দগ্ধ
মিরপুরে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ ৩
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় সাইনবোর্ড টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শিক্ষক ও ২ ছাত্র দগ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুরে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন—মাদ্রাসার শিক্ষক মো. সালমান (২৬), শিক্ষার্থী মো. মারুফ (১২) ও খাইরুল ইসলাম (১৪)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, আজ (রবিবার) দুপুরে মারুফ শরীরে ১৮ শতাংশ দগ্ধ, সালমান শরীরে ২ শতাংশ দগ্ধ এবং খাইরুল ইসলাম শরীরে ৩ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়। দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় তাদের মধ্যে আমরা ২ জনকে জরুরি বিভাগে পর্যক্ষেণে রেখেছি। মো. মারুফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে আহত মারুফের বড় ভাই মান্নান জানান, সকালে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক দুই ছাত্র ও একজন শিক্ষককে সাইনবোর্ড টাঙানোর দায়িত্ব দেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে তারা তিনজনই দগ্ধ হন।
পরে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি।
৫ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে এক পরিবারের চারজনসহ দগ্ধ ৫
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি ফ্ল্যাট বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বন্দর থানার মদনপুরে এই ঘটনা ঘটে।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দগ্ধরা হলেন— মান্নান (৫০), সুলতানা (৩৫), মিম (১৩), হযরত আলী (৮) ও সিয়াম (১৯)।
ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে মান্নানের শরীরে ৩০ শতাংশ, সিয়ামের শরীরের ৭৭ শতাংশ, মিমের শরীরের ৪১ শতাংশ, সুলতানার শরীরের ৯০ শতাংশ ও হযরত আলীর শরীরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং দুজনকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
৮ দিন আগে
পাবনায় ধষর্ণ-হত্যার জেরে অগ্নিসংযোগ: দগ্ধ হয়ে নিহত ৩
পাবনা সদর উপজেলায় ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন জন উৎসুক জনতার মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়।
এর আগে, সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন— সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পাশের নতুন পাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার ইউসুফের ছেলে সাপু।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাড়ারায় পদ্মা নদী থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিসংযোগের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা ছিলেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল (সোমবার) একজন এবং আজকে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ, পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদী থেকে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে অভিযুক্তরা।
১০ দিন আগে
মিরপুরে গ্যাস লাইনের সামনে সিগারেট খাওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩
রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় গ্যাস লাইনের লিকেজের সামনে সিগারেট খেতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন— মিরাজ (২৬), সুজন (২৪) ও বিপ্লব (২৪)।
দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, আজ ভোরের দিকে তিন যুবক মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় সিগারেট খাওয়ার সময় লাইনের গ্যাস থেকে লিকেজের ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে মিরাজের শরীরে ১৫ শতাংশ, সুজনের শরীরে ২৪ শতাংশ দগ্ধ এবং বিপ্লবের শরীরে ১০ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে। আমরা ৩ জনকেই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখেছি।
১৩ দিন আগে
রাজধানীতে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের দগ্ধ ৩
রাজধানীর উত্তরখানের একটি বাসার রান্নাঘরে সিলিন্ডারের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় আহতদের জাতীয় বার্ন ও ইন্সটিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন— আলী হোসেন (৫০), তার স্ত্রী হাসনাহেনা (৪০) এবং তাদের মেয়ে আঁখি (৩০)
আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা রাতুল হাসান তুষার জানান, আজ (শনিবার) সকালে আমার মা রান্নাঘরে কাজ করার সময় সিলিন্ডারে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আমার মা-বাবা ও বোনসহ তিনজনই দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে আমার বাবা এবং মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। আমার বোনের চিকিৎসা চলছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সকালের দিকে সিলিন্ডারের গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণ থেকে দগ্ধ হয়ে আলী হোসেনের শরীরের ১০০ শতাংশ, হাসনাহেনার শরীরের ৬০ শতাংশ এবং আঁখির শরীরের ১৫ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসেছেন। দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তিনজনকেই আমরা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেছি।
১৩ দিন আগে
ডেমরায় স্টিল মিলে ভাট্টি বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩
রাজধানীর ডেমরার জহির স্টিল মিলে ভাট্টি বিস্ফোরণে তিন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (৩১মে) সকালে ডেমরার বাসেরপুল এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে তাদের দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন— সাব্বির হোসেন (২৪), তোফাজ্জল হোসেন (৪৮) ও মাজেদ হোসেন (৫২)।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা সহকর্মী আলামিন জানান, আমরা ডেমরা এলাকার একটি স্টিল মিলের কর্মচারী। আজ (রবিবার) সকালে বিভিন্ন ভাঙারি লোহা গলানোর জন্য ভাট্টিতে মাল দেওয়ার সময় বিস্ফোরণের হয়। এতে আমাদের তিনজন শ্রমিক দগ্ধ হলে দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ইনিস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আজ সকালে ডেমরা এলাকার একটি স্টিল মিল থেকে দগ্ধ অবস্থায় তিনজন শ্রমিককে আমাদের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে সাব্বির হোসেনের শরীরে ৩৫ শতাংশ দগ্ধ, তোফাজ্জল হোসেনের শরীরে ২৩ শতাংশ এবং মাজেদ হোসেনের শরীরে ১ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে। আহতদের মধ্যে সাব্বির এবং তোফাজ্জলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের আমরা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেছি। অপরদিকে, দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় জরুরি বিভাগে মাজেদ হোসেনের চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন ডা. শাওন বিন রহমান।
১৯ দিন আগে
গাজীপুরে ট্রান্সমিটারের তার ছিঁড়ে নিহত এক, দগ্ধ ৩
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে ট্রান্সমিটারের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন নিহত হয়েছে। এতে আরও ৩ জন দগ্ধ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে ) সকালে কোনাবাড়ীর পারিজাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিউল ইসলাম (১৭) রাজশাহী জেলার মো. সোহেল মিয়ার ছেলে ছিল। সে ওই বিদ্যালয়-সংলগ্ন সেলিম মিয়ার বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করত।
দগ্ধ তিনজন হলেন— কোনাবাড়ী থানাধীন পারিজাত এলাকার মো. সোহান এর ছেলে তালহা (১০) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৫৬)। তিনি বর্তমানে পারিজাত এলাকার গাউছুল আজম জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরজন কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানাধীন সড়কঘাটা গ্রামের জামরুল ইসলামের ছেলে মো, নিরব (১০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের নামাজ শেষে ওই বিদ্যালয়-সংলগ্ন কাকলি নিবাসের সামনে হঠাৎ বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারে ত্রুটি দেখা দেয়। একপর্যায়ে ট্রান্সমিটারের তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। এ সময় তারের সংস্পর্শে এসে রবিউল ইসলাম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ঘটনাস্থলেই তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায় এবং মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আরও তিনজন ঝলসে গেছে। আহতদের প্রথমে গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। অপর একজন বর্তমানে তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জানিয়ে কোনাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, খবর পেয়ে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
২২ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ঘাটে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আমির (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ জনে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গত বুধবার (১৩ মে) দুপুর পৌনে ২টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় ১২ জনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার শংকর নামের একজনের মৃত্যু হয়েছিল। আজ (শনিবার) সকাল ১০টার দিকে আইসিইউতে আমির নামের চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। তার শরীরে ৮০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।
তিনি জানান, দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় ৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখনও ৪ জন জাতীয় বার্নে ভর্তি রয়েছেন বলে জানা তিনি।
৩৪ দিন আগে
মৃত্যুর সঙ্গে পাঁচ দিন লড়াই করে হার মানলেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ মনিরা
রাজবাড়ীতে ছুটি শেষে কার্যালয়ের পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হওয়া অফিস সহায়ক সেই মনিরা খাতুন (২৮) মারা গেছেন।
টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার (১৫ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মনিরা খাতুন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের কোলারহাট গ্রামের মেহেদী হাসানের স্ত্রী এবং একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। তার স্বামী মেহেদী হাসানও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন।
মেহেদী হাসান জানান, মনিরা খাতুনের শরীরের ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়েছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই কারণে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাদের সংসারে মাত্র ১০ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মা ছাড়া এই শিশু নিয়ে তিনি অনেক অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে জানান।
জানা যায়, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক-সংলগ্ন রাজবাড়ী শহরের দক্ষিণ ভবানীপুর পশু হাসপাতাল এলাকায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রাজবাড়ী জেলা কার্যালয় অবস্থিত। গত রবিবার (১০ মে) বিকেলে ছুটি শেষে কার্যালয়ে উত্তোলনকৃত জাতীয় পতাকা নামাতে যান মনিরা। কার্যালয়ে একপাশে স্থাপিত পাইপ থেকে জাতীয় পতাকা নামাতে গেলে অসাবধানতাবশত পতাকাবাহী ইস্পাতের পাইপটি বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের হাইভোল্টেজ তারের ওপর পড়ে। এই অবস্থায় পাইপটি বিদ্যুতায়িত হলে মনিরার পরনের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। সে সময় অফিসে কেউ না থাকায় তাকে উদ্ধার করতে দেরি হয় এবং আগুন ছড়িয়ে শরীরে বেশিরভাগ অংশ দগ্ধ হয়। পথচারীরা টের পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জানালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মনিরাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, মনিরা খাতুনের শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঝলসে যায়। তাকে সদর হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে পরিবারের লোকজন ফরিদপুর না নিয়ে ওই দিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
রাজবাড়ী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে মনিরা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই দিন জরুরি মিটিংয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় বিকেল সোয়া ৪টার দিকে খবর পেয়ে দ্রুত এসে তিনি শোনেন মনিরাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়।
গতকাল (শুক্রবার) রাতে গ্রামের বাড়িতে মনিরার মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বামী মেহেদী হাসান। তার অকাল মৃত্যুতে কর্মস্থলসহ গোটা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৩৪ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাসায় ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) সকাল ৬টার দিকে ফতুল্লার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকার এ ঘটনা ঘটে।
পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সকাল সাড়ে আটটার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন—আব্দুল কাদের (৫০) এবং তার তিন ছেলে মোহাম্মদ মেহেদী (১৭), সাকিব (১৬) ও রাকিব (১৬)।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. ফারুক জানান, সকাল ৬টার দিকে আমরা বিকট শব্দ পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখি, বাবা ও তার ছেলেরা দগ্ধ অবস্থায় আগুনে ঝলসে গেছে। পরে জানতে পারি, ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ হয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে আমরা তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসক তাদেরকে ভর্তি করান।
তিনি আরও জানান, আব্দুল কাদের পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। তিনি পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকায় বসবাস করেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে দগ্ধ হয়ে চারজন এসেছেন। তাদের মধ্যে আব্দুল কাদেরের শরীরের ৫৭ শতাংশ, মেহেদির ১৮ শতাংশ, সাকিবের ১৭ শতাংশ এবং রাকিবের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুল কাদেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
৩৯ দিন আগে