলী। এছাড়া, তাদের সঙ্গে থাকা মাইক্রোবাসচালক মেহেদী হাসানকেও আটক করা হয়েছে।
নগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইব্রাহিম খলিল বলেন, ওই পাঁচ পুলিশ সদস্য আরএমপির ডিবিতে কর্মরত। গতরাতে আমি রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিসে ছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে কিছু না জানিয়েই বগুড়া গেছে। কেন গিয়েছে, তা তারাই ভালো বলতে পারবে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় ২ কিশোর অপহরণ, মুক্তিপণ নিয়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার ৬
জানা যায়, বগুড়ার কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা রবিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের বীরগ্রাম এলাকা থেকে পাঁচজন পুলিশ সদস্য ও তাদের মাইক্রোবাসচালককে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ও পুলিশের একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়।
বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জেদান আল মুসা জানান, অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য রবিবার ধুনট উপজেলায় গিয়ে জুয়া খেলার অভিযোগে দীঘরকান্দি গ্রামের রাব্বী ও জাহাঙ্গীর নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেন। এরপর শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তাদের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দর-কষাকষির পর নগদ ২ লাখ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে বগুড়া জেলা পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে শেরপুর ও শাজাহানপুর থানার সহযোগিতায় মাইক্রোবাসটি আটক করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় শাজাহানপুর থানার বীরগ্রাম এলাকায় গাড়িটি আটক করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তদের তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করেছেন আরএমপির গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত আবদুল ওয়াহাব নামে এক পুলিশ সদস্য। তিনি ছুটি নিয়ে দুই দিন আগে বগুড়ার ধুনটে নিজ গ্রামে যান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই পাঁচজন সেখানে গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সাবেক স্বাস্থ্য সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি
৪৯২ দিন আগে