সম্পৃক্ততা
গুমের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সম্পৃক্ততা পেয়েছে কমিশন, র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ
গুমের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্যারা (দ্য কমিশন অব এনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসাপিয়ারেন্স)।
‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ’ শিরোনামে জমা দেওয়া রিপোর্টে কমিশন সদস্যরা এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ১ হাজার ৬৭৬টি অভিযোগের মধ্যে ৭৫৮ জনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেন বলে জানান।
প্রতিবেদনে বলা উল্লেখ করা হয়, গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এছাড়াও হাসিনা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং পুলিশ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ অন্যতম।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুসহ র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশও করেছে কমিশন।
আরও পড়ুন: ইরানে ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সাংবাদিকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
কমিশন প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা কাজটি এমনভাবে করেছে যাতে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। বিভিন্ন ফোর্স নিজেদের মধ্যে ভিকটিম বিনিময় করেছে এবং পরিকল্পনা ভিন্ন ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি আরও জানান, গুমের শিকার অনেকে এখনো শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না। তাদের ওপর এতটাই ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল যে তারা এখনো ট্রমায় ভুগছেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার সর্বশেষ বক্তব্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সঠিক বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর রিপোর্টের সংখ্যা অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে কমিশনের সদস্যরা অধ্যাপক ইউনূসকে আয়নাঘর পরিদর্শনের অনুরোধ জানান।
তারা বলেন, ‘আপনি আয়নাঘর পরিদর্শন করলে ভিক্টিমরা (ভুক্তভোগী) অভয় পেতে পারেন।’
প্রধান উপদেষ্টা তাদের এ অনুরোধে সম্মতি দিয়ে জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল যা আয়নাঘর নামে পরিচিতি পেয়েছে- সেগুলো দেখতে যাবেন।
তিনি কমিশন সদস্যদের তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং কাজটি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
কমিশন প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তারা তিন মাস পর মার্চে আরও একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট দেবেন। কাজটি শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে কমপক্ষে আরও এক বছর সময় প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
কমিশনের সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকারকর্মী নূর খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাবিলা ইদ্রিস ও মানবাধিকার কর্মী সাজ্জাদ হোসেন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ।
আরও পড়ুন: বিএনপির লক্ষ্য গণতান্ত্রিক, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়া: তারেক রহমান
১০৩ দিন আগে
ফরিদপুরে মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পিটুনিতে নিহত নির্মাণ শ্রমিকদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লীতে দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
ঘটনার ২৪ দিন পরে রবিবার (১২ মে) জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. সিদ্দিক আলী গত ৭ মে এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সময় শতাধিক ব্যক্তির বক্তব্য নিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ শতাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লীর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বেশকিছু বিষয় উঠে এসেছে। তবে যেহেতু এটি আদালতে বিচারাধীন বিষয় তাই এ বিষয়ে আমরা বেশিকিছু বলতে পারছিনা।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, এ হত্যাকাণ্ডেরর সঙ্গে জনপ্রতিনিধি সহ অনেকের সম্পৃক্ততা ছিল। এটি বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে মন্দিরে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে আগুন লাগানোর সঙ্গে দুই সহোদর জড়িত কিনা সে বিষয়ে কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে মন্দিরে কে আগুন দিয়েছে সেটি খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। দুই সহোদর কিংবা অন্য কোনো শ্রমিক আগুন লাগিয়েছে কিনা সেবিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী কারো কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসক তালুকদার বলেন, মন্দিরে আগুন কে বা কারা দিয়েছে সে বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি অনেকগুলো পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে এসবস্থানে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যাতে সিসি ক্যামেরা থাকে এবং অগ্নি নির্বাপকের ব্যবস্থা থাকার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ এ ধরনের কোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়। এ ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে কারো নিকট থেকে কোনো প্রমাণস্বরুপ বক্তব্যও পাওয়া যায়নি বলে এতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনা: ১৮ মাসের ইয়াসিন বাবার পর মাকে হারালো, মৃত্যু বেড়ে ১৫
গত ১৮ এপ্রিল রাতে পঞ্চপল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে আপন সহোদর দুই কিশোর নির্মাণ শ্রমিক আরশাদুল খান (১৯) ও আশরাফুল খানকে (১৫) নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে একটি মন্দিরের প্রতিমার কাপড়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে গ্রামবাসীকে উত্তেজিত করে তোলে জড়িতরা। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক ও পুলিশ আহত হন।
এ ঘটনার পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. সিদ্দিক আলীকে প্রধান করে প্রথমে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে সাত সদস্যে উন্নীত করা হয়। একইসঙ্গে তদন্ত কমিটির মেয়াদও বাড়ানো হয়।
এদিকে ফরিদপুরের মধুখালীর ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী গ্রামের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় একটি মামলা করেন দুই ভাইকে হত্যার অভিযোগে নিহত দুই ভাইয়ের বাবা মধুখালী উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের চোপেরঘাট গ্রামের মো. শাহজাহান খান।
এছাড়া পুলিশ সদস্যদের আহত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলাটি করেন মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মন্দিরের পূজারী কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা প্রভাষ চন্দ্র মন্ডলের স্ত্রী তপতী রানী মন্ডল।
আরও পড়ুন: মন্দিরে আগুন: ফরিদপুরে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় ২ জন নিহতের ঘটনায় বিজিবি মোতায়েন
৩১৮ দিন আগে
'জেএমবি'র সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ভারতে নিষিদ্ধ হলো পিএফআই
জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে মুসলিম সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিএফআই) পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ভারত।
পিএফআই- এর ছাত্র শাখা ক্যাম্পাস ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া এবং অন্যান্য সম্মুখ সারির সংগঠনগুলোর ওপর তীব্র ক্র্যাকডাউনের এক সপ্তাহ পরে দেশটির জাতীয় সন্ত্রাস দমন তদন্ত সংস্থা অভিযান চালিয়ে দলটির সাথে যুক্ত ২৫০ জনেরও বেশি লোককে গ্রেপ্তার করেছিল।
এর ফলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পিএফআইকে একটি ‘বেআইনি সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে যা ‘দেশের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব এবং সুরক্ষার জন্য ক্ষতিকর’। কারণ এটি দেশীয় স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্টের (সিমি) মতো নিষিদ্ধ এবং বিদেশি জেএমবি এবং ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।
আরও পড়ুন: আড়াই বছর পর জকিগঞ্জ চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাত্রী পারাপার
মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে বলছে, ‘পিএফআই এবং এর সহযোগী বা ফ্রন্টগুলো একটি আর্থ-সামাজিক, শিক্ষাগত এবং রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে প্রকাশ্যে কাজ করে। তবে তারা গণতন্ত্রের ধারণাকে ক্ষুণ্ন করার জন্য কাজ করে সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশকে উগ্রবাদী করতে একটি গোপন এজেন্ডা অনুসরণ করছে।’
মন্ত্রণালয়ের মতে, বাইরে থেকে তহবিল এবং আদর্শিক সমর্থনের সঙ্গে এটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘জনসাধারণের মনে সন্ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করতে অতীতে পিএফআই সদস্যরা বেশ কয়েকটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’
নিষেধাজ্ঞাকে ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করে, পিএফআই ভারতের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ২০০৬ সালে নিবন্ধিত পিএফআই নিজেকে ‘একটি বেসরকারি সামাজিক সংস্থা হিসাবে বর্ণনা করে। যার বিবৃত উদ্দেশ্য হলো দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করা এবং নিপীড়ন ও শোষণের বিরোধিতা করা’।
আরও পড়ুন: ভারতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৮, আহত ২৫
ভারতে ৩ বছর কারাভোগের পর দেশে ফিরলেন ৪ নারী
৯১১ দিন আগে
শাবি শিক্ষার্থী বুলবুল হত্যায় ৩ জনের সম্পৃক্ততা মিলেছে: পুলিশ
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী বুলবুল হত্যা মামলায় তিনজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বুধবার (২৭ জুলাই) আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন কামরুল হোসেন (৩০)। কামরুল টিলারগাঁওয়ের গোলাপ মিয়ার ছেলে। তিনি আশপাশের এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। এ ঘটনায় মোট পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরপর বেলা ১১টায় অভিযুক্ত কামরুলকে সঙ্গে নিয়ে টিলারগাঁও এলাকায় তার বাড়িতে যায় পুলিশ। এ সময় কামরুলের ঘরের সানসেটের ভেতর থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র (চাকু) ও নিহত বুলবুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা জোর তদন্তে নামি। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহজনক তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করি। তার মধ্যে একজন খুনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আরও দুজন জড়িত থাকার তথ্য দেন। এই তিনজনকে ব্যাপকভাবে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞেস করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাই।
আজবাহার আলী বলেন, গ্রেপ্তার কামরুলকে নিয়ে তার বাড়িতে আসলে তার দেখানো মতে বুলবুলের মুঠোফোন উদ্ধার ও খুনে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করতে সক্ষম হই। তবে কেন বুলবুলকে হত্যা করেছে, তাদের কি উদ্দেশ্য ছিল, মূল মোটিভ ছিল কি, আরও কেউ জড়িত কি-না, কার সম্পৃক্ততা কতটুকু বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে পরে জানানো হবে।
গত সোমবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরের টিলায় ঘুরতে গিয়ে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. বুলবুল আহমেদ (২২)। তার বাড়ি নরসিংদী জেলায়।
এ ঘটনার পর সোমবার রাতে সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বন্ধুদের নিয়ে টিলায় বেড়াতে গিয়ে দুষ্কৃতকারীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে বুলবুল নিহত হন। বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণে বুলবুল মারা যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পড়ুন: শাবিপ্রবিতে নিহত শিক্ষার্থীর বান্ধবীকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন
শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় আটক ৩
৯৭৪ দিন আগে
আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে আগ্রহী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশকে ভৌগোলিকভাবে আসিয়ানের নিকটতম প্রতিবেশী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সংস্থার সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এ সময় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ‘দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আসিয়ানের পক্ষ থেকে আরও জোরালো সমর্থন চান প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো রোয়া দুতের্তেকে দেয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক অর্জনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই বিশ্ব নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রেসিডেন্ট দুতার্তে বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সফল অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল ও এর আশপাশের অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
আরও পড়ুন: ডি-৮ এর শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোট হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
দুই নেতা আগামী ৫০ বছর বা তার পরেও দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের যৌথ যাত্রাকে আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ সময় শেখ হাসিনা ১৯৭২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশকে ফিলিপাইন সরকারের স্বীকৃতির কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
ফিলিপাইনের বন্ধুপরায়ণ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ১৯৭৩ সালে টোকিও থেকে ফেরার পথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যানিলায় যাত্রাবিরতির কথাও আবেগভরে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
দুই নেতা গত পাঁচ দশকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময়, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ইত্যাদিসহ বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে যে দৃঢ়, সহযোগিতামূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তার প্রশংসা করেন।
বন্ধুপরায়ণ দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সুবিধার জন্য সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অন্বেষণ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই দুই নেতা।
অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র সচিব তেওডোরো এল লোকসিন জুনিয়র বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বার্তা বিনিময় করেছেন।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা সাধারণ পরিষদ সভাপতির
মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে আরও জনবল নেবে
১১২৬ দিন আগে