রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ১৭ জন নিহত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও অন্তত ৪৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা।
স্থানীয় সময় বুধবার (৫ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত এ হামলা চালানো হয়।
এ বছর গ্রীষ্মে রাশিয়ার বড় আকারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। গতরাতের (বুধবার) হামলাটি ছিল সেই ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ একটি ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ নামের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ইউক্রেনের হাতে সীমিত। একমাত্র ইন্টারসেপ্টরের মাধ্যমেই রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব। বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের হাতে নেই। তাই রাশিয়া একসঙ্গে অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে সেগুলো প্রতিহত করা ইউক্রেনের পক্ষে কঠিন হয়ে যায়।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, এ হামলায় রাজধানী কিয়েভের আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চলে ১৪ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির ব্রোভারি, বুচা ও ফাস্টিভ জেলায় একাধিক স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে হাব্রোভারি শহর ও ভেলিকা ডাইমেরকা, কভিটনেভে ও পেরেমোহা গ্রামের বড় বড় গুদামঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ফাস্টিভ জেলায় একটি প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে লাগা আগুন পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অন্যদিকে, বুচা জেলার সোফিইভস্কা বরশচাহিভকার একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে আগুন নেভানো হয়। পরে চাইকি গ্রামের আরেকটি গুদামঘরে আগুন নেভান দমকলকর্মীরা।
হামলায় রাজধানী কিয়েভে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, কিয়েভ সিটি মিলিটারি প্রশাসন জানিয়েছে, ওবোলনস্কি, সভিয়াতোশিনস্কি, হলোসিয়িভস্কি ও দেসনিয়ানস্কি এসব জেলায় হামলার ফলে সৃষ্ট আগুন জরুরি সেবা কর্মীরা নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্টনভ বলেন, ‘এই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এখন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। শত্রুপক্ষ নির্বিচারে সবকিছুতে হামলা চালাচ্ছে। খুচরা পণ্যের গুদাম, খাদ্য সংরক্ষণাগার, লজিস্টিকস হাব, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণসামগ্রীর গুদামঘর কোনো কিছুই তারা বাদ রাখেনি।’
রাশিয়ার বড় ধরনের হামলার শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘এপিসেন্টর’। এটি ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রয় ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দশক ধরে যা গড়ে তুলেছিল, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র তা ধ্বংস করে দিয়েছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মী নিহত ও আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়ার হামলায় প্রতিষ্ঠানটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস হাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়াও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রতিষ্ঠানটির সিরামিক টাইলস কারখানার উৎপাদন বিভাগ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে কোম্পানিটি সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে তা বিদেশে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে তাদের প্রায় ২ বছর সময় লাগতে পারে।
এপিসেন্টর আরও জানায়, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ইউক্রেনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিও তারা সংহতি প্রকাশ করছে। কারণ, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে কত বছরের পরিশ্রম, চেষ্টা, বিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা তারা ভালোভাবেই জানে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার খুচরা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটি রাশিয়ার অ্যামাজন নামে পরিচিত ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদামে হামলা চালিয়েছে। বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে মস্কোর অর্থনীতিতে ক্ষতি করা ও রাশিয়ার জনগণকে যুদ্ধের মূল্য উপলব্ধি করাতে ইউক্রেন এসব হামলা চালাচ্ছে।
১ দিন আগে
কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ১৩
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর পর্যন্ত চলা এ হামলার পর উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
একই সঙ্গে দেশটির সরকার মিত্র দেশগুলোর প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এ হামলায় শহরের বিভিন্ন ভবন ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার প্রথম সতর্কবার্তা জারির পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সেখানের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশনে চলে যান।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, হামলায় কিয়েভে ১৩ জন নিহত ও ৮৬ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, এ ঘটনায় শহরের অন্তত ৩০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহর ক্লিমেঙ্কো জানান, শহরজুড়ে অন্তত ২০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৫০০ জন কর্মী এবং ১০০টি বিশেষায়িত যান মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হেলিকপ্টারও রয়েছে।
৩৫ দিন আগে
জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেন ও ইরান পরিস্থিতিতে গুরুত্বারোপ
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন বিশ্বনেতারা। সেখানে তারা রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। পাশাপাশি ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক চুক্তি, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের প্রভাবও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এবারের জি-৭ সম্মেলন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁয়ে শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন) গভীর রাতে সম্মেলনে পৌঁছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, আপাতত ইরান বিষয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে, আমরা এখন ইউক্রেনের পরিস্থিতির ওপর মনোযোগ দেব।
সম্মেলনে মাক্রোঁ জানান, তিনি ট্রাম্পকে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন। তার মতে, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তি জরুরি।
ট্রাম্প আরও জানান, রবিবার তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করেছেন। ফ্রান্সের আমন্ত্রণে জেলেনস্কিও সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও জি-৭ নেতাদের একটি একটি কর্মঅধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই আলোচনায় মিসর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
অপরদিকে, জি-৭ সম্মেলনে সম্মেলনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প সাড়ে তিন মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তির ঘোষণা দেন।
জি-৭ (গ্রুপ অব সেভেন) হলো বিশ্বের ৭টি উন্নত ও প্রভাবশালী অর্থনীতির দেশের একটি জোট। এই জোটের সদস্য দেশগুলো হলো: ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং যুক্তরাজ্য।
বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের জন্য এসব দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বছরে একবার বৈঠক করে নীতিগত সমন্বয়ের চেষ্টা করেন।
এবারের সম্মেলনে অতিথি দেশ হিসেবে অংশ নিচ্ছে ব্রাজিল, মিসর, ভারত, কেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, ইউক্রেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের
এদিকে, নৗপথে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য যে ছায়া বহর (শ্যাডো ফ্লিট) ব্যবহার করে, সম্মেলনের মধ্যেই সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার সম্প্রতি কেনা কয়েকটি জাহাজও রয়েছে। এসব জাহাজ নিষেধাজ্ঞার অমান্য করে আর্কটিক এলএনজি ২ প্রকল্প থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ৬০০টিরও বেশি শ্যাডো ফ্লিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
গত সপ্তাহের শেষে ইংলিশ চ্যানেলে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার একটি শ্যাডো ফ্লিট জাহাজ জব্দ করেছে ব্রিটিশ বাহিনী।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশনিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সেখানে তিনি রাশিয়ার ওপর এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার তার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
৫১ দিন আগে
যুদ্ধ বন্ধে এক টেবিলে বসতে যাচ্ছেন ট্রাম্প-পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সখ্যতা বিশ্ব রাজনীতিতে সর্বজনবিদিত। এই সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে এক দিনের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব—নির্বাচনী প্রচারণায় এমন কথাও বলেছিলেন ট্রাম্প। শপথের পরপরই ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছে রাশিয়া।
এদিকেও ট্রাম্পও বলেন, পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠকের আয়োজন চলছে।
তবে কখন এই বৈঠক হবে, সেটা নিশ্চিত করা হয়নি। ফ্লোরিডায় মার-আ-লাগো রিসোর্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি (পুতিন) বসতে চেয়েছেন, আমরা আয়োজন করছি।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিমা দেশগুলো ঠেকাতে পারবে না: পুতিন
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এবং আগ্রহীও বটে পুতিন। আলোচনার টেবিলে বসতে কোনো ধরণের শর্ত আরোপ করা হবে না। এটি হবে নিঃশর্ত এবং পরিচ্ছন্ন আলোচনা।’
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০ জানুয়ারি শপথের পর পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ট্রাম্প। সেখানে মস্কো-কিয়েভ সংঘাত নিরসনে কার্যকরী আলোচনা করা হবে।
সমস্যা সমাধানে পুতিন আগ্রহী জানিয়ে পেশকভ বলেন, দুপক্ষের সদিচ্ছাই এ আলোচনা হবে। পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে চলমান সমস্যা নিরসনের পথ বের হয়ে আসবে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, শপথের ৬ মাসের মধ্যে মস্কো ও কিয়েভকে শান্তি চুক্তিতে নিয়ে আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিরসনে ট্রাম্পের বিশেষ সহকারী যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিথ কিলোগ বলেন, ১০০ দিনের একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ পরিকল্পনামাফিক এগোতে পারলে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব হবে।
যদিও কোন প্রক্রিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ হবে—তেমন কোনো পরিকল্পনার কথা জানাননি ট্রাম্প। এদিকে পুতিনের ভাষ্য, রাশিয়ার দখল করা ভূমি থেকে ইউক্রেন নিজেদের বাহিনী সরিয়ে নিলে ও ন্যাটো যুদ্ধে প্রভাব খাটানো বন্ধ করলে ত্বরিৎ গতিতে সমাধান সম্ভব।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ‘প্রস্তুত’ পুতিন
৫৭২ দিন আগে
বিশ্বব্যাপী দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে সকলকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও করোনা মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে জনগণকে মিতব্যয়ী হওয়ার পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা সত্য জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে দাম কতটা বাড়বে তা এখনও অনিশ্চিত। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে। বরং আমরা এগুলো অন্তত (কিছু পরিমাণে) নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।’
মঙ্গলবার ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্বও করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে মনে হয় না। ‘আমাদের সবাইকে মিতব্যয়ী হতে হবে। আমাদের মনোযোগ দিতে হবে যাতে খাবার কোনোভাবেই নষ্ট না হয়।’
আরও পড়ুন: জনশুমারি শুরুর প্রাক্কালে ১৪ জুন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, পণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজ ভাড়া ৮০০ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২৫০০-৩০০০ মার্কিন ডলার হয়েছে।
বেতন বাড়ানোর জন্য তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি পোশাকের রপ্তানি বাজারে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কঠিন সময়ে এই খাতে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে তারা (শ্রমিকরা) চাকরি হারাতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘কারও কথায় কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তা শুধু দেশের নয়, শ্রমিকদেরও ক্ষতি করবে। এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। আমি মনে করি বিষয়টি শ্রমিক ও তাদের নেতাদের জানানো উচিত।’
তিনি বলেন, শ্রমিক নেতারা কোনো সমস্যায় পড়বে না। কারণ তারা উসকানিদাতাদের কাছ থেকে ভালো পরিমাণ অর্থ পাবে। কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্যে কী হবে? রাস্তায় নামলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আরও পড়ুন: বাড়ি থেকে অনলাইনে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন গ্রামবাসী: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বিভিন্ন সময়ে পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করেছে। একজন শ্রমিক এখন মাসে আট হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান। কিন্তু আগে বেতন ছিল মাত্র এক হাজার ৬০০ টাকা।
১৯৬৬ সালের ৭ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে বাঙালিদের ম্যাগনা কার্টা ছয় দফা দাবির ভিত্তিতে পাকিস্তানিদের অপশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
১৫২১ দিন আগে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অষ্টম দিন: যা যা জানতে হবে
রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার বেলারুশে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। আট দিন আগে দেশটিতে হামলা চালায় রাশিয়া। হামলা চালানোর পর দু’দেশ দ্বিতীয়বারের মতো আলোচনায় বসছে।বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে রুশ সেনারা দেশটির কোনো শহর দখল করেছে কি না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।রুশ সেনাদের ‘বিভ্রান্ত শিশু’ উল্লেখ করে তাদের ‘দেশে ফিরে যাওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে জেলেনস্কি বলেন, ‘তারা এখানে কোনো শান্তি পাবে না।’ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য এমন সময়ে করলেন যখন রাশিয়া হামলার শুরুর পর থেকে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে তাদের ৫০০ জনের মতো সেনা নিহত এবং প্রায় এক হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছে। তবে কতজন ইউক্রেনীয় সেনা হতাহত হয়েছে এমন কোনো তথ্য দেয়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জটিলতার মুখেজাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ আগ্রাসনের শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে কমপক্ষে ২২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৫২৫ জন আহত হয়েছেন। তবে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, দুই হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন। তবে তাদের এমন দাবি যাচাই করা অসম্ভব।এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, গত সপ্তাহে হামলার পর থেকে ইউক্রেন ত্যাগ করেছেন ১০ লাখ মানুষ। এছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এ হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান করেছে।সহিংসতা নিয়ে যে সব প্রধান বিষয় জানতে হবে:সম্ভাব্য আলোচনাবুধবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানায়, রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা করতে তাদের প্রতিনিধি দল পথে রয়েছে। তবে প্রতিনিধি দল কখন পৌঁছাবে সেটি জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করল নরওয়ে ও জার্মানিপ্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহযোগী ও রুশ প্রতিনিধিদলের প্রধান ভ্লাদিমির মেডিনস্কি সাংবাদিকদের বলেছেন, পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী বেলারুশের ব্রেস্ট অঞ্চলে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দল আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।ইউক্রেনে সহিংসতাজেলেনস্কির কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার রাতে কিয়েভের দক্ষিণ রেলওয়ে স্টেশন ও ইবিস হোটেলের মধ্যে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ হয়েছে। আর এর পাশেই রয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।ইউক্রেনীয় বার্তা সংস্থা ইউএনআইএএন দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভের প্রধান স্বাস্থ্য প্রশাসক সেরহি পিভোভারকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, শহরটির একটি হাসপাতালে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।তিনি বলেন, হাসপাতালের মূল ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা নির্ণয়ে কাজ করছে।মারিউপোলে রুশ বোমা হামলায় কমপক্ষে এক কিশোর মারা গেছে এবং দুজন আহত হয়েছে। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, তারা একটি বিদ্যালয়ের কাছে ফুটবল খেলছিল।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাসট্যাঙ্ক ও অন্যান্য সাঁজোয়া যানবাহনসহ ৪০ মাইল দীর্ঘ একটি রুশ সেনাবহর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে অবস্থান করছে।রাশিয়া বলছে, রুশ সেনারা ইউক্রেনের বন্দর শহর খেরসন দখল করেছে। তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী তা অস্বীকার করেছে। এছাড়া রুশ বাহিনী ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে বোমা হামলা করছে এবং দুটি কৌশলগত সমুদ্রবন্দর অবরোধ করেছে।মানবিক পরিস্থিতিজাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি টুইটারে লিখেছেন, ইউক্রেন থেকে গত সাতদিনে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ১০ লাখ মানুষ গিয়েছেন। যা দেশটির মোট জনসংখ্যার দুই শতাংশ। তবে তাদের মধ্যে অন্য দেশের কিছু নাগরিকও রয়েছেন।জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বলছে, ৪০ লাখ মানুষ ইউক্রেন ত্যাগ করতে পারেন। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, ২০২০ সালে ইউক্রেনে চার কোটি ৪০ লাখ মানুষ ছিল।জাতিসংঘের নিন্দা ও যুদ্ধাপরাধের তদন্তবুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা বন্ধ এবং সব সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দেয়। জাতিসংঘের ১৪১টি দেশ পক্ষে এবং পাঁচটি দেশ বিপক্ষে এবং ৩৫টি দেশ ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, এই ভোট ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ‘বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের মাত্রা প্রদর্শন করে।’আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর বুধবার ইউক্রেনে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যার বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। প্রসিকিউটর করিম খান বলেছেন, এ আদালতের ৩৯টি সদস্য রাষ্ট্র এ বিষয়ে তদন্তের অনুরোধ করার পর তিনি তা করেছেন।তবে রাশিয়া বা ইউক্রেন, কোনো দেশই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়।নিষেধাজ্ঞা কী রাশিয়াকে আঘাত করছে?হোয়াইট হাউস রাশিয়া ও বেলারুশের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রুশ তেল পরিশোধন এবং উভয় দেশের সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করা প্রতিষ্ঠানের রপ্তানির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।ইউরোপ ও কানাডার মতো যুক্তরাষ্ট্রও রুশ এয়ারলাইন্সের জন্য তাদের দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।এছাড়া এয়ারবাস ও বোয়িং জানিয়েছে, তারা রুশ বিমান সংস্থার জন্য খুচরা যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বন্ধ করবে। ফরাসি ভিত্তিক এয়ারবাস ও যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বোয়িং অধিকাংশ রুশ যাত্রীবাহী বিমান সরবরাহ করে থাকে।এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার অতি উচ্চ বিত্তবানদেরও আনা হয়েছে যারা ইউরোপজুড়ে সম্পত্তির মালিক এবং তাদের সন্তানদের অভিজাত ইউরোপীয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান।এছাড়া সাধারণ রুশ নাগরিকরাও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছেন।
১৬১৭ দিন আগে